করোনায় জামিনের মেয়াদ বাড়ল চার সপ্তাহ

করোনায় জামিনের মেয়াদ বাড়ল চার সপ্তাহ

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে সব আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ভার্চুয়ালি কোর্ট চালু রাখা হয়। ভার্চুয়াল কোর্টে শত শত আসামিকে জামিন দেয়া হয়।

করোনার বিধিনিষেদের মধ্যে জামিনপ্রাপ্তদের জামিনের মেয়াদ চার সপ্তাহ বাড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

রোববার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যে সব মামলায় আসামিকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জামিন দেয়া হয়েছে বা যে সব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অধস্তন আদালতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের শর্তে জামিন দেয়া হয়েছে বা যে সব মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়া হয়েছে- সে সব মামলার জামিন এবং সব প্রকার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের কার্যকারিতা আগামী চার সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়ানো হলো।

লকডাউনের মাঝে এর আগে তিন দফায় বিভিন্ন মামলার আসামিদের জামিনের মেয়াদ ও আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের কার্যকারিতা বাড়ানো হয়।

করোনা সংক্রমণ রোধে বিধি-নিষেধের মেয়াদ রোববার আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে সরকার।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে সব আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ভার্চুয়ালি কোর্ট চালু রাখা হয়। ভার্চুয়াল কোর্টে শত শত আসামিকে জামিন দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্ট বারে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের স্মারকগ্রন্থ উন্মোচন
সুপ্রিমকোর্ট বারে ভোট দিলেন ৫ হাজার ৬৭৫ জন
জামিন পেলেও মুক্তি মিলছে না ফাতেমার বর্তমান স্বামীর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আইএলওর সহযোগী সদস্য পুনর্নির্বাচিত বাংলাদেশ

আইএলওর সহযোগী সদস্য পুনর্নির্বাচিত বাংলাদেশ

আইএলওর পরিচালনা পর্ষদে এটি বাংলাদেশের পক্ষে টানা তৃতীয় জয়। এর আগে বাংলাদেশ ২০১৪-২০১৭ এবং ২০১৭-২০২১ মেয়াদে আইএলওর পরিচালনা পর্ষদের উপ-সদস্য হিসাবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) পরিচালনা পরিষদের সহযোগী সদস্য পুনর্নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই পর্ষদ কাজ করবে।

আইএলওর সদর দপ্তর জেনেভায় সোমবার আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের ১০৯-তম অধিবেশন চলাকালে এই ভার্চুয়াল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বাংলাদেশ আইএলওর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রার্থী হিসেবে সর্বোচ্চ ২১০টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়।

প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে অন্যান্য আইএলও সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন পেতে জোর প্রচারণা চালায়।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের নেতৃত্বে ও জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এই ভার্চুয়াল নির্বাচন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে শ্রম সচিব কে এম আব্দুস সালাম এবং জেনেভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভার্চুয়ালি যোগ দেন।

আইএলওর পরিচালনা পর্ষদে এটি বাংলাদেশের পক্ষে টানা তৃতীয় জয়। এর আগে বাংলাদেশ ২০১৪-২০১৭ এবং ২০১৭-২০২১ মেয়াদে আইএলওর পরিচালনা পর্ষদের উপ-সদস্য হিসাবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে।

আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্ট বারে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের স্মারকগ্রন্থ উন্মোচন
সুপ্রিমকোর্ট বারে ভোট দিলেন ৫ হাজার ৬৭৫ জন
জামিন পেলেও মুক্তি মিলছে না ফাতেমার বর্তমান স্বামীর

শেয়ার করুন

বাছাইয়ের তালিকায় আরও ৩৪ সামরিক অধ্যাদেশ

বাছাইয়ের তালিকায় আরও ৩৪ সামরিক অধ্যাদেশ

বিএনপির জিয়াউর রহমান ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। দুজনই সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় হন রাষ্ট্রপতি।

‘দ্য ডিলিমিটেশন অব কনস্টিটিউয়েন্সিজ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬’ রূপান্তর করে ‘জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০২১’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা নির্ধারণে ১৯৭৬ সালের জারি করা আরও একটি সামরিক শাসনামলের অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে যাচ্ছে সরকার।

আরও ৩৪টি সামরিক অধ্যাদেশ এখনও যাচাই-বাছাইয়ের তালিকায় রয়েছে।

আর তাই ‘দ্য ডিলিমিটেশন অব কনস্টিটিউয়েন্সিজ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬’ রূপান্তর করে ‘জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০২১’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার সকালে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে। বৈঠকে সভাপতিতত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ দিন দুপুরে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এটা ১৯৭৬ সালের অধ্যাদেশ। সুতরাং এটাকে আইনে রূপান্তরের প্রয়োজন ছিল।’

বাছাইয়ের তালিকায় আরও ৩৪ সামরিক অধ্যাদেশ
সোমবার সকালে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিতত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

আইনে আগের বিধান আছে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণে নির্বাচন কমিশন সংবিধানের ৬৫(২) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত সংখ্যক সংসদ সদস্য প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত করার লক্ষ্যে সমগ্র দেশকে সংখ্যক একক, আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকায় বিভক্ত করবে।’

সীমানা নির্ধারণ নিয়ে প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন করে আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করতে হলে, সেক্ষেত্রে তারা (নির্বাচন কমিশন) প্রত্যেকটা আদমশুমারির পরে করতে পারবেন। আর যদি কোনো আদশশুমারি ছাড়া বা অন্য কোনো কারণে কেউ অভিযোগ করেন, সেক্ষেত্রে পাবলিক হিয়ারিং নিয়ে বাস্তবে দেখে, সার্ভে করে, তারপর করতে পারবেন।’

দৈব, দূর্বিপাক বা অন্য কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে কোনো নির্বাচনে আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা না গেলে ওই আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকার সর্বশেষ যে নির্ধারিত সীমানা আছে, সেই অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে বলেও জানান সচিব।

তবে ১৯৭৬ সালে যে অধ্যাদেশ ছিল, তার সঙ্গে এর তেমন কোনো অমিল নেই বলে জানিয়েছেন সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

২০১৩ সালে হাইকোর্টের নির্দেশনা বলা হয়, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট থেকে আটাত্তর পর্যন্ত এবং বিরাশি থেকে ছিয়াশির সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে অর্ডিন্যান্সগুলো (অধ্যাদেশ) করা হয়েছিল সেগুলো বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইন করতে হবে। আর যেগুলোর প্রয়োজন নেই সেগুলো বাদ দিতে হবে।

মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালের আগস্টে জিয়ার শাসনামলে করা পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে বলা হয়, জিয়াউর রহমানের শাসনও বৈধ নয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। ফলে রায় বহাল থাকে।

২০১০ সালে সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী ও সেনাশাসক এরশারদের শাসনও অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

তবে দুটি রায়েই সামরিক সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ বিবেচনা করে, প্রয়োজনীয়গুলো রেখে অপ্রয়োজনীয়গুলো বাদ দেয়ার কথা বলা হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় অধ্যাদেশগুলো নিয়ে কাজ করছে সরকার। মোট ১৬৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে কাজ করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এগুলোর যাচাই বাছাইয়ের অগ্রগতি নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘গত মে মাসে বসে আমরা প্রায় ২৫টি মতো সলভড করে ফেলেছি। এখনও ৩৪টার মতো আছে।’

সামরিক শাসনামলে জারি করা অধ্যাদেশগুলো এই জুনের মধ্যে আইনে পরিণত করার নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গত ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম নিজেই।

বিষয়টি সচিবের নজরে আনা হলে তিনি বলেন, ‘চেষ্টা করব। দেখা যাক। এগুলো অনেক কমপ্লেক্স প্রসিডিওর তো। অনেকটা আমরা কভার করে আসছি।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর নানা ঘটনার প্রবাহে রাষ্ট্র ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে চলে আসেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। ওই বছরের ৭ নভেম্বর নানা ঘটনাপ্রবাহের পর সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্র ক্ষমতায় তার নিয়ন্ত্রণ আরও পোক্ত হয়।

এক পর্যায়ে ১৯৭৬ সালের ১৯ নভেম্বর সামরিক আইন জারি করে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হন জিয়াউর রহমান।

১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল সেনাপ্রধান থাকা অবস্থাতেই জিয়া হয়ে যান রাষ্ট্রপতি। উর্দি পরা অবস্থাতেই ওই বছরের ৩০ মে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট দেন তিনি। বিস্ময়করভাবে ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পড়ে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে।

সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ১৯৭৮ সালের ৩ জুনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও জেতেন জিয়াউর রহমান। ওই বছরের ডিসেম্বরে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন।

এই সময়ে জিয়াউর রহমান বেশ কিছু আদেশ ও অডিন্যান্স জারি করেন।

রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন জিয়াউর রহমান।

জিয়াউর রহমানের দেখানো পথে সেনাপ্রধান থাকাকালেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াকে হত্যা করা হয়। পরে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ আবদুস সাত্তারকে পদত্যাগে বাধ্য করে রাষ্ট্রপতি হন এরশাদ। জারি করেন সামরিক আইন।

১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশ চলেছে সেনা শাসকের জারি করা অর্ডিন্যান্সে।

আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্ট বারে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের স্মারকগ্রন্থ উন্মোচন
সুপ্রিমকোর্ট বারে ভোট দিলেন ৫ হাজার ৬৭৫ জন
জামিন পেলেও মুক্তি মিলছে না ফাতেমার বর্তমান স্বামীর

শেয়ার করুন

মদের ‘কারবারেও’ নাসির

মদের ‘কারবারেও’ নাসির

পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির ইউ আহমেদকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

নাসির মাহমুদকে গ্রেপ্তারের পর ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ জানান, ‘আমরা যাদের গ্রেপ্তার করেছি, তাদের কাজই মদের ব্যবসা করা। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন নাসির। তিনি এই কাজই করেন। তিনি বিভিন্ন ছোট ছোট মেয়েকে রক্ষিতা রাখেন। আমরা এখনও তদন্ত করছি।’

চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী পরীমনিকে হত্যা ও ধর্ষণচেষ্টার মামলায় আটক নাসির ইউ মাহমুদ মদের ব্যবসা করেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ। তা ছাড়া যৌনকাজে ব্যবহারের জন্য তিনি ভাড়া করা মেয়েদের সঙ্গে রাখতেন বলেও অভিযোগ করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

পরীমনির ঘটনায় সোমবার দুপুরে নাসির ইউ মাহমুদসহ পাঁচজনকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ।

গ্রেপ্তারের পর সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হারুন-অর-রশিদ।

তিনি বলেন, ‘আমরা যাদের গ্রেপ্তার করেছি, তাদের কাজই মদের ব্যবসা করা। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন নাসির। তিনি এই কাজই করেন। তিনি বিভিন্ন ছোট ছোট মেয়েকে রক্ষিতা রাখেন। আমরা এখনও তদন্ত করছি।’

যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ আরও বলেন, ‘আমরা তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করব। প্রয়োজন হলে তাদের রিমান্ডে আনব। যেহেতু আমরা মাদক পেয়েছি, সেই কারণে আমরা মাদকের একটি মামলা করব ডিএমপি থেকে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু সাভারে একটি স্বাভাবিক মামলা হয়েছে, আমরা সাভার থানা পুলিশকে জানাব।’

হারুন-অর-রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা শনিবার রাত থেকেই খোঁজখবর রাখছিলাম। যেহেতু মামলা হয়নি তাই গ্রেপ্তার করতে পারিনি। এখন মামলা হয়েছে, আমরা তাকে আজ ৩টার সময় উত্তরার বাসা থেকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছি। তবে এই বাসায় অমি থাকে। নাসির এই বাসায় এসে পালিয়ে ছিলেন। সাথে তিনজন রক্ষিতাকে নিয়ে এসেছিলেন। তার আগের অভিযোগের আমরা তদন্ত করছি।’

মদের ‘কারবারেও’ নাসির
নাসির ইউ মাহমুদ

হারুন বলেন, ‘পরীমনি স্বনামধন্য নায়িকা। তিনি সেখানে যেতেই পারেন। তার মানে তো এই না যে তাকে হ্যারাস করবে। আবার আসলেই সেখানে কী ঘটেছে সেটিও দেখতে হবে।’

শনিবার পরীমনি যে অভিযোগ করেছিলেন, সেটি থানায় আমলে নেয়া হয়নি– এই বিষয়ে কী করবেন জানতে চাইলে হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমরা পরীমনির সাথে কথা বলব। আমরা প্রতিটি অভিযোগকে খতিয়ে দেখছি। আমরা তো এদের সাভার থানার মামলা থেকেই গ্রেপ্তার করেছি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

নাসির ইউ মাহমুদ বা নাসির উদ্দিন মাহমুদ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান। ছিলেন লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারম্যান। গ্রেপ্তার অপর চারজনের নাম জানা যায়নি।

পরীমনি রোববার রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনার কয়েক ঘণ্টা পর বিষয়টির বিস্তারিত নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসেন।

পরীমনি জানান, ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরা বোট ক্লাবে। নাসির উদ্দিন নামে একজন তাকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে এই ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিলেন।

মদের ‘কারবারেও’ নাসির
নাসির ও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন নায়িকা পরীমনি

যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘যারা এভাবে রাতের বেলা বিভিন্ন ক্লাবে গিয়ে উঠতি বয়সী মেয়েদের ব্যবহার করে, অসামাজিক কার্যকলাপ চালায়, তাদের বিরুদ্ধে এখন থেকে আমাদের অভিযান চলবে। ঢাকা শহরের গুলশান, বনানী স্থানে রাত ৮টা-৯টার দিকে উঠতি বয়সী মেয়ে ক্লাবে গিয়ে ডিজে পার্টির নামে অনাচার করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

বোট ক্লাবে অভিযান চালানো হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে হারুন বলেন, ‘যেহেতু মামলা হয়েছে সাভার থানায়, আমরা একটা রিকুইজিশন পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছি। এখন যেহেতু একটা মামলা আমাদের এখানে আছে, মাদকের মামলা, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বোট ক্লাবে যাব। আরও কোনো আসামি যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখব।’

এই ঘটনায় এত তাড়াতাড়ি গ্রেপ্তার হলেও সাম্প্রতিক অপর একটি ঘটনায় সায়েম সোবহান আনভির কেন গ্রেপ্তার হননি, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যখন আমাদেরকে রিকুইজিশন দেবে, আমরা তখন তাৎক্ষণিক অ্যাকশন নিচ্ছি। আনভিরের মামলা যদি গুলশান থানা পুলিশ আমাদের রিকুইজিশন দেয়, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেব।’

পরীমনি কীভাবে সেখানে গিয়েছিলেন, সেটি জানতে পেরেছেন কিনা প্রশ্ন করা হলে হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমরা যেহেতু গ্রেপ্তার করেছি, আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। আমরা পরীমনিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করব। তখন আমরা জানাব।’

আসামিকে সাভার থানায় পরে হস্তান্তর করা হবে জানিয়ে হারুন বলেন, ‘আমরা যেহেতু মাদক পেয়েছি, সেহেতু এখানে একটি মামলা হবে। এরপর সাভার থানা পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্ট বারে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের স্মারকগ্রন্থ উন্মোচন
সুপ্রিমকোর্ট বারে ভোট দিলেন ৫ হাজার ৬৭৫ জন
জামিন পেলেও মুক্তি মিলছে না ফাতেমার বর্তমান স্বামীর

শেয়ার করুন

এনা পরিবহনের মালিক এনায়েতের সম্পদের হিসাব চায় দুদক

এনা পরিবহনের মালিক এনায়েতের সম্পদের হিসাব চায় দুদক

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও এনা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ।

দুদকের উপপরিচালক আরিফ সাদেক জানান, খন্দকার এনায়েত ও ফারুকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধানে নামে দুদক। তাদেরকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদের হিসাব জমা দিতে হবে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও এনা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার এনায়েত উল্লাহকে সম্পদের হিসাব দাখিলের নোটিশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়ায় সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো নোটিশে তাকে সম্পদের হিসাব দাখিল করতে বলা হয়।

একইদিন আরেক নোটিশে তিতাস গ্যাস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক বিক্রয় সহকারী ও সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হাসানকেও সম্পদের হিসাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক এ সব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তাদেরকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদের হিসাব জমা দিতে হবে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘দুদকের অনুসন্ধানে অঢেল সম্পদ অর্জনের সত্যতা পাওয়ায় তাদের নোটিশ দেয়া হয়েছে।’

আরিফ সাদেক বলেন, খন্দকার এনায়েত ও ফারুকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধানে নামে দুদক।

নোটিশে বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধানে কমিশনের স্থির বিশ্বাস জন্মেছে যে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্বনামে/বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ/সম্পত্তির মালিক হয়েছেন খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও ফারুক হাসান।

নোটিশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নিজের, নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারিত ফরমে দাখিল করতে বলা হয়েছে তাদের।

আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্ট বারে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের স্মারকগ্রন্থ উন্মোচন
সুপ্রিমকোর্ট বারে ভোট দিলেন ৫ হাজার ৬৭৫ জন
জামিন পেলেও মুক্তি মিলছে না ফাতেমার বর্তমান স্বামীর

শেয়ার করুন

ঢাকা বোট ক্লাবের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

ঢাকা বোট ক্লাবের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বোট ক্লাবের বিরুদ্ধে। ছবি: ফেসবুক

ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজন বলেন, ‘সরকার আমার নামে লিজ দিছে। আমার সম্পত্তিটাও তারা জোর করে তাদের আওতায় রাইখা দিছে, দখল রাইখা দিছে। এক বছর আগে ডর-ভয় দেখাইয়া নানান কিছু কইরা জমি নিছে। কার কাছে অভিযোগ করুম?’

চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে যেখানে, সেই ঢাকা বোট ক্লাবের বিরুদ্ধে জোর করে জমি দখলের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।

সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজন সোমবার এ অভিযোগ তোলেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জমিজমা অনেকেরটাই জোর করে নিছে। ওখানে আমারও নিজেরও ৭৭ শতাংশ সম্পত্তি আছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার আমার নামে লিজ দিছে। আমার সম্পত্তিটাও তারা জোর করে তাদের আওতায় রাইখা দিছে, দখল রাইখা দিছে। এক বছর আগে ডর-ভয় দেখাইয়া নানান কিছু কইরা জমি নিছে। কার কাছে অভিযোগ করুম?’

পরীমনি রোববার রাতে তার ফেসবুক পেজে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে পোস্ট দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিরুলিয়ার ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনার বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপও কামনা করেন পরীমনি।

সোমবার পরীমনির মামলার পর প্রধান অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ পাঁচজনকে উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদের মধ্যে নাসির উদ্দিন মাহমুদ উত্তরা ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য (বিনোদন ও সংস্কৃতি)। তিনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য।

সাইদুর রহমান সুজন বলেন, ‘এক বছর হইলো উদ্বোধন হইছে ক্লাবটা। ওইটা পড়ছে বিরুলিয়া ইউনিয়নের বড় কাকড় গ্রামে। আমি তো কখনও যাই নাইক্যা। তাই ওইডা নিয়া আমার ধারণা নাই।

তিনি বলেন, ‘ওইডার পাশে একটা আছে তুরাগ রিসোর্ট। ওইডার ভিতরে অনেক অসামাজিক কার্যকলাপ হইতো, হয়। এই কিছু দিন আগে ডিবির লোক আইসা ১০-১২ জন মেয়ে-ছেলেসহ অ্যারেস্ট কইরা নিয়া গেছে।’

জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঢাকা বোট ক্লাবের মেম্বার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বখতিয়ার আহমেদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে ১৫ মিনিট পর ফোন করতে বলেন। তবে এরপর অনেকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্ট বারে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের স্মারকগ্রন্থ উন্মোচন
সুপ্রিমকোর্ট বারে ভোট দিলেন ৫ হাজার ৬৭৫ জন
জামিন পেলেও মুক্তি মিলছে না ফাতেমার বর্তমান স্বামীর

শেয়ার করুন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর, সংসদে সমালোচনা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর, সংসদে সমালোচনা

‘বাজেটে ন্যাক্কারজনকভাবে বেসরকারি শিক্ষার ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে একজন শিক্ষার্থী বলেছেন, অন্যদেশের সরকার শিক্ষায় ভর্তুকি দেয়, আর আমরা করারোপ করি। বেসরকারিতে পড়া স্টুডেন্টরা আম নাকি যে দেখলেই পাড়তে মন চাইবে?’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল শিক্ষার ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা।

সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, শিক্ষা খাতের ১৫.৭ ভাগ বরাদ্দের ৪ ভাগই প্রযুক্তি খাতের।

‘বিপর্যস্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় ছুটিই বাড়ছে, লেখাপড়ার বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে না। এদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেখানে ৫ লাখ ছেলেমেয়ে লেখাপড়া করছে, তাদের ওপর ১৫ ভাগ কর চাপানো হয়েছে, যা শেষ বিচারে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়বে।’

জাসদের শিরীন আখতার কর নির্ভরশীলতাকে গরিববিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল বৈষম্যমূলক রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষার ক্ষেত্রে করের প্রস্তাব জাসদ বিরোধিতা করছে।’

বাজেটে বেসরকারি শিক্ষা সব থেকে বেশি উপেক্ষিত বলে মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘বাজেটে ন্যাক্কারজনকভাবে বেসরকারি শিক্ষার ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে একজন শিক্ষার্থী বলেছেন, অন্যদেশের সরকার শিক্ষায় ভর্তুকি দেয়, আর আমরা করারোপ করি। বেসরকারিতে পড়া স্টুডেন্টরা আম নাকি যে দেখলেই পাড়তে মন চাইবে?’

প্রসঙ্গত অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ৩ জুন তার বাজেট বক্তব্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১৫ শতাংশ করারোপের কথা বলেন।

বাজেট প্রস্তাবে তিনি বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রযোজ্য সাধারণ করহার হ্রাস করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা কেবল তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানে নিয়োজিত বেসরকারি কলেজ থেকে উদ্ভূত আয়ের ১৫ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করা হয়েছিল। মহান এ সংসদে আমি এ করহার অর্থ আইনের মাধ্যমে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।’

বাজেট প্রস্তাবের পর থেকেই বেসরকারি শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা এ প্রস্তাবের প্রতিবাদ করে আসছে। বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ট্রাস্টের অধীন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ট্যাক্স-ভ্যাট প্রযোজ্য নয়।

সরকার এর আগে ২০১৫ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ ভ‌্যাট আরোপ করলে টানা কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তা প্রত্যাহার করে নেয়।

আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্ট বারে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের স্মারকগ্রন্থ উন্মোচন
সুপ্রিমকোর্ট বারে ভোট দিলেন ৫ হাজার ৬৭৫ জন
জামিন পেলেও মুক্তি মিলছে না ফাতেমার বর্তমান স্বামীর

শেয়ার করুন

পরীমনি নিয়ে বক্তব্য পাল্টালেন বনানীর ওসি

পরীমনি নিয়ে বক্তব্য পাল্টালেন বনানীর ওসি

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আজম

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনার পাশাপাশি বনানী থানার বিরুদ্ধে অভিযোগ না নেয়ার অভিযোগ করেছিলেন পরীমনি। তবে বনানী থানার ওসি বেমালুম অস্বীকার করে দাবি করেন, এই নায়িকা তার থানায় যাননি। তবে পরী গণমাধ্যমের সামনে আসার পর পুলিশের ভূমিকা পাল্টে যাওয়ার পাশাপাশি পাল্টে গেল ওসির ভাষ্যও।

তিনি কোনো অচেনা মানুষ নন। আলো ঝলমলে মানুষটা কোথাও গেলে আলোড়ন পড়ে। অথচ বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আজম মিয়া রোববার রাত ১২টা পর্যন্ত ‘জানতেনই না’ যে পরীমনি তার থানায় গিয়েছিলেন।

তবে এই নায়িকা রোববার রাতে গণমাধ্যমের সামনে এসে তার ওপর চলা নির্যাতন আর বনানী থানার অসহযোগিতার বিষয়টি সামনে আনার পর পাল্টে গেল ওসির বক্তব্য।

এখন তিনি স্বীকার করছেন, পরীমনি তাদের থানায় গিয়েছিলেন।

রোববার রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনেন পরীমনি। জানান, তিনি পুলিশসহ যাদের কাছে তার ঘটনা বলেছেন, তাদের কারও কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি।

তবে তার কী অভিযোগ, পুলিশের কাছে গিয়ে কী অসহযোগিতা পেয়েছেন, তার কিছুই জানাননি সেই স্ট্যাটাসে।

তবে ঘণ্টা দুয়েক পর গণমাধ্যমকর্মীদের ডেকে গত বুধবার গভীর রাতের সেই বীভৎসতার কথা জানানোর পাশাপাশি বনানী থানায় কী হয়েছে সেটাও তুলে ধরেন।

পরীমনি জানান, তার অভিযোগ বক্তব্য লিখিত আকারে গ্রহণ করেনি বনানী থানা। তাকে বলা হয়েছে, সকাল ১০টায় ‘স্যার’ গেলে পরে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কিন্তু তার যে শারীরিক অবস্থা, তাতে এতক্ষণ থাকার সুযোগ ছিল না।

তখন পরীমনি পুলিশকে অনুরোধ করেন তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে। আর পুলিশ তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালের গেটে রেখে চলে আসে।

পরীমনি নিয়ে বক্তব্য পাল্টালেন বনানীর ওসি
রোববার রাতে পরীমনি তার ওপর নির্যাতনের বর্ণনার পাশাপাশি বনানী থানার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ আনেন

তখন ভীতসন্ত্রস্ত পরী তাদেরকে আবার ফোন করে হাসপাতালের ভেতরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও পুলিশ সে অনুরোধ রাখেনি। পরে ভয়ে চিকিৎসা না করিয়েই ফিরে আসেন।

পরীমনি এই অভিযোগ তোলার পর থেকে বনানী থানার ওসির সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছে নিউজবাংলা। প্রথমবার তিনি বলেন, পরীমনি থানায় এসেছিলেন কি না সেটি তিনি জানেন না। খোঁজ নিয়ে জানাবেন।

পরে রাত ১২টার দিকে আবার ফোন করা হলে তিনি নিশ্চিত করেন, পরীমনি তার থানায় যাননি।

এর মধ্যে সোমবার তোলপাড় পড়ে যায়। মামলা করেন পরীমনি, গ্রেপ্তার হন প্রধান সন্দেহভাজন নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ পাঁচজন।

পুলিশ মোতায়েন হয় পরীমনির বাসায়। বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে বলা হয়, পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ নারীর অধিকারের বিষয়টি নিয়ে খুবই সংবেদনশীল।

এর মধ্যে পাল্টে গেল বনানী থানার ওসির ভাষ্যও। সোমবার দুপুরে তিনি প্রথমবারের মতো স্বীকার করেন পরীমনি অভিযোগ দিতে তার থানায় গিয়েছিলেন।

তার এবারকার বর্ণনা এ রকম:

‘ঘটনার দিন ভোর ৪টার দিকে আমাদের থানায় এসেছিলেন পরীমনি।’

অভিযোগ গ্রহণ না করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘তখন তিনি (পরীমনি) বেসামাল ছিলেন। মানে স্বাভাবিক ছিলেন না। তখন তো কোনো তথ্য নেয়া যায় না। তাকে স্বাভাবিক করার জন্য, সুস্থ করার জন্য আমাদের একটা পুলিশ স্কোয়াড দিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সুস্থ স্বাভাবিক হয়ে আসলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

তবে সেদিনের পর পুলিশ পরীমনির সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আর ওসি যুক্তি দাঁড় করান এভাবে:

‘উনি সুস্থ হয়ে আসেন নাই কিংবা তথ্য প্রদান করেন নাই। কোনো অভিযোগ করেন নাই। উনি যেহেতু অসুস্থ ছিলেন, আমরা হাসপাতালে নেয়ার জন্য সহযোগিতা করেছি।’

পরীমনি বলেছেন, তিনি চিকিৎসা নেয়ার সময় পুলিশকে থাকার অনুরোধ করলেও তা শোনেনি বাহিনীটি।

ওসি বলেন, ‘হাসপাতাল পর্যন্ত আমরা পৌঁছে দিছি।’

একজন মানুষ থানায় গেলে থানা থেকে তাকে ন্যায়বিচারের জন্য সাহায্য করা হবে না?-এমন প্রশ্নে নূরে আজম বলেন, ‘আমাদের তো তথ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। কোন জায়গায় কী ঘটনা ঘটছে, কী ঘটেছে, বিভিন্ন ইস্যু থাকে। আমরা তো মানবিক ও আইনগত যে বিষয়টা দেখছি। এখন অভিযোগ পাওয়া গেছে, সাভার ঘটনাস্থলে থানায় মামলা হয়েছে।’

গতকাল পর্যন্ত আপনারা বলেছিলেন পরীমনি থানায় আসে নাই, আজ বলছেন থানায় এসেছিলেন। এই দুই কথার কারণ কী?

এমন প্রশ্নে থতমত খেয়ে ওসি বলেন, ‘কারণ, উনি লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ করেন নাই।’

আপনি তো দাবি করেছেন পরীমনি আপনার থানায় যানইনি- ওসিকে আবার প্রশ্ন করলে তিনি এবারও সরাসরি বক্তব্য না দিয়ে আগের কথাই বলেন।

আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্ট বারে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের স্মারকগ্রন্থ উন্মোচন
সুপ্রিমকোর্ট বারে ভোট দিলেন ৫ হাজার ৬৭৫ জন
জামিন পেলেও মুক্তি মিলছে না ফাতেমার বর্তমান স্বামীর

শেয়ার করুন