‘গার্ড অব অনার’ বিষয়ে চূড়ান্ত হলে দেখবে হাইকোর্ট

‘গার্ড অব অনার’ বিষয়ে চূড়ান্ত হলে দেখবে হাইকোর্ট

রিটকারীর উদ্দেশে আদালত বলে, বিষয়টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশমাত্র। এমন সুপারিশ গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে তখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেয়া হবে। তাই সে পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাকে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়ার সময় সরকারের নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিকল্প চাওয়া সংসদীয় কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে বিষয়টি হাইকোর্ট দেখবে বলে জানিয়েছে।

এ-সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ কথা বলে।

রিটকারীর উদ্দেশে আদালত বলে, বিষয়টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশমাত্র। এমন সুপারিশ গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে তখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেয়া হবে। তাই সে পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।

পরে আদালত চার সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবির আদেশ দেয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ফাওজিয়া করিম। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম।

পরে ফাওজিয়া করিম ফিরোজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টি প্রথমে মৌখিকভাবে আদালতের নজরে আনি। কিন্তু আদালত লিখিত আবেদন আকারে যেতে বলেন। পরে এ বিষয়ে রিট দায়ের করা করি।’

মানবাধিকার-বিষয়ক সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ল’ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এফএলএডি) আইন ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম রিটটি দায়ের করেন।

রিটে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং একই মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে বিবাদী করা হয়।

রিট আবেদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ কেন বৈষম্যমূলক, বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়।

মৃত্যুবরণকারী (শহীদ) বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানে নারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বিকল্প চেয়ে সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। কমিটি এ ক্ষেত্রে যেসব জায়গায় নারী ইউএনও রয়েছেন, সেখানে পুরুষ কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করার পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান দিনের বেলায় আয়োজন করার সুপারিশ করা হয়।

১৩ জুন সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এরপরই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আপত্তিতে ক্ষুব্ধ নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে ধর্মের বিষয়টিকে সামনে আনা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
গার্ড অফ অনারে নারী চায় না সংসদীয় কমিটি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চীন থেকে সাড়ে ৭ কোটি টিকা কিনছে বাংলাদেশ

চীন থেকে সাড়ে ৭ কোটি টিকা কিনছে বাংলাদেশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চীন থেকে সিনোফার্মের ৭৫ মিলিয়ন ডোজ টিকা আনার অর্ডার দিয়েছি। এরই মধ্যে ১৫ মিলিয়ন ডোজের মূল্য পরিশোধ করেছি। বাকিটার প্রসেস চলছে। এছাড়াও চলতি মাসে কোভ্যাক্সের আওতায় সিনোফার্মের ৩৪ লাখ ও অ্যাস্ট্রেজেনেকার ১০ লাখ ডোজ টিকা আসছে।’

চীন থেকে ৭৫ মিলিয়ন বা সাড়ে সাত কোটি ডোজ করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটি ডোজ টিকার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চীন থেকে সিনোফার্মের ৭৫ মিলিয়ন ডোজ টিকা আনার অর্ডার দিয়েছি। এরই মধ্যে ১৫ মিলিয়ন ডোজের মূল্য পরিশোধ করেছি। বাকিটার প্রসেস চলছে। এছাড়াও চলতি মাসে কোভ্যাক্সের আওতায় সিনোফার্মের ৩৪ লাখ ও অ্যাস্ট্রেজেনেকার ১০ লাখ ডোজ টিকা আসছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ফাইজারের ৬ মিলিয়ন বা ৬০ লাখ ডোজ টিকা আসছে। তারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিল, এতো টিকা আমাদের রাখার ব্যবস্থা আছে কি না। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এটি নিয়ে কথা বলেছি। আজ আমরা তাদের জানিয়ে দিয়েছি, আমাদের রাখার জায়গার সমস্যা নেই।’

তিনি বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে এক কোটি টিকা দেয়ার যে প্রোগ্রাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দিয়েছিল তাতে কিছুটা পরিবর্তন তারা এনেছে। এটা হয়তো কিছুটা এদিকসেদিক হবে। তবে সরকারের টিকাদান লক্ষ্যে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

‘আমরা দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে টিকা দিতে চাই। প্রতি সপ্তাহে এক কোটি মানুষকে টিকা দিলে দুই মাসে আট কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য ছিল সরকারের। তা হয়তো কিছুটা এদিকসেদিক হতে পারে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, আমরা আমাদের হাতে থাকা টিকা থেকে প্রথম ডোজ নেয়া নাগরিকদের জন্য দ্বিতীয় ডোজ হাতে রেখেই গণটিকা কার্যক্রম চালাতে চাই। টিকা আসবে ও সেটি দেয়া হতে থাকবে।’

মোমেন বলেন, ‘এছাড়া ভারত জানিয়েছে, তাদের পরিস্থিতিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাদের করোনা পরিস্থিতি আরেকটু উন্নতি হলে নয়া দিল্লি থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসবে।

‘তবে আমি দ্রুত যৌথ উৎপাদন শুরু করতে চাই। চীনের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত। যে কোনো সময় চুক্তি হবে। এরপরই ইনসেপটা উৎপাদনে যেতে পারবে। তবে চুক্তি সইয়ের পরও আট সপ্তাহ সময় লাগবে।’

রাশিয়ার টিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তাদের তৃতীয় ঢেউয়ে অফিস আদালত সব বন্ধ। আমরা আমাদের সব কাগজপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি। অচিরেই সাড়া পাওয়া যাবে।’

এদিকে বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে করোনার টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে গড়ে তোলা প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের আওতায় বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে জাপান।

একই টিকার ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে কিনেছিল বাংলাদেশ। দুই দফায় ৭০ লাখ ডোজ টিকা দেয়ার পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাকি টিকা দিতে পারেনি সিরাম।

সরবরাহ সংকটের কারণে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যায়নি। জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসায় অপেক্ষমানদের রোববার থেকে আবার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৫টি দেশের জন্য ১ কোটি ১০ লাখ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে জাপান। সেখান থেকে দফায় দফায় ৩০ লাখ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা বাংলাদেশকে দেবে পূর্ব এশিয়ার দেশটি।

মাঝে দিয়ে দেশে টিকা সংকট তৈরি হলেও সে অবস্থা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। দফায় দফায় টিকা আসছে চীনের সিনোফার্ম থেকে। এ ছাড়া কোভ্যাক্সের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসছে মডার্না ও ফাইজারের টিকা।

আরও পড়ুন:
গার্ড অফ অনারে নারী চায় না সংসদীয় কমিটি

শেয়ার করুন

অনুমোদনহীন ডিগ্রি সরাতে রাজি ডা. জাহাঙ্গীর

অনুমোদনহীন ডিগ্রি সরাতে রাজি ডা. জাহাঙ্গীর

ডা. জাহাঙ্গীর বললেন, ‘বিএমডিসি যদি আপত্তি তোলে, তাহলে আমি প্রয়োজনে এগুলো লিখব না। এগুলো সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ড থেকে বাদ দিয়ে দিব।’

বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন ছাড়া চারটি ডিগ্রি এখন থেকে আর সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ডে ব্যবহার করবেন না বলে জানিয়েছেন কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএমডিসি চিঠি পাঠাবে এটা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে বিএমডিসি যদি আপত্তি তোলে, তাহলে আমি প্রয়োজনে এগুলো লিখব না। এগুলো সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ড থেকে বাদ দিয়ে দেব।’

তিনি বলেন, ‘কোনো চিকিৎসক যদি ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসে, সেটা তো বিএমডিসি অনুমোদন দেবে না। কারণ বিএমডিসি সেটা গ্রহণ করবে না।’

ডা. জাহাঙ্গীর দাবি করেন, প্রেসক্রিপশনে তিনি তার ডিগ্রিকে ট্রেইনিং (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) হিসেবে উল্লেখ করতেন। তবে বিএমডিসির দাবি, তিনি তার প্রেসক্রিপশনে ডিগ্রি হিসেবেই উল্লেখ করতেন। এরকম প্রেসক্রিপশনের নমুনা তাদের কাছে আছে।

এর আগে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে ‘অপচিকিৎসার’ অভিযোগ তোলে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজ (এফডিএসআর)। এ অভিযোগের পর দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়ে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে বিতর্কিত ভিডিওসহ মোট তিনটি পোস্ট সরিয়ে নেবেনে বলে জানান ডা. জাহাঙ্গীর।

তবে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এফডিএসআর নেতারা বলছেন, ডা. জাহাঙ্গীরকে কিটো ডায়েট সংক্রান্ত সব ভিডিও সরাতে হবে। তা না হলে ‘অপচিকিৎসার’ অভিযোগে মামলা করা হবে তার বিরুদ্ধে। এসব ভিডিও সরিয়ে নিতে ডা. জাহাঙ্গীরকে সাত দিনের সময় দিয়েছে এফডিএসআর।


আরও পড়ুন: ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ডিগ্রির ‘অনুমোদন নেই’

বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী, দেশের চিকিৎসকরা তাদের সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ডে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি উল্লেখ করতে গেলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন নিতে হয়। এই আইন না মেনে দীর্ঘদিন ধরে বিএমডিসির অনুমোদন ছাড়াই চারটি ডিগ্রি ব্যবহার আসছেন ডা. জাহাঙ্গীর।

আইন অনুযায়ী, প্র্যাকটিস করা যে কোনো চিকিৎসককে তাদের অর্জিত ডিগ্রির সদনের কপি বিএমডিসিতে জমা দিয়ে তা ব্যবহারের অনুমোদন নিতে হয়। বিএমডিসি সেগুলো যাচাই করে একটি নিবন্ধন নম্বর দেয়। এরপর ডিগ্রির তথ্য বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ করার অনুমতি মেলে।

ডা. জাহাঙ্গীর কবির তার সাইনবোর্ডে, প্রেসক্রিপশনে যেসব ডিগ্রি উল্লেখ করেছেন সেগুলোর বিষয়ে তিনি বিএমডিসিতে কোনো আবেদন করেননি।

ডা. জাহাঙ্গীর এমবিবিএস ছাড়াও যে চারটি ডিপ্লোমা ডিগ্রি ব্যবহার করছেন, সেগুলো হলো: ডিপ্লোমা মডিউল ইন ডায়াবেটিস (এডুকেশন ফর হেলথ), ডিপ্লোমা মডিউল ইন অ্যাজমা (এডুকেশন ফর হেলথ), ডিপ্লোমা মডিউল ইন সিওপিডি (এডুকেশন ফর হেলথ), স্পিরো ৩৬০ স্পাইরোমেট্রি কোর্স (ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি)।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমডিসির ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা যেহেতু অভিযোগ পেয়ে তাকে চিঠি দিয়েছি, এ বিষয়ে তিনি আমাদের কারণ ব্যাখ্যা করে জবাব দেবেন। এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘এছাড়া ডা. জাহাঙ্গীর কবির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ভিডিও তৈরি করছেন। এই ভিডিওগুলোতে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। তিনি কেন অনুমোদন ছাড়াই ডিগ্রিগুলো ব্যবহার করছেন? এটা কী ধরনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ, সেটা আমাদের আইনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাখ্যা দিতে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।’

বিএমডিসির পরবর্তী পদক্ষেপ জানতে চাইলে মো. লিয়াকত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৫ দিনে জবাব না এলে ধারাবাহিকভাবে তিনটা চিঠি তার কাছে পাঠানো হবে। এরপরেও জবাব না দিলে ডিগ্রিগুলো নকল ধরে নিয়ে র‌্যাবের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমাদের সংস্থার কর্মকর্তারা সেই অভিযানে থাকবেন।’

চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজের (এফডিএসআর) মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ব্যবহার করা ডিগ্রিগুলোর অনুমোদন বিএমডিসি দেয়নি। এগুলো আসলে মানুষকে প্রলুব্ধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটা এক ধরনের প্রতারণার শামিল এবং অবশ্যই নিয়ম লঙ্ঘন।’

আরও পড়ুন:
গার্ড অফ অনারে নারী চায় না সংসদীয় কমিটি

শেয়ার করুন

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হচ্ছে কাল

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হচ্ছে কাল

করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শাটডাউনের মেয়াদ ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ালেও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর সুযোগ রেখে বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সরকার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর অভ্যন্তরীণ রুটে শুক্রবার থেকে আবার ফ্লাইট চলাচল শুরু হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ সাতটি রুটে ফ্লাইট ঘোষণা করেছে দুটি বেসরকারি এয়ারলাইনস। একই সময়ে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর কথা জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শাটডাউনের মেয়াদ ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ালেও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর সুযোগ রেখে বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে ১০ আগস্ট ২০২১ রাত ১২টা পর্যন্ত এ বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়ানো হলো। শিল্প, কলকারখানা বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট।

সরকারি ঘোষণার পরপরই বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ৬ আগস্ট থেকে অভ্যন্তরীণ সব রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হবে।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সৈয়দপুর, যশোর, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহীতে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত জানায় এয়ারলাইনসটি।

বেসরকারি আরেক এয়ারলাইনস নভো এয়ার শুক্রবার থেকে ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

এক বিজ্ঞপ্তিতে নভো এয়ার জানায়, সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুক্রবার থেকে প্রতিদিন চট্টগ্রামে ৬টি, সৈয়দপুরে ৬টি, যশোরে ৬টি, বরিশালে ২টি, সিলেট ২টি, রাজশাহীতে ২টি এবং কক্সবাজারে ২টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানায়, শুক্রবার তারা বেশ কয়েকটি নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এদিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ২টি, সৈয়দপুরে ২টি, সিলেট, কক্সবাজার, রাজশাহী, বরিশাল ও যশোরে ১টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

বিমান শনিবার থেকে চট্টগ্রামে ৩টি, সৈয়দপুরে ৩টি, সিলেটে ২টি, কক্সবাজারে ২টি, বরিশালে ২টি, যশোরে ২টি ও রাজশাহীতে ১টি করে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ রুখতে গত ১ জুলাই থেকে সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এ সময় অভ্যন্তরীণ রুটের সব ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়। ঈদের কারণে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল ছিল। এ সময় অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল করে।

পরে ২৩ জুলাই আবারও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে বন্ধ হয় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল। তবে এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে প্রবাসী কর্মীদের আনা-নেয়া করার জন্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিটধারীদের জন্য সীমিতসংখ্যক অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট রাখা হয়।

আরও পড়ুন:
গার্ড অফ অনারে নারী চায় না সংসদীয় কমিটি

শেয়ার করুন

রেকর্ড ২৬৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১২৭৪৪

রেকর্ড ২৬৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১২৭৪৪

বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২ হাজার ৭৪৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দেশে এ নিয়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৩ লাখ ২২ হাজার ৬৫৪ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২১ হাজার ৯০২ জনের।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এটি সার্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে ২৭ জুলাই ২৫৮ জন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২ হাজার ৭৪৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দেশে এ নিয়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৩ লাখ ২২ হাজার ৬৫৪ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২১ হাজার ৯০২ জনের।

২৪ ঘণ্টায় দেশের ৭০৭টি ল্যাবে করোনার ৪৬ হাজার ৯৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ১২ শতাংশ।

এ সময়ে সুস্থ হয়েছে ১৫ হাজার ৭৮৬ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৪৩ জন। সুস্থতার হার ৮৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

গত এক দিনে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১৪০ জন, নারী ১২৪ জন। এর মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে। বিশোর্ধ্ব ৫, ত্রিশোর্ধ্ব ২৫, চল্লিশোর্ধ্ব ৩১, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৫৯ ও ষাটোর্ধ্ব ৭৪, সত্তরোর্ধ্ব ৫০, অশীতিপর ১৫ ও নবতিপর ৩ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর পরই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, ৫৬ জন। এ ছাড়া খুলনা ৩৫ জন, রাজশাহীতে ১৯, বরিশালে ১৬, সিলেটে ২৩, রংপুরে ১৮ ও ময়মনসিংহে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে করোনা প্রথম শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। উদ্বেগ থাকলেও প্রথম কয়েক মাসে ভাইরাসটি সেভাবে ছড়ায়নি। গত শীতে দ্বিতীয় ঢেউ আসার উদ্বেগ থাকলেও সংক্রমণ ও মৃত্যু- দুটোই কমে আসে। একপর্যায়ে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে যায়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবেচনায় মহামারি নয়, নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি। তবে গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে শনাক্তের হার আবার বাড়তে থাকে। দ্বিতীয় ঢেউ নিশ্চিত হওয়ার পর এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভারতে করোনার নতুন ধরনের কথা জানা যায়। সেই ভ্যারিয়েন্ট আক্রান্তদের দ্রুত অসুস্থ করে দেয়, তাদের অক্সিজেন লাগে বেশি। ছড়ায়ও দ্রুত, তাই মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি।

করোনার ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে দফায় দফায় কঠোর বিধিনিষেধ, লকডাউন বা শাটডাউন দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে ঈদুল আজহা-পরবর্তী ১৪ দিনের শাটডাউন চলছে দেশে। এই শাটডাউন শেষ হওয়ার আগেই এর মেয়াদ আরও পাঁচ দিন বাড়িয়েছে সরকার। সে অনুযায়ী, ১১ আগস্ট থেকে বাসসহ গণপরিবহন চালু করা এবং দোকানপাট ও অফিস আদালত খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
গার্ড অফ অনারে নারী চায় না সংসদীয় কমিটি

শেয়ার করুন

যেসব পাওয়া গেল পরী-রাজের বাসায়

যেসব পাওয়া গেল পরী-রাজের বাসায়

চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের সঙ্গে চিত্রনায়িকা পরীমনি।

পরীর বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে আট বোতল প্লাটিনাম লেভেল, তিনটি ব্ল্যাক লেভেল, দুটি চিভাস রিগাল, দুটি ফক্স গ্রোভ, একটি ব্লু লেভেল, দুটি গ্ল্যানলিভেট, এক বোতল গ্ল্যানফিডিচ। তার বাসা থেকে আরও জব্দ হয়েছে চার গ্রাম আইস ও এক স্লট এলএসডি। এর ছাড়া জব্দ তালিকায় একটি বং পাইপের কথাও বলা হয়েছে।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনি এবং চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের বাসায় পাওয়া পণ্যের জব্দতালিকা করেছে র‍্যাব। এই তালিকায় বিপুল পরিমাণ মদের পাশাপাশি রাখা হয়েছে নিষিদ্ধঘোষিত মাদকদ্রব্য আইস ও এলএসডির নাম।

র‍্যাব জানায়, পরীর বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে আট বোতল প্লাটিনাম লেভেল, তিনটি ব্ল্যাক লেভেল, দুটি চিভাস রিগাল, দুটি ফক্স গ্রোভ, একটি ব্লু লেভেল, দুটি গ্ল্যানলিভেট, এক বোতল গ্ল্যানফিডিচ।

তার বাসা থেকে আরও জব্দ হয়েছে চার গ্রাম আইস ও একটি স্লট এলএসডি। এর ছাড়া জব্দ তালিকায় একটি বং পাইপের কথাও বলা হয়েছে।

চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক নজরুল ইসলাম রাজের অফিস থেকেও বিপুল মদ জব্দ করার কথা জানিয়েছে র‍্যাব। জব্দ তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার বাসায় মিলেছে সাত বোতল গ্ল্যানলিভেট, দুটি গ্ল্যানফিডিচ, চারটি ফক্স গ্রোভ, একটি প্লাটিনাম লেভেল।

এর বাইরে সিসায় ব্যবহৃত চারকোলের একটি প্যাকেট, দুই সেট সিসার সরঞ্জাম, দুই ধরনের সীমা তামাক, সিসা সেবনের জন্য ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের একটি রোল, ৯৭০ পিস ইয়াবার কথাও বলা হয়েছে জব্দতালিকায়।

এ ছাড়া যৌনাচারের জন্য ব্যবহৃত ১৪টি বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম, একটি সাউন্ড বক্স ও দুটি মোবাইল ফোন সেট এবং একটি মেমোরি কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বনানীতে পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব। এ সময় অবৈধ মাদকদ্রব্য আইস ও এলএসডি এবং বিপুল মদ জব্দ করা হয়। রাত সোয়া ৯টার দিকে এই অভিনেত্রীকে র‍্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরীমনির বাসায় অভিযান শেষ না হতেই বনানী ৭ নম্বর সড়কে আরেকটি বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখা। ওই বাসা থেকে ইয়াবা, মদ এবং যৌনাচারে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। রাজকেও আটক দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় র‍্যাব কার্যালয়ে।

সেখানেই পরীমনি ও রাজকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছে র‍্যাব। বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে ব্রিফিং শেষে তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
গার্ড অফ অনারে নারী চায় না সংসদীয় কমিটি

শেয়ার করুন

অনৈতিক কাজের দায় এড়ানো যাবে না: তথ্যমন্ত্রী

অনৈতিক কাজের দায় এড়ানো যাবে না: তথ্যমন্ত্রী

সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অভিনয়-মডেলিং এগুলো আমাদের শিল্প-সংস্কৃতিরই অংশ। যারা এগুলো চর্চা করেন তারা এই অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেন ও অনেকে জীবিকাও নির্বাহ করেন। কিন্তু এর আড়ালে কেউ যদি অবৈধ-অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তিনি যে-ই হন, সেই দায় তো তাকে নিতেই হবে।’

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকা পরীমনি বা মডেল পিয়াসাসহ কেউই অভিনয়-মডেলিংয়ের আড়ালে অনৈতিক কাজ করে দায় এড়াতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি একাধিক অভিনয়শিল্পী-মডেল গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিনয়-মডেলিং এগুলো আমাদের শিল্প-সংস্কৃতিরই অংশ। যারা এগুলো চর্চা করেন তারা এই অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেন ও অনেকে জীবিকাও নির্বাহ করেন। কিন্তু এর আড়ালে কেউ যদি অবৈধ-অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তিনি যে-ই হন, সেই দায় তো তাকে নিতেই হবে।’

এ ধরনের গ্রেপ্তার অভিযানে শিল্পাঙ্গনে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না বলেও মনে করেন ড. হাছান।

তিনি বলেন, ‘অনৈতিক বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত যে কারোর বিষয়ে সব সময়ই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ব্যবস্থা নিতে পারে। এতে পুরো অঙ্গনের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি না।’

এদিন শহিদ শেখ কামালের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শহিদ হওয়া পরিবারের সদস্য শেখ কামাল ছিলেন একাধারে ক্রীড়াবিদ ও অন্যদিকে সংস্কৃতিকর্মী। তিনি ফুটবল খেলতেন, ক্রিকেট খেলতেন। আবাহনী ক্রীড়া চক্র সংগঠিত করে বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তন করেছিলেন তিনি।

‘একই সঙ্গে তিনি অভিনয় করতেন, সেতার বাজাতেন, গান গাইতেন। এমন বহুগুণ ছিল শহিদ শেখ কামালের। তার জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’

ড. হাছান বলেন, ‘শেখ কামালকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে ক্রীড়াঙ্গন-সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। অহমিকাহীন এ মানুষটিকে দেখে কেউ বলতে পারত না তিনি জাতির পিতার পুত্র কিংবা দেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতির পুত্র। নির্লোভ, নিরহংকার এমন মানুষকে হত্যাকারী খুনি চক্রের প্রতি আমি ধিক্কার জানাই।’

আরও পড়ুন:
গার্ড অফ অনারে নারী চায় না সংসদীয় কমিটি

শেয়ার করুন

নজরদারিতে এক ডজনের বেশি মডেল

নজরদারিতে এক ডজনের বেশি মডেল

রোববার অভিনেত্রী পিয়াসাকে বারিধারার বাসা থেকে আটক করে ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগ। ছবি: নিউজবাংলা

ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পিয়াসা মৌদের মতো মডেলের সংখ্যা অনেক। যারা দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইলিং ও মাদক ব্যবসা করে আসছিল। আমরা আরও কিছু মডেলের নাম পেয়েছি। তাদের বিষয়েও তথ্য নেয়া হচ্ছে।’  

ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, মরিয়ম আক্তার মৌ, পরীমনির মতো আরও এক ডজনের বেশি মডেল ও অভিনেত্রীর তালিকা প্রস্তুত করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলিং ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তালিকায় থাকা এসব মডেল-অভিনেত্রীদের নজরদারিতে রেখেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হবে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও র‍্যাবের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এদিকে রিমান্ডে থাকা পিয়াসা ও মৌয়ের কাছ থেকে অভিযোগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

ডিবি বলছে, কীভাবে এই কথিত মডেলরা ধনাঢ্যদের টার্গেট করতেন এবং পরে তাদের নিজেদের বাসায় বা অন্য জায়গায় পার্টির নামে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের উদ্দেশ্যে ভিডিও ও ছবি ধারণ করতেন, এসব বিষয় তদন্ত সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন পিয়াসা ও মৌ।

সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, ব্ল্যাকমেইল করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই কথিত মডেলরা।

লাখ টাকা ভাড়ার ফ্ল্যাট, কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি, বিলাসি জীবন সবই ব্ল্যাকমেইলিং এবং অবৈধ উপায়ে উপার্জিত টাকায়। বড় ব্যবসায়ী, ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইল করত ওই কথিত মডেলরা।

নজরদারিতে এক ডজনের বেশি মডেল
রোববার রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে কথিত মডেল মৌকে আটক করে পুলিশ

ডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পিয়াসা ও মৌয়ের মোবাইলে বেশ কিছু ভিডিও পাওয়া গেছে। এগুলো তারা গোপনে ধারণ করেছিলেন। তাদের মোবাইল থেকে এবং জিজ্ঞাসাবাদে এ ধরনের কাজে জড়িত আরও কিছু মডেলের নাম পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই বাছাই চলছে।

বুধবার দুপুরে পিয়াসার দুই সহযোগী শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে রর‍্যাব।

র‍্যাব বলছে, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বিভিন্ন পার্টির আয়োজন করতেন মিশু। পরীমনিসহ বিভিন্ন মডেলদের এসব পার্টিতে হাজির করতেন তিনি।

র‍্যাব জানায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এই চক্রের সদস্য প্রায় ১০ থেকে ১২ জন। তারা রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকা বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করে থাকে। এসব পার্টিতে তারা অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকে। অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য।

নজরদারিতে এক ডজনের বেশি মডেল
বুধবার ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পরীমনিকে আটক করেছে র‍্যাব

সংস্থাটি বলছে, প্রতি পার্টিতে ১৫-২০ জন অংশগ্রহণ করত। এছাড়া বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করা হত। একইভাবে উচ্চবিত্ত প্রবাসীদের জন্যেও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টি আয়োজন করতেন অভিযুক্তরা। ক্লায়েন্টদের একান্ত মুহূর্তের ছবি ধারণ করে অপব্যবহার করা হত বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তারা।

র‍্যাব বলছে, পার্টি আয়োজনের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের চাহিদা ও পছন্দের গুরুত্ব দিয়ে পার্টি আয়োজন করা হত। গ্রেপ্তাররা তাদের এই অবৈধ অর্থ নামেবেনামে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে।

এদিকে পিয়াসা ও মৌকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের মাদক ব্যবসা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) হারুন অর রশীদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পিয়াসা মৌদের মতো মডেলের সংখ্যা অনেক। যারা দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইলিং ও মাদক ব্যবসা করে আসছিল। আমরা আরও কিছু মডেলের নাম পেয়েছি। তাদের বিষয়েও তথ্য নেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
গার্ড অফ অনারে নারী চায় না সংসদীয় কমিটি

শেয়ার করুন