‘ইয়াস’-এর পূর্ণিমাযোগে উপকূলে প্লাবন

‘ইয়াস’-এর পূর্ণিমাযোগে উপকূলে প্লাবন

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলার অন্তত ১৫টি গ্রামে পানি ঢুকেছে। ছবি: নিউজবাংলা

ঘূর্ণিঝড় উপকূল অতিক্রমের সময় খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলা এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় সেখানে ঘণ্টায় ৮০-১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, ইয়াস-এর সঙ্গে পূর্ণিমার প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচু জোয়ারের মুখে পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলে হয়েছে, পূর্ণিমার প্রভাবে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিকের চেয়ে দুই-চার ফুট বেশি জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

১৪২৮ সনের লোকনাথ ফুল পঞ্জিকা অনুসারে বাংলাদেশে পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার রাত ৮টা ১০ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে, পূর্ণিমা শেষ হবে বুধবার বিকেল ৫টা ৪২ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে।

ঝড়ের বর্তমান গতিপথ বিশ্লেষণ করে আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, বাংলাদেশ উপকূলে ইয়াস-এর আঘাত হানার সম্ভাবনা খুবই কম।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক নিউজবাংলাকে বলেন, এটি মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘণীভূত ও উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার দুপুর নাগাদ উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার, যা দমকা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর প্রচণ্ড বিক্ষুব্ধ।

ইয়াস-এর কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় উপকূল অতিক্রমের সময় খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলা এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় সেখানে ঘণ্টায় ৮০-১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে পারে এবং বুধবার ভোরের দিকে উত্তর উড়িষ্যা পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূলের কাছে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে পৌঁছাতে পারে।

ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা ও ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এসব এলাকায় বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বইছে। ঝড়-বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় তা কমতে পারে।

আরও পড়ুন:
ইয়াসে উত্তাল সমুদ্র, প্লাবিত উপকূল
প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিল ‘ইয়াস’
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ঝুঁকি নেবেন না মমতা
‘ইয়াস’: ভঙ্গুর বেড়িবাঁধে আতঙ্কে উপকূলবাসী
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: কৃষি বাঁচাতে পরামর্শ

শেয়ার করুন

মন্তব্য