বুড়িমারী নির্মমতা: এক আসামির জামিন

বুড়িমারী নির্মমতা: এক আসামির জামিন

শহিদুন্নবী জুয়েল নামক এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ আগুনে পোড়ানোর মামলায় গত বছরের নভেম্বরে গ্রেপ্তার করা হয় শরিফুল ইসলামকে। গ্রেপ্তারের ছয় মাস পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন তিনি।

লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে কোরআন অবমাননার অভিযোগে শহিদুন্নবী জুয়েল নামক এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ আগুনে পোড়ানোর ঘটনার মামলায় এক আসামিকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার আসামি মো. শরিফুল ইসলামকে জামিন দেয়ার আদেশ দেয়।

জামিন আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন হাসান মাহমুদ খান, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবু ইয়াহিয়া দুলাল।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নিহত শহিদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রীপাড়া এলাকার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। চাকরিচ্যুত হওয়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।

শহিদুন্নবী গতবছর ২৯ অক্টোবর বিকেলে সুলতান রুবায়াত সুমন নামে এক সঙ্গীসহ বুড়িমারী বেড়াতে যান। বিকেলে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন তারা।

ওই মসজিদেই পবিত্র আল কোরআন অবমাননার অভিযোগে সন্দেহবশত জুয়েল ও সুলতান রুবায়াত সুমনকে পাশ্ববর্তী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে আটকে রাখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, ওসি বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন।

ততক্ষণে কোরআন অবমাননার দায়ে দুই যুবককে আটক করার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উত্তেজিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দরজা জানালা ভেঙে প্রশাসনের কাছ থেকে জুয়েলকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ টেনে পাটগ্রাম বুড়িমারী মহাসড়কে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেয়।

এ ঘটনায় জাতীয় মানবধিকার কমিশনের তদন্ত দল গতবছর ১ নভেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানায়, মসজিদে কোরআন অবমাননার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া, জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিও কোরআন অবমাননার সত্যতা পায়নি।

জুয়েলকে হত্যার ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা হয়। এরমধ্যে একটি মামলায় পাটগ্রাম উপজেলার সামসুদ্দিন ইসলামের ছেলে মো. শরিফুল ইসলামকে গত বছর নভেম্বরে শুরুতেই গ্রেপ্তার করা হয়।

এ মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনা টিকা না নিলে কর্মীদের বেতন বন্ধ: অ্যাটর্নি অফিস

করোনা টিকা না নিলে কর্মীদের বেতন বন্ধ: অ্যাটর্নি অফিস

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা গ্রহণে নিজেদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জোর নির্দেশনা দিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস। এক নোটিশে বলা হয়েছে, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া টিকা না নিলে বেতন বন্ধসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে নিজেদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সময় বেঁধে দিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস। এর মধ্যে টিকা গ্রহণের সনদ জমা না দিলে বেতন বন্ধসহ স্টাফদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার একটি নোটিশ জারি করেছে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস। এতে বলা হয়েছে, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে করোনা প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ করে এর সনদ ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রশাসনিক শাখায় জমা দিতে হবে।

নোটিশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া ভ্যাকসিন গ্রহণ না করলে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার স্বার্থে নিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যারা এখনও কোডিড-১৯ এর ভ্যাকসিন গ্রহণ করেননি তাদেরকে নিবন্ধন সম্পন্ন করে আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে কোভিড-১৯ এর টিকা গ্রহণে নির্দেশ রয়েছে নোটিশে।

এতে বলা হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ভ্যাকসিন গ্রহণ সম্পর্কিত টিকা কার্ড বা টিকা সনদ আগামী ২২ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রশাসনিক শাখায় জমা প্রদান করবেন।

সেই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া ভ্যাকসিন গ্রহণ না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বেতন বন্ধসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

বস্তিবাসী গ্রামে ফিরলে পাবেন জমিসহ ঘর

বস্তিবাসী গ্রামে ফিরলে পাবেন জমিসহ ঘর

বস্তিবাসীদের জন্য কম ভাড়ায় উন্নতমানের ফ্ল্যাট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বস্তিতে বাস করা কেউ ঘরে ফিরতে চাইলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে জমিসহ ঘর দেব। ছয় মাস যেন তারা চলতে পারে সে ব্যবস্থাও করব। ঘরে ফেরা কর্মসূচি আবার শুরু করব।’

বস্তিতে বসবাস করা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবারও ঘরে ফেরা কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৩০০ বস্তিবাসী পরিবারের কাছে ভাড়ার ফ্ল্যাট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বস্তিতে বাস করা কেউ ঘরে ফিরতে চাইলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে জমিসহ ঘর দেব। ছয় মাস যেন তারা চলতে পারে সে ব্যবস্থাও করব। ঘরে ফেরা কর্মসূচি আবার শুরু করব।

‘আর যারা ঢাকায় থাকছে তারা ভাড়া দিয়ে থাকবে। বস্তিতে ভাড়া দিয়েই তো থাকতে হয়। নানা অসুবিধায় থাকতে হয়। মাসে, সপ্তাহে, দিনে ভাড়া দিতে পারবে এভাবেই ফ্ল্যাটগুলো করেছি, যাতে সুস্থ পরিবেশে থাকতে পারে। যারা বস্তির মধ্যে আছেন তাদের জন্য ভালো আবাসন আমরা করে দেব।’

রাজধানীর মিরপুরের ১১ নম্বর সেকশনে ১৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে এ প্রকল্প। এখানে ১৪ তলার পাঁচটি ভবনে ৫৩৩টি আধুনিক ফ্ল্যাট তৈরি করা হচ্ছে। লিফট, জেনারেটর, সৌরবিদ্যুৎ, প্রশস্ত ওয়াকওয়ে, বিদ্যুতের সাবস্টেশন ও সৌন্দর্যবর্ধনের লাইটিংসহ আধুনিকতায় সমৃদ্ধ করা হচ্ছে জায়গাটি।

দেশে বস্তিবাসীদের নিয়ে এমন উন্নত বাসস্থানের চিন্তা এটিই প্রথম। গত রোববার দুপুরে লটারির মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্ল্যাট নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

প্রতিটি ফ্ল্যাটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া এর সঙ্গে যুক্ত হবে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ও অন্য সার্ভিস চার্জ। সেটি কত তা এখনও নির্ধারণ হয়নি।

প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ৬৭৩ বর্গফুট। এক একটি ফ্ল্যাটে রয়েছে দুটি করে বেডরুম, একটি বারান্দা, একটি ড্রয়িংরুম, বেসিন, রান্নাঘর ও দুটি বাথরুম। দুপাশে ফাঁকা জায়গা। পেছনের দিকে বেড়িবাঁধ অংশের খাল। সামনে প্রশস্ত সড়ক।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, পুরো প্রকল্পে জমির পরিমাণ ছয় বিঘা। এই জমিতে আগে বস্তি ছিল। ২০১৭ সালে তা ভেঙে ফেলা হয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঢাকায় নির্মিত ২ হাজার ৪৭৪টি ফ্ল্যাটের পাঁচটি আবাসন প্রকল্প এবং মাদারীপুরে নির্মিত সমন্বিত অফিস ভবনও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও আসছে…

শেয়ার করুন

‘আল্লাহর সৈনিক’ করোনা থেকে বাঁচতে আজহারীর আস্থা এখন টিকায়

‘আল্লাহর সৈনিক’ করোনা থেকে বাঁচতে আজহারীর আস্থা এখন টিকায়

আলোচিত ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। ফাইল ছবি

করোনাকে ‘আল্লাহর সৈনিক’ আখ্যা দিয়ে দেশে হাস্যরসের জন্ম দেন নানা উদ্ভট বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা মুফতি কাজী ইব্রাহীম। ওই বছরের মার্চে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের একটি মাহফিলে যোগ দিয়ে একই কথা বলেন আজহারীও। তিনি সে সময় করোনা থেকে বাঁচতে একটি নির্দিষ্ট দোয়া করতে নিজের ফেসবুকে পরামর্শ দেন। এবার করোনার দ্বিতীয় টিকা নিয়ে সেই তিনিই সবাইকে টিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘টিকার কোনো বিকল্প নেই।’

করোনাভাইরাসকে ‘আল্লাহর সৈনিক’ আখ্যা ও করোনা থেকে বাঁচতে একটি দোয়া করার পরামর্শ দেয়ার সোয়া এক বছরের মাথায় এই ভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিলেন আলোচিত ধর্মীয় বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী।

বর্তমানে মালয়েশিয়ার অবস্থানকারী ব্যাপক আলোচিত এই বক্তা দ্বিতীয় টিকা নেয়ার বিষয়টি তার নিজের ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজে শেয়ার করে সবাইকে টিকা নিতেও বলেছেন।

২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনে এবং পরে পশ্চিমা দুনিয়ায় করোনার বিস্তার হলে বাংলাদেশের ধর্মীয় বক্তারা ব্যাপকভাবে বলতে থাকেন, এই ভাইরাস পৃথিবীতে আল্লাহ পাঠিয়েছেন অমুসলিমদেরকে শায়েস্তা করতে।

করোনাকে আল্লাহর সৈনিক আখ্যা দিয়ে দেশে হাস্যরসের জন্ম দেন নানা উদ্ভট বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা মুফতি কাজী ইব্রাহীম।

ওই বছরের মার্চে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের একটি মাহফিলে যোগ দিয়ে একই কথা বলেন আহজারীও। তিনি সে সময় করোনা থেকে বাঁচতে একটি নির্দিষ্ট দোয়া করতে নিজের ফেসবুকে পরামর্শ দেন।

তবে এক বছর পর সেই মালয়েশিয়া যখন করোনায় জর্জরিত, হাসপাতালগুলোতে রোগীর ঠাঁই হচ্ছে না, অক্সিজেনের অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে, তখন সোমবার বাংলাদেশ সময় রাতে টিকা নেয়ার বিষয়ে স্ট্যাটাস দেন আজহারী।

তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আজ মালয়েশিয়াতে করোনা ভ্যাকসিন— ফাইজারের দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন করলাম। আল্লাহ তা’আলা টিকার সব ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে আমাদের মুক্ত রাখুন। এর পুরোপুরি উপকার আমাদের নসিব করুন।’

তিনি অন্যদেরকেও টিকা নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা যারা এখনও ভ্যাকসিন নেননি, সম্ভব হলে দ্রুত নিয়ে নিন। যতো দ্রুত ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শেষ হবে, তত দ্রুত সংক্রমণ কমে আসবে এবং আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব ইনশাআল্লাহ।’

‘আল্লাহর সৈনিক’ করোনা থেকে বাঁচতে আজহারীর আস্থা এখন টিকায়
আজহারীর ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজে টিকা নেয়ার পর দেয়া পোস্ট

আজহারীকে ফাইজারের টিকা দেয়া হলেও তিনি তার সমর্থকদেরকে যে টিকা পাওয়া যায়, সেটিই নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিনগুলোর কার্যকারিতা ভিন্ন ভিন্ন হলেও, সব ভ্যাকসিন একটা কাজ করতে প্রায় শতভাগ সক্ষম। আর সেটা হচ্ছে—শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা আপনাকে অতি মাত্রায় অসুস্থ হওয়া এবং সংকটাপন্ন হওয়া থেকে রক্ষা করবে। সুতরাং যে ভ্যাকসিনই আগে পাবেন, আল্লাহর উপর ভরসা করে সেটাই নিয়ে নিন।’

টিকার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি এও লেখেন, ‘ভ্যাকসিনের কাজ হলো শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি করা। ভ্যাকসিন নেয়া থাকলে, আপনি আক্রান্ত হলেও হয়তো ক্রিটিকাল সিচুয়েশনে পড়তে হবে না। অথবা আপনি করোনা ভাইরাস বহনকারী হলেও, ভ্যাকসিন নেয়ার কারণে হয়ত নিজে আক্রান্ত হবেন না, কিন্তু ভ্যাকসিন নেয়নি এমন লোকদের সংস্পর্শে গেলে, আপনার মাধ্যমে তারা আক্রান্ত হতে পারে।

‘তাই, কোনো দেশের বেশিরভাগ মানুষের টিকা দেয়া সম্পন্ন হয়ে গেলে, শুধুমাত্র তখনই কেবল মাস্কের বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে নেয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি শিথিল করা যেতে পারে। তা না হলে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমেও খুব বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব নয়। তাই, এই মুহূর্তে প্রতিটি দেশে গণ টিকার বিকল্প নেই।’

গত বছর যা বলেছিলেন আজহারী

গত বছরের মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় দেয়া আহজারীর একটি বক্তব্য ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।

তিনি সেদিন বলেন, ‘এই করোনা হচ্ছে আল্লাহর সৈনিক। আল্লাহ সব সময় ধরে না। ধরলে আবার ছাড়ে না। জলে-স্থলে ভূমিকম্প, ভূমিধস, মহামারি– এগুলো যা হচ্ছে সব আমাদের হাতের কামাই।

‘মাঝেমধ্যে আল্লাহ ভাইরাস পাঠান। কিছু দিন আগে সার্সভাইরাস পাঠিয়েছিলেন। সার্স যেতে না যেতেই এখন পাঠিয়েছে করোনা। কিছু দিন আগে বাংলাদেশে ছিল ডেঙ্গু। হঠাৎ করে দেখবেন আবার ঘূর্ণিঝড়, টাইফুন। আল্লাহ এগুলো দিয়ে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন, ভালো হওয়ার জন্য। নাফরমানি ছেড়ে দেয়ার জন্য। এক আল্লাহর দাসত্ব ও ইবাদত করার জন্য।’

আজহারী আরও বলেন, ‘এটি হলো মুসলিম জাতির জন্য রিমাইন্ডার। এটি হার্ড রিমাইন্ডার। এই রিমাইন্ডার আল্লাহ পাঠান, যাতে আমাদের টনক নড়ে। যাতে আমাদের ঘুমন্ত বিবেক জেগে ওঠে।’

করোনা ঠেকাতে তখন দোয়ার পরামর্শও ছিল

এখন টিকা নেয়ার পরামর্শ দেয়া আহজারী মার্চের প্রথম সপ্তাহে তার ভ্যারিফাইড পেজে একটি দোয়া শেয়ার করে সেটি বেশি বেশি পড়ার পরামর্শও দেন।

দোয়াটি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘করোনাভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে, প্রয়োজনীয় সতর্কতার পাশাপাশি এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করুন। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে এই ভয়াবহ ভাইরাস থেকে হেফাজত করুক।’

শেয়ার করুন

‘চেয়ারম্যান’ ইকবাল মাহমুদের অনিয়ম খুঁজে পায়নি দুদক

‘চেয়ারম্যান’ ইকবাল মাহমুদের অনিয়ম খুঁজে পায়নি দুদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের বিদায়ী চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

গত ১৪ মার্চ দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিদায়ের আগে দুর্নীতির বহু রাঘব বোয়ালকে ছেড়ে দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। এরপর উচ্চ আদালত এই ঘটনায় ব্যাখ্যা চায় দুদকের কাছে। দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিশনে কারও একার পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়। যাদের বিষয়ে অভিযোগের তথ্য প্রমাণ অনুসন্ধানে পাওয়া যায় না, সেই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের বিদায়ী চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ তার মেয়াদের শেষ পাঁচ মাসে দুই শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়মুক্তি দেয়ার বিষয়কে ‘অনুসন্ধান বাণিজ্য’ বলে একটি গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছে দুদক।

তবে এই ঘটনায় চেয়ারম্যানের একার পক্ষে কোনো সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব ছিল না বলে প্রতিবেদনে মত দেয়া হয়েছে।

এই প্রতিবেদন উচ্চ আদালতে দাখিল করা হবে। তবে এর একটি কপি আগেই পেয়েছে নিউজবাংলা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এর মধ্যে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত তথ্যটি বিভ্রান্তিমূলক, যা বস্তুনিষ্ঠ নয়।’

তবে যে প্রতিবেদক সংবাদটি করেছেন, তিনি নিউজবাংলাকে বলেছেন, যথেষ্ঠ সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই তিনি সেই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন। আদালত চাইলে তিনি সে নথিপত্র দাখিল করবেন।

কী ছিল সেই প্রতিবেদনে

গত ১৪ মার্চ দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিদায়ের আগে দুর্নীতির বহু রাঘব বোয়ালকে ছেড়ে দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তাদের দায়মুক্তি আড়াল করতে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন কিছু নিরীহ ও দুর্বল ব্যক্তিকে। সব মিলিয়ে শেষ ৫ মাসে তিনি ২ শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি (দায়মুক্তি) দেন।’

এই তথ্য ‘নির্ভরযোগ্য সূত্রের’ বলেও উল্লেখ করা হয় এতে।

দুদকে ‘অনুসন্ধান বাণিজ্য’ শিরোনামে সেই প্রতিবেদনে এও বলা হয়, ইকবাল মাহমুদ বিদায় নেয়ার আগে স্বীয় কৃতকর্মের অনেক দালিলিক প্রমাণই যথাসম্ভব ‘নিশ্চিহ্ন’ করে যান।

বলা হয়, এরপরও ওই প্রতিবেদকের হস্তগত হয় বেশকিছু নথি। সে অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই শতাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।

ইকবাল মাহমুদ চলতি বছরের ১০ মার্চ বিদায় নেন। তিনি ২০১৬ সালের ১০ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।

উচ্চ আদালতের আদেশ

এই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ১৬ মার্চ হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে আদালতের নজরে আনেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন মানিক। দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

পরে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দেয়। পাশাপাশি ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ঘটনাগুলোর বিষয়ে রুল জারি করে দুদকের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়।

এতে কত জনকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে, সে সংখ্যা জানতে চাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককেও সেই তথ্য জানাতে বলা হয়।

দুদকের প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে

আদালতের আদেশের পর দুদক এই বিষয়ে একটি প্রতিবদন তৈরি করেছে। এটি শিগগির আদালতে জমা দেয়া হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, তা সঠিক নয়। সংবাদটি বাস্তবতাবিবর্জিত। সংবাদে উপস্থিত তথ্যসমূহ বস্তুনিষ্ঠ হয়।’

এতে বলা হয়, ‘সংবাদে যে ৫ মাস সময়কালের উল্লেখ করা হয়েছে, সে সময়ে কমিশনের কার্যক্রম অন্যান্য সকল সময়ের মতোই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক যথাযথ নিয়ম, আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে আইন ও বিধির কোনো ব্যত্যয় করা হয়নি। উল্লেখ্য সিদ্ধান্তসমূহ আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবেই গ্রহণ করা হয়েছে এবং সকল সিদ্ধান্ত আইনগতভাবেই গ্রহণ করা হয়েছে।’

দুদকের পরিচালক আবুল হাসনাত মো. আবদুল ওয়াদুদ সাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “‘সংবাদের প্রথম বাক্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদায়ের আগে দুর্নীতির বহু রাঘব বোয়ালকে ছেড়ে দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান…’ এ কথাটি সত্য নয়। কারণ, কমিশনের চেয়ারম্যান বা কোনো কমিশনার এককভাবে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি বা ছেড়ে দিতে পারেন না। দুদক আইন ও বিধি মোতাবেক যে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ কমিশনের পক্ষে একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক অনুসন্ধান পরিচালনা করেন। অনুসন্ধান শেষে তিনি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দাখিল করেন।

“প্রাপ্ত প্রতিবেদন পর্যায়ক্রমে একজন অনুসন্ধান কার্যের তদারককারী (ঊর্ধ্বতন) কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক ও মহাপরিচালকগণ পর্যালোচনা করেন। প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে তাদের মতামতসহ কমিশনের নিকট উপস্থাপিত হয়। কমিশন মেরিট অনুযায়ী কেস টু কেস পর্যালোচনা শেষেই কেবল একটি অভিযোগ পরিসমাপ্তি অথবা মামলা দায়েরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন। অন্যান্য স্বাভাবিক সময়ের ন্যায়ে সংবাদে উল্লেখিত সময়কালে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে সকল অনুসন্ধান/তদন্ত যথাযথভাবে নিষ্পত্তি শেষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এককভাবে চেয়ারম্যানের পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সুযোগ ছিল না।”

দুদকের আইনজীবী যা বলছেন

সংস্থাটির আইনজীবী খুরশীদ আলম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইকবাল মাহমুদের মত একজন দক্ষ চেয়ার‌ম্যানকে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এ ধরনের নিউজ ছাপা হয়েছে। যেটাকে আমরা মনে করি হলুদ সাংবাদিকতা।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য হলো- ইনকিলাবে যে রিপোর্ট হয়েছে সেটি বিভ্রান্তিমূলক। এক ধরনের হলুদ সাংবাদিকতা। তার কারণ হলো দুদকের কোনো চেয়ারম্যান বা কমিশনার একা কোন কাজ করতে পারেন না।

‘দুদকের বিধি ১২ ধারা অনুযায়ী সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যদি সর্বসম্মত না হয়, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়। এককভাবে কোনো ব্যক্তির পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। এককভাবে কোনো ব্যক্তির কোনো কাজ দুদক আইনে অনুমোদন করে না। যা করে কমিশন আইন অনুযায়ী সর্ব সম্মতভাবে হয়ে থাকে। কাজেই প্রত্যেকটি কাজের ব্যাখ্যা দুদক থেকে দিয়েছেন। সেটি আমরা আদালতে দাখিল করব।’

কী বলছেন সেই প্রতিবেদক

দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনটি লিখেছেন সাঈদ আহমেদ খান। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘দায়মুক্তির ক্ষেত্রে তাদের (দুদক) যে সমস্ত ডকুমেন্ট রয়েছে, সেই ডকুমেন্টের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। আদালত চাইলে আমরাও আমাদের জবাব দেব। ডকুমেন্টগুলো সরবরাহও করব। আমরাও সেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘দুদকের আইনজীবী হিসেবে খুরশীদ আলম খান সঠিক বলেননি। তিনি শুধু দুদকের পক্ষে উকালতি করেছেন। আর আমরা অনুসন্ধানী রিপোর্ট করেছি তথ্য প্রমাণের বিভিত্তিতে। আমরা রিপোর্টে বলেছি তারা (দুদক) ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। অনেক প্রভাবশালী পয়সাওয়ালা ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময় তাদের এখতিয়ারকে পুঁজি করে দায়মুক্তি দিয়েছে। তার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।’

শেয়ার করুন

এবার শেখ হাসিনাকে আম পাঠাল পাকিস্তান

এবার শেখ হাসিনাকে আম পাঠাল পাকিস্তান

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাকিস্তানের পাঠানো উপহারের আম। ছবি: পাকিস্তান হাইকমিশন

ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশন জানায়, গত বছরের মতো এবারও পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য পাকিস্তানি তাজা আম উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে।

আগের বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আম উপহার পাঠিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভী।

সোমবার রাতে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ‘গত বছরের মতো এবারও পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য পাকিস্তানি তাজা আম উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে।’

এর আগে ২৩ জুলাই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জন্য আম পাঠান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইমরান খানের জন্য পাঠানো হয় রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙা আম।

এই আম কূটনীতিকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে দুই দেশের সম্পর্কের প্রতীক বলে উল্লেখ করে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

ওইদিন হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জন্য ১০০০ কেজি হাঁড়িভাঙা আম পাঠিয়েছেন।

এবার শেখ হাসিনাকে আম পাঠাল পাকিস্তান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর অফিসে হস্তান্তর করা হয় শেখ হাসিনার উপহারের আম। ফাইল ছবি

হাইকমিশন থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রিমিয়াম মানের হাঁড়িভাঙা আম পাঠিয়েছেন। এই উপহারের ভূয়সী প্রশংসা করেছে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ।

কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে সুস্বাদু আম উপহারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার এর পরিসর আরও বাড়ানো হয়। শুধু প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত নয়, বিভিন্ন দেশের রাজা-বাদশাহ, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর জন্য উপহার হিসেবে আম পাঠান তিনি।

শেয়ার করুন

টিকা কেনায় ২৬৭ কোটি টাকা ছাড়

টিকা কেনায় ২৬৭ কোটি টাকা ছাড়

নতুন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের বাইরেও করোনা টিকা কিনতে আলাদা ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চীন থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে দুই চালানে দেশে আসছে ৫০ লাখ টিকা। এছাড়া উপহার হিসেবে আর ১১ লাখ টিকা দিয়েছে চীন।

চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম থেকে করোনার টিকা কিনতে ২৬৭ কোটি টাকা অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার এই অর্থ ছাড় করেছে অর্থমন্ত্রণালয়।

চীন থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে দুই চালানে দেশে আসছে ৫০ লাখ টিকা। এছাড়া উপহার হিসেবে আর ১১ লাখ টিকা দিয়েছে চীন।

সব মিলিয়ে চীন থেকে সিনোফার্মের ৬১ লাখ টিকা দেশে আসছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আরও ৩০ লাখ টিকা দেশে আসার কথা রয়েছে।

নতুন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের বাইরেও করোনা টিকা কিনতে আলাদা ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, এবারের বাজেটে অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আলাদা ৫ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

সরকার দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের টিকা প্রদান নিশ্চিত করত চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে থোক বরাদ্দের ১০ হাজার কোটি টাকা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বরাদ্দের ৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হলে টিকা কেনার পেছনে ব্যয় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে আমাদের টাকার কোনো সমস্যা হবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় যখন যা চাইবে, চাহিদা অনুযায়ী অর্থ ছাড় করা হবে। কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে, টিকার অব্যবস্থাপনা। এই জায়গায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বেশি নজর দিতে হবে।’

শেয়ার করুন

শোক দিবসে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: আইজিপি

শোক দিবসে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: আইজিপি

সোমবার বিকেলে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অংশ নেন আইজিপি। ছবি; সংগৃহীত

‘আগস্ট আমাদের শো‌কের মাস। এ মাসে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে; রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী অনেক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছে। ১৭ আগস্ট জেএমবি দেশের ৬৩টি জেলায় সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছে। এ জন্য আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম, সর্বহারাদের অপতৎপরতা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ইত্যাদি বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।’

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সব ইউনিট প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ।

যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অনুষ্ঠানসমূহ আয়োজন করা হচ্ছে কি না তার দিকে খেয়াল রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার বিকেলে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সব মহানগর, রেঞ্জ ও জেলার পুলিশ সুপারদের এ নির্দেশনা দেন।

বেনজীর বলেন, ‘আগস্ট আমাদের শো‌কের মাস। এ মাসে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে; রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী অনেক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছে।

‘১৭ আগস্ট জেএমবি দেশের ৬৩টি জেলায় সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছে। এ জন্য আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম, সর্বহারাদের অপতৎপরতা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ইত্যাদি বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।’

আইজিপি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতিসহ তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

‘বিট পুলিশিং’ এর কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, “জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দেয়ার একটি কার্যকর এবং জনপ্রিয় পদ্ধতি ‘বিট পুলিশিং’।”

‘বিট পুলিশিং’ সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে উল্লেখ ক‌রে করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এটি চালু রাখার নির্দেশ দেন আইজিপি।

আইজিপি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে পুলিশ সদস্যদের পাশাপা‌শি তাদের পরিবারের সদস্যদের টিকা গ্রহণ নি‌শ্চিত কর‌তে সং‌শ্লিষ্ট‌দের‌কে নির্দেশনা দেন।

পুলিশ সদস্যদের করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য নিয়মিত ফোর্সকে ব্রিফ করতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেন তিনি।

বলেন, ‘বর্তমান অতিমারিতে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক পুলিশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। মানুষের পাশে থেকে তাদের হৃদয় ও মন জয় করার এ সুযোগ কাজে লাগানোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।’

আইজিপি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পুলিশ রেখে যেতে চাই, যাতে অবসরে গেলে পুলিশকে নিয়ে গর্ব করতে পারি। দেশের জনগণ গর্বভরে পুলিশের সেবা গ্রহণ করতে পারে।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পুলিশের সকল স্থাপনা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখারও তাগিদ দেন আইজিপি।

শেয়ার করুন