ভারতে পাচার: আরও দুজন গ্রেপ্তার

ভারতে পাচার: আরও দুজন গ্রেপ্তার

ভারতে বন্দিদশা থেকে পালিয়ে আসা তরুণীর করা মামলায় সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আমিরুল ইসলাম ও আবদুস সালাম মোল্লা নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সদস্য।

ভারতে পাচার হয়ে ৭৭ দিনের বন্দিদশা থেকে পালিয়ে দেশে ফিরে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় তরুণীর করা মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আমিরুল ইসলাম ও আবদুস সালাম মোল্লা নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সদস্য।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. শহীদুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

টিকটক চক্রের মাধ্যমে ভারতে পাচার হওয়ার ৭৭ দিন পর পালিয়ে দেশে ফিরে মামলা করেন ওই তরুণী।

রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় ১ জুন রাতে মামলাটি করা হয়। সেই রাতেই পাচারকারি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলায় মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে ১ জুন রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন মেহেদী হাসান বাবু, মহিউদ্দিন ও আবদুল কাদের।

এ মামলার ১২ আসামি হলেন রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় বাবু, আনিস, আবদুল কাদের, মেহেদী হাসান বাব, মহিউদ্দিন, হারুন, বকুল ওরফে ছোট খোকন, সবুজ, রুবেল ওরফে রাহুল, সোনিয়া, আকিল ও ডালিম।

সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় এক তরুণীকে বিবস্ত্র করে শারীরিক ও যৌন নিপীড়ন করছেন তিন-চার যুবক ও একটি মেয়ে।

পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতনের ঘটনাটি ভারতের কেরালার। তবে ভিকটিম ও নিপীড়কদের একজন ‘টিকটক হৃদয়’ বাংলাদেশি নাগরিক।

বাংলাদেশি তরুণীকে কেরালায় নৃশংসভাবে যৌন নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালের ঘটনায় আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের হোতা আশরাফুল মণ্ডল ওরফে বস রাফিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তা ছাড়া ভারতে পালানোর সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার হন টিকটক হৃদয় বাবু।

র‍্যাবের দাবি, বস রাফি গত আট বছরে ৫০০ নারীকে ভারতে পাচার করেছেন। এসব নারীকে আটকে রেখে মাদক সেবনে এবং যৌনকর্মীর কাজে বাধ্য করা হতো। এই চক্রের সদস্যসংখ্যা নারীসহ অন্তত ৫০ জন।

এদিকে পালিয়ে দেশে আসা ওই তরুণী ইতিমধ্যে পুলিশকে জানিয়েছেন পাচারের শিকার নারীদের বিভিন্ন সেফহোমে আটকে রেখে নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।

চাকরি দেয়ার কথা বলে তার সঙ্গে পরিচিত হন ভিডিও শেয়ারিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক তারকা রিফাদুল ইসলাম হৃদয়। এরপর টিকটক হ্যাংআউটের জন্য কুষ্টিয়ায় যাওয়ার কথা বলে ওই তরুণীকে তিনি নিয়ে যান সাতক্ষীরায়। আর সেখান থেকে কৌশলে ভারতে পাচার করা হয় তরুণীকে।

ভারতের বেঙ্গালুরুতে নিয়ে ওই তরুণীকে হোটেল ও ম্যাসাজ পারলারে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়।

টিকটক হৃদয়ের ফাঁদে পড়ে ভারতে পাচার হওয়ার পর ৭৭ দিনের এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্নময় সময় পার করে গত মে মাসে কৌশলে পালিয়ে দেশে ফিরে আসেন ওই তরুণী।

আরও পড়ুন:
ভারতে পাচার বাংলাদেশি তরুণীর ভয়াবহ বয়ান
টিকটক ভিডিও বানিয়ে আটক ৯
টিকটক গ্রুপে নজরদারি
আবারও টিকটকে নতুন সিইও
পাকিস্তানে আবার নিষিদ্ধ টিকটক

শেয়ার করুন

মন্তব্য