বিশ্ব পরিবেশ দিবস

গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী

গণভবনে চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী

গত বছর মুজিববর্ষে কোটি গাছের চারা লাগানোর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: এএলবিডি

বাংলাদেশেও ‘মুজিববর্ষে অঙ্গীকার করি, সোনার বাংলা সবুজ করি’ প্রতিপাদ্যে শুরু হচ্ছে এ বছরের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান।

বিশ্বব্যাপী পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতার অংশ হিসেবে প্রতিবছরের ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন হয়ে আসছে। দিনটি সামনে রেখে নানান দেশে নানান কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশেও ‘মুজিববর্ষে অঙ্গীকার করি, সোনার বাংলা সবুজ করি’ প্রতিপাদ্যে শুরু হচ্ছে এ বছরের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান।

শনিবার বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সোনালু, জাম, আমড়া ও ডুমুর গাছের চারা রোপণ করে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযানের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, সচিব জিয়াউল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির ঘোষণা অনুযায়ী ‘প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, হোক সবার অঙ্গীকার’ প্রতিপাদ্যে এবং ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ করি, প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করি’ স্লোগানে বিভিন্ন দেশ এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করছে।

দিবস উপলক্ষে পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে উপলক্ষ করে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্ম প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে সরকার প্রত্যাশা করে।

জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মসূচিগুলোর মধ্যে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব মোবাইল ফোন অপারেটরের মাধ্যমে ক্ষুদেবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান, স্থাপনা ও সড়কে ব্যানার, ফেস্টুন স্থাপন করে পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করে মানুষকে গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন:
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা
নিউজিল্যান্ডে বিরল ডলফিন রক্ষায় ড্রোন দিয়ে নজরদারি
বনের চারপাশে ৭০০ অবৈধ করাতকল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

উত্তরবঙ্গ যাত্রার বাসস্টপ অজ্ঞান পার্টির ‘হটস্পট’

উত্তরবঙ্গ যাত্রার বাসস্টপ অজ্ঞান পার্টির ‘হটস্পট’

অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খোয়ানো এক ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফাইল ছবি

দুপুরে বাসটি সিরাজগঞ্জের ফুড ভিলেজে যাত্রাবিরতি দেয়। তিনজন একসঙ্গে দুপুরের খাবার খান। খাওয়া শেষে দুই যুবকের একজন শরীফকে ডাব খাওয়ার প্রস্তাব দেন। যুবক নিজেও ডাব খেয়ে বলেন, বেশ ভালো খেতে পারেন। পরে ডাব খেয়ে বাসে ওঠেন ওমর শরীফ। এরপর আর কিছু জানেন না, কী হয়েছে। একদিন পর নিজেকে আবিষ্কার করেন হাসপাতালের বিছানায়। দুই যুবকসহ তার মালামাল গায়েব।

নাটোরের ওমর শরীফ লন্ডন থেকে ঢাকায় আসেন ৫ অক্টোবর ভোরে। গ্রামে যেতে উত্তরার আজমপুর এলাকায় দেশ ট্রাভেলসের বাস কাউন্টারে যান। সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে সিট না পেয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা দুই যুবক শরীফকে পরিচয় দেন তারা মিশর থেকে এসেছেন, যাবেন নাটোরে।

মিশর থেকে আসা দুজন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের টিকিট না পেয়ে কল্যাণপুর যাবেন। শরীফকেও প্রস্তাব দেন একসঙ্গে কল্যাণপুর যাওয়ার।

পরে রাজি হলে একটি সিএনজিঅটোরিকশায় কল্যাণপুর যান। সেখানে দুই যুবকের একজন নিজের নামে কাউন্টার থেকে শরীফসহ তিনজনের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের টিকিট কেটে রওনা হন।

দুপুরে বাসটি সিরাজগঞ্জের ফুড ভিলেজে যাত্রাবিরতি দেয়। তিনজন একসঙ্গে দুপুরের খাবার খান। খাওয়া শেষে দুই যুবকের একজন শরীফকে ডাব খাওয়ার প্রস্তাব দেন। যুবক নিজেও ডাব খেয়ে বলেন, ‘বেশ ভালো খেতে পারেন।’

পরে ডাব খেয়ে বাসে ওঠেন ওমর শরীফ। এরপর আর কিছু জানেন না, কী হয়েছে। একদিন পর নিজেকে আবিষ্কার করেন হাসপাতালের বিছানায়। দুই যুবকসহ তার মালামাল গায়েব।

শরীফের সঙ্গে থাকা ব্যাগগুলো বাসের বক্সে রাখা হয়েছিল ওই টিকিটের অধীনে। যা দুই যুবকের একজনের নামে করা। এ ঘটনায় নাটোরের বড়াইগ্রামে মামলা করেন ওমর শরীফ।

শুধু ওমর শরীফ নন, এ ধরনের শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে একই কৌশলে অজ্ঞানের পর লুট করা হয়েছে মালামাল।

রাজধানীর উত্তরা ও বিমানবন্দর কেন্দ্রিক এমন অজ্ঞানপার্টির সক্রিয় চক্রের সদস্যদের সন্ধানে দীঘদিন ধরেই কাজ করছিল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গত ৭ অক্টোবর মিশরফেরত লিটন সরকার নামে এক যুবকের মালামাল লুটের ঘটনায় চক্রের হোতা আমির, আপেল ও শামীমকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা বিভাগ। শনিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার শামীমের বাড়ি বরিশালের গৌরনদীতে এবং আপেল ও আমিরের বাড়ি জামালপুরে। তাদের চক্রে আরও সদস্য রয়েছে। তাদেরকেও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের ডিবি জানায়, তারা উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের টার্গেট করে ফুড ভিলেজে নিয়ে কৌশলে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুটে নিত।

ডিবি জানায়, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের বাসিন্দা লিটন সরকার ৭ অক্টোবর সকালে টার্কিস বিমানে ঢাকায় আসেন। এরপর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিমানবন্দরের সামনে ফুটওভার ব্রিজের পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এসময় কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে এসে গন্তব্য সম্পর্কে জানতে চায়। মাইক্রোবাসে পৌঁছে দেয়ার অফার দেন।

লিটন এ সময় প্রয়োজন নেই জানালে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় আড়াই লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয় অজ্ঞাতপরিচয় ৪-৫ জন। ওই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন লিটন।

মামলার তদন্তের এক পর্যায়ে ডিবির বিমানবন্দর জোনাল টিম এই চক্রের সদস্যকে চিহ্নিত করে। শনিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মূলত অজ্ঞানপার্টির সদস্য বলে স্বীকার করেন।

লিটন তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় লুটের পথে পা বাড়ান বলে জানায় চক্রের সদস্যরা।

সে দিন নেশা করার জন্য তাদের টাকার বেশি প্রয়োজন ছিল বলেও স্বীকার করেন।

অজ্ঞানপার্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা চলতি মাসের ৫ তারিখ ওমর শরীফের ঘটনা জানান। এরপর গোয়েন্দা পুলিশ নাটোরের বড়াইগ্রাম থানায় মামলার খুঁজে পান।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, নাটোরের বড়াইগ্রাম পৌঁছানোর আগের একটি বাস স্টপে নেমে যায় ওই চক্রের সদস্যরা। নেমে যাওয়ার সময় ওমর শরীফকে বড়াইগ্রাম নামিয়ে দেয়ার জন্য বাসের সুপারভাইজারকে অনুরোধ করেন। বড়াইগ্রাম আসার পর ওমর শরীফকে নামার জন্য ডাক দেয়া হলে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর পুলিশের সহায়তায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করায় বাসের লোকজন।

ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে সিরাজগঞ্জের এক এসআইয়ের সঙ্গে অজ্ঞানপার্টির দুই সদস্যদের কথা বলার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর ওই এসআইকে অজ্ঞাসপার্টির সদস্য মনে করে তুলে আনে বড়াইগ্রাম পুলিশ। নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেয়ার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরপর দেখা যায় আরও একটি অজ্ঞানের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওই এসআই।

তিনি তাদের গ্রেপ্তারের জন্য ছদ্মবেসে কথা বলছিলেন। বিষয়টি প্রমাণের পর এসআইয়ের কাছে ক্ষমা চান বড়াইগ্রাম থানার ওসি।

সিরাজগঞ্জের ওই মামলাতেও এই তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানায় ডিবি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার এই তিনজনের নামে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ডজন খানেক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। যার বেশিরভাগই অজ্ঞানপার্টি সংশ্লিষ্ট।

গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘‘তারা এ পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে মালামাল লুট করেছেন। বিমানবন্দর থেকে টার্গেট করে ব্যক্তির পিছু নিয়ে তারা গাড়িতে ওঠেন। উত্তরবঙ্গের কোনো এক স্থানে গিয়ে অজ্ঞান করে মালামাল লুটে নেন। মূলত ঢাকায় উত্তরবঙ্গগামী বাসস্টপেজগুলো অজ্ঞান পার্টির ‘হটস্পট’।’’

অজ্ঞানপার্টির সদস্যদের ধরতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকার দক্ষ পুলিশ সদস্যরাও ঢাকার বাইরে অভিযান শুরু করেছে। যার বেশিরভাগই উত্তরবঙ্গকেন্দ্রীক বলে জানান ডিবির কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা
নিউজিল্যান্ডে বিরল ডলফিন রক্ষায় ড্রোন দিয়ে নজরদারি
বনের চারপাশে ৭০০ অবৈধ করাতকল

শেয়ার করুন

সারা দেশে ‘সম্প্রীতি রক্ষা দিবস’ করবে সাংস্কৃতিক জোট

সারা দেশে ‘সম্প্রীতি রক্ষা দিবস’ করবে সাংস্কৃতিক জোট

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, পূজামণ্ডপে হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নাগরিক সমাবেশ করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। ছবি: নিউজবাংলা

গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে সমস্ত গুজব রটানো হয়েছে, তাদের মধ্যে সরকারি দলের নামাবলী গায়ে দেয়া প্রচুর লোক রয়েছে। এদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়াটা জরুরি। এটি যদি না করা হয় তাহলে এ সব অপকর্মের দায় সরকারি দলকেই নিতে করতে হবে।’

দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ‘সম্প্রীতি রক্ষা দিবস’ পালন করবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

নোয়াখালীর চৌমুহনীতে এদিন জোটের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে এ ঘোষণা দেন জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস। এদিন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, পূজামণ্ডপে হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘সম্প্রীতি রক্ষা দিবসের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে সমাবেশের আয়োজন করা হবে। হামলায় যে সব পরিবারের সদস্য নিহত এবং আহত হয়েছেন তাদের পাশে আমরা দাঁড়াব। তাদেরকে আমরা জানিয়ে দিতে চাই, আপনারা একা নন। আপনাদের বুকে যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, আমাদের বুকেও সে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমরা একসঙ্গে আনন্দ বেদনাকে ভাগ করে এই বাংলাদেশে বাঁচতে চাই।’

চৌমুহনীতে যাওয়ার পথে কুমিল্লার যে মন্দিরে প্রথম ঘটনার সূত্রপাত হয় সে এলাকাও পরিদর্শন করবেন জোটের নেতারা।

গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে সমস্ত গুজব রটানো হয়েছে, তাদের মধ্যে সরকারি দলের নামাবলী গায়ে দেয়া প্রচুর লোক রয়েছে। এদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়াটা জরুরি। এটি যদি না করা হয় তাহলে এ সব অপকর্মের দায় সরকারি দলকেই নিতে করতে হবে।’

জোটের শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘দুর্গাপূজার সময় যে যে এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে জনপ্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন কিনা সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। যেসব জনপ্রতিনিধিরা সেসব এলাকায় না থেকে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে, এদের চিহ্নিত করে সরকারি দল তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয় সেটিও আমরা জানতে চাই।’

সমাবেশে নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘রাষ্ট্র ক্ষমতায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আছে ঠিকই কিন্তু সমাজ সাম্প্রদায়িক এবং মৌলবাদী শক্তির হাতে চলে গেছে। শুনেছি, নোয়াখালীর চৌমুহনীতে পূজামণ্ডপে যখন হামলা হচ্ছিল, তখন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একজন পুলিশেরও দেখা পাওয়া যায়নি।’

তিনি বলেন, “আরেকজন বলেছেন, সেসময় পুলিশের ডিসি বা এমপিকেও ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি। এগুলো কেন হয়? আমরা শুধু লম্বা লম্বা বক্তৃতা শুনি, ‘কাউকে ছাড় দেয়া হবে না’, ‘আইনের হাত অনেক লম্বা’ ইত্যাদি। কত লম্বা আমরা দেখেছি। রামু বা নাসিরনগরে যখন হামলা হয়েছে, আমরা প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু কারও কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। কারণ আমরা সবাই এদেরকে প্রশ্রয় দিচ্ছি।’

রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা রাজনৈতিক দল। সব রাজনৈতিক দল হয় তাদেরকে প্রশ্রয় দিচ্ছে অথবা তাদের সঙ্গে আপোস করছে। এভাবে বাংলাদেশ চলতে পারে না। আমরা আশা রাখি, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আমরা পরাভূত করতে পারব। রাজনৈতিক দলগুলো যেটাই করুক, সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় ঘটানোর চেষ্টা করে যাব।’

গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজিদ বলেন, ‘বাংলাদেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম মূল সমস্যা। বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হতে পারে না। আমাদেরকে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যেতে হবে। ক্ষমতার মসনদে বসে হেফাজত কিংবা মৌলবাদের তোষণ বন্ধ করতে হবে। আজকে সাংস্কৃতিক কর্মীরা প্রতিবাদ করছে। তবে দেশের কোথাও কোনো রাজনৈতিক দল এর প্রতিবাদ করছে না। এই আপোসকামিতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

পেশাজীবি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, ‘এ কয়েক দিন সারা দেশে যা ঘটেছে, এটি পরিকল্পিত। এসব আক্রমণ কোনো মন্দির বা সম্প্রদায়ের প্রতি আক্রমণ নয়। এসব আক্রমণ আমাদের অসাম্প্রাদায়িক চেতনা এবং ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতি আক্রমণ। এ ধরণের আক্রমণ করে হয়তো কিছু মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে। তবে বাংলাদেশেকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করা যাবে না।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন মহিলা পরিষদের সভানেত্রী ফৌজিয়া মোসলেম, গৌরব ৭১’র সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহিন, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রহমান,বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি মিনু হক, সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মাহমুদ সেলিম, প্রজন্ম ৭১’র সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আব্বাস, আইটিআই বাংলাদেশ শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা
নিউজিল্যান্ডে বিরল ডলফিন রক্ষায় ড্রোন দিয়ে নজরদারি
বনের চারপাশে ৭০০ অবৈধ করাতকল

শেয়ার করুন

ভুয়া সাংবাদিকের দৌরাত্ম্য কমাবে প্রেস কাউন্সিল

ভুয়া সাংবাদিকের দৌরাত্ম্য কমাবে প্রেস কাউন্সিল

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম বলেন, ‘শুধু সাংবাদিক নয়, যেকোনো পেশাতেই ভালো-খারাপ দুটোই আছে। আমাদের দায়িত্ব যেহেতু সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করা, তাই সাংবাদিকদের মধ্যে যারা ভালো আছেন তাদের উৎসাহ দেব। আর যারা খারাপ আছেন, যাদের উদ্দেশ্য পদ পাওয়া, তাদের শনাক্ত করে এই পেশা থেকে বাদ দেয়া হবে।’

ভুয়া সাংবাদিক শনাক্তের পাশাপাশি অপসাংবাদিকতা রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম।

নিউজবাংলার সঙ্গে সম্প্রতি একান্ত আলাপকালে এ কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও আপিল বিভাগের সাবেক বিচারক বিচারপতি নিজামুল হক।

তিনি বলেন, ‘সবে বসলাম। এখনও তেমন কিছু বুঝে উঠতে পারিনি। তবে কী ধরনের কাজ করতে হবে সেটা বুঝে নিচ্ছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো এ দেশের সাধারণ সাংবাদিক যারা, তারা যেন তাদের কথা বলার একটা জায়গা পায়। তারা যেন তাদের সুখ-দুঃখের কথা বলতে পারে।

‘আমি চাই প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের একটা মুখপত্র হিসেবে কাজ করুক। সাংবাদিকরা কী ভাবছে, কী চিন্তা করছে, কী হলে দেশের ভালো হবে- এসব কিছু নিয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ হয়ে প্রেস কাউন্সিল কাজ করবে। এটাই আমার প্রাথমিক দায়িত্ব। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের কর্মশালার ব্যবস্থা থাকবে। কিছু কাজ শুরু হয়ে গেছে। শিগগিরই আরও বড় পরিসরে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে পারব।’

এ দেশের সাংবাদিকদের পেশাগত মান উন্নয়ন এবং তাদের জীবন ও জীবিকা ভালো রাখাই প্রেস কাউন্সিলের লক্ষ্য বলে জানালেন নিজামুল হক।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শুধু সাংবাদিকই নয়, যেকোনো পেশাতেই ভালো-খারাপ দুটোই আছে। আমাদের দায়িত্ব যেহেতু সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করা, তাই সাংবাদিকদের মধ্যে যারা ভালো আছেন তাদের উৎসাহ দেব। আর যারা খারাপ আছেন, যাদের উদ্দেশ্য পদ পাওয়া তাদের শনাক্ত করে তাদের এই পেশা থেকে বাদ দেয়া হবে।

‘নামধারি এসব সাংবাদিকের মাধ্যমে যাতে ভালো সাংবাদিকদের কোনো ক্ষতি বা বদনাম না হয়, সে ব্যবস্থা করা হবে।’

গত ১১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. নিজামুল হককে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘দ্য প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯৭৪’-এর সেকশন ৪(২) ও সেকশন ৫(১) অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. নিজামুল হককে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছর মেয়াদে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হলো।

গত আগস্টে প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মমতাজ উদ্দিনের মেয়াদ শেষ হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হলেন নিজামুল হক।

এর আগে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরও পড়ুন:
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা
নিউজিল্যান্ডে বিরল ডলফিন রক্ষায় ড্রোন দিয়ে নজরদারি
বনের চারপাশে ৭০০ অবৈধ করাতকল

শেয়ার করুন

খাবারের অভাব আর হবে না: প্রধানমন্ত্রী

খাবারের অভাব আর হবে না: প্রধানমন্ত্রী

খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফাইল ছবি/এএফপি

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার ভাষায় বলতে হয় এদেশের মাটি আছে, মানুষ আছে। আমরা যেন আর কখনও খাদ্যের অভাবে না ভুগি। বাংলাদেশে আর যেন কখনও দুর্ভিক্ষ না হতে পারে। কেউ যেন চক্রান্ত করেও দুর্ভিক্ষ না করতে পারে সেদিকে আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

বাংলাদেশে আর কখনই খাবারের অভাব হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে কৃষি গবেষণা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শনিবার সকালে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘খাবারে বাংলাদেশে আর কোনোদিন অভাব থাকবে না। তবে গবেষণাটা অব্যাহত রাখতে হবে। এ বিষয়ে সকলেকে নজর দিতে হবে।

‘জাতির পিতার ভাষায় বলতে হয় এদেশের মাটি আছে, মানুষ আছে। আমরা যেন আর কখনও খাদ্যের অভাবে না ভুগি। বাংলাদেশে আর যেন কখনও দুর্ভিক্ষ না হতে পারে। কেউ যেন চক্রান্ত করেও দুর্ভিক্ষ না করতে পারে সেদিকে আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

খাদ্য অপচয় যাতে না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার তাগিদও দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আরেকটি বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে, খাদ্যের অপচয় কমাতে হবে। সারা বিশ্বেই কিন্তু একদিকে খাদ্যের অভাব অন্যদিকে প্রচুর খাদ্য অপচয় হয়। এই অপচয় যেন না হয়।

‘যে খাদ্যগুলো অতিরিক্ত থাকে সেটিকে পুনর্ব্যবহার করা যায় কীভাবে সে বিষয়টি আমাদের চিন্তা করতে হবে। সে ধরনের ব্যবস্থা আমাদের দিতে হবে। খেতে বসেও যে খাদ্যটা উদ্বৃত্ত থাকবে সেটা দিয়ে অন্যকোনো চাহিদা পূরণ করা যায় কি না সেটিও গবেষণায় রাখা দরকার।’

খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় জোর

খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পর এবার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় জোর দেয়া কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে ও কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরি স্থাপনের জন্য পূর্বাচলে ৫ একর জমি দেয়া হয়েছে। দুই একর, তিন একর না পাঁচ একর বরাদ্দ দেয়া আছে। এছাড়া আটটি বিভাগে আটটি রেফারেন্স ল্যাবরেটরি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘খাবারের সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টিও দরকার। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমিষজাতীয় খাবার যাতে উৎপাদন হয় অর্থাৎ গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি এমনকি কোয়েল থেকে শুরু করে সব কিছুই, এমনকি টার্কিও এখন বাংলাদেশে হচ্ছে।

‘আমরা এই আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের যা চাহিদা সেগুলো পূরণ করে উদ্বৃত্ত যাতে প্রক্রিয়াজাত করা যায়। আমরা সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি সেখানে যাতে এই প্রক্রিয়াজাত করা যায় সেদিকে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষিতে গবেষণার ফলে দেশি-বিদেশি অনেক ফল, তরি-তরকারি সবকিছু এখন উৎপাদন হচ্ছে। ফুলকপি-পাতাকপি বা গাজরজাতীয় সবজি ১২ মাস পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অনেক বিদেশি ফল আমাদের দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। এটা তো আমাদের কৃষিবিদদেরই অবদান। এ ক্ষেত্রে যতদূর সম্ভব সহযোগিতা দেয়ার আমরা দিচ্ছি।’

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সার ও বিদ্যুতে ভর্তুকির বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সারের দাম কমিয়ে একেবারে নূন্যতম পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। কোথায় ৮০-৯০ টাকা দাম ছিল, সেটা ১৬-২২ টাকা এ হারে আমরা কমিয়েছি।

‘তারপর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে তাদের ২০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছি, তারপর রিবেট দিচ্ছি। পাশাপাশি সোলার সিস্টেমে যাতে সেচ চালাতে পারে সে ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি।’

খাবারের অভাব আর হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে সোনারগাঁও হোটেলে আলোচনা অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

‘আগে চাহিদা পূরণ, পরে রপ্তানি’

দেশের আভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদের অর্থনৈতিক যে কার্যক্রম আমরা সেটা সেভাবেই পরিচালনা করব। প্রথমে আমাদের দেশ, আগে নিজের খাদ্য চাহিদা পূরণ করব, সেই সঙ্গে যেটা অতিরিক্ত হবে সেটা প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

‘আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এরই মধ্যে আমরা ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করেছি। খাদ্য শুধু উৎপাদন নয় এর মানও যেন ঠিক থাকে। এটা দেশে যারা ব্যবহার করবে তাদের জন্য যেমন প্রযোজ্য। আমরা যখন রপ্তানি করব প্রক্রিয়াজাত করে তার জন্যও প্রযোজ্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয়বার যখন সরকারে আসি, আমাদের গবেষণা যেগুলো আমরা শুরু করেছিলাম সেগুলো চলতে থাকে। আমি গবেষকদের ধন্যবাদ জানাই, তাদের গবেষণার ফলেই আমরা আজকে অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছি। দ্বিতীয় দফায় সরকারে এসেও আমরা কৃষিখাতে আবার নানা পদক্ষেপ নিই, যেন খাদ্য চাহিদা আমরা পূরণ করতে পারি।

‘আমরা বিনা পয়সায় খাদ্য বিতরণ করি, যারা একেবারে দুস্থ-দরিদ্র সেসব মানুষগুলোকে, বিশেষ করে বয়স্ক-বিধবা নারীদের। তাদের জন্য আমরা ভাতার ব্যবস্থা করে দেই। পরবর্তীতে ১০ টাকায় যেন চাল কিনতে পারে সে ব্যবস্থা করে দেই। আবার ওএমএস চালু রাখি। মানে খাদ্যটা যেন মানুষের কাছে পৌঁছায়। খাদ্যের অভাব যেন মানুষের না হয়।’

কৃষিখাতে সরকারের দেয়া ভর্তুকির নানা দিক তুলে ধরেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষিতে যে ভর্তুকি দেই এটা দেয়ার বিষয়েও কিন্তু অনেক বাঁধা ছিল। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা বাধা দিত ভর্তুকি দেয়া যাবে না। আমরা তাদের কথা শুনিনি।

‘৯৬ সালে সরকারে আসার আগে থেকেই অনেকের সঙ্গেই কথা হতো। যেমন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকই বলেছিল যে এখানে ভর্তুকি দেয়া যাবে না। আমি বললাম পৃথিবীর সব দেশ দেয় তো আমরা দেব না কেন। আমার দেশের মানুষের খাদ্যটা আগে। প্রথম চাহিদাটা হচ্ছে খাদ্য, আগে তো আমাকে খাদ্য দিতে হবে। তার জন্য আমার উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঠিক আছে আমাকে যদি এ ব্যাপারে কেউ ঋণ না দেয় তো আমরা নিজের পয়সায় দেব। তখনও কিন্তু সরকারে আমরা আসি নাই। তার আগে থেকেই এসব আলোচনা আমার সঙ্গে করত। আমার যেটা নীতি ছিল, আমি তাদের স্পষ্ট জানিয়েছে এবং আমরা সেটাই করেছি।

‘আমরা কৃষি উপকরণ কার্ড করে দিয়েছি এবং সরাসরি কৃষকদের হাতে যেন ভর্তুকি পোঁছায় সে ব্যবস্থা করেছি। প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে আমরা এ কার্ড দিয়েছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘বেসরকারি খাতে ব্যাপকভাবে আমরা ব্যাংক করতে দিয়েছি। সেখানে একটা নির্দেশনা আছে যে, এর শাখা সারা দেশে হতে হবে। কৃষকেরা যেন মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে সে ব্যবস্থা করে দিই।

‘কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বর্গা চাষিদের বিনা জামানতে ঋণ দেয়া শুরু করি। কারণ বর্গা চাষিদের জমি নাই, তারা জামানত রাখতে পারত না। এ কারণে তারা ঋণ পেত না। আমার কথাই ছিল, ব্যাংক কৃষকের কাছে পৌঁছে যাবে। নগদ টাকা না থাকলে তারা উৎপাদন বাড়াবে কীভাবে? আমরা সেটা ৯৬ থেকে শুরু করি।’

প্রায় ১ কোটি ২ লাখ ৭০ হাজার ১৪৩ জন কৃষক ১০ টাকার অ্যাকাউন্ট খুলে সুবিধা পাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ভ্যালু চেইন ব্যবস্থাপনায় গুরত্বারোপ করছি।

‘২০০৯ সাল থেকে ৬৫৫টি উন্নত ফলনশীল ফসলের জাত এবং ৫৯১টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন হয়েছে। জলবায়ু ও মৃত্তিকা অনুযায়ী শস্য বিন্যাস করেছি। কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছি।’

আরও পড়ুন:
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা
নিউজিল্যান্ডে বিরল ডলফিন রক্ষায় ড্রোন দিয়ে নজরদারি
বনের চারপাশে ৭০০ অবৈধ করাতকল

শেয়ার করুন

আফসোসের সাফ ফাইনাল রাতে

আফসোসের সাফ ফাইনাল রাতে

নেপাল ম্যাচে বাংলাদেশের গোল উদযাপনের দৃশ্য। ছবি: বাফুফে

লাল-সবুজদের অপেক্ষা বাড়ার সময়ে মালদ্বীপে দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল গড়াচ্ছে শনিবার রাতে। মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও নেপাল।

১৬ বছর পর এবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন বুনেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু নেপালের বিপক্ষে লাল কার্ড আর পেনাল্টি বিতর্কে ভেঙে যায় লাল-সবুজদের সেই স্বপ্ন।

আফসোসটা আরও বেড়ে যায় যখন দুই ফাইনালিস্ট ভারত ও নেপালের সঙ্গে এই সাফে বাংলাদেশের গল্পগুলোও ছিল স্মরণীয়।

সাফে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে ১০ জনের দল নিয়েও রুখে দেয় বাংলাদেশ। এক গোলের লিডে থাকা ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ইয়াসিনের দুর্দান্ত গোলে প্রত্যাবর্তন করেছিল টাইগাররা। ঝুলিতে এক পয়েন্টের স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল বাংলাদেশ।

জিতলেই ফাইনাল, এমন সমীকরণ নিয়ে নেপালের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। এমন অবস্থায় মাঠে নেমে সুমন রেজার গোলে লিড নিয়ে বাংলাদেশ যখন ফাইনাল খেলার স্বপ্ন বুনছিল তখন ভিলেন হয়ে হাজির হোন রেফারি।

আনিসুর রহমান জিকোকে লাল কার্ড দিয়ে বের করে দেয়ার পর ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে নেপালের পক্ষে পেনাল্টি দিয়ে বসেন উজবেক রেফারি আখরোল রিসকিয়ালেভ। এই বিতর্কিত পেনাল্টিতে গোল করে ড্র করে নেপাল। আর তাতেই সাফ মিশন শেষ হয়ে যায় জামালদের।

ফাইনালে খেলার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ১৭ অক্টোবর মালদ্বীপ থেকে দেশে ফেরার ফ্লাইট বুকিং করে রেখেছিল বাংলাদেশ। এখন আফসোস নিয়ে দর্শক হয়ে মালদ্বীপ থেকে ফাইনাল দেখবেন জামাল-তারিকরা।

ফাইনালে নিঃসন্দেহে ভারতই ফেভারিট। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ সাতবার চ্যাম্পিয়ন দেশটি। আর প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলছে নেপাল।

চলতি আসরে ভারতের কাছে হেরেছিল নেপাল। আর ভারতকে সবশেষ নেপাল হারিয়েছে ২০১৩ সালের সাফে।

মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ৯টায় শিরোপার জন্য লড়বে দুই দল। খেলাটি দেখাবে টি-স্পোর্টস।

আরও পড়ুন:
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা
নিউজিল্যান্ডে বিরল ডলফিন রক্ষায় ড্রোন দিয়ে নজরদারি
বনের চারপাশে ৭০০ অবৈধ করাতকল

শেয়ার করুন

‘২০০১-এ ক্ষমতায় আসতে না পারায় দায়ী যুক্তরাষ্ট্র-ভারত’

‘২০০১-এ ক্ষমতায় আসতে না পারায় দায়ী যুক্তরাষ্ট্র-ভারত’

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে সোনারগাঁও হোটেলে আলোচনা অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: টিভি ফুটেজ থেকে নেয়া

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজের দেশের সম্পদ বিক্রি করবার আগে আমার কথা ছিল, আগে আমার দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ হবে। ৫০ বছরের মজুত থাকবে, তারপর যেটা উদ্বৃত্ত থাকবে সেটা আমি বেচতে পারি। তা ছাড়া এ দেশের সম্পদ আমি বেচতে পারি না। এই কথা এত বিশাল দেশ আমেরিকা আর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পছন্দ হয়নি। কাজেই ২০০১-এ আমি ক্ষমতায় আসতে পারিনি।’

দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ বিক্রি করতে রাজি না হওয়াকেই ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসতে না পারার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতকে দায়ী করেছেন তিনি।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে শনিবার সকালে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা যে সমুদ্রসীমা আইন করে গিয়েছিলেন ৭৫-পরবর্তী যে সরকারগুলো এসেছিল জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়া, কেউই কিন্তু আমাদের সমুদ্রসীমায় যে আমাদের অধিকার আছে- এ কথা উচ্চারণও করেনি বা বলেনি বা দাবিও করেনি। '৯৬ সাল থেকে এটা আমরা শুরু করি।

‘২০০১ এ আমরা সরকারে আসতে পারলাম না। কারণ গ্যাস বিক্রি করার মুচলেকা দেইনি বলেই আমাকে আর ক্ষমতায় আসতে দেয়া হলো না। বৃহৎ দুটি দেশ আর প্রতিবেশী দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারিনি।’

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘নিজের দেশের সম্পদ বিক্রি করবার আগে আমার কথা ছিল, আগে আমার দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ হবে। ৫০ বছরের মজুত থাকবে, তারপর যেটা উদ্বৃত্ত থাকবে সেটা আমি বেচতে পারি। তা ছাড়া এ দেশের সম্পদ আমি বেচতে পারি না।

‘এই কথা এত বিশাল দেশ আমেরিকা আর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পছন্দ হয়নি। কাজেই ২০০১-এ আমি ক্ষমতায় আসতে পারিনি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কিছু ব্যবস্থা নিয়েছিলাম, তারপর ২০০৯-এ সরকার গঠনের পর উদ্যোগ নিই। এখন আমরা বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করতে পেরেছি। সমুদ্রসম্পদ আমাদের অর্থনীতিতে কাজে লাগাতে ব্লু ইকোনমি কর্মসূচি আমরা গ্রহণ করেছি। এতে আমাদের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা অনেকটাই পূরণ হবে। এরই মধ্যে সমুদ্রে কিন্তু পিইউড উৎপাদন শুরু হয়ে গেছে। এটা একটা ভালো লক্ষণ।’

‘কৃষিবিদদের অবদানেই কৃষি খাতে উন্নয়ন’

কৃষি খাতে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তা কৃষিবিদদেরই অবদান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘কৃষিতে গবেষণার ফলে এখন অনেক দেশি-বিদেশি ফল, তরি-তরকারি উৎপাদন হচ্ছে। এখন ১২ মাস সব সবজি পাওয়া যাচ্ছে। অনেক বিদেশি ফল এখন দেশেই পাওয়া যাচ্ছে, এটা কৃষিবিদদেরই অবদান। এ ক্ষেত্রে যত দূর সম্ভব আমরা সহযোগিতা দিচ্ছি। সার-বিদ্যুৎ সব ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা
নিউজিল্যান্ডে বিরল ডলফিন রক্ষায় ড্রোন দিয়ে নজরদারি
বনের চারপাশে ৭০০ অবৈধ করাতকল

শেয়ার করুন

গ্রামের নারীরা শহরমুখী কেন

গ্রামের নারীরা শহরমুখী কেন

গ্রামের নারীদের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা বেড়েই চলছে। ছবি: সংগৃহীত

গ্রামীণ নারীদের শহরমুখী হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এর মধ্যে নারীর কাজের মূল্যায়ন না করাটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তারা।

মোহাম্মদপুর কাদেরাবাদ হাউজিংয়ের ৫ নম্বর রোডের মুখে শীতকালীন পিঠা বিক্রি করেন রেজিয়া সুলতানা। বিকেল ৫টা থেকে বিক্রি শুরু হয়ে চলে রাত ১১টা; আবার কখনও তার থেকেও বেশি। হাউজিংয়ের সবাই রেজিয়ার কাছ থেকে পিঠা নেন। প্রতিদিনে তার বিক্রি বেশ ভালোই।

বগুড়ার তারাকান্দির মেয়ে রেজিয়া। স্বামী শহরে রিকশা চালাতেন। তিনি গ্রামে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকতেন। কৃষিকাজে দেবরকে সহযোগিতা করতেন। মাস ছয় হলো তিনি স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় চলে এসেছেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘গেরামে ধরেন, ভোর রাইত্তে ধইরা মাঝ রাইত পর্যন্ত কাম করতাম। এত জনের রান্ধা-বান্ধা, হাঁস-মুরগি। আবার মাঠের কাম। এত কিছু কইরাও অশান্তির শেষ আছিল না। জামাই যাইত মাসখানেক পরে পরে।

‘আমগোর গেরামের তানিয়া ঢাকায় থাকে। হের কথা হুইনা ঢাকাত আইছি জোর কইরা। এইহানে আমি অনেক বাসায় কাম করি। এই যে পিঠা বেচি। আল্লাহর রহমতে রাকিবের আব্বার থিকা বেশি আয় আমার মাসে। আমার টেকা এখন শ্বশুরবাড়িতেও যায়। এহন বুঝি যে নিজের একটা দাম আছে।'

রেজিয়া সুলতানার মতো এমন অনেক গ্রামীণ নারী শহরের দিকে ঝুঁকছেন। দিন দিন এর পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এই গ্রামীণ নারীদের শহরমুখী হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এর মধ্যে নারীর কাজের মূল্যায়ন না করাটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তারা।

দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী; আর তার ৮৬ শতাংশের বাস গ্রামে। গবেষণায় দেখা যায়, গ্রামীণ নারীরা দিনের মোট সময়ের ৫৩ শতাংশ ব্যয় করে কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্প ক্ষেত্রে, যেখানে পুরুষরা ব্যয় করে ৪৭ শতাংশ সময়।

‘গ্রামীণ জীবনযাত্রায় স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচার অভিযান’-এর ২০১২ সালের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশের মোট নারী শ্রমশক্তির পরিমাণ ১ কোটি ৬২ লাখ। এর মধ্যে ৭৭ শতাংশ গ্রামীণ নারী। এর ৬৮ শতাংশ কৃষি, পোলট্রি, বনায়ন ও মৎস্য খাতের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা সংস্থার (বিআইডিএস) গবেষণায় বলা হয়েছে, গ্রামীণ ৪১ শতাংশ নারী আলু চাষের সঙ্গে জড়িত। ৪৮ শতাংশ জড়িত মাছ চাষের সঙ্গে।

কৃষি খাতেই নারীর অংশগ্রহণ এখনও বেশি। বীজ সংরক্ষণ থেকে শুরু করে ফসল উৎপাদন, সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিপণন পর্যন্ত বিভিন্ন কাজেই নারী অংশগ্রহণ করছে।

তারপরও তাদের এই অংশগ্রহণকে ‘পারিবারিক সহযোগিতা’ হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যথাযথ মূল্যায়নের অভাবে গ্রামীণ নারীরা শহরমুখী হচ্ছে। কৃষিতে নারীরা অধিক হারে অংশগ্রহণ করলেও কৃষক হিসেবে পরিবারে তাদের মূল্যায়ন করা হয় না এবং সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয় না। তাদের অংশগ্রহণকে ধরা হয় পারিবারিক সহযোগিতা হিসেবে। কৃষি থেকে পারিবারিক আয়ে নারীদের ভাগ থাকে না। কৃষিতে নারীর কাজ হচ্ছে অবৈতনিক, কারণ এটিকে পারিবারিক শ্রম গণ্য করা হয়।’

নারীর শহরমুখী হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি আরও বলেন, ‘কৃষিঋণসহ সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা নারী কৃষকরা পান না। তা ছাড়া ভূমিতে নারীর সম-অধিকার নেই। বাজারে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও নারীরা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। তাদের জন্য বাজারে আলাদাভাবে কোনো জায়গা নির্দিষ্ট করে রাখলে তাদের পণ্য বাজারজাতের সুবিধা বাড়বে। তাদের এখনও নিজেদের পণ্য বিক্রির জন্য স্বামীর নামে দোকান বরাদ্দ করতে হচ্ছে।

‘গ্রামীণ অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নিতে হলে তাদের জন্য একদিকে দরকার উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। তাদের সঠিক মূল্যায়ন করা হলে তারা শহরমুখী না হয়েই নিজ নিজ গ্রামেই কর্মসংস্থানের সুযোগ নিজেরাই গড়ে তুলবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ফাতেমা রৌসন জাহান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গ্রামীণ নারীদের শহরমুখী হওয়াটা একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। গ্রামে নারীদের হাড়ভাঙা শ্রমকে শুধু পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে ফেলে রাখা হয়। এটা আসলে নারীর অগ্রগতির ক্ষেত্রে অনেক বড় একটা বাধা। যেকোনো শ্রমকে মূল্যায়ন করা উচিত। তা ছাড়া কাজের সেই সুযোগ বা জায়গা সেটিও নারীর জন্য স্পেসিফাইড না। আরও নানা কারণ রয়েছে, তবে এই যে অবমূল্যায়ন করার যে ব্যাপারটা, সেটাই আসলে মুখ্য কারণ নারীদের শহরমুখী হওয়ার।

আজ বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য: ‘সবার জন্য ভালো খাদ্য চাষ করেন গ্রামীণ নারী’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালনে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও উন্নয়ন সংস্থা।

পরিবার ও সমাজে গ্রামীণ নারীর অবস্থানের মূল্যায়ন করার লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভায় ১৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এর আগে ১৯৯৫ সালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের চতুর্থ নারী সম্মেলনে ১৫ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯৯৭ সাল থেকে জেনেভাভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উইমেনস ওয়ার্ল্ড সামিট ফাউন্ডেশন দিবসটি পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি পালন করে।

আরও পড়ুন:
বিপুল রাসায়নিক নিয়ে সাগরে ডুবল লঙ্কান জাহাজ
মলমূত্রে বাঁচতে পারে পরিবেশ
আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা
নিউজিল্যান্ডে বিরল ডলফিন রক্ষায় ড্রোন দিয়ে নজরদারি
বনের চারপাশে ৭০০ অবৈধ করাতকল

শেয়ার করুন