এনা পরিবহনের মালিক এনায়েতের সম্পদের হিসাব চায় দুদক

এনা পরিবহনের মালিক এনায়েতের সম্পদের হিসাব চায় দুদক

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও এনা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ।

দুদকের উপপরিচালক আরিফ সাদেক জানান, খন্দকার এনায়েত ও ফারুকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধানে নামে দুদক। তাদেরকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদের হিসাব জমা দিতে হবে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও এনা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার এনায়েত উল্লাহকে সম্পদের হিসাব দাখিলের নোটিশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়ায় সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো নোটিশে তাকে সম্পদের হিসাব দাখিল করতে বলা হয়।

একইদিন আরেক নোটিশে তিতাস গ্যাস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক বিক্রয় সহকারী ও সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হাসানকেও সম্পদের হিসাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক এ সব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তাদেরকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদের হিসাব জমা দিতে হবে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘দুদকের অনুসন্ধানে অঢেল সম্পদ অর্জনের সত্যতা পাওয়ায় তাদের নোটিশ দেয়া হয়েছে।’

আরিফ সাদেক বলেন, খন্দকার এনায়েত ও ফারুকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধানে নামে দুদক।

নোটিশে বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধানে কমিশনের স্থির বিশ্বাস জন্মেছে যে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্বনামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ-সম্পত্তির মালিক হয়েছেন খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও ফারুক হাসান।

নোটিশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নিজের, নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারিত ফরমে দাখিল করতে বলা হয়েছে তাদের।

আরও পড়ুন:
ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’
স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদ, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা
অবৈধ সম্পদ: পিডিবি সাবেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দেড় কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদ’ সাবরেজিস্ট্রার দম্পতির
আফজাল-ফারিনদের নিয়ে কাজ করেছেন ফারুকী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুকে সাজা, মুক্তি দিতে বলল হাইকোর্ট

ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুকে সাজা, মুক্তি দিতে বলল হাইকোর্ট

এর আগে সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির দুই শিশুর মুক্তি চেয়ে বিচারপতিকে চিঠি দেন। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের মুক্তিতে উদ্যোগ নেয় আদালত।

সুপ্রিমকোর্টের এক আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দণ্ড পাওয়া দুই শিশুকে মুক্তির ব্যবস্থা নিতে ডিসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বুধবার বিকেলে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা সাইফুর রহমানকে নেত্রকোনার ডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এর আগে সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির দুই শিশুর মুক্তি চেয়ে বিচারপতিকে চিঠি দেন। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের মুক্তিতে উদ্যোগ নেয় আদালত।

সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা সাইফুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আদালতের আদেশের পর আমি নেত্রকোনা ডিসিকে টেলিফোনে আদালতের আদেশের বিষয়টি অবগত করি। তিনি জানান, শিশু দুজনকে ইতোমধ্যে আপিল শুনানি করে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে আইনজীবী শিশির মনির ই-মেইল যোগে বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে চিঠিটি পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, মোবাইল কোর্ট আইন বহির্ভূতভাবে দুই শিশুকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনে বলা আছে, শিশু আইনের বিধান প্রযোজ্য হওয়ার অর্থ হলো শিশু আদালতে তাদের বিচার হবে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট সেটা না করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের সাজা দিয়েছেন যা আইন সম্মত হয় নাই।

আইনজীবী শিশির মনির চিঠিতে যা লিখেছিলেন

আজ ৪ আগস্ট দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে দণ্ড’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে জানতে পারি ,নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া ভ্রম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে এক মাসের সাজা দিয়েছেন। এই রিপোর্ট পড়ে আমার কাছে মনে হয়েছে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। শিশু আইনের অধীন মোবাইল কোর্টের কোন এখতিয়ার নেই। ফলে, অত্র সাজা এখতিয়ার বহির্ভূত।

চিঠি পাঠানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। আমি অত্র আদালতের একজন অফিসার। আমার মনে আছে, ফতোয়ার মামলায় পত্রিকার রিপোর্ট দরখাস্ত হিসেবে গৃহীত হয়েছিল। ছাত্র জীবনে পড়েছি, একটি টেলিফোন কল নাকি এফআইআর হিসেবে গণ্য হয়েছিল। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রধান বিচারপতি বরাবর চিঠি পাঠিয়েছিলেন এক সন্তানহারা মা নীলাবতি বেহারা। সেই চিঠির ভিত্তিতে তিনি ক্ষতিপূরণও পেয়েছিলেন।

স্বচক্ষে দেখেছি, পত্রিকার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনেক স্বপ্রণোদিত রুল জারি হয়েছে। বিচারও হয়েছে। জেল থেকে পাঠানো চিঠিগুলো জেল আপিল হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সমস্ত উদারহণ দেখে কিছুটা অতি উৎসাহী হয়ে এই পত্র লিখলাম। আশাকরি, আমার এই পত্র বৃথা যাবে না।

পত্রিকার প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে

ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে এক মাসের দণ্ডাদেশ দিয়েছেন নেত্রকোনার আটপাগা উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া।

গত রোববার রাতে জেলার আটপাড়ায় সুলতানা রাজিয়া তার নিজ কার্যালয়ে ওই দণ্ডাদেশ দেন। একই সঙ্গে শিশু দুটিকে গাজীপুরে অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শিশু দুটি গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত নেত্রকোনা জেলা কারাগারে ছিল।

শিশু দুটির বাড়ি আটপাড়া উপজেলার দুওজ ইউনিয়নে। তাদের মধ্যে নবম শ্রেনিতে পড়ুয়া মেয়েটির বয়স ১৫ বছর (জেএসসির নিবন্ধন কার্ড অনুযায়ী)। ছেলেটিও সমবয়সী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে প্রায় দুই বছর ধরে তারা দুজন লেখাপড়ার পাশপাশি ঢাকা তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি নেয়। এ সময় উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্প্রতি মেয়েটি ছেলেটিকে বিয়ে জন্য চাপ দেয়। ছেলেটি তা প্রত্যাখ্যান করে।

গত ঈদুল আজহায় তারা গামের বাড়িতে আসে। এরপর বিয়ের দাবিতে মেয়েটি গত বুধবার রাত থেকে ছেলের বাড়িতে অবস্থান নেয়। নিরূপায় হয়ে গত রোববার সন্ধ্যায় উভয় পরিবার তাদের বিয়ের আয়োজন করে। বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়া সেখানে পুলিশ পাঠান। এরপর দুজনকে তার কার্যালয়ে এনে রাত ৮টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসান। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ অনুযায়ী দুইজনকেই এক মাসের জন্য আটকাদেশ দিয়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বলা হয়, তাদেরকে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ এর ৭(২) ধারায় এ আটকাদেশ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’
স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদ, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা
অবৈধ সম্পদ: পিডিবি সাবেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দেড় কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদ’ সাবরেজিস্ট্রার দম্পতির
আফজাল-ফারিনদের নিয়ে কাজ করেছেন ফারুকী

শেয়ার করুন

প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা নিয়ে বিদেশি চাপ

প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা নিয়ে বিদেশি চাপ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা বা রেখে দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে ঢাকা রাজি নয়। আমাদের অগ্রাধিকার ইস্যু হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গারা তাদের বাসভূমে ফিরে যাবে।’

মিয়ানমারের আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিজভূমে ফেরত যাওয়া বা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা আপাতত দেখছে না বাংলাদেশ। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসার পর এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আর এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসহ নানা সংস্থা ও রাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে রাখার কথা বিবেচনায় নিয়ে কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের ওপর নানা রকম চাপ প্রয়োগের চেষ্টাও আছে। যদিও শুরু থেকে এ ধরনের চাপ নাকচ করে আসছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা কিন্তু হাল ছেড়ে বসে নেই। আমরা সেখানে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কারণ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চীন মূল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিল। তাদের উদ্যোগেই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়।

‘সম্প্রতি তাসখন্দ সফরেও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াই ইয়ির সঙ্গে আমার বৈঠক হয়। বৈঠকে আমরা আবারও ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরুর বিষয়ে একমত হই। কিন্তু সমস্যাটা হলো মিয়ানমারে সামরিক শাসন জারির পর থেকে তাদের দেশে যে পরিমাণ বিক্ষোভ-সংঘর্ষ চলছে, তাতে প্রকৃত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগটা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন।’

মোমেন বলেন, তাসখন্দে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে তার কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বললাম, আপনারা বলছেন, মিয়ানমারের বিষয়ে অ্যাফ্রেড। আপনারা বলেছিলেন যে, রোহিঙ্গা ইস্যুটা দ্বিপক্ষীয় হোক। তৃতীয় পক্ষ এলে অনিশ্চয়তা বাড়বে। আপনি বলেছিলেন, মিডেল-ইস্টে দেখো। সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেনে তৃতীয় পক্ষ আসায় কোনো লাভ হয়নি। আপনাদের কথামতো আমরা দ্বিপক্ষীয় অনেক মিটিং করলাম। কোনো লাভই তো হয়নি। অনেক চেষ্টাই তো করলাম। একজন লোকও ফিরিয়ে দিতে পারলাম না। আমরা তো ত্রিপক্ষীয় আলোচনাও করলাম।’

মোমেন বলেন, ‘আমি তাকে বললাম, আমি চাই আপনি এই ট্রাইলেটারাল উদ্যোগে অংশ নিন এবং রোহিঙ্গা ফেরাতে ভূমিকা রাখেন। আপনার সঙ্গে তাদের এত ভালো সম্পর্ক! এই সেদিন ওদের (মিয়ানমার) মিলিটারি চিফ আসল। আপনারা তাদের জিনিসপত্র দিচ্ছেন! আপনারা বললে ওরা শুনবে।

‘জবাবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে বললেন, “আমরা তো বলছি। আবারও বলব।” কিন্তু ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সম্পর্কে আমি যেটা বলছি, সেটায় তিনি রাজি হননি। কারণ হিসেবে উনি বললেন, এটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। আমি বললাম, আচ্ছা সময় নেন। প্রয়োজনে চীনের সঙ্গেও কথা বলেন। কেননা আপনি ও চীনই তো মিয়ানমারকে শক্ত অবস্থানে রাখছেন। উনি এতে সাদামাটা কোনো জবাব দেননি। কেবল বলেছেন, এটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে হবে।’

এদিকে ২৬ জুলাই ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মিয়ানমারের অন্যতম মিত্র জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পথ খুঁজছেন তারা। রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান এই পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইতো নাওকি বলেন, জাপান দ্রুত প্রত্যাবাসনে সক্রিয় পরিবেশ তৈরিতে যথাযথ চেষ্টা করবে। তবে ‘উপযুক্ত সময়’ এলেই মিয়ানমারের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অবস্থান

এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক তাদের প্রস্তাবিত ‘রিফিউজি পলিসি রিভিউ ফ্রেমওয়ার্ক’-এ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের স্থানীয় সমাজের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের মূল সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা বা স্থায়ীভাবে রেখে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে প্রস্তাবটিকে অবাস্তব বা কল্পনাপ্রসূত অভিহিত করে তা নাকচ করে দিয়েছে সরকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা বা রেখে দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে ঢাকা রাজি নয়। আমাদের অগ্রাধিকার ইস্যু হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গারা তাদের বাসভূমে ফিরে যাবে।’

প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা নিয়ে বিদেশি চাপ

বিশ্বব্যাংক তাদের প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের জন্য সব ধরনের অধিকার দাবি করেছে, যাতে তারা দেশের সর্বত্র কাজ করতে পারে অন্য সকল বাংলাদেশির মতো। তাদের আইনি অধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে। তাদের চলাচলের স্বাধীনতা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এমনকি বলা হয়েছে, তাদের জমিজমা কেনার ও ব্যবসা করতে ক্ষমতা দেয়ার কথাও। বলা হয়েছে, তারা যাতে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে দেশের নাগরিকদের মতো।

মোমেন বলেন, ‘আমরা বলেছি, প্রথমে আমাদের সংজ্ঞায় রোহিঙ্গারা রিফিউজি না। আমরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারছি না। দে শুড গো ব্যাক। দে আর ট্যাম্পোরারি পিপল, নট রিফিউজিস। আর আমাদের প্রতিবেশী মিয়ানমারও কখনও বলেনি তারা ফেরত নেবে না।

‘আমরা কোনো শরণার্থী আশ্রয় দিইনি। আমরা বিপদগ্রস্ত, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের সাময়িক আশ্রয় দিয়েছি। তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ তাদের মাতৃভূমিতে আছে। তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তাই তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘তারা (ইউএনএইচসিআর) রোহিঙ্গাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। আমরা বলেছি, না আমরা এটা গ্রহণ করতে পারছি না। রোহিঙ্গা সমস্যা সাময়িক। এ নিয়ে ট্যাম্পোরারি কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। আমরা আমাদের এই কথা তাদের জানিয়ে দিয়েছি।’

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কড়া প্রতিক্রিয়ায় সুর বদলেছে বিশ্বব্যাংক। তারা মঙ্গলবার নিজেদের ওয়েবসাইটে দেয়া বিবৃতিতে বলছে, শরণার্থী বিষয়ে বাংলাদেশসহ কোনো দেশকেই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়নি তারা। যতদিন রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফেরত না যাচ্ছে, ততদিন সহায়তা অব্যাহত রাখারও অঙ্গীকার করেছে বৈশ্বিক এই দাতা সংস্থা।

আরও পড়ুন:
ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’
স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদ, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা
অবৈধ সম্পদ: পিডিবি সাবেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দেড় কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদ’ সাবরেজিস্ট্রার দম্পতির
আফজাল-ফারিনদের নিয়ে কাজ করেছেন ফারুকী

শেয়ার করুন

অজি বধে টাইগার বন্দনা

অজি বধে টাইগার বন্দনা

বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগই পায়নি অস্ট্রেলিয়া। ছবি: এএফপি

অভিনন্দন বার্তায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা করছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। টাইগারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ১৪ দলের সমন্বয়ক আমীর হোসন আমু, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে হারিয়ে, দলটির বিরুদ্ধে প্রথম জয়ে সিরিজে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানাচ্ছে সবাই।

টাইগারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অভিনন্দন বার্তায় রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান আশা করছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

টাইগারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ১৪ দলের সমন্বয়ক আমীর হোসন আমু, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।

পাঁচ ম্যাচের টি টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে অজিরা বাংলাদেশে এসেছে কিছুটা খর্বশক্তির দল নিয়ে। তবে বাংলাদেশও পুরো শক্তিতে নেই। দলের স্তম্ভ মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাসকে ছাড়া এই দলটি যে অজিদেরকে বধ্ করে দেবে, ম্যাচের অর্ধেকটা যাওয়ার পরেও এ বিষয়ে কোনো উচ্চাশা ছিল না।

তবে ১১ রানে সফরকারীদের তিন উইকেট ফেলে দেয়ার পরই নড়েচড়ে বসে গোটা জাতি। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সামনে ছোট লক্ষ্যের পরেও কিছু একটা হতে পারে, ধারণা জন্মে।

এরপর যত সময় গেছে ১৩২ রানের লক্ষ্য তত বড় হয়েছে অজিদের জন্য। শেষ পর্যন্ত বেশ বড় ব্যবধানেই হার মানতে হয়েছে তাদের।

মুস্কাফিজুর রহমান তার বিখ্যাত কাটারে শেষ অজি ব্যাটসম্যান মিশেল স্টার্কের উইকেট ভেঙে দেয়ার পর পরই শুরু হয় উল্লাস। একের পর এক আসতে থাকে অভিনন্দন বার্তা।

ক্রিকেট দলকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। তিনি আশা করেন, ‘টুর্নামেন্টের সামনের ম্যাচগুলোতেও বাংলাদেশ জয়লাভ করবে।’

আরও পড়ুন:
ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’
স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদ, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা
অবৈধ সম্পদ: পিডিবি সাবেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দেড় কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদ’ সাবরেজিস্ট্রার দম্পতির
আফজাল-ফারিনদের নিয়ে কাজ করেছেন ফারুকী

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভোল পাল্টাল বিশ্বব্যাংক

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভোল পাল্টাল বিশ্বব্যাংক

সীমান্ত খুলে ২০১৭ সালের আগস্টে বাংলাদেশ মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদেরকে অবাধে দেশে ঢুকার সুযোগ দিয়েছিল। সংস্থাটি জানায়, রোহিঙ্গাদের জন্য দেয়া সম্পূর্ণ ৫৯০ মিলিয়ন ডলার হলো অনুদান। এটি কোনো ঋণ নয়। ফাইল ছবি

মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা চ্যাপ্টারের ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি অনেকটা নমনীয় অবস্থান দেখানো হয়। রোহিঙ্গাদের জন্য ৫৯০ মিলিয়ন ডলার সহযোগিতা, অনুদান না ঋণ? এমন প্রশ্নে বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয় সম্পূর্ণ ৫৯০ মিলিয়ন ডলার হলো অনুদান। এটি কোনো ঋণ নয়।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত আশ্রয়দাতা হিসেবে ঢাকাকে সহায়তা দেয়া হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা চ্যাপ্টারের ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি অনেকটা নমনীয় অবস্থান দেখানো হয়।

একদিন আগে, বিশ্বব্যাংক আবদার জানিয়েছিল বাংলাদেশি নাগরিকরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে যেসব সুযোগ-সুবিধা পায়, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরকেও তার সব সুবিধা দিতে হবে ঢাকাকে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাটির প্রস্তাব বলা হয়েছিল, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে জমি কেনার সুযোগ দেয়া হোক, তাদের স্বাধীনভাবে যাতায়াত করতে দেয়া হোক, তাদের নিজেদের মধ্যে নির্বাচন করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ দেয়া হোক।

বাংলাদেশ এই প্রস্তাব মানলে বাংলাদেশকে দুই বিলিয়ন ডলার দেয়ার কথা জানিয়েছে তারা। তবে বাংলাদেশ এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

তবে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের মূল সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা বা স্থায়ীভাবে রেখে দিতে বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবকে অবাস্তব বা কল্পনাপ্রসূত অভিহিত করে তা নাকচ করে দিয়েছে সরকার।

সোমবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক জরুরি প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত বা রেখে দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে ঢাকা রাজি নয়। আমাদের অগ্রাধিকার ইস্যু হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গারা তাদের বাসভূমে ফিরে যাবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক একটা রিপোর্ট তৈরি করেছে, এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ১৬টা দেশের জন্য। যেসব দেশে রিফিউজি আছে, সেখানে তাদের হোস্ট কান্ট্রিতে ইন্টিগ্রেট করার বিষয়ে। যেহেতু রোহিঙ্গারা রিফিউজি না, আমরা এটি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছি।

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের অবস্থান কী, এমন প্রশ্নে সংস্থাটি বিবৃতির মাধ্যমে জানায়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে ও তাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত আশ্রয়দাতা হিসেবে ঢাকাকে সহায়তা দেয়া অব্যাহত রাখবে বিশ্বব্যাংক। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর রোহিঙ্গাদের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে সহায়তা করছে বলে দাবি করে সংস্থাটি।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে কতটুকু সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বিবৃতিতে জানানো হয়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য, অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা, সহ মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নে ৫৯০ মিলিয়ন ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কক্সবাজারের চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়ন ধরে রাখতে গবেষণা ও বিশ্লেষণ করছে বলে দাবি করে বিশ্বব্যাংক।

৫৯০ মিলিয়ন ডলার সহযোগিতা, অনুদান না ঋণ? এমন প্রশ্নে বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয় সম্পূর্ণ ৫৯০ মিলিয়ন ডলার হলো অনুদান। এটি কোনো ঋণ নয়।

শরণার্থী নীতি পর্যালোচনা করে রোহিঙ্গা জনসংখ্যার বিষয়ে বাংলাদেশকে কোনো সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে? এমন প্রশ্নে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে কোনো দেশের জন্য নির্দিষ্ট সুপারিশ চাপিয়ে দেয়া হয়নি।

আরও পড়ুন:
ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’
স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদ, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা
অবৈধ সম্পদ: পিডিবি সাবেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দেড় কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদ’ সাবরেজিস্ট্রার দম্পতির
আফজাল-ফারিনদের নিয়ে কাজ করেছেন ফারুকী

শেয়ার করুন

‘ফিরে এসে চেনা মুখগুলো আর পাইনি’

‘ফিরে এসে চেনা মুখগুলো আর পাইনি’

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

‘আমি, আমার ছোট বোন বিদেশে ছিলাম। জুলাই মাসের ৩১ তারিখ আমরা জার্মানিতে পৌঁছাই। বেঁচে গিয়েছিলাম কিন্তু দেশে আসতে পারিনি। তখনকার মিলিটারি ডিক্টেটর আমাকে আসতে দেয়নি। আমার অবর্তমানে আমার দল আমাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করে। আমার দল, সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষ, তাদেরই আহ্বানে আমি বাংলাদেশে ফিরে আসি।’

১৯৭৫ সালের জুলাইয়ের শেষে জার্মানি যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্যদের বিদায় জানালেও ফিরে এসে তাদের না পাওয়ার স্মৃতি এখনও পোড়ায় বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের স্মৃতিচারণা করেন সরকারপ্রধান।

স্মৃতিকাতর শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর মাত্র সাড়ে ৩ বছরে যখন আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন স্বাধীনতাবিরোধী, পরাজিত শক্তির দোসর এবং কিছু বেইমান মুনাফেকের চক্রান্তে ১৫ আগস্ট তাকে (বঙ্গবন্ধু) হত্যা করা হয়। আর সেই থেকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সব আদর্শকে জলাঞ্জলি দেয়া হয়।’

‘আমি, আমার ছোট বোন বিদেশে ছিলাম। জুলাই মাসের ৩১ তারিখ আমরা জার্মানিতে পৌঁছাই। বেঁচে গিয়েছিলাম কিন্তু দেশে আসতে পারিনি। তখনকার মিলিটারি ডিক্টেটর আমাকে আসতে দেয়নি। আমার অবর্তমানে আমার দল আমাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করে। আমার দল, সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষ, তাদেরই আহ্বানে আমি বাংলাদেশে ফিরে আসি।’

তবে ফিরে আসার পথ মসৃণ ছিল না বলেও জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারণ মিলিটারি ডিক্টেটর যিনি তখন ছিলেন অনেকভাবে বাধা দেয়া চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেদিন আমি দেখেছিলাম হাজার হাজার মানুষ।’

‘আমি যখন বাংলাদেশ থেকে যাই, তখন বিমানবন্দরে আমার ভাইবোন ওরাই ছিল। কিন্তু যখন ফিরে আসি তখন হাজার মানুষ পেয়েছি। কিন্তু সেই চেনা মুখগুলো আর পাইনি। পেয়েছি আমার দলের লোকেরা, সমর্থকরা এবং অগণিত সাধারণ মানুষ।’

জাতির পিতার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণকেই নিজের পাথেয় হিসেবে নেয়ার কথা তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বলেন, ‘আমি সেখানেই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, তাদের বলেছিলাম জাতির পিতা যে আদর্শ নিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আমরা সেটা বাস্তবায়ন করব।

‘তাই আমরা যখন ২১ বছর পর প্রথম সরকার গঠন করি, আমাদের একটাই চিন্তা তৃণমূলে পড়ে থাকা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, তাদের জীবনমান উন্নত করা, তাদের একটু সুস্থ জীবন দেয়া, উন্নত জীবন দেয়া। যে মৌলিক চাহিদাগুলোর কথা আমাদের সংবিধানে দেয়া হয়েছে সেগুলো পূরণ করা। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’
স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদ, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা
অবৈধ সম্পদ: পিডিবি সাবেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দেড় কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদ’ সাবরেজিস্ট্রার দম্পতির
আফজাল-ফারিনদের নিয়ে কাজ করেছেন ফারুকী

শেয়ার করুন

ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল

ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা পূর্বঘোষিত ৩১ জুলাই তারিখের পরিবর্তে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

করোনা মহামারির উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তির আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা পূর্বঘোষিত ৩১ জুলাই তারিখের পরিবর্তে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

এর আগে গত ১ জুন কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের অন্তর্গত গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজগুলোর ১ম বর্ষ সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৭ আগস্ট শুক্রবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

ভর্তি পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা, নম্বর ১০০, পাশ নম্বর ৪০ এবং পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। এই ইউনিটে শুধু নারী শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। গত ১৫ জুন থেকে শুরু হয় এ ইউনিটে অনলাইনে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া।

২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাধ্যমিক/সমমান এবং শুধু ২০২০ সালের বাংলাদেশের যে কোন শিক্ষাবোর্ড/উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়/কারিগরি শিক্ষাবোর্ড/মাদ্রাসা বোর্ড/এ-লেভেল বা সমমানের বিদেশি ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। ভর্তির আবেদন ফি ৬৫০ টাকা।

ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় ৪র্থ বিষয়সহ প্রাপ্ত জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৫.৫ হতে হবে। তবে কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ২.৫ এর কম হলে আবেদন করা যাবে না।

আরও পড়ুন:
ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’
স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদ, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা
অবৈধ সম্পদ: পিডিবি সাবেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দেড় কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদ’ সাবরেজিস্ট্রার দম্পতির
আফজাল-ফারিনদের নিয়ে কাজ করেছেন ফারুকী

শেয়ার করুন

আবাসিক হোটেলেও করোনা চিকিৎসা

আবাসিক হোটেলেও করোনা চিকিৎসা

‘আমাদের হাসপাতাল করার আর জায়গা নেই। হাসপাতাল খালিও নেই। তাই আমরা এখন হোটেল খুঁজছি। যেখানে আমরা একটা ব্যবস্থা করতে পারি, মৃদু যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের রাখতে পারি। ওখানে থেকে চিকিৎসা নিয়ে যাতে ভালো হয়ে বাড়ি যেতে পারেন। সেই ব্যবস্থাটুকু আমরা হাতে নিয়েছি।’

করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। তাই করোনায় আক্রান্ত হওয়া কম ঝুঁকিপূ্র্ণ রোগীদের হোটেলে রেখে চিকিৎসা দেয়ার চিন্তা-ভাবনা সরকার করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মন্ত্রী বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত সবাইকে কিন্তু হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ে না। যেগুলো হালকা, মাইল্ড কেস, সেই সমস্ত রোগীর জন্য আমরা আলাদা হোটেল ভাড়া করার চিন্তা করেছি। যে হোটেলের মধ্যে আমাদের ডাক্তার থাকবে, নার্স থাকবে, ওষুধপত্র থাকবে, কিছু অক্সিজেনের ব্যবস্থাও আমরা রাখব।’

হাসপাতালে শয্যা সংকট হওয়ার কারণে সরকার এই বিকল্প ভাবনা ভাবছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘কারণ আমাদের হাসপাতাল করার আর জায়গা নেই। হাসপাতাল খালিও নেই। তাই আমরা এখন হোটেল খুঁজছি। যেখানে আমরা একটা ব্যবস্থা করতে পারি, মৃদু যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের রাখতে পারি। ওখানে থেকে চিকিৎসা নিয়ে যাতে ভালো হয়ে বাড়ি যেতে পারেন। সেই ব্যবস্থাটুকু আমরা হাতে নিয়েছি।’

ইতিমধ্যে হাসপাতালে ৯০ শতাংশ আসনে রোগী ভর্তি আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রোগী আছে, (শয্যা) ফাঁকা নেই। আইসিইউ অলরেডি ৯৫ শতাংশ অকুপাইড। এই চিন্তা করে আমরা ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করছি। সেটার কাজ চলমান আছে। সেখানে ইমিডিয়েটলি আমরা হয়তো ৫০০ থেকে ৬০০ বেড রেডি করতে পারব। পরে তা এক হাজার বেডে নেয়া যাবে।’

আগামী ৭ আগস্ট থেকে সাত দিনের জন্য বাংলাদেশ প্রত্যেকটি ইউনিয়ন-ওয়ার্ডে টিকা দেয়ার কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই সাত দিনে আমরা প্রায় এক কোটি টাকা দিব। এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।’

এজন্য সভায় বিভিন্ন দপ্তরের সাহায্য চাওয়া হয়েছে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে গ্রামের বয়স্কদের আমরা অগ্রাধিকার দিব। পঞ্চাশোর্ধ যারা আছেন, তাদের আমরা অগ্রাধিকার দেব, এই বয়সীদের মৃত্যু এখন ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে সোয়া কোটি টিকা আছে। আরও এক কোটি টিকা আমাদের হাতে এসে পৌঁছাবে। অর্থাৎ টিকা কর্মসূচি বজায় থাকবে।’

‘এনআইডির (জাতীয় পরিচয়পত্র) মাধ্যমে আমরা ভ্যাকসিন দিব। যাদের এনআইডি নেই তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় টিকা দেয়া হবে। এ বিষয়ে ঘোষণার আগেই দেয়া হয়েছে।’

স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদনের বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে এবং বাংলাদেশের একটি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করেছি। সেই টিকা উৎপাদন করার কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমতিও পেয়েছি।’

আরও পড়ুন:
ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’
স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদ, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা
অবৈধ সম্পদ: পিডিবি সাবেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দেড় কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদ’ সাবরেজিস্ট্রার দম্পতির
আফজাল-ফারিনদের নিয়ে কাজ করেছেন ফারুকী

শেয়ার করুন