কোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিক হত্যা: জামিন হয়নি বাহার-সিরাজুলের

বসুরহাটে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন সাংবাদিক মুজাক্কির। ফাইল ছবি

কোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিক হত্যা: জামিন হয়নি বাহার-সিরাজুলের

সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা মামলায় কাদের মির্জার অনুসারী ইকবাল বাহারকে ১৩ মার্চ ও সিরাজুল হককে ১৬ মার্চ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয় বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার ঘটনায় করা মামলায় মো. ইকবাল বাহার ও সিরাজুল হক ওরফে আবুল হাশেমকে জামিন দেয়নি হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের জামিনের আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয়।

আসামিদের জামিন আবেদনের পক্ষে ‍শুনানি করেন শাহীনুর বেগম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির উল্লাহ জানান, আদালত তাদের আবেদন শুনে নট প্রেস রিজেক্ট (উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ) করেছেন।

এর আগে গত ১৮ মে হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ ইকবাল বাহারের জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছিল।

চলতি বছরের গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা এবং তার বিরোধীপক্ষ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

সেখানে স্থানীয় সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কিরসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন আরও অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি। মুজাক্কিরসহ গুলিবিদ্ধ কয়েকজনকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অবস্থার অবনতি হলে মুজাক্কিরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে মৃত্যু হয় তার।

মুজাক্কিরের মৃত্যুর পর তার বাবা মাওলানা নুরুল হুদা মো. নোয়াব আলী মাস্টার ২৩ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে কারো নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। মামলাটি এখন পিবিআই তদন্ত করছে।

এ মামলায় কাদের মির্জার অনুসারী ইকবাল বাহারকে ১৩ মার্চ ও সিরাজুল হককে ১৬ মার্চ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
মুজাক্কির হত্যা: গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ১২ জনকে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাংলাদেশের রায়হানের প্রশংসায় আল-জাজিরার সাংবাদিক

বাংলাদেশের রায়হানের প্রশংসায় আল-জাজিরার সাংবাদিক

পুরস্কার পাওয়া পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রায়হান কবিরের সাহসিকতার প্রশংসা করলেন আল-জাজিরার সাংবাদিক ড্রিউ অ্যামরোজ। ছবি: সংগৃহীত 

পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় ড্রিউ অ্যামরোজ বলেন, ‘সত্য বলার মতো সাহসী মানুষ ছাড়া নিপীড়ন প্রকাশে এমন বড় কাজ আমার পক্ষে করা সম্ভবপর ছিল না। প্রবাসী কর্মী রায়হান কবিরের ওপর মালয়েশীয় সরকারের ভয়াবহ চাপ থাকা সত্ত্বেও সত্য প্রকাশ করা থেকে পিছুপা হননি বাংলাদেশি এই যুবক।’

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী শ্রমিকদের নির্যাতনের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রের জন্য পুরস্কার পাওয়া পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রায়হান কবিরের সাহসিকতার প্রশংসা করলেন আল-জাজিরার সাংবাদিক ড্রিউ অ্যামরোজ।

দেশটিতে প্রবাসীদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরায় ২৫ মিনিটের এই প্রামাণ্যচিত্রের জন্য অস্ট্রেলিয়ার এই সাংবাদিককে শুক্রবার দেয়া হয় আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাকর ওয়ান ওয়ার্ল্ড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিবেদন তৈরি করায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি তাকে জার্নালিস্ট অব দ্য ইয়ার হিসেবে নির্বাচিত করে।

এমন পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় ড্রিউ অ্যামরোজ বলেন, ‘সত্য বলার মতো সাহসী মানুষ ছাড়া নিপীড়ন প্রকাশে এমন বড় কাজ আমার পক্ষে করা সম্ভবপর ছিল না। প্রবাসী কর্মী রায়হান কবিরের ওপর মালয়েশীয় সরকারের ভয়াবহ চাপ থাকা সত্ত্বেও সত্য প্রকাশ করা থেকে পিছুপা হননি বাংলাদেশি এই যুবক।’

তিনি আরও জানান, মহামারি চলাকালীন বিশ্বের অনেক দেশে মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর বিভিন্ন অজুহাতে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বিধিনিষেধ। এমন প্রতিকূলতার মাঝে সাংবাদিকতার জন্য এ পুরস্কার অর্জন সত্যিই প্রশংসনীয় ও উৎসাহজনক।

দেশটির সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

এর আগে এই প্রামাণ্যচিত্রটি লাভ করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্যালি অ্যাওয়ার্ড ও হংকংয়ের হিউম্যান রাইটস প্রেস অ্যাওয়ার্ড।

এরই মধ্যে এই প্রামাণ্যচিত্রটিকে ২০২০ সালের সেরা প্রতিবেদন হিসেবে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রেখেছে গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্ক।

‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়াস লকডাউন’ ডকুমেন্টারিতে মালয়েশিয়ায় আটকে পড়া অবৈধ শ্রমিকদের বেহাল দশার কথা তুলে ধরা হয়।

আল-জাজিরা গত ৩ জুলাই এই প্রামাণ্যচিত্রটি সম্প্রচার করে।

এতে দেখানো হয়, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুই হাজারের বেশি অনিবন্ধিত অভিবাসী শ্রমিককে আটক করে। একই সময় দেশটিতে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতি রোধে চলা লকডাউনের মধ্যেই তাদের বিপর্যয়কর পরিবেশে আটক রাখা হয়।

বাংলাদেশি যুবক রায়হান কবির আল-জাজিরার ওই সাংবাদিকের কাছে নিপীড়নের বিষয় ও মালয়েশিয়া সরকারের সমালোচনা করে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন।

প্রামাণ্যচিত্রটি সম্প্রচার হওয়ার পরপরই মালয়েশিয়ার পুলিশ রায়হান কবিরকে গ্রেপ্তার করে।

আরও পড়ুন:
মুজাক্কির হত্যা: গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ১২ জনকে

শেয়ার করুন

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজকে বিদায়ী সংবর্ধনা

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজকে বিদায়ী সংবর্ধনা

বগুড়া সেনানিবাসের আর্মার্ড কোর সেন্টার ও স্কুলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে শনিবার বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হয়। ছবি: আইএসপিআর

জেনারেল আজিজ আহমেদ বিদায়ী ভাষণের শুরুতেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী সেনাসদস্যদের।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে সামরিক রীতিতে বিদায় জানাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কোর, কোর অফ ইঞ্জিনিয়ার্স এবং বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট।

বগুড়া সেনানিবাসের আর্মার্ড কোর সেন্টার ও স্কুলে শনিবার তাকে এই সংবর্ধনা দেয়া হয়।

২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর আর্মার্ড কোরের, ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই কোর অফ ইঞ্জিনিয়ার্স এবং ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জেনারেল আজিজ।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে উপস্থিত সবার উদ্দেশে বিদায়ী কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।

জেনারেল আজিজ আহমেদ বিদায়ী ভাষণের শুরুতেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী সব সেনাসদস্যের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেনারেল আজিজ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ একটি আধুনিক এবং চৌকস বাহিনী হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।’

কর্নেল কমন্ড্যান্ট হিসেবে তার গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে আজিজ আহমেদ জানান, ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর আলোকে একটি আধুনিক এবং যুগোপযোগী সেনাবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে আর্মার্ড কোর, কোর অফ ইঞ্জিনিয়ার্স এবং বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টে নতুন ইউনিট প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সংযোজন করা হয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সরঞ্জামাদি।

সেই সঙ্গে আধুনিকায়ন এবং সম্প্রসারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারসহ প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করেছেন বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কোর, কোর অফ ইঞ্জিনিয়ার্স এবং বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে উন্নতি ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন জেনারেল আজিজ আহমেদ।

অনুষ্ঠানে আর্মার্ড কোর, কোর অফ ইঞ্জিনিয়ার্স এবং বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাসহ অন্য সামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

গত রোববার থেকে বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব ফরমেশনে বিদায়ী পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সব পদবির সামরিক ও অসামরিক সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বিদায়ী বক্তব্য দেন। ফরমেশন থেকে আবেগঘন পরিবেশে বিদায়ী সেনাপ্রধানকে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে খোলা জিপ টেনে সামরিক রীতিতে বিদায় জানানো হয়।

আরও পড়ুন:
মুজাক্কির হত্যা: গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ১২ জনকে

শেয়ার করুন

বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা, বললেন না কিছুই

বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা, বললেন না কিছুই

আদালতে জবানবন্দি শেষে বাড়ি ফিরছেন ত্ব-হা। ছবি: নিউজবাংলা

কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশীদ বলেন, আদালতের কাজ শেষে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

নিখোঁজের আট দিন পরে অবশেষে আদালত হয়ে বাড়ি ফিরলেন আলোচিত ইসলাম বিষয়ক বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান এবং তার দুই সঙ্গী।

এসময় তারা সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি।

ত্ব-হার বাকি দুই সঙ্গী হলেন আমির হোসেন ও আব্দুল মুহিত।

রাত সাড়ে ১১টায় রংপুর মহানগর আমলি আদালতের বিচারক কে এম হাফিজুর রহমানের আদালতে জবানবন্দি শেষে আইনজীবী সোলায়মান আহমেদ সিদ্দিকী বাবুর জিম্মায় তারা বাড়ি ফেরেন।

আদালত চত্বরে এসময় তিন পরিবারের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশীদ। তিনি বলেন, আদালতের কাজ শেষে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

আইনজীবী সোলায়মান সিদ্দিকী বাবু বলেন, ‘যেহেতু তারা প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদেরকে কেউ অবরুদ্ধ করেনি এ কারণে বিজ্ঞ আদালত মনে করেন যে, তারা নিজ জিম্মায় বাড়ি যেতে পারবে। পরে আদালত চাইলে অবশ্যই তারা উপস্থিত হতে বাধ্য থাকবেন।’

বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা, বললেন না কিছুই
আদালতে ত্ব-হার জবানবন্দিকে ঘিরে সংবাদকর্মীদের ভিড়

আদালত চত্বরে থাকা ত্ব-হার মা আজেদা বেগম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেয়েছি।’

শুক্রবার বিকেলে ত্ব-হাকে রংপুর মহানগরীর আবহাওয়া অফিস মাস্টার পাড়ার তার প্রথম স্ত্রীর বাসা থেকে বের করে মহানগর পুলিশের ডিবি কার্যালয়ে নেয় পুলিশ। বিকেল ৫টার দিকে প্রেস কনফারেন্স করেন পুলিশের অপরাধ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন।

সেখানে তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ত্ব-হাকে আদালতে নেয়া হবে।

আদালত পরিদর্শক নাজমুল কাদের জানান, ইসলাম বিষয়ক বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান ও তার দুই সঙ্গীকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে আনা হয়। মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক কেএম হাফিজুর রহমানের আদালতে জবানবন্দি দেন তারা।

১০ জুন থেকে চার সহযোগীসহ নিখোঁজ হন ত্ব-হা। কোথা থেকে কীভাবে নিখোঁজ হন, এমন তথ্য দিতে পারছিল না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও।

অনেকে অভিযোগ তুলছিল, সমসাময়িক অন্যান্য ইস্যুতে আন্তরিকতা দেখালেও ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে তেমন কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না সরকার। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন:
মুজাক্কির হত্যা: গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ১২ জনকে

শেয়ার করুন

আবরার স্মরণে ‘এক মুঠো ভাত’

আবরার স্মরণে ‘এক মুঠো ভাত’

আবরার ফাহাদ হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে বুয়েট ক্যাম্পাসে ‘এক মুঠো ভাত’ কর্মসূচি পালন করেছে অঙ্কুর ফাউন্ডেশন। ছবি: নিউজবাংলা

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে বুয়েট ক্যাম্পাসে ‘এক মুঠো ভাত’ কর্মসূচি পালন করেছে অঙ্কুর ফাউন্ডেশন। এ কর্মসূচির আওতায় শুক্রবার দুপুরে ক্যাম্পাসে ১০০ জনের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে বুয়েট ক্যাম্পাসে ‘এক মুঠো ভাত’ কর্মসূচি পালন করেছে অঙ্কুর ফাউন্ডেশন।

এ কর্মসূচির আওতায় শুক্রবার দুপুরে ক্যাম্পাসে ১০০ জনের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

রাজধানীরসহ দেশের ৬৪টি জেলা শহরে শুক্রবার এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন সংগঠনটির সিনিয়র স্বেচ্ছাসেবক জুবায়ের।

জুবায়ের জানান, আবরারের নিজ জেলা কুষ্টিয়াতে আয়োজিত কর্মসূচিতে আবরার ফাহাদের বাবা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ‘অঙ্কুর ফাউন্ডেশন’ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই ফাউন্ডেশনের বেশ কয়েকটি প্রজেক্টের মধ্যে ‘এক মুঠো ভাত’ অন্যতম।

কর্মসূচির বিষয়ে সংগঠনটির মিডিয়া সমন্বয়ক মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘আবরার হত্যার পর আসামীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক বছর ৯ মাস পার হয়ে গেলেও বিচার কাজে তেমন অগ্রগতি হয়নি।’

আবরার স্মরণে ‘এক মুঠো ভাত’
আবরার হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে বুয়েট ক্যাম্পাসে অঙ্কুর ফাউন্ডেশন বিশেষ কর্মসূচী পালন করে। ছবি: নিউজবাংলা

‘সম্প্রতি আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বুয়েট থেকে আজীবন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বিটু ক্লাসে ফিরেছেন। আবার হত্যার বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও সাম্প্রতিক ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন।’

আলাউদ্দিন বলেন, সংগঠনের অবস্থান প্রশাসন বা সরকারের বিরুদ্ধে নয়। বরং আমরা সরকারের কাছে অভিনব এই প্রক্রিয়ায় আবরার ফাহাদের জন্য দ্রুত ন্যায় বিচার দাবি করছি।

আবরার স্মরণে ‘এক মুঠো ভাত’
নিহত আবরার ফাহাদ। ফাইল ছবি

আরও পড়ুন:
মুজাক্কির হত্যা: গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ১২ জনকে

শেয়ার করুন

চাকরির কথা বলে ভ্রমণ ভিসায় লোক পাঠাতেন অমি

চাকরির কথা বলে ভ্রমণ ভিসায় লোক পাঠাতেন অমি

পরীমনির করা মামলায় প্রধান আসামি নাসিরউদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে অমি, যাকে এই ঘটনার পরিকল্পনাকারী বলছেন এই অভিনেত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

এবার অমির বিরুদ্ধে মানবপাচারের মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অমির রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে দুবাইয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তির এক আত্মীয় এ মামলা করেন। এর আগে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসির ইউ মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমির নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি তুহিন সিদ্দিকী অমির বিরুদ্ধে এবার অভিযোগ উঠেছে মানবপাচারের।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চাকরি দেয়ার কথা বলে নিজের রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিলেও তিনি তাদের পাঠাতেন ভ্রমণ ভিসায়। নির্ধারিত দেশে যাওয়ার পর উচ্চ বেতনে চাকরির পরিবর্তে পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে হয় অমির মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া ব্যক্তিদের।

এমনই দুই ভুক্তভোগীর আত্মীয় সাভারের আব্দুল কাদের নামে এক ব্যক্তি বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের দক্ষিণখান থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেছেন। তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ পাঁচজনকে এই মামলায় আসামী করা হয়। মামলার অন্য আসামীরা অমির রিক্রুটিং এজেন্ট।

মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। মানবপাচার ও প্রতারণার ঘটনায় বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অমিকে রিমান্ডে আনার জন্য আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির পরিদর্শক মো. মোস্তফা। মামলাটি তিনি তদন্ত করছেন।

পরিদর্শক মোস্তফা জানান, বাদী অভিযোগ করেছেন, তার দুজন আত্মীয়কে বিদেশ পাঠাতে অমির অফিসে যোগাযোগ করা হয়। অমির অফিস জানায়, দুবাইয়ের একটি মার্কেটে ফ্লোর ম্যানেজার হিসেবে চাকরি হয়েছে তাদের। মাসে পাবে ১৬৯০ দিরহাম। তাদের এজেন্সির মাধ্যমে যেতে হলে জনপ্রতি দিতে হবে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সে অনুযায়ী দুজন তাদের টাকা জমা দেয়। দুবাইয়ে পাঠানোও হয়।

দুবাই যাওয়ার পর বাদীর দুই আত্মীয় বুঝতে পারেন তাদের কাজের ভিসার কথা বলে ভ্রমণ ভিসায় পাঠানো হয়েছে। এরপর থেকে তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বৈধভাবে তারা কোনো কাজ করতে পারছেন না বলে জানান পরিদর্শক মোস্তফা।

তিনি বলেন, বাদী আব্দুল কাদের দুই আত্মীয়ই নয়, সাভারের আরও দুজন এভাবে প্রতারিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, মামলার অন্য আসামীদের আটকে আমাদের অভিযান চলছে।

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ১৪ জুন চিত্রনায়িকা পরীমনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসির ইউ মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমির নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। আরও চারজনকে এ মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামি করা হয়।

পরীমনির মামলার পর ওই দিনই নাসির, অমিসহ পাঁচজনকে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনেও একটি মামলা হয়।

গত ১৫ জুন রাতে উত্তরার দক্ষিণখানে অমির অফিসে অভিযান চালায় সাভার থানা পুলিশ। দক্ষিণখানে রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসে অভিযান চালিয়ে শতাধিক পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় দক্ষিণখান থানায় অমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বুধবার পাসপোর্ট আইনে মামলা করেছে সাভার থানা পুলিশ।

ধর্ষণ চেষ্টা, মাদক, পাসপোর্ট আইনে তিনটি মামলার তদন্ত চলাকালেই ১৭ জুন মানবপাচার আইনে নতুন এই মামলাটি হয় অমির বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন:
মুজাক্কির হত্যা: গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ১২ জনকে

শেয়ার করুন

আপনার ছেলে বাসায় এসেছে: ত্ব-হার মাকে পুত্রবধূর ফোন

আপনার ছেলে বাসায় এসেছে: ত্ব-হার মাকে পুত্রবধূর ফোন

কী থেকে কী হচ্ছে আমি জানি না। আমার ছেলে জীবিত ফিরে এসেছে এ জন্য শুকরিয়া আদায় করছি। কোনো যেন বিপদ-আপদ না হয় সেই দাবি করছি: ত্ব-হার মা আজেদা বেগম।

নিখোঁজের আট দিন পর আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের ফিরে আসার খবর তার মা আজেদা বেগম জেনেছেন পুত্রবধূ আবিদা নূরের কাছে। তবে ছেলেকে দেখতে পারেননি তিনি। তার আগেই নিয়ে আসে পুলিশ।

আজেদার সঙ্গে কথা হয়েছে নিউজবাংলার। তিনি বলেন, “আমার ছেলের স্ত্রী আমাকে দুপুরে ফোন করে জানায়, ‘মা, আপনার ছেলে ফিরে এসেছে, এখন বাসায় আছে আপনি আসেন’।”

‘দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে যাই। কিন্তু শুধু তাকে দেখতে পাই, এর মধ্যে পুলিশ এসে নিয়ে যায়’- আট দিন ধরে উৎকণ্ঠিত মা তার ছেলের সঙ্গে কথা না বলতে পারার আক্ষেপ তুলে ধরেন এভাবে।

আবিদা নূর তার বাবা আজহারুল ইসলাম মণ্ডলের বাড়িতেই থাকেন। বাসাটি রংপুর সদরের আবহাওয়া অফিসের কাছে।

গত ১০ জুন থেকে ত্ব-হার নিখোঁজ হওয়ার কথা জানা যায়। বিষয়টি প্রথমে গণমাধ্যমের সামনে আনেন দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার। পরে আজেদা বেগমও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন নিউজবাংলার সঙ্গে।

ত্ব-হার মা বলেন, ‘কী থেকে কী হচ্ছে আমি জানি না। আমার ছেলে জীবিত ফিরে এসেছে এ জন্য শুকরিয়া আদায় করছি। কোনো যেন বিপদ-আপদ না হয় সেই দাবি করছি।’

ঢাকায় থাকা দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহারের মতো স্বামীর ফিরে আসা নিয়ে কথা বলতে চাননি প্রথম স্ত্রী আবিদা নূরও। তবে কথা বলেছেন আবিদার ছোট বোন নিশা মনি।

তিনি বলেন, ‘ভাইয়া (ত্ব-হা) দুপুরে এসেই আপুর ঘরে যায়। আমরা আত্মীয়স্বজনদের খবরটা জানাই। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে ভাইয়াকে নিয়ে যায়।’

ত্ব-হার শ্বশুর আজহারুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, ‘ঘটনার দিন (১০ জুন) আমি আমার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ছিলাম। সেখানে ঘটনাটা শুনে মনটা খারাই হয়ে গেছিল। এই কয়দিন কিছু ভালো লাগছিল না। ছটছট করি বেড়াইছি। আজ বাসায় আসছে। কিন্তু দেখা হয় নাই। এলাও দেখা হয় না।’

ত্ব-হাকে নিয়ে আসার পর রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ। বাহিনীটির অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন দাবি করেন, ব্যক্তিগত কারণে ত্ব-হা ও তার চার সঙ্গী আত্মগোপনে ছিলেন।

তার ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন থেকেই ত্ব-হা গাইবান্ধায় তার এক বন্ধুর বাসায় ছিলেন। এই কয়দিন নিজের ও সঙ্গীদের সব ফোন বন্ধ করে রাখেন তিনি।

তবে কেন ত্ব-হা এই কাজ করতে গেলেন, সেই প্রশ্নের জবাব এখনই দিতে চাননি এই পুলিশ কর্মকর্তা। বলেন, বিষয়টি যেহেতু ব্যক্তিগত, তাই তারা প্রকাশ করতে চান না এখনই। এ নিয়ে আরও যাচাই-বাছাই করবেন তারা।

আরও পড়ুন:
মুজাক্কির হত্যা: গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ১২ জনকে

শেয়ার করুন

ত্ব-হা ছিলেন আত্মগোপনে: পুলিশ

ত্ব-হা ছিলেন আত্মগোপনে: পুলিশ

রংপুর ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ত্ব-হার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, গাবতলী থেকে ত্ব-হা গাইবান্ধায় আসেন, সেখানে তিনি আত্মীয়র বাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে আজ দুপুরে প্রথম স্ত্রীর বাবার বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে আমরা তাকে সেখান থেকে নিয়ে আসি।

নিখোঁজ নয়, ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান গত ৮ দিন যাবৎ ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

রংপুর ডিবি কার্যালয়ে শুক্রবার বিকেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন।

তিনি বলেন, '(ত্ব-হা) ঘটনার দিন গাবতলী থেকে গাইবান্ধা চলে আসেন। সেখানে এক আত্মীয়র বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। শুক্রবার ত্ব-হা আবহাওয়া অফিস মাস্টারপাড়ার শ্বশুরবাড়িতে চলে আসেন। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। উনি এখন আমাদের হেফাজতেই আছেন।

‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার পাশাপাশি বগুড়ায় খোঁজ মেলা আরেকজনকেও আমরা নিয়ে আসছি। তারা আপাতত আমাদের হেফাজতেই আছে। আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’

বেলা সোয়া তিনটার দিকে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মজনু নিউজবাংলাকে জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে ত্ব-হাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার আরেক এসআই এরশাদ হোসেন জানান, শুক্রবার দুপুরে তাকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বেলা ৩টার দিকে রংপুরের আবহাওয়া অফিসের মাস্টারপাড়ায় ত্ব-হার শ্বশুর আজহারুল ইসলামের বাড়ি থেকে তাকে পুলিশ বের করে নিয়ে যায়।

তবে খোকন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি মাস্টারপাড়ায় তাকে দেখেন। কিন্তু ত্ব-হা সে সময় কোনো কথা বলেননি। মুখে আঙুল দিয়ে চুপ থাকতে বলেন।

১০ জুন থেকে চার সহযোগীসহ নিখোঁজ হন ত্ব-হা। কোথা থেকে কীভাবে নিখোঁজ হন, এমন তথ্য দিতে পারছিল না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও।

অনেকে অভিযোগ তুলছিল, সমসাময়িক অন্যান্য ইস্যুতে আন্তরিকতা দেখালেও ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে তেমন কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না সরকার। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন:
মুজাক্কির হত্যা: গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ১২ জনকে

শেয়ার করুন