পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

বিসিএস রেলওয়ে (প্রকৌশল) ক্যাডারের এই কর্মকর্তা এ বছরের পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে রেলওয়ের মহাপরিচালক পদে চলতি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

পদোন্নতি দিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদারকে রেলওয়ের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ৬ মে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (২০২১ সালের নবম সভা) সুপারিশ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ফিডার পদে চাকরির অভিজ্ঞতার শর্ত প্রমার্জন হওয়ায় ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদারকে পদোন্নতি দিয়ে মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া হলো।

ওই সভার সুপারিশ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ফিডার পদে চাকরির অভিজ্ঞতার শর্ত প্রমার্জন হওয়ায় বিসিএস (রেলওয়ে: প্রকৌশল) এবং বিসিএস (রেলওয়ে: পরিবহন ও বাণিজ্যিক) উভয় ক্যাডারের দ্বিতীয় গ্রেডের কর্মকর্তা দিয়ে এ পদটি পূরণযোগ্য।

বিসিএস রেলওয়ে (প্রকৌশল) ক্যাডারের এই কর্মকর্তা এ বছরের পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে রেলওয়ের মহাপরিচালক পদে চলতি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

১৯৮৬ সালে বুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক শেষ করা ধীরেন্দ্র ১৯৯১ সালের বিসিএস (৯ম) ব্যাচের একজন কর্মকর্তা।

সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী পদে চাকরি শুরু করে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, যুগ্ম মহাপরিচালক (প্রকৌশল), প্রকল্প পরিচালক, সরকারি রেলপথ পরিদর্শক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার ১৯৬৩ সালে মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলায় একটি কৃষিজীবী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক। পেশার বাইরে তিনি বই পড়া এবং নাট্য-চর্চাসহ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে

মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে

আদালতের প্রসিকিউশন শাখার কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার জিআরও এসআই শাহীন ভূঁইয়া জানান, যেহেতু মিতু হত্যার সময় তার ছেলে সঙ্গে ছিল তাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা দুই সন্তানের সঙ্গেই কথা বলতে চান। পাশাপাশি তাদেরকে মামলার স্বাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চান।

চট্টগ্রামে মাহমুদা খানম মিতু হত্যায় মামলায় জবানবন্দি দেয়ার জন্য বাবুল-মিতু দম্পতির দুই সন্তানকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমানের আদালত রোববার বিকেল ৪টার দিকে এ আদেশ দেন।

আদালতের প্রসিকিউশন শাখার কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার জিআরও উপপরিদর্শক (এসআই) শাহীন ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে জানান, মিতু ও বাবুল আকতারের দুই সন্তান তার দাদা, চাচার জিম্মায় আছে। যেহেতু মিতু হত্যার সময় তার ছেলে সঙ্গে ছিল তাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা দুই সন্তানের সঙ্গেই কথা বলতে চান।

পাশাপাশি তাদেরকে মামলার স্বাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চান। এজন্য তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করেন।

আদালত আবেদন আমলে নিয়ে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুল আকতারকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেয়।

গত ১১ মে বাবুল আকতারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলার জন্য ১২ মে ওই মামলার ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পিবিআই।

ওইদিনই দুপুরে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন পাঁচলাইশ থানায় বাবুলসহ আট জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় বর্তমানে কারাগারে আছেন বাবুল আকতার।

শেয়ার করুন

খুলছে না ভারত সীমান্ত

খুলছে না ভারত সীমান্ত

মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, ভারত সীমান্ত খোলা নির্ভর করছে সে দেশের করোনা পরিস্থিতির ওপর। সেখানে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিগগিরই সীমান্ত খোলার সম্ভাবনা নেই। তবে আপাতত তা ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পর্যালোচনার মাধ্যমে তা প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।

করোনাভাইরাসের চলমান পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রাখার মেয়াদ আরও একদফা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশটির সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রাখা হবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে রোববার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, ভারত সীমান্ত খোলা নির্ভর করছে সে দেশের করোনা পরিস্থিতির ওপর। সেখানে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিগগিরই সীমান্ত খোলার সম্ভাবনা নেই। তবে আপাতত তা ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পর্যালোচনার মাধ্যমে তা প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।

ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চরমে পৌঁছালে গত ২৬ এপ্রিল থেকেই দেশটির সঙ্গে সীমান্ত করে সরকার। মাঝে কয়েক দফায় বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ তা ১৪ জুন করা হয়। এবার তা ৩০ জুন পর্যন্ত করা হলো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে আটকে পড়াদের দেশে ফেরার সুযোগও বন্ধ থাকছে। সেখানে করোনার উচ্চ সংক্রমণ, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট চিহ্নিত ও লকডাউন চলার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সীমান্ত যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল অব্যাহত আছে।

শেয়ার করুন

গার্ড অব অনারে নারী চায় না সংসদীয় কমিটি

গার্ড অব অনারে নারী চায় না সংসদীয় কমিটি

শাজাহান খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই প্রশ্ন আসছে ধর্মীয় অনুভূতি থেকে। কোনো কোনো জায়গা থেকে বলা হয়েছে, জানাজায় নারীরা অংশ নিতে পারেন না।’

কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানের অংশ হিসেবে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়ার সময় সরকারের নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি তুলেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ ব্যাপারে বিকল্প খুঁজতেও বলা হয়েছে ওই সুপারিশে।

একই সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার দেয়ার আয়োজন দিনের আলোয় সম্পন্ন করার পক্ষে মত দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৯তম বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি শাজাহান খান।

কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম), কাজী ফিরোজ রশীদ, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল এবং মোছলেম উদ্দিন আহমদ বৈঠকে অংশ নেন।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় প্রশাসন। গার্ড অব অনার দিতে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকেন জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। রাষ্ট্রীয় সম্মানের অংশ হিসেবে সরকারের প্রতিনিধি হয়ে মরদেহে ফুলের শ্রদ্ধাও জানান ওই সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা।

সেই প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নারীর উপস্থিতি নিয়ে এবার আপত্তি তোলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি ও বৈঠকের সভাপতি শাহজাহান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ধর্মীয় অনুভূতির কারণে এমন সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শাজাহান খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই প্রশ্ন আসছে ধর্মীয় অনুভূতি থেকে। কোনো কোনো জায়গা থেকে বলা হয়েছে, জানাজায় নারীরা অংশ নিতে পারেন না।’

‘গার্ড অফ অনার সাধারণত জানাজার সময় দেয়া হয়’ জানিয়ে স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেন, ‘এ জন্য এই ইয়েটা (সুপারিশ) আসছে। যদি গার্ড অব অনার জানাজার আগে দেয় বা পরে দেয়, তখন জানাজা থাকে না। সেইটা একটা জিনিস। আমরা দেখেছি, সব জায়গায় জানাজার সময় গার্ড অব অনার দেয়। ওই জায়গায় ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনা করে এটা সুপারিশ করা হয়েছে।’

ঠিক কী সুপারিশ করা হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মহিলার বিকল্প একজন পুরুষকে দিয়ে গার্ড অব অনার দেয়ার বিষয়টি এসেছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে এটা পরীক্ষা করে দেখতে বলেছি।’

রাজাকার প্রজন্মের সরকারি চাকরি

চিহ্নিত রাজাকারের পরবর্তী প্রজন্মকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে চলারও সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সভাপতি শাহজাহান খান বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যারা যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে, সেখানে একটা সরকারি সিদ্ধান্ত আছে। যুদ্ধাপরাধী যারা, তাদের সন্তানরা কেউ সরকারি চাকরি পায় না।’

ভিয়েতনাম সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ভিয়েতনামে তিন প্রজন্ম পর্যন্ত সরকারি চাকরি পাবে না। আর বেলারুশে যুদ্ধাপরাধীদের প্রজন্মরা কখনও সরকারি চাকরি পাবে না।’

রাজকার প্রজন্মের হাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলণ্ঠিত হতে পারে এমন শঙ্কার কথা জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, ‘আমাদের দেশেও কিন্তু আমরা মনে করি, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সন্তানেরা সরকারি চাকরি পেলে, যখন তারা বড় কর্মকর্তা হয়, তখন কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বা তার চেতনা সম্পর্কিত বিষয়ে সেটা ইগনোরড হয়। এটা করবেই তারা।

‘এজন্য বলছি যে যুদ্ধাপরাধী, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, রাজাকার, আলবদর চিহ্নিত যারা, তাদের সন্তানদের ওপর এই সিদ্ধান্তটা হতে পারে।’

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা সংগ্রহেরও সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

বৈঠকে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভায় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনাগুলো অবহিত করা, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেয়া কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা এবং চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ‘টাওয়ার ৭১’ ও ‘জয়বাংলা বাণিজ্যিক ভবনের’ কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধোদের পুনর্বাসন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে গঠিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ফান্ডের তহবিল গঠনে কোন কোন উৎসকে প্রতিষ্ঠার সময়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল, মন্ত্রণালয়কে তার বিবরণী আগামী বৈঠকে সবিস্তারে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্ধারিত হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে করাসহ ওষুধ খরচ বাবদ নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা থেকে উন্নীত করে ৭৫ হাজার টাকায় নির্ধারণ এবং বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালগুলোতে শতভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনামূল্যে করা বিষয়ক সংশোধিত নীতিমালাটি আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশও করে কমিটি।

শেয়ার করুন

সামি, তাসনিম খলিলসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

সামি, তাসনিম খলিলসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

তাসনিম খলিল (বাঁয়ে) ও সায়ের জুলকারনাইন সামি। ফাইল ছবি

চার্জশিটে আরও যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, অনলাইন পোর্টাল রাষ্ট্রচিন্তার মো. দিদারুল ইসলাম, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, ব্লগার আশিক মোহাম্মাদ ইমরান ও মো. ওয়াহিদুন্নবী। তাদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ, করোনাভাইরাস নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আল-জাজিরা টেলিভিশনে সরকারপ্রধান এবং সেনাপ্রধানকে নিয়ে প্রচারিত প্রতিবেদনের প্রধান চরিত্র সামিউল ইসলাম খান ওরফে শায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি ও সুইডিশ-বাংলাদেশের সাংবাদিক নেত্র নিউজের সম্পাদক তাসনিম খলিলসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।

এতে তাদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ, করোনাভাইরাস নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এটি এই মামলায় দাখিল করা দ্বিতীয় অভিযোগপত্র। গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম অভিযোগপত্র পাওয়ার পর আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিলে পুলিশ তদন্ত করে নতুন অভিযোগপত্র দেয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) উপপরিদর্শক (এসআই) আফছর আহমেদ গত ১০ মে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এই চার্জশিট আদালতে জমা দেন।

আদালতের রমনা থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নিজাম উদ্দিন ১৩ জুন বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

চার্জশিটের অপর আসামিরা হলেন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, অনলাইন পোর্টাল রাষ্ট্রচিন্তার মো. দিদারুল ইসলাম, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, ব্লগার আশিক মোহাম্মাদ ইমরান ও মো. ওয়াহিদুন্নবী।

অন্যদিকে কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদ মারা যাওয়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিক শাহেদ আলম, ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় ও ফেসবুক আইডিতে ফিলিপ শুমাখারের নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এজাহারের নথিতে বলা হয়েছে, কার্টুনিস্ট কিশোর তার ‘আমি কিশোর’ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনামূলক কার্টুন-পোস্টার পোস্ট করতেন। মুশতাক তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কিশোরের সেসব পোস্টের কয়েকটি শেয়ার করেছেন। আসামিরা ‘আই এম বাংলাদেশি’ নামে ফেসবুক পেজে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ন করতে বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশে অপপ্রচার বা গুজবসহ বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিয়েছেন, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়। এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক মেসেঞ্জারে তাসনিম খলিল, শায়ের জুলকারনাইন, শাহেদ আলম, আসিফ মহিউদ্দিনের সঙ্গে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক চ্যাটিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

২০২০ সালের ৫ মে র‌্যাব-৩-এর ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবু বকর সিদ্দিক রমনা থানায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, মুশতাক আহমেদ, দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া, মিনহাজ মান্নানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

মামলায় তাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধ, মহামারি করোনাভাইরাস সম্পর্কে গুজব, রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়।

মামলার পর গ্রেপ্তার হয়ে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে মিনহাজ মান্নান ও দিদারুল আলম ভূঁইয়া জামিনে মুক্তি পান। কার্টুনিস্ট কিশোর ও লেখক মুশতাক কারাগারে ছিলেন।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মুশতাক কাশিমপুর কারাগারে মারা যান।

এদিকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি মামলার পূর্বের তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মহসীন সরদার আদালতে একটি চার্জশিট দাখিল করেন। সেখানে কার্টুনিস্ট কিশোর ও রাষ্ট্রচিন্তার দিদারুল এবং লেখক মুশতাককে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে শায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি ও মিনহাজ মান্নান, আশিক মোহাম্মাদ ইমরান, তাসনীম খলিল, মো. ওয়াহিদুন্নবীসহ ৮ জনের অব্যাহতি চাওয়া হয়।

চার্জশিটে আল-জাজিরা টেলিভিশনে সেনাপ্রধানকে নিয়ে প্রচারিত প্রতিবেদনের প্রধান চরিত্র হিসেবে সামিউল ইসলাম খান ওরফে শায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামির অব্যাহতি পাওয়া নিয়ে সংবাদপত্রে আলোচনা-সমালোচনা হওয়ায় মামলাটি পরে অধিকতর তদন্তে পাঠানো হয়। অধিকতর তদন্ত শেষে এবার সাতজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হলো।

আসামিদের মধ্যে শায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি অবসর প্রাপ্ত লে. কর্নেল আব্দুল বাতেন খানের ছেলে।

শেয়ার করুন

ভারতীয় গরু ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকাড়ি, হাট নির্দিষ্ট স্থানে

ভারতীয় গরু ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকাড়ি, হাট নির্দিষ্ট স্থানে

সীমান্ত দিয়ে বৈধ বা অবৈধ কোনো পথেই যেন ভারত থেকে গরু না আসে সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আমাদের দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যেন ভারত থেকে বৈধ-অবৈধভাবে পশু না আসে সে জন্য নিজ নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের শক্ত অবস্থানে থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত বন্ধ আছে। সামনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে যাতে ভারতীয় গরু না আসতে পারে সে জন্য কড়াকড়ি আরোপের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত ‘ঈদুল আজহা-২০২১ উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাইকরণ এবং কোরবানির বর্জ্য অপসারণ’ নিয়ে প্রস্তুতি-পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বৈধ-অবৈধ পথে ভারত থেকে যাতে গরু আসতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।’

সেই সঙ্গে ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসবে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া দেশের কোথাও পশুর হাট বসতে দেয়া হবে না।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ভারতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় দেশটি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ায় আমাদের দেশেও কিছু কিছু এলাকায়, বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় এ ভ্যারিয়েন্ট দেখা দিয়েছে। তাই এ বছর সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করেই পশুর হাট বসানো হবে।’

ভারতীয় গরু ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকাড়ি, হাট নির্দিষ্ট স্থানে
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ সুবিধাজনক স্থানে পশুরহাট নির্ধারণ করবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষ পশুর হাট বসানোর জন্য এবং পশু জবাইয়ের যে স্থান নির্ধারণ করবেন শুধু সেখানেই হাট বসবে। এর বাইরে কোরবানির পশুর হাট ও পশু জবাই করতে দেয়া হবে না।’

দেশের ভারতীয় সীমান্ত এলাকাগুলো করোনাভাইরাসের সংক্রমণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে ভারত থেকে দেশে বৈধ-অবৈধ পথে অনেক পশু আসে এবং মানুষ যাতায়াত করে থাকে।

‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আমাদের দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যেন ভারত থেকে বৈধ-অবৈধভাবে পশু না আসে সে জন্য নিজ নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের শক্ত অবস্থানে থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সড়ক-মহাসড়ক এবং রেল লাইনের ওপর কুরবানির পশুর হাট বসানো যাবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ এসব জায়গায় হাট বসানোর ইজারা দেয় না। কিন্তু অবৈধভাবে এসব জায়গায় পশুর হাট বসানো হয়। রাস্তার ওপরে পশুর হাট বসানো অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

‘রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরাসহ সকলের সমন্বিত উদ্যোগ এটি বন্ধ করতে হবে।’

পশু কোরবানির পর দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণে ব্যবস্থা নিতে দেশের সব স্তরের জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় পশুর হাট বসানোর জন্য গত বছর গণমাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ বছরও এটি করা হবে।’

সিটি করপোরেশন ছাড়াও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে সচেতনামূলক প্রচার চালাবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনদুর্ভোগ কমাতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সভায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেরসহ সকল সিটি করপোরেশনের মেয়র, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব, স্বাস্থ্য, তথ্য ও সম্প্রচারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সচিবসহ বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

সিলেট-৩: ভোটে থাকছে বিএনপিও

সিলেট-৩: ভোটে থাকছে বিএনপিও

সিলেট-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা বলা হলেও প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি। আর বিএনপির পক্ষ থেকে এই নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

তবে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা বলা হলেও প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শিল্পপতি শফি আহমদ চৌধুরী চিকিৎসার জন্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সহকারী রাজু আহমদ রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্যার এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। প্রার্থী হওয়ার জন্য এরই মধ্যে দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। সোমবার বিকেলে তিনি সিলেটে পৌঁছবেন।’

শফি চৌধুরী ২০০১ সালে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের কাছে পরাজিত হন তিনি।

গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৮ জুলাই আসনটিতে উপনির্বাচন হবে।

হাবিবুর রহমান হাবিবকে শনিবার এই আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। এর আগে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নিজেদের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিককে প্রার্থী মনোনীত করে।

আরও পড়ুন: দুই ডজনকে ডিঙালেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা



সাবেক সংসদ সদস্য শফি চৌধুরীর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় এই আসনে জমজমাট লড়াইয়ের আশা করছেন ভোটাররা।

শফি চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী রাজু আহমদ বলেন, তিনি মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। তার পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র তুলে তা পূরণ করে জমার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শফি চৌধুরীর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণার ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, ‘এমনটি আমিও শুনেছি। তবে নিশ্চিত করে কিছু জানি না। শফি চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’

কামরুল হুদা বলেন, ‘এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না, এটা আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। কেউ এই সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া দলীয় নেতা-কর্মীদেরও বলে দেয়া হবে তার সঙ্গে না থাকার জন্য।’

শেয়ার করুন

বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানকে পরানো হলো র‍্যাঙ্ক ব্যাজ

বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানকে পরানো হলো র‍্যাঙ্ক ব্যাজ

বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানকে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়। ছবি: পিআইডি

নবনিযুক্ত বিমানবাহিনী প্রধানকে এয়ার মার্শালের র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন সেনাবাহিনীর কোয়াটার মাস্টার জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং নৌবাহিনীর সহকারী প্রধান (অপারেশন) রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আবু আশরাফ।

বিমানবাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধান এয়ার মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানকে র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়েছে।

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে রোববার সকালে শেখ আব্দুল হান্নানকে এয়ার মার্শালের র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়।

নবনিযুক্ত বিমানবাহিনী প্রধানকে এয়ার মার্শালের র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরান সেনাবাহিনীর কোয়াটার মাস্টার জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং নৌবাহিনীর সহকারী প্রধান (অপারেশন) রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আবু আশরাফ।

র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ইমরুল কায়েস জানান, র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনিযুক্ত বিমানবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান ও তার সফলতা কামনা করেন। বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানও ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী।

র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরার মধ্য দিয়ে শেখ আব্দুল হান্নান বিমানবাহিনীর বিদায়ী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

শেয়ার করুন