ফিলিস্তিনে জরুরি সহায়তা যাচ্ছে আজ

ফিলিস্তিনে জরুরি সহায়তা যাচ্ছে আজ

রাফাহ সীমান্ত থেকে গাজায় প্রবেশ করছে মিসরের পাঠানো ত্রাণবাহী একটি ট্রাক। ছবি: এএফপি

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সকালে ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদানের কাছে জরুরি মানবিক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

ইসরায়েলের বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের জন্য বাংলাদেশের দেয়া ত্রাণ বুধবার হস্তান্তর করা হবে। আজই ত্রাণ পাঠিয়ে দেয়া হবে ফিলিস্তিনে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সকালে ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদানের কাছে জরুরি মানবিক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনে যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তার প্রতি ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে দেশটির প্রতি অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে এই ঘটনার সুবিচার দাবি করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

১৭ মে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতকে টেলিফোন করে সহায়তা পাঠানোর কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। তিনি সেদিন ইউসুফ রামাদানকে বলেছিলেন, বাংলাদেশের সমর্থন সব সময় ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি রয়েছে। বাংলাদেশ শিগগিরই ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাঠাচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদান সে সময় বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ, ওআইসিসহ সব বৈশ্বিক সংস্থা এবং বিশ্বের সবার কাছে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন ও দোয়া চাই। ইসরায়েলি নারকীয় বাহিনী ফিলিস্তিনের মাটিতে যে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে, তা দৃশ্যমান। ইসরায়েল যে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, তা-ও বিশ্ববাসী দেখছে।

‘ইসরায়েল ফিলিস্তিনের জনগণের ঘরবাড়ি অবৈধভাবে দখল করে তাদের বাস্তুচ্যুত করছে। ফিলিস্তিনের জনগণ বিশ্ববাসীর কাছে এই জঘন্য ঘটনার বিচার চায়।’

প্রতি উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন রাষ্ট্রদূতকে বলেন, ‘ফিলিস্তিনে ইসরায়েল যে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, তা বিশ্বের কোনো আইনেই মেনে নেয়া যায় না। ইসরায়েলের এই হত্যা এবং মানবাধিকার পরিপন্থি কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। বিশ্বের শান্তি এবং প্রগতির জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

ইসরায়েলের টানা ১১ দিনের ধ্বংসযজ্ঞের পর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় খাদ্য ও ওষুধের ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল সেখানে ত্রাণবাহী ট্রাক ঢুকতে বাধা দেয়ায় মানবিক পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠছে। সীমান্তের বেশ কয়েকটি পয়েন্ট হয়ে গাজায় প্রবেশের অপেক্ষায় আছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার পাঠানো ত্রাণবাহী অনেক ট্রাক।

সম্প্রতি ইসরায়েলের বিভিন্ন দখলদার প্রতিষ্ঠানের করা মামলায় শেখ জারাহ এলাকায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ শুরু হয়। এর জেরে চলতি মাসের শুরুতে সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভ করেন ফিলিস্তিনিরা।

উত্তেজনা গড়ায় পবিত্র আল-আকসা মসজিদ পর্যন্ত। রমজান মাসজুড়ে সেখানে দফায় দফায় অভিযান চালায় ইসরায়েলের সেনারা।

সংঘর্ষে আহত হন কয়েক শ মুসল্লি। এমন পরিস্থিতিতে গাজার শাসক দল হামাস হুঁশিয়ারি হিসেবে ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ে।

২০১৪ সালের পর চলতি মাসের প্রায় দুই সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি রক্তক্ষয়ী আক্রমণের শিকার হয় অবরুদ্ধ গাজার বাসিন্দারা। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের কাছে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে বিবেচিত হামাস ও তাদের মিত্র ইসলামিক জিহাদের বিরুদ্ধে গাজা ও পশ্চিম তীরে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

১০ থেকে ২০ মে পর্যন্ত ইসরায়েলের বাহিনীর এসব বিমান হামলায় প্রাণ গেছে ৬৫ শিশুসহ ২৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনির। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০০ জন নারী রয়েছেন। আহত দুই হাজারের বেশি। ভিটেমাটি হারিয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।

সহিংসতার ইতি টানতে অস্ত্রবিরতি কার্যকর হলেও আল-আকসায় অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নভেম্বরে দুয়ার খুলছে যুক্তরাষ্ট্র

নভেম্বরে দুয়ার খুলছে যুক্তরাষ্ট্র

হোয়াইট হাউসের মহামারিবিষয়ক সমন্বয়ক জেফ জেইন্টস বলেন, ‘আকাশপথে যাত্রার নতুন নীতিমালার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে অথবা ফিরতে ইচ্ছুক প্রত্যেক যাত্রীকে করোনারোধী টিকার দুই ডোজ আগেই নিশ্চিত করতে হবে।’

করোনার সংক্রমণরোধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে আরোপিত বাধা উঠে যাচ্ছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। দুই ডোজ টিকা নেয়া ব্যক্তিরা প্রবেশ করতে পারবেন দেশটিতে।

গত বছর মার্চে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সময় আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞা ১৮ মাস পরে তুলে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

সোমবার হোয়াইট হাউসের মহামারিবিষয়ক সমন্বয়ক জেফ জেইন্টস এই ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আকাশপথে যাত্রার নতুন নীতিমালার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে অথবা ফিরতে ইচ্ছুক প্রত্যেক যাত্রীকে করোনারোধী টিকার দুই ডোজ আগেই নিশ্চিত করতে হবে।’

সংবাদমাধ্যম বিবিসিস্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই এমন তথ্য।

দুই ডোজ নেয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে আসার কমপক্ষে তিন দিন আগে পাওয়া করোনার নেগেটিভ সার্টিফিকেট কর্তৃপক্ষকে দেখাতে হবে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হতে ও ছোট-বড় ব্যবসায় প্রাণ ফিরে পেতে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়া হচ্ছে।

‘যুক্তরাষ্ট্রের বিমানচলাচল খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার পাশপাশি দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

দেড় বছর ধরে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, ইরান ও চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। তবে মেক্সিকো ও কানাডা থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে তেমন কোনো বাধা ছিল না।

নতুন এই নীতিমালায়, কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, বাসিন্দা ও বিদেশি নাগরিক যাদের বিশেষ ভিসার অনুমতি রয়েছে তারা যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবে।

এ সপ্তায় জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ ইউরোপ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা।

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নেতৃত্বে সুকান্ত মজুমদার

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নেতৃত্বে সুকান্ত মজুমদার

বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নেয়া ড. সুকান্ত মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে দিলীপ ঘোষের জায়গায় রাজ্য বিজেপির সভাপতি পদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বালুরঘাটের সাংসদ ড. সুকান্ত মজুমদারকে। মঙ্গলবার সভাপতির দায়িত্ব নেবেন সুকান্ত। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা সাংগঠনিক রদবদলের এ ঘোষণা দিলেও ‘কারণ’ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেননি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতির পদে হঠাৎ পরিবর্তন এসেছে। মেয়াদ শেষের অনেক আগে সভাপতির চেয়ার থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে দিলীপ ঘোষকে। সে পদে বসানো হয়েছে বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে।

নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটি সোমবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এতে বলা হয়, দিলীপ ঘোষের জায়গায় রাজ্য বিজেপির সভাপতি পদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বালুরঘাটের সাংসদ ড. সুকান্ত মজুমদারকে। মঙ্গলবার সভাপতির দায়িত্ব নেবেন সুকান্ত।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা সাংগঠনিক রদবদলের এ ঘোষণা দিলেও ‘কারণ’ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেননি।

এদিকে নতুন দায়িত্ব পেয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘দিলীপদা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য, দলকে শক্তিশালী করা। দিলীপদা দলের যে শক্তিশালী ভিত তৈরি করে গিয়েছেন, তা মজবুত করাই আমার লক্ষ্য। বাঙালির ভবিষ্যৎ ও বাঙালির অস্তিত্বের জন্য বিজেপির শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।’

বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে দিলীপ ঘোষের মেয়াদ শেষের কথা ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে। তার অনেক আগেই দিলীপকে সরিয়ে দেয়ার কারণ অনুসন্ধান করছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপিতে যখন ভাঙন শুরু হয়েছে, তখন উত্তরবঙ্গের সাংসদকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেয়ার এ ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, রাজ্য সভাপতির পদে দিলীপ ঘোষ তার উত্তরসূরি সুকান্তকে নিজেই পছন্দ করেছেন। দিলীপ ঘোষ দায়িত্ব নেবেন মুকুল রায়ের ছেড়ে যাওয়া সর্বভারতীয় সহসভাপতি হিসেবে।

পদ বদলের ঘটনায় দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘নতুন সভাপতিকে অভিনন্দন। আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেয়, এটাও নিয়েছে। যিনি রাজ্য সভাপতি হলেন, তিনি আমারও সভাপতি। তিনি সামনে থাকবেন, আমরা তার নেতৃত্বে কাজ করব।’

শেয়ার করুন

৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ওপর কার্যকর ফাইজারের টিকা

৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ওপর কার্যকর ফাইজারের টিকা

শিশুদের দেহে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে প্রাক-প্রাথমিক স্কুলশিক্ষার্থীদের খুব অল্প পরিমাণে ডোজ দিয়েছে ফাইজার। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ডোজের এক-তৃতীয়াংশ দিয়ে এক ডোজ দিয়েছে শিশুদের। তাও দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পর শিশুদের দেহে কিশোর ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের সমপরিমাণই করোনাবিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের ওপর কার্যকর ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে শিশুদের দেহে টিকাটি নিরাপদ ও কার্যকর বলে প্রমাণ মিলেছে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও জার্মানির জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক যৌথ ঘোষণায় জানায় এ খবর। বলা হয়, শিগগিরই পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সীদের টিকাটি প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদন চাইবে ফাইজার।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ বছর ও এর বেশি বয়সীদের টিকাটি প্রয়োগে আগেই অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন সববয়সী শিশুরা স্কুলে ফিরেছে। এমন সময়ে করোনাভাইরাসের অধিক সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার বাড়ছে বলে উদ্বিগ্ন শিশুবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অভিভাবকরা। তারা শিশুদের টিকার জন্য উদগ্রীব।

শিশুদের দেহে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে প্রাক-প্রাথমিক স্কুলশিক্ষার্থীদের খুব অল্প পরিমাণে ডোজ দিয়েছে ফাইজার। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ডোজের এক-তৃতীয়াংশ দিয়ে এক ডোজ দিয়েছে শিশুদের।

তাও দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পর শিশুদের দেহে কিশোর ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের সমপরিমাণই করোনাবিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

ফাইজারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. বিল গ্রুবার বলেন, ‘শিশুদের জন্য নির্ধারিত স্বল্প পরিমাণের ডোজ নিরাপদ। টিকাগ্রহণে প্রাপ্তবয়স্করা যেমন কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে পারেন, তেমনই জ্বর, চুলকানি, হাতে ব্যথার মতো সাধারণ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শিশুদের দেহেও দেখা যেতে পারে।

পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সীদের টিকাদানে জরুরি অনুমোদনের জন্য এ মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এফডিএ) কাছে আবেদন করবে ফাইজার। পরে যুক্তরাজ্য আর ইউরোপের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছেও আবেদন করবে।

পশ্চিমা দেশগুলোর বেশিরভাগই ১২ বছরের কমবয়সীদের করোনা প্রতিরোধী টিকা এখনও দিচ্ছে না। এই বয়সী শিশুদের জন্য সঠিক ডোজের মাত্রা জানার অপেক্ষায় রয়েছে দেশগুলো।

তবে ক্যারিবীয় দেশ কিউবায় দুই বছরের বেশি বয়সী শিশুদেরও নিজস্ব গবেষণায় আবিষ্কৃত টিকা দেয়া হচ্ছে। তিন বছরের বেশি বয়সীদের জন্য চীনও নিজস্ব টিকাদানে অনুমতি দিয়েছে।

শেয়ার করুন

টিকটকের চীনা সংস্করণে শিশুদের জন্য সময় দিনে ৪০ মিনিট

টিকটকের চীনা সংস্করণে শিশুদের জন্য সময় দিনে ৪০ মিনিট

প্রতীকী ছবি

বাইটড্যান্স জানিয়েছে, আপাতত শিশু-কিশোরদের জন্য দুইনে ব্যবহারের নিয়ম কঠোর করা হচ্ছে। পরে শিশু-কিশোরদের শেখার মতো গুণগত মানসম্পন্ন কনটেন্ট প্রচারেও কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের চীনা সংস্করণ দুইনে দিনে সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট সময় কাটাতে পারবে চীনের শিশুরা। ১৪ বছরের কমবয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে এ নিয়ম।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনে প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে যে কোনো সময় সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবে শিশুরা।

বেইজিংভিত্তিক ইন্টারনেট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স নিয়ন্ত্রণ করে দুইনে অ্যাপ। এক ব্লগ পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপটির ইয়ুথ মোড চালু করার কথা জানিয়েছে।

স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে এরকম নিষেধাজ্ঞা এটাই প্রথম।

জানা গেছে, নতুন নিয়মে কেবল আসল নাম ব্যবহারকারীরাই দুইনে অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে। এটি ব্যবহারে কোনো ন্যূনতম বয়স বেঁধে দেয়া নেই। তবে ১৮ বছরের কমবয়সীদের বৈধ অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে অ্যাপটি ব্যবহার করতে হয়।

টিকটক ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স ১৩ বছর।

দুইনের ইয়ুথ মোডে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, জাদুঘরের প্রদর্শনী বা ঐতিহাসিক ব্যাখ্যাসহ শিক্ষাবিষয়ক কোনো কনটেন্ট নেই।

বাইটড্যান্স জানিয়েছে, আপাতত শিশু-কিশোরদের জন্য দুইনে ব্যবহারের নিয়ম কঠোর করা হচ্ছে। পরে শিশু-কিশোরদের শেখার মতো গুণগত মানসম্পন্ন কনটেন্ট প্রচারেও কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

গত মাসে অনলাইন ভিডিও গেমসেও শিশুদের দৈনিক সময়সীমা বেঁধে দেয় চীনা সরকার। ১৮ বছরের কমবয়সীদের জন্য সাপ্তাহিক কর্মদিবস, অর্থাৎ স্কুল খোলা থাকার দিনগুলোতে ভিডিও গেমসে সময় দেয়া নিষিদ্ধ করেছে বেইজিং। শুধু শুক্রবার আর সাপ্তাহিক ও অন্য ছুটির দিনগুলোতে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা করে ভিডিও গেমস খেলতে পারবে শিশুরা।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে স্কুলে মোবাইল ফোন নেয়া নিষিদ্ধ করে বেইজিং।

ইন্টারনেটে চীনের শিশু, কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম প্রচুর বাড়তি সময় কাটাচ্ছে বলে গত তিন বছর ধরে সতর্ক করে আসছিল দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। বলা হচ্ছিল, বিষয়টি পরবর্তী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শেয়ার করুন

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্যপদ কী দেবে ইরানকে

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্যপদ কী দেবে ইরানকে

তাজিকিস্তানের দুশানবেতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। সাম্প্রতিক ছবি

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এটাই ইরানের প্রথম কোনো আঞ্চলিক জোটের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার ঘটনা। তেহরানের সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আবাস আসলানি বলেন, ‘ইরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। এসসিও সদস্যপ্রাপ্তির অর্থ হলো- এসব নিষেধাজ্ঞায় জোটের অন্য সদস্যদের সমর্থন নেই। সে জন্যই তারা ইরানকে পূর্ণ সদস্যপদ দিয়েছে।’

বেইজিংভিত্তিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা জোট সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) পূর্ণ সদস্য হতে ১৫ বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরান। গত শুক্রবার এর ফল পেয়েছে দেশটি। ওই দিন জোটের স্থায়ী সদস্য সাত রাষ্ট্র ইরানকে এসসিওর পূর্ণ সদস্য করার পক্ষে সায় দেয়।

এসসিওর সিদ্ধান্তের পর আরও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে ইরানকে। প্রক্রিয়াগত ও আইনি ধাপগুলো পাড়ি দিতে দেশটির লেগে যেতে পারে দুই বছর। এরপরই এমন জোটে যোগ দেবে ইরান, যার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আয়তন বিশ্বের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

এ রাষ্ট্রগুলো বছরে হাজার হাজার কোটি ডলার রপ্তানি করে। তাদের জোটসঙ্গী হওয়ার মধ্য দিয়ে এশিয়ার বিশাল অবকাঠামোয় যোগ দিল যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে কোণঠাসা ইরান।

জোটের সদস্যদের মধ্যে চীন, রাশিয়া, ভারত ছাড়াও মধ্য এশিয়ার কিছু দেশ রয়েছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, তাজিকিস্তানের দুশানবেতে এসসিওর সম্মেলন শেষে দেশে ফিরে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এসসিওর অনুমোদনকে ‘কূটনৈতিক সাফল্য’ আখ্যা দেন।

এর আগে তাজিকিস্তানে দুই দিনের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘একতরফাবাদের’ নিন্দা জানান রাইসি। ওই সময় তিনি অবরোধের বিরুদ্ধে সমন্বিত লড়াইয়ের আহ্বান জানান।

এসসিও সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট রাইসি। এগুলোর ফলও পেয়েছেন তিনি। তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এমোমালি রাহমোনের সঙ্গে আটটি চুক্তিতে সই করেন ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান।

এসব চুক্তির মাধ্যমে দেশ দুটি বার্ষিক বাণিজ্য ৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে চায়, যা বর্তমান অঙ্কের প্রায় ১০ গুণ।

এসসিওর পূর্ণ সদস্য হওয়ার গুরুত্ব রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের চেয়েও বেশি ইরানের মর্যাদা ও কূটনৈতিক সাফল্যের প্রশ্ন।

জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের গবেষক হামিদরেজা আজিজি বলেন, ‘পশ্চিমা নয়, এমন পরাশক্তিগুলোর মঞ্চ হিসেবেই এসসিওর প্রতি আগ্রহ ইরানের। কোনো আধুনিক আন্তর্জাতিক সংগঠনের চেয়ে এটি পশ্চিমাবিরোধী বা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বেশি।

‘ভারত-পাকিস্তানের মতো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। কিন্তু তাও এসসিওর সদস্য দেশগুলো এবং এর কারণও তাদের যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি। আবার রাশিয়া আর চীন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধ পক্ষ বলে স্বীকৃত হলেও কখনোই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়নি। তারাও এসসিওর সদস্য।

‘এই দুটি ধারণার সমন্বয় এবং এশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শক্তি ইরানের এসসিওতে যোগ দেয়া মানে ইরানের জন্য পশ্চিমাবিরোধী শক্তিশালী একটি জোট গড়ে তোলা, যে জোট যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে।’

আজিজির মতে, ইরানের শত্রুতার মধ্যে অবশ্য নিজেদের জড়াতে চাইবে না অন্যান্য এসসিও সদস্যরা। সে কারণেই ভারসাম্য রক্ষায় শুক্রবারের বৈঠকে ‘আলোচনার অংশীদার’ হিসেবে সৌদি আরব, কাতার আর মিসরকেও রাখা হয়েছিল।

কূটনৈতিক দিক থেকেও এসসিওর পূর্ণ সদস্য হিসেবে ইরানের অনুমোদনপ্রাপ্তি তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৫ সাল থেকে এসসিওর ‘পর্যবেক্ষক সদস্য’ ছিল রাষ্ট্রটি।

গত মাসে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলি শামখানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে জানান, এসসিওর পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার ‘রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা’ দূর হয়েছে।

ফার্সি ভাষার সঙ্গে ইংরেজি, আরবি আর হিব্রুতেও বার্তাটি দেন তিনি, যার অর্থ পুরো মধ্যপ্রাচ্য আর পশ্চিমা বিশ্ব সম্পর্কিত বার্তা এটি।

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ছিল বলে এর আগে ইরানের এসসিও সদস্যপদ পাওয়ার পথ বন্ধ ছিল। তার ওপর কিছু সদস্য, যার অন্যতম তাজিকিস্তান, ইরানের এসসিও সদস্যপদের বিরুদ্ধে ছিল। কারণ তাজিকিস্তানে কট্টর ইসলামপন্থিদের পেছনে ইরানের সমর্থন আছে বলে অভিযোগ তাজিক প্রশাসনের।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এটাই ইরানের প্রথম কোনো আঞ্চলিক জোটের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার ঘটনা।

তেহরানের সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আবাস আসলানি বলেন, ‘ইরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। এসসিও সদস্যপ্রাপ্তির অর্থ হলো- এসব নিষেধাজ্ঞায় জোটের অন্য সদস্যদের সমর্থন নেই। সে জন্যই তারা ইরানকে পূর্ণ সদস্যপদ দিয়েছে।’

ইরান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক, বিশেষ করে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে চায় বলেও উল্লেখ করেন আসলানি। চলতি বছরের মার্চে চীনের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি একটি সহযোগিতামূলক চুক্তি করেছে ইরান। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গেও আগের সহযোগিতামূলক চুক্তি পুনর্বহাল করতে চায়।

আসলানি বলেন, ‘এ ছাড়া মধ্য এশিয়ায় আরও বড় পরিসরে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে পারে ইরান। ইরানের রপ্তানি পণ্যের সম্ভাব্য বড় বাজার এ অঞ্চল। সময়ই বলে দেবে যে এসব সম্ভাবনার কতটা সদ্ব্যবহার করতে পারবে ইরান।’

আসলানির মতে, এ পথে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ইরানের জন্য বড় বাধা। কিন্তু ইরানের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তাতে থমকে যাবে না।

২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তিতে ফিরতে পশ্চিমা পরাশক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ছয় দফা আলোচনায় বসেছে ইরান। আলোচনা শেষ পর্যন্ত সফল হলে শিথিল হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা।

ইরানে নতুন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা গ্রহণ ও নতুন সরকার গঠনের পালাবদলের মধ্যে চলতি বছরের জুলাইয়ের পর আলোচনা থমকে আছে। তবে শিগগিরই শুরু হবে আলোচনা।

আসলানি বলেন, ‘পরমাণু চুক্তি পুনর্বহাল হলে তাতে ইরানের জয়ের মুকুটে একটি পালক যোগ হবে। এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গেও জোরদার সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে অনেকটা এগিয়েছে ইরান। পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনা সফল হোক বা না হোক, পূর্বে ইরানের অগগ্রতি নিশ্চিত।’

শেয়ার করুন

তালেবানের বিরুদ্ধে রাজপথে ১৩ আফগান কিশোরী

তালেবানের বিরুদ্ধে রাজপথে ১৩ আফগান কিশোরী

আফগানিস্তানে শূন্য পড়ে আছে মেয়েদের স্কুল। ছবি: টোলো নিউজ

তালেবানের নিষেধাজ্ঞার ফলে সায়েদুল শুহাদা গার্লস হাই স্কুলেই শিক্ষাবঞ্চিত কয়েক হাজার ছাত্রী। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্কুলটিতে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্লাস করতে পারছে না প্রায় পাঁচ হাজার ছাত্রী।

আফগানিস্তানে মেয়েশিশু ও কিশোরীদের স্কুলে যেতে নিষেধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরের ছোট্ট একদল কিশোরী। শাসক দল তালেবানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ১৩ কিশোরীর সবার বয়স ছিল ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।

তালেবানশাসিত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী, শনিবার থেকে আফগানিস্তানে ছাত্র ও শিক্ষকদের নিয়ে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠদান শুরু হয়েছে। ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের শিক্ষা কার্যক্রমে ফেরার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে নির্দেশনায়।

তিন দিন ধরে মেয়েদের স্কুলগুলো শিক্ষার্থীশূন্য। এ অবস্থায় সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য বিরোধিতা করে কয়েকজন শিক্ষার্থী।

যদিও যে এলাকায় বিক্ষোভটি হয়েছে, সেখানে তালেবান তেমন সক্রিয় নয় বলে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভের খবর গোষ্ঠীটির কাছে পৌঁছায়নি। বিক্ষোভের খবর প্রচারে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছিল শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া ১৭ বছর বয়সী নার্গিস জামশেদ বলে, ‘তালেবানকে যত দ্রুত সম্ভব আমাদের স্কুলগুলো খুলে দেয়ার অনুরোধ করছি। স্কুলে না যাওয়ার অর্থ হলো, আমরা আরও পিছিয়ে পড়ব।’

১৮ বছরের শারারা শারওয়ারি বলে, ‘প্রতিটি মেয়েকে স্কুলে ফিরতে দেয়া হোক। প্রত্যেক নারীকে তাদের কর্মক্ষেত্রে ফিরতে দেয়া হোক। এই একটিই দাবি আমাদের।’

আফগানিস্তানের টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকজন ছাত্রও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার অনুরোধ করেছে।

আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমাদের স্কুল তো খুলে গেছে। মেয়েদের স্কুলগুলো খুলে দেয়া হলেও খুব ভালো হতো। ওদেরও দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফেরা দরকার।’

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তালেবানের এ সিদ্ধান্তের কারণে দেশজুড়ে লাখো ছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

কাবুলের পশ্চিমে সায়েদুল শুহাদা গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী ফাতিমা জানায়, তার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে আইনজীবী হওয়ার। কিন্তু সে স্বপ্ন দেখাও এখন নিষেধ।

ফাতিমা বলে, ‘আমার মনে হচ্ছে না যে আমি আফগানিস্তানের নাগরিক। মনে হচ্ছে আমাকে কয়েদির মতো ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছে।’

তালেবানের নিষেধাজ্ঞার ফলে সায়েদুল শুহাদা গার্লস হাই স্কুলেই শিক্ষাবঞ্চিত কয়েক হাজার ছাত্রী। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্কুলটিতে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্লাস করতে পারছে না প্রায় পাঁচ হাজার ছাত্রী।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক আকিলা তাওয়াক্কুলি জানান, ষষ্ঠ ও এর ওপরের শ্রেণিগুলোর চার হাজার ৭৪৫ জন শিক্ষার্থী এখন ঘরবন্দি।

আফগানিস্তানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১৪ হাজার ৯৮টি স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল পাঁচ হাজার ৩৮৫টি, সপ্তম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত রয়েছে তিন হাজার ৭৮১টি স্কুলে এবং দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল রয়েছে চার হাজার ৯৩২টি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুলগুলোর মধ্যে সাড়ে ১৩ শতাংশ, সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির স্কুলগুলোর মধ্যে সাড়ে ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলগুলোর মধ্যে ২৮ শতাংশ মেয়েদের স্কুল।

সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাংস্কৃতিক কমিশনের সদস্য সাইদ খোস্তি বলেন, ‘কিছু কারিগরি সমস্যা আছে। নীতি প্রণয়ন ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যার গোড়া থেকে সমাধান করতে হবে।

‘কীভাবে মেয়েদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা দরকার। এসব সমস্যার সমাধান হলেই মেয়েরা স্কুলে ফিরবে।’

ছাত্রীরা বলছে, তালেবান বদলে গেছে বলে দাবি করলেও তাদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে নারী ও কিশোরীদের অধিকার।

এর আগে শুক্রবার আফগানিস্তানের নারী মন্ত্রণালয় স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয় শাসক গোষ্ঠী। রোববার রাজধানী কাবুলে নগর প্রশাসনের নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও বাড়িতে থাকার আদেশ দেয় তালেবান।

নব্বইয়ের দশকে প্রথম দফার শাসনামলেও নারীদের শিক্ষাগ্রহণ, জীবিকা উপার্জনসহ সব মৌলিক অধিকার বাতিল করেছিল তালেবান।

শেয়ার করুন

জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর

জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর

ভোটের এক দিন আগে ওন্টারিওতে প্রচারে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

ভ্যানকুভারভিত্তিক নির্বাচনবিষয়ক সংস্থা আনগুস রেইড ইনস্টিটিউটের প্রধান শাচি কার্ল বলেন, ‘একজন রাজনীতিবিদ যত জনপ্রিয়ই হন না কেন, যত বেশি সময় তিনি ক্ষমতায় থাকবেন, তত বেশি ইস্যু তৈরি হবে, তত বেশি ভাটা পড়বে তার জনপ্রিয়তায়। বেশ কয়েকটি আলোচিত কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে ছিলেন ট্রুডো। তাই যে তুমুল জনসমর্থন নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, এখন আর তার প্রতি ভোটারদের সেই মুগ্ধতা নেই। তবে এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, একটি বড় সমর্থকগোষ্ঠী এখনও তার প্রতি বিশ্বস্ত।’

৪৪তম সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে কানাডায়। পার্লামেন্টের ৩৩৮টি আসনে ভোটারসংখ্যা দুই কোটি ৭০ লাখ। একক সরকার গঠনে যেকোনো দলকে কমপক্ষে ১৭০টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে হবে।

সময়ের ভিন্নতার কারণে কানাডার ছয়টি টাইম জোনের মধ্যে আটলান্টিক আইল্যান্ড প্রদেশের নিউফাউন্ডল্যান্ডে স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৭টায় ভোট শুরু হয়। ভোট শেষ হবে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের পশ্চিম প্রান্তে সেখানকার স্থানীয় সময় রাত ১০টায়।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে রেকর্ড ১২ লাখ পর্যন্ত ভোট ডাকের মাধ্যমে পাঠানো হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।

সব মিলিয়ে ভোটের ফল জানা যেতে পারে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায়।

এবারের নির্বাচনে তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রিত্বের জন্য লড়ছেন উদারপন্থি জাস্টিন ট্রুডো। দ্বিতীয় মেয়াদে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তার সরকারের দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছর আগেই হচ্ছে নির্বাচন।

৪৯ বছর বয়সী ট্রুডো করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে বিতর্কের মুখে পড়েন। বিতর্কের অবসানে আত্মবিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রীর আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রুডোর আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জুয়া খেলার শামিল। নিজ সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়া সংখ্যালঘু সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবার একক সরকার গঠন করতে পারবেন, নাকি উল্টো আরও আসন হারিয়ে পার্লামেন্টে বিরোধীদের শক্তিশালী হয়ে ওঠার সুযোগ দেবেন, সেটাই দেখার অপেক্ষা।

জনমত জরিপে ক্ষমতাসীন লিবারেলরা এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান এত সামান্য যে, রক্ষণশীল নেতা এরিন ও’টুলের জয়ের সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে।

১৮৬৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে কানাডা শাসন করে আসছে লিবারেল আর কনজারভেটিভরা। এবারের নির্বাচনপূর্ব জরিপে দল দুটি আধিপত্য ধরে রেখেছে সমানে সমানে। চারটি ছোট দলের সমর্থন কিছুটা বাড়লেও সরকার গঠনের পর্যায়ে নেই তারা।

কেন আগাম নির্বাচন

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কার্যক্রম পরিচালনায় বিশ্বে কানাডা সেরা বলে দাবি ট্রুডো সরকারের। দেশকে মহামারি থেকে বের করে আনার দায়িত্ব পূর্ণ করতে তৃতীয় দফায় সরকার গঠন করতে চান প্রধানমন্ত্রী। পার্লামেন্টে বিরোধীদের ওপর নির্ভর করা ছাড়াই এ লক্ষ্য অর্জনে আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

ট্রুডোর ভবিষ্যৎ কী

মহামারির চতুর্থ ধাক্কা আসন্ন পরিস্থিতির মধ্যে আগাম নির্বাচনের দরকার ছিল কি না, সে প্রশ্নে তোপের মুখে ট্রুডোর ভাগ্য। এ সুযোগে গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে প্রধান বিরোধী দলের।

খোদ প্রধান বিরোধী দলের নেতা এরিন ও’টুলই বলেন, ‘মহামারির এই সময়ে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত অনর্থক, ঝুঁকিপূর্ণ ও স্বার্থপর। কানাডিয়ান নাগরিকের মতো আচরণ করেননি ট্রুডো।’

এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রিত্ব বাঁচাতেই মরিয়া কানাডার রাজনীতিতে এককালের ‘সোনার ছেলে’ খ্যাত ট্রুডো।

ভ্যানকুভারভিত্তিক নির্বাচনবিষয়ক সংস্থা আনগুস রেইড ইনস্টিটিউটের প্রধান শাচি কার্ল বলেন, ‘একজন রাজনীতিবিদ যত জনপ্রিয়ই হন না কেন, যত বেশি সময় তিনি ক্ষমতায় থাকবেন, তত বেশি ইস্যু তৈরি হবে, তত বেশি ভাটা পড়বে তার জনপ্রিয়তায়।

‘বেশ কয়েকটি আলোচিত কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে ছিলেন ট্রুডো। তাই যে তুমুল জনসমর্থন নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, এখন আর তার প্রতি ভোটারদের সেই মুগ্ধতা নেই। তবে এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, একটি বড় সমর্থকগোষ্ঠী এখনও তার প্রতি বিশ্বস্ত।’

নির্বাচনি প্রচারের শেষ দিকে রূপ পরিবর্তিত ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপ হঠাৎ বাড়তে শুরু করে কানাডায়। এর আগেই গ্রীষ্মের শুরুতে অধিকাংশ স্বাস্থ্যবিধি শিথিল করা হয় দেশটিতে।

এ পরিস্থিতিতে পাঁচ সপ্তাহের নির্বাচনি প্রচার শেষে জরিপে আভাস, ২০১৯ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে এবারও। অর্থাৎ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার আশা ক্ষীণ। ভোটে জিতলেও আবার সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে হতে পারে ট্রুডোর দলকে। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে জোটে রয়েছে বামঘেঁষা জগমিৎ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয় বছর দেশ শাসনের পর ট্রুডো প্রশাসনে ক্লান্তি স্পষ্ট বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ২০১৫ সালে নিরঙ্কুশ জয়ের উচ্চাশা ২০১৯ সালের নির্বাচনে পূরণ হয়নি দলটির। এবারও ভোটারদের সমর্থন ম্লান উদারপন্থিদের প্রতি।

মন্ট্রিয়লের ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির রাজনীতির অধ্যাপক ড্যানিয়েল বেল্যান্ড বলেন, ‘ভোটকে ঘিরে নির্বাচনি প্রচারের শুরু থেকেই যে প্রশ্নটি ভোটারদের মনে ছিল, তা হলো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন লিবারেল পার্টির প্রাপ্য কি না। প্রচারের শেষ প্রশ্নটি এসে ঠেকেছে, লিবারেল পার্টির আদৌ ক্ষমতায় থাকারই যোগ্যতা আছে কি না।’

নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাবেক রাজনৈতিক কৌশলবিদ টিম পাওয়ার্স অবশ্য ট্রুডোর প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর শঙ্কা দেখছেন না।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ট্রুডোকে বাতিলের খাতায় ফেলার কোনো কারণ নেই। সংখ্যালঘু সরকার গঠনের আশা এখনও আছে তার।’

ট্রুডোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রতিবেশী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও।

শেয়ার করুন