দুর্নীতির অভিযোগ: বদলি; ৫ দিন পর স্বপদে

জালালাবাদ গ্যাসের উত্তরাঞ্চলের বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এ কে এম শামসুল আলম। ছবি: নিউজবাংলা

দুর্নীতির অভিযোগ: বদলি; ৫ দিন পর স্বপদে

গত ২৫ মার্চ জালালাবাদ গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহর সই করা এক অফিস আদেশে শামসুলকে পরিচালন (অপারেশন) বিভাগে বদলি করা হয়। তবে এই আদেশের পরও পরিচালন বিভাগে যোগ দেননি তিনি। বদলির মাত্র ৫ দিন পর ১ এপ্রিল একই ব্যক্তির সই করা আরেক অফিস আদেশে শামসুলকে উত্তরাঞ্চলের বিপণন শাখার মহাব্যবস্থাপক পদে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়।

গ্যাস-সংযোগ পেতে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডে ২০০৯ সালে আবেদন করেছিল সিলেটের ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফিজা অ্যান্ড কোং। ওই বছরই গ্যাস-সংযোগ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

তবে বিশেষ বিবেচনায় শিল্প খাতে সংযোগ দেয়ার জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি ফিজা কোং-এর আবেদনকে অনুমোদন দেয়। অথচ জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ এই আবেদনটি ঝুলিয়ে রাখে। অবশেষে বিভিন্ন ব্যক্তিকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে গত বছর গ্যাস-সংযোগ পায় প্রতিষ্ঠানটি।

ফিজা গ্যাস-সংযোগ পেলেও এখনও সংযোগ পায়নি আরেক ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফুলকলি ফুড প্রোডাক্ট। সিলেটের খাদিমনগর বিসিকের এই প্রতিষ্ঠানটির আবেদন আটকে আছে জলালাবাদ গ্যাসে।

জালালাবাদ গ্যাস সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির কার্যনির্বাহী স্ট্যান্ডিং কমিটির এক সভায় ফুলকলির আবেদনটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে মত দেন স্ট্যান্ডিং কমিটির ছয় সদস্য। কেবল কমিটির সদস্য ও জালালাবাদ গ্যাসের উত্তরাঞ্চলের বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এ কে এম শামসুল আলম এই সিদ্ধান্তে একমত হননি।

অভিযোগ রয়েছে, বিপণন বিভাগের এই কর্মকর্তা গ্যাস-সংযোগের আবেদনগুলো নিজের টেবিলে অহেতুক আটকে রাখেন। আবেদনকারীদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা আদায়ের জন্য তিনি এই কৌশল নেন। এ ছাড়া গ্রাহক ও ঠিকাদারদের হয়রানিরও অভিযোগ রয়েছে শামসুলের বিরুদ্ধে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ মার্চ জালালাবাদ গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহর সই করা এক অফিস আদেশে শামসুলকে পরিচালন (অপারেশন) বিভাগে বদলি করা হয়। তবে এই আদেশের পরও পরিচালন বিভাগে যোগ দেননি শামসুল। বদলির মাত্র পাঁচ দিন পর ১ এপ্রিল একই ব্যক্তির সই করা আরেক অফিস আদেশে শামসুলকে উত্তরাঞ্চলের বিপণন শাখার মহাব্যবস্থাপক পদে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জালালাবাদ গ্যাসের একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন, শামসুল আলমের বিরুদ্ধে ফাইল আটকে রাখা ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ আনার পর তাকে বদলি করা হয়েছিল। তবে অদৃশ্য ক্ষমতাবলে তিনি নতুন দায়িত্বে যোগ না দিয়েই পাঁচ দিনের মধ্যে পুরোনো দায়িত্বে ফিরে আসেন। শামসুলের বিরুদ্ধে জালালাবাদ গ্যাসের অভ্যন্তরে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে গ্রাহক ও ঠিকাদারদের হয়রানির অভিযোগ করেছেন তারা।

দুর্নীতির অভিযোগ: বদলি; ৫ দিন পর স্বপদে

জানা যায়, গত ডিসেম্বরে জালালাবাদ গ্যাসের ঠিকাদাররা প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিভিন্ন আবেদনের ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ করেন। এরপর গত ১৫ ডিসেম্বর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে আটকে থাকা আবেদনগুলোর একটি তালিকা দেন তারা।

ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে এই অভিযোগ জানানোর পরই শামসুলকে বদলি করা হয় বলে জানা গেছে।

তবে জালালাবাদ গ্যাস ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরম দ্যূতি দাস প্রদীপ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংযোগ, পুনরায় সংযোগ আবেদনগুলো দীর্ঘদিন আটকে থাকার বিষয়ে আমরা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়নি।’

শামসুলের বিরুদ্ধে ফাইল আটকে রাখা ও সিন্ডিকেট তৈরি করে অবৈধ সুবিধা আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কয়েকজন ঠিকাদার মৌখিকভাবে এমনটি বলেছেন। তবে কেউ লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ দেননি।’

বদলির পাঁচ দিনের মধ্যে স্বপদে বহাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা কর্তৃপক্ষের বিষয়। আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই।’

সিলেটের বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা ফয়সল আহমদ। ২০১৮ সালের মে মাসে তার আবাসিক সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে জালালাবাদ গ্যাস। নিয়মানুযায়ী পুনরায় সংযোগের আবেদন করেন তখনই। কিন্তু আড়াই বছর পেরোলেও পাননি সংযোগ। নীতিমালার দোহাই দিয়ে তার সংযোগটি আটকে দেয়া হয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগ: বদলি; ৫ দিন পর স্বপদে


একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসুল আলম সংযোগের আবেদনগুলো নিজের টেবিলে আটকে রাখেন। এ রকম অন্তত ৫০টি ফাইল আটকে আছে। তিনি জালালাবাদ গ্যাসের দুর্নীতির একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। তিনি অনেক প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চায় না।’

সিলেটের ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রাজমহল সুইটস, স্বাদ, নিশিতা ফুড, ফুলকলি, প্রিমিয়াম ফিস, হক ফুডসের আবেদন তার টেবিলে আটকে আছে বলে জানা গেছে।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জালালবাদ গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক বিপণন (উত্তর) শামসুল আলমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ মোল্লা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন:
পাংশার চেয়ারম্যানকে ডিএলজির কারণ দর্শানোর চিঠি
রৌমারীতে সড়কের কাজ শেষ না করে বিল উত্তোলন
ব্যাংকে দুর্নীতি করলে জেলের সঙ্গে জরিমানা
এই খাল নাকি খনন হয়েছে
দুর্নীতি কোথায়, প্রমাণ চান কাদের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বোট ক্লাব বলল, বারে সিসি ক্যামেরা ছিল না

বোট ক্লাব বলল, বারে সিসি ক্যামেরা ছিল না

সাভারের বিরুলিয়ায় বোট ক্লাবের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

 ঢাকা বোট ক্লাবের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বারে ছোটখাটো দুয়েকটা ইন্সিডেন্স হয়। অনেক সম্মানিত সদস্য হয়তো স্বাভাবিকের চেয়ে এক পেগ বেশি ড্রিঙ্ক করে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকেন না। তখন তাদের আমাদের লোকজন সম্মানের সাথে গাড়িতে তুলে দেন। অথবা বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। ওই দিনের ঘটনাকে বারের লোকজন হয়তো এ রকম একটা ঘটনা মনে করেছিলেন।’

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনাস্থল ঢাকা বোট ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরীমনি ওই দিন ক্লাবে এসেছিলেন, এটি তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে সেখানে অপরাধমূলক কিছু ঘটেছে কি না এটা তারা ঘটনার সময় বুঝতে পারেননি।

ক্লাবের পক্ষ থেকে এটির এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য (অ্যাডমিন) বখতিয়ার আহমেদ খান সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যিনি অভিযুক্ত, তিনি এই ক্লাবের একজন সদস্য। আমাদের ক্লাবে প্রায় ২ হাজার সদস্য রয়েছেন।

‘পরীমনি এই ক্লাবের সদস্য না। তিনি কোনো সদস্যের সঙ্গে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন। ওই দিন পরীমনি এসেছিলেন, এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ঠিক কী ঘটেছে তা বলতে পারছি না। এখানে একটা লাইসেন্সড বার রয়েছে। সদস্যদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বারের ভিতরে কোনো সিসি ক্যামেরা রাখা হয়নি।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব সদস্য বারে প্রবেশ করতে পারেন না। সাধারণত যাদের ড্রিঙ্কিং লাইসেন্স রয়েছে, তারা প্রবেশ করেন। হয়তো দু-একজন অতিথিও সেখানে প্রবেশ করেন।

‘বারে ছোটখাটো দুয়েকটা ইন্সিডেন্স হয়। অনেক সম্মানিত সদস্য হয়তো স্বাভাবিকের চেয়ে এক পেগ বেশি ড্রিঙ্ক করে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকেন না। তখন তাদের আমাদের লোকজন সম্মানের সাথে গাড়িতে তুলে দেন। অথবা বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। ওই দিনের ঘটনাকে বারের লোকজন হয়তো এ রকম একটা ঘটনা মনে করেছিলেন।

‘তবে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ দেখে আমরা বুঝতে পারলাম, এটা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না। তবে তা ক্লাবের নির্দিষ্ট সময়ের পর বা রাত ১১টার পর ঘটেছে।

এই ঘটনা নিয়ে আমাদের ক্লাবের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তদন্ত করছে, তাই এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।’

বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, এই ঘটনা ক্লাবের ভাবমূর্তির সাথে যায় না।

আরও পড়ুন:
পাংশার চেয়ারম্যানকে ডিএলজির কারণ দর্শানোর চিঠি
রৌমারীতে সড়কের কাজ শেষ না করে বিল উত্তোলন
ব্যাংকে দুর্নীতি করলে জেলের সঙ্গে জরিমানা
এই খাল নাকি খনন হয়েছে
দুর্নীতি কোথায়, প্রমাণ চান কাদের

শেয়ার করুন

মদের ‘কারবারেও’ নাসির

মদের ‘কারবারেও’ নাসির

পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির ইউ আহমেদকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

নাসির মাহমুদকে গ্রেপ্তারের পর ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ জানান, ‘আমরা যাদের গ্রেপ্তার করেছি, তাদের কাজই মদের ব্যবসা করা। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন নাসির। তিনি এই কাজই করেন। তিনি বিভিন্ন ছোট ছোট মেয়েকে রক্ষিতা রাখেন। আমরা এখনও তদন্ত করছি।’

চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী পরীমনিকে হত্যা ও ধর্ষণচেষ্টার মামলায় আটক নাসির ইউ মাহমুদ মদের ব্যবসা করেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ। তা ছাড়া যৌনকাজে ব্যবহারের জন্য তিনি ভাড়া করা মেয়েদের সঙ্গে রাখতেন বলেও অভিযোগ করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

পরীমনির ঘটনায় সোমবার দুপুরে নাসির ইউ মাহমুদসহ পাঁচজনকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ।

গ্রেপ্তারের পর সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হারুন-অর-রশিদ।

তিনি বলেন, ‘আমরা যাদের গ্রেপ্তার করেছি, তাদের কাজই মদের ব্যবসা করা। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন নাসির। তিনি এই কাজই করেন। তিনি বিভিন্ন ছোট ছোট মেয়েকে রক্ষিতা রাখেন। আমরা এখনও তদন্ত করছি।’

যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ আরও বলেন, ‘আমরা তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করব। প্রয়োজন হলে তাদের রিমান্ডে আনব। যেহেতু আমরা মাদক পেয়েছি, সেই কারণে আমরা মাদকের একটি মামলা করব ডিএমপি থেকে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু সাভারে একটি স্বাভাবিক মামলা হয়েছে, আমরা সাভার থানা পুলিশকে জানাব।’

হারুন-অর-রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা শনিবার রাত থেকেই খোঁজখবর রাখছিলাম। যেহেতু মামলা হয়নি তাই গ্রেপ্তার করতে পারিনি। এখন মামলা হয়েছে, আমরা তাকে আজ ৩টার সময় উত্তরার বাসা থেকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছি। তবে এই বাসায় অমি থাকে। নাসির এই বাসায় এসে পালিয়ে ছিলেন। সাথে তিনজন রক্ষিতাকে নিয়ে এসেছিলেন। তার আগের অভিযোগের আমরা তদন্ত করছি।’

মদের ‘কারবারেও’ নাসির
নাসির ইউ মাহমুদ

হারুন বলেন, ‘পরীমনি স্বনামধন্য নায়িকা। তিনি সেখানে যেতেই পারেন। তার মানে তো এই না যে তাকে হ্যারাস করবে। আবার আসলেই সেখানে কী ঘটেছে সেটিও দেখতে হবে।’

শনিবার পরীমনি যে অভিযোগ করেছিলেন, সেটি থানায় আমলে নেয়া হয়নি– এই বিষয়ে কী করবেন জানতে চাইলে হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমরা পরীমনির সাথে কথা বলব। আমরা প্রতিটি অভিযোগকে খতিয়ে দেখছি। আমরা তো এদের সাভার থানার মামলা থেকেই গ্রেপ্তার করেছি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

নাসির ইউ মাহমুদ বা নাসির উদ্দিন মাহমুদ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান। ছিলেন লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারম্যান। গ্রেপ্তার অপর চারজনের নাম জানা যায়নি।

পরীমনি রোববার রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনার কয়েক ঘণ্টা পর বিষয়টির বিস্তারিত নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসেন।

পরীমনি জানান, ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরা বোট ক্লাবে। নাসির উদ্দিন নামে একজন তাকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে এই ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিলেন।

মদের ‘কারবারেও’ নাসির
নাসির ও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন নায়িকা পরীমনি

যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘যারা এভাবে রাতের বেলা বিভিন্ন ক্লাবে গিয়ে উঠতি বয়সী মেয়েদের ব্যবহার করে, অসামাজিক কার্যকলাপ চালায়, তাদের বিরুদ্ধে এখন থেকে আমাদের অভিযান চলবে। ঢাকা শহরের গুলশান, বনানী স্থানে রাত ৮টা-৯টার দিকে উঠতি বয়সী মেয়ে ক্লাবে গিয়ে ডিজে পার্টির নামে অনাচার করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

বোট ক্লাবে অভিযান চালানো হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে হারুন বলেন, ‘যেহেতু মামলা হয়েছে সাভার থানায়, আমরা একটা রিকুইজিশন পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছি। এখন যেহেতু একটা মামলা আমাদের এখানে আছে, মাদকের মামলা, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বোট ক্লাবে যাব। আরও কোনো আসামি যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখব।’

এই ঘটনায় এত তাড়াতাড়ি গ্রেপ্তার হলেও সাম্প্রতিক অপর একটি ঘটনায় সায়েম সোবহান আনভির কেন গ্রেপ্তার হননি, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যখন আমাদেরকে রিকুইজিশন দেবে, আমরা তখন তাৎক্ষণিক অ্যাকশন নিচ্ছি। আনভিরের মামলা যদি গুলশান থানা পুলিশ আমাদের রিকুইজিশন দেয়, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেব।’

পরীমনি কীভাবে সেখানে গিয়েছিলেন, সেটি জানতে পেরেছেন কিনা প্রশ্ন করা হলে হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমরা যেহেতু গ্রেপ্তার করেছি, আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। আমরা পরীমনিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করব। তখন আমরা জানাব।’

আসামিকে সাভার থানায় পরে হস্তান্তর করা হবে জানিয়ে হারুন বলেন, ‘আমরা যেহেতু মাদক পেয়েছি, সেহেতু এখানে একটি মামলা হবে। এরপর সাভার থানা পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
পাংশার চেয়ারম্যানকে ডিএলজির কারণ দর্শানোর চিঠি
রৌমারীতে সড়কের কাজ শেষ না করে বিল উত্তোলন
ব্যাংকে দুর্নীতি করলে জেলের সঙ্গে জরিমানা
এই খাল নাকি খনন হয়েছে
দুর্নীতি কোথায়, প্রমাণ চান কাদের

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর নির্মাণসামগ্রী মোংলায়

বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর নির্মাণসামগ্রী মোংলায়

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, ‘মেট্রোরেল ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিসহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ মোংলা বন্দর দিয়ে এসেছে। আশা করি ভবিষ্যতে সরকার মোংলা বন্দরের মাধ্যমে আরও গুরুত্বপূর্ণ মালামাল আনবে।’

মেট্রোরেলের পর এবার বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর নির্মাণসামগ্রী নিয়ে জাহাজ এসে নোঙর করেছে মোংলা বন্দরে।

পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এম ভি ফ্রানবো লোহাস’ সোমবার বিকেল ৪টায় বন্দরের ৭ নম্বর জেটিতে নোঙর করে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা নিউজবাংলাকে জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের জন্য ভিয়েতনাম থেকে ৩ হাজার ২৮৮ টন স্টিল পাইপ ও পাইল এসেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই পণ্যগুলো খালাস করা হবে। এই প্রকল্পের বাকি পণ্যও এই বন্দর দিয়ে খালাস করা হবে।

তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেল ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিসহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ মোংলা বন্দর দিয়ে এসেছে। আশা করি ভবিষ্যতে সরকার মোংলা বন্দরের মাধ্যমে আরও গুরুত্বপূর্ণ মালামাল আনবে।

‘মোংলা বন্দরের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির জন্য ইনারবার ড্রেজিংসহ অনেক কাজ চলমান। এসব কাজ শেষ হলে বন্দরের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।’

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উত্তরে ২০২০ সালের নভেম্বরে বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ৪ দশমিক ৮ মিটার দৈর্ঘ্যের দেশের এই সবচেয়ে দীর্ঘ রেলওয়ে সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। এই সেতু নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ের তত্ত্বাবধানে।

আরও পড়ুন:
পাংশার চেয়ারম্যানকে ডিএলজির কারণ দর্শানোর চিঠি
রৌমারীতে সড়কের কাজ শেষ না করে বিল উত্তোলন
ব্যাংকে দুর্নীতি করলে জেলের সঙ্গে জরিমানা
এই খাল নাকি খনন হয়েছে
দুর্নীতি কোথায়, প্রমাণ চান কাদের

শেয়ার করুন

আইএলওর সহযোগী সদস্য পুনর্নির্বাচিত বাংলাদেশ

আইএলওর সহযোগী সদস্য পুনর্নির্বাচিত বাংলাদেশ

আইএলওর পরিচালনা পর্ষদে এটি বাংলাদেশের পক্ষে টানা তৃতীয় জয়। এর আগে বাংলাদেশ ২০১৪-২০১৭ এবং ২০১৭-২০২১ মেয়াদে আইএলওর পরিচালনা পর্ষদের উপ-সদস্য হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) পরিচালনা পরিষদের সহযোগী সদস্য পুনর্নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই পর্ষদ কাজ করবে।

আইএলওর সদর দপ্তর জেনেভায় সোমবার আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের ১০৯তম অধিবেশন চলাকালে এই ভার্চুয়াল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বাংলাদেশ আইএলওর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রার্থী হিসেবে সর্বোচ্চ ২১০টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়।

প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে অন্যান্য আইএলও সদস্যরাষ্ট্রের সমর্থন পেতে জোর প্রচারণা চালায়।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের নেতৃত্বে ও জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এই ভার্চুয়াল নির্বাচন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে শ্রমসচিব কে এম আব্দুস সালাম এবং জেনেভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভার্চুয়ালি যোগ দেন।

আইএলওর পরিচালনা পর্ষদে এটি বাংলাদেশের পক্ষে টানা তৃতীয় জয়। এর আগে বাংলাদেশ ২০১৪-২০১৭ এবং ২০১৭-২০২১ মেয়াদে আইএলওর পরিচালনা পর্ষদের উপ-সদস্য হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে।

আরও পড়ুন:
পাংশার চেয়ারম্যানকে ডিএলজির কারণ দর্শানোর চিঠি
রৌমারীতে সড়কের কাজ শেষ না করে বিল উত্তোলন
ব্যাংকে দুর্নীতি করলে জেলের সঙ্গে জরিমানা
এই খাল নাকি খনন হয়েছে
দুর্নীতি কোথায়, প্রমাণ চান কাদের

শেয়ার করুন

বাছাইয়ের তালিকায় আরও ৩৪ সামরিক অধ্যাদেশ

বাছাইয়ের তালিকায় আরও ৩৪ সামরিক অধ্যাদেশ

বিএনপির জিয়াউর রহমান ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। দুজনই সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় হন রাষ্ট্রপতি।

‘দ্য ডিলিমিটেশন অব কনস্টিটিউয়েন্সিজ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬’ রূপান্তর করে ‘জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০২১’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা নির্ধারণে ১৯৭৬ সালের জারি করা আরও একটি সামরিক শাসনামলের অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে যাচ্ছে সরকার।

আরও ৩৪টি সামরিক অধ্যাদেশ এখনও যাচাই-বাছাইয়ের তালিকায় রয়েছে।

আর তাই ‘দ্য ডিলিমিটেশন অব কনস্টিটিউয়েন্সিজ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬’ রূপান্তর করে ‘জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০২১’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার সকালে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে। বৈঠকে সভাপতিতত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ দিন দুপুরে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এটা ১৯৭৬ সালের অধ্যাদেশ। সুতরাং এটাকে আইনে রূপান্তরের প্রয়োজন ছিল।’

বাছাইয়ের তালিকায় আরও ৩৪ সামরিক অধ্যাদেশ
সোমবার সকালে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিতত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

আইনে আগের বিধান আছে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণে নির্বাচন কমিশন সংবিধানের ৬৫(২) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত সংখ্যক সংসদ সদস্য প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত করার লক্ষ্যে সমগ্র দেশকে সংখ্যক একক, আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকায় বিভক্ত করবে।’

সীমানা নির্ধারণ নিয়ে প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন করে আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করতে হলে, সেক্ষেত্রে তারা (নির্বাচন কমিশন) প্রত্যেকটা আদমশুমারির পরে করতে পারবেন। আর যদি কোনো আদশশুমারি ছাড়া বা অন্য কোনো কারণে কেউ অভিযোগ করেন, সেক্ষেত্রে পাবলিক হিয়ারিং নিয়ে বাস্তবে দেখে, সার্ভে করে, তারপর করতে পারবেন।’

দৈব, দূর্বিপাক বা অন্য কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে কোনো নির্বাচনে আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা না গেলে ওই আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকার সর্বশেষ যে নির্ধারিত সীমানা আছে, সেই অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে বলেও জানান সচিব।

তবে ১৯৭৬ সালে যে অধ্যাদেশ ছিল, তার সঙ্গে এর তেমন কোনো অমিল নেই বলে জানিয়েছেন সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

২০১৩ সালে হাইকোর্টের নির্দেশনা বলা হয়, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট থেকে আটাত্তর পর্যন্ত এবং বিরাশি থেকে ছিয়াশির সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে অর্ডিন্যান্সগুলো (অধ্যাদেশ) করা হয়েছিল সেগুলো বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইন করতে হবে। আর যেগুলোর প্রয়োজন নেই সেগুলো বাদ দিতে হবে।

মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালের আগস্টে জিয়ার শাসনামলে করা পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে বলা হয়, জিয়াউর রহমানের শাসনও বৈধ নয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। ফলে রায় বহাল থাকে।

২০১০ সালে সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী ও সেনাশাসক এরশারদের শাসনও অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

তবে দুটি রায়েই সামরিক সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ বিবেচনা করে, প্রয়োজনীয়গুলো রেখে অপ্রয়োজনীয়গুলো বাদ দেয়ার কথা বলা হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় অধ্যাদেশগুলো নিয়ে কাজ করছে সরকার। মোট ১৬৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে কাজ করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এগুলোর যাচাই বাছাইয়ের অগ্রগতি নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘গত মে মাসে বসে আমরা প্রায় ২৫টি মতো সলভড করে ফেলেছি। এখনও ৩৪টার মতো আছে।’

সামরিক শাসনামলে জারি করা অধ্যাদেশগুলো এই জুনের মধ্যে আইনে পরিণত করার নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গত ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম নিজেই।

বিষয়টি সচিবের নজরে আনা হলে তিনি বলেন, ‘চেষ্টা করব। দেখা যাক। এগুলো অনেক কমপ্লেক্স প্রসিডিওর তো। অনেকটা আমরা কভার করে আসছি।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর নানা ঘটনার প্রবাহে রাষ্ট্র ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে চলে আসেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। ওই বছরের ৭ নভেম্বর নানা ঘটনাপ্রবাহের পর সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্র ক্ষমতায় তার নিয়ন্ত্রণ আরও পোক্ত হয়।

এক পর্যায়ে ১৯৭৬ সালের ১৯ নভেম্বর সামরিক আইন জারি করে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হন জিয়াউর রহমান।

১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল সেনাপ্রধান থাকা অবস্থাতেই জিয়া হয়ে যান রাষ্ট্রপতি। উর্দি পরা অবস্থাতেই ওই বছরের ৩০ মে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট দেন তিনি। বিস্ময়করভাবে ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পড়ে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে।

সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ১৯৭৮ সালের ৩ জুনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও জেতেন জিয়াউর রহমান। ওই বছরের ডিসেম্বরে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন।

এই সময়ে জিয়াউর রহমান বেশ কিছু আদেশ ও অডিন্যান্স জারি করেন।

রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন জিয়াউর রহমান।

জিয়াউর রহমানের দেখানো পথে সেনাপ্রধান থাকাকালেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াকে হত্যা করা হয়। পরে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ আবদুস সাত্তারকে পদত্যাগে বাধ্য করে রাষ্ট্রপতি হন এরশাদ। জারি করেন সামরিক আইন।

১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশ চলেছে সেনা শাসকের জারি করা অর্ডিন্যান্সে।

আরও পড়ুন:
পাংশার চেয়ারম্যানকে ডিএলজির কারণ দর্শানোর চিঠি
রৌমারীতে সড়কের কাজ শেষ না করে বিল উত্তোলন
ব্যাংকে দুর্নীতি করলে জেলের সঙ্গে জরিমানা
এই খাল নাকি খনন হয়েছে
দুর্নীতি কোথায়, প্রমাণ চান কাদের

শেয়ার করুন

কে এই অমি

কে এই অমি

পরীমনির করা মামলায় প্রধান আসামি নাসিরউদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে অমি, যাকে এই ঘটনার পরিকল্পনাকারী বলছেন এই অভিনেত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

অমি রাজধানীর আশকোনা এলাকার ব্যবসায়ী। সেখানে তাদের একাধিক ব্যবসা রয়েছে। সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টারের নামে তার একটি রিক্রুটিং এজেন্সি আছে।

চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত অমি ওরফে তুহিন। সোমবার দুপুরে তাকেসহ পাঁচজনকে উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

কিন্তু কে এই অমি? তার ব্যাপারে জানতে নিউজবাংলার কথা হয় পরীমনির কস্টিউম ডিজাইনার জিমির সঙ্গে। তিনি সেই রাতে পরীমনির সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছিলেন। ঘটনার সময় জিমিও আহত হন।

মূলত জিমির মাধ্যমেই পরীমনির কাছে তার কাজের প্রস্তাব পৌঁছান অমি।

জিমি নিউজবাংলাকে জানান, অমিকে তিনি অনেক আগে থেকেই চিনতেন। তার এক বন্ধুর বন্ধু হলো অমি।

নিউজবাংলাকে জিমি বলেন, ‘অমির সঙ্গে মাঝখানে অনেক দিন ধরেই আমার যোগাযোগ ছিল না। দুই বছর ধরে আবার আমাদের যোগাযোগ শুরু হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অমি রাজধানীর আশকোনা এলাকার নামকরা পরিবারের ছেলে। ওখানে ওদের একনামে সবাই চেনে।’

আশকোনায় অমিদের একাধিক ব্যবসা রয়েছে। যার মধ্যে জিমি শুধু বলতে পেরেছেন সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টারের নাম।

ফেসবুকে এই নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পেজ রয়েছে। সেখান থেকে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিদেশে লোক পাঠানো হয়। দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এ প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেনিংয়ের বিজ্ঞাপন দেয়া আছে ফেসবুক পেজটিতে।

ফেসবুক পেজে কয়েকটি ফোন নম্বর রয়েছে। সেখান থেকে তিনটি নম্বরে ফোন করলেও কেউ তা রিসিভ করেননি।

জিমি বলেন, ‘দুই বছর আগে যোগাযোগ শুরু হওয়ার পর অমি কিছু প্রজেক্ট নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি কিছু বিনিয়োগ করার আগ্রহ দেখিয়েছেন আমার কাছে।’

রোববার রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনার পর পরীমনি গণমাধ্যমের সামনে এসে বিস্তারিত খুলে বলেন।

তিনি জানান, অমি তার সঙ্গে একটি কাজের প্রস্তাব নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে যোগাযোগ করছিলেন। তার সেই কাজের জন্য আলোচনা করতেই তিনি বুধবার রাতে ঢাকা বোট ক্লাবে যান। এরপর সেখানেই ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

কে এই অমি
ঢাকার বিরুলিয়ায় ঢাকা বোট ক্লাব, যেখানে পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে তিনি মামলায় বলেছেন

পরীমনি সেই রাতেই ধারণা করেন, পুরো ঘটনাটিই পরিকল্পিত। আর এর নেপথ্যে থাকতে পারেন অমি।

সকালে পরী যে মামলা করেন, তাতে প্রধান আসামি হিসেবে নাসিরের নাম উল্লেখ করেন। দ্বিতীয় নামটিই ছিল অমির। তবে তিনি এহাজারে লেখেন তুহিন বলে।

অমি এই নামেও পরিচিত।

তবে অমির সঙ্গে পরীমনির কখন, কোথায়, কীভাবে পরিচয়, সেই বিষয়টি এখনও খোলাসা হয়নি। সেই রাতে পরীর সঙ্গে থাকা জিমিও এই বিষয়টি নিয়ে এখন কিছু বলতে চাইছেন না।

তবে গত রাতে পরীমনি গণমাধ্যমের সামনে আসার পর অমির ফেসবুক আইডি বন্ধ করে দেয়া হয় বলে জানান জিমি। পরে তিনি নাসিরের সঙ্গেই গ্রেপ্তার হন।

আরও পড়ুন:
পাংশার চেয়ারম্যানকে ডিএলজির কারণ দর্শানোর চিঠি
রৌমারীতে সড়কের কাজ শেষ না করে বিল উত্তোলন
ব্যাংকে দুর্নীতি করলে জেলের সঙ্গে জরিমানা
এই খাল নাকি খনন হয়েছে
দুর্নীতি কোথায়, প্রমাণ চান কাদের

শেয়ার করুন

এনা পরিবহনের মালিক এনায়েতের সম্পদের হিসাব চায় দুদক

এনা পরিবহনের মালিক এনায়েতের সম্পদের হিসাব চায় দুদক

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও এনা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ।

দুদকের উপপরিচালক আরিফ সাদেক জানান, খন্দকার এনায়েত ও ফারুকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধানে নামে দুদক। তাদেরকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদের হিসাব জমা দিতে হবে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও এনা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার এনায়েত উল্লাহকে সম্পদের হিসাব দাখিলের নোটিশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়ায় সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো নোটিশে তাকে সম্পদের হিসাব দাখিল করতে বলা হয়।

একইদিন আরেক নোটিশে তিতাস গ্যাস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক বিক্রয় সহকারী ও সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হাসানকেও সম্পদের হিসাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক এ সব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তাদেরকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদের হিসাব জমা দিতে হবে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘দুদকের অনুসন্ধানে অঢেল সম্পদ অর্জনের সত্যতা পাওয়ায় তাদের নোটিশ দেয়া হয়েছে।’

আরিফ সাদেক বলেন, খন্দকার এনায়েত ও ফারুকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধানে নামে দুদক।

নোটিশে বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধানে কমিশনের স্থির বিশ্বাস জন্মেছে যে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্বনামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ-সম্পত্তির মালিক হয়েছেন খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও ফারুক হাসান।

নোটিশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নিজের, নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারিত ফরমে দাখিল করতে বলা হয়েছে তাদের।

আরও পড়ুন:
পাংশার চেয়ারম্যানকে ডিএলজির কারণ দর্শানোর চিঠি
রৌমারীতে সড়কের কাজ শেষ না করে বিল উত্তোলন
ব্যাংকে দুর্নীতি করলে জেলের সঙ্গে জরিমানা
এই খাল নাকি খনন হয়েছে
দুর্নীতি কোথায়, প্রমাণ চান কাদের

শেয়ার করুন