হাসপাতালে ঝুঁকি থাকায় বাসায় খালেদা: চিকিৎসক

হাসপাতালে ঝুঁকি থাকায় বাসায় খালেদা: চিকিৎসক

৫৩ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর বাড়ি ফেরেন খালেদা জিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘হাসপাতালে খালেদা জিয়া বারবার সংক্রমিত হচ্ছিলেন এবং আমরা খুব সহজেই নির্ণয় করতে পেরেছি এই জীবাণু কোত্থেকে এসেছে। এটা হাসপাতালে তৈরি। তাই হাসপাতাল উনার জন্য এই মুহূর্তে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।’

হাসপাতালে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ডক্টর এফ এম সিদ্দিকী।

শনিবার রাতে খালেদা জিয়া তার বাসভবন ফিরোজায় পৌঁছানোর পরে বাসার সামনে সাংবাদিকদের চিকিৎসক এ তথ্য জানান।

এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘হাসপাতালে খালেদা জিয়া বারবার সংক্রমিত হচ্ছিলেন এবং আমরা খুব সহজেই নির্ণয় করতে পেরেছি এই জীবাণু কোত্থেকে এসেছে। এটা হাসপাতালে তৈরি। তাই হাসপাতাল উনার জন্য এই মুহূর্তে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ২/৩ সপ্তাহ পরে উনাকে আবার নিয়মিত কিছু পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেয়া লাগতে পারে।’

খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল তবে সুস্থ হয়ে উঠেনি বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক অধ্যাপক এএফএম সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ উনি (খালেদা জিয়া) স্থিতিশীল আছেন। তার মানে এই না যে, উনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছেন।’

‘আমাদের মেডিকেল টিম যেটা এভারকেয়ার হাসপাতালে সুদক্ষ টিম আছে সেটা, দেশের বাইরে যারা আছেন এবং আমরা যারা আছি সবাই মিলে উনাকে নিবিড় পর্যবেক্ষনের রেখে চিকিৎসাটা আপাতত এখানে (বাসায়) রেখে চালিয়ে যাবো।’

হাসপাতালে ঝুঁকি থাকায় বাসায় খালেদা: চিকিৎসক
শনিবার রাতে খালেদা জিয়া তার বাসভবন ফিরোজায় পৌঁছানোর পরে বাসার সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তার চিকিৎসক। ছবি: নিউজবাংলা।

ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক এএফএম সিদ্দিকী বলেন, ‘উনার অসুখটা চিকিৎসায় একটা স্থিতি অবস্থায় এসছে। উনি কিউর হয়ে ‍যাননি। উনার যেই হার্টের জটিলতা, কিডনির জটিলতা, লিভারের জটিলতা সেগুলো কোভিডের কারণে যে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছিলো সেই অবস্থার উত্তরণ ঘটেছে। কিন্তু সেই অসুস্থতাগুলো রয়েই গেছে।

‘সেগুলোকে এড্রেস করার যে চিকিৎসা এবং যে প্রস্তুতি বা প্রক্রিয়া সেইগুলো আমরা কিন্তু এখনও পরিপূর্ণভাবে করতে পারিনি। যার জন্য একটা রিস্ক উনার থেকেই যাচ্ছে। আমরা প্ল্যান করেছি, উনাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করাব। উনি অবজারভেশনে আছেন। কিন্তু দুই সপ্তাহ বা তিন সপ্তাহ পরে আবার আমাদের অপশন রাখতে হচ্ছে যে, উনাকে হসপিটাল নিয়ে রিভিউ করার প্রয়োজন হতে পারে।’

এএফএম সিদ্দিকী বলেন, ‘উনার যে জটিলতাগুলো আছে সেগুলো প্রাইমারি ডিজিজ। সেগুলোর চিকিতসার জন্য আমরা মেডিক্যাল বোর্ড থেকে কতগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেটা আমরা লিখিত আকারে উনারদের কাছে দেবো।'

এভার কেয়ার হাসপাতালে ৫৩দিন চিকিৎসা শেষে শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় গুলশানের বাসায় ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খানসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য