লক্ষ্মীপুরে উপনির্বাচনে সব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

ভোটের সামগ্রী

টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিতরা রোববার দুপুর থেকে উপনির্বাচনের কেন্দ্রে ভোটের সামগ্রী পৌঁছানো শুরু করেছেন। ছবি: নিউজবাংলা

লক্ষ্মীপুর-২ আসনে উপনির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দুলার তালুকদার জানান, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর-২ (সদরের একাংশ ও রায়পুর) আসনে উপনির্বাচনের পাশাপাশি রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সোমবার। প্রতিটি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের লক্ষ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। কেউ অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমনের হুঁশিয়ারী দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।

প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃংখলা বাহিনীর সার্বক্ষণিক টহল নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল তালুকদার।

টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিতরা রোববার দুপুর থেকে উপনির্বাচনের প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটের সামগ্রী পৌঁছানো শুরু করেছেন। উপনির্বাচনে ভোট হবে ইভিএমে।

নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এবং লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির শেখ মো. ফায়িজ উল্যাহ শিপন উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি এ নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি।

আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস জানায়, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার ৯২৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪ হাজার ৪৬০ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৩ জন। কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৬টি।

সোমবার সকাল ৮ থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

নির্বাচনী এলাকার লোকজন জানান, উপনির্বাচন ও ইউপি নির্বাচন নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই ভোটারদের। তবুও যারা কেন্দ্রে যাবেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন ভোটাররা।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেখ ফয়েজের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মীরা তার নেতাকর্মীদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। তার কর্মীদের ভোটকেন্দ্র যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

ভোটারদের মাঝে কোন ধরনের ভয়ভীতি নেই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুর উদ্দিন জানান, মানুষের মাঝে ভোটের আমেজ দেখা দিয়েছে। কখন ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিবেন, সে অপেক্ষা করছে মানুষ। বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী তিনি।

এ দিকে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ছয় ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ হচ্ছে একই দিনে। কমলনগরের তোরাবগঞ্জ, চরফলকন, হাজিরহাট এবং রামগতির চরবাদাম, চরপোড়াগাছা ও চররমজি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার এক লাখ ২৩ হাজার ৩১৪।

বিএনপি ইউপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও ছয় ইউনিয়নে রয়েছে আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। নির্বাচনী এলাকার লোকজন জাজান, আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বিরোধ। প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, পাল্টা হামলা ও হুমকি-ধামকির অভিযোগ তুলেছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে হামলার ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার।

তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়সাল আহমদ রতনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের প্রার্থী মির্জা আশ্রাফুল জামাল রাসেলের সমর্থকদের হামলা-মামলার ভয়ে তার কর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। সুষ্ঠু ভোটের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

তবে হামলা-মামলাসহ ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মির্জা আশ্ররাফুল উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট চেয়েছেন। তিনি জানান, বিজয় হলে এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে। বন্ধ হবে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী।

একই কথা বলছেন অন্য উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনে উপনির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দুলার তালুকদার জানান, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন।

লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনোয়ার হোছাইন আকন্দ ও পুলিশ সুপার (এসপি) ড. এএইচ এম কামরুজ্জামান জানান, ভোটাররা যেনো নিরাপদে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেটরা প্রস্তুত আছেন।

কেউ কোন ধরনের অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারী দেন ডিসি-এসপি।

২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ২৮ জানুয়ারি মানব ও অর্থ পাচারের দায়ে পাপুলকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয় কুয়েতের আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১৯ লাখ কুয়েতি রিয়াল জরিমানা করা হয়। এরপর আপিলে সাজা তিন বছর বাড়িয়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

২৩ ফেব্রুয়ারি পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। ৩ মার্চ লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন:
লক্ষ্মীপুর-২ উপনির্বাচন: জমে উঠেছে প্রচার

শেয়ার করুন

মন্তব্য