‘স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলকে স্বীকৃতি নয়’

‘স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলকে স্বীকৃতি নয়’

‘ফিলিস্তিনের সঙ্গে আত্মার আত্মীয় সম্পর্ক বাংলাদেশের। এটা কেবল ফিলিস্তিনি সরকারের সঙ্গে নয়, সে দেশের জনগণের সঙ্গে। ফিলিস্তিন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে গ্রহণ করবে না বাংলাদেশ।’

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত, ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে থাকবে বাংলাদেশ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

তিনি বলেন, জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও দুই রাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির পক্ষ থেকে ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদানের কাছে জরুরি ওষুধসামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মোমেন বলেন, ‘ফিলিস্তিনের সঙ্গে আত্মার আত্মীয় সম্পর্ক বাংলাদেশের। এটা কেবল ফিলিস্তিনি সরকারের সঙ্গে নয়, সে দেশের জনগণের সঙ্গে। ফিলিস্তিন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে গ্রহণ করবে না বাংলাদেশ।

‘শুধু আমাদের সরকার নয়, আমাদের দেশের মানুষেরও তাদের (ফিলিস্তিন) জন্য সিমপ্যাথি রয়েছে। তাই সম্প্রতি আমাদের জনগণ তাদের দূতাবাসে গিয়ে সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। ফিলিস্তিন আমাদের বড় বন্ধু।

‘আমাদের জাতির পিতার সময় থেকে ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে আমাদের আত্মার আত্মীয় সম্পর্ক। আমরা বিশ্বাস করি যতদিন স্বাধীন সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হবে, আমরা ততদিন তাদের সঙ্গে আছি এবং আমরা ইসরায়েলকে গ্রহণ করব না। আমরা এখনও তাদের স্বীকৃতি দিইনি।’

মোমেন আরও বলেন, ‘একদিন ফিলিস্তিন একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হবে। সে দেশের মানুষের দুর্ভোগ কমবে। যদিও তারা (ইসরায়েল) বারবার আমাদের অ্যাপ্রোচ করেছে, যতদিন আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইদের ওপর অত্যাচার বন্ধ না হবে, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ওদের স্বীকৃতি দেব না। আমরা বিশ্বাস করি ফিলিস্তিন একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হবে।’

সম্প্রতি ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত ২১ মে থেকে কার্যকর হওয়া এ রকম এক যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে ১১ দিনের ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞের আপাত বিরতি হলো। প্রতিবারের মতো প্রায় একতরফা যুদ্ধে এবার কমপক্ষে ২৩২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ জন শিশু। আর গাজা থেকে নিক্ষেপ করা রকেট বা মিসাইলে ইসরায়েলি নিহত হয়েছে ১২ জন। এর মধ্যে শিশু আছে দুজন।

চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশকে সরকারি সাহায্য পাঠানো হয়েছে। ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণও অনুভূতির জায়গা থেকে দেশটির জন্য সাহায্য পাঠাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা করোনার মধ্যে অন্য দেশগুলোকে সরকারি সাহায্য পাঠিয়েছি। কিন্তু ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি জনগণও সাহায্য পাঠাচ্ছে।’

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনকে ১৪০০ কেজি ওষুধ দেয়া হচ্ছে। এসব ওষুধের মূল্য ৪০ লাখ টাকা।

জবাবে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর গাজায় যে যুদ্ধ হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি কঠিন সময় পার করছে। কঠিন সময়ে ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে থাকায় বাংলাদেশের মানুষ ও সরকারকে কখনও ভুলব না। এই ভালোবাসার কী জবাব হয়, কোন ভাষায় তা বর্ণনা করা যায়, তা আমার জানা নেই।

‘কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মতো শব্দ আমার অভিধানে নেই। আমরা এই সহযোগিতার কথা কখনও ভুলব না। আর এটাই হচ্ছে আমাদের দুই দেশের জনগণের গভীর সম্পর্ক। গত ৫০ বছর থেকে আমাদের সম্পর্ক আরও দূঢ় হচ্ছে।’

দেশটির জন্য আরও জরুরি ওষুধ প্রয়োজন বলেও জানান রাষ্ট্রদূত রামাদান।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলি অভিযানে ফিলিস্তিনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ নিহত ৩
জেরুজালেমে এবার দুই অধিকারকর্মী গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পর মুক্ত আল জাজিরার সাংবাদিক
ইসরায়েলের নতুন সরকারে আশা দেখছে না ফিলিস্তিনিরা
হামাসের ‘মানবঢাল’ হিসেবে শিশুদের ব্যবহারের ভিডিওটি ভুয়া

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জন্মনিরোধক পিলও নকল

জন্মনিরোধক পিলও নকল

প্রতীকী ছবি

ভেজাল ওষুধ হিসেবে এবার জব্দ হলো জন্মনিরোধক পিল।

শনিবার রাজধানীর বাবুবাজারে সুরেশ্বরী মেডিসিন প্লাজায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ জব্দ করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এর মধ্যে জন্মনিরোধক পিলও রয়েছে।

নকল ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তারা হলেন- মেডিসিন ওয়ার্ল্ডের ফয়সাল আহমেদ, লোকনাথ ড্রাগের সুমন চন্দ্র মল্লিক ও রাফসান ফার্মেসির লিটন গাজী।

গোয়েন্দা পুলিশের লাগবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ নিউজাবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, নকল জন্মনিরোধক পিলের মধ্যে আছে আইপিল। অরক্ষিত শারীরিক সম্পর্কের পর এটি জরুরি ভিত্তিতে হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের পিলের দাম স্বাভাবিক জন্মবিরোধ পিলের তুলনায় বেশি।।

ডিবির অতিরিক্ত উপ কমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ বলেন, ‘জড়িতরা অধিক লাভের আশায় দীর্ঘদিন ধরে এসব দেশি ও বিদেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের ওষধ ও ক্রিম উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। পলাতক কয়েকজন আসামির কাছ থেকে এগুলো সংগ্রহ করে মিটফোর্ড এলাকায় বাজারজাত করত।’

গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে ডিএমপির কোতোয়ালি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলি অভিযানে ফিলিস্তিনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ নিহত ৩
জেরুজালেমে এবার দুই অধিকারকর্মী গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পর মুক্ত আল জাজিরার সাংবাদিক
ইসরায়েলের নতুন সরকারে আশা দেখছে না ফিলিস্তিনিরা
হামাসের ‘মানবঢাল’ হিসেবে শিশুদের ব্যবহারের ভিডিওটি ভুয়া

শেয়ার করুন

ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

একই উদ্ভিজ্জ তেল বারবার ব্যবহার করলে বেশি বেশি ট্রান্সফ্যাটে পরিণত হয়।

ঢাকায় ডালডার ৯২ শতাংশ নমুনায় ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২ শতাংশ মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পেয়েছেন গবেষকরা।

হৃদরোগে মৃত্যুর পেছনে বড় আতঙ্কের নাম এখন ট্রান্সফ্যাট। খাদ্যে উচ্চমাত্রার শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের কারণে পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করে। আতঙ্কের ব্যাপার হলো, ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

খাবারের ট্রান্সফ্যাট বা ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড হলো ক্ষতিকর চর্বিজাতীয় খাবার। এটি রক্তের ‘ভালো’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ‘খারাপ’ কোলেস্টরেলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। খারাপ কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বেশির ভাগ ট্রান্সফ্যাট তৈরি হয় শিল্প-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিজ্জ তেল তৈরির সময় তাতে হাইড্রোজেন যুক্ত হয়। এই হাইড্রোজেনযুক্ত উদ্ভিজ্জ তেল, যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায়ও জমে যায়, সেটিই হলো ট্রান্সফ্যাট। খাবার তৈরির সময় উদ্ভিজ্জ তেল পরিবর্তন না করে ভাজার জন্য বারবার ব্যবহার করলে তা বেশি বেশি ট্রান্সফ্যাটে পরিণত হয়, যা শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর।

শনিবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় ট্রান্সফ্যাট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একদল বক্তা। ‘ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা: অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক ওই কর্মশালাটির আয়োজন করে অ্যাডভোকেসি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।

কর্মশালায় বক্তারা জানান, ভয়ংকর খাদ্য উপাদান ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণের খসড়া নীতিমালাটি এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি সরকার। এ জন্য ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা চূড়ান্ত করে বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
বিএমএ ভবন মিলনায়তনে ‘ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা: অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

কর্মশালায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, ‘শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট খাদ্যের একটি বিষাক্ত উপাদান, যা হৃদরোগজনিত অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ডালডা বা বনস্পতি ঘি এবং তা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার, ফাস্টফুড ও বেকারি পণ্যে ট্রান্সফ্যাট থাকে।’

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের গবেষক দল ঢাকায় ডালডার ৯২ শতাংশ নমুনায় ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২ শতাংশ মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পেয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছে।

প্রবিধানমালার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিএফএসএর সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ‘খাদ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই খসড়া প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত করতে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ে এটি চূড়ান্ত হবে।’

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মো. রূহুল কুদ্দুস বলেন, ‘ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের অর্থনৈতিক গুরুত্বও অনেক। আমাদের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বাজার দিন দিন বাড়ছে। ট্রান্সফ্যাটমুক্ত পণ্য তৈরি করতে না পারলে আমরা আন্ত‍‍র্জাতিক বাজার হারাব এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশে ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগ ঝুঁকি বাড়বে এবং চিকিৎসা খাতে ব্যয় বাড়বে।’

কর্মশালায় প্রজ্ঞার পক্ষ থেকে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন ট্রান্সফ্যাট নির্মূল প্রকল্পের টিমলিডার মো. হাসান শাহরিয়ার এবং প্রকল্প সমন্বয়ক মাহমুদ আল ইসলাম শিহাব।

কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৯ সংবাদকর্মী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক নাদিরা কিরণ ও প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলি অভিযানে ফিলিস্তিনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ নিহত ৩
জেরুজালেমে এবার দুই অধিকারকর্মী গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পর মুক্ত আল জাজিরার সাংবাদিক
ইসরায়েলের নতুন সরকারে আশা দেখছে না ফিলিস্তিনিরা
হামাসের ‘মানবঢাল’ হিসেবে শিশুদের ব্যবহারের ভিডিওটি ভুয়া

শেয়ার করুন

‘শফী হত্যা’র বিচার শুরু হয়নি এক বছরেও

‘শফী হত্যা’র বিচার শুরু হয়নি এক বছরেও

হাটহাজারী মাদ্রাসায় হাঙ্গামার পর মারা যাওয়া শাহ আহমেদ শফীর মৃত্যুকে অবহেলাজনিত নরহত্যা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেয় পিবিআই।

পুলিশের তদন্ত সংস্থা পিবিআই আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার প্রতিবেদন ১২ এপ্রিল আদালতে জমা দেয়। তবে এখনও শুরু হয়নি বিচার কার্যক্রম। মানসিক নির্যাতন ও পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেন শফীর শ্যালক মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন।

হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর এক বছর হলেও নড়ছে না তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া হত্যা মামলার বিচার। পুলিশের তদন্ত সংস্থা পিবিআই মামলাটির প্রতিবেদন ১২ এপ্রিল আদালতে জমা দিলেও এখনও শুরু হয়নি বিচার কার্যক্রম।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান আহমদ শফী। এর আগের দুই দিন চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় হাঙ্গামার ঘটনা ঘটে। মাদ্রাসায় বাবুনগরীর অনুসারীরা এসময় হেফাজতের আমিরের কক্ষে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে নানা হুমকি-ধমকি দিয়েছিলেন বলে তার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।

শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পর চট্টগ্রাম জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শিবলু কুমার দের আদালতে আহমদ শফীকে মানসিক নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেন তার শ্যালক মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়।

আল্লামা শফীর এক নাতনির লেখা পুস্তিকায় বলা হয়েছে, আল্লামা শফীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা ছাড়াও তার চিকিৎসায় বাধা দেয়া হয়েছে। অক্সিজেনের নল কেটে ফেলা হয়েছে, এমনকি অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে দেয়া হয়নি। আর এ কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

‘শফী হত্যা’র বিচার শুরু হয়নি এক বছরেও

হাটহাজারী মাদ্রাসায় হাঙ্গামার পর হেফাজতের সে সময়ের আমির শাহ আহমেদ শফীকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখনই তার জীবন ছিল সংকটাপন্ন। ফাইল ছবি

পুলিশের তদন্ত সংস্থা পিবিআই তদন্ত করে ‘অপরাধজনিত নরহত্যার’ অভিযোগ এনে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গত ১২ এপ্রিল আদালতে জমা দেয়া প্রতিবেদনে ৪৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে শফীর পর হেফাজতের আমির হওয়া জুনায়েদ বাবুনগরীর নাম ছিল। তিনি মারা গেছেন।

দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি

আল্লামা শফীকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে এই ঘটনার উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার দুই দিন পর গত ১৪ এপ্রিল মন্ত্রী ঢাকায় তার বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে কথা বলেন বিষয়টি নিয়ে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মওলানা শফী সাহেব আমার নির্বাচনী এলাকার ও আমার পাশের ইউনিয়নের একজন আলেম ছিলেন। তার মতাদর্শ নিয়ে নানা কথা থাকলেও মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন সজ্জন। যারা মামলা করেছেন, তারাও আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ। আমি চাই, আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ মওলানা শফী সাহেবকে যারা নির্যাতন করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে, তাদের উপযুক্ত দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক।’

আল্লামা শফী চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার সাবেক মহাপরিচালকও ছিলেন। তিনি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

আহমদ শফী আলোচনায় আসেন ২০১০ সালে নারীনীতি বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে হেফাজতে ইসলাম গঠন করে।

তবে এই সংগঠনটি তোলপাড় ফেলে দেয় ২০১৩ সালে। সে সময় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে উঠা শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের বিরোধিতা করে সংগঠনটি ঢাকা অবরোধ ডাকে ৫ মে।

মতিঝিলে সমাবেশ করে সেখান থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর পর রাতে সেখানেই অবস্থান করে হেফাজত সরকার পতনের দাবি তোলে। রাতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির যৌথ অভিযানে তারা শাপলা চত্বরের দখল ছাড়ে।

এরপর শুরু হয় নজিরবিহীন গুজব। ওই রাতে হাজার হাজার মানুষকে হত্যার অবাস্তব অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত একজনেরও নাম দিতে ব্যর্থ হয় হেফাজত। আর আল্লামা শফী এক পর্যায়ে সরকারের সঙ্গে দূরত্ব ঘুঁচিতে আনেন। কওমিপন্থিদের প্রধান দাবি দাওরায়ে হাদিসকে ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার হাতেই তুলে দেন।

তবে আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর হেফাজত আবার সরকারবিরোধী অবস্থানে ফিরে যায়। গত মার্চ ও এপ্রিলের শুরুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের নানাস্থানে ব্যাপক সহিংসতা চালায় নেতা-কর্মীরা। পরে ধরপাকড় শুরু হলে হেফাজত ‘সমঝোতায়’ মরিয়া হয়ে উঠে।

এর মধ্যে জুনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যু হলে সংগঠনটি কওমিপন্থিদের মধ্যেও গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে অনেকাংশে।

আল্লামা আহমদ শফীর জন্ম ১৯২০ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার পাখিয়াটিলা গ্রামে। ১৯৪১ সালে তিনি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখান থেকে দাওরায়ে হাদিস শেষ করেন ১৯৪৬ সালে হাটহাজারীতে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠানের মজলিসে শূরার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব পান। ২০০৫ সালে তিনি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড-বেফাকের সভাপতি নির্বাচিত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে আল্লামা শপীর স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি, নাতনি রয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলি অভিযানে ফিলিস্তিনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ নিহত ৩
জেরুজালেমে এবার দুই অধিকারকর্মী গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পর মুক্ত আল জাজিরার সাংবাদিক
ইসরায়েলের নতুন সরকারে আশা দেখছে না ফিলিস্তিনিরা
হামাসের ‘মানবঢাল’ হিসেবে শিশুদের ব্যবহারের ভিডিওটি ভুয়া

শেয়ার করুন

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন প্রাণ গোপাল

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন প্রাণ গোপাল

কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল তালুকদার বলেন, ‘আমরা রোববার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট পাঠাব। পরদিন গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।’

কুমিল্লা-৭ আসনের উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।

জাতীয় পার্টির পর এবার বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) প্রার্থী মনিরুল ইসলাম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. দুলাল তালুকদার।

তিনি জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ন্যাপের প্রার্থী মনিরুল ইসলাম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। কারণ হিসেবে মনিরুল জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে বলা হচ্ছে। এ জন্য ন্যাপের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের সিদ্ধান্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন।

নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল তালুকদার আরও জানান, এই আসনে উপনির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন চারজন। ১৪ সেপ্টেম্বর যাচাই-বাছাই শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছালেহ ছিদ্দিকী ছাড়া বাকি তিনজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

তাদের মধ্যে জাপা ও ন্যাপের দুই প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা রোববার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট পাঠাব। পরদিন গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।’

গত ৩০ জুলাই পাঁচবারের নির্বাচিত সাংসদ সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক মো. আলী আশরাফের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। এরপর ২ সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৭ অক্টোবর ইভিএমে এই আসনে ভোট হওয়ার কথা ছিল।

জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে দল থেকে বহিষ্কার

কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী এবং কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফর রেজা খোকনকে বহিষ্কার করেছে জাতীয় পার্টি।

কেন্দ্রীয় নেতাদের না জানিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলি অভিযানে ফিলিস্তিনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ নিহত ৩
জেরুজালেমে এবার দুই অধিকারকর্মী গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পর মুক্ত আল জাজিরার সাংবাদিক
ইসরায়েলের নতুন সরকারে আশা দেখছে না ফিলিস্তিনিরা
হামাসের ‘মানবঢাল’ হিসেবে শিশুদের ব্যবহারের ভিডিওটি ভুয়া

শেয়ার করুন

২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিথিল বাংলাদেশিদের যুক্তরাজ্য ভ্রমণ

২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিথিল বাংলাদেশিদের যুক্তরাজ্য ভ্রমণ

২২ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাজ্য ভ্রমণে কোয়ারেন্টিনের বাধ্যবাধকতা থাকছে না বাংলাদেশিদের জন্য। ছবি: এএফপি

ব্রিটেনের পরিবহন সচিব গ্রান্ট শ্যাপস প্রায় সাড়ে চার মাস পর শুক্রবার বাংলাদেশকে এ তালিকা থেকে বাদ দেয়ার ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ ছাড়া আরও সাত দেশের ওপর থেকে ভ্রমণ কড়াকড়ি তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয় দেশটি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ কমে আসায় বাংলাদেশের ওপর জারি রেড অ্যালার্ট তুলে নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

ব্রিটেনের পরিবহন সচিব গ্রান্ট শ্যাপস প্রায় সাড়ে চার মাস পর শুক্রবার বাংলাদেশকে এ তালিকা থেকে বাদ দেয়ার ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ ছাড়া আরও সাত দেশের ওপর থেকে ভ্রমণ কড়াকড়ি তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয় দেশটি।

এই ঘোষণা কার্যকর হলে দেশটি সফরে যাওয়া বাংলাদেশিদের আর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন শুক্রবার ফেসবুক লাইভে এসে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এটা সুখবর। বর্তমানে দেশে কয়েক হাজার ব্রিটিশ নাগরিক আটকে আছে। এ ছাড়া বাংলাদেশিরা তাদের প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যে যেতে পারছেন না। যারা যাচ্ছেন তাদের কয়েক লাখ টাকা খরচ করে হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে। রেড অ্যালার্ট তুলে নিলে তাদের আর কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। আজই এই ঘোষণা আসবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সফরে সে দেশের কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছি। সে দেশের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি। তাদের বলেছি, বাংলাদেশ ব্রিটেনের ৫০ বছরের পুরোনো বন্ধু। স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীর বছরে বাংলাদেশের ওপর এমন বিধিনিষেধ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘তারা আমার কথা রেখেছে। বাংলাদেশকে নরমাল ক্যাটাগারিতে আনা হচ্ছে। এ জন্য ব্রিটিশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রতিবার যুক্তরাজ্যে বিশ্রাম নেন। এবার তিনি ফিনল্যান্ডের বিশ্রাম নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত লন্ডনকে কড়া বার্তা দিয়েছে বলেই তারা দ্রুত এই তালিকা হালনাগাদের সিদ্ধান্ত নেয়।

গত সপ্তাহে লন্ডন সফর থেকে ফিরে ব্রিটিশ সরকারের কড়া সমালোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

সবশেষ গত রোববার রাজধানীর এক হোটেলে করোনাভাইরাসের আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশকে ব্রিটেনের লাল তালিকায় রাখা যুক্তিসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলি অভিযানে ফিলিস্তিনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ নিহত ৩
জেরুজালেমে এবার দুই অধিকারকর্মী গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পর মুক্ত আল জাজিরার সাংবাদিক
ইসরায়েলের নতুন সরকারে আশা দেখছে না ফিলিস্তিনিরা
হামাসের ‘মানবঢাল’ হিসেবে শিশুদের ব্যবহারের ভিডিওটি ভুয়া

শেয়ার করুন

৭১টি লাল গোলাপে মোদিকে হাসিনার শুভেচ্ছা

৭১টি লাল গোলাপে মোদিকে হাসিনার শুভেচ্ছা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি

নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে গোলাপ ফুলের তোড়া পাঠায় দেশটিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন। হাইকমিশনের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ৭১টি লাল গোলাপের তোড়া পৌঁছে দিয়ে আসেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭১তম জন্মদিনে ৭১টি লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে গোলাপ ফুলের তোড়া পাঠায় দেশটিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন।

হাইকমিশনের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ৭১টি লাল গোলাপের তোড়া পৌঁছে দিয়ে আসেন।

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।

নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ। তার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। আগামী দিনেও তিনি দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করবেন- এমন আশা রাখেন রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ।

দেশ ভাগের তিন বছর পর, ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের গুজরাটের ভাডনগরে জন্মগ্রহণ করেন নরেন্দ্র মোদি। প্রায় ১৪ বছর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা মোদি ভারতের ১৪তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ২৬ মে থেকে তিনি ভারতকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ৬৫ মণ আম উপহার পাঠান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ বছরের ৪ জুলাই বেনাপোল নো ম্যানস ল্যান্ডে ভারতে নিযুক্ত কলকাতার প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) সানিউল কাদের উপহারের ২৬০০ কেজি (২৬০ কার্টন) আম গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো উপহারের হাঁড়িভাঙ্গা আম মন ছুঁয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তার দুই দিন পর, ৬ জুলাই শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা চিঠিতে এ কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

মোদি চিঠিতে লেখেন, ‘আম উপহারের সৌজন্যতা আমার হৃদয় ছুঁয়েছে। ঢাকা সফরকালে আমাকে যে অসাধারণ আতিথেয়তা দেয়া হয়েছিল, এ আম উপহার সেটাকে স্মরণ করিয়ে দিল।’

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলি অভিযানে ফিলিস্তিনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ নিহত ৩
জেরুজালেমে এবার দুই অধিকারকর্মী গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পর মুক্ত আল জাজিরার সাংবাদিক
ইসরায়েলের নতুন সরকারে আশা দেখছে না ফিলিস্তিনিরা
হামাসের ‘মানবঢাল’ হিসেবে শিশুদের ব্যবহারের ভিডিওটি ভুয়া

শেয়ার করুন

ব্যাংক হিসাব তলব: সংবাদ সম্মেলনে আসছেন সাংবাদিক নেতারা

ব্যাংক হিসাব তলব: সংবাদ সম্মেলনে আসছেন সাংবাদিক নেতারা

ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খানের পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, ‘দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের নামে সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।’

সম্প্রতি সাংবাদিকদের ছয়টি সংগঠনের ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে গঠিত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসার ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

তারা জানিয়েছেন, জাতীয় প্রেসক্লাবে শনিবার দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা তাদের ফেসবুকে এ নিয়ে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমাদের বিষয়ে জাতির কাছে ভুল বার্তা দেয়া হচ্ছে। আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই। আর তাই এ সংবাদ সম্মেলন।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খানের পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, ‘দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের নামে সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করে রোববার বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠায়।

চিঠিতে মঙ্গলবারের মধ্যে নির্দিষ্ট ফরমে সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাবের সব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশন প্রোফাইল, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণী।

যেসব নেতাদের তথ্য চাওয়া হয়েছে এদের মধ্যে আছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান। এছাড়া অন্য সাংবাদিক নেতারা হলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) (বিএনপি সমর্থিত) সভাপতি আব্দুল কাদের গণি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) (বিএনপি সমর্থিত) সভাপতি এম আবদুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন রোকনের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) (আওয়ামী লীগ সমর্থিত) সভাপতি মোল্লা জালাল ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আব্দুল মজিদ এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি মোরসালীন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খানের তথ্যও চেয়েছে বিএফআইইউ।

ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন।

সোমবার নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘যারা (বিএফআইইউ) চেয়েছে তারা বলতে পারবে কেন চেয়েছে। সরকার এটা চাইতেই পারে। সাংবাদিকরা তো সব কিছুর ঊর্ধ্বে না।’

কেবল সাংবাদিক নেতাদের তথ্য চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের হয়তো মনে হয়েছে নেতারা শুধু দাবিদাওয়া জানায়, কী অবস্থায় (তারা) আছে দেখি। দল-মত নির্বিশেষে সব নেতার তথ্য তারা চেয়েছে।’

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কেন আমার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। আমার ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেখে, যারা চেয়েছে তারা লজ্জা পেতে পারে। আমার একটা টাকাও নেই।’

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলি অভিযানে ফিলিস্তিনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ নিহত ৩
জেরুজালেমে এবার দুই অধিকারকর্মী গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পর মুক্ত আল জাজিরার সাংবাদিক
ইসরায়েলের নতুন সরকারে আশা দেখছে না ফিলিস্তিনিরা
হামাসের ‘মানবঢাল’ হিসেবে শিশুদের ব্যবহারের ভিডিওটি ভুয়া

শেয়ার করুন