চলাচলের অনুমতি পেল লঞ্চ

চলাচলের অনুমতি পেল লঞ্চ

বিআইডব্লিউটিএর জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন জানান, এখনও ৩ নম্বর সতর্কসংকেত আছে। তাই সব নৌযান চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে বড় লঞ্চ চলবে। ছোট এক ইঞ্জিনের কোনো ট্রলার চলবে না।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে বন্ধ থাকার দুই দিন পর শুধু দুই ইঞ্জিনের লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

বিআইডব্লিউটিএর জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, এখনও ৩ নম্বর সতর্কসংকেত চালু রয়েছে। তাই সব নৌযান চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে ৬০ বোর্ডের বড় লঞ্চ চলবে।

৩ নম্বর সতর্কসংকেত ওঠানো হলে আবার সব নৌযান চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে সারা দেশে নদীবন্দর থেকে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয় বিআইডব্লিউটিএ।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।

তবে ইয়াস চলে গেলেও তার প্রভাব এখনও আছে উপকূলের জেলাগুলোতে। সেখানে উঁচু জোয়ারের কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই কারণে এখনও ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল রেখেছে তারা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা: ইসি পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা: ইসি পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা

মামলার বাদী শরীফ উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, ২০১২ সালে নির্বাচন কমিশনের সাতটি ল্যাপটপ হারিয়ে যায়। এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি মামলা হলেও তৎকালীন জেলা নির্বাচন অফিসারসহ আসামিরা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং হারিয়ে যাওয়া একটি ল্যাপটপ দিয়ে রোহিঙ্গাসহ মোট ৫৫ হাজার ৩১০ জনকে অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাসহ ৫৫ হাজার ৩১০ জনকে অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিবালয়ের পরিচালকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২-এর উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন বুধবার দুপুরে এই মামলা করেন।

মামলার চার আসামি হলেন চট্টগ্রাম জেলার সাবেক সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও ইসি সচিবালয়ের বর্তমান পরিচালক খোরদেশ আলম, জেলা নির্বাচন অফিসের সাবেক উচ্চমান সহকারী মাহফুজুল ইসলাম, সাবেক অফিস সহায়ক রাসেল বড়ুয়া ও পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন অফিসের সাবেক টেকনিক্যাল এক্সপার্ট মোস্তফা ফারুক।

মামলার বাদী শরীফ উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, ২০১২ সালে নির্বাচন কমিশনের সাতটি ল্যাপটপ হারিয়ে যায়। এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি মামলা হলেও তৎকালীন জেলা নির্বাচন অফিসারসহ আসামিরা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

বরং হারিয়ে যাওয়া একটি ল্যাপটপ দিয়ে রোহিঙ্গাসহ মোট ৫৫ হাজার ৩১০ জনকে অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আসামিরা মূলত একে অপরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দণ্ডবিধির ২০১, ৪০৯, ১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।’

শেয়ার করুন

গণমাধ্যমে ৪৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা ‘চূড়ান্ত’

গণমাধ্যমে ৪৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা ‘চূড়ান্ত’

জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

‘প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া উভয় ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা কর্মস্থলে চাকরির অনিশ্চয়তায় ভোগেন। এটা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকি। তাদের চাকরির এ অনিশ্চয়তা দূর করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমকর্মী (চাকরির শর্তাবলি) আইন প্রণয়ন করছে, যা বর্তমানে অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সাংবাদিকদের আবাসনের জন্যও বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ৪৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নিশ্চিত করতে আইন চূড়ান্ত হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নওগাঁর সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিনের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গণমাধ্যমকর্মীদের ৪৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন করেছে। এটি অনুমোদনের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।’

‘প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া উভয় ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা কর্মস্থলে চাকরির অনিশ্চয়তায় ভোগেন। এটা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকি। তাদের চাকরির এ অনিশ্চয়তা দূর করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমকর্মী (চাকরির শর্তাবলি) আইন প্রণয়ন করছে, যা বর্তমানে অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সাংবাদিকদের আবাসনের জন্যও বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সাংবাদিকদের পরিবারকে সহায়তা দেয়ার জন্য ১০ কোটি টাকা আর্থিক অনুদান দেয়া হয়েছে। করোনায় প্রেস ক্লাবের আয় কমে যাওয়ায় মে মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য ৫০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

‘সংবাদকর্মীদের কল্যাণে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার ২০১৩ সালে অষ্টম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণার মাধ্যমে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের বেতন ও অন্যান্য সুয়োগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ১৮৮টি পত্রিকায় অষ্টম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়িত হয়েছে। এ ছাড়া নবম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণার মাধ্যমে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।’

দেশের সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের লক্ষ্যে নানা সুবিধা দেয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন সময় গুরুতর আহত সাংবাদিকদের দেশ-বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার বহন করে থাকে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকেও সাংবাদিকদের জন্য অর্থ প্রদানসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হয়।’

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের স্মরণে ১৫০ ফুট উঁচু গ্লাস টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের স্মরণে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। এরই মধ্যে ১৫০ ফুট উঁচু গ্লাস টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। যশোরের রাজগঞ্জ বাজারে ও ফরিদপুরের অম্বিকা ময়দানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বিশেষ স্থান সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় সংসদে বুধবার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিভিন্ন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেসব স্থান বিশেষভাবে সংরক্ষণে বর্তমান সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের স্মরণে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। এরই মধ্যে ১৫০ ফুট উঁচু গ্লাস টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। যশোরের রাজগঞ্জ বাজারে ও ফরিদপুরের অম্বিকা ময়দানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক স্থানে বঙ্গবন্ধুর বিশেষ স্মৃতি রয়েছে। ওইসব স্থান ঘটনার তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় স্মৃতিস্বরূপ সংরক্ষণ করা হবে। তাহলে তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে অবহিত হতে পারবে।’

ঢাকার মিন্টু রোড ও আব্দুল গণি রোডের ভবনগুলোতে বঙ্গবন্ধুর অবস্থান ছিল, বিধায় সেগুলো সংরক্ষণের বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ, কানাডা, সৌদি আরব ও তুরস্ক স্থায়ী মিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর দ্য রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্ট’ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান তিনি।

রোহিঙ্গা-সংকট সমাধানে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ আহ্বান করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ, কানাডা, সৌদি আরব ও তুরস্ক স্থায়ী মিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর দ্য রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্ট’ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আয়োজনে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, উদ্বোধনী বক্তা ছিলেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান বজকির।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ’রোহিঙ্গা সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানে আমরা সব সময়ই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছি; সমস্যার মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধানের কথা বলেছি; বিশেষ করে তাদের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিরাপদে, নিরাপত্তার সঙ্গে এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে টেকসই প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছি।’

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য নব্যসৃষ্ট আবাসনসুবিধার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য সৃষ্ট নতুন এই আবাসনব্যবস্থা জাতিসংঘ ও উন্নয়ন সহযোগীরা যথাযথভাবে পরিদর্শন ও মূল্যায়ন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং এখানে তাদের রোহিঙ্গাবিষয়ক কর্মসূচির বাস্তবায়নকাজ শুরু করেছে।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান বজকির বক্তব্যে তার সাম্প্রতিক কক্সবাজার সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

এ ছাড়া প্যানেলিস্টরা রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের মানবীয় উদারতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

শেয়ার করুন

পানপুঞ্জি দখলের ঘটনার তদন্ত দাবি

পানপুঞ্জি দখলের ঘটনার তদন্ত দাবি

এক নাগরিক প্রতিনিধিদল গত ৭-৮ জুন ক্ষতিগ্রস্থ পুঞ্জিগুলো পরিদর্শন করে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। ছবি: নিউজবাংলা

‘ভূমি সমস্যা সমাধান করা যাবে না। এটার জন্য নতুন ভাবে ভূমি ও বন-নীতি করা লাগবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।’

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা ও কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর পানপুঞ্জিগুলোতে বহিরাগতরা প্রবেশ এবং জবরদখলের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে মানবাধিকারকর্মী ও পরিবেশকর্মীরা।

ঢাকা থেকে মানবাধিকারকর্মী, পরিবেশকর্মী, শিক্ষক, আদিবাসী সংগঠক, গবেষক, সাংবাদিকদের এক নাগরিক প্রতিনিধিদল গত ৭-৮ জুন ক্ষতিগ্রস্থ পুঞ্জিগুলো পরিদর্শন করে।

এই পরিদর্শনে দেখা অভিজ্ঞতা নিয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সেখানে মূল বক্তব্যে প্রতিনিধি দলের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, মৌলভীবাজার, সিলেট ও হবিগঞ্জের খাসি ও মান্দিরা ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সদস্যরা ঐতিহ্যগতভাবে বনবিভাগ, চা-বাগান এবং কিছু খাসজমি এলাকায় বসবাস করেন।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ‘পুঞ্জিবাসী নৃ গোষ্ঠীর জীবনজীবিকার সুরক্ষাই প্রথম অগ্রাধিকার’ বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার বরাত দিয়ে জোবাইদা নাসরীন বলেন, আমরা প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের আশ্বাস ও তৎপরতার ওপর শতভাগ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে চাই। আমরা দেখতে চাই রাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে পানপুঞ্জির ভূমি সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, ভূমি সমস্যা সমাধান করা যাবে না। এটার জন্য নতুন ভাবে ভূমি ও বন-নীতি করা লাগবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।

এ সময় নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, মৌলভীবাজারে ৬৫টি খাসি পুঞ্জি আছে। অনেক চা বাগানের শ্রমিক আছে। এদের নিয়ে যথেষ্ট তথ্য ও গবেষণা নেই। বিগত ৫০ বছরে তাদেরকে আমরা একটা ‘ভালনারেবল’ পরিস্থিতির মধ্যে রেখে দিয়েছি।

এই মাইনোরিটিদের নিয়ে একটা ভালো গবেষণা করারও দাবি করেন তিনি।

এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাপার কেন্দ্রীয় সদস্য আমিনুর রসুল।

এ সময় ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে, পানপুঞ্জি জবরদখল, গাছ কাটা ও পানজুম ধ্বংসের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইন ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সুনির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

পানপুঞ্জির নাগিরকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানসহ মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পানপুঞ্জির নাগরিকদের জীবন ও জীবিকার সামগ্রিক নিরাপত্তা বিধান করতে হবে।

পানপুঞ্জিগুলোর গাছকাটা, উচ্ছেদ ও জবরদখল এগুলো সবই ধারাবাহিক নিপীড়নের ফলাফল। এক্ষেত্রে এসব অঞ্চলে ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভিন্নভাবে ভাবা জরুরি।

এবং চাবাগান সম্প্রসারণের নামে কোনো পানপুঞ্জির গাছ কাটা যাবে না এবং পুঞ্জির জায়গা ও পানজুম দখল করা যাবে না।

প্রতিনিধি দলের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপায়ন খীসাসহ আরও অনেকে।

শেয়ার করুন

সীমিত পরিসরে ২৩ জুন উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ

সীমিত পরিসরে ২৩ জুন উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ফাইল ছবি

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘বরাবরই যেমন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমরা আনন্দমুখরভাবে উদযাপন করি, এবার প্যানডামিকের কারণে সেভাবে তো আর সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘জনগণের পার্টিসিপেশন আমরা ব্যাপক করতে পারব না, তবে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জনগণের সব ধরনের সমন্বয় সাধন করেই আমরা করব।’

করোনা মহামারির মধ্যে এবারও সীমিত পরিসরেই দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনাড়ম্বরভাবেই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হবে।

আগামী ২৩ জুন ৭৩ বছরে পড়ছে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া দলটির জন্য দিনটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবছর বেশ ঘটা করেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।

কিন্তু গত বছরের মতো এবারও বাদ সেধেছে বৈশ্বিক করোনা মহামারি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, দলীয় কার্যালয়ে আলোকসজ্জা আর ভার্চুয়াল আলোচনা সভার মধ্যেই সীমিত রাখা হবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সব আয়োজন।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় বিধিনেষেধ, স্বাস্থ্যবিধি, লকডাউনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে থাকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বরাবরই যেমন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমরা আনন্দমুখরভাবে উদযাপন করি এবার প্যানডামিকের কারণে সেভাবে তো আর সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

‘এর মধ্যে একটা হচ্ছে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি। তারপর থাকবে দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। এ ছাড়া একটা আলোচনা সভা হবে ভার্চুয়ালি, সেখানে হয়তো আমাদের দলের সভানেত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।

‘এর পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়গুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা, যদিও এখনও এটা চূড়ান্ত হয়নি। করোনার সময় আসলে সব ধরনের উৎসব থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে। মানুষের দুর্যোগ আর মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে আমাদের সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এর মধ্যে যতটুকু আড়ম্বরতা বাদ দিয়ে করা যায় তাই করা হচ্ছে।’

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর মুসলীম লীগই ছিল দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দল। কিন্তু ক্রমান্বয়ে পাকিস্তানিদের রাজনৈতিক আধিপত্যবাদের বিষয়টি সামনে এলে পূর্ব পাকিস্তানে আলাদা একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখেন এ অঞ্চলের রাজনৈতিক নেতারা।

এরই অংশ হিসেবে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে জন্ম নেয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলীম লীগ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল। মূলত মুসলীম লীগের প্রগতিশীল অংশ এই রাজনৈতিক দলটির সঙ্গে যুক্ত হন।

প্রতিষ্ঠার সময় আওয়ামী মুসলীম লীগের সভাপতি হন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আর সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৫৫ সালের দলের নাম থেকে মুসলিম অংশটি বাদ দিয়ে দলের নামকরণ করা হয় আওয়ামী লীগ।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানে পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল এই রাজনৈতিক দল। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে যতগুলো গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আওয়ামী লীগের নাম।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বও এসেছে এই দল থেকে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন নিয়ে আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম নিউজবাংলাকে বলেন, অনাড়ম্বরভাবে দলের তৃণমূল পর্যায়েও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটা আওয়ামী লীগের একটি বিশেষ দিন ও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। করোনার কারণে আগের মতো হবে না। কিন্তু আমরা চেষ্টা করব সব পর্যায়ে একেবারে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা, মহানগর, নগরে আমরা ২৩ জুন পালন করব। আলোকসজ্জা থেকে আরম্ভ করে যতটুকু সম্ভব। সীমিত পরিসরে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে আমরা তা উদযাপন করব।

‘জনগণের পার্টিসিপেশন আমরা ব্যাপক করতে পারব না, তবে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জনগণের সব ধরনের সমন্বয় সাধন করেই আমরা করবো। সাজসজ্জার দিকে নজর দেব। একটু লাইটিং করা, পতাকা উত্তোলন, শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা তো থাকবেই।’

শেয়ার করুন

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা ‘ডাকাত’, দুদকের জালে ইসি কর্মকর্তা

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা ‘ডাকাত’, দুদকের জালে ইসি কর্মকর্তা

পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন করে রোহিঙ্গা নুর আলমকে স্মার্ট কার্ড দেয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, রোহিঙ্গা নুর আলমকে চট্টগ্রাম নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হয়। তৎকালীন কাউন্সিলর সরফরাজ কাদের চৌধুরীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে তাকে পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন করে স্মার্টকার্ড দেয়া হয়। তখন পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ছিলেন আব্দুল লতিফ শেখ।

কক্সবাজারে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত রোহিঙ্গা ‘ডাকাত’ নুর আলমকে ভোটার করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্মকর্তাসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেছে দুদক।

মঙ্গলবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২-এর উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন মামলাটি করেন।

রোহিঙ্গা নুর আলমকে এনআইডি, জন্মসনদ ও জাতীয়তা সনদ দেয়ার অভিযোগে মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

তারা হলেন চট্টগ্রাম নগরীর সাবেক পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ও বর্তমানে পাবনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ, চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাবেক ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোহাম্মদ শাহ জামাল, পাঁচলাইশ নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রুফ রিডার উৎপল বড়ুয়া ও রন্তু বড়ুয়া, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের (দক্ষিণ হালিশহর) তৎকালীন কাউন্সিলর সরফরাজ কাদের চৌধুরী রাসেল, একই ওয়ার্ডের জন্মনিবন্ধন সহকারী ফরহাদ হোসাইন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, এনআইডি পেতে নুর আলম তার ঠিকানা চট্টগ্রাম নগরীর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের আমিন জুট মিল কলোনি উল্লেখ করে পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবারক আলী ওই ঠিকানায় নুর আলমের অবস্থানের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রত্যয়ন করেন।

পরে নুর আলম নিজেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ঠান্ডাছড়ি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা উল্লেখ করে আবেদন করেন। রাজানগর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান সামশুল আলমও ওই ঠিকানায় নুর আলম কখনও অবস্থান করেননি বলে প্রত্যয়ন করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে নুর আলমকে চট্টগ্রাম নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড (দক্ষিণ হলিশহর) থেকে জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হয়। তৎকালীন কাউন্সিলর সরফরাজ কাদের চৌধুরী রাসেলের প্রত্যয়নের ভিত্তিতে নুর আলমকে পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন করে স্মার্টকার্ড দেয়া হয়। তখন পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ছিলেন আব্দুল লতিফ শেখ।

নুর আলমকে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন ও স্মার্টকার্ডের জন্য তথ্য সার্ভারে আপলোড এবং পরে স্মার্টকার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবারক আলী ও রাজানগর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান সামশুল আলমের প্রত্যয়ন আমলে নেননি। এমনকি তাদের দেয়া তথ্য সংরক্ষণও করেননি।

দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা নুর আলমকে ভোটার তালিকাভুক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড) সরবরাহের জন্য ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আসামিরা অপরাধ করেছেন।

২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার জাদিমুরা ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন রোহিঙ্গা ‘ডাকাত’ নুর আলম। ওই দিন বিকেলে তাকে টেকনাফের রঙ্গিখালী উলুচামারী পাহাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল টেকনাফ থানার পুলিশ। স্থানীয় যুবলীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন নুর আলম।

শেয়ার করুন