‘নগদ’ এর অভিযোগে তিন ‘প্রতারক’ গ্রেপ্তার

‘নগদ’ এর অভিযোগে তিন ‘প্রতারক’ গ্রেপ্তার

শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার তিন জন।

ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ প্রাথমিক পর্যায়ের এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর মায়ের মোবাইল নম্বরে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে গত বছরের দুই প্রান্তিকের উপবৃত্তি বিতরণ করেছে। কৌশলে এই টাকাই একটি চক্র হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে।

গ্রাহকের কাছ থেকে নানা কৌশলে পিন এবং ওটিপি জেনে নিয়ে অ্যাকাউন্টের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে ‘নগদ’ এর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ডিবি।

তারা প্রত্যেকেই প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

এই তিন জন হলেন, রংপুরের মিঠাপুকুরের মো. আসাদুল ও আবু বক্কর সিদ্দিক এবং নরসিংদী সদরের খবিরুল ইসলাম।

ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ প্রাথমিক পর্যায়ের এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর মায়ের মোবাইল নম্বরে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে গত বছরের দুই প্রান্তিকের উপবৃত্তি বিতরণ করেছে। কৌশলে এই টাকাই একটি চক্র হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে।

এপ্রিলের শুরুর দিকে রাজধানীর বনানী মডেল থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ করে ‘নগদ’। গঠন করা হয় তদন্ত কমিটিও।

‘নগদ’-এর অভিযোগ এবং অভন্তরীণ তদন্তের সূত্র ধরেই এই তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ডাক বিভাগের মোবাইল ব্যাংকি সেবা।

প্রতিষ্ঠানটির হেড অব ‘এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স‘ লে: কর্নেল মো. কাওসার সওকত আলী (অব:) আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘নগদ ব্যবহার করে ভবিষ্যতে কেউ অপরাধ সংগঠনের চেষ্টা করলে অপরাধীকে আইনের কাছে সমর্পণ করতে সব সময়ই আমাদের সুদৃঢ় অবস্থান রয়েছে। সরকারি আর্থিক সেবা হিসেবে গ্রাহকের তথ্য ও অর্থের নিরাপত্তা বিধান আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার এবং সে লক্ষ্যেই কাজ করছি আমরা।’

যা বলল পুলিশ

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ফাইনান্সিয়াল অ্যান্ড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মহিদুল ইসলাম জানান, অঞ্চলভেদে প্রতারকরা লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

তিনি জানান, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে কারা শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড অথবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী পরিচয় দিয়ে ছাত্রদের অভিভাবকদের ফোন করে। পরে কথা বলে ছাত্রদের সঙ্গে।

এর মাধ্যমে ছাত্রদের নাম, তারা কোন স্কুলে পড়ে সেটাও জেনে নেন। এরপর বলেন যে, তার একটি সমস্যা হয়েছে।

‘তোমাকে একটা ম্যাসেজ পাঠাচ্ছি, তুমি ম্যাসেজটা পরে আমাকে পাসওয়ার্ড নম্বরটা বলো’- এই কথা শুনে যারা পাসওয়ার্ডটি দেয়, তখন তারা সেটি ব্যবহার করে এজেন্টের কাছে গিয়ে ক্যাশ আউট করে নিত।

তিনি জানান, যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের দুই জনকে রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে আর একজনকে নরসিংদী সদর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নরসিংদী সদরের যিনি ধরা পড়েছেন তিনি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী।

পুলিশের ভাষ্য, উপবৃত্তির টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে কি না, অনভিজ্ঞের কাছ থেকে সেটি তিনি কৌশলে জেনে নিতে। আবার কৌশলে পিন নম্বরটা নিয়ে টাকা তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে নিয়ে বলতেন টাকা জমা হয়নি।

রংপুরের যারা ধরা পড়েছেন, তাদের একজন নগদের এজেন্ট। তিনিও কৌশলে চাত্রদের পিন নম্বর নিয়ে নিতেন। টাকা জমা হলেই তা সরিয়ে নিতেন।

মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতারকদের উদ্দেশ্যে আমরা একটি ম্যাসেজ দিতে চাচ্ছি। সেটা হলো, আপনাদের ট্রেস আউট করা যাবে না এটা ভুল ধারণা। প্রতারকদের আইনের আত্ততায় আনার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ যথেষ্ট সক্ষম এবং আমাদের একটা স্পেশাল ইউনিট আছে- ফাইন্যানসিয়াল ক্রাইম ইনভেন্টিগেশন টিম। আমাদের টিম সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
নগদ টাকার বড় চাহিদা
নগদ অ্যাপে মেটলাইফের প্রিমিয়াম জমা  
‘নগদ’-এর মাধ্যমে জাকাত-ফিতরা
র‍্যাব সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী দিল ‘নগদ’
‘নগদ’-এ ১৫ লাখ পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে শাহবাগে অবরোধ প্রত্যাহার

বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে শাহবাগে অবরোধ প্রত্যাহার

আট দফা দাবি জানিয়ে শনিবার দুপুরে শাহবাগ ছাড়ে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। ছবি: নিউজবাংলা

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আট দফার অন্যতম হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের মধ্যে ও পরবর্তী সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন।

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার জেরে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের ওপর সহিংসতার বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ আট দফা দাবি জানিয়ে শাহবাগে অবস্থান ছেড়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।

সংগঠনটি একই সঙ্গে তিন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।

শাহবাগ মোড় ছেড়ে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের দিকে যায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা-কর্মীরা।

এর আগে সকাল ছয়টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘গনঅনশন ও গণঅবস্থান’ করে সংগঠনটি।

গণঅবস্থান চলাকালে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের একটি অংশ।

দুপুর সাড়ে ১২টার আগে মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির পানি পান করিয়ে আন্দোলনকারীদের অনশন ভাঙ্গান।

আট দফা

গণঅনশন ও গণঅবস্থানে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ সংগঠনের পক্ষে আট দফা দাবি উত্থাপন করেন।

১. শারদীয় দুর্গোৎসবের মধ্যে ও পরবর্তী সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন।

২. সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সব মন্দির, বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ, গৃহহীনদের পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়া ছাড়াও আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। স্বজন হারানো প্রতিটি পরিবারকে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা দেয়া অথবা প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের একজনকে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরিতে নিয়োগ দেয়া।

৩. নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক হামলাকারী ও তাদের পেছনে থাকা চক্রান্তকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে শাস্তি নিশ্চিত করা।

৪. হামলা রোধে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ও অবহেলা প্রদর্শনকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া।

৫. বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছাড়াও সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করে বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

৬. প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় যেসব জনপ্রতিনিধি এগিয়ে আসেনি, তাদেরও চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়া।

৭. ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত সংগঠিত সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলো তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশনায় গঠিত সাহাবুদ্দিন কমিশনের সুপারিশ সংবলিত রিপোর্ট অনতিবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া।

৮. ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে সরকারি দলের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিশ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের দ্রুত বাস্তবায়নসহ ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের কাছে দেয়া অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়ন।

তিন কর্মসূচি

মনীন্দ্র কুমার নাথ তিনটি কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

১. আট দফার সমর্থনে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ‘চল চল ঢাকায় চল’ স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা।

২. আটটি দাবি বাস্তবায়নে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিটি সংগঠন আলাদা ও যৌথভাবে জনসংযোগ ও প্রতিবাদী কর্মসূচি এগিয়ে নেবে।

৩. আগামী ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় শ্যামাপূজায় দীপাবলী উৎসব বর্জন, সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোয়া ৬টা পর্যন্ত কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে মন্দিরে নীরবতা পালন এবং মন্দির/মণ্ডপের ফটকে কালো কাপড়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বিরোধী স্লোগান সংবলিত ব্যানার টাঙানো হবে।

আরও পড়ুন:
নগদ টাকার বড় চাহিদা
নগদ অ্যাপে মেটলাইফের প্রিমিয়াম জমা  
‘নগদ’-এর মাধ্যমে জাকাত-ফিতরা
র‍্যাব সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী দিল ‘নগদ’
‘নগদ’-এ ১৫ লাখ পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জে হামলা: ফেসবুকে পোস্টের পর মাইকিং

পীরগঞ্জে হামলা: ফেসবুকে পোস্টের পর মাইকিং

পীরগঞ্জের করিমপুরে হিন্দুপল্লিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

এ ঘটনার জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার সৈকত মন্ডল ও তার সহযোগী রবিউল ইসলামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব। বাহিনীটি বলছে, পীরগঞ্জে হিন্দুদের বাড়িতে হামলার হোতা সৈকত।

ফেসবুকে পোস্টের পর মাইকিংয়ের মাধ্যমে লোক জড়ো করে রংপুরের পীরগঞ্জের জেলে পাড়ায় হিন্দুদের বাড়িতে হামলা করা হয়। আর গ্রেপ্তার সৈকত মন্ডলই এ ঘটনার হোতা বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে শুক্রবার রাতে টঙ্গী থেকে সৈকত মন্ডল ও তার সহযোগী রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার দুপুরে কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অরাজকতা তৈরি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের লক্ষ্যে হামলা-অগ্নিসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং মাইকিং করে হামলাকারীদের জড়ো করেন বলে জানিয়েছেন। গ্রেপ্তার সৈকত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণকে উত্তেজিত করে তোলেন। এ ছাড়া, তিনি উক্ত হামলা ও অগ্নিসংযোগে অংশগ্রহণে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করেন।’

র‌্যাব বলছে, সৈকতের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে বাড়িঘর, দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন। সৈকত রবিউলকে মাইকিং করে লোকজন জড়ো করতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ঘটনার পর সৈকত আত্মগোপনে চলে যান।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সৈকত মন্ডল রংপুরের একটি কলেজের স্নাতকে অধ্যয়নরত। তিনি রংপুর পীরগঞ্জের হামলা এবং অগ্নিসংযোগের অন্যতম হোতা। বিভিন্ন সময়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন উসকানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট এবং শেয়ার করতেন তিনি।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত রবিউল রংপুরের পীরগঞ্জের হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্যতম উসকানিদাতা। তিনি উক্ত হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাইকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে, মিথ্যাচার করে গ্রামবাসীকে উত্তেজিত করে তোলেন এবং ওই হামলায় অংশগ্রহণের জন্য জড়ো হতে বলেন।

‘এরপর তিনি মাইকিংয়ের দায়িত্ব তার আস্থাভাজনকে দিয়ে নিজে সশরীরে অংশগ্রহণ করেন এবং নির্দেশনা দেন। গ্রেপ্তার রবিউল জানায়, সৈকতের নির্দেশনায় এবং প্ররোচনায় তিনি মাইকিং করাসহ হামলায় অংশগ্রহণ করেন। ঘটনা পরবর্তীতে তিনিও আত্মগোপনে চলে যান।’

র‌্যাব জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টায় কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ফেনী এবং রংপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় স্বার্থন্বেষী মহলের অপতৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এ ছাড়া, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা করছে চক্রান্তকারীরা।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এসব সহিংসতায় জড়িত থাকার সন্দেহে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা ও বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের অভিযানে প্রায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, সৈকত যে ফেসবুক পেজটি ব্যবহার করেছে সেখানে ৩ হাজারের বেশি ফলোয়ার। দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লার একটি মণ্ডপে কোরআর রাখার ঘটনার পরপরই তিনি ফেসবুকে পোস্ট দেন। পোস্টে লেখেন, ‘আমাদের এক হতে হবে…।’

সৈকত একটি দুর্বল সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সৈকত মন্ডল ছাত্রলীগের কোনো পদে ছিলেন কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সৈকত রংপুরের একটি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী। রংপুরে ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে নিজে প্রচার করতে পারে, কিন্তু তার কোনো রাজনৈতিক পদ ছিল না। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার কোনো সম্পৃক্ততাও আমরা পাইনি।’

সৈকত ফেসবুকে কী ধরনের পোস্ট করতো, এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের এই মুখপাত্র বলেন, ‘সৈকত তার ফেসবুকে পেজে বিভিন্ন ছোট-বড় ইস্যুতে বিভিন্ন উসকানিমূলক পোস্ট দিত। মূলত কুমিল্লার ইস্যুর পর থেকেই তার ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে আসছিল। এরপর রংপুরের পীরগঞ্জে যখন একটি ঘটনা ঘটে। এরপর সৈকত একের পর এক উসকানিমূলক পোস্ট দিতে থাকে। মূলত তার এসব পোস্ট দেখেই পীরগঞ্জে শত শত লোক জড়ো হয়েছিল।’

সৈকতের সহযোগী রবিউলের বিষয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্রেপ্তার রবিউল প্রথমে পাশের মসজিদ থেকে মাইকিং করা শুরু করেন। এরপর তিনি মাইকিংয়ের দায়িত্ব তার সম্পর্কে এক কাজিনের কাছে দেন। মাইকিংয়ের ভাষা ছিল এমন- পরিতোষ নামের যে ছেলেটি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে, এটি কাবাঘর অবমাননা। এলাকাবাসী ও তৌহিদি জনতা একত্রিত হোন।’

আরও পড়ুন:
নগদ টাকার বড় চাহিদা
নগদ অ্যাপে মেটলাইফের প্রিমিয়াম জমা  
‘নগদ’-এর মাধ্যমে জাকাত-ফিতরা
র‍্যাব সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী দিল ‘নগদ’
‘নগদ’-এ ১৫ লাখ পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

শেয়ার করুন

সহিংসতার প্রতিবাদে শাহবাগ অবরোধ, বিশিষ্টজনদের সংহতি

সহিংসতার প্রতিবাদে শাহবাগ অবরোধ, বিশিষ্টজনদের সংহতি

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আয়োজনে সকাল থেকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণঅনশন, গণঅবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল হয়। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা-কর্মীরা শনিবার বেলা ১১টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। এর আগে সকাল ছয়টা থেকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণঅনশন, গণঅবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল হয়।

কুমিল্লায় মণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার প্রতিবাদে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।

এতে সংহতি জানিয়েছেন রাজনীতিক, শিক্ষক, অধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ঐক্য পরিষদের নেতা-কর্মীরা শনিবার বেলা ১১টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। এর আগে সকাল ছয়টা থেকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণঅনশন, গণঅবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল হয়।

কী বলছেন অংশগ্রহণকারীরা

সকাল ৭টার দিকে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্য উপস্থিত হন সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

সংহতি জানিয়ে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এই হামলা শুধু হিন্দুদের ওপর হামলা নয়; গোটা বাঙালির ওপর হামলা। প্রশাসনের গাফিলতির কারণে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে। হামলা ঠেকাতে না পারার জন্য দায়ী প্রশাসনের একটি অংশ।

‘এই হামলার প্রতিবেদন দেখে আমার মনে হয়েছে, হামলা ঠেকাতে কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতা আছে, কিছু ক্ষেত্রে অদক্ষতা আছে, কিছু ক্ষেত্রে গাফিলতি আছে। নোয়াখালীসহ বেশ কয়েক জায়গায় আমি দেখেছি প্রশাসনের উদ্দেশ্যমূলক নিষ্ক্রিয়তা। এটা খুবই ভয়াবহ ঘটনা। এই ধরনের হামলা ঠেকাতে সাম্প্রদায়িক জঙ্গি গোষ্ঠীকে আর ছাড় দেয়া যায় না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘কোরআন অবমাননার জন্য হিন্দুদের ওপর হামলা চালানো হয়নি; বরং তাদের ওপর হামলা চালানোর উদ্দেশ্যেই কোরআনকে তাদের মন্দিরে রেখে আসা হয়।

‘হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি পুনরুদ্ধারের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা রাখতে হবে। এবারের এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, শুধু প্রতিবাদ করলে হবে না; প্রতিরোধও গড়ে তুলতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন কর্মকার বলেন, ‘এ দেশের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এটি করা না হলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।’

মহিলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য বলেন, ‘সারা দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর যে হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা চলছে, তার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌমিক।

শারদীয় দুর্গোৎসব চলাকালে কুমিল্লা শহরে একটি মণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখাকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের ওপর হামলা হয়। এর রেশ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলা করে দুর্বৃত্তরা।

এসব ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারা দেশে প্রতিবাদ জানাচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আরও পড়ুন:
নগদ টাকার বড় চাহিদা
নগদ অ্যাপে মেটলাইফের প্রিমিয়াম জমা  
‘নগদ’-এর মাধ্যমে জাকাত-ফিতরা
র‍্যাব সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী দিল ‘নগদ’
‘নগদ’-এ ১৫ লাখ পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

শেয়ার করুন

নিষেধাজ্ঞায়ও থেমে নেই ইলিশ ধরা

নিষেধাজ্ঞায়ও থেমে নেই ইলিশ ধরা

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই চাঁদপুরে চলছে ইলিশ ধরার মহোৎসব। ছবি: নিউজবাংলা

চাঁদপুরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জেলে জানান, অভাবের তাড়নায় অনেক জেলে জেল-জরিমানার ঝুঁকি নিয়েও নদীতে নামছে ইলিশ ধরতে। এ কাজে অভিযানে জড়িত কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে। তা ছাড়া নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের ২০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়েছে ১৪-১৫ কেজি করে।

মা ইলিশ রক্ষায় গত ৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিন সরকার সারা দেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করলেও তা খুব একটা মানছেন না অনেক জেলে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদপুরে দিন-দুপুরে চলছে ইলিশ ধরা এবং কেনা-বেচা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে ইলিশ ধরা হচ্ছে ভোলা, বরগুনা ও ঝালকাঠিতেও।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনায় জেলেদের ইলিশ ধরার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে নিয়মিত। মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করলেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে ইলিশ ধরার মহোৎসব। নিষেধাজ্ঞায় দাম কম থাকায় ইলিশ কিনতে নদীতীরে প্রতিদিনই ভিড় করেন ক্রেতারা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ইলিশ রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দিন-রাত অভিযান চালানো হচ্ছে নদীতে। আর সচেতন জেলেরা বলছেন, এভাবে মা ইলিশ নিধন করা হলে ভবিষ্যতে ইলিশ সংকট আরও প্রকট হবে।

চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান জানান, আশ্বিন মাসের অমাবস্যা ও ভরা পূর্ণিমায় মা ইলিশ ডিম ছাড়তে সমুদ্র ছেড়ে নদীর মিঠা পানিতে ছুটে আসে। ইলিশের ডিমের পরিপক্বতা ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে এবং আগের গবেষণার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়।

তিনি বলেন, এ বছর ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটারসহ দেশের উপকূলীয় জেলার নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ে যদি মা ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে দেয়া যায়, তবে আগামী বছর ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।

চাঁদপুর সদরের পুরানবাজার থেকে হরিণা পর্যন্ত, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের পুরো এলাকা, সদর উপজেলার আনন্দ বাজার, মতলব উত্তরের মোহনপুর এখলাসপুর, ষাটনল এলাকায় এবং হাইমচর উপজেলার কাটাখালী, গাজীনগর এবং চরভৈরবী এলাকায় বিকেল থেকে ভোর পর্যন্ত মা ইলিশ ধরার মহোৎসব চলে। মা ইলিশ রক্ষায় প্রতিদিন প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগের লোকজন অভিযান চালাচ্ছে, কিন্তু কিছুতেই নিভৃত করা যাচ্ছে না অসাধু জেলেদের।

নিউজবাংলার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ইলিশ ধরা চলছে ভোলা, বরগুনা ও ঝালকাঠিতেও। ভোলার মনপুরা, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে রাতের আঁধারে ইলিশ ধরছেন অনেক জেলে। লুকিয়ে লুকিয়ে ইলিশ শিকার চলছে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী, বিষখালী নদী এবং বরগুনার নদীগুলোতেও।

কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে জেলেদের সংঘর্ষেরও খবর পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জ সদরের মেঘনায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে গিয়ে জেলে ও এলাকাবাসীর হামলায় আহত হয়েছেন নৌপুলিশের পাঁচ সদস্য।

তবে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বেশি ইলিশ ধরা হচ্ছে চাঁদপুরে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জেলে জানান, অভাবের তাড়নায় অনেক জেলে জেল-জরিমানার ঝুঁকি নিয়েও নদীতে নামছে ইলিশ ধরতে। এ কাজে অভিযানে জড়িত কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে। তা ছাড়া নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের ২০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়েছে ১৪-১৫ কেজি করে।

এভাবে চলতে থাকলে অভিযানে সফলতা আসবে না বলেও মনে করছেন অনেকে।

সদর উপজেলার হরিণা ফেরিঘাট এলাকার জেলে মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘আমরা যারা প্রকৃত জেলে রয়েছি, তারা ইলিশ না ধরলেও অনেকেই পেটের দায়ে মাছ ধরতে যায়। তাদের অনেকে আবার ধরাও পড়েছে। জেলেদের চাল দেয়ার পাশাপাশি নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হলে তারা মাছ ধরতে যেত না। অভিযান সফল করতে জেলেদের সহায়তা বৃদ্ধি করতে হবে। তাহলেই অভিযানের সময়ে জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে নামবে না।’

নিষেধাজ্ঞায়ও থেমে নেই ইলিশ ধরা

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে ইলিশ শিকার করতে না পারে, সে জন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা পুলিশ, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে দিন-রাত অভিযান পরিচালনা করছি। আমরা ইলিশ রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

জেলা মৎস্য থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ৪৪ হাজার ৩৫ জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। তা ছাড়া নিষেধাজ্ঞার পর থেকে এ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। দুই শতাধিক জেলেকে অর্থদণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

চাঁদপুর অঞ্চরের নৌপুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষায় আমরা নিয়মিতভাবে নদীতে টহল দিয়ে যাচ্ছি। কোনো অবস্থায় যেন জেলেরা ইলিশ নিধন করতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারি করছি। তার পরও অনেক সময় কিছু অসাধু জেলে নদীতে নেমে মাছ ধরার চেষ্টা করে। তাদের বিরত রাখতেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
নগদ টাকার বড় চাহিদা
নগদ অ্যাপে মেটলাইফের প্রিমিয়াম জমা  
‘নগদ’-এর মাধ্যমে জাকাত-ফিতরা
র‍্যাব সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী দিল ‘নগদ’
‘নগদ’-এ ১৫ লাখ পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জ হামলার অন্যতম হোতা গ্রেপ্তার: র‍্যাব

পীরগঞ্জ হামলার অন্যতম হোতা গ্রেপ্তার: র‍্যাব

রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুরে সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম পরিচয় জানানো হয়নি। র‍্যাব দাবি করছে, তিনি হামলার অন্যতম হোতা। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু পল্লীতে সাম্প্রদায়িক হামলা ও আগুন দেয়ার ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম পরিচয় জানানো হয়নি। বাহিনীটি দাবি করছে, তিনি হামলার অন্যতম হোতা।

শুক্রবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক আ ন ম ইমরান খান।

র‍্যাব বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে। সংবাদ সম্মেলনটি কারওয়ান বাজরে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে।

১৭ অক্টোবর রাতে পীরগঞ্জের রামনাথপুরের উত্তরপাড়ায় হিন্দু পল্লীতে হামলার ঘটনায় হওয়া তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলায় ৩৭ আসামিকে বৃহস্পতিবার তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

বাহিনীটির একটি সূত্র জানিয়েছে, রিমান্ডে থাকা অনেকেই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন:
নগদ টাকার বড় চাহিদা
নগদ অ্যাপে মেটলাইফের প্রিমিয়াম জমা  
‘নগদ’-এর মাধ্যমে জাকাত-ফিতরা
র‍্যাব সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী দিল ‘নগদ’
‘নগদ’-এ ১৫ লাখ পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

শেয়ার করুন

বিআরটিএ অফিসে শর্ষের মধ্যে ভূত: কাদের

বিআরটিএ অফিসে শর্ষের মধ্যে ভূত: কাদের

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। ফাইল ছবি

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের আলোচনায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অনেকগুলো ত্রুটি আমাদের আছে, সেটা তো অস্বীকার করে লাভ নেই। সুন্দর সুন্দর ব্যানার পোস্টার করলেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয় না। নিরাপদ সড়ক দিবস করতে হবে প্রতিদিন।’

নিজের মন্ত্রণালয়ের বিস্তর উন্নয়নের পরও সড়ককে নিরাপদ না করতে পারায় স্বস্তিতে নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের আলোচনায় ওই মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা সড়কে শৃঙ্খলা কেন আনতে পারব না? সড়কে শৃঙ্খলা আনা বড় চ্যালেঞ্জ।’

শুক্রবার জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২১ উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ওই আলোচনায় এবারের বিষয় ছিল ‘গতিসীমা মেনে চলি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করি।’

তার বক্তব্যের আগে হাইওয়ে পুলিশের আইজিপি মল্লিক ফখরুল ইসলাম গত ৯ মাসের জরিমানার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

সে প্রসঙ্গ তুলে হাইওয়ে পুলিশের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘কত টাকা জরিমানা তুলেছেন, এটার হিসাব দিয়ে কোনো লাভ নেই। এটা কোনো বিষয় নয়। আমার কাছে বিষয় সড়ক নিরাপদ আছে কি না। গাড়িগুলো নিয়মমতো চলছে কি না, গাড়ির ফিটনেস আছে কি না, চালকের ফিটনেস, গাড়ির চালক গাড়ি চালাবার যোগ্য কি না, গাড়ি ওভারলোডেড কি না, গাড়ি বেশি গতিতে চলছে কি না। আমি এটাই দেখব। আমার কাছে বিষয় দুর্ঘটনা কমেছে কি না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। পাখির মতো মানুষ মরে, মাছির মতো মানুষ মরে। এ মর্মান্তিক দৃশ্যপট মানুষ হিসেবে সইতে পারি না। অনেক কষ্ট হয়।’

তিনি বলেন, ‘অনেকগুলো ত্রুটি আমাদের আছে, সেটা তো অস্বীকার করে লাভ নেই। সুন্দর সুন্দর ব্যানার পোস্টার করলেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয় না। নিরাপদ সড়ক দিবস করতে হবে প্রতিদিন।’

কাদের বলেন, ‘এত উন্নয়ন হলো, কিন্তু অনেকে বলেন এই কাজটি হয় না কেন। সড়কে শৃঙ্খলা কেন আনতে পারব না। এখন সংকট শৃঙ্খলা, পরিবহন ও সড়কের। এখানে ব্যর্থ হলে আমাদের উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাবে। এটাই আমাদের চ্যালেঞ্জ।’

মন্ত্রী হলেও আমি তো মানুষ

বক্তব্যের শুরুতে প্রতিদিন সড়কে মৃত্যু নিজেকে কষ্ট দেয় বলে জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘প্রতিদিন সকালটা আমার কাছে আসে ভিন্নভাবে, সবার দিন শুরু হয় একভাবে, আর আমার দিনটি শুরু হয় অন্যভাবে। কাগজের পাতার অপ্রত্যাশিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা খবর পড়ে আমার দিন শুরু হয়। মন্ত্রী হলেও আমি তো মানুষ। আমারও কষ্ট হয়। আমিও দগ্ধ হই অদেখা দহনে। মনে হয় আমিও সেই অসহায় পরিবারের একজন।’

আগামীতে তার মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প আসছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘অবকাঠামোগতভাবে পরিবর্তন দৃশ্যমান। আগামী বছর সড়কে আমি তো বলব বৈপ্লবিক পরিবর্তন পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে, আমি গর্ব করে বলব, আমার মন্ত্রণালয়ে মেগা প্রকল্পগুলো আগামী বছর উদ্বোধন হবে। সেগুলো হলো পদ্মা সেতু, এমআরটি লাইন ৬, মেট্রোরেল, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ও চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেল।’

আগামীতে চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে আরেকটি মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধন করা হবে বলেও এ সময় জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২৪ অক্টোবর পায়রা সেতুর উদ্বোধন হবে। আর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

এত উন্নয়নমূলক কাজের পরও স্বস্তি পাচ্ছেন না বলে আলোচনায় জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘এত কিছু করার পরও আমি স্বস্তি পাচ্ছি না।’

রাজনৈতিক তদবির বন্ধ করেছি

আলোচনায় তার মন্ত্রণালয়ে রাজনৈতিক তদবির বন্ধ করেছেন বলে দাবি করেন মন্ত্রী। বলেন, ‘আমার মন্ত্রণালয়ে রাজনৈতিক তদবির বন্ধ করে দিয়েছি। ইঞ্জিনিয়ার ট্রান্সফার, বিআরটিএ-এর অফিসার ট্রান্সফার, এসব তদবির শুরুতে আমার জন্য ছিল চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু আমি কঠোর হয়েছি, প্রধানমন্ত্রী আমাকে সাপোর্ট দিয়েছেন, সচিবরা আমার সঙ্গে ছিল, যে কারণে আমি এসব প্র্যাকটিস বন্ধ করতে পেরেছি।

‘মন্ত্রীকে কিছু দিয়ে চিফ ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার একটা প্র্যাকটিস মন্ত্রণালয়ে আগে ছিল। কিন্তু আমি আসার পর তা বন্ধ করেছি। সেই প্র্যাকটিস এখন আর নেই। কাউকে টাকা দিয়ে যদি চিফ ইঞ্জিনিয়ার হতে হয়, ওই টাকা সে ওঠাবে যখন দায়িত্ব পাবে। এটাই তো স্বাভাবিক।’

বিআরটিএতে শর্ষের মধ্যে ভূত

নিজ বক্তব্যে টিআরটিএর দুর্নীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন মন্ত্রী। বলেন, ‘রাজনৈতিক তদবির হয়, কারণ সবাই আসতে চায় মিরপুরে না হলে ইকুরিয়ায় (কেরানীগঞ্জ)। টাকার খনি আছে ওখানে। যেখানে গাড়ি বেশি সেখানে সবাই ট্রান্সফার হয়ে যেতে চায়। এসব অপকর্ম আমি বন্ধ করেছি।’

বিআরটিএ চেয়ারম্যানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি বলব, যা বন্ধ হয়নি সেটা বন্ধ করেন। এখনও বিআরটিএ অফিসগুলোতে শর্ষের মধ্যে ভূত। এই ভূত হলো দালাল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভেতরের আশ্রয়-প্রশয় না পেলে কীভাবে বাইরে থেকে তারা দৌরাত্ম্য করে? এগুলো বন্ধ করতে হবে যেকোনো মূল্যে। আমি কোনো রাজনৈতিক সুবিধা কাউকে অ্যালাউ করি না।’

বিআরটিএ চেয়ারম্যানের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে কাদের বলেন, ‘বিআরটিএতে অপকর্ম যারা করে, তাদের ভালো হয়ে যেতে বলুন চেয়ারম্যান সাহেব। এগুলো নিয়ে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নিন।’

এক পশলা বৃষ্টিতে রাস্তা উঠে যায়

এ সময় আলোচনায় উপস্থিত ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অনেক ইঞ্জিনিয়ার ভালো কাজ করেন। কিন্তু কেউ কেউ যে কাজ করেন, এক পশলা বৃষ্টি হলেই সে রাস্তা ভেসে যায়। এ রাস্তা করার কোনো দরকার নেই। কাজের মান ঠিক রাখুন। যারা ভালো কাজ করে আমি তাদের প্রশংসা করব।’

মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এক বছরের মধ্যে কিছু চার লেন রাস্তা এবড়োখেবড়ো হয়ে গেছে। দেশের টাকা খরচ করে এই রাস্তা করার দরকারটা কী?’

এ সময় উপস্থিত সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের উদ্দেশে মহাসড়কে চালকদের জন্য নির্মাণাধীন বিশ্রামাগার প্রকল্প দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

সড়ক ও মহাসড়ক পরিবহনের সচিব নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের ইলিয়াস কাঞ্চন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সবুর ও হাইওয়ে পুলিশের আইজিপি মল্লিক ফখরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
নগদ টাকার বড় চাহিদা
নগদ অ্যাপে মেটলাইফের প্রিমিয়াম জমা  
‘নগদ’-এর মাধ্যমে জাকাত-ফিতরা
র‍্যাব সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী দিল ‘নগদ’
‘নগদ’-এ ১৫ লাখ পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

শেয়ার করুন

শনাক্ত ও মৃত্যু দেড় বছরে সর্বনিম্ন

শনাক্ত ও মৃত্যু দেড় বছরে সর্বনিম্ন

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় আগের মতোই জমে উঠেছে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ১২৯ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৮০৫ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গত দেড় বছরের মধ্যে যা সর্বনিম্ন। এর চেয়ে কম মৃত্যু হয়েছিল গত বছরের ৬ মে। সেদিন ৩ জনের মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ ধরা পড়েছে ২৩২ জনের শরীরে। এই হিসাবটিও গত দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।

এর আগে গত বছরের ১৪ এপ্রিল এর চেয়ে কম শনাক্ত ছিল। সেদিন ২০৯ জনের দেহে করোনা ধরা পড়ার তথ্য দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শুক্রবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ১২৯ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৮০৫ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৩২টি ল্যাবে করোনার ১৭ হাজার ১০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনাক্তের হার ১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো দেশে পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সেই দেশে মহামারি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরা হয়। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এখন নিয়ন্ত্রণে। সরকারের লক্ষ্য এই হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। এ জন্য সাবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী মার্চে আরও একটি ঢেউ আসতে পারে। এটি প্রতিরোধে এখন থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

গত বছরের মার্চে ছড়ানো করোনা বছরের শেষে নিয়ন্ত্রণে আসার পর চলতি বছর এপ্রিলের আগে থেকে আবার বাড়তে থাকে। এর মধ্যে প্রাণঘাতী ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়লে এপ্রিলের শুরুতে লকডাউন এবং ১ জুলাই থেকে শাটডাউন দেয় সরকার।

তবে সংক্রমণ কমে আসার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়া শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত এক দিনে মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২ জন, নারী ২ জন। এর মধ্যে পঞ্চাশোর্ধ্ব ৩ ও ষাটোর্ধ্ব ১ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। এর পরই চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ১ জন করে মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ৫৬৪ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হলো ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৬৪৭ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
নগদ টাকার বড় চাহিদা
নগদ অ্যাপে মেটলাইফের প্রিমিয়াম জমা  
‘নগদ’-এর মাধ্যমে জাকাত-ফিতরা
র‍্যাব সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী দিল ‘নগদ’
‘নগদ’-এ ১৫ লাখ পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

শেয়ার করুন