বাঁশখালী হত্যাকাণ্ড: দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি

নির্মাণাধীন কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়। ছবি: নিউজবাংলা।

বাঁশখালী হত্যাকাণ্ড: দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি

৬৩ বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতিতে ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে বাঁশখালীতে নিহতদের পক্ষে মামলা; বাঁশখালী কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল ও বিনিয়োগকারী কোম্পানির অব্যবস্থাপনা ও বেআইনি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা এবং হতাহতদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা রয়েছে।

বাঁশখালীতে হত্যা, হামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন ৬৩ বিশিষ্ট নাগরিক। বিবৃতিতে বাঁশখালীর জনগণের জীবন-জীবিকা, সম্পদ ও পরিবেশের অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ছয়টি দাবিও জানান তারা।

দাবির মধ্যে রয়েছে প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ আহমেদের নামে করা মামলা প্রত্যাহার ও তার মুক্তি; ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল; ১৭ এপ্রিল গুলিবর্ষণের জন্য দায়ী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে বিচার; বাঁশখালীতে নিহতদের পক্ষে মামলা; বাঁশখালী কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল ও বিনিয়োগকারী কোম্পানির অব্যবস্থাপনা ও বেআইনি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা এবং হতাহতদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বাঁশখালীতে গুলিবর্ষণের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি ওঠার পরও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার বরং ভুক্তভোগীসহ সবার কথা বলার অধিকার নানাভাবে খর্ব করেছে।

সর্বশেষ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় পুলিশ গণ্ডামারা থেকে প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে। এর ফলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কেউ ভবিষ্যতে কথা বলার সাহস পাবে না।

ফেসবুক পোস্টে শাহনেওয়াজ আহমেদ প্রকল্পের বিষয়ে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেছেন এবং যুবসমাজকে লেখনীর মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে দাবি করা হয় বিবৃতিতে।

এতে বলা হয়েছে, এ ঘটনাকে কোনোভাবেই আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা মনে হওয়ার যুক্তিসংগত কোনো কারণ নেই।

বিশিষ্ট নাগরিকদের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, মামলা ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে।

তারা বলেন, ‘গত ৪ মে হাইকোর্ট নিহতদের প্রত্যেককে আপাতত পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার পাশাপাশি বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত শ্রমিক, শ্রমিকদের পরিবার ও এলাকাবাসীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেয়ার এবং তাদের কোনো প্রকার হয়রানি না করার আদেশ দেয়। এই মামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ সরাসরি লঙ্ঘন করা হয়েছে।’

এ ঘটনার পর নিরপেক্ষ তদন্ত করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন বিশিষ্ট নাগরিকরা। বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ‘বাঁশখালীতে পুলিশের গুলিতে গ্রামবাসী-শ্রমিকদের নিহত-আহত হওয়ার ঘটনায় কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকরী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বরং ৩ হাজার ৫৬২ জন নিরস্ত্র শ্রমিক ও এলাকাবাসীকে আসামি করে প্রকল্প উদ্যোক্তা ও পুলিশ মামলা করেছে, যা অব্যাহত হয়রানির সুযোগ সৃষ্টি করছে।’

বিবৃতিতে সই করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ব্র্যাকের চেয়ারপারসন হোসেন জিল্লুর রহমান, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সদস্যসচিব বদিউল আলম মজুমদার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ফারাহ কবীর, নারী অধিকারকর্মী শিরীন পারভীন হকসহ আরও অনেকে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পানপুঞ্জি দখলের ঘটনার তদন্ত দাবি

পানপুঞ্জি দখলের ঘটনার তদন্ত দাবি

এক নাগরিক প্রতিনিধিদল গত ৭-৮ জুন ক্ষতিগ্রস্থ পুঞ্জিগুলো পরিদর্শন করে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। ছবি: নিউজবাংলা

‘ভূমি সমস্যা সমাধান করা যাবে না। এটার জন্য নতুন ভাবে ভূমি ও বন-নীতি করা লাগবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।’

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা ও কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর পানপুঞ্জিগুলোতে বহিরাগতরা প্রবেশ এবং জবরদখলের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে মানবাধিকারকর্মী ও পরিবেশকর্মীরা।

ঢাকা থেকে মানবাধিকারকর্মী, পরিবেশকর্মী, শিক্ষক, আদিবাসী সংগঠক, গবেষক, সাংবাদিকদের এক নাগরিক প্রতিনিধিদল গত ৭-৮ জুন ক্ষতিগ্রস্থ পুঞ্জিগুলো পরিদর্শন করে।

এই পরিদর্শনে দেখা অভিজ্ঞতা নিয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সেখানে মূল বক্তব্যে প্রতিনিধি দলের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, মৌলভীবাজার, সিলেট ও হবিগঞ্জের খাসি ও মান্দিরা ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সদস্যরা ঐতিহ্যগতভাবে বনবিভাগ, চা-বাগান এবং কিছু খাসজমি এলাকায় বসবাস করেন।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ‘পুঞ্জিবাসী নৃ গোষ্ঠীর জীবনজীবিকার সুরক্ষাই প্রথম অগ্রাধিকার’ বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার বরাত দিয়ে জোবাইদা নাসরীন বলেন, আমরা প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের আশ্বাস ও তৎপরতার ওপর শতভাগ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে চাই। আমরা দেখতে চাই রাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে পানপুঞ্জির ভূমি সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, ভূমি সমস্যা সমাধান করা যাবে না। এটার জন্য নতুন ভাবে ভূমি ও বন-নীতি করা লাগবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।

এ সময় নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, মৌলভীবাজারে ৬৫টি খাসি পুঞ্জি আছে। অনেক চা বাগানের শ্রমিক আছে। এদের নিয়ে যথেষ্ট তথ্য ও গবেষণা নেই। বিগত ৫০ বছরে তাদেরকে আমরা একটা ‘ভালনারেবল’ পরিস্থিতির মধ্যে রেখে দিয়েছি।

এই মাইনোরিটিদের নিয়ে একটা ভালো গবেষণা করারও দাবি করেন তিনি।

এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাপার কেন্দ্রীয় সদস্য আমিনুর রসুল।

এ সময় ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে, পানপুঞ্জি জবরদখল, গাছ কাটা ও পানজুম ধ্বংসের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইন ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সুনির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

পানপুঞ্জির নাগিরকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানসহ মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পানপুঞ্জির নাগরিকদের জীবন ও জীবিকার সামগ্রিক নিরাপত্তা বিধান করতে হবে।

পানপুঞ্জিগুলোর গাছকাটা, উচ্ছেদ ও জবরদখল এগুলো সবই ধারাবাহিক নিপীড়নের ফলাফল। এক্ষেত্রে এসব অঞ্চলে ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভিন্নভাবে ভাবা জরুরি।

এবং চাবাগান সম্প্রসারণের নামে কোনো পানপুঞ্জির গাছ কাটা যাবে না এবং পুঞ্জির জায়গা ও পানজুম দখল করা যাবে না।

প্রতিনিধি দলের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপায়ন খীসাসহ আরও অনেকে।

শেয়ার করুন

সীমিত পরিসরে ২৩ জুন উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ

সীমিত পরিসরে ২৩ জুন উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ফাইল ছবি

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘বরাবরই যেমন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমরা আনন্দমুখরভাবে উদযাপন করি, এবার প্যানডামিকের কারণে সেভাবে তো আর সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘জনগণের পার্টিসিপেশন আমরা ব্যাপক করতে পারব না, তবে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জনগণের সব ধরনের সমন্বয় সাধন করেই আমরা করব।’

করোনা মহামারির মধ্যে এবারও সীমিত পরিসরেই দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনাড়ম্বরভাবেই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হবে।

আগামী ২৩ জুন ৭৩ বছরে পড়ছে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া দলটির জন্য দিনটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবছর বেশ ঘটা করেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।

কিন্তু গত বছরের মতো এবারও বাদ সেধেছে বৈশ্বিক করোনা মহামারি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, দলীয় কার্যালয়ে আলোকসজ্জা আর ভার্চুয়াল আলোচনা সভার মধ্যেই সীমিত রাখা হবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সব আয়োজন।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় বিধিনেষেধ, স্বাস্থ্যবিধি, লকডাউনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে থাকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বরাবরই যেমন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমরা আনন্দমুখরভাবে উদযাপন করি এবার প্যানডামিকের কারণে সেভাবে তো আর সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

‘এর মধ্যে একটা হচ্ছে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি। তারপর থাকবে দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। এ ছাড়া একটা আলোচনা সভা হবে ভার্চুয়ালি, সেখানে হয়তো আমাদের দলের সভানেত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।

‘এর পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়গুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা, যদিও এখনও এটা চূড়ান্ত হয়নি। করোনার সময় আসলে সব ধরনের উৎসব থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে। মানুষের দুর্যোগ আর মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে আমাদের সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এর মধ্যে যতটুকু আড়ম্বরতা বাদ দিয়ে করা যায় তাই করা হচ্ছে।’

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর মুসলীম লীগই ছিল দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দল। কিন্তু ক্রমান্বয়ে পাকিস্তানিদের রাজনৈতিক আধিপত্যবাদের বিষয়টি সামনে এলে পূর্ব পাকিস্তানে আলাদা একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখেন এ অঞ্চলের রাজনৈতিক নেতারা।

এরই অংশ হিসেবে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে জন্ম নেয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলীম লীগ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল। মূলত মুসলীম লীগের প্রগতিশীল অংশ এই রাজনৈতিক দলটির সঙ্গে যুক্ত হন।

প্রতিষ্ঠার সময় আওয়ামী মুসলীম লীগের সভাপতি হন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আর সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৫৫ সালের দলের নাম থেকে মুসলিম অংশটি বাদ দিয়ে দলের নামকরণ করা হয় আওয়ামী লীগ।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানে পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল এই রাজনৈতিক দল। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে যতগুলো গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আওয়ামী লীগের নাম।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বও এসেছে এই দল থেকে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন নিয়ে আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম নিউজবাংলাকে বলেন, অনাড়ম্বরভাবে দলের তৃণমূল পর্যায়েও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটা আওয়ামী লীগের একটি বিশেষ দিন ও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। করোনার কারণে আগের মতো হবে না। কিন্তু আমরা চেষ্টা করব সব পর্যায়ে একেবারে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা, মহানগর, নগরে আমরা ২৩ জুন পালন করব। আলোকসজ্জা থেকে আরম্ভ করে যতটুকু সম্ভব। সীমিত পরিসরে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে আমরা তা উদযাপন করব।

‘জনগণের পার্টিসিপেশন আমরা ব্যাপক করতে পারব না, তবে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জনগণের সব ধরনের সমন্বয় সাধন করেই আমরা করবো। সাজসজ্জার দিকে নজর দেব। একটু লাইটিং করা, পতাকা উত্তোলন, শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা তো থাকবেই।’

শেয়ার করুন

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা ‘ডাকাত’, দুদকের জালে ইসি কর্মকর্তা

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা ‘ডাকাত’, দুদকের জালে ইসি কর্মকর্তা

পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন করে রোহিঙ্গা নুর আলমকে স্মার্ট কার্ড দেয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, রোহিঙ্গা নুর আলমকে চট্টগ্রাম নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হয়। তৎকালীন কাউন্সিলর সরফরাজ কাদের চৌধুরীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে তাকে পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন করে স্মার্টকার্ড দেয়া হয়। তখন পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ছিলেন আব্দুল লতিফ শেখ।

কক্সবাজারে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত রোহিঙ্গা ‘ডাকাত’ নুর আলমকে ভোটার করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্মকর্তাসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেছে দুদক।

মঙ্গলবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২-এর উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন মামলাটি করেন।

রোহিঙ্গা নুর আলমকে এনআইডি, জন্মসনদ ও জাতীয়তা সনদ দেয়ার অভিযোগে মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

তারা হলেন চট্টগ্রাম নগরীর সাবেক পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ও বর্তমানে পাবনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ, চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাবেক ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোহাম্মদ শাহ জামাল, পাঁচলাইশ নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রুফ রিডার উৎপল বড়ুয়া ও রন্তু বড়ুয়া, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের (দক্ষিণ হালিশহর) তৎকালীন কাউন্সিলর সরফরাজ কাদের চৌধুরী রাসেল, একই ওয়ার্ডের জন্মনিবন্ধন সহকারী ফরহাদ হোসাইন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, এনআইডি পেতে নুর আলম তার ঠিকানা চট্টগ্রাম নগরীর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের আমিন জুট মিল কলোনি উল্লেখ করে পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবারক আলী ওই ঠিকানায় নুর আলমের অবস্থানের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রত্যয়ন করেন।

পরে নুর আলম নিজেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ঠান্ডাছড়ি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা উল্লেখ করে আবেদন করেন। রাজানগর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান সামশুল আলমও ওই ঠিকানায় নুর আলম কখনও অবস্থান করেননি বলে প্রত্যয়ন করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে নুর আলমকে চট্টগ্রাম নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড (দক্ষিণ হলিশহর) থেকে জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হয়। তৎকালীন কাউন্সিলর সরফরাজ কাদের চৌধুরী রাসেলের প্রত্যয়নের ভিত্তিতে নুর আলমকে পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন করে স্মার্টকার্ড দেয়া হয়। তখন পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ছিলেন আব্দুল লতিফ শেখ।

নুর আলমকে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন ও স্মার্টকার্ডের জন্য তথ্য সার্ভারে আপলোড এবং পরে স্মার্টকার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবারক আলী ও রাজানগর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান সামশুল আলমের প্রত্যয়ন আমলে নেননি। এমনকি তাদের দেয়া তথ্য সংরক্ষণও করেননি।

দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা নুর আলমকে ভোটার তালিকাভুক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড) সরবরাহের জন্য ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আসামিরা অপরাধ করেছেন।

২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার জাদিমুরা ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন রোহিঙ্গা ‘ডাকাত’ নুর আলম। ওই দিন বিকেলে তাকে টেকনাফের রঙ্গিখালী উলুচামারী পাহাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল টেকনাফ থানার পুলিশ। স্থানীয় যুবলীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন নুর আলম।

শেয়ার করুন

প্রটোকলের আশা ছিল, পাইনি: পরীমনি

প্রটোকলের আশা ছিল, পাইনি: পরীমনি

ডিবি কার্যালয়ের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ক্যামেরাবন্দি হন পরীমনি। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমি অপেক্ষা করছিলাম যে, কেউ আমাকে প্রোটোকল দিয়ে নেয় কিনা। আসলে কেউ আসে নাই। সো আমারই যেতে হচ্ছে। কারণ আমার তো যাইতে হবে। কথা বলতে হবে তাদের সাথে।’

আলোচিত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনি মঙ্গলবার নিজ বাসা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে যাওয়ার পথে পুলিশি প্রটোকল পাওয়ার আশা করেছিলেন। তবে সেটা না পেয়ে শেষপর্যন্ত নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়েই বনানী থেকে রওনা হন মিন্টো রোডের উদ্দেশে।

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলায় প্রধান অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হওয়ার পরদিন পরীমনিকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। ডিবির কর্মকর্তারা জানান, মামলার তদন্তের জন্য পরীমনির বক্তব্য দরকার। আর সে জন্যই ডাকা হয় পরীমনিকে।

এতে সাড়া দিয়ে বেলা সোয়া ৩টার দিকে নিজের বাসা থেকে একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেট কারে বেরিয়ে যান পরীমনি। এ সময় তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি অপেক্ষা করছিলাম যে, কেউ আমাকে প্রোটোকল দিয়ে নেয় কিনা। আসলে কেউ আসে নাই। সো আমারই যেতে হচ্ছে। কারণ আমার তো যাইতে হবে। কথা বলতে হবে তাদের সাথে।’

কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি শুরুতে বলেন, ‘ডিসি অফিস।’ পরে সংশোধন করে বলেন, ‘ডিবি অফিস।’

পরীমনিকে পুলিশের নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল না। তবে আমি আশা করছিলাম যে, আমি একটা প্রোটোকল পাব।’

তাহলে প্রোটোকল ছাড়াই যাচ্ছেন কেন- এমন প্রশ্নে পরীমনি বলেন, ‘আমার তো এখন সাংবাদিক ভায়েরা আছেন। আপনারা আছেন। তবে আমি কোনো প্রোটোকল চাইনি। আসলে মনে মনে আশা করছিলাম, কিন্তু মনে মনে চাইলে তো আর হয় না। আমি বলিনি তাদেরকে।

‘এখন তো আমার মনে হয় রাস্তায় হঠাৎ করে আমাকে কেউ আক্রমণ করবে না। আমি এখন নিরাপদ আমার মনে হয়। কারণ সবাই এখন জানে জিনিসটা।’

বাসা থেকে বের হওয়ার প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে পৌঁছান পরীমনি। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেরিয়ে তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পরীমনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমি আসলে মেন্টালি কতটা স্ট্রং হয়ে গেছি। সবাই এত সাপোর্ট দিয়েছেন…।’

এর আগে রোববার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেন পরীমনি। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এই বিচার কই চাইব আমি? কোথায় চাইব? কে করবে সঠিক বিচার? আমি খুঁজে পাইনি গত চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু বেনজীর আহমেদ আইজিপি স্যার! আমি কাউকে পাই না মা (প্রধানমন্ত্রী)।’

তবে ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে পুলিশের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ছিল পরীমনির কণ্ঠে।

আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরীমনি বলেন, ‘আমার একমাত্র ভরসা উনিই ছিলেন। আমি সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারতেছিলাম না বলেই এসব কথা। তিনি যখন জেনেছেন এই কথাটা, বেনজীর স্যার যখন জেনেছেন, তার কান অবধি গেছে, কান অবধি পৌঁছাতে পেরেছি, তখন তো আপনারা দেখলেন, কয়েক ঘণ্টা লাগছে মাত্র।

‘আমার তো মূল বিশ্বাসটা ওইটাই ছিল, তার কান অবধি পৌঁছালে সে একদম সেটা নিজের মতো করে দেখে নেবে।’

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রথম দিকে হতাশার কারণ জানতে চাইলে পরীমনি বলেন, ‘আমি ওই পর্যন্ত যেতে পারছিলাম না, এটা নিয়েই তো এতক্ষণ কথা বলছি।’

ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে পরীমনি বলেন, ‘এখানে এসে আমি আসলে মেন্টালি অনেক রিফ্রেশড। আমি যে কাজে ফিরব, এটা কেউ আমাকে কিন্তু বলেনি। আমার আশপাশে যারা ছিল তারা সবাই আমাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেছে কিন্তু আমার যে কাজে ফিরতে হবে, আমাকে এই শক্তিটা তারা (পুলিশ) জুগিয়েছেন এতক্ষণ ধরে।’

গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে কী বিষয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার কাজ নিয়ে কথা বলেছে, আমাকে নানা রকম গুড ভাইভ দেয়া হচ্ছে। আমার নরমাল লাইফে কীভাবে ফিরে যাব। আমি এতটা তাদের কাছে আশা করিনি। তারা এতটা বন্ধুসুলভ, একটা ম্যাজিকের মতো হয়ে গেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদেরও প্রশংসা করেন পরীমনি। বলেন, ‘এত তাড়াতাড়ি হারুন স্যার যেভাবে ম্যাজিকের মতো কয়েক ঘণ্টার মধ্যে…। ঘুমিয়ে মানুষ জাগে সকালে, সেইটাও আমি সুযোগটা পাইনি। মানে ঘুমানোরই আমি টাইম পাইনি। তার আগেই দেখলাম যে এত দ্রুত কাজগুলো (আসামিদের গ্রেপ্তার) হয়ে গেছে।’

শেয়ার করুন

দেশজুড়ে আর বিধিনিষেধ চায় না সরকার

দেশজুড়ে আর বিধিনিষেধ চায় না সরকার

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সামগ্রিক দেশে নয়, স্থানীয় পর্যায়ে আমরা শুরু করব। যেখানে সংক্রমণের মাত্রা বেশি, সেখানে আমরা বিধি নিষেধগুলো আরোপ করব, যাতে সংক্রমণের মাত্রা কমে আসে।’

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ প্রতিরোধে সারা দেশে লকডাউন বা বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। যে এলাকায় সংক্রমণের মাত্রা বেশি, সেখানেই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উপায় দেখা হচ্ছে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সামগ্রিক দেশে নয়, স্থানীয় পর্যায়ে আমরা শুরু করব। যেখানে সংক্রমণের মাত্রা বেশি, সেখানে আমরা বিধি নিষেধগুলো আরোপ করব, যাতে সংক্রমণের মাত্রা কমে আসে।’

তবে পরিস্থিতির প্রয়োজনে সরকার যেকোনো মুহুর্তে সিদ্ধান্ত বদল করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বলেন, ‘সেন্ট্রালি বলতে হচ্ছে, এখন আপাতত সেরকম ই (পরিকল্পনা) নেই। সেটি আমরা পর্যবেক্ষণ করব, তারপরে। প্রয়োজন পড়লে সেটা পরে দেখা যাবে। আমরা স্থানীয় পর্যায়ে বিধি নিষেধগুলো কঠোরভাবে আরোপের পক্ষে।’

গত ৬ জুন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে লকডাউন বা বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষমতা দিয়ে সারা দেশে চলমান বিধিনিষেধ ১৬ জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। সেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে বুধবার। তার অর্থ বুধবার থেকে উঠে যাচ্ছে সব বিধিনিষেধ?

স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। জানালেন বুধবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সেই প্রজ্ঞাপনে কী থাকছে, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখনও সেটা বলতে পারছি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন বিষয়গুলো বিচার বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন, তখনই বলতে পারব।’

তবে দেশজুড়ে বিধিনিষেধ আরোপ করতে না চাইলেও, কিছু বিষয় সবাইকে মেনে চলতে হবে জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যে বিষয়গুলো আছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনসমাগম না করা, রাজনৈতিক, সামাজিক বা ধর্মীয় সমাবেশ যাতে না হয়, আমাদের স্কুল কলেজ কিন্তু বন্ধ আছে, হোটেল- রেস্টুরেন্টগুলো যেভাবে চলছে, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি, অপ্রয়োজনে বাইরে না আসা- এইগুলো আমাদের চলমান রাখতে হবে।’

সংক্রমণের মাত্রা ১৩-১৪ শতাংশে উঠে যাওয়ায় শঙ্কা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো সময় ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে আমরা চাইব, যেখানে নাই সেখানে শুধু ডিস্টারবেন্স না করে, যেখানে আছে সেখানে যেন কার্যকরভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করি, সেটি হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য।’

গ্রাম বা ইউনিয়ন বা উপজেলা- এরকম ছোটো ছোটো পর্যায়ে বিধিনিষেধ আরোপ করে সংক্রমণ মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও এমন মতামত দিয়েছে বলে জানান জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

‘যেখানে সংক্রমণ বাড়বে, সেখানে বিধিনিষেধের আওতায় নিয়ে আসা। দোকানপাট বন্ধ রাখা। মানুষ যাতে ঘরে থাকে, অপ্রয়োজনে যেন বাইরে না আসে। বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল কোর্ট করছি। মাইকিং চলছে।’

স্থানীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান ফরহাদ। তিনি বলেন, ‘যেহেতু সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে এবং আমরা দেখছি সংক্রমণ বাড়ছে, তাই স্থানীয় পর্যায়ে বলে দেয়া আছে। প্রতিটি জায়গাতে সেটা প্রয়োগ করা হচ্ছে। যাতে করে অর্থনীতির কোনো ক্ষতি না হয়, প্রভাবিত করতে না পারে সেদিকটা মাথায় রেখেই আমরা বিধি নিষেধ আরোপ করব। সেভাবে নির্দেশনা দেয়া আছে।’

সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতেও সকল প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বলেন, ‘যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের বাসায় রাখা, খাবারের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমাদের সীমান্তবর্তী এলাকা প্রস্তুত, সংক্রমণের হার বেড়ে গেলে একদিনের নোটিশে বিধি-নিষেধ আরোপ করা যাবে।’

শেয়ার করুন

ডিএসইর সমস্যাসংকুল অ্যাপে ফি নিয়ে ক্ষোভ

ডিএসইর সমস্যাসংকুল অ্যাপে ফি নিয়ে ক্ষোভ

গত বছরও ডিএসই অ্যাপ ব্যবহারে ফি নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তখন কথা ছিল, তারা মাসে নেবে ১৫০ টাকা করে। কিন্তু অ্যাপের দুর্বলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা আপত্তি তোলার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কথা বলে ডিএসইর সঙ্গে। আর তখন ফি নেয়ার বিষয়টি থেমে যায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বিনিয়োগকারীরা ব্রোকারেজ হাউজের প্রতিনিধিদের সহযোগিতা ছাড়া নিজে নিজেই অ্যাপ ব্যবহার করে শেয়ার কেনাবেচার আদেশ দিতে পারলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে।

অ্যাপটির নানা সমস্যার কারণে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ দুঃখও প্রকাশ করেছে একাধিকবার, ত্রুটি দূর করার আশ্বাসও এসেছে বহুবার। কিন্তু সেগুলোর সমাধান না করেই অ্যাপ ব্যবহারে মাসিক ফি নেয়ার ঘোষণা আসার পর বিনিয়োগকারীরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।

তারা প্রশ্ন তুলছেন, যে অ্যাপ হ্যাং করে, সেটিতে কেনা বেচার আদেশ দেয়ার পর তা কার্যকর হয়েছে কি না, তা দেখতে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হয়, সেটির দুর্বলতা দূর না করে টাকা নেয়ার ঘোষণার কী যুক্তি।

ডিএসই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাসে ১০০ টাকা করে ফি নেবে তারা, এই হিসাবে বছরে দিতে হবে এক হাজার দুইশ টাকা। অথচ ব্রোকারেজ হাউজগুলো বছরে ৪৫০ টাকা করে নেয়, তারা প্রতিনিধির মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচার অর্ডার নেয়ার পাশাপাশি ফোনেও অর্ডার নিয়ে থাকে।

ডিএসইর সমস্যাসংকুল অ্যাপে ফি নিয়ে ক্ষোভ
অনেকটা অকার্যকর ডিএসইর মোবাইল অ্যাপ

গত বছরও ডিএসই অ্যাপ ব্যবহারে ফি নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তখন কথা ছিল তারা মাসে নেবে ১৫০ টাকা করে। কিন্তু অ্যাপের দুর্বলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা আপত্তি তোলার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কথা বলে ডিএসইর সঙ্গে। আর তখন ফি নেয়ার বিষয়টি থেমে যায়।

তবে দ্বিতীয়বারের মতো সোমবার ডিএসইর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়, যাতে ফি নেয়ার বিষয়টি জানানো হয়।

এরপর থেকে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক পেজে শত শত বিনিয়োগকারী এ নিয়ে তাদের আপত্তির কথা বলে আসছেন।

পাপলু হোসেন নামে একজন বিনিয়োগকারী বলেছেন, অ্যাপ কার্যকর হলে ফি দিতে আমাদের আপত্তি থাকত না। কিন্তু তারা তো মানসম্পন্ন সেবা দিতে পারছে না। তাহলে ফি নেবে কেন?

ডিএসইর সমস্যাসংকুল অ্যাপে ফি নিয়ে ক্ষোভ
লেনদেনের বেশির ভাগ সময়েই ব্যবহার অনুপযোগী থাকে ডিএসইর মোবাইল অ্যাপ

তিনি নিউজবাংলাকে এই অ্যাপের চারটি দুর্বলনার কথা জানিয়েছেন।

০১. এই অ্যাপটি বেশি অর্ডারের চাপ নিতে পারে না। অর্ডার দিলে লোডিং মুডে থাকে অনেকক্ষণ। বোঝা যায় না অর্ডার কার্যকর হয়েছে কি না। অথচ পুঁজিবাজারে এই সামান্য সময়ও গুরুত্বপূর্ণ।

০২. অ্যাপে অর্ডার সংশোধন বা মডিফাই করা যায় না। কোনো শেয়ারের দাম কমে যেতে থাকলে বা বেড়ে যেতে থাকলে আগের অর্ডার ডিলিট করে নতুন অর্ডার দিতে হয়। অথচ ব্রোকারেজ হাউজে তাৎক্ষণিকভাবে অর্ডার সংশোধনের সুযোগ আছে।

০৩. অ্যাপে ড্রিপ নেই। কোনো বিনিয়োগকারী যদি এক লাখ শেয়ার কিনতে চান, কিন্তু দেখাতে চান ৫০০০, তাহলে তিনি তা পারবেন না। অথচ ব্রোকারেজ হাউজে তিনি ভাগ ভাগ করে অর্ডার দিতে পারেন। একে বলে ড্রিপ। কিন্তু অ্যাপে সেটা সম্ভব নয়।

০৪. অ্যাপ হ্যাং করে বারবার। লগ আউট হয়ে যায় নিজে থেকেই। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কিনতে বা বিক্রি করতে হয়রানির মুখে পড়তে হয়।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা

জানতে চাইলে ডিএসই পরিচালক রকিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অ্যাপটি পরিচালনার জন্য ডিএসইকে অনেক খরচ বহন করতে হয়। আর এ থেকে ডিএসইর কোনো আয় নেই। ফি যেটা ধরা হয়েছে সেটিও নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দিতে হবে। অনেকে ব্রোকার হাউজ, বিনিয়োগকারী অ্যাপ নিয়েছে কিন্তু ব্যবহার করে না, তাদের ব্যয়ও বহন করতে হয়। তাই আমার কথা হচ্ছে, যাদের প্রয়োজন তারাই ব্যবহার করুক। তাদের ফি দিতে সমস্যা নেই।’

তবে অ্যাপের দুর্বলতার বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

ডিএসইর সমস্যাসংকুল অ্যাপে ফি নিয়ে ক্ষোভ
ডিএসইর মোবাইল অ্যাপ এমন হ্যাঙ অবস্থায় থাকে অহরহ

মোবাইল অ্যাপ নিয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, ‘ডিএসই মোবাইল অ্যাপ সেবা এতদিন ফ্রি দিয়েছে। সেটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছিল। এখন যদি ফি বেশি হয় তাহলে তা কমানোর সুযোগ। বাড়তি টাকা ফেরত দেয়ারও ব্যবস্থা আছে। আর যদি আবারও ফ্রি দেয়া যায় তাহলে তাই হবে। এটি নিয়ে খুব বেশি জটিলতা দেখছি না।’

বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছে নিউজবাংলা। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে যেহেতু এটি করা হয়েছে, এখন যদি বিনিয়োগকারীরা এটি থেকে সঠিক তথ্য পেতে ব্যহৃত হয়, সেটি দেখা হবে। আর ফি বিষয়টি নিয়েও না হয় আমি কথা বলব।’

শেয়ার করুন

‘গার্ড অফ অনার’ বিষয়ে চূড়ান্ত হলে দেখবে হাইকোর্ট

‘গার্ড অফ অনার’ বিষয়ে চূড়ান্ত হলে দেখবে হাইকোর্ট

রিটকারীর উদ্দেশে আদালত বলে, বিষয়টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ মাত্র। এমন সুপারিশ গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে তখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেয়া হবে। তাই সে পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেয়ার সময় সরকারের নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিকল্প চাওয়া সংসদীয় কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে বিষয়টি হাইকোর্ট দেখবে বলে জানিয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ কথা বলে।

রিটকারীর উদ্দেশে আদালত বলে, বিষয়টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ মাত্র। এমন সুপারিশ গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে তখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেয়া হবে। তাই সে পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।

পরে আদালত চার সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবির আদেশ দেয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ফাওজিয়া করিম। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম।

পরে ফাওজিয়া করিম ফিরোজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টি প্রথমে মৌখিকভাবে আদালতের নজরে আনি। কিন্তু আদালত লিখিত আবেদন আকারে যেতে বলেন। পরে এ বিষয়ে রিট দায়ের করা করি।’

মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ল’ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এফএলএডি) এর আইন ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম রিটটি দায়ের করেন।

রিটে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে বিবাদী করা হয়।

রিট আবেদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ কেন বৈষম্যমূলক, বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়।

মৃত্যুবরণকারী (শহীদ) বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদানে নারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বিকল্প চেয়ে সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। কমিটি এক্ষেত্রে যেসব জায়গায় নারী ইউএনও রয়েছেন, সেখানে পুরুষ কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদান করার পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদান দিনের বেলায় আয়োজন করার সুপারিশ করা হয়।

গত ১৩ জুন সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এরপরই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আপত্তিতে ক্ষুব্ধ নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে ধর্মের বিষয়টিকে সামনে আনা হচ্ছে।

শেয়ার করুন