ছয় দফা দিবস: বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা

ছয় দফা দিবস: বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা

ছয় দফা দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় আওয়ামী লীগ। ছবি: নিউজবাংলা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষণা করা ছয় দফার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে শহীদ হন ১১ জন। ১৯৬৬ সালের এ আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর ৭ জুন পালিত হয়ে আসছে ছয় দফা দিবস।

ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করেছে আওয়ামী লীগ। তবে করোনা পরিস্থিতিতে বাড়তি কর্মসূচি ছিল না দলটির।

সোমবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন, ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। এরপর সকাল ৯টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও শাহজাহান খান; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ; সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজমসহ নেতা-কর্মীরা।

এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় যারা বিশ্বাস করে না, তারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।’

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেশে রাজনীতি এমন হওয়া উচিত, যেখানে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলই স্বাধীনতার সপক্ষে থাকবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দল স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিদের নিয়ে রাজনীতি করে।’

বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে যে কয়েকটি আন্দোলন স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম হলো ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির মধ্যে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের যে বীজ বুনেছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ ছিল বঙ্গবন্ধুর এই ছয় দফা। একে বলা হয়, বাঙালির মুক্তির সনদ। সোমবার সেই ছয় দফা আন্দোলনের ৫৫তম বার্ষিকী।

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে পাকিস্তানের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের সব বিরোধী দলকে নিয়ে একটি জাতীয় সম্মেলনে অংশ নেন তৎকালীন পূর্ব বাংলার নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই সম্মেলনে পূর্ব বাংলায় পাকিস্তানি আগ্রাসন ও শোষণ রুখতে তিনি ঘোষণা করেন ঐতিহাসিক ছয় দফা।

১১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকায় ফিরে দেশব্যাপী শুরু করেন ছয় দফার পক্ষে প্রচারাভিযান। বাংলার আনাচকানাচে সফর করে তিনি তুলে ধরেন দাবির যৌক্তিকতা। তার এই দাবির পক্ষে সে সময় সারা দেশে ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে।

এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৭ জুন দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেয় বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ। হরতাল চলাকালে নিরস্ত্র জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় জান্তা সরকারের পুলিশ ও তৎকালীন ইপিআর। এতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে শহীদ হন মনু মিয়া, সফিক, শামসুল হকসহ ১১ জন।

এ হত্যাকাণ্ডের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ফুঁসে ওঠে বাংলার জনগণ। স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। পরবর্তী সময়ে আন্দোলন রূপ নেয় তীব্র গণ-আন্দোলনে। সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয় এই গণ-আন্দোলনেরই ফসল।

ছয় দফার সেই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর ৭ জুন পালিত হয়ে আসছে ছয় দফা দিবস।

আরও পড়ুন:
‘৭ জুনই ছিল স্বাধীনতার জন্য প্রথম রক্তদান’

শেয়ার করুন

মন্তব্য