মাগুরার ওপর দিয়ে যাবে ট্রেন

মাগুরার ওপর দিয়ে যাবে ট্রেন

সরকারপ্রধান বলেন, ‘মাগুরায় কখনও রেললাইন ছিল না। পাশ দিয়ে রেললাইন গেছে। এ জন্য বহুদিন ধরে সেখানকার বাসিন্দাদের একটা আকাঙ্ক্ষা ছিল রেললাইনটির কয়েক মাইল সামনে একটা স্টেশন করে দিলে মাগুরার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা সেতু হওয়ার পর এ সুফলটা মাগুরাবাসীও পাবেন।

লাইন না থাকায় এত দিন মাগুরার সঙ্গে অন্য জেলাগুলোর রেল যোগাযোগ ছিল না। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ছিল মাগুরাবাসীর আক্ষেপ। তবে আশার কথা হলো, বেশি দিন আর আক্ষেপ করতে হবে না তাদের।

গণভবন থেকে বৃহস্পতিবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সে ফরিদপুরের মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওই সময় সরকারপ্রধান বলেন, মাগুরায় কখনও রেললাইন ছিল না। পাশ দিয়ে রেললাইন গেছে। এ জন্য বহুদিন ধরে সেখানকার বাসিন্দাদের একটা আকাঙক্ষা ছিল রেললাইনটির কয়েক মাইল সামনে একটা স্টেশন করে দিলে মাগুরার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা সেতু হওয়ার পর এ সুফলটা মাগুরাবাসীও পাবেন।

‘সেখানে আরেকটু বাকি থেকে যায়। আমি মনে করি মেহেরপুর পর্যন্ত করে দেয়া যেতে পারে সংযোগটি। কুষ্টিয়া থেকে মেহেরপুর পর্যন্তও কিন্তু এ সংযোগটা করে দেয়া যেতে পারে। বেশি সময় লাগবে না। মেহেরপুর যেহেতু মুজিবনগর সরকারের রাজধানী, সেখানেও একটা রেল যোগাযোগের পরিকল্পনা আমাদের নিতে হবে।’

এ সময় রেলের উন্নয়নে সরকারের নানা পদক্ষেপ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘২১ বছর পর আওয়ামী লীগ যখন সরকারে আসে তখন থেকে আমরা প্রচেষ্টা চালাই যে জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করব। সেদিকে লক্ষ রেখে যেমন অন্য সব দিক নিয়ে আমরা কাজ করি, তেমনি যোগাযোগব্যবস্থা পুনর্গঠনে আমরা উদ্যোগ নিই।’

‘আর সেখানে সড়ক বা রেল পরিবহন, আমাদের নৌপথ, আমাদের আকাশপথ অর্থাৎ বিমান সবগুলোই আমরা কিন্তু বিশেষভাবে গুরুত্ব দিই। রেলওয়ে নিয়ে আমরা আলাদাভাবে একটা মন্ত্রণালয় করে দিই যাতে করে আলাদা বাজেট থাকে এবং রেলের উন্নয়ন হয়।’

তিনি বলেন, ‘এর কারণ হচ্ছে বিএনপি আমলে বিশেষ করে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে রেলের সব যোগাযোগ বন্ধের কাজ হাতে নিয়েছিল। অনেক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়, অনেক সাব-লাইন বন্ধ হয়ে যায়। অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। পুরো রেল যোগাযোগটাকে তারা ধ্বংস করে দেয়।

‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে রেলের অনেক লোককে বিদায় দিয়ে দেয়। আমরা যখন সরকারে আসি, বঙ্গবন্ধু সেতু, যমুনা নদীর ওপর রেল যোগাযোগ স্থাপন করি। সেই সাথে রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ আমরা হাতে নিই।’

সারা দেশে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের মাধ্যমটা সহজতর হয়। অল্প খরচে পণ্য পরিবহন করতে পারে তারা। একদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন চলে, অপরদিকে মানুষের যাতায়াতও সহজ হয়। সেদিকে লক্ষ রেখে আমরা রেলকে গুরুত্ব দিই।

‘কারণ অন্যের পরামর্শে আমরা চলি না। বাংলাদেশটা কীভাবে চলবে, উন্নত হবে, মানুষের ভাগ্য কীভাবে পরিবর্তন হবে, বাংলাদেশটা কীভাবে উন্নত হবে আমরা সেটাকেই গুরুত্ব দিই। আর সেটাকে গুরুত্ব দিয়েই আজকে সমগ্র বাংলাদেশে রেল যোগাযোগে ব্যাপক কর্মসূচি আমরা হাতে নিয়েছি। এমনটি আমরা যেসব এলাকায় রেল নেই, সেসব এলাকাতেও রেল সংযোগটা দিয়ে দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেতুর সাথে রেল যোগাযোগটা করেছিলাম বলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগটা বেড়ে যায়। আজকে সেই রেলসেতুর সাফল্য দেখে যারা একসময় রেল বন্ধই করে দিতে চেয়েছিল, তারাই আবার এখন আমাদের বলছে সেখানে আরেকটা রেলসেতু করার জন্য। অর্থাৎ যমুনা নদীর ওপর আরেকটা ডেডিকেটেড রেলসেতু, সেটার ভিত্তিপ্রস্তরও আমরা স্থাপন করেছি।

‘তাছাড়া বিভিন্ন এলাকায় যেমন ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাবল লাইন করা। যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে নির্বাচনি ইশতেহারেও বিষয়টা ছিল। কাজেই আমরা সেটাও কিন্তু করে দিয়েছি। বিশেষ করে ঢাকা-মোংলা একটা রেললাইন নির্মাণ এই সংযোগটা আমরা তৈরি করছি। এটা একসময় খুলনা-বাগেরহাট হয়ে ছিল। বাগেরহাটের লাইনটা বন্ধ করে দিয়েছিল খালেদা জিয়া সরকার।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা নতুন করে আরও আধুনিকভাবে খুলনা-মোংলা রেললাইন, ঢাকা-টঙ্গী ডুয়েলগেজ রেললাইন, টঙ্গী-জয়দেবপুরে ডাবলগেজ রেললাইন, আখাউড়া- লাকসাম ডাবলগেজ রেললাইন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ করব।

‘ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইস্পিড রেললাইন প্রকল্প এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে। সেটা আমাদের দেশের মাটি কতটুকু স্পিড নিতে পারবে সেটা পরীক্ষা করেই একটা ফিজিবিলিটি স্টাডি করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি, সেখানে আমরা রেললাইন নির্মাণ করছি। পদ্মা সেতু পার হয়ে ভাঙা হয়ে ডান দিকে যখন আমরা যশোর, খুলনা পর্যন্ত যোগাযোগ করব। অপরদিকে সোজা বরিশাল হয়ে একেবারে পায়রা নৌবন্দর পর্যন্ত আমরা রেললাইন করব। সে পরিকল্পনাও আমরা নিয়েছি।

‘বরিশাল অঞ্চলে বিশাল প্রশস্ত নদী রয়েছে। কাজেই সেখানে রেললাইন করা, যেটা ব্রিটিশরাও করতে পারেনি, আমরা উদ্যোগ নিয়েছি স্টাডি চলছে। ব্রিটিশদের অনুরোধ করেছি যে তারা যেন এই রেলটা নির্মাণ করে দেয়। সে পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগুচ্ছি। সমগ্র বাংলাদেশটাকেই আমরা রেলের আওতায় নিয়ে আসছি।’

ভারতের সাথে বন্ধ রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপনে সরকারের কর্মসূচিও তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হওয়ার পরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে জায়গাগুলোতে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, আমরা সেগুলো পুনরায় স্থাপন করছি।

‘আমরা এখন শিলিগুড়ি পর্যন্ত একটা যোগাযোগ স্থাপন করব,’ যোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
মৎস্য খামারে মন দাও: যুবকদের প্রধানমন্ত্রী
যে করেই হোক খাদ্য উৎপাদন বাড়ান: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: বাংলাদেশের পুনর্জন্ম
এসেছি তো ঝড় মাথায় নিয়েই: শেখ হাসিনা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সচিব হলেন তিনজন, ওএসডি দুই

সচিব হলেন তিনজন, ওএসডি দুই

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন পদোন্নতি পেয়ে সচিব হয়েছেন। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্বে থাকা আবুল মনসুরকে পদোন্নতি দিয়ে পাঠানো হয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে। আর সচিব পদমর্যাদায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. এহছানে এলাহী।

তিন অতিরিক্ত সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব করেছে সরকার। দুজন সচিবকে করা হয়েছে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি)।

রদবদল যেমন হয়েছে তেমনি অবসরে পাঠানো হয়েছে একজন সচিবকে।

বৃহস্পতিবার পৃথক প্রজ্ঞাপনে প্রশাসনিক এই পদোন্নতি, ওএসডি ও রদবদলের কথা জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন পদোন্নতি পেয়ে সচিব হয়েছেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। এই পদটি সচিব পদমর্যাদার।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্বে থাকা আবুল মনসুরকে পদোন্নতি দিয়ে পাঠানো হয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন এই কর্মকর্তা।

আর সচিব পদমর্যাদায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. এহছানে এলাহী। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদটি ছিল গ্রেড-১ মর্যাদার।

সচিব পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করেছে সরকার। তারা হলেন, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবুল কাসেম এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর বেগম বদরুন নেছা।

সচিব পদমর্যাদা এই দুই কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আনা হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসানকে বদলি করা হয়েছে। এখন থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। আর তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা মো. মোস্তফা কামাল।

জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বদরুল আরেফীন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ মো. ইমদাদুল হককে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এটি গ্রেড-১ পদ।

আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনরত আনোয়ার হোসেনকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তার অনুকূলে ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ল্যাম্পগ্রান্টসহ এ বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরের অবসর উত্তর ছুটি মঞ্জুর করা হল।

আরও পড়ুন:
মৎস্য খামারে মন দাও: যুবকদের প্রধানমন্ত্রী
যে করেই হোক খাদ্য উৎপাদন বাড়ান: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: বাংলাদেশের পুনর্জন্ম
এসেছি তো ঝড় মাথায় নিয়েই: শেখ হাসিনা

শেয়ার করুন

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

ঢাকাগামী সব ধরনের যানবাহন আমিনবাজারের আগেই আটকে দেয়ায় যাত্রীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

সাভার পরিবহন নামের বাসের যাত্রী সোলায়মান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হেমায়েতপুর থেকে সকাল ১০টায় রওনা দিয়ে বলিয়ারপুরে প্রায় দুই ঘণ্টা বসেই ছিলাম। তারপর পায়ে হেঁটে গাবতলী পৌঁছাই। রাস্তায় মানুষ যেভাবে একে আরেকজনের গা ঘেঁষে হেঁটে যাচ্ছে, তাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে গত মঙ্গলবার থেকে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করা হলেও রাজধানীর অন্যতম প্রবেশমুখ গাবতলী এলাকায় তীব্র যানজট কমছে না। গাবতলী থেকে সাভারের বলিয়ারপুর পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশের রাস্তায়ই শত শত যানবাহন আটকে থাকছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশের রাস্তায়ও ছিল এমন চিত্র। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা বাধ্য হয়ে হেঁটে পথ পাড়ি দিয়েছেন।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকাকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে গত মঙ্গলবার থেকে চারপাশের জেলা নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জে শুরু হয় কঠোর লকডাউন। একই দিন থেকে মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ এবং রাজবাড়ীতেও কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়, যা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

বিভিন্ন বাসের স্টাফরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে লকডাউন ঘোষণার পর ঢাকাগামী সব ধরনের যানবাহন আমিনবাজারের আগেই আটকে দেয়া হচ্ছে। এরপর বাসগুলো যাত্রী নামিয়ে ইউটার্ন নেয়ায় সেখানে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

একই কথা বলছেন ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা। তারা জানান, ঢাকার বাইরের কোনো বাস রাজধানীতে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এর ফলে আমিনবাজার থেকে বলিয়ারপুর পর্যন্ত যানজট তৈরি হচ্ছে।

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

সাভার থেকে গাবতলীগামী যানবাহনগুলো যাত্রী নামিয়ে বাম পাশ থেকে ইউটার্ন নিয়ে ডান পাশের রাস্তায় ঘুরাতে গিয়ে দুই পাশেই যানজট তৈরি করছে।

গাবতলীতে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকেই যানজট আছে। সেটা ঢাকার বাইরে। বাসগুলো ইউটার্ন করায় এই জট তৈরি হয়েছে।’

বাসযাত্রীরা বলছেন, বাসে স্বাস্থ্যবিধির দিকে কোনো নজর নেই। রাস্তায় গাড়ি আটকে পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তোলা হচ্ছে। অনেক যাত্রীই জটলা বেঁধে হেঁটে চলছেন। এক রিকশায় চারজনও চড়ছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশায়ও গাদাগাদি করে বাইরের লোকজন রাজধানীতে ঢুকছে। এতে ভোগান্তি বেড়েছে শুধু মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের।

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

এমন পরিস্থিতির জন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সাভার পরিবহন নামের বাসের যাত্রী মো. সোলায়মান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হেমায়েতপুর থেকে সকাল ১০টায় রওনা দিয়ে বলিয়ারপুরে প্রায় দুই ঘণ্টা বসেই ছিলাম। তারপর পায়ে হেঁটে গাবতলী পৌঁছাই। রাস্তায় মানুষ যেভাবে একে আরেকজনের গা ঘেঁষে হেঁটে যাচ্ছে, তাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

সুমন নামে আরেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাসের ডাবল সিটে ডাবল যাত্রী টেনে ডাবল ভাড়া নিচ্ছে। লকডাউন দিয়ে কী লাভ হচ্ছে?’

রিকশাচালক রানা জানান, এই লকডাউন শুধুই ভোগান্তির। এতে কোনো লাভ হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
মৎস্য খামারে মন দাও: যুবকদের প্রধানমন্ত্রী
যে করেই হোক খাদ্য উৎপাদন বাড়ান: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: বাংলাদেশের পুনর্জন্ম
এসেছি তো ঝড় মাথায় নিয়েই: শেখ হাসিনা

শেয়ার করুন

সেনাবাহিনী ও জনগণের দূরত্ব থাকবে না: সেনাপ্রধান

সেনাবাহিনী ও জনগণের দূরত্ব থাকবে না: সেনাপ্রধান

সেনাকুঞ্জে একটি গাছের চারা রোপণ করছেন নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

বিকেলে সদ্য বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছ থেকে সেনাপ্রধান হিসেবে বাহিনীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদতবরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে কোনো দূরত্ব থাকবে না বলে জানিয়েছেন নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

এদিন বিকেলে সদ্য বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছ থেকে সেনাপ্রধান হিসেবে বাহিনীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শফিউদ্দিন আহমেদ।

দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদতবরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সেনাকুঞ্জে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে ‘গার্ড অব অনার’ সম্মাননা দেয়। সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

এর আগে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধানকে ‘জেনারেল’ র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

জেনারেল শফিউদ্দিন বাংলাদেশের সপ্তদশ সেনাপ্রধান। তিনি আগামী তিন বছর দায়িত্ব পালন করবেন।

আরও পড়ুন:
মৎস্য খামারে মন দাও: যুবকদের প্রধানমন্ত্রী
যে করেই হোক খাদ্য উৎপাদন বাড়ান: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: বাংলাদেশের পুনর্জন্ম
এসেছি তো ঝড় মাথায় নিয়েই: শেখ হাসিনা

শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নতুন সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নতুন সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সেনাপ্রধানের পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামীতে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক মানের বাহিনীতে পরিণত হবে এবং জাতির প্রয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেয়ার পর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। বিকেলে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বঙ্গভবন প্রেস উইং জানিয়েছে, সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি নবনিযুক্ত সেনাপ্রধানকে অভিনন্দন জানান।

এ সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দুর্যোগসহ সংকটময় মুহূর্তে জাতির প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সবসময় এগিয়ে এসেছে।’

জনগণের প্রয়োজনে সব সময় পাশে দাঁড়াতে সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সেনাপ্রধানের পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামীতে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক মানের বাহিনীতে পরিণত হবে এবং জাতির প্রয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

দায়িত্ব পালনে নতুন সেনাপ্রধানের সফলতা কামনা কামনা করেন রাষ্ট্রপ্রধান।

এ সময় নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং সচিব (সংযুক্ত) ওয়াহিদুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধানকে ‘জেনারেল’ র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

বিকেলেই সদ্যবিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছ থেকে দায়িত্বভার বুঝে নেন তিনি। আগামী তিন বছর সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

১৯৬৩ সালের ১ ডিসেম্বর খুলনা জেলায় জন্ম নেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন আহমেদ স্বাধীনতার আগে একনাগাড়ে দুই যুগ জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ ১৯৮৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে নবম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সঙ্গে কমিশন লাভ করেন। কমিশনের পর পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন এলাকায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে সামরিক কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।

ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে স্নাতক শেষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ইন ডিফেন্স স্টাডিজ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজে প্রথম বিভাগসহ এমফিল সম্পন্ন করেন। বর্তমানে বিইউপিতে পিএইচডি করছেন তিনি।

জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ এমআইএসটি গোল্ড মেডেল অর্জনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রিও অর্জন করেন।

এনডিইউ, ওয়াশিংটন থেকেও গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন তিনি। তার বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একমাত্র লজিস্টিকস ফরমেশন এবং ১৯ পদাতিক ডিভিশন কমান্ড করেন তিনি।

এ ছাড়াও একটি পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে কাউন্টার ইনসারজেন্সি অপারেশন এলাকায় একটি পদাতিক ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (বিআইআইএস) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ সেনাবাহিনীর একজন পাইওনিয়ার ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ইউনাইটেড নেশনস মাল্টিডাইমেনশনাল ইন্টিগ্রেটেড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন ইন দ্য সেন্ট্রাল আফ্রিকায় (মিনুস্কা) বহুজাতিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেন।

সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে সেনাসদরে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ও দুই কন্যা সন্তানের বাবা জেনারেল শফিউদ্দিন।

আরও পড়ুন:
মৎস্য খামারে মন দাও: যুবকদের প্রধানমন্ত্রী
যে করেই হোক খাদ্য উৎপাদন বাড়ান: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: বাংলাদেশের পুনর্জন্ম
এসেছি তো ঝড় মাথায় নিয়েই: শেখ হাসিনা

শেয়ার করুন

বিমান নিয়ে নাশকতার মামলায় বৈমানিকের জামিন নাকচ

বিমান নিয়ে নাশকতার মামলায় বৈমানিকের জামিন নাকচ

বাংলাদেশ বিমানের ফার্স্ট অফিসার (কো-পাইলট) সাব্বির ইমাম ও তার তিন সহযোগীকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর মিরপুরের দারুস সালাম থানায় করা বিস্ফোরক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

বিমান নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে আটক বাংলাদেশ বিমানের ফার্স্ট অফিসার (কো-পাইলট) সাব্বির ইমামকে জামিন দেয়নি হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয়।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল পারভেজ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

বিপুল বাগমার বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানের কো-পাইলট সাব্বির ইমামের জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। আদালত সেটি শুনে প্রথমে সরাসরি খারিজ করে দেন। কিন্তু আসামিপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে পরে নট প্রেস রিজেক্ট (উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ) করে দিয়েছে।’

বিমান নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে বাংলাদেশ বিমানের ফার্স্ট অফিসার (কো-পাইলট) সাব্বির ইমাম ও তার তিন সহযোগীকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর মিরপুরের দারুস সালাম থানায় করা বিস্ফোরক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

পরের দিন তাদেরকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। রিমান্ড শেষে তাদেরকে কারাগারে পাঠায় আদালত।

এর আগে ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর সাব্বিরের বাবা হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব জানায়, সাব্বির জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর সদস্য এবং নিহত সন্দেহভাজন জঙ্গি আব্দুল্লাহর সহযোগী।

আরও পড়ুন:
মৎস্য খামারে মন দাও: যুবকদের প্রধানমন্ত্রী
যে করেই হোক খাদ্য উৎপাদন বাড়ান: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: বাংলাদেশের পুনর্জন্ম
এসেছি তো ঝড় মাথায় নিয়েই: শেখ হাসিনা

শেয়ার করুন

শাটডাউনে প্রস্তুত সরকার

শাটডাউনে প্রস্তুত সরকার

প্রায় দেড় বছর ধরে কঠোর বা শিথিল লকডাউনের মধ্যেই রয়েছে দেশ। ছবি: সাইফুল ইসলাম

বৃহস্পতিবার সারা দেশে নতুন করে কমপক্ষে ১৪ দিনের ‘শাটডাউন’-এর সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটি। এরপরই ‘শাটডাউন’ দিতে সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ফরহাদ হোসেন।

করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি বুঝে সারা দেশে ‘শাটডাউন’ ঘোষণার প্রস্তুতি সরকারের আছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার সারা দেশে নতুন করে কমপক্ষে ১৪ দিনের ‘শাটডাউন’-এর সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটি। এরপরই ‘শাটডাউন’ দিতে সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ফরহাদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই গভীরভাবে এটা পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজন হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটা শুরু করতে পারব।’

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সে অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। সরকার প্রস্তুত আছে, যেকোনো সময় একটা সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।’

স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি বিবেচনায় লকডাউন ঘোষণার নির্দেশনা, ঢাকার চারপাশে সাত জেলায় চলমান লকডাউন এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গাতে আজকে (বৃহস্পতিবার) ৪১ জনে ৪১ নাকি পজিটিভ হয়েছে। সরকারের একটা প্রস্তুতি আছে এবং আমরা কঠোর একটা বিধিনিষেধ সেটি ঢাকাসহ… এ রকম যদি পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে আমাদের সেটা করতে হতে পারে। সে রকম প্রস্তুতি সরকারের আছে।’

শাটডাউনে প্রস্তুত সরকার
করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি বুঝে সারা দেশে ‘শাটডাউন’ ঘোষণার প্রস্তুতি সরকারের আছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

কতটা কঠোর হবে জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘গত মার্চে যেটা হলো, আরও কঠোরভাবে করতে হতে পারে।’

আরও পড়ুন:
মৎস্য খামারে মন দাও: যুবকদের প্রধানমন্ত্রী
যে করেই হোক খাদ্য উৎপাদন বাড়ান: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: বাংলাদেশের পুনর্জন্ম
এসেছি তো ঝড় মাথায় নিয়েই: শেখ হাসিনা

শেয়ার করুন

পাসপোর্টের সাবেক ডিজি মাবুদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

পাসপোর্টের সাবেক ডিজি মাবুদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আব্দুল মাবুদ খান। ফাইল ছবি

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বাদী হয়ে গত ১৬ জুন মামলাটি করেন বলে বৃহস্পতিবার জানা গেছে। মামলায় মাবুদ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) আব্দুল মাবুদ খান ও তার স্ত্রী নাসিমা খানের বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বাদী হয়ে গত ১৬ জুন মামলাটি করেন বলে বৃহস্পতিবার জানা গেছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আব্দুল মাবুদ খান ৪ কোটি ৭২ লাখ ৩৬ হাজার ২১৬ কোটি টাকার অবৈধ উৎসকে বৈধ দেখানোর জন্য তার স্ত্রী নাসিমা খানের সঙ্গে পারস্পারিক যোগসাজশে জালজালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা ও ননজুডিশিয়াল স্টাম্প ও হলফনামা সৃজন ও সম্পাদন করে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকার মিথ্যা দান ও ঋণ দেখিয়েছেন।

এ ছাড়া বৈধ উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ তথা জ্ঞাতআয়বহির্ভূত ৪ কোটি ৭২ লাখ ৩৬ হাজার ২১৬ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৬১ হাজার ৮৯৫ টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে জমা রেখে উত্তোলন করেছেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুদক। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরকে উৎস ধরে তদন্তে নামে সংস্থাটি। এরপর দীর্ঘ অনুসন্ধানে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মামলা করল দুদক।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিসের প্রথম ব্যাচের কর্মকর্তা মাবুদ অতিরিক্ত আইজিপি ছিলেন। ২০০৯ সালে পাসপোর্টের ডিজির দায়িত্ব নিয়ে ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি অবসরে যান।

মাবুদের বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের কন্দর্পপুর গ্রামে। অবসরের পর তিনি একটি ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পাসপোর্টের ডিজি হিসেবে যোগ দেয়ার আগে মাবুদ ও তার স্ত্রী নাসিমার নামে চারটি ব্যাংক হিসাব ছিল। ২০০৯ সালে ডিজি হওয়ার পর থেকেই তাদের নামে আরও ব্যাংকে হিসাব খোলা শুরু হয়। এর মধ্যে এবি ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায়ই তাদের ১৬টি এফডিআর বা স্থায়ী আমানতের সন্ধান পান গোয়েন্দারা।

আরও পড়ুন:
মৎস্য খামারে মন দাও: যুবকদের প্রধানমন্ত্রী
যে করেই হোক খাদ্য উৎপাদন বাড়ান: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: বাংলাদেশের পুনর্জন্ম
এসেছি তো ঝড় মাথায় নিয়েই: শেখ হাসিনা

শেয়ার করুন