পানপুঞ্জি দখলের ঘটনার তদন্ত দাবি

পানপুঞ্জি দখলের ঘটনার তদন্ত দাবি

এক নাগরিক প্রতিনিধিদল গত ৭-৮ জুন ক্ষতিগ্রস্থ পুঞ্জিগুলো পরিদর্শন করে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। ছবি: নিউজবাংলা

‘ভূমি সমস্যা সমাধান করা যাবে না। এটার জন্য নতুন ভাবে ভূমি ও বন-নীতি করা লাগবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।’

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা ও কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর পানপুঞ্জিগুলোতে বহিরাগতরা প্রবেশ এবং জবরদখলের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে মানবাধিকারকর্মী ও পরিবেশকর্মীরা।

ঢাকা থেকে মানবাধিকারকর্মী, পরিবেশকর্মী, শিক্ষক, আদিবাসী সংগঠক, গবেষক, সাংবাদিকদের এক নাগরিক প্রতিনিধিদল গত ৭-৮ জুন ক্ষতিগ্রস্থ পুঞ্জিগুলো পরিদর্শন করে।

এই পরিদর্শনে দেখা অভিজ্ঞতা নিয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সেখানে মূল বক্তব্যে প্রতিনিধি দলের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, মৌলভীবাজার, সিলেট ও হবিগঞ্জের খাসি ও মান্দিরা ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সদস্যরা ঐতিহ্যগতভাবে বনবিভাগ, চা-বাগান এবং কিছু খাসজমি এলাকায় বসবাস করেন।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ‘পুঞ্জিবাসী নৃ গোষ্ঠীর জীবনজীবিকার সুরক্ষাই প্রথম অগ্রাধিকার’ বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার বরাত দিয়ে জোবাইদা নাসরীন বলেন, আমরা প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের আশ্বাস ও তৎপরতার ওপর শতভাগ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে চাই। আমরা দেখতে চাই রাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে পানপুঞ্জির ভূমি সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, ভূমি সমস্যা সমাধান করা যাবে না। এটার জন্য নতুন ভাবে ভূমি ও বন-নীতি করা লাগবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।

এ সময় নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, মৌলভীবাজারে ৬৫টি খাসি পুঞ্জি আছে। অনেক চা বাগানের শ্রমিক আছে। এদের নিয়ে যথেষ্ট তথ্য ও গবেষণা নেই। বিগত ৫০ বছরে তাদেরকে আমরা একটা ‘ভালনারেবল’ পরিস্থিতির মধ্যে রেখে দিয়েছি।

এই মাইনোরিটিদের নিয়ে একটা ভালো গবেষণা করারও দাবি করেন তিনি।

এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাপার কেন্দ্রীয় সদস্য আমিনুর রসুল।

এ সময় ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে, পানপুঞ্জি জবরদখল, গাছ কাটা ও পানজুম ধ্বংসের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইন ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সুনির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

পানপুঞ্জির নাগিরকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানসহ মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পানপুঞ্জির নাগরিকদের জীবন ও জীবিকার সামগ্রিক নিরাপত্তা বিধান করতে হবে।

পানপুঞ্জিগুলোর গাছকাটা, উচ্ছেদ ও জবরদখল এগুলো সবই ধারাবাহিক নিপীড়নের ফলাফল। এক্ষেত্রে এসব অঞ্চলে ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভিন্নভাবে ভাবা জরুরি।

এবং চাবাগান সম্প্রসারণের নামে কোনো পানপুঞ্জির গাছ কাটা যাবে না এবং পুঞ্জির জায়গা ও পানজুম দখল করা যাবে না।

প্রতিনিধি দলের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপায়ন খীসাসহ আরও অনেকে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য