করোনার টিকা উৎপাদনে ‘ট্রিপস’ চুক্তি প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ

করোনার টিকা উৎপাদনে ‘ট্রিপস’ চুক্তি প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের সঙ্গে জেনেভাস্থ জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মো. মোস্তাফিজুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সদ্য সমাপ্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ৭৪তম অধিবেশনে উৎপাদনে সক্ষম উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কোভিড টিকা ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রীর উৎপাদন বৃদ্ধি করে তা দ্রুত অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে বিনা মূল্যে সরবরাহের জন্য জোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রীর উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ট্রিপস চুক্তি সাময়িকভাবে প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

সদ্য সমাপ্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ৭৪তম অধিবেশনে উৎপাদনে সক্ষম উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কোভিড টিকা ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রীর উৎপাদন বৃদ্ধি করে তা দ্রুত অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে বিনা মূল্যে সরবরাহের জন্য জোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা।

জাতিসংঘের সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে শুক্রবার পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ২৪ মে–১ জুন ২০২১ তারিখে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধিবেশনটি হয় ভার্চুয়ালি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকের নেতৃত্বে ও জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এই ভার্চুয়াল অধিবেশনে যোগ দেয়।

এবারের সম্মেলনে কোভিড-১৯ সংকট মোকাবিলায় ভ্যাকসিন উৎপাদন, সরবরাহ ও সুষম বণ্টনের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পায়।

সম্মেলনে বাংলাদেশ ‘ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপ অন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স’ -এর কো-চেয়ার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃস্থানীয় ভূমিকার কথা তুলে ধরে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স মোকাবিলায় বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে।

এ ছাড়া, বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও একটি শক্তিশালী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গড়ে তোলার জন্য টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিতকরণের ওপর জোর দেয় বাংলাদেশ।

সম্মেলনে জেনেভাস্থ জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ১১টি দেশের পক্ষ থেকে মানসিক স্বাস্থ্য ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স-এর ওপর দুটি যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ৭৪ তম অধিবেশনের পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী পরিষদ এবং প্রোগ্রাম, বাজেট ও প্রশাসন কমিটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ উভয় কমিটির নির্বাচিত সদস্য হিসেবে এ সকল সভায় অংশগ্রহণ করে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নির্বাহী পরিষদের সভার র‌্যাপোর্টিয়ার এবং রাষ্ট্রদূত রহমান বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ‘কমিটি-বি’-এর ভাইস-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এবারের সম্মেলনে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মোট ৩৫টি প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আরও পড়ুন:
দাম প্রকাশ: সিনোফার্মের টিকা পাওয়া নিয়ে সংশয়
টিকা দিতে ১০ জুনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে জবি
অব্যবহৃত আড়াই কোটি ডোজ করোনা টিকা দান করছে যুক্তরাষ্ট্র
দরিদ্রদের টিকার জন্য আরও ২৪০ কোটি ডলার সহায়তা
ছয় মাসে বিশ্বকে ১০০ কোটি টিকা দেবে সিনোফার্ম

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টিকা কেনায় ২৬৭ কোটি টাকা ছাড়

টিকা কেনায় ২৬৭ কোটি টাকা ছাড়

নতুন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের বাইরেও করোনা টিকা কিনতে আলাদা ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চীন থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে দুই চালানে দেশে আসছে ৫০ লাখ টিকা। এছাড়া উপহার হিসেবে আর ১১ লাখ টিকা দিয়েছে চীন।

চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম থেকে করোনার টিকা কিনতে ২৬৭ কোটি টাকা অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার এই অর্থ ছাড় করেছে অর্থমন্ত্রণালয়।

চীন থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে দুই চালানে দেশে আসছে ৫০ লাখ টিকা। এছাড়া উপহার হিসেবে আর ১১ লাখ টিকা দিয়েছে চীন।

সব মিলিয়ে চীন থেকে সিনোফার্মের ৬১ লাখ টিকা দেশে আসছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আরও ৩০ লাখ টিকা দেশে আসার কথা রয়েছে।

নতুন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের বাইরেও করোনা টিকা কিনতে আলাদা ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, এবারের বাজেটে অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আলাদা ৫ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

সরকার দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের টিকা প্রদান নিশ্চিত করত চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে থোক বরাদ্দের ১০ হাজার কোটি টাকা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বরাদ্দের ৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হলে টিকা কেনার পেছনে ব্যয় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে আমাদের টাকার কোনো সমস্যা হবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় যখন যা চাইবে, চাহিদা অনুযায়ী অর্থ ছাড় করা হবে। কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে, টিকার অব্যবস্থাপনা। এই জায়গায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বেশি নজর দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
দাম প্রকাশ: সিনোফার্মের টিকা পাওয়া নিয়ে সংশয়
টিকা দিতে ১০ জুনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে জবি
অব্যবহৃত আড়াই কোটি ডোজ করোনা টিকা দান করছে যুক্তরাষ্ট্র
দরিদ্রদের টিকার জন্য আরও ২৪০ কোটি ডলার সহায়তা
ছয় মাসে বিশ্বকে ১০০ কোটি টিকা দেবে সিনোফার্ম

শেয়ার করুন

শোক দিবসে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: আইজিপি

শোক দিবসে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: আইজিপি

সোমবার বিকেলে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অংশ নেন আইজিপি। ছবি; সংগৃহীত

‘আগস্ট আমাদের শো‌কের মাস। এ মাসে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে; রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী অনেক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছে। ১৭ আগস্ট জেএমবি দেশের ৬৩টি জেলায় সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছে। এ জন্য আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম, সর্বহারাদের অপতৎপরতা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ইত্যাদি বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।’

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সব ইউনিট প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ।

যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অনুষ্ঠানসমূহ আয়োজন করা হচ্ছে কি না তার দিকে খেয়াল রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার বিকেলে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সব মহানগর, রেঞ্জ ও জেলার পুলিশ সুপারদের এ নির্দেশনা দেন।

বেনজীর বলেন, ‘আগস্ট আমাদের শো‌কের মাস। এ মাসে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে; রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী অনেক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছে।

‘১৭ আগস্ট জেএমবি দেশের ৬৩টি জেলায় সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছে। এ জন্য আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম, সর্বহারাদের অপতৎপরতা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ইত্যাদি বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।’

আইজিপি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতিসহ তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

‘বিট পুলিশিং’ এর কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, “জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দেয়ার একটি কার্যকর এবং জনপ্রিয় পদ্ধতি ‘বিট পুলিশিং’।”

‘বিট পুলিশিং’ সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে উল্লেখ ক‌রে করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এটি চালু রাখার নির্দেশ দেন আইজিপি।

আইজিপি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে পুলিশ সদস্যদের পাশাপা‌শি তাদের পরিবারের সদস্যদের টিকা গ্রহণ নি‌শ্চিত কর‌তে সং‌শ্লিষ্ট‌দের‌কে নির্দেশনা দেন।

পুলিশ সদস্যদের করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য নিয়মিত ফোর্সকে ব্রিফ করতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেন তিনি।

বলেন, ‘বর্তমান অতিমারিতে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক পুলিশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। মানুষের পাশে থেকে তাদের হৃদয় ও মন জয় করার এ সুযোগ কাজে লাগানোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।’

আইজিপি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পুলিশ রেখে যেতে চাই, যাতে অবসরে গেলে পুলিশকে নিয়ে গর্ব করতে পারি। দেশের জনগণ গর্বভরে পুলিশের সেবা গ্রহণ করতে পারে।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পুলিশের সকল স্থাপনা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখারও তাগিদ দেন আইজিপি।

আরও পড়ুন:
দাম প্রকাশ: সিনোফার্মের টিকা পাওয়া নিয়ে সংশয়
টিকা দিতে ১০ জুনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে জবি
অব্যবহৃত আড়াই কোটি ডোজ করোনা টিকা দান করছে যুক্তরাষ্ট্র
দরিদ্রদের টিকার জন্য আরও ২৪০ কোটি ডলার সহায়তা
ছয় মাসে বিশ্বকে ১০০ কোটি টিকা দেবে সিনোফার্ম

শেয়ার করুন

সিনিয়র নার্স নিয়োগের স্থগিত মৌখিক পরীক্ষা ২৭-২৮ আগস্ট

সিনিয়র নার্স নিয়োগের স্থগিত মৌখিক পরীক্ষা ২৭-২৮ আগস্ট

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্সের (১০ম গ্রেড) মৌখিক পরীক্ষা গত ২৬ জুন ও ৩ জুলাই হওয়ার কথা ছিল। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ পরীক্ষা স্থগিত করে পিএসসি।

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে স্থগিত সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

সোমবার পিএসসি এক বিজ্ঞপ্তিতে মৌখিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করে।

এতে বলা হয়, নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ২৭ ও ২৮ আগস্ট সিনিয়র স্টাফ নার্স পদের স্থগিত মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিএসসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে এ পরীক্ষা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্সের (১০ম গ্রেড) মৌখিক পরীক্ষা গত ২৬ জুন ও ৩ জুলাই হওয়ার কথা ছিল। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ পরীক্ষা স্থগিত করে পিএসসি।

আরও পড়ুন:
দাম প্রকাশ: সিনোফার্মের টিকা পাওয়া নিয়ে সংশয়
টিকা দিতে ১০ জুনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে জবি
অব্যবহৃত আড়াই কোটি ডোজ করোনা টিকা দান করছে যুক্তরাষ্ট্র
দরিদ্রদের টিকার জন্য আরও ২৪০ কোটি ডলার সহায়তা
ছয় মাসে বিশ্বকে ১০০ কোটি টিকা দেবে সিনোফার্ম

শেয়ার করুন

করোনার ভুয়া রিপোর্ট দিচ্ছিল প্রাভা হেলথ!

করোনার ভুয়া রিপোর্ট দিচ্ছিল প্রাভা হেলথ!

বেশ কিছু দিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ ছিল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

করোনা পরীক্ষার ভুয়া প্রতিবেদন দেয়ার অভিযোগে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান প্রাভা হেলথকেয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের কার্যক্রম সময়িকভাবে স্থাগিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা ফরিদ উদ্দিন মিয়া নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ ছিল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহফুজা খানমের ছেলে মাহফুজ শফিকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আর আগে ১৪ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. জাহিদুল ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এরই মধ্যে অভিযোগকারী মাহফুজ শফিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়ে লিখিত ও মৌখিকভাবে তদন্ত কমিটির কাছে তার বক্তব্য জানিয়েছেন।

মাহফুজ শফিক কমিটিকে দেয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রাভা হেলথ এর অতি উৎসাহী মার্কেটিং আমাদের আকৃষ্ট করেছে। প্রাভা নামটি ইন্টারন্যাশনাল হেলথ চেইন অব ইন্ডিয়া। তাদের ওয়েবসাইটে (প্রাভা) বলা হয়েছে, তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পার্টনার।

‘আমার বড় মেয়ে বায়ান শফিকের প্রাভা হেলথের পজিটিভ রিপোর্ট (করোনা) পেয়ে মেডিনোভাতে সিটিস্ক্যান ও রক্তের অন্যান্য পরীক্ষা করানো হয় এবং বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ানো হয়। প্রাভার পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়ার পর আইইডিসিআরের পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়ার আগে পর্যন্ত পুরো পরিবার অবর্ণনীয় মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করে। করোনা পজিটিভ না হয়েও ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস ওয়েবসাইটে পজিটিভ রিপোর্ট আপলোড করা হয়। যা সারা পৃথিবীর সব ইমিগ্রেশন দেখতে পাবে। এটা মানহানিকর। টিকেট, হোটেল ও অন্যান্য খরচসহ আর্থিক ক্ষতিসাধন।’ তদন্ত কমিটির কাছে মাহফুজ শফিক সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন।

এর আগে গত ৭ জুলাই বিকাল ৫টায় সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের ছেলে মাহফুজ শফিক তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে বনানীর প্রাভা হেলথ কেয়ারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করান। সেই দিনই রাত ১২টায় মোবাইলে এসএমএস আসে তাদের তিনজনই করোনা পজিটিভ। এমন দুঃসংবাদে দিশেহারা হয়ে ওঠে পুরো পরিবার। ২২ ঘণ্টা পর তারা আবারও রাজধানীর আইইডিসিআরবিতে করোনা পরীক্ষা জন্য নমুনা দিয়ে আসেন। কিন্তু আইইডিসিআরবি থেকে তিনজনেরই ফল আসে নেগেটিভ। যার ফলে প্রাভা হেলথ কেয়ারের বিরুদ্ধে ভুয়া করোনা সনদ দেয়ার অভিযোগ করেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের পরিবার।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যেভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাহফুজ শফিকের ছোট মেয়ে। মেয়ের সঙ্গে যাওয়ার কথা ছিল পরিবারের তিন সদস্যের। ভিসা পাওয়ার পর শুক্রবার (৯ জুলাই) কাতার এয়ারওয়েজের টিকেট কেনেন তারা। বিদেশ ভ্রমণের জন্য এখন করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক থাকায় তারা বনানীর প্রাভা হেলথ কেয়ারে পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন।

পরে ওই দিন রাতে প্রতিষ্ঠানটি এসএমএস এর মাধ্যে করোনার ভুয়া পজিটিভ রিপোর্ট পাঠান তাদেরকে। ফলে আমেরিকা যাবার টিকেট কেটে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন পরিবারটির সদস্যরা। কারণ আইসিডিডিআরবি থেকে নেগেটিভ রিপোর্ট আসার আগেই তাদের যাত্রার টিকেট নষ্ট হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
দাম প্রকাশ: সিনোফার্মের টিকা পাওয়া নিয়ে সংশয়
টিকা দিতে ১০ জুনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে জবি
অব্যবহৃত আড়াই কোটি ডোজ করোনা টিকা দান করছে যুক্তরাষ্ট্র
দরিদ্রদের টিকার জন্য আরও ২৪০ কোটি ডলার সহায়তা
ছয় মাসে বিশ্বকে ১০০ কোটি টিকা দেবে সিনোফার্ম

শেয়ার করুন

১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছেন খালেদা: ফখরুল

১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছেন খালেদা: ফখরুল

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ির সিঁড়িতে হত্যাকাণ্ডের পর পড়ে ছিল বঙ্গবন্ধুর মরদেহ। ছবি: সংগ্রহীত

‘অত্যন্ত সন্মান্বিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ১৫ আগস্টের যে হত্যাকাণ্ড ১৯৭৫ সালে, আমরা কিন্তু প্রত্যেকবার আমাদের নেতা, আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পার্লামেন্টে সবসময়েই এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। আমরা কেউই কোনো হত্যাকাণ্ড সমর্থন করি না।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় সংসদেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার এক ভার্চুয়াল আলোচনায় ফখরুল এই মন্তব্য করেন। লালমনিরহাট বিএনপির উদ্যোগে জেলার কোভিড-১৯ হেল্প সেন্টারের উদ্বোধন এবং করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিতে এই অনুষ্ঠান হয়।

এ সময় বিএনপি নেতা বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানকে দোষারোপ করে আওয়ামী লীগ নেতাদের রাখা নানা বক্তব্যের জবাব দেন।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় জিয়া ছিলেন উপসেনা প্রধান। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান ও খন্দকার আব্দুর রশিদ পরে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানান, এই পরিকল্পনা জানতেন জিয়াউর রহমান। আর তিনি তাদেরকে এগিয়ে যেতে বলেন।

জিয়া ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের বাইরে রাখার সুবিধা জিয়ে খোন্দকার মুশতাক আহমেদের জারি করা অধ্যাদেশ সংবিধানের অংশ করেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরকে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে চাকরি বা রাষ্ট্রদূত করে পুরষ্কৃতও করেন তিনি।

ফখরুলের অভিযোগ, জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে সরকার ‘নতুন গীত’ গাইছে।

১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছেন খালেদা: ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলেন, ‘এদের (আওয়ামী লীগ সরকার) কাজ কী? এদের কাজ হচ্ছে সারাক্ষণ বিএনপিকে দোষারোপ করা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেবকে কীভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা যায় তার চেষ্টা করা, কীভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে খাটো করা যায় তার চেষ্টা করা, কীভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করা যায় সেই চেষ্টাই তারা করছে।'

ফখরুল বলেন, ‘অত্যন্ত সন্মান্বিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ১৫ আগস্টের যে হত্যাকাণ্ড ১৯৭৫ সালে, আমরা কিন্তু প্রত্যেকবার আমাদের নেতা, আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পার্লামেন্টে সবসময়েই এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। আমরা কেউই কোনো হত্যাকাণ্ড সমর্থন করি না।’

আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার আগে ওই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচনে কুমিল্লার একটি আসন থেকে বঙ্গবন্ধুর খুনি রশিদকে নির্বাচিত করে আনেন খালেদা জিয়া। পরে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের আদেশ সংসদে তোলার পর বিএনপি ওয়াকআউট করে।

২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় ফেরার পর বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আপিল শুনানি আটকে যায়। অভিযোগ আছে, এই শুনানি যেন না হয়, সে জন্য আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ আটকে দেয়া হয়েছিল।

ফখরুল বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। বিচার করেছেন আপনারা (আওয়ামী লীগ সরকার)…। সেই বিচার করার পরে সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। অথচ আপনারা এখন শুরু করেছেন নতুন একটা গীতের গান, গীত গাওয়া, গান গাওয়া যে, জিয়াউর রহমান এটার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘কোথাও প্রমাণ করতে পারেনি, কেউ না। আজ পর্যন্ত কেউ এই কথা বলে নাই যে, জিয়াউর রহমান সাহেব সম্পৃক্ত ছিলেন। জিয়াউর রহমান সাহেব তো তখন ডেপুটি চিফ মার্শাল এডমিনিস্টারও ছিলেন না। তিনি সেনাবাহিনীর উপপ্রধান ছিলেন মাত্র।

‘সেনা প্রধান ছিলেন সফিউল্লাহ সাহেব (কে এম সফিউল্লাহ)। সেই সফিউল্লাহ সাহেব তো গিয়ে খোন্দকার মোশতাকে যেয়ে স্যালুট করেছেন, এ কে খন্দকার সাহেব (সে সময় বিমানবাহিনীর প্রধান) স্যালুট করেছেন, নেভাল চিফ স্যালুট করেছে।

‘আপনাদের খোন্দকার মোশতাক সাহেবের সঙ্গে পুরো ৩১ জনের মন্ত্রিসভা গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের রক্তের ওপর দিয়ে হেটে গিয়ে তারা মন্ত্রিত্বের শপথ নিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড তো আপনারা ঘটিয়েছেন, আওয়ামী লীগ ঘটিয়েছে। অন্য কেউ তার সঙ্গে জড়িত ছিল না। যারা করেছে তারা সামরিক বাহিনীর লোক ছিল। তাদের সঙ্গে আপনারা যুক্ত ছিলেন বলেই আপনারা করেছেন।

‘সুতরাং ওই মাছ দিয়ে শাখ ঢাকার চেষ্টা করবেন না। নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্যে অন্যকে দোষারোপ করে লাভ নেই। নিজেরা পরিষ্কার হোন, নিজেরা পরিচ্ছন্ন হউন, পরিশুদ্ধ হউন। হত্যার রাজনীতি বাদ দেন এবং সন্ত্রাসের রাজনীতি বাদ দেন, জনগনকে প্রতারণা করবার রাজনীতি বাদ দেন। বাদ দিয়ে আপনারা সঠিকভাবে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা, সেই আকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করেন। ১৯৭২ সালে সেই সংবিধান সেই সংবিধান মতো কাজ করেন।’

ফখরুল বলেন, ‘আজকে কী করেছেন? সমস্ত অধিকার খর্ব করে দিয়েছেন বাংলাদেশের মানুষের। যারা লিখতে না পারে সংবাদ কর্মীরা সেইজন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করেছেন। এখন কথায় কথায় এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদেরকে লেলিয়ে দেন। তারা ধরে নিয়ে এসে বিভিন্ন রকমের অত্যাচার-নিপীড়ন-নির্যাতন করে, তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়।’

সংগ্রাম করতে হবে

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, এই যে একটা ভয়াবহ অবস্থা থেকে আমাদের উত্তরণ ঘটাতে হবে। একদিকে আমরা জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়াব, অন্যদিকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই দানব সরকারকে সরানোর জন্য আমাদেরকে লড়াই করতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে।

‘আমরা করোনার দানবকে পরাজিত করার চেষ্টা করব, একই সঙ্গে রাজনৈতিক যে দানব আমাদের সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধবংস করে দিচ্ছে, তাদেরকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থেই জনগণের প্রতিনিধির সরকার প্রতিষ্ঠা করার প্রতিষ্ঠার আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব। আমরা বিশ্বাস করি, যদি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা চেষ্টা করি, অবশ্যই আমরা জয়ী হবে, জয় আমাদের সুনিশ্চিত ইনশাল্লাহ।’

লালমনিরহাট বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাবলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
দাম প্রকাশ: সিনোফার্মের টিকা পাওয়া নিয়ে সংশয়
টিকা দিতে ১০ জুনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে জবি
অব্যবহৃত আড়াই কোটি ডোজ করোনা টিকা দান করছে যুক্তরাষ্ট্র
দরিদ্রদের টিকার জন্য আরও ২৪০ কোটি ডলার সহায়তা
ছয় মাসে বিশ্বকে ১০০ কোটি টিকা দেবে সিনোফার্ম

শেয়ার করুন

সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে যাবেন শেখ হাসিনা

সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে যাবেন শেখ হাসিনা

ফাইল ছবি

জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী সশরীরে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তাই হলে ১৯ মাসের মধ্যে প্রথম কোনো বিদেশ সফরে যাবেন শেখ হাসিনা।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হওয়ায় এবারের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন হবে সশরীরে। দুই সপ্তাহের সীমিত পরিসরের এই অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে উড়াল দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই হলে ১৯ মাসের মধ্যে প্রথম কোনো বিদেশ সফরে যাওয়া হবে তার।

জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী সশরীরে যোগ দেবেন বলে সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্কে সীমিত আকারে দুই সপ্তাহব্যাপী জাতিসংঘের ৭৬তম সম্মেলন হবে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ব নেতারা বক্তব্য দেয়া শুরু করবেন। ২১ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর হবে উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

মোমেন বলেন, ‘এতে কোন কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধান আসবেন আমরা তা জানি না। তবে আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের নেতৃত্ব দেবেন।

‘জাতিসংঘ অনেক কম লোকজনকে নিয়ে যেতে বলেছে। কোনো সাইড ইভেন্ট জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ভেতরে হবে না। সেখানে দুটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে। একটি পরমাণু শক্তি নিয়ে, যা গতবার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমি অংশ নিয়েছিলাম। আর একটি হবে বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে।’

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত বছর জাতিসংঘের ৭৫তম সাধারণ অধিবেশন হয় ভার্চুয়ালি। নিজ নিজ দেশে থেকে রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এবারের অধিবেশন সীমিত পরিসরে হলেও সশরীরে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ।

এবারের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাঙ্গালিদের কোনো অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন কি না, এমন প্রশ্ন রাখা হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে।

জবাবে তিনি বলেন, ‘ওই সফরে নিউইয়র্কে কোনো কমিউনিটির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি সাক্ষাতের সম্ভাবনা নেই। হলেও তা ভার্চুয়ালি হবে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলব। ইউএন বারবার আমাদের বলছে, আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

আরও পড়ুন:
দাম প্রকাশ: সিনোফার্মের টিকা পাওয়া নিয়ে সংশয়
টিকা দিতে ১০ জুনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে জবি
অব্যবহৃত আড়াই কোটি ডোজ করোনা টিকা দান করছে যুক্তরাষ্ট্র
দরিদ্রদের টিকার জন্য আরও ২৪০ কোটি ডলার সহায়তা
ছয় মাসে বিশ্বকে ১০০ কোটি টিকা দেবে সিনোফার্ম

শেয়ার করুন

‘দেশের স্বার্থেই খুলেছে শিল্প, কথা রাখেনি ব্যবসায়ীরা’

‘দেশের স্বার্থেই খুলেছে শিল্প, কথা রাখেনি ব্যবসায়ীরা’

‘আমি মনে করি, গার্মেন্টস মালিকদের আরেকটু সচেতন হওয়া প্রয়োজন ছিল। সবাইকে আমি দোষ দিব না, কিন্তু যারা শ্রমিকদের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন কাজে যোগদান করতেই হবে, সেই বার্তা পাঠানোর ক্ষেত্রে একটু ভুল ছিল। তারা যেটি বলেছিলেন ঢাকার আশেপাশে বা ঢাকায় অবস্থান শ্রমিকদের নিয়ে চালু করবে, সেটি হলে এভাবে দৌড়ঝাঁপ করে শ্রমিকদের আসতে হতো না।’

ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় নয়, বরং দেশের স্বার্থে পোশাকখাতসহ রপ্তানিমুখী শিল্প খুলে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

ঢাকার আশপাশের শ্রমিকদের নিয়ে কারখানা চালুর করার কথা বললেও, ব্যবসায়ীরা কথা রাখেননি বলে মন্তব্য তার।

সচিবালয়ে সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতি অনেকটাই গার্মেন্টসের ওপর নির্ভরশীল। রপ্তানি আয়ের ৮০ ভাগ বা তার বেশি গার্মেন্টস থেকেই আসে। গার্মেন্টসটা অত্যন্ত সেনসিটিভ সেক্টর। সেখানে যদি এক সপ্তাহ ডেলিভারি দিতে না পারে বা এক সপ্তাহ দেরি হয় তাহলে কার্যাদেশ বন্ধ হয়ে যায়। দেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে—সেই বিষয়টা বিষয়টাও দেখতে হবে। এটি ব্যবসায়িক স্বার্থে নয়, পুরো বিষয়টি দেশের স্বার্থেই।’

শ্রমিক ভোগান্তির বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আনা হলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এক্ষেত্রে গার্মেন্টস মালিকদের আরেকটু সচেতন হওয়া প্রয়োজন ছিল। সবাইকে আমি দোষ দিব না, কিন্তু যারা শ্রমিকদের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন কাজে যোগদান করতেই হবে, সেই বার্তা পাঠানোর ক্ষেত্রে একটু ভুল ছিল। তারা যেটি বলেছিলেন ঢাকার আশেপাশে বা ঢাকায় অবস্থান শ্রমিকদের নিয়ে চালু করবে, সেটি হলে এভাবে দৌড়ঝাঁপ করে শ্রমিকদের আসতে হতো না।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গার্মেন্টস মালিকরা যেটা বলেছিলেন তারা ঢাকার আশেপাশে যারা শ্রমিকরা আছে তাদেরকে নিয়েই আপাতত শুরু করবেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো কোনো গার্মেন্টস মালিক সেটার ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে শ্রমিকদেরকে ফোন করা হয়েছে, কাজে যোগ দেয়ার জন্য। অর্থাৎ যারা ঢাকার বাইরে চলে গেছেন তাদের আসতে বলা হয়েছে।’

পোশাক মালিকদের এমন আচরণে ‘বিভ্রান্তিটা হয়েছে’ বলে মনে করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তার পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকদের সুবিধার্থে বা গার্মেন্টসে যারা কাজ করেন তাদের সুবিধার্থে গণপরিবহন চালু করা হয়েছিল কয়েক ঘণ্টার জন্য।’

রপ্তানিমুখী শিল্প খুলে দেয়া সরকারের সিদ্ধান্ত

দেশের স্বার্থ রক্ষায় রপ্তানিমুখী শিল্প খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত আমলারা নয়, সরকার নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

গত মঙ্গলবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছিলেন, ব্যবসায়ীদের অনুরোধে সাড়া দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ৫ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকছে সব কল-কারখানা।

পর দিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে, কারখানা খুলে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানান ব্যবসায়ীরা। তার দুদিন পর আসে রোববার থেকে কারখানা খোলার ঘোষণা।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ উঠেছে রাজনীতিবিদ বা জনপ্রতিনিধিরা নয়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন আমলারা। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে, তা অস্বীকার করেন মন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি সরকারের কাছেই করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কে বসবে সেটা বিষয় নয়, সরকারের কাছে এই দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। কোনো সচিবের সঙ্গে বসলে সিদ্ধান্তটা সচিবের নয়, সিদ্ধান্তটা সরকারের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত হয়। এক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি বা সচিবদের না, এটা সরকারেরই সিদ্ধান্ত হয়, কার সঙ্গে বসেছেন সেটা বিষয় নয়। যে কারো সঙ্গেই বসতে পারে।’

১ আগস্ট থেকে কারখানা খুলে দিতে ব্যবসায়ীরা দাবি জানিয়ে আসছেন বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘সরকার নানা দিক বিবেচনা করে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সর্বাত্মক লকডাউন দিয়েছে, সরকার এই ঘোষণা দেয়নি, এটি কখনও শিথিল করা হবে না। লকডাউন দেবার পর সপ্তাহে সপ্তাহে বৃদ্ধি করা হচ্ছিল। এবার দুই সপ্তাহ একসঙ্গে দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
দাম প্রকাশ: সিনোফার্মের টিকা পাওয়া নিয়ে সংশয়
টিকা দিতে ১০ জুনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে জবি
অব্যবহৃত আড়াই কোটি ডোজ করোনা টিকা দান করছে যুক্তরাষ্ট্র
দরিদ্রদের টিকার জন্য আরও ২৪০ কোটি ডলার সহায়তা
ছয় মাসে বিশ্বকে ১০০ কোটি টিকা দেবে সিনোফার্ম

শেয়ার করুন