ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত ২৭ উপজেলা: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত ২৭ উপজেলা: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইয়াস সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ওড়িশায় আঘাত হেনেছে। এটি বিকেল ৪টার দিকে আরও পশ্চিমে সরে যাবে। আমরা এখন বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি, আমাদের দেশে এর সরাসরি কোনো প্রভাব পড়বে না।’

ভারতের ওড়িশায় আঘাত হেনে উপকূল অতিক্রম করছে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’। এতে বাংলাদেশের উপকূলীয় ২৭টি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপকূলীয় ১৪ জেলায় ইয়াসের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলে ধরার সময় এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইয়াস সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ওড়িশায় আঘাত হেনেছে। এটি বিকেল ৪টার দিকে আরও পশ্চিমে সরে যাবে। আমরা এখন বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি, আমাদের দেশে এর সরাসরি কোনো প্রভাব পড়বে না।’

তিনি বলেন, ‘তবে ইয়াসের প্রভাবে অতি জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় ৯ জেলার ২৭ উপজেলার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলো হচ্ছে শ্যামনগর, আশাশুনি, কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, শরণখোলা, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ, মঠবাড়িয়া, বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, পটুয়াখালী সদর, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, দশমিনা, মির্জাগঞ্জ, কলাপাড়া, চরফ্যাশন, মনপুরা, তজুমদ্দিন, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, ভোলা সদর, বামনা, বেতাগী, লালমোহন, হাতিয়া, রামগতি ও কমলনগর।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পটুয়াখালী জেলায় জোয়ারের পানি বিপৎসীমার নিচে আছে। সেখানে কোনো ঝড়বৃষ্টি নেই। ১৭২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪ হাজার মানুষ আশ্রয় নিলেও তারা এখন নিজেদের বাড়িতে ফিরে গেছেন।’

ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত ২৭ উপজেলা: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

তিনি জানান, সাতক্ষীরায় জোয়ারের পানি ৩ থেকে ৬ ফুট উঁচুতে প্রবাহিত হচ্ছে। কয়েকটি বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষ নিজেদের বাড়িতে ফিরে গেছেন।

বরগুনায় জোয়ারের পানি ২ থেকে ৩ ফুট উঁচুতে রয়েছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা ৫২০ জন বাড়িতে ফিরে গেছেন। সামান্য বৃষ্টি থাকলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি নেই।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ঝালকাঠিতে পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। পিরোজপুরে জোয়ারের পানি ৩ ফুট উঁচুতে রয়েছে। এখানে পানির তোড়ে মাছের ১০ থেকে ১২টি ঘের ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবজিবাগান।

বরিশালে তেমন ক্ষয়ক্ষতি নেই। ভোলায় ঝড় হয়েছে। পানি ২ থেকে ৩ ফুট ওপরে উঠলেও তা এখন নেমে গেছে। কাঁচা ঘর ভেঙে গেছে ২৫০টি। পানিতে ভেসে গেছে ৯০০ গরু-মহিষ। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা ২ হাজার মানুষ বাড়ি ফিরে গেছেন।

তিনি জানান, বাগেরহাটে তিনটি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি আছে, তবে স্বাভাবিক। চাঁদপুরে রোদ ছিল। কোনো ক্ষয়ক্ষতি নেই। লক্ষ্মীপুরে সামান্য জোয়ারের পানি আছে। খুলনায় ক্ষয়ক্ষতি নেই। জোয়ারের পানি নেমে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা লোকজন বাড়ি ফিরে গেছেন।

ফেনীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও ঝড়ে ট্রলার ডুবে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। চট্টগ্রামে পানি বাড়ছে, তবে ক্ষয়ক্ষতি নেই। নোয়াখালীতে জোয়ারের পানি ৪ ফুট পর্যন্ত উঁচুতে উঠলেও পরে সেটি নেমে গেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগে থেকেই জেলা প্রশাসকদের কাছে খাদ্য ও অর্থ দেয়া আছে। তারা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। ৯টি জেলার ২৭টি উপজেলায় ১৬ হাজার ৫০০ শুকনা খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ইয়াস: জোয়ারের পানি চট্টগ্রাম বন্দরে
দেশ ঝুঁকিমুক্ত হলেও থাকতে পারে জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব
উত্তাল পদ্মা, ক্ষতিগ্রস্ত শিমুলিয়া ঘাট
ইয়াস: জোয়ারে প্লাবিত আরও গ্রাম
ইয়াস: সেন্টমার্টিনে উপড়ে পড়েছে গাছপালা, বাঁধে ভাঙন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সৌদিগামীদের দেশে কোয়ারেন্টিন চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সৌদিগামীদের দেশে কোয়ারেন্টিন চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সোনারগাঁ হোটেলে সৌদি অ্যারাবিয়া এয়ারলাইনস অফিসের সামনে দেশটিতে গমনেচ্ছু শ্রমিকদের ভিড়- ফাইল ছবি/ নিউজবাংলা

তাই হলে করোনার এই সময়টাতে সৌদি আরবে যেতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের খরচ সাশ্রয় হবে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বাংলাদেশের প্রস্তাবটি বিবেচনার করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সৌদি আরবে যাওয়ার পর দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনের পরিবর্তে শ্রমিকদের দেশেই কোয়েন্টিনে রেখে পাঠাতে চায় বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে আলাপও হয়েছে ঢাকার।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে শনিবার বিষয়টি নিয়ে ফোনালাপ হয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বলেছেন, বাংলাদেশের শ্রমিকরা দেশে কোয়ারেন্টাইন শেষ করে সৌদি গেলে সেদেশের কোয়ারেন্টাইন থেকে অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে।

তাই হলে করোনার এই সময়টাতে সৌদি আরবে যেতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের খরচ সাশ্রয় হবে বলে উল্লেখ করেন মোমেন। বাংলাদেশের প্রস্তাবটি বিবেচনার করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বিদেশি নাগরিকদের সৌদি ভ্রমণে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করে দেশটির সরকার। দেশটিতে ভ্রমণ করতে যাওয়া সব বিদেশি নাগরিককে বাধ্যতামূলকভাবে কোভিড চিকিৎসা সংক্রান্ত ইনস্যুরেন্স করতে হয়। এই ইনস্যুরেন্সের আওতায় হাসপাতাল-ক্লিনিকসহ প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিনের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। সব মিলিয়ে বাড়তি খরচ পড়ে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা।

করোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশি শ্রমিকের সৌদি যাওয়ার অনুমতি দেয়ায় ফোলানাপে দেশের সরকারকে ধন্যবাদ জানান মোমেন।

এ সময় হজ প্রসঙ্গেও কথা হয় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ জানান, এ বছর করোনা মহামারির কারণে অন্য দেশ থেকে কোনো ব্যক্তি সৌদি আরবে গিয়ে হজ পালন করার সুযোগ পাবেন না। তবে সৌদিতে অবস্থানরত সৌদি নাগরিকের পাশাপাশি অন্য দেশের নাগরিকরাও হজ পালনের সুযোগ পাবেন।

রোহিঙ্গা বিষয়টিও তুলে ধরেন আব্দুল মোমেন। তিনি জানান, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সেদেশে নিরাপদ মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনকে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করে। এ বিষয়ে তিনি সৌদি আবরের সহযোগিতা কামনা করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা গ্রহণ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের করবেন বলে জানান।

আরও পড়ুন:
ইয়াস: জোয়ারের পানি চট্টগ্রাম বন্দরে
দেশ ঝুঁকিমুক্ত হলেও থাকতে পারে জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব
উত্তাল পদ্মা, ক্ষতিগ্রস্ত শিমুলিয়া ঘাট
ইয়াস: জোয়ারে প্লাবিত আরও গ্রাম
ইয়াস: সেন্টমার্টিনে উপড়ে পড়েছে গাছপালা, বাঁধে ভাঙন

শেয়ার করুন

ভোটের গুরুত্ব করোনার চেয়ে বেশি: সিইসি

ভোটের গুরুত্ব করোনার চেয়ে বেশি: সিইসি

বরিশাল সার্কিট হাউজে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকে বক্তব্য দেন সিইসি। ছবি: নিউজবাংলা

‘নির্বাচন করলেই করোনা সংক্রমণ বাড়ে, তা সঠিক নয়। রাজশাহীতে এখন নির্বাচন নেই, অথচ করোনা বৃদ্ধি।’

নির্বাচনের গুরুত্ব আলাদা, করোনার চেয়েও বেশি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।

আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে শনিবার সকালে বরিশাল সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত বৈঠকে সিইসি এমন মন্তব্য করেন।

দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন করলেই করোনা সংক্রমণ বাড়ে, তা সঠিক নয়। রাজশাহীতে এখন নির্বাচন নেই, অথচ করোনা বৃদ্ধি।’

দেশ-বিদেশের এমন নানা চিত্র তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, করোনার চেয়েও নির্বাচনের গুরুত্ব বেশি।

জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে দেয়ার প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেন সিইসি। বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের কাছেই থাকা উচিত। কেননা ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির কাজ তারাই করেছে।’

সার্কিট হাউসে ওই বৈঠকে বিভাগীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সেখানে আগামী ২১ জুন হতে যাওয়া ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে মাঠ কর্মকর্তাদের কথা শোনেন সিইসি।

বৈঠকে মাঠ কর্মকর্তাদের অনেকেই নির্বাচন নিয়ে নানা শঙ্কা প্রকাশ করেন। জানান, অভ্যন্তরীণ দলাদলিতে নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা হতে পারে।

এ জন্য প্রতি ইউনিয়নে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দেবার দাবি জানান তারা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে নির্দেশনা দিয়ে সিইসি বলেন, দলমত না দেখে আচরণবিধি ভঙ্গকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বরিশা‌লের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। বি‌শেষ অতি‌থি ছি‌লেন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল, ব‌রিশাল মে‌ট্রোপ‌লিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান, রেঞ্জ ডিআই‌জি এস এম আক্তারুজ্জামান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মেদ খান, বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন।

আরও পড়ুন:
ইয়াস: জোয়ারের পানি চট্টগ্রাম বন্দরে
দেশ ঝুঁকিমুক্ত হলেও থাকতে পারে জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব
উত্তাল পদ্মা, ক্ষতিগ্রস্ত শিমুলিয়া ঘাট
ইয়াস: জোয়ারে প্লাবিত আরও গ্রাম
ইয়াস: সেন্টমার্টিনে উপড়ে পড়েছে গাছপালা, বাঁধে ভাঙন

শেয়ার করুন

৭৫ ভাগ পৌরসভার বেতন ৭০ মাস পর্যন্ত আটকে

৭৫ ভাগ পৌরসভার বেতন ৭০ মাস পর্যন্ত আটকে

সুনামগঞ্জ পৌরসভার পৌর ভবন। ফাইল ছবি

পৌরসভা শ্রমিক-কর্মচারীদের সংগঠনটি জানায়, এখন ১ হাজার ২৬ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকা অবসরকালীন ভাতা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি ৩২৯টি পৌরসভার ১১ হাজার ৬৭৫ জন কর্মচারীর ৮৭৫ কোটি টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে।

দেশের ৭৫ শতাংশ পৌরসভার কর্মীর বেতন-ভাতা দুই থেকে ৭০ মাস পর্যন্ত বকেয়া পড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

পৌরসভা শ্রমিক-কর্মচারীদের সংগঠনটি জানায়, এখন ১ হাজার ২৬ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকা অবসরকালীন ভাতা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি ৩২৯টি পৌরসভার ১১ হাজার ৬৭৫ জন কর্মচারীর ৮৭৫ কোটি টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার সংগঠনটি সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের আট দফা দাবি তুলে ধরে। কর্মীদের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে জেলা প্রশাসক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল সাত্তার বলেন, ‘সংবিধানের ৫১(১) অনুচ্ছেদে পৌরসভাগুলোকে প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের অন্য প্রশাসনিক ইউনিটের কর্মচারীদের সঙ্গে সীমাহীন বৈষম্য থাকার কারণে পৌরসভার কর্মচারীদের দুঃখ-দুর্দশা চরম আকার ধারণ করেছে।

‘সরকারের নির্দেশনা মেনে প্রায় ৩২ হাজার পৌর কর্মচারী রাত-দিন পরিশ্রম করলেও বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।’

৭৫ ভাগ পৌরসভার বেতন ৭০ মাস পর্যন্ত আটকে
বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। ছবি: নিউজবাংলা

সাত্তার বলেন, ‘নতুন মেয়ররা স্বেচ্ছাচারিতা অব্যাহত রেখেছেন। নির্বাচিত হয়েই পুরোনো মাস্টাররোলের কর্মচারীদের ছাঁটাই করে অর্থের বিনিময়ে নতুন কর্মচারী নিয়োগ দিচ্ছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল আলিম মোল্লা বলেন, ‘২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মচারীদের বেতন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও পৌর কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে গত বছরের মতো মাত্র ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

‘জাতীয় বাজেটের পরিমাণ হাজার হাজার কোটি টাকা বাড়লেও পৌর কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি।’

বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের আট দাবি হলো-

১. বেতন-ভাতা যেগুলো বকেয়া ছিল, সেটা জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে ৭৯২ কোটি টাকার ৫০ ভাগ বা ৩৪৬ কোটি টাকা সাহায্যে অর্থ বিভাগে চিঠি দেয়া হয়, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে গত বছরের ১৫ অক্টোবর হাইকোর্ট স্থানীয় সরকার বিভাগকে সংবিধানের ২০ ধারা মোতাবেক বেতন দিতে আদেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি। উচ্চ আদালতের এই আদেশ দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।

২. পৌরসভাগুলো আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় বাজেটে এর কর্মচারীদের বেতন খাত নং ৩৬৩১১০১-এ আর্থিক অনুদান বৃদ্ধি করে ইউনিয়ন পরিষদের মতো সংশোধিত বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করাসহ প্রতিবছর এ বরাদ্দ অব্যাহত রাখতে হবে।

৩. স্থানীয় সরকার বিভাগের গঠিত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন করে বকেয়া বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন ভাতা স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত কমিটির প্রস্তাবিত ৭৯২ কোটি টাকা বেতন খাতে বরাদ্দ করতে হবে।

৪. তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী প্রয়াত জিল্লুর রহমানের ঘোষণা বাস্তবায়ন করে কেন্দ্রীয়ভাবে অবসরকালীন ভাতা দিতে হবে।

৫. পৌরসভার বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে রাজস্ব খাত থেকে দরপত্র আহ্বান বা অন্য ব্যয় যাতে করতে না পারে, সে জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের তদারকি জোরদার করতে হবে।

৬. রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য এ-সংক্রান্ত কমিটিতে জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে কর্মকর্তাদের পদায়ন করতে হবে।

৭. স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক আয়-ব্যয়সংক্রান্ত বিষয়ে সব পৌরসভাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

৮. নিয়োগে দুর্নীতি রোধে সব ধরনের নিয়োগে স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশিষ্টতা বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুন:
ইয়াস: জোয়ারের পানি চট্টগ্রাম বন্দরে
দেশ ঝুঁকিমুক্ত হলেও থাকতে পারে জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব
উত্তাল পদ্মা, ক্ষতিগ্রস্ত শিমুলিয়া ঘাট
ইয়াস: জোয়ারে প্লাবিত আরও গ্রাম
ইয়াস: সেন্টমার্টিনে উপড়ে পড়েছে গাছপালা, বাঁধে ভাঙন

শেয়ার করুন

ভার্চুয়াল আদালতে ৪০ দিনে হাজার শিশুর জামিন

ভার্চুয়াল আদালতে ৪০ দিনে হাজার শিশুর জামিন

ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে ৪০ দিনে জামিনে মুক্ত হয়েছে এক হাজার ১৭ শিশু। ফাইল ছবি

ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে ৪০ কার্যদিবসে সারাদেশের সকল অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৫টি জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি করে ৬৩ হাজার ৭৫ জনকে জামিন দিয়েছেন। 

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে দেশে জারি করা কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে ৪০ কার্যদিবসে ভার্চুয়াল আদালত থেকে ১ হাজার ১৭ শিশুকে জামিন দেয়া হয়েছে।

সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান শনিবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিউজবাংলাকে সাইফুর রহমান বলেন, ‘কঠোর বিধিনিষেধের সময় বিগত ৪০ কার্যদিবসে দেশের বিভিন্ন আদালত থেকে ভার্চুয়ালি শুনানি করে ১ হাজার ১৭ শিশুকে জামিন দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থেকে তাদের মুক্তিও দেয়া হয়েছে।’

এ ছাড়া ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে ৪০ কার্যদিবসে সারাদেশের সকল অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৫টি জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি করে ৬৩ হাজার ৭৫ জনকে জামিন দিয়েছেন।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে দেশের সকল আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জরুরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য সীমিত পরিসরে কিছু কোর্ট খোলা রাখা হয়। যেখানে ভার্চুয়ালি শুনানি হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে কোর্ট সংখ্যা বাড়ানো হয়।

করোনার কারণে গত বছরের ২৬ মার্চ প্রথমে আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তার এক মাস পর ২৬ এপ্রিল ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর উদ্যোগ নেন প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রী।

পরে ওই বছরের ৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

এর দুই দিন পর ৯ মে ভার্চুয়াল কোর্ট সম্পর্কিত অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সে বছরের ১০ মে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা প্রসঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ফুল কোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান বিচরপতির সভাপতিত্বে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতিরা অংশ নেন।

ফুলকোর্ট সভায় ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’ এর আওতায় উচ্চ আদালত এবং নিম্ন আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্র্যাকটিস ডাইরেকশন অনুমোদিত হয়। পরে বিজ্ঞপ্তিত জারি করে ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়।

২০২০ সালের শেষের দিকে করোনা সংক্রমণ কমে আসলে ফের নিয়মিত আদালত শুরু হয়। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে আবারও আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে গত ১২ এপ্রিল থেকে ভার্চুয়াল আদালতে বিচার কাজ শুরু হয়।

আরও পড়ুন:
ইয়াস: জোয়ারের পানি চট্টগ্রাম বন্দরে
দেশ ঝুঁকিমুক্ত হলেও থাকতে পারে জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব
উত্তাল পদ্মা, ক্ষতিগ্রস্ত শিমুলিয়া ঘাট
ইয়াস: জোয়ারে প্লাবিত আরও গ্রাম
ইয়াস: সেন্টমার্টিনে উপড়ে পড়েছে গাছপালা, বাঁধে ভাঙন

শেয়ার করুন

লঘুচাপে উত্তাল সাগর, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

লঘুচাপে উত্তাল সাগর, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ বিরাজ করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চারনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

লঘুচাপের কারণে বঙ্গোপসাগর এখন উত্তাল। তাই উপকূলীয় অঞ্চলে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ বিরাজ করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চারনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ নিউজবাংলাকে জানান, এ সতর্ক সংকেত শুধুমাত্র সমুদ্রের জন্য। ল্যান্ডের জন্য না। আগামী এক দুই দিন এটা থাকবে।

বর্ষাকালে এমন সংকেত মাছ ধরার ট্রলার ও জেলেদের উদ্দেশে দেয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ১০ মিনিটা আগেই এই সংকেত দেখিয়েছি। বর্ষাকালে লঘুচাপ হয়ে অনেক সময় নিম্নচাপ হয়। সেক্ষেত্রে ঢেউ হয়। বাতাস থেকে ঢেউ বেশি থাকে। এটা লেখা থাকেই যে মাছ ধরা ট্রলার বা নৌকার জন্য। তারা কোস্টের কাছে যেতে পারবে তবে বেশি গভীরে যেন না যায়।

লঘুচাপে উত্তাল সাগর, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
ছবি: উইন্ডি ডটকম

‘আমরা বলেই দিই যে গভীর সমুদ্রে মেঘমালা সৃষ্টি হয়। তখন বড় ঢেউয়ের সম্ভাবনা থাকে। তার কারণে যেন কোনো ক্ষতি না হয়। এর আগেও এমন হয়েছে। লঘুচাপ ল্যান্ডে না আসা পর্যন্ত আজ কাল এটা থাকবে। এটা মূলত সাবধানতার জন্য দেয়া হয়েছে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় একটি লঘুচাপ বিরাজ করছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে রয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি হতে বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা সারাদেশে অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন:
ইয়াস: জোয়ারের পানি চট্টগ্রাম বন্দরে
দেশ ঝুঁকিমুক্ত হলেও থাকতে পারে জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব
উত্তাল পদ্মা, ক্ষতিগ্রস্ত শিমুলিয়া ঘাট
ইয়াস: জোয়ারে প্লাবিত আরও গ্রাম
ইয়াস: সেন্টমার্টিনে উপড়ে পড়েছে গাছপালা, বাঁধে ভাঙন

শেয়ার করুন

বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন

বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন

বিজিবির চট্টগ্রাম রিজিয়ন সদর দপ্তরের দক্ষিণপূর্ব রিজিয়নের ব্যবস্থাপনায় ৭ জুনে শুরু হওয়া ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে এই সীমান্ত সম্মেলন শুক্রবার শেষ হয়।

বর্ডারগার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) আঞ্চলিক কমান্ডারস ও ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) ফ্রন্টিয়ার ইন্সপেক্টরস জেনারেল (আইজি) পর্যায়ের ৫ দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন শেষ হয়েছে।

বিজিবির চট্টগ্রাম রিজিয়ন সদর দপ্তরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবির চট্টগ্রাম রিজিয়ন সদর দপ্তরের দক্ষিণপূর্ব রিজিয়নের ব্যবস্থাপনায় ৭ জুনে শুরু হওয়া ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে এই সীমান্ত সম্মেলন শুক্রবার শেষ হয়।

সম্মেলনে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা, গুলি, আহত, হামলা, বাংলাদেশি নাগরিকদের অপহরণ, আটক, গ্রেপ্তার, বিএসএফের সীমান্ত লঙ্ঘন, অবৈধ অতিক্রম, অনুপ্রবেশ, ভারতীয় অপরাধী, চোরাকারবারী, দুষ্কৃতকারীদের বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা সম্পর্কিত ইস্যু তুলে ধরা হয়।

এছাড়া মাদক, নেশাজাতীয়দ্রব্য, মদ, অস্ত্র, গোলাবারুদ ইত্যাদি চোরাচালানরোধ, নারী-শিশু পাচার প্রতিরোধ, ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং সীমান্ত চুক্তির সঠিক অনুসরণসহ পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২ পক্ষই বিরাজমান পারস্পরিক সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধির জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনে বিজিবির চট্টগ্রাম, সরাইল, কক্সবাজার রিজিয়ন ও ময়মনসিংহ সেক্টরস কমান্ডার এবং বিএসএফের পক্ষে ত্রিপুরা, মিজোরাম, কাচার, মেঘালয় ও গৌহাটি ফ্রন্টিয়ার ইন্সপেক্টরস জেনারেলরা অংশ নেন।

বিজিবির চট্টগ্রাম রিজিয়ন সদর দপ্তরের দক্ষিনপূর্ব রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তানভীর গনি চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

অপরদিকে, বিএসএফ ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের ইন্সপেক্টর জেনারেল শ্রী সুশান্ত কুমার নাথের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবির ঊর্ধতন কর্মকর্তাগণ ছাড়াও স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করেন।

সম্মেলনের শুরুতে বিজিবি প্রতিনিধিদলের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তানভীর গনি চৌধুরী ২ দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে সীমান্ত সংক্রান্ত সব সমস্যা সমাধানে ২ বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিএসএফ প্রতিনিধিদলের প্রধানও একই কথার পুনরাবৃত্তি করে সীমান্ত সমস্যা সমাধান ও সম্পর্ক উন্নয়নে এ ধরনের সীমান্ত সম্মেলনের প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন:
ইয়াস: জোয়ারের পানি চট্টগ্রাম বন্দরে
দেশ ঝুঁকিমুক্ত হলেও থাকতে পারে জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব
উত্তাল পদ্মা, ক্ষতিগ্রস্ত শিমুলিয়া ঘাট
ইয়াস: জোয়ারে প্লাবিত আরও গ্রাম
ইয়াস: সেন্টমার্টিনে উপড়ে পড়েছে গাছপালা, বাঁধে ভাঙন

শেয়ার করুন

সংক্রমণ এখন বেশি ঢাকার বাইরে

সংক্রমণ এখন বেশি ঢাকার বাইরে

রাজশাহী মেডিক্যাল হাসপাতালে করোনা রোগীদের চাপ বাড়ছে। ছবি: নিউজবাংলা

দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় হু হু করে বাড়ছে করোনা রোগী ও এতে মৃত্যুর সংখ্যা। শনাক্তের দিক থেকে এখন ঢাকা বিভাগ তৃতীয় স্থানে। সবচেয়ে বেশি শনাক্ত রাজশাহীতে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিক থেকে এ পর্যন্ত শনাক্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে শীর্ষে স্থানে ছিল ঢাকা বিভাগ। তবে সম্প্রতি দেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট’ শনাক্ত হওয়ার পর ঢাকার বাইরে সীমান্তের জেলাগুলোতে গত এক সপ্তাহে করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ।

দেশের পশ্চিম সীমান্তের শহরগুলোয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও যশোরের অবস্থা উদ্বেগজনক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক সপ্তাহে একক জেলা হিসেবে রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত ও মৃত্যু হয়েছে। গত ৫ জুন এক দিনে ২৮৮ করোনা রোগী শনাক্ত হলেও সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ বেড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৮২ জন রোগী দাঁড়িয়েছে সেখানে। এ সময়ের মধ্যে (২৪ ঘণ্টায়) সেখানে মারা গেছে ১১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে খুলনা। সেখানে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫৯৯ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা। এই বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ৪৮০ জন। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিভাগে রোগী শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৫১৩ জন।

এ ছাড়া অন্য বিভাগগুলোতে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২০০-এর কম ছিল।

হঠাৎ করে রোগী বাড়ায় সীমান্তের হাসপাতালগুলোতে চাপ বেড়েছে। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এসব হাসপাতালে জরুরি সেবা ছাড়া অন্য রোগীদের সেবা বন্ধ রাখার। এমনকি রোগী আরও বাড়লে সীমান্তের জেলা-উপজেলার সব হাসপাতালে করোনা ইউনিট করা হবে।

সংক্রমণ বাড়ার কারণে সীমান্তের আট জেলায় গত মে মাসে লকডাউনের সুপারিশ করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিটি। সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আগেই লকডাউন দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে করোনাবিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, শুধু লকডাউন দিয়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সীমান্তের জেলাগুলোতে টেস্ট বাড়াতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারকে আইসোলেশনে রাখতে হবে। সংক্রমণ কমাতে লকডাউন করা জেলাগুলোকে বাকি দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। লকডাউন হওয়া জেলা থেকে অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন বাইরে আসতে দেয়া যাবে না।

সংক্রমণ এখন বেশি ঢাকার বাইরে


সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ১০ শতাংশের বেশি সংক্রমণের হার থাকা জেলাগুলোকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আর ৫-৯ শতাংশ সংক্রমণের হার থাকা জেলাগুলোকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৫ শতাংশের নিচের জেলাকে স্বল্প ঝুঁকির অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬টি জেলা চিহ্নিত করা হয়েছে।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁসহ দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় সংক্রমণের হার অনেক বেশি। তাই এ অঞ্চলগুলোতে অ্যান্টিজেন টেস্ট বাড়ানো হয়েছে। এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়েও টেস্ট করানো হচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিনা মূল্যে করোনা পরীক্ষা করানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ভারতীয় ধরন দেশে আসার পর থেকেই সীমান্তের জেলাগুলোতে সংক্রমণ বেড়েছে। সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যাবেক্ষণে ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ টিম সীমান্ত পরিদর্শন করেছে। দেয়া হয়েছে সুরক্ষা সামগ্রী ও ওষুধ। হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়ার পরিকল্পনাও করেছে সরকারি এই সংস্থাটি।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ভারতীয় ধরন শনাক্ত হওয়ার পর সীমান্তের জেলাগুলোতে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল সেখানে পাঠানো হয়েছে। সীমান্তে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য কোভ্যাক্সের কাছে দেশীয় আবহাওয়া উপযোগী টিকা চাওয়া হয়েছে। কারণ ফাইজারের তাপমাত্রা-জটিলতার কারণে এ টিকা শুধু ঢাকায় দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইয়াস: জোয়ারের পানি চট্টগ্রাম বন্দরে
দেশ ঝুঁকিমুক্ত হলেও থাকতে পারে জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব
উত্তাল পদ্মা, ক্ষতিগ্রস্ত শিমুলিয়া ঘাট
ইয়াস: জোয়ারে প্লাবিত আরও গ্রাম
ইয়াস: সেন্টমার্টিনে উপড়ে পড়েছে গাছপালা, বাঁধে ভাঙন

শেয়ার করুন