ভারতে পাচার বাংলাদেশি তরুণীর ভয়াবহ বয়ান

রিফাতুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে পাচার বাংলাদেশি তরুণীর ভয়াবহ বয়ান

প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টিকটক হৃদয় ভারতে যেসব নারীকে পাচার করেছেন, তাদের একজন পালিয়ে এসে সম্প্রতি মামলা করেছেন ১২ জনের বিরুদ্ধে। ওই তরুণীর এজাহারে উঠে এসেছে নারী পাচার চক্রের নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্র।

চাকরি দেয়ার কথা বলে এক তরুণীর সঙ্গে পরিচিত হন ভিডিও শেয়ারিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক তারকা রিফাদুল ইসলাম হৃদয়। এরপর টিকটক হ্যাংআউটের জন্য কুষ্টিয়ায় যাওয়ার কথা বলে ওই তরুণীকে তিনি নিয়ে যান সাতক্ষীরায়। আর সেখান থেকে কৌশলে ভারতে পাচার করা হয় তরুণীকে।

ভারতের বেঙ্গালুরুতে নিয়ে ওই তরুণীকে হোটেল ও ম্যাসাজ পারলারে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়।

টিকটক হৃদয়ের ফাঁদে পড়ে ভারতে পাচার হওয়ার পর ৭৭ দিনের এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্নময় সময় পার করে গত মে মাসে কৌশলে পালিয়ে দেশে ফিরে আসেন ওই তরুণী।

ফিরে এসে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) হাতিরঝিল থানায় মানব পাচার আইনে প্রতিরোধ ও দমন আইনে হৃদয়সহ ১২ জনের ‍বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি।

এদের তিনজনকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন মেহেদী হাসান বাবু, মহিউদ্দিন ও আবদুল কাদের।

কীভাবে টিকটক হৃদয়ের সঙ্গে পরিচয় এবং কোন কৌশলে তাকে ফাঁদে ফেলে পাচার করা হয়, এর বর্ণনা মামলার এজাহারে জানিয়েছেন ওই তরুণী।

ভারতে পাচার বাংলাদেশি তরুণীর ভয়াবহ বয়ান
ভারতের বেঙ্গালুরু শহর। ছবি: সংগৃহীত

টিকটক হৃদয়ের সঙ্গে যেভাবে পরিচয়

তরুণী জানান, এক বান্ধবীর সঙ্গে হাতিরঝিলে ঘুরতে গেলে হৃদয় যেচে এসে পরিচিত হন তার সঙ্গে।

তিনি এজাহারে বলেন, ‘২০১৯ সালে মার্চ মাসের কোনো একসময়ে আমি আমার বান্ধবী আফরিন (ছদ্মনাম) সাথে হাতিরঝিলের মধুবাগ ব্রিজে ঘুরতে যাই। আফরিনের বাসা মগবাজারে। এ সময় ২০-২৫ বছর বয়সী পাঁচ-ছয়জন ছেলে আমাদের সামনে আসে।

‘তাদের মধ্যে একজন আফরিনের সঙ্গে কথা বলে। তার নাম রিফাদুল ইসলাম হৃদয়। সে আফরিনের সঙ্গে দুয়েকটা কথা বলে আমার পরিচয় জানতে চাইলে আফরিন আমাকে তার বান্ধবী বলে পরিচয় করিয়ে দেয়। রিফাদুল ইসলাম হৃদয় আমার মোবাইল নম্বর ও ফেসবুক আইডি চাইলে আমি দিতে অস্বীকৃতি জানাই।’

তিনি বলেন, ‘মাসখানেক পর বসুন্ধরা সিটির তৃতীয় তলার একটি শোরুমে বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে জেনে আমি চাকরিপ্রার্থী হিসেবে সেখানে যাই। রিফাদুল ইসলাম হৃদয়ও চাকরিপ্রার্থী হিসেবে সেখানে যায়। সেখানে সে আমাকে চিনতে পারে। আমার মোবাইল নম্বর ও ফেসবুক আইডি চায়। আমি মোবাইল নম্বর দিই। ফেসবুক আইডি দিইনি।’

টিকটকের আগ্রহকে কাজে লাগান হৃদয়

ওই তরুণী জানান, হৃদয় পরিচিত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে তাকে কল করতেন, মেসেজ দিতেন। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে ডাকতেন। কিন্তু তিনি যাননি। ২০১৯ সালে প্রথম হাতিরঝিলে ও দ্বিতীয়বার বসুন্ধরা সিটিতে তাদের দেখা হয়।

২০২০ সালের প্রথম দিকে মৌচাকের সেন্টার পয়েন্ট মার্কেটের তৃতীয় তলার একটি বুটিক শপে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন ওই তরুণী। হৃদয় সেই খবর পেয়ে সেখানেও কয়েক দিন যান।

বিক্রয়কর্মী নয়, ভালো বেতনে চাকরি পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন হৃদয়। এরই মধ্যে ওই তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন তিনি। তা প্রত্যাখ্যান করেন তরুণী।

তরুণী এজাহারে বলেন, ‘আমি প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে বলি। সে খুব শিগগিরই পারিবারিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবে বলে জানায়। এরপর সে আমার সাথে কয়েকবার দেখা করতে চেয়েছে। আমি রাজি হইনি। তবে সে আমাকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে তাকে অ্যাড করার জন্য ফোনে অনুরোধ করলে আমি তাকে আমার ফ্রেন্ড লিস্টে অ্যাড করি। মোবাইল ফোনে ও ফেসবুক মেসেঞ্জারে তার সাথে মাঝে মাঝে আমার কথা হতো।’

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রিফাদুল ইসলাম হৃদয় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকায় অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ডপার্কে ‘টিকটক হ্যাংআউট’ পার্টির আয়োজন করেন। হৃদয় মোবাইল ফোনে ও ফেসবুক মেসেঞ্জারে তরুণীকে সেখানে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ থেকে টিকটক তারকারা সেখানে আসবে বলে তরুণীকে জানানো হয়।

তরুণী বলেন, ‘টিকটক নিয়ে আমারও আগ্রহ ছিল। ঢাকা থেকে কীভাবে যাব, জানতে চাইলে হৃদয় জানায়, রিজার্ভ করা বাস ঢাকা থেকে অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ডপার্কে যাবে। যেহেতু আরও অনেকেই যাবে, আমি টিকটক হ্যাংআউট পার্টিতে যেতে রাজি হই। ওই পার্টিতে প্রায় ৭০-৮০ জনের মতো উপস্থিত ছিল। সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পার্টি চলে। সবাই অনেক ছবি তোলে।

‘টিকটক তারকা হিসাবে হৃদয়ের বেশ পরিচিতি ছিল। হৃদয় জানায়, টিকটকে ভিডিও বানিয়ে অনেক টাকা ইনকাম করার সুযোগ আছে। সে আমাকে জনপ্রিয় টিকটক তারকা বানানোর আশ্বাস দেয়।’

অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ডপার্কের পার্টি থেকে ফেরার পর তরুণীকে বুটিক শপের চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ দেন হৃদয়। তার কাছে ভালো বেতনে দেশে-বিদেশে চাকরির সুযোগ আছে বলে জানান তিনি। গত বছর লকডাউন শুরুর পর হৃদয়ের সঙ্গে অনেক দিন দেখা হয়নি তরুণীর। তবে যোগাযোগ হতো মোবাইল ফোন ও ফেসবুকে।

২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের ‘আফরিন গার্ডেন রিসোর্টে’ হৃদয় একটি পুল পার্টির আয়োজন করে। এতে ৭০০-৮০০ তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করে। সবাই টিকটক করে এবং হৃদয়ের পরিচিত। হৃদয় ও তার কয়েকজন বন্ধু ফেসবুকে টিকটক গ্রুপ খুলে এই পার্টিতে অংশ নিতে গ্রুপের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। পার্টিতে অংশ নেন ওই তরুণী।

করোনায় বেকার, কুষ্টিয়ায় ফাঁদ

লকডাউনে বুটিক শপের চাকরি হারান ওই তরুণী। তার বাবা অসুস্থ। দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় ঋণ করে সংসার চলছিল তাদের। তখন হৃদয়কে একটি চাকরির জন্য অনুরোধ করেন ওই তরুণী। হৃদয় কিছু করবেন বলে আশ্বাস দেন।

এরই মধ্যে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি হৃদয় মেসেঞ্জারে নক করে ওই তরুণীকে জানান, কুষ্টিয়ায় বাউল লালন ফকিরের মাজারে টিকটক হ্যাংআউটের আয়োজন করেছে খুলনার একটি টিকটক গ্রুপ। হাতিরঝিল মোড়লবাড়ির সামনে থেকে তিনটি বাস যাবে সকাল ৯টায়।

ওই তরুণী এজাহারে বলেন, ‘যেহেতু ঢাকা থেকে আরও অনেকেই কুষ্টিয়ায় লালন ফকিরের মাজারে যাবে বলে হৃদয় আমাকে জানায়, সে জন্য যেতে রাজি হই।

‘কুষ্টিয়ার টিকটক হ্যাংআউট ১৯ ফেব্রুয়ারি। আমি সকাল সাড়ে ৮টায় রিকশায় করে হাতিরঝিল মোড়লবাড়ির সামনে চলে আসি। গ্রুপের সদস্যদের কাউকে দেখতে না পেয়ে হৃদয়কে মেসেঞ্জারে ফোন করলে সে আমাকে জানায়, রাতে বাস ছাড়ার টাইম চেঞ্জ করে ৭টা ২০ মিনিটে বাস ছেড়ে গেছে। গভীর রাতে গ্রুপে মেসেজ দেয়া হয়েছিল। সে নিজেও টের পায়নি।’

তরুণী উল্লেখ করেন, ‘হৃদয় খুব আফসোস করতে থাকে। এই পার্টিতে না গেলে তার নাকি টিকটক ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যাবে। তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা তার ক্যারিয়ার ধ্বংসের জন্য তাকে পার্টিতে বাদ দেয়ার জন্যই সুকৌশলে গভীর রাতে বাস ছাড়ার টাইম চেঞ্জ করেছে। খুব ইমোশনাল হয়ে সে আমার হাত ধরে বলে যে, সে দমবার পাত্র নয়। সে বলে, যেকোনো মূল্যে সে কুষ্টিয়ায় যেতে চায়। আমি তার সাথে যাব কি না। খুব ইমোশনাল দেখে আমি রাজি হয়ে যাই।’

কুষ্টিয়ার কথা বলে সাতক্ষীরায়

ওই তরুণী হৃদয়ের সঙ্গে কুষ্টিয়া যেতে রাজি হওয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তারা দুজন শ্যামলী যান। সেখানে হোটেলে নাশতা করেন। এরই মাঝে কুষ্টিয়ার গাড়ি আছে কি না, তা দেখতে বেরিয়ে যান হৃদয়।

ভুক্তভোগী তরুণী এজাহারে বলেন, ‘মিনিট দশেক পরে হৃদয় আমাকে দ্রুত বাসে উঠতে বলে। বাস নাকি ছেড়ে যাচ্ছে। হৃদয় ও আমি বাসে উঠি। পাশাপাশি দুই সিটে বসি। কোন বাসে উঠি মনে নেই। বাসে ওঠার কিছুক্ষণ পর আমি ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুম থেকে উঠে দেখি বাস থেমে আছে। কুষ্টিয়া পৌঁছাতে কতক্ষণ সময় লাগবে, জিজ্ঞাসা করলে হৃদয় জানায়, “এটা আরিচাঘাট। আরও চার-পাঁচ ঘণ্টা লাগবে।’”

আরিচাঘাট হয়ে ফেরিতে করে নদী পার হওয়ার পর আবার ঘুমিয়ে পড়েন তরুণী। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আবার তার ঘুম ভাঙে। হৃদয় তখন ঘুমাচ্ছিলেন।

তরুণী বলেন, ‘আমি সুপারভাইজারকে জিজ্ঞাসা করি, কুষ্টিয়া পৌঁছাতে আর কতক্ষণ লাগবে। সুপারভাইজার জানায়, এটা কুষ্টিয়ার বাস না। কিছুক্ষণের মধ্যে সাতক্ষীরা লাস্ট স্টপেজে পৌঁছাবে বাস। আমি ধাক্কা দিয়ে হৃদয়ের ঘুম ভাঙাই।

‘সাতক্ষীরার গাড়িতে কেন ওঠা হলো, প্রশ্ন করলে হৃদয় জানায়, বাস চিনতে ভুল হতে পারে। তার কোনো দোষ নেই। কুষ্টিয়া যেতে না পারলে তো তারই ক্ষতি। হৃদয় আমাকে টেনশন করতে নিষেধ করে।’

তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরার বাসটি একটি সিনেমা হলের সামনে থামে। কিছুক্ষণ পর মাগরিবের আজান হয়। হৃদয় অস্থিরভাবে হাঁটাহাঁটি করতে করতে মোবাইলে কথা বলতে থাকেন।

১০ মিনিট পর ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী একজন লোক মোটরসাইকেল চালিয়ে হৃদয় ও ভুক্তভোগী তরুণীর কাছে আসেন। হৃদয় লোকটিকে বলেন, ‘আমরা ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যেতে চেয়েছিলাম। ভুল করে সাতক্ষীরা এসেছি। দ্রুত কুষ্টিয়া যাওয়ার কোনো বাস আছে কি না।’

মোটরসাইকেলে আসা লোকটি জানান, সামনে কুষ্টিয়ার লাস্ট বাসটি আছে। ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই বাস ছাড়বে।

ওই ব্যক্তিটি হৃদয় ও তরুণীকে দ্রুত মোটরসাইকেলে চড়তে ইশারা করেন। হৃদয় ও তরুণী মোটরসাইকেলে চড়েন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর একটি টিনশেড বাড়ির সামনে মোটরসাইকেলটি থামে।

মোটরসাইকেলের চালক তাদের জানান, বাস চলে গেছে। রাতে আর বাস নেই। হৃদয় মোটরসাইকেলচালককে অনুরোধ করেন যেন তাদের শহরে কোথাও থাকার ব্যবস্থা করে দেন।

হৃদয় জানান, তার কাছে ৩০০ টাকা আছে মাত্র। মোটরসাইকেলচালক বলেন, এত কম টাকায় সাতক্ষীরা সদরে কোনো হোটেলে সিঙ্গেল রুম পাওয়া যাবে না। তা ছাড়া দুজনের তো দুই রুম লাগবে।

মোটরসাইকেলচালক পাশের একটি বাসা দেখিয়ে বলেন, সেখানে সস্তায় একটি পরিবারের সঙ্গে থাকা যাবে। সেই বাসায় যেতে অস্বীকৃতি জানান তরুণী।

অভিযোগে তরুণী বলেন, ‘হৃদয় আমাকে অনুরোধ করে সেই বাসায় যেতে। যেহেতু পরিবারের সাথে থাকা যাবে, কাজেই আমরা দুজন আলাদা রুমে থাকতে পারব। রাতে বন্ধুবান্ধবদের সাথে কথা বলে সে বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা নেবে। সকালে সেই টাকা ক্যাশ আউট করে কুষ্টিয়ায় যাবে।

‘আমার কাছেও তেমন টাকাপয়সা ছিল না। যেহেতু হৃদয়ের কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই এবং সেই বাসাটিতে বাসায় পরিবারের সাথে আলাদা রুমে থাকা যাবে, তাই আমি সেই বাসায় থাকতে রাজি হই।’

বাড়িটি ভারতে পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট

তিন কক্ষের এই বাড়িটির মালিক আলম। সেখানে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান থাকে। হৃদয় ও তরুণী বাড়িতে ঢোকার কিছুক্ষণ পর হৃদয়ের সমবয়সী আরও তিন তরুণ ও লাবণী (ছদ্মনাম) নামের ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী এক নারী আসেন। হৃদয় সেই তিন তরুণের সঙ্গে কথা বলেননি। হৃদয়ের সঙ্গে আসা তরুণী ও লাবণীকে একটি কক্ষে থাকতে দেয়া হয়। হৃদয় ও অন্য তিন তরুণ তৃতীয় কক্ষটিতে ঘুমান।

ওই তরুণী এজাহারে বলেন, ‘রাত আড়াইটার দিকে হৃদয় রুমের দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে আমার নাম ধরে ডেকে দরজা খুলতে বলে। লাবণী ও আমার ঘুম ভাঙে। দরজা খুলে দিলে হৃদয় ও ৩০-৩৫ বছর বয়সী এক লোককে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। হৃদয় তাকে আনিস ভাই বলে ডাকে। আনিস আমাকে ও লাবণীকে দেখে চলে যায়। আমরা ঘুমিয়ে পড়ি।

‘ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে হৃদয় আবার রুমের দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে আমার নাম ধরে ডেকে দ্রুত দরজা খুলতে বলে। দরজা খুলে দেখি হৃদয়সহ লাবণীর সঙ্গে আসা অন্য তিন তরুণ রুমের সামনে দাঁড়ানো। হৃদয় ও সেই তিন তরুণ আমাদের দ্রুত রুম থেকে বের হতে বলে। আমরা দ্রুত বের হয়ে দৌড়ে বেশ দূরের একটি বাড়িতে চলে যাই।

‘সেই বাড়িটিতে গিয়ে আমরা ছয়জন একটি রুমে ঢোকামাত্রই হৃদয় দরজা বন্ধ করে দেয়। হৃদয় বলে, পুলিশের গাড়ি এসেছে। আমরা আর ঘুমাইনি। সকাল সাতটার দিকে হৃদয় জানায়, বাইরে পুলিশ ঘোরাঘুরি করছে। পুলিশ না চলে গেলে বাড়ি থেকে বের হওয়া যাবে না।’

ভারতের সীমান্ত দেখানোর ফাঁদ

সকাল ৮টার দিকে ৫০ থেকে ৫৫ বছর বয়সী এক লোক ছয়জনের নাশতা নিয়ে আসেন। তার নাম আবদুল কাদের। তিনি জানান, সামনেই ভারতের বর্ডার। প্রাকৃতিক দৃশ্য নাকি খুব সুন্দর। এই এলাকায় এলে কেউ সেখানে না ঘুরে ফেরে না।

তরুণী বলেন, ‘আমার কোনো আগ্রহ ছিল না। একটু পরেই হৃদয় এসে আবদুল কাদেরকে বলল, ভারতীয় বর্ডার কতদূর, সেখানে ছবি তোলার মতো ভালো কোনো দৃশ্য আছে কি না। আবদুল কাদের হৃদয়কেও একইভাবে জানাল, সেখানকার দৃশ্য খুব সুন্দর। ছবি তোলার জন্য অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে সেখানে যায়।

‘যেহেতু হৃদয় টিকটক করে, সে ভারতীয় বর্ডারের কাছে গিয়ে ছবি তুলতে চায়, আমাকে তার সাথে যেতে অনুরোধ করে। আবদুল কাদেরকে অনুরোধ জানায়, ভারতীয় বর্ডারের কাছাকাছি যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য। আবদুল কাদের আমাদেরকে ভারতীয় বর্ডারের খুব কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেয়।’

সীমান্তের পথে যাত্রা শুরু

দুপুর ১২টার দিকে আবদুল কাদের দুই সেট ছেঁড়া জামাকাপড় নিয়ে এসে দুই তরুণীকে পরতে বলে। ছেঁড়া জামাকাপড় না পরলে নাকি ভিতরে যাওয়া যায় না।

ওই তরুণী বলেন, ‘প্রায় ১০-১৫ মিনিট পর দুটি লাল মোটরসাইকেল নিয়ে ২৫-৩০ বছর বয়সী দুজন পুরুষ লোক আসে। দুজনের নাম মেহেদী হাসান বাবু ও মহিউদ্দিন। মেহেদী হাসান বাবুর বাবার নাম আবদুল কাদের। দুজন মোটরসাইকেল রেখে আমাদেরকে দ্রুত বের হতে বলে।’

হৃদয়, ভুক্তভোগী তরুণী, লাবণী, লাবণীর সঙ্গে আসা তিন ছেলে মেহেদি হাসান বাবু, মহিউদ্দিন ও আবদুল কাদের সীমান্তের দিকে হাঁটতে থাকেন।

ওই তরুণী বলেন, ‘১০-১৫ মিনিট হাঁটার পর এক জায়গায় দেখি, আমার বয়সী চারজন মেয়ে ও ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এক পুরুষ লোক দাঁড়িয়ে আছে। তার নাম হারুন। আনিস সালাম দিয়ে আমাদের বলে, সামনে কোনো সমস্যা হবে না। সে বলে রেখেছে। মেহেদী হাসান বাবু, মহিউদ্দিন ও হারুনকে আনিস নির্দেশ দেয় আমরা যেন সহি-সালামতে সেখানে ঘুরতে পারি।

‘আনিস ও আবদুল কাদের এবং লাবণীর সাথে থাকা তিন ছেলে চলে যায়। মেহেদী হাসান বাবু, মহিউদ্দিন ও হারুনের সাথে হৃদয়সহ আমরা ছয়জন হাঁটতে থাকি। ৩০-৪০ মিনিট হাঁটার পর ভারতীয় বর্ডারের সামনে আমরা বসে থাকি। হৃদয় আমাকে জানায়, ভারতীয় সীমানায় ঢুকে সে আমার সাথে সেলফি তুলবে।’

ভারতে পাচার বাংলাদেশি তরুণীর ভয়াবহ বয়ান
ভারতের হায়দরাবাদ শহর। ছবি: সংগৃহীত

কৌশলে সীমান্ত পার

ভুক্তভোগী ওই তরুণী বলেন, ‘প্রায় দুই ঘণ্টা বসে থাকার পর মেহেদী হাসান বাবু, মহিউদ্দিন ও হারুন আমাদের একটা পাকা রাস্তায় তুলে হাঁটতে বলে। পাকা রাস্তার মাথায় দাঁড়ানো ট্রাউজার ও গেঞ্জি পরিহিত এক লোককে দেখিয়ে বলে, আনিস ভাই ওনাকে বলে দিয়েছে। দ্রুত চলে যাও। সে সব ব্যবস্থা করে দেবে। হৃদয়সহ আমরা হেঁটে তার কাছে গেলে সে আমাদের রিসিভ করে।

‘লোকটি দ্রুত হাঁটতে হাঁটতে তাকে অনুসরণ করতে বলে। লোকটি রাস্তা ব্যবহার না করে ক্ষেত-খামারের ওপর নিয়ে হাঁটতে থাকে। আমি কিছুটা ভয় পেয়ে হৃদয়কে এটা কোন জায়গা জিজ্ঞাসা করলে সে এখনও বাংলাদেশে আছি বলে জানায়। জমি ও ক্ষেতের আইল দিয়ে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টা হাঁটার পর ট্রাউজার পরিহিত ওই ব্যক্তি লুঙ্গি পরিহিত একজনের কাছে আমাদের বুঝিয়ে দিয়ে চলে যায়।’

লুঙ্গি পরা লোকটির সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা হাঁটার পর এক জায়গায় গিয়ে ওই তরুণী চারটি মোটরসাইকেলসহ চারজনকে পান।

হৃদয় তরুণীকে কালো রঙের একটি মোটরসাইকেলে উঠতে বলেন। মোটরসাইকেলের চালকের নাম ছিল বকুল ওরফে ছোট খোকন। তার বয়স ৪০-৪২ বছর। তরুণী ও হৃদয় ছোট খোকনের মোটরসাইকেলে বসেন।

ছোট খোকন জোরে মোটরসাইকেল চালাতে থাকেন। তরুণী ভয় পেয়ে ঢাকায় ফিরতে চাইলে হৃদয় তাকে জানান, কোনো ভয় নেই। তিনিও ঢাকাতেই ফিরবেন।

তরুণী বলেন, ‘১০ থেকে ১৫ মিনিট যাওয়ার পর একটি টিনশেড বাসার সামনে বকুল মোটরসাইকেল থামায়। মিনিট পাঁচেক পরে অন্য একটি মোটরসাইকেল চড়ে লাবণী আসে। লাবণী ও আমাকে ওই বাসায় রেখে হৃদয়, বকুল ওরফে ছোট খোকন মোটরসাইকেলে চড়ে একটু পর আসবে জানিয়ে চলে যায়। সেই বাসার একজন মহিলা আমাকে ও লাবণীকে খাবার ও জামাকাপড় দেয়।

‘খাবার খেয়ে লাবণী ও আমি ঘুমিয়ে পড়ি। রাতে বকুল ওরফে ছোট খোকন এসে লাবণীকে নিয়ে যায়। ঘণ্টাখানেক পর ছোট খোকন আবার এসে হৃদয় খুব কান্নাকাটি করছে জানিয়ে হৃদয়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আমাকে একটি অন্ধকার রুমে নিয়ে যায়। সেই অন্ধকার রুমে লাবণীও ছিল। আমরা দুজনই চিৎকার করে কাঁদতে থাকি। কাঁদতে কাদঁতে লাবণী আমাকে জানায়, মুম্বাইয়ে তার দূরসম্পর্কের চাচার বাসায় যাওয়ার জন্য এই পথে এসেছে।’

তরুণী বলেন, ‘আমাদের চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে বকুল ওরফে ছোট খোকন আমাকে ও লাবণীকে তার নিজের বাসায় নিয়ে রাখে। পরদিন সকালে বকুল লাবণীকে অন্য কোথাও নিয়ে যায়। আমাকে ছোট খোকনের বাসায় রাখা হয়। রাতে হৃদয় অসুস্থ জানিয়ে আমাকে আবার অন্য একটি বাসায় নিয়ে যায় ছোট খোকন। সে বাসায় হৃদয় ছাড়া অন্য কেউ ছিল না।’

শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হয় তরুণীকে

তরুণী এজাহারে বলেছেন, ‘আধার কার্ড বানানোর জন্য সেই বাসায় বকুল আমার ছবি তোলে এবং দরকারি তথ্য লিখে নেয়। এরপর হৃদয় ও ছোট খোকন দুজন মিলে আমাকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করে।

‘আমি বুঝতে পারি হৃদয় কৌশলে আমাকে ভারতে পাচার করেছে। এতক্ষণ পর্যন্ত যা হয়েছে, সবকিছুই পরিকল্পিত। আমি চিৎকার করে আশপাশের লোকজন ও পুলিশকে জানাতে চাইলে হৃদয় ও বকুল আমাকে জানায়, আমি পাসপোর্ট ছাড়া অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছি। তাদের কথামতো না চললে তারা পুলিশকে খবর দিয়ে আমাকে ধরিয়ে দেবে। তাতে আমার ২০ বছর জেল হবে। আমি প্রচণ্ড কান্নাকাটি করতে থাকি। শেষ রাতে তারা দুজন আবার আমাকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করে।’

ওই তরুণী বলেন, ‘পরদিন সকালে ছোট খোকন লাবণীকে নিয়ে আসে। সে-ও কাঁদতে কাঁদতে আমাকে জানায়, রাতে তিনজন তাকে ধর্ষণ করেছে।’

লাবণী ও তরুণীকে আধার কার্ড এবং বেঙ্গালুরুগামী বিমানের টিকিট ধরিয়ে দেয় ছোট খোকন। হৃদয়, ওই তরুণী ও লাবণী ইনডিগো এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে বেঙ্গালুরু যান। বিমানবন্দরে তাদের রিসিভ করে সবুজ ও রুবেল নামে দুজন।

বিমানে আসা তিনজনকে আনন্দপুরা সার্কেলে রুবেল ওরফে রাহুল তার বাসায় নিয়ে যান। সেখানে রুবেল ও তার স্ত্রী সোনিয়া থাকেন।

তরুণী মামলার এজাহারে বলেন, ‘হৃদয় ও আমাকে সেই বাসায় ১০ দিন রাখা হয়। হৃদয় রুবেলের সাথে বাসার বাইরে যেত। তবে আমাদের বাসার দরজায় তালা মেরে আটকে রাখা হতো।

‘রুবেলের স্ত্রী সোনিয়ার কাছে আমরা দেশে ফেরার জন্য সাহায্য চাই। তাতে সে তার স্বামীকে বলে ডাবল তালা মারার ব্যবস্থা করে। এরপর হৃদয়সহ আমাকে আনন্দপুরা সার্কেলের একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেই বাসায় আগে থেকেই ইয়াসমিন (ছদ্মনাম-যার নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়) ও তাপসী (ছদ্মনাম) আগে থেকেই ছিল। তাদের দুজনের বাড়িও বাংলাদেশে। পরদিন ইয়াসমিনকে হায়দরাবাদের একটি আবাসিক হোটেলের কাছে পাঠানো হয়। তাপসী খুব কান্নাকাটি করছিল। সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তাকে প্রচণ্ড মারধর করে অন্য একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।’

বাধ্য করে বানানো হয় যৌনকর্মী

তরুণী বলেন, ‘চার-পাঁচ দিন পর সাগর, হৃদয়, আকিল ও ডালিম এসে আমাকে জানায়, আমাকে কাজে যেতে হবে। চেন্নাইয়ের ওইয়ো হোটেলে আমাকে ১০ দিনের জন্য পাঠানো হবে। আমি যেতে অস্বীকৃতি জানালে হৃদয়, সাগর ও সবুজ আমাকে মারধর করে। আমি চিৎকার করে কাঁদতে থাকলে হৃদয় ও সাগরের সামনে সবুজ আমাকে ধর্ষণ করে।

‘এ সময় হৃদয় আমার নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। হৃদয় আমাকে হুমকি দেয়, তাদের কথামতো না চললে আমার নগ্ন ছবি ও আমার পরিবারের সদস্যসহ ঢাকায় পরিচিত সবাইকে পাঠিয়ে দেবে।’

তরুণী বলেন, ‘তিন-চার দিন পর হৃদয়, সবুজ ও সাগর আমাকে একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে ওইয়ো হোটেলে রেখে আসে। প্রথম দিনেই আমাকে ১৯ জনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয়। আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। হোটেলের লোকজনের কাছে হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করি। হোটেলের লোকজন হিন্দিতে বলে, আমাকে দৈনিক ৩০টি কাজ করতে হবে। পাঁচ দিন পর আমি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়ি। হোটেলের লোক ফোন করলে হৃদয় ও সবুজ আমাকে নিতে আসে। হোটেলের লোকজন সবুজকে অপমান করে।’

তরুণীর বর্ণনা অনুযায়ী, এরপর হৃদয় ও সবুজ ওই তরুণীকে বেঙ্গালুরুর আনন্দপুরা সার্কেলের বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে যান। হোটেল থেকে ফেরার পর তরুণী দেখেন, হৃদয় ঢাকা থেকে আরও চার তরুণীকে নিয়ে এসেছেন। হোটেল থেকে ফেরার পর চারজনের সঙ্গে এক কক্ষে থাকতেন ওই ভুক্তভোগী তরুণী।

এরই মধ্যে গত ২৭ মার্চ হৃদয় ওই তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে চান। কিন্তু তরুণী বাধা দেয়ায় তাকে মারধর করেন তিনি। মদের বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে তরুণীর মাথা ফেটে যায়, চারটি সেলাই লাগে। এই অসুস্থতার মধ্যেই সবুজ, হৃদয়, সাগর ও আকিল যৌনকর্মী হিসেবে কাজে যাওয়ার জন্য তরুণীকে চাপ দেন।

ওই তরুণীসহ দুজন নারীকে একটি ম্যাসাজ পারলারে কাজে পাঠান তারা। হায়দরাবাদে ইয়াসমিন যে হোটেলে ছিলেন, সেখানে পাঠানো হয় আরেক মেয়েকে।

পালানোর প্রক্রিয়া শুরু

ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, ‘দুই দিন পর আমার প্রচণ্ড ব্লিডিং শুরু হয়। ম্যাসাজ পারলারের লোকজন আমাকে আনন্দপুরা সার্কেলের বাসায় রেখে যান। যেহেতু আমি “কাজ করতে” পারিনি, আমার খাওয়াদাওয়া ও বাসা ভাড়া বাবদ তারা নাকি ৯০ হাজার টাকা পায়। এইখানে কাজ করে শোধ না করা পর্যন্ত আমাকে অন্য একটি বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়।’

পালানোর জন্য ইয়াসমিনের সহযোগিতা চান ওই তরুণী। ইয়াসমিন বছরখানেক ধরে আছেন সেখানে। সবকিছু চেনেন। ইয়াসমিন প্রথমে রাজি না হলেও পরে জানান, ভুক্তভোগী তরুণীসহ তিনজন পালাতে পারলে যেন কেরালায় যান। তাহলে তিনিও হায়দরাবাদের হোটেল থেকে পালিয়ে কেরালায় যাবেন।

ইয়াসমিনের সহায়তায় ৭ মে বাংলাদেশে ফিরে আসেন ভুক্তভোগী তরুণী।

তরুণীর মাধ্যমে মিলেছে জড়িতদের পরিচয়

ওই তরুণী বলেন, ‘পালানোর পরিকল্পনা করে আমি কাজে যেতে রাজি হই। সবুজ ও হৃদয় আমাকে চেন্নাইয়ের একটি হোটেলে রেখে আসে। একদিন পর সেই হোটেল থেকে আমি পালাতে সক্ষম হই। ৭ মে আমি বাংলাদেশে আসি।’

ওই তরুণী বলেন, তিনি হৃদয়ের কাছ থেকেই তার চক্রের অন্যদের নাম-পরিচয় কৌশলে উদঘাটন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও হৃদয়সহ অন্যান্যদের সাথে মিলেমিশে চলার ভান করি। আমাকে পাচারে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম আমি হৃদয়ের কাছে ফোনে নিই এবং কৌশলে হৃদয়ের মোবাইল থেকে জড়িত ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে আমার মোবাইলে সেভ করি।’

দেশে ফিরে এসে গত সোমবার রাতে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী তরুণী।

নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন রিফাদুল ইসলাম হৃদয়, আনিস, আবদুল কাদের, মেহেদী হাসান বাবু, মহিউদ্দিন, হারুন, বকুল ওরফে ছোট খোকন, সবুজ, রুবেল ওরফে রাহুল, সোনিয়া, আকিল ও ডালিম।

আরও পড়ুন:
টিকটক ভিডিও বানিয়ে আটক ৯
টিকটক গ্রুপে নজরদারি
আবারও টিকটকে নতুন সিইও
পাকিস্তানে আবার নিষিদ্ধ টিকটক
ভারতে টিকটক বন্ধ বাণিজ্য নীতির লঙ্ঘন: চীন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে

মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে

আদালতের প্রসিকিউশন শাখার কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার জিআরও এসআই শাহীন ভূঁইয়া জানান, যেহেতু মিতু হত্যার সময় তার ছেলে সঙ্গে ছিল তাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা দুই সন্তানের সঙ্গেই কথা বলতে চান। পাশাপাশি তাদেরকে মামলার স্বাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চান।

চট্টগ্রামে মাহমুদা খানম মিতু হত্যায় মামলায় জবানবন্দি দেয়ার জন্য বাবুল-মিতু দম্পতির দুই সন্তানকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমানের আদালত রোববার বিকেল ৪টার দিকে এ আদেশ দেন।

আদালতের প্রসিকিউশন শাখার কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার জিআরও উপপরিদর্শক (এসআই) শাহীন ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে জানান, মিতু ও বাবুল আকতারের দুই সন্তান তার দাদা, চাচার জিম্মায় আছে। যেহেতু মিতু হত্যার সময় তার ছেলে সঙ্গে ছিল তাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা দুই সন্তানের সঙ্গেই কথা বলতে চান।

পাশাপাশি তাদেরকে মামলার স্বাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চান। এজন্য তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করেন।

আদালত আবেদন আমলে নিয়ে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুল আকতারকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেয়।

গত ১১ মে বাবুল আকতারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলার জন্য ১২ মে ওই মামলার ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পিবিআই।

ওইদিনই দুপুরে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন পাঁচলাইশ থানায় বাবুলসহ আট জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় বর্তমানে কারাগারে আছেন বাবুল আকতার।

আরও পড়ুন:
টিকটক ভিডিও বানিয়ে আটক ৯
টিকটক গ্রুপে নজরদারি
আবারও টিকটকে নতুন সিইও
পাকিস্তানে আবার নিষিদ্ধ টিকটক
ভারতে টিকটক বন্ধ বাণিজ্য নীতির লঙ্ঘন: চীন

শেয়ার করুন

খুলছে না ভারত সীমান্ত

খুলছে না ভারত সীমান্ত

মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, ভারত সীমান্ত খোলা নির্ভর করছে সে দেশের করোনা পরিস্থিতির ওপর। সেখানে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিগগিরই সীমান্ত খোলার সম্ভাবনা নেই। তবে আপাতত তা ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পর্যালোচনার মাধ্যমে তা প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।

করোনাভাইরাসের চলমান পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রাখার মেয়াদ আরও একদফা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশটির সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রাখা হবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে রোববার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, ভারত সীমান্ত খোলা নির্ভর করছে সে দেশের করোনা পরিস্থিতির ওপর। সেখানে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিগগিরই সীমান্ত খোলার সম্ভাবনা নেই। তবে আপাতত তা ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পর্যালোচনার মাধ্যমে তা প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।

ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চরমে পৌঁছালে গত ২৬ এপ্রিল থেকেই দেশটির সঙ্গে সীমান্ত করে সরকার। মাঝে কয়েক দফায় বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ তা ১৪ জুন করা হয়। এবার তা ৩০ জুন পর্যন্ত করা হলো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে আটকে পড়াদের দেশে ফেরার সুযোগও বন্ধ থাকছে। সেখানে করোনার উচ্চ সংক্রমণ, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট চিহ্নিত ও লকডাউন চলার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সীমান্ত যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল অব্যাহত আছে।

আরও পড়ুন:
টিকটক ভিডিও বানিয়ে আটক ৯
টিকটক গ্রুপে নজরদারি
আবারও টিকটকে নতুন সিইও
পাকিস্তানে আবার নিষিদ্ধ টিকটক
ভারতে টিকটক বন্ধ বাণিজ্য নীতির লঙ্ঘন: চীন

শেয়ার করুন

গার্ড অব অনারে নারী চায় না সংসদীয় কমিটি

গার্ড অব অনারে নারী চায় না সংসদীয় কমিটি

শাজাহান খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই প্রশ্ন আসছে ধর্মীয় অনুভূতি থেকে। কোনো কোনো জায়গা থেকে বলা হয়েছে, জানাজায় নারীরা অংশ নিতে পারেন না।’

কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানের অংশ হিসেবে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়ার সময় সরকারের নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি তুলেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ ব্যাপারে বিকল্প খুঁজতেও বলা হয়েছে ওই সুপারিশে।

একই সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার দেয়ার আয়োজন দিনের আলোয় সম্পন্ন করার পক্ষে মত দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৯তম বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি শাজাহান খান।

কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম), কাজী ফিরোজ রশীদ, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল এবং মোছলেম উদ্দিন আহমদ বৈঠকে অংশ নেন।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় প্রশাসন। গার্ড অব অনার দিতে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকেন জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। রাষ্ট্রীয় সম্মানের অংশ হিসেবে সরকারের প্রতিনিধি হয়ে মরদেহে ফুলের শ্রদ্ধাও জানান ওই সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা।

সেই প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নারীর উপস্থিতি নিয়ে এবার আপত্তি তোলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি ও বৈঠকের সভাপতি শাহজাহান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ধর্মীয় অনুভূতির কারণে এমন সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শাজাহান খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই প্রশ্ন আসছে ধর্মীয় অনুভূতি থেকে। কোনো কোনো জায়গা থেকে বলা হয়েছে, জানাজায় নারীরা অংশ নিতে পারেন না।’

‘গার্ড অফ অনার সাধারণত জানাজার সময় দেয়া হয়’ জানিয়ে স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেন, ‘এ জন্য এই ইয়েটা (সুপারিশ) আসছে। যদি গার্ড অব অনার জানাজার আগে দেয় বা পরে দেয়, তখন জানাজা থাকে না। সেইটা একটা জিনিস। আমরা দেখেছি, সব জায়গায় জানাজার সময় গার্ড অব অনার দেয়। ওই জায়গায় ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনা করে এটা সুপারিশ করা হয়েছে।’

ঠিক কী সুপারিশ করা হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মহিলার বিকল্প একজন পুরুষকে দিয়ে গার্ড অব অনার দেয়ার বিষয়টি এসেছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে এটা পরীক্ষা করে দেখতে বলেছি।’

রাজাকার প্রজন্মের সরকারি চাকরি

চিহ্নিত রাজাকারের পরবর্তী প্রজন্মকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে চলারও সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সভাপতি শাহজাহান খান বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যারা যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে, সেখানে একটা সরকারি সিদ্ধান্ত আছে। যুদ্ধাপরাধী যারা, তাদের সন্তানরা কেউ সরকারি চাকরি পায় না।’

ভিয়েতনাম সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ভিয়েতনামে তিন প্রজন্ম পর্যন্ত সরকারি চাকরি পাবে না। আর বেলারুশে যুদ্ধাপরাধীদের প্রজন্মরা কখনও সরকারি চাকরি পাবে না।’

রাজকার প্রজন্মের হাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলণ্ঠিত হতে পারে এমন শঙ্কার কথা জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, ‘আমাদের দেশেও কিন্তু আমরা মনে করি, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সন্তানেরা সরকারি চাকরি পেলে, যখন তারা বড় কর্মকর্তা হয়, তখন কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বা তার চেতনা সম্পর্কিত বিষয়ে সেটা ইগনোরড হয়। এটা করবেই তারা।

‘এজন্য বলছি যে যুদ্ধাপরাধী, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, রাজাকার, আলবদর চিহ্নিত যারা, তাদের সন্তানদের ওপর এই সিদ্ধান্তটা হতে পারে।’

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা সংগ্রহেরও সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

বৈঠকে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভায় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনাগুলো অবহিত করা, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেয়া কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা এবং চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ‘টাওয়ার ৭১’ ও ‘জয়বাংলা বাণিজ্যিক ভবনের’ কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধোদের পুনর্বাসন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে গঠিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ফান্ডের তহবিল গঠনে কোন কোন উৎসকে প্রতিষ্ঠার সময়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল, মন্ত্রণালয়কে তার বিবরণী আগামী বৈঠকে সবিস্তারে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্ধারিত হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে করাসহ ওষুধ খরচ বাবদ নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা থেকে উন্নীত করে ৭৫ হাজার টাকায় নির্ধারণ এবং বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালগুলোতে শতভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনামূল্যে করা বিষয়ক সংশোধিত নীতিমালাটি আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশও করে কমিটি।

আরও পড়ুন:
টিকটক ভিডিও বানিয়ে আটক ৯
টিকটক গ্রুপে নজরদারি
আবারও টিকটকে নতুন সিইও
পাকিস্তানে আবার নিষিদ্ধ টিকটক
ভারতে টিকটক বন্ধ বাণিজ্য নীতির লঙ্ঘন: চীন

শেয়ার করুন

সামি, তাসনিম খলিলসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

সামি, তাসনিম খলিলসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

তাসনিম খলিল (বাঁয়ে) ও সায়ের জুলকারনাইন সামি। ফাইল ছবি

চার্জশিটে আরও যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, অনলাইন পোর্টাল রাষ্ট্রচিন্তার মো. দিদারুল ইসলাম, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, ব্লগার আশিক মোহাম্মাদ ইমরান ও মো. ওয়াহিদুন্নবী। তাদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ, করোনাভাইরাস নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আল-জাজিরা টেলিভিশনে সরকারপ্রধান এবং সেনাপ্রধানকে নিয়ে প্রচারিত প্রতিবেদনের প্রধান চরিত্র সামিউল ইসলাম খান ওরফে শায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি ও সুইডিশ-বাংলাদেশের সাংবাদিক নেত্র নিউজের সম্পাদক তাসনিম খলিলসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।

এতে তাদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ, করোনাভাইরাস নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এটি এই মামলায় দাখিল করা দ্বিতীয় অভিযোগপত্র। গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম অভিযোগপত্র পাওয়ার পর আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিলে পুলিশ তদন্ত করে নতুন অভিযোগপত্র দেয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) উপপরিদর্শক (এসআই) আফছর আহমেদ গত ১০ মে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এই চার্জশিট আদালতে জমা দেন।

আদালতের রমনা থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নিজাম উদ্দিন ১৩ জুন বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

চার্জশিটের অপর আসামিরা হলেন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, অনলাইন পোর্টাল রাষ্ট্রচিন্তার মো. দিদারুল ইসলাম, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, ব্লগার আশিক মোহাম্মাদ ইমরান ও মো. ওয়াহিদুন্নবী।

অন্যদিকে কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদ মারা যাওয়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিক শাহেদ আলম, ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় ও ফেসবুক আইডিতে ফিলিপ শুমাখারের নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এজাহারের নথিতে বলা হয়েছে, কার্টুনিস্ট কিশোর তার ‘আমি কিশোর’ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনামূলক কার্টুন-পোস্টার পোস্ট করতেন। মুশতাক তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কিশোরের সেসব পোস্টের কয়েকটি শেয়ার করেছেন। আসামিরা ‘আই এম বাংলাদেশি’ নামে ফেসবুক পেজে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ন করতে বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশে অপপ্রচার বা গুজবসহ বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিয়েছেন, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়। এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক মেসেঞ্জারে তাসনিম খলিল, শায়ের জুলকারনাইন, শাহেদ আলম, আসিফ মহিউদ্দিনের সঙ্গে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক চ্যাটিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

২০২০ সালের ৫ মে র‌্যাব-৩-এর ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবু বকর সিদ্দিক রমনা থানায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, মুশতাক আহমেদ, দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া, মিনহাজ মান্নানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

মামলায় তাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধ, মহামারি করোনাভাইরাস সম্পর্কে গুজব, রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়।

মামলার পর গ্রেপ্তার হয়ে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে মিনহাজ মান্নান ও দিদারুল আলম ভূঁইয়া জামিনে মুক্তি পান। কার্টুনিস্ট কিশোর ও লেখক মুশতাক কারাগারে ছিলেন।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মুশতাক কাশিমপুর কারাগারে মারা যান।

এদিকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি মামলার পূর্বের তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মহসীন সরদার আদালতে একটি চার্জশিট দাখিল করেন। সেখানে কার্টুনিস্ট কিশোর ও রাষ্ট্রচিন্তার দিদারুল এবং লেখক মুশতাককে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে শায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি ও মিনহাজ মান্নান, আশিক মোহাম্মাদ ইমরান, তাসনীম খলিল, মো. ওয়াহিদুন্নবীসহ ৮ জনের অব্যাহতি চাওয়া হয়।

চার্জশিটে আল-জাজিরা টেলিভিশনে সেনাপ্রধানকে নিয়ে প্রচারিত প্রতিবেদনের প্রধান চরিত্র হিসেবে সামিউল ইসলাম খান ওরফে শায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামির অব্যাহতি পাওয়া নিয়ে সংবাদপত্রে আলোচনা-সমালোচনা হওয়ায় মামলাটি পরে অধিকতর তদন্তে পাঠানো হয়। অধিকতর তদন্ত শেষে এবার সাতজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হলো।

আসামিদের মধ্যে শায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি অবসর প্রাপ্ত লে. কর্নেল আব্দুল বাতেন খানের ছেলে।

আরও পড়ুন:
টিকটক ভিডিও বানিয়ে আটক ৯
টিকটক গ্রুপে নজরদারি
আবারও টিকটকে নতুন সিইও
পাকিস্তানে আবার নিষিদ্ধ টিকটক
ভারতে টিকটক বন্ধ বাণিজ্য নীতির লঙ্ঘন: চীন

শেয়ার করুন

ভারতীয় গরু ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকাড়ি, হাট নির্দিষ্ট স্থানে

ভারতীয় গরু ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকাড়ি, হাট নির্দিষ্ট স্থানে

সীমান্ত দিয়ে বৈধ বা অবৈধ কোনো পথেই যেন ভারত থেকে গরু না আসে সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আমাদের দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যেন ভারত থেকে বৈধ-অবৈধভাবে পশু না আসে সে জন্য নিজ নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের শক্ত অবস্থানে থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত বন্ধ আছে। সামনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে যাতে ভারতীয় গরু না আসতে পারে সে জন্য কড়াকড়ি আরোপের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত ‘ঈদুল আজহা-২০২১ উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাইকরণ এবং কোরবানির বর্জ্য অপসারণ’ নিয়ে প্রস্তুতি-পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বৈধ-অবৈধ পথে ভারত থেকে যাতে গরু আসতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।’

সেই সঙ্গে ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসবে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া দেশের কোথাও পশুর হাট বসতে দেয়া হবে না।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ভারতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় দেশটি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ায় আমাদের দেশেও কিছু কিছু এলাকায়, বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় এ ভ্যারিয়েন্ট দেখা দিয়েছে। তাই এ বছর সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করেই পশুর হাট বসানো হবে।’

ভারতীয় গরু ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকাড়ি, হাট নির্দিষ্ট স্থানে
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ সুবিধাজনক স্থানে পশুরহাট নির্ধারণ করবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষ পশুর হাট বসানোর জন্য এবং পশু জবাইয়ের যে স্থান নির্ধারণ করবেন শুধু সেখানেই হাট বসবে। এর বাইরে কোরবানির পশুর হাট ও পশু জবাই করতে দেয়া হবে না।’

দেশের ভারতীয় সীমান্ত এলাকাগুলো করোনাভাইরাসের সংক্রমণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে ভারত থেকে দেশে বৈধ-অবৈধ পথে অনেক পশু আসে এবং মানুষ যাতায়াত করে থাকে।

‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আমাদের দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যেন ভারত থেকে বৈধ-অবৈধভাবে পশু না আসে সে জন্য নিজ নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের শক্ত অবস্থানে থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সড়ক-মহাসড়ক এবং রেল লাইনের ওপর কুরবানির পশুর হাট বসানো যাবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ এসব জায়গায় হাট বসানোর ইজারা দেয় না। কিন্তু অবৈধভাবে এসব জায়গায় পশুর হাট বসানো হয়। রাস্তার ওপরে পশুর হাট বসানো অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

‘রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরাসহ সকলের সমন্বিত উদ্যোগ এটি বন্ধ করতে হবে।’

পশু কোরবানির পর দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণে ব্যবস্থা নিতে দেশের সব স্তরের জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় পশুর হাট বসানোর জন্য গত বছর গণমাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ বছরও এটি করা হবে।’

সিটি করপোরেশন ছাড়াও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে সচেতনামূলক প্রচার চালাবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনদুর্ভোগ কমাতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সভায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেরসহ সকল সিটি করপোরেশনের মেয়র, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব, স্বাস্থ্য, তথ্য ও সম্প্রচারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সচিবসহ বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
টিকটক ভিডিও বানিয়ে আটক ৯
টিকটক গ্রুপে নজরদারি
আবারও টিকটকে নতুন সিইও
পাকিস্তানে আবার নিষিদ্ধ টিকটক
ভারতে টিকটক বন্ধ বাণিজ্য নীতির লঙ্ঘন: চীন

শেয়ার করুন

সিলেট-৩: ভোটে থাকছে বিএনপিও

সিলেট-৩: ভোটে থাকছে বিএনপিও

সিলেট-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা বলা হলেও প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি। আর বিএনপির পক্ষ থেকে এই নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

তবে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা বলা হলেও প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শিল্পপতি শফি আহমদ চৌধুরী চিকিৎসার জন্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সহকারী রাজু আহমদ রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্যার এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। প্রার্থী হওয়ার জন্য এরই মধ্যে দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। সোমবার বিকেলে তিনি সিলেটে পৌঁছবেন।’

শফি চৌধুরী ২০০১ সালে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের কাছে পরাজিত হন তিনি।

গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৮ জুলাই আসনটিতে উপনির্বাচন হবে।

হাবিবুর রহমান হাবিবকে শনিবার এই আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। এর আগে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নিজেদের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিককে প্রার্থী মনোনীত করে।

আরও পড়ুন: দুই ডজনকে ডিঙালেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা



সাবেক সংসদ সদস্য শফি চৌধুরীর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় এই আসনে জমজমাট লড়াইয়ের আশা করছেন ভোটাররা।

শফি চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী রাজু আহমদ বলেন, তিনি মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। তার পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র তুলে তা পূরণ করে জমার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শফি চৌধুরীর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণার ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, ‘এমনটি আমিও শুনেছি। তবে নিশ্চিত করে কিছু জানি না। শফি চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’

কামরুল হুদা বলেন, ‘এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না, এটা আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। কেউ এই সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া দলীয় নেতা-কর্মীদেরও বলে দেয়া হবে তার সঙ্গে না থাকার জন্য।’

আরও পড়ুন:
টিকটক ভিডিও বানিয়ে আটক ৯
টিকটক গ্রুপে নজরদারি
আবারও টিকটকে নতুন সিইও
পাকিস্তানে আবার নিষিদ্ধ টিকটক
ভারতে টিকটক বন্ধ বাণিজ্য নীতির লঙ্ঘন: চীন

শেয়ার করুন

বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানকে পরানো হলো র‍্যাঙ্ক ব্যাজ

বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানকে পরানো হলো র‍্যাঙ্ক ব্যাজ

বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানকে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়। ছবি: পিআইডি

নবনিযুক্ত বিমানবাহিনী প্রধানকে এয়ার মার্শালের র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন সেনাবাহিনীর কোয়াটার মাস্টার জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং নৌবাহিনীর সহকারী প্রধান (অপারেশন) রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আবু আশরাফ।

বিমানবাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধান এয়ার মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানকে র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়েছে।

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে রোববার সকালে শেখ আব্দুল হান্নানকে এয়ার মার্শালের র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়।

নবনিযুক্ত বিমানবাহিনী প্রধানকে এয়ার মার্শালের র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরান সেনাবাহিনীর কোয়াটার মাস্টার জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং নৌবাহিনীর সহকারী প্রধান (অপারেশন) রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আবু আশরাফ।

র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ইমরুল কায়েস জানান, র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনিযুক্ত বিমানবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান ও তার সফলতা কামনা করেন। বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানও ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী।

র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরার মধ্য দিয়ে শেখ আব্দুল হান্নান বিমানবাহিনীর বিদায়ী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

আরও পড়ুন:
টিকটক ভিডিও বানিয়ে আটক ৯
টিকটক গ্রুপে নজরদারি
আবারও টিকটকে নতুন সিইও
পাকিস্তানে আবার নিষিদ্ধ টিকটক
ভারতে টিকটক বন্ধ বাণিজ্য নীতির লঙ্ঘন: চীন

শেয়ার করুন