জাতিসংঘের প্রশংসা পেল ভাসানচর প্রকল্প

জাতিসংঘের প্রশংসা পেল ভাসানচর প্রকল্প

জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বলেন, আমরা ভাসানচরের পুরো প্রকল্প ঘুরে দেখেছি। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথাও বলেছি। তারা তাদের কিছু দাবির কথা আমাদের জানিয়েছে। আমরা তাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকব এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কেও পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

ভাসানচরের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরকে বাংলাদেশ সরকারের ‘এক্সিলেন্ট প্রজেক্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ। বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বুধবার বৈঠক করেন। এরপর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা বলেন, ভাসানচরে নেয়া প্রকল্প কক্সবাজারের ক্যাম্পের পরিবেশ ও ব্যবস্থা থেকে অনেক ভালো। আমরা এখানে রোহিঙ্গাদের সাময়িক স্থানান্তরের বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে সোমবার সকালে নোয়াখালীর ভাসানচরে যান জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের দুই সহকারী হাইকমিশনার। তারা হলেন ইউএনএইচসিআরের কার্যক্রম পরিচালনাবিষয়ক সহকারী হাইকমিশনার রাউফ মাজাও এবং সুরক্ষাবিষয়ক সহকারী হাইকমিশনার গিলিয়ান ট্রিগস।

রোহিঙ্গাদের অবস্থান পরিদর্শনকালে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বিক্ষোভের মুখোমুখি হন। এ বিষয়ে তারা বলেন, রোহিঙ্গারা চার বছর হলো নিজভূম ত্যাগ করে শরণার্থী জীবন কাটাচ্ছে। তাদের কর্মসংস্থান নেই, বাচ্চাদের স্কুলিং বা শিক্ষার সুযোগ নেই, মূল ভূখণ্ডে যাতায়াতের সুযোগ নেই। সেই হতাশার জায়গা থেকে কেউ কেউ এটা করেছে। এটা আমরা আন্তরিকভাবেই নিয়েছি।

জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বলেন, আমারা ভাসানচরের পুরো প্রকল্প ঘুরে দেখেছি। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথাও বলেছি। তারা তাদের কিছু দাবির কথা আমাদের জানিয়েছে। আমরা তাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকব এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কেও পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

তারা বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। তারা সে দেশে সর্বোচ্চ নিপীড়িন, নির্যাতনের শিকার। তাদের নিরাপত্তা দিয়ে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে নেয়া মিয়ানমার সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়া হতাশাজনক। সেখানে ঘটে যাওয়া সেনা অভ্যুত্থান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। এসব ঘটনা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকেও জটিলতার মধ্যে ফেলেছে।

বাংলাদেশে চার দিনের সফরে আসা দুই কর্মকর্তা সোমবার সকালে ঢাকা থেকে রোহিঙ্গাদের নতুন আশ্রয়স্থলের উদ্দেশে রওনা হন। ওই দিন বিকেলে তারা ভাসানচর থেকে হেলিকপ্টারে কক্সবাজার যান এবং মঙ্গলবার সারা দিন কক্সবাজারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়ার পর জাতিসংঘের কোনো সংস্থার সদর দপ্তরের প্রতিনিধিদের এটাই প্রথম সফর।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, সফরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, দেশি–বিদেশি সাহায্য সংস্থার প্রতিনিধিসহ রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় যুক্ত অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেন দুই কর্মকর্তা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে জাতিসংঘের যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শরণার্থী সংস্থার দুই সহকারী হাইকমিশনারের এই বাংলাদেশ সফর।

ভাসানচরের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্তমানে ১৮ হাজার ৪১৬ জন রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।

আরও পড়ুন:
মাসে পাঁচ হাজার টাকা ভাতা দাবি রোহিঙ্গাদের
ভাসানচর যাচ্ছেন জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তা
ভাসানচরে রোহিঙ্গা: চার বিষয়ে নির্দেশনা জাতিসংঘের
ভাসানচরে মুগ্ধ বিদেশি দূতরা, সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ
ভাসানচরে সন্তুষ্ট ওআইসির প্রতিনিধি দল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি আ. লীগের দুজন

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি আ. লীগের দুজন

উপ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হলেন আওয়ামী লীগের আগা খান মিন্টু (বাঁয়ে) ও আবুল হাশেম খান। ফাইল ছবি

ঢাকা-১৪ আসনে আগা খানকে নির্বাচিত ঘোষণা করে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। আর কুমিল্লা-৫ আবুল হাশেমের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামরুল হাসান।

কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনা ভোটে ঢাকা-১৪ আসনে আগা খান মিন্টু ও কুমিল্লা -৫ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম খানকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। তারা দুজনই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী।

আগা খানকে নির্বাচিত ঘোষণা করে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। আর আবুল হাশেমের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামরুল হাসান।

ঢাকা-১৪ আসনে জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মোস্তাকুর রহমান, বিএনএফের কে ওয়াই এম কামরুল ইসলাম ও জাসদের আবু হানিফ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছিলেন আগেই। ফলে আগা খানকে এমপি হতে ভোট লাগেনি।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, গত ২০ জুন জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেন। ২৩ জুন ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। সেদিন জসিম উদ্দিনের আবেদন গ্রহণ করে এই আসনে একক প্রার্থী হিসেবে নৌকা রাখা হয়।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার প্রতীক বরাদ্দের দিন নৌকার প্রার্থী আবুল হাশেম খানকে কুমিল্লা-৫ আসনের একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান আরও বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে চিঠি দিয়ে তার জয়ের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে দিয়েছি।’

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনে ভোট হওয়ার কথা ছিল আগামী ২৮ জুলাই।

আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী হওয়ার পর আবুল হাশেম খান বলেন, ‘আমার বিজয় আমি বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়াবাসীকে উৎসর্গ করলাম। আমি দায়িত্বগ্রহণের পর মাদক নির্মূল হবে আমার প্রধান কাজ।’

২৮ তারিখের উপনির্বাচনে ভোট হবে সিলেট-৩ আসনে। সেখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমানের সঙ্গে লড়বেন জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) আতিকুর রহমান আতিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও সাবেক সাংসদ শফি আহমদ চৌধুরী।

আরও পড়ুন:
মাসে পাঁচ হাজার টাকা ভাতা দাবি রোহিঙ্গাদের
ভাসানচর যাচ্ছেন জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তা
ভাসানচরে রোহিঙ্গা: চার বিষয়ে নির্দেশনা জাতিসংঘের
ভাসানচরে মুগ্ধ বিদেশি দূতরা, সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ
ভাসানচরে সন্তুষ্ট ওআইসির প্রতিনিধি দল

শেয়ার করুন

ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলে সরকারি চাকরি নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলে সরকারি চাকরি নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়ে দিয়েছেন, সরকারি চাকরি পেতে হলে প্রত্যেককে ডোপ টেস্টের আওতায় আসতে হবে। ডোপ টেস্টে যদি পজিটিভ হয়, তবে সে চাকরি সরকারি চাকরি পাবেন না।’

ডোপ টেস্টে কেউ পজিটিভ হলে সরকারি চাকরিতে কাউকে সুযোগ দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে মাদকদ্রব্য নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) আয়োজিত মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী অন্তর্জাতিক দিবসে এক আলোচনা সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়ে দিয়েছেন, সরকারি চাকরি পেতে হলে প্রত্যেককে ডোপ টেস্টের আওতায় আসতে হবে। ডোপ টেস্টে যদি পজিটিভ হয়, তবে সে চাকরি সরকারি চাকরি পাবেন না।

‘যারা ইতোমধ্যে যোগদান করেছেন আমরা তাদেরও ডোপ টেস্টের আওতায় নিয়ে আসছি। বিশেষ করে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীতে যারা আছেন তাদেরও ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। ডোপ টেস্টে যাদেরকে আমরা পজিটিভ পাচ্ছি, তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিচ্ছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে মাদক একটি সামগ্রিক নেশায় পরিণত হয়েছে। ২০৩০ ও ২০৪১ সালের বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন তা বাস্তবায়ন হবে না যদি মাদকের বিস্তার থামানো না যায়। এই ভয়ঙ্কর নেশা থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে।

‘আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজিয়েছি। আগে যেখানে তিন-চারটি জেলা নিয়ে ছোট্ট একটি নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অফিস থাকতো। এখন সেখানে প্রত্যেকটি জেলায় জেলায় একটি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিস রয়েছে। আমরা লোকবলও বাড়িয়েছি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনও আমরা ঢেলে সাজিয়েছি।’

আলোচনায় মূল প্রবন্ধে মানসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবেশের ফলে তরুণ যুব সমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশে জনসংখ্যার ৪৯ ভাগ মানুষ বয়সে তরুণ। মাদকের ব্যবসায়ীরা এই কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীকে মাদকের ভোক্তা হিসেবে পেতে চায়। গবেষকরা আসক্তদের শতকরা ৮০ ভাগ কিশোর তরুণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে মাদকাসক্তদের মধ্যে শতকরা ৯৮ ভাগই ধূমপায়ী এবং তার মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগই বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও খুনসহ রাজধানীতে সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধের সঙ্গেই মাদকাসক্তির সম্পর্ক রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু বলেন, মাদকাসক্তি চিকিৎসায় ব্যক্তির নিজ ও তার পরিবারের সার্বিক সহযোগিতাসহ সেবা প্রদানকারী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভালো করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তির চিকিৎসার সকল পর্যায়ে পরিবারের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

আলোচনায় আরও উপস্থিতি ছিলেন মানসের সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান তালুকদার, কোষাধ্যক্ষ হোসনে আরা রীনা সহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
মাসে পাঁচ হাজার টাকা ভাতা দাবি রোহিঙ্গাদের
ভাসানচর যাচ্ছেন জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তা
ভাসানচরে রোহিঙ্গা: চার বিষয়ে নির্দেশনা জাতিসংঘের
ভাসানচরে মুগ্ধ বিদেশি দূতরা, সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ
ভাসানচরে সন্তুষ্ট ওআইসির প্রতিনিধি দল

শেয়ার করুন

ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার ২৬৪ বাংলাদেশি

ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার ২৬৪ বাংলাদেশি

তিউনিসিয়ার বেন গুয়েরদান বন্দরে উদ্ধারকৃত বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একাংশ। ছবি: এএফপি

উদ্ধারের পর বাংলাদেশিসহ অন্যদের লিবিয়া সীমান্তের কাছে তিউনিসিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বেন গুয়েরদান বন্দরে নিয়ে যায় নৌবাহিনী। এরপর তাদের আইওএম ও রেড ক্রিসেন্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২৬৪ বাংলাদেশিসহ ২৬৭ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে। বাকি তিনজন মিসরীয়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার সময় বৃহস্পতিবার তাদের উদ্ধার করে তিউনিসীয় কোস্টগার্ড।

কোস্টগার্ডের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সাগরে ভাসছিলেন বিপুলসংখ্যক মানুষ।

তাদের উদ্ধারের পর লিবিয়া সীমান্তের কাছে তিউনিসিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বেন গুয়েরদান বন্দরে নিয়ে যায় দেশটির নৌবাহিনী। এরপর তাদের আইওএম ও আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেড ক্রিসেন্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আইওএম জানিয়েছে, তিউনিসিয়ার জেরবা দ্বীপের একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে বিপুলসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে।

আইওএম জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইউরোপে যেতে গিয়ে তিউনিসিয়ায় পৌঁছেছেন এক হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী। এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত লিবিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ১১ হাজার মানুষ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৭০ শতাংশ বেশি।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, লিবিয়া আর তিউনিসিয়ায় অভিবাসীদের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। ফলে সম্প্রতি উত্তর আফ্রিকা উপকূল থেকে বিপজ্জনকভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের দিকে যাত্রা বাড়ছে এসব মানুষের।

রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা মোঙ্গি স্লিম জানান, তিউনিসিয়ায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কেন্দ্রগুলোতে আশ্রিত মানুষের সংখ্যা ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৭৬০ অভিবাসনপ্রত্যাশী।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও গত বছর একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪০০।

আরও পড়ুন:
মাসে পাঁচ হাজার টাকা ভাতা দাবি রোহিঙ্গাদের
ভাসানচর যাচ্ছেন জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তা
ভাসানচরে রোহিঙ্গা: চার বিষয়ে নির্দেশনা জাতিসংঘের
ভাসানচরে মুগ্ধ বিদেশি দূতরা, সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ
ভাসানচরে সন্তুষ্ট ওআইসির প্রতিনিধি দল

শেয়ার করুন

সচিব হলেন তিনজন, ওএসডি দুই

সচিব হলেন তিনজন, ওএসডি দুই

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন পদোন্নতি পেয়ে সচিব হয়েছেন। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্বে থাকা আবুল মনসুরকে পদোন্নতি দিয়ে পাঠানো হয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে। আর সচিব পদমর্যাদায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. এহছানে এলাহী।

তিন অতিরিক্ত সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব করেছে সরকার। দুজন সচিবকে করা হয়েছে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি)।

রদবদল যেমন হয়েছে তেমনি অবসরে পাঠানো হয়েছে একজন সচিবকে।

বৃহস্পতিবার পৃথক প্রজ্ঞাপনে প্রশাসনিক এই পদোন্নতি, ওএসডি ও রদবদলের কথা জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন পদোন্নতি পেয়ে সচিব হয়েছেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। এই পদটি সচিব পদমর্যাদার।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্বে থাকা আবুল মনসুরকে পদোন্নতি দিয়ে পাঠানো হয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন এই কর্মকর্তা।

আর সচিব পদমর্যাদায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. এহছানে এলাহী। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদটি ছিল গ্রেড-১ মর্যাদার।

সচিব পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করেছে সরকার। তারা হলেন, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবুল কাসেম এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর বেগম বদরুন নেছা।

সচিব পদমর্যাদা এই দুই কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আনা হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসানকে বদলি করা হয়েছে। এখন থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। আর তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা মো. মোস্তফা কামাল।

জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বদরুল আরেফীন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ মো. ইমদাদুল হককে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এটি গ্রেড-১ পদ।

আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনরত আনোয়ার হোসেনকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তার অনুকূলে ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ল্যাম্পগ্রান্টসহ এ বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরের অবসর উত্তর ছুটি মঞ্জুর করা হল।

আরও পড়ুন:
মাসে পাঁচ হাজার টাকা ভাতা দাবি রোহিঙ্গাদের
ভাসানচর যাচ্ছেন জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তা
ভাসানচরে রোহিঙ্গা: চার বিষয়ে নির্দেশনা জাতিসংঘের
ভাসানচরে মুগ্ধ বিদেশি দূতরা, সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ
ভাসানচরে সন্তুষ্ট ওআইসির প্রতিনিধি দল

শেয়ার করুন

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

ঢাকাগামী সব ধরনের যানবাহন আমিনবাজারের আগেই আটকে দেয়ায় যাত্রীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

সাভার পরিবহন নামের বাসের যাত্রী সোলায়মান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হেমায়েতপুর থেকে সকাল ১০টায় রওনা দিয়ে বলিয়ারপুরে প্রায় দুই ঘণ্টা বসেই ছিলাম। তারপর পায়ে হেঁটে গাবতলী পৌঁছাই। রাস্তায় মানুষ যেভাবে একে আরেকজনের গা ঘেঁষে হেঁটে যাচ্ছে, তাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে গত মঙ্গলবার থেকে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করা হলেও রাজধানীর অন্যতম প্রবেশমুখ গাবতলী এলাকায় তীব্র যানজট কমছে না। গাবতলী থেকে সাভারের বলিয়ারপুর পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশের রাস্তায়ই শত শত যানবাহন আটকে থাকছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশের রাস্তায়ও ছিল এমন চিত্র। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা বাধ্য হয়ে হেঁটে পথ পাড়ি দিয়েছেন।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকাকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে গত মঙ্গলবার থেকে চারপাশের জেলা নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জে শুরু হয় কঠোর লকডাউন। একই দিন থেকে মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ এবং রাজবাড়ীতেও কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়, যা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

বিভিন্ন বাসের স্টাফরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে লকডাউন ঘোষণার পর ঢাকাগামী সব ধরনের যানবাহন আমিনবাজারের আগেই আটকে দেয়া হচ্ছে। এরপর বাসগুলো যাত্রী নামিয়ে ইউটার্ন নেয়ায় সেখানে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

একই কথা বলছেন ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা। তারা জানান, ঢাকার বাইরের কোনো বাস রাজধানীতে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এর ফলে আমিনবাজার থেকে বলিয়ারপুর পর্যন্ত যানজট তৈরি হচ্ছে।

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

সাভার থেকে গাবতলীগামী যানবাহনগুলো যাত্রী নামিয়ে বাম পাশ থেকে ইউটার্ন নিয়ে ডান পাশের রাস্তায় ঘুরাতে গিয়ে দুই পাশেই যানজট তৈরি করছে।

গাবতলীতে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকেই যানজট আছে। সেটা ঢাকার বাইরে। বাসগুলো ইউটার্ন করায় এই জট তৈরি হয়েছে।’

বাসযাত্রীরা বলছেন, বাসে স্বাস্থ্যবিধির দিকে কোনো নজর নেই। রাস্তায় গাড়ি আটকে পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তোলা হচ্ছে। অনেক যাত্রীই জটলা বেঁধে হেঁটে চলছেন। এক রিকশায় চারজনও চড়ছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশায়ও গাদাগাদি করে বাইরের লোকজন রাজধানীতে ঢুকছে। এতে ভোগান্তি বেড়েছে শুধু মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের।

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

এমন পরিস্থিতির জন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সাভার পরিবহন নামের বাসের যাত্রী মো. সোলায়মান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হেমায়েতপুর থেকে সকাল ১০টায় রওনা দিয়ে বলিয়ারপুরে প্রায় দুই ঘণ্টা বসেই ছিলাম। তারপর পায়ে হেঁটে গাবতলী পৌঁছাই। রাস্তায় মানুষ যেভাবে একে আরেকজনের গা ঘেঁষে হেঁটে যাচ্ছে, তাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

সুমন নামে আরেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাসের ডাবল সিটে ডাবল যাত্রী টেনে ডাবল ভাড়া নিচ্ছে। লকডাউন দিয়ে কী লাভ হচ্ছে?’

রিকশাচালক রানা জানান, এই লকডাউন শুধুই ভোগান্তির। এতে কোনো লাভ হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
মাসে পাঁচ হাজার টাকা ভাতা দাবি রোহিঙ্গাদের
ভাসানচর যাচ্ছেন জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তা
ভাসানচরে রোহিঙ্গা: চার বিষয়ে নির্দেশনা জাতিসংঘের
ভাসানচরে মুগ্ধ বিদেশি দূতরা, সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ
ভাসানচরে সন্তুষ্ট ওআইসির প্রতিনিধি দল

শেয়ার করুন

সেনাবাহিনী ও জনগণের দূরত্ব থাকবে না: সেনাপ্রধান

সেনাবাহিনী ও জনগণের দূরত্ব থাকবে না: সেনাপ্রধান

সেনাকুঞ্জে একটি গাছের চারা রোপণ করছেন নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

বিকেলে সদ্য বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছ থেকে সেনাপ্রধান হিসেবে বাহিনীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদতবরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে কোনো দূরত্ব থাকবে না বলে জানিয়েছেন নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

এদিন বিকেলে সদ্য বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছ থেকে সেনাপ্রধান হিসেবে বাহিনীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শফিউদ্দিন আহমেদ।

দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদতবরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সেনাকুঞ্জে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে ‘গার্ড অব অনার’ সম্মাননা দেয়। সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

এর আগে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধানকে ‘জেনারেল’ র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

জেনারেল শফিউদ্দিন বাংলাদেশের সপ্তদশ সেনাপ্রধান। তিনি আগামী তিন বছর দায়িত্ব পালন করবেন।

আরও পড়ুন:
মাসে পাঁচ হাজার টাকা ভাতা দাবি রোহিঙ্গাদের
ভাসানচর যাচ্ছেন জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তা
ভাসানচরে রোহিঙ্গা: চার বিষয়ে নির্দেশনা জাতিসংঘের
ভাসানচরে মুগ্ধ বিদেশি দূতরা, সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ
ভাসানচরে সন্তুষ্ট ওআইসির প্রতিনিধি দল

শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নতুন সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নতুন সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সেনাপ্রধানের পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামীতে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক মানের বাহিনীতে পরিণত হবে এবং জাতির প্রয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেয়ার পর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। বিকেলে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বঙ্গভবন প্রেস উইং জানিয়েছে, সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি নবনিযুক্ত সেনাপ্রধানকে অভিনন্দন জানান।

এ সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দুর্যোগসহ সংকটময় মুহূর্তে জাতির প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সবসময় এগিয়ে এসেছে।’

জনগণের প্রয়োজনে সব সময় পাশে দাঁড়াতে সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সেনাপ্রধানের পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামীতে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক মানের বাহিনীতে পরিণত হবে এবং জাতির প্রয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

দায়িত্ব পালনে নতুন সেনাপ্রধানের সফলতা কামনা কামনা করেন রাষ্ট্রপ্রধান।

এ সময় নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং সচিব (সংযুক্ত) ওয়াহিদুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধানকে ‘জেনারেল’ র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

বিকেলেই সদ্যবিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছ থেকে দায়িত্বভার বুঝে নেন তিনি। আগামী তিন বছর সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

১৯৬৩ সালের ১ ডিসেম্বর খুলনা জেলায় জন্ম নেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন আহমেদ স্বাধীনতার আগে একনাগাড়ে দুই যুগ জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ ১৯৮৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে নবম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সঙ্গে কমিশন লাভ করেন। কমিশনের পর পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন এলাকায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে সামরিক কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।

ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে স্নাতক শেষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ইন ডিফেন্স স্টাডিজ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজে প্রথম বিভাগসহ এমফিল সম্পন্ন করেন। বর্তমানে বিইউপিতে পিএইচডি করছেন তিনি।

জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ এমআইএসটি গোল্ড মেডেল অর্জনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রিও অর্জন করেন।

এনডিইউ, ওয়াশিংটন থেকেও গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন তিনি। তার বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একমাত্র লজিস্টিকস ফরমেশন এবং ১৯ পদাতিক ডিভিশন কমান্ড করেন তিনি।

এ ছাড়াও একটি পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে কাউন্টার ইনসারজেন্সি অপারেশন এলাকায় একটি পদাতিক ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (বিআইআইএস) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ সেনাবাহিনীর একজন পাইওনিয়ার ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ইউনাইটেড নেশনস মাল্টিডাইমেনশনাল ইন্টিগ্রেটেড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন ইন দ্য সেন্ট্রাল আফ্রিকায় (মিনুস্কা) বহুজাতিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেন।

সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে সেনাসদরে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ও দুই কন্যা সন্তানের বাবা জেনারেল শফিউদ্দিন।

আরও পড়ুন:
মাসে পাঁচ হাজার টাকা ভাতা দাবি রোহিঙ্গাদের
ভাসানচর যাচ্ছেন জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তা
ভাসানচরে রোহিঙ্গা: চার বিষয়ে নির্দেশনা জাতিসংঘের
ভাসানচরে মুগ্ধ বিদেশি দূতরা, সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ
ভাসানচরে সন্তুষ্ট ওআইসির প্রতিনিধি দল

শেয়ার করুন