ঝড় আসছে, সতর্ক হোন: প্রধানমন্ত্রী

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ১৭৫টি স্থাপনা উদ্বোধন ও ৫০টির ভিত্তি স্থাপন অনুষ্ঠানে রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। ছবি:সংগৃহীত

ঝড় আসছে, সতর্ক হোন: প্রধানমন্ত্রী

আন্দামান সাগর ও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সবশেষ ওডিশা-পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বুধবারের দিকে বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয়া হয়েছে ‘ইয়াস’। মূলত ভারতীয় উপকূলে আঘাত হানলেও বাংলাদেশে এর প্রভাব থাকবে বলে জানিয়ে আসছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ভারতের উত্তর আন্দামান সাগর ও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পথে থাকা লঘুচাপ নিয়ে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে উপকূলে আঘাত হানলে তা মোকাবিলায় সব প্রস্তুতি নেয়া আছে বলেও আশ্বস্ত করেছেন সরকারপ্রধান।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে নির্মিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ১৭৫টি স্থাপনা উদ্বোধন ও ৫০টির ভিত্তি স্থাপন অনুষ্ঠানে রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধন হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ১১০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, ৩০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, ৩০টি জেলা ত্রাণ গুদাম-কাম-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্যকেন্দ্র ও ৫টি মুজিব কিল্লা। আর ভিত্তি স্থাপন হয় আরও ৫০টি মুজিব কিল্লার।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটু সতর্ক করছি। আরেকটা ঘূর্ণিঝড় কিন্তু আসছে। আর সেটা কেবল তৈরি হচ্ছে, কতদূর যাবে! এখন আধুনিক প্রযুক্তির কারণে আমরা অনেক আগে থেকে জানতে পারি। সে বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সতর্কতা ইতিমধ্যে নিতে শুরু করেছি। ইনশা আল্লাহ আমরা সতর্ক থাকব, এই দুর্যোগ পার করতে পারব।’

আন্দামান সাগর ও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সবশেষ ওডিশা-পশ্চিমবঙ্গ হয়ে আগামী বুধবারের দিকে বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয়া হয়েছে ‘ইয়াস’। মূলত ভারতীয় উপকূলে আঘাত হানলেও বাংলাদেশে এর প্রভাব থাকবে বলে জানিয়ে আসছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তর যে পূর্বাভাস দিয়েছিল তাতে বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ অবস্থান করছে উত্তর বঙ্গোপসাগরে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।

ইয়াস সুপার সাইক্লোনে রূপ নিতে পারে বলে এরই মধ্যে সতর্ক করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। তবে ঘূর্ণিঝড়টি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো এখনও কিছু হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার সকালে সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানে ইয়াস প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এটি এখন পর্যন্ত লঘুচাপ হয়ে আছে, এখনই আতঙ্ক কিংবা শঙ্কার কিছু নেই। অন্যান্য বারের মতো এটা সুপার সাইক্লোন হয়ে আঘাত হানতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আরেকটা বিষয় হলো, ঘূর্ণিঝড় এগোনোর সময় প্রতিমুহূর্তে দিক পরিবর্তন করে। দিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন এলাকা আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বাড়ে। সে জন্য আমরা আমাদের পুরো উপকূলকে সতর্ক করব, প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেব।’

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ফলে ক্ষয়ক্ষতি রুখতে এরই মধ্যে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনাসহ উপকূলীয় এলাকার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৩ সালের এ দিনে বিশ্ব শান্তি পরিষদ জাতির পিতাকে জুলিও কুরি পদকে ভূষিত করেছিল। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও শান্তি স্থাপনের জন্যই এ পদক দেয়া হয়। জাতির পিতা যে আদর্শ নিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আজ সেই দিনে মানুষের কল্যাণে কিছু কাজ করতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত।’

বাঙালি জাতির মুক্তির কান্ডারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ২৩ মে বিশ্ব শান্তি পরিষদ জুলিও কুরি পদকে ভূষিত হন। এটিই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের কোনো রাজনীতিবিদের পাওয়া প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মান ও স্বীকৃতি।

বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি পদক লাভের কারণে সেই সময় সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর স্বীকৃতি পাওয়া সহজ হয়। রোববার সেই স্বীকৃতির ৪৮তম বার্ষিকী পালন করছে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন:
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ে আশ্রয়কেন্দ্র সংকট, ভরসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
‘ইয়াস’ নজরদারিতে কন্ট্রোলরুমে থাকবেন মমতা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভূমধ্যসাগরে ২৬৪ বাংলাদেশিসহ ২৬৭ অভিবাসী উদ্ধার

ভূমধ্যসাগরে ২৬৪ বাংলাদেশিসহ ২৬৭ অভিবাসী উদ্ধার

তিউনিসিয়ার বেন গুয়েরদান বন্দরে উদ্ধারকৃত বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি অংশ। ছবি: এএফপি

উদ্ধারের পর তাদের লিবিয়া সীমান্তের কাছে তিউনিসিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বেন গুয়েরদান বন্দরে নিয়ে যায় তিউনিসীয় নৌবাহিনী। এরপর তাদের আইওএম এবং আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেড ক্রিসেন্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২৬৪ জন বাংলাদেশিসহ মোট ২৬৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে। বাকি তিনজন মিসরীয়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার সময় বৃহস্পতিবার তাদের উদ্ধার করে তিউনিসীয় কোস্টগার্ড।

কোস্টগার্ডের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সাগরে ভাসছিলেন এই বিপুলসংখ্যক মানুষ।

তাদের উদ্ধারের পর লিবিয়া সীমান্তের কাছে তিউনিসিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বেন গুয়েরদান বন্দরে নিয়ে যায় তিউনিসীয় নৌবাহিনী।

এরপর তাদের আইওএম এবং আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেড ক্রিসেন্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আইওএম জানিয়েছে, তিউনিসিয়ার জেরবা দ্বীপের একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে এই বিপুলসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে।

আইওএম জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইউরোপে যেতে গিয়ে তিউনিসিয়ায় পৌঁছেছেন এক হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী। এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত লিবিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে ১১ হাজার মানুষ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৭০ শতাংশ বেশি।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, লিবিয়া আর তিউনিসিয়ায় অভিবাসীদের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর আফ্রিকা উপকূল থেকে বিপজ্জনকভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের দিকে যাত্রা বাড়ছে মরিয়া এসব মানুষের।

রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা মোঙ্গি স্লিম জানিয়েছে, তিউনিসিয়ায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কেন্দ্রগুলোতে আশ্রিত মানুষের সংখ্যা ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৭৬০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও গত বছর একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪০০।

আরও পড়ুন:
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ে আশ্রয়কেন্দ্র সংকট, ভরসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
‘ইয়াস’ নজরদারিতে কন্ট্রোলরুমে থাকবেন মমতা

শেয়ার করুন

সচিব হলেন তিনজন, ওএসডি দুই

সচিব হলেন তিনজন, ওএসডি দুই

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন পদোন্নতি পেয়ে সচিব হয়েছেন। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্বে থাকা আবুল মনসুরকে পদোন্নতি দিয়ে পাঠানো হয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে। আর সচিব পদমর্যাদায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. এহছানে এলাহী।

তিন অতিরিক্ত সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব করেছে সরকার। দুজন সচিবকে করা হয়েছে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি)।

রদবদল যেমন হয়েছে তেমনি অবসরে পাঠানো হয়েছে একজন সচিবকে।

বৃহস্পতিবার পৃথক প্রজ্ঞাপনে প্রশাসনিক এই পদোন্নতি, ওএসডি ও রদবদলের কথা জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন পদোন্নতি পেয়ে সচিব হয়েছেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। এই পদটি সচিব পদমর্যাদার।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্বে থাকা আবুল মনসুরকে পদোন্নতি দিয়ে পাঠানো হয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন এই কর্মকর্তা।

আর সচিব পদমর্যাদায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. এহছানে এলাহী। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদটি ছিল গ্রেড-১ মর্যাদার।

সচিব পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করেছে সরকার। তারা হলেন, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবুল কাসেম এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর বেগম বদরুন নেছা।

সচিব পদমর্যাদা এই দুই কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আনা হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসানকে বদলি করা হয়েছে। এখন থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। আর তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা মো. মোস্তফা কামাল।

জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বদরুল আরেফীন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ মো. ইমদাদুল হককে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এটি গ্রেড-১ পদ।

আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনরত আনোয়ার হোসেনকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তার অনুকূলে ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ল্যাম্পগ্রান্টসহ এ বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরের অবসর উত্তর ছুটি মঞ্জুর করা হল।

আরও পড়ুন:
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ে আশ্রয়কেন্দ্র সংকট, ভরসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
‘ইয়াস’ নজরদারিতে কন্ট্রোলরুমে থাকবেন মমতা

শেয়ার করুন

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

ঢাকাগামী সব ধরনের যানবাহন আমিনবাজারের আগেই আটকে দেয়ায় যাত্রীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

সাভার পরিবহন নামের বাসের যাত্রী সোলায়মান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হেমায়েতপুর থেকে সকাল ১০টায় রওনা দিয়ে বলিয়ারপুরে প্রায় দুই ঘণ্টা বসেই ছিলাম। তারপর পায়ে হেঁটে গাবতলী পৌঁছাই। রাস্তায় মানুষ যেভাবে একে আরেকজনের গা ঘেঁষে হেঁটে যাচ্ছে, তাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে গত মঙ্গলবার থেকে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করা হলেও রাজধানীর অন্যতম প্রবেশমুখ গাবতলী এলাকায় তীব্র যানজট কমছে না। গাবতলী থেকে সাভারের বলিয়ারপুর পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশের রাস্তায়ই শত শত যানবাহন আটকে থাকছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশের রাস্তায়ও ছিল এমন চিত্র। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা বাধ্য হয়ে হেঁটে পথ পাড়ি দিয়েছেন।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকাকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে গত মঙ্গলবার থেকে চারপাশের জেলা নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জে শুরু হয় কঠোর লকডাউন। একই দিন থেকে মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ এবং রাজবাড়ীতেও কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়, যা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

বিভিন্ন বাসের স্টাফরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে লকডাউন ঘোষণার পর ঢাকাগামী সব ধরনের যানবাহন আমিনবাজারের আগেই আটকে দেয়া হচ্ছে। এরপর বাসগুলো যাত্রী নামিয়ে ইউটার্ন নেয়ায় সেখানে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

একই কথা বলছেন ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা। তারা জানান, ঢাকার বাইরের কোনো বাস রাজধানীতে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এর ফলে আমিনবাজার থেকে বলিয়ারপুর পর্যন্ত যানজট তৈরি হচ্ছে।

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

সাভার থেকে গাবতলীগামী যানবাহনগুলো যাত্রী নামিয়ে বাম পাশ থেকে ইউটার্ন নিয়ে ডান পাশের রাস্তায় ঘুরাতে গিয়ে দুই পাশেই যানজট তৈরি করছে।

গাবতলীতে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকেই যানজট আছে। সেটা ঢাকার বাইরে। বাসগুলো ইউটার্ন করায় এই জট তৈরি হয়েছে।’

বাসযাত্রীরা বলছেন, বাসে স্বাস্থ্যবিধির দিকে কোনো নজর নেই। রাস্তায় গাড়ি আটকে পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তোলা হচ্ছে। অনেক যাত্রীই জটলা বেঁধে হেঁটে চলছেন। এক রিকশায় চারজনও চড়ছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশায়ও গাদাগাদি করে বাইরের লোকজন রাজধানীতে ঢুকছে। এতে ভোগান্তি বেড়েছে শুধু মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের।

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

এমন পরিস্থিতির জন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সাভার পরিবহন নামের বাসের যাত্রী মো. সোলায়মান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হেমায়েতপুর থেকে সকাল ১০টায় রওনা দিয়ে বলিয়ারপুরে প্রায় দুই ঘণ্টা বসেই ছিলাম। তারপর পায়ে হেঁটে গাবতলী পৌঁছাই। রাস্তায় মানুষ যেভাবে একে আরেকজনের গা ঘেঁষে হেঁটে যাচ্ছে, তাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

সুমন নামে আরেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাসের ডাবল সিটে ডাবল যাত্রী টেনে ডাবল ভাড়া নিচ্ছে। লকডাউন দিয়ে কী লাভ হচ্ছে?’

রিকশাচালক রানা জানান, এই লকডাউন শুধুই ভোগান্তির। এতে কোনো লাভ হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ে আশ্রয়কেন্দ্র সংকট, ভরসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
‘ইয়াস’ নজরদারিতে কন্ট্রোলরুমে থাকবেন মমতা

শেয়ার করুন

সেনাবাহিনী ও জনগণের দূরত্ব থাকবে না: সেনাপ্রধান

সেনাবাহিনী ও জনগণের দূরত্ব থাকবে না: সেনাপ্রধান

সেনাকুঞ্জে একটি গাছের চারা রোপণ করছেন নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

বিকেলে সদ্য বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছ থেকে সেনাপ্রধান হিসেবে বাহিনীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদতবরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে কোনো দূরত্ব থাকবে না বলে জানিয়েছেন নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

এদিন বিকেলে সদ্য বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছ থেকে সেনাপ্রধান হিসেবে বাহিনীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শফিউদ্দিন আহমেদ।

দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদতবরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সেনাকুঞ্জে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে ‘গার্ড অব অনার’ সম্মাননা দেয়। সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

এর আগে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধানকে ‘জেনারেল’ র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

জেনারেল শফিউদ্দিন বাংলাদেশের সপ্তদশ সেনাপ্রধান। তিনি আগামী তিন বছর দায়িত্ব পালন করবেন।

আরও পড়ুন:
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ে আশ্রয়কেন্দ্র সংকট, ভরসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
‘ইয়াস’ নজরদারিতে কন্ট্রোলরুমে থাকবেন মমতা

শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নতুন সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নতুন সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সেনাপ্রধানের পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামীতে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক মানের বাহিনীতে পরিণত হবে এবং জাতির প্রয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেয়ার পর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। বিকেলে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বঙ্গভবন প্রেস উইং জানিয়েছে, সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি নবনিযুক্ত সেনাপ্রধানকে অভিনন্দন জানান।

এ সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দুর্যোগসহ সংকটময় মুহূর্তে জাতির প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সবসময় এগিয়ে এসেছে।’

জনগণের প্রয়োজনে সব সময় পাশে দাঁড়াতে সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সেনাপ্রধানের পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামীতে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক মানের বাহিনীতে পরিণত হবে এবং জাতির প্রয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

দায়িত্ব পালনে নতুন সেনাপ্রধানের সফলতা কামনা কামনা করেন রাষ্ট্রপ্রধান।

এ সময় নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং সচিব (সংযুক্ত) ওয়াহিদুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধানকে ‘জেনারেল’ র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

বিকেলেই সদ্যবিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছ থেকে দায়িত্বভার বুঝে নেন তিনি। আগামী তিন বছর সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

১৯৬৩ সালের ১ ডিসেম্বর খুলনা জেলায় জন্ম নেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন আহমেদ স্বাধীনতার আগে একনাগাড়ে দুই যুগ জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ ১৯৮৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে নবম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সঙ্গে কমিশন লাভ করেন। কমিশনের পর পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন এলাকায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে সামরিক কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।

ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে স্নাতক শেষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ইন ডিফেন্স স্টাডিজ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজে প্রথম বিভাগসহ এমফিল সম্পন্ন করেন। বর্তমানে বিইউপিতে পিএইচডি করছেন তিনি।

জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ এমআইএসটি গোল্ড মেডেল অর্জনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রিও অর্জন করেন।

এনডিইউ, ওয়াশিংটন থেকেও গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন তিনি। তার বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একমাত্র লজিস্টিকস ফরমেশন এবং ১৯ পদাতিক ডিভিশন কমান্ড করেন তিনি।

এ ছাড়াও একটি পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে কাউন্টার ইনসারজেন্সি অপারেশন এলাকায় একটি পদাতিক ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (বিআইআইএস) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ সেনাবাহিনীর একজন পাইওনিয়ার ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ইউনাইটেড নেশনস মাল্টিডাইমেনশনাল ইন্টিগ্রেটেড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন ইন দ্য সেন্ট্রাল আফ্রিকায় (মিনুস্কা) বহুজাতিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেন।

সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে সেনাসদরে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ও দুই কন্যা সন্তানের বাবা জেনারেল শফিউদ্দিন।

আরও পড়ুন:
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ে আশ্রয়কেন্দ্র সংকট, ভরসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
‘ইয়াস’ নজরদারিতে কন্ট্রোলরুমে থাকবেন মমতা

শেয়ার করুন

বিমান নিয়ে নাশকতার মামলায় বৈমানিকের জামিন নাকচ

বিমান নিয়ে নাশকতার মামলায় বৈমানিকের জামিন নাকচ

বাংলাদেশ বিমানের ফার্স্ট অফিসার (কো-পাইলট) সাব্বির ইমাম ও তার তিন সহযোগীকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর মিরপুরের দারুস সালাম থানায় করা বিস্ফোরক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

বিমান নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে আটক বাংলাদেশ বিমানের ফার্স্ট অফিসার (কো-পাইলট) সাব্বির ইমামকে জামিন দেয়নি হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয়।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল পারভেজ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

বিপুল বাগমার বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানের কো-পাইলট সাব্বির ইমামের জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। আদালত সেটি শুনে প্রথমে সরাসরি খারিজ করে দেন। কিন্তু আসামিপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে পরে নট প্রেস রিজেক্ট (উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ) করে দিয়েছে।’

বিমান নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে বাংলাদেশ বিমানের ফার্স্ট অফিসার (কো-পাইলট) সাব্বির ইমাম ও তার তিন সহযোগীকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর মিরপুরের দারুস সালাম থানায় করা বিস্ফোরক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

পরের দিন তাদেরকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। রিমান্ড শেষে তাদেরকে কারাগারে পাঠায় আদালত।

এর আগে ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর সাব্বিরের বাবা হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব জানায়, সাব্বির জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর সদস্য এবং নিহত সন্দেহভাজন জঙ্গি আব্দুল্লাহর সহযোগী।

আরও পড়ুন:
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ে আশ্রয়কেন্দ্র সংকট, ভরসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
‘ইয়াস’ নজরদারিতে কন্ট্রোলরুমে থাকবেন মমতা

শেয়ার করুন

শাটডাউনে প্রস্তুত সরকার

শাটডাউনে প্রস্তুত সরকার

প্রায় দেড় বছর ধরে কঠোর বা শিথিল লকডাউনের মধ্যেই রয়েছে দেশ। ছবি: সাইফুল ইসলাম

বৃহস্পতিবার সারা দেশে নতুন করে কমপক্ষে ১৪ দিনের ‘শাটডাউন’-এর সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটি। এরপরই ‘শাটডাউন’ দিতে সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ফরহাদ হোসেন।

করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি বুঝে সারা দেশে ‘শাটডাউন’ ঘোষণার প্রস্তুতি সরকারের আছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার সারা দেশে নতুন করে কমপক্ষে ১৪ দিনের ‘শাটডাউন’-এর সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটি। এরপরই ‘শাটডাউন’ দিতে সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ফরহাদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই গভীরভাবে এটা পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজন হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটা শুরু করতে পারব।’

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সে অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। সরকার প্রস্তুত আছে, যেকোনো সময় একটা সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।’

স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি বিবেচনায় লকডাউন ঘোষণার নির্দেশনা, ঢাকার চারপাশে সাত জেলায় চলমান লকডাউন এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গাতে আজকে (বৃহস্পতিবার) ৪১ জনে ৪১ নাকি পজিটিভ হয়েছে। সরকারের একটা প্রস্তুতি আছে এবং আমরা কঠোর একটা বিধিনিষেধ সেটি ঢাকাসহ… এ রকম যদি পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে আমাদের সেটা করতে হতে পারে। সে রকম প্রস্তুতি সরকারের আছে।’

শাটডাউনে প্রস্তুত সরকার
করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি বুঝে সারা দেশে ‘শাটডাউন’ ঘোষণার প্রস্তুতি সরকারের আছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

কতটা কঠোর হবে জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘গত মার্চে যেটা হলো, আরও কঠোরভাবে করতে হতে পারে।’

আরও পড়ুন:
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ে আশ্রয়কেন্দ্র সংকট, ভরসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
‘ইয়াস’ নজরদারিতে কন্ট্রোলরুমে থাকবেন মমতা

শেয়ার করুন