ত্রাণ সত্যিই দরকার ছিল ফরিদের, ভুল ইউএনওর

নারায়ণগঞ্জের এই ফরিদ আহমেদের জীবনের কাহিনি না জেনেই তাকে সম্পদশালী ভেবে ১০০ জনকে ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করেছেন ইউএনও। ছবি: নিউজবাংলা

ত্রাণ সত্যিই দরকার ছিল ফরিদের, ভুল ইউএনওর

‘আমাগো বাড়ি আছে। কিন্তু এই বাড়ি ছয় ভাই ও এক বোনের। আমাগো সবার আংশিক ভাগ আছে। এর মধ্যে আমি নিচ তলায় আমার ১৬ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী ছেলে রিফাত ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকি। মেয়ে মহিলা কলেজে পড়ে। তাদের নিয়া আমার সংসারে অনেক টানাটানি। গত বছর করোনা মহামারি থেকে আমি বসা। বর্তমানে আমার কারখানা চলে না। এই করোনার কারণে আমি আরও সমস্যার মুখে পড়ছি। এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত।’

তিনি থাকেন চার তলা বাড়িতে, গেঞ্জি কারখানাও আছে। এটুকু সত্য। কিন্তু এর পেছনে আরও অনেক কাহিনি আছে।

সেই কারখানা বন্ধ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। পরে সংসার চালাতে সেই ব্যক্তি কাজ নিয়েছেন আরেক কারখানায়, কিন্তু চোখের সমস্যায় সেই কাজও করতে পারেন না। সংসারের আয় নেই। আর তিনি যে বাসায় থাকেন, সেটি তাদের ছয় ভাই-বোনের। নিজের অংশ কমই।

এসব কথা না জেনেই ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে খাদ্য চাওয়ায় কেবল বাড়ি দেখে আর কারখানা থাকার খবর শুনে তাকে ১০০ জনকে খাবার বিতরণে বাধ্য করল প্রশাসন।

তাকে খাদ্য বিতরণে বাধ্য করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এখন বলছেন, তাদের ভুল হলে যে টাকার ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে, সেটি সেই ব্যক্তিকে ফেরত দেয়া হবে।

তবে ইউএনওর ভুলের এই খেসারত রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে মেটানো হবে কি না, এ নিয়ে আছে প্রশ্ন।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের দেওভোগ নাগবাড়ি এলাকায় বাসা তার। নাম ফরিদ আহমেদ।

বৃহস্পতিবার ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে খাদ্য সহায়তা চান তিনি। খাবার নিয়ে আসেন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, অফিস সহকারী কামরুল ইসলাম। পরে তারা ভবন দেখে ফোন দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা জহুরা আসেন ঘটনাস্থলে। দেন শাস্তির ঘোষণা।

জানান, সরকার প্রতি প্যাকেটে যে পরিমাণ খাবার দেয় দুস্থদের, সেই পরিমাণ খাবারসহ ১০০ প্যাকেট করে বিতরণ করতে হবে।

নির্দেশ মতো শনিবার বিকালে ফরিদ আহমেদ সেই খাবার বিতরণও করেন। আর সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও স্বয়ং।

ঘটনাস্থলে গিয়ে ফরিদের জীবনের কাহিনি জেনেছে নিউজবাংলা। কিন্তু জানেননি ইউএনও।

ফরিদ আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাগো বাড়ি আছে। কিন্তু এই বাড়ি ছয় ভাই ও এক বোনের। আমাগো সবার আংশিক ভাগ আছে। এর মধ্যে আমি নিচ তলায় থাকি। আমার ১৬ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী ছেলে আছে। মেয়ে মহিলা কলেজে পড়ে। তাদের নিয়া আমার সংসারে অনেক টানাটানি।’

ত্রাণ সত্যিই দরকার ছিল ফরিদের, ভুল ইউএনওর
ফরিদ আহমেদের দুর্গতির কথা বলতে গিয়ে কেঁদেছেন তার স্বজনরা

নিজের কারখানার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গত বছর করোনা মহামারি থেকে আমি বসা। বর্তমানে আমার কারখানা চলে না। এই করোনার কারণে আমি আরও সমস্যার মুখে পড়ছি। এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত।

‘কারখানা দেয়ার আগে যে হোসিয়ারিতে দীর্ঘদিন কাটিং মাস্টার ছিলাম। এখন আবার সেখানে কাজ করি। আমার দুই চোখে অনেক কম দেখি।’

৩৩৩ নম্বরে কেন ফোন

ইউএনও আরিফা জহুরা দাবি করেছেন ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে আসলেই খাবার পাওয়া যায় কি না, সেটি যাচাই করতেই ফোন করেছিলেন ফরিদ।

তবে ফরিদ বলেন উল্টো কথা।

তিনি বলেন, ‘প্রতি ঘণ্টা আমি এফএম রেডিও শুনি। সেখান শুনছি ৩৩৩ নম্বরে ফোন করলে খাবার আসে। এ জন্য ফোন করছি। কিন্তু জানতাম না এটা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য। তবে আমিও তো পেটের দায়ে অভাবে পইড়াই ফোন করছি।

‘আমার খাদ্য প্রয়োজন ছিল বলেই ফোন করছি। সেখান থেকে তারা বলছে আপনার আবেদন গ্রহণ করা হইল। পরে তারা ফোন করে নাম, ঠিকানাসহ আমার ব্যক্তিগত তথ্য জিজ্ঞাসা করছে, আমি সব বলছি। এরপর তারা আইসা খাদ্য না দিয়া বরং আমারে ফাইন করে দিয়ে গেছে।’

ত্রাণ সত্যিই দরকার ছিল ফরিদের, ভুল ইউএনওর
নিজের ঘরে অসহায় বসে ফরিদ আহমেদ

জরিমানার আদেশের বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘কাশিপুর ইউনিয়নে পরিষদের (ইউপি) সদস্য আইয়ুব আলী আমাকে ডেকে নিয়ে বলেন, আপনি এই খাদ্য পাওয়ার উপযুক্ত নন। এই কথা বলে আমাকে নানাভাবে ধমকাতে থাকেন।

‘পরে আমি ভুলও স্বীকার করেছি। তার কিছুক্ষণ পর ইউএনও স্যার আসেন এবং আমাকে ডেকে নিয়ে নানা প্রশ্ন করার পর ১০০ মানুষকে খাদ্য সহায়তা করার জন্য নির্দেশ দেন। ইউএনও স্যার চলে যাওয়ার পর ইউপি সদস্যসহ অনেকে খাদ্য সহায়তা করা না হলে তিন মাসের সাজা হবে বলে’-সেদিনের ঘটনার এমন বর্ণনা দেন ফরিদ।

ত্রাণ সত্যিই দরকার ছিল ফরিদের, ভুল ইউএনওর
ফরিদ আহমেদের স্ত্রীর অলঙ্কার বন্ধক রেখে সুদের টাকায় কেনা ত্রাণ বিতরণ করেন ইউএনও আরিফা জহুরা

টাকা যোগাড় করলেন যেভাবে

ফরিদ আহমেদ জানালেন, কারাভোগের ভয়ে তিনি স্ত্রীর স্বর্ণ বন্ধক রেখে সুদে টাকা এনে খাদ্যসামগ্রী কিনেছেন।

তিনি বলেন, ‘তারা যেভাবে বলছে আমি সেভাবে ১০০ প্যাকেট বানিয়ে দিসি। এগুলো দিতে আমার ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমার এই খাদ্য সহায়তা দিতে অনেক কষ্ট হইছে।’

কাঁদলেন ফরিদ আহমেদের স্ত্রী

নিউজবাংলার সঙ্গে আলাপকালে কেঁদে ফেলেন এই প্রবীণ ব্যবসায়ীর স্ত্রী হিরণ বেগম। তিনি বলেন, ‘গত দুইদিন বহু চেষ্টা করছি স্বামীরে জেলের হাত থেকে বাঁচাতে। নিজের স্বর্ণসহ আত্মীয়স্বজনের সোনার গয়না জুয়েলারি দোকানে বন্ধক রাইখা চড়া সুদে ঋণ করছি। মেম্বার আইযুব আলীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নিছি। মোট ৬৫ হাজার টাকার খাদ্যসামগ্রী কিনতে হয়েছে আমাগো।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবার নিজেরাই চলতে পারি না। প্রতিবন্ধী ছেলে, পুরো পরিবার এমনিতেই আমরা সংকটে।’

বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

ত্রাণ সত্যিই দরকার ছিল ফরিদের, ভুল ইউএনওর
কারাভোগের ভয়ে সুদের টাকায় জোগাড় করা ত্রাণ

ফরিদ আহমেদ ছোট ভাই সেলিম খানের স্ত্রী বিলকিস বেগম বলেন, ‘বড় ভাসুর ফরিদ আহমেদ ব্রেন স্ট্রোক করেছেন দুই বার। এ কারণে ওনি গুছিয়ে কথা বলতে পারেন না। তার মানসিক সমস্যাও রয়েছে। গতরাতে তিনি দুই বার আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন। আমরা তাকে সারারাত পাহারা দিয়ে রাখছি। টাকা পয়সা জোগাড় করতে সহায়তা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাগো বাড়ি আছে ঠিকই, কিন্তু কাম নাই, আমাগো ঘরে খাওন নাই। সরকারের কাছে খাদ্য চাইয়া উল্টো জরিমানা দিতে হইলো। আমাগো উপর জুলুম করল তারা।’

উচিত হয়নি, বলছেন জনপ্রতিনিধি

কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আইয়ুব আলী বলেন, ‘আমি উপজেলা প্রশাসনকে বার বার বলছি ফরিদ আহমেদের ১০০ প্যাকেট খাদ্য বিতরণ করার শাস্তি দেয়া ঠিক হয় নাই। কিন্তু তারা মানে নাই। পরে বাধ্য হয়ে আমি নিজেও তারে ১০ হাজার টাকা দিছি।’

ইউএনওর দাবি, তাকে কিছু জানাননি ফরিদ আহমেদ

ফরিদ আহমেদকে নিয়ে এত বড় ভুল কীভাবে হলো, জানতে চাইলে ইউএনও আরিফা জহুরা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নিজে ফরিদ আহমেদ এর বাড়িতে গিয়েছি। তখনো তিনি বলেনি তার সমস্যার কথা।

‘তিনি ফোন করার পর আমরা তার তথ্য যাচাই বাছাই করেছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী জানতে পারি তিনি চার তলা বাড়ির মালিক ও পোশাক কারখানাও রয়েছে। ওই এলাকার স্থানীয় মেম্বারও তাই জানিয়েছে। তাই তাকে তখন অযথা সরকারি লোকজনকে হয়রানির করার দায়ে শাস্তি হিসেবে ১০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানাই।’

ত্রাণ সত্যিই দরকার ছিল ফরিদের, ভুল ইউএনওর
ইউএনও আরিফা জহুরা এখন বলছেন, ফরিদ আহমেদ তাকে বিস্তারিত খুলে বলেননি

আপনি বাসায় গিয়েও জানতে পারেননি?- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তিনি তখনও আমাকে জানিয়েছেন তিনি চার তলা বাড়ির মালিক ও পোশাক কারখানার ব্যবসা করেন। তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়নি। তাকে সরকারি কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টির দায়ে শাস্তি হিসেবে আশেপাশের ১০০ গরিব পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার অনুরোধ করেছি। তিনি তা মেনে নিয়েছেন।’

বিপাকে পড়া মানুষটি যে সুদে টাকা নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করতে বাধ্য হয়েছেন, এখন তার সেই ক্ষতিপূরণ কে দেবে- এমন প্রশ্নে ইউএনও বলেন, ‘যদি তিনি কারও ভয়ে তথ্য গোপন করে থাকেন তাহলে সে বিষয়টি আমরা যাচাই-বাছাই করব। যদি তার অভিযোগ সত্য হয় তাহলে তিনি যে পরিমাণ টাকা খাদ্য সহায়তা করেছেন তার অর্থ ফিরিয়ে দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
৩৩৩: খাদ্য পায়নি তিনজনের দুইজনই
৩৩৩ নম্বরে খাদ্য চেয়ে ফোন, পাচ্ছেন বাড়িও

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নৌপথেও বিচ্ছিন্ন ঢাকা

নৌপথেও বিচ্ছিন্ন ঢাকা

মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকার সঙ্গে সব ধরনের নৌযান বন্ধ থাকবে। এই অবস্থা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে পণ্য পরিবহন এবং জরুরি সেবাদানকারী নৌযানের ক্ষেত্রে এই আদেশ কার্যকর হবে না।

করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকাকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে পার্শ্ববর্তী ৪ জেলাসহ ৭ জেলায় শাটডাউন চলাকালে রাজধানীর সঙ্গে নৌপথেও সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধের ঘোষণার পর, এবার ঢাকা থেকে সারা দেশের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হলো।

মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঢাকার সঙ্গে সব ধরনের নৌযান বন্ধের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

সোমবার রাতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিন সন্ধ্যায় বিআইডব্লিউটিএ জানায়, মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকার সঙ্গে সব ধরনের নৌযান বন্ধ থাকবে। এই অবস্থা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে পণ্য পরিবহন এবং জরুরি সেবাদানকারী নৌযানের ক্ষেত্রে এই আদেশ কার্যকর হবে না।

সচিবালয়ে সোমবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জরুরি বৈঠকে করোনা রুখতে ঢাকাকে বিচ্ছিন্নের সিদ্ধান্ত হয়। সে লক্ষ্যে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জে মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে শাটডাউন। পাশাপাশি মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ীতেও শাটডাউন আরোপ করা হয়েছে। এ অবস্থা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

সন্ধ্যায় বিআইডব্লিউটিএর জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ জেলায় নৌপথে অর্থাৎ ঢাকা-মাদারীপুর, ঢাকা-মিরকাদিম/মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ/চাঁদপুর/নড়িয়া, শিমুলিয়া (মুন্সিগঞ্জ)-বাংলাবাজার (মাদারীপুর)/মাঝিকান্দি (শরীয়তপুর), আরিচা (মানিকগঞ্জ) কাজিরহাট, পাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ)-দৌলতদিয়া (রাজবাড়ী) নৌপথসহ উল্লেখিত জেলার সংশ্লিষ্ট নৌপথে সকল ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান (লঞ্চ/স্পিডবোট/ট্রলার/অন্যান্য) বন্ধ থাকবে।

এ নির্দেশনার আলোকে উল্লেখিত জেলাগুলোর লঞ্চঘাট ছাড়া দেশের যেকোনো স্থান হতে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী নৌযানগুলো পথিমধ্যে মাদারীপুর, পাটুরিয়া, দৌলতদিয়া, আরিচা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মিরকাদিম লঞ্চঘাট ছাড়তে বা ভিড়তে পারবে না।

ঢাকার বাইরে, বিশেষ করে পশ্চিম সীমান্তে করোনার সংক্রমণ বেড়ে চলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকাকে চার দিকে থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার থেকে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের ওপর দিয়ে জরুরি সেবা ছাড়া কোনো যানবাহন চলতে পারবে না।

সড়ক পথে ঢাকায় আসতে হলে এই চারটি জেলা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ফলে কার্যত ঢাকা অবরুদ্ধ হয়ে যাবে।

এই অবস্থায় নৌপথেও ঢাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর এখন কেবল আকাশ পথ চালু আছে। আর চালু থাকবে রেল পথ।

মঙ্গলবার থেকে ঢাকা লাগোয়া চারটি জেলা ছাড়াও রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরও অবরুদ্ধ হয়ে যাবে। রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সময়ে রেল চললেও যেসব জেলা অবরুদ্ধ থাকবে, সেগুলোতে ট্রেন থামবে না।

ঢাকায় ট্রেনে আসতে হলে গাজীপুর হয়ে আসতে হবে। অবরুদ্ধ করা হয়েছে যেসব জেলা, সেগুলোর সঙ্গে ঢাকায় ট্রেনে যোগাযোগ আছে কেবল গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ। ফলে নারায়ণগঞ্জের ট্রেন চলবে না, আর বন্ধ থাকবে গাজীপুরগামী লোকাল ট্রেন। আর আন্তনগর ট্রেনগুলো এই জেলায় না থেমে চলাচল করবে।

আরও পড়ুন:
৩৩৩: খাদ্য পায়নি তিনজনের দুইজনই
৩৩৩ নম্বরে খাদ্য চেয়ে ফোন, পাচ্ছেন বাড়িও

শেয়ার করুন

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, জাপা থেকে জসিমকে অব্যাহতি

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, জাপা থেকে জসিমকে অব্যাহতি

জসিম উদ্দিন

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পার্টির সংসদীয় বোর্ড প্রার্থী মনোনয়নের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন জসিম উদ্দিন। কিন্তু মনোনয়ন পেয়ে দলকে না জানিয়ে তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচনে গোপনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করায় জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিনকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদপদবী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে দলটির কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কমিটি।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের সোমবার কমিটি বিলুপ্তসহ ওই প্রার্থীকে দল থেকে অব্যহতি প্রদান করেন।

জাতীয় পার্টির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে গত রোববার জসিম উদ্দিন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের উপনির্বাচনে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার আবেদন করেন।

২৪ জুন এ আসনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পার্টির সংসদীয় বোর্ডের প্রার্থী মনোনয়নের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন জসিম উদ্দিন। কিন্তু মনোনয়ন পেয়ে দলকে না জানিয়ে তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করেও জসিম উদ্দিনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক এয়ার আহমেদ সেলিম সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘জসিম উদ্দিনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার পর তিনি আমাদেরকে কিছুই জানাননি। এছাড়াও তিনি কার সিদ্ধান্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেন, তাও আমরা জানি না।

‘কমিটি বিলুপ্তির খবর গণ্যমাধমে জানতে পেরে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের ফোন করা হলে তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে আমরা এখনও কেন্দ্রের কোন চিঠি পাইনি।’

আরও পড়ুন:
৩৩৩: খাদ্য পায়নি তিনজনের দুইজনই
৩৩৩ নম্বরে খাদ্য চেয়ে ফোন, পাচ্ছেন বাড়িও

শেয়ার করুন

পাপুলের আসনে নৌকা পেল ৯৮ শতাংশ ভোট

পাপুলের আসনে নৌকা পেল ৯৮ শতাংশ ভোট

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনে জয়ী আওয়ামী লীগের নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন। ছবি: নিউজবাংলা

পাপুলের আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নয়ন পান ১ লাখ ২২ হাজার ৫৪৭ ভোট। লাঙ্গল প্রতীকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ ফায়েজ উল্লাহ শিপন পেয়েছেন ১ হাজার ৮৮৬ ভোট।

অর্থ ও মানবপাচার মামলায় কুয়েতের আদালতে কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল সাজা পাওয়ায় শূন্য হওয়া লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন।

সোমবার ভোট গণনা শেষে ১৩৬টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফল ঘোষণা করা হয়।

এতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নয়ন পান ১ লাখ ২২ হাজার ৫৪৭ ভোট। লাঙ্গল প্রতীকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ ফায়েজ উল্লাহ শিপন পেয়েছেন ১ হাজার ৮৮৬ ভোট।

সেই হিসাবে নয়ন পেয়েছেন ৯৮.৪৫ শতাংশ ভোট। লাঙ্গলের প্রার্থী পেয়েছেন ১.৫৫ শতাংশ।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এ আসনে ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার ৩৩৯। ভোট পড়েছে ৪০ শতাংশ।

এদিকে জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সবগুলোতে চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছেন নৌকার প্রার্থী।

বেসরকারি ফলে তারা জয় পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. দুলাল তালুকদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

দুই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জয় পেলেন যারা-

কমলনগরের চরফলকন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোশাররফ বাঘা ৭ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদুর রহমান ঘোড়া প্রতীকে পান ১ হাজার ১৫৩ ভোট।

তোরাবগঞ্জে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান রাসেল নৌকা প্রতীকে ৮ হাজার ১১৪ ভোট পেয়েছেন জয় পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়সল আহমেদ রতন পেয়েছেন ৩ হাজার ২৭১ ভোট।

হাজীর হাটে আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নিজাম উদ্দিন ৮ হাজার ৮১৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আকবর হোসেন মিলন পান ৩০ হাজার ৭৫ ভোট।

রামগতি উপজেলার চর রমিজ ইউপিতে ১৩ হাজার ৮৪৪ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শারাফাত আলী ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ হাজার ৬৬১ ভোট।

চর পোড়া গাছা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল আমিন নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৮ হাজার ১৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদ বিল্পব আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১২৫ ভোট।

এ ছাড়া চর বাদামে ইউনিয়নে জয়ী নৌকা প্রতীকের জসীম উদ্দিন ৭ হাজার ৭৯০ ভোট পেয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ইয়াকুব শরীফের ভোটের সংখ্যা ৪ হাজার ১২৫।

আরও পড়ুন:
৩৩৩: খাদ্য পায়নি তিনজনের দুইজনই
৩৩৩ নম্বরে খাদ্য চেয়ে ফোন, পাচ্ছেন বাড়িও

শেয়ার করুন

চামড়া সংগ্রহ-সংরক্ষণে অব্যবস্থাপনা চায় না সরকার

চামড়া সংগ্রহ-সংরক্ষণে অব্যবস্থাপনা চায় না সরকার

কোরবানিকে কেন্দ্র করে অবৈধ গবাদি পশু আসা এবং কোরবানির পশুর চামড়া চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি: সংগৃহীত

‘কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণের মজুত রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোরবানির চামড়া ছাড়ানো, সংগ্রহ ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।’

কোরবানির ঈদে কোনোভাবে চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে যেন অব্যবস্থাপনা তৈরি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

চামড়াখাতের উন্নয়নে সুপারিশ প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে টাস্কফোর্সের তৃতীয় সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণের মজুত রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোরবানির চামড়া ছাড়ানো, সংগ্রহ ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।’

কোরবানির জন্য দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক গবাদি পশু রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোনো গবাদি পশু আমদানি করতে হবে না। আসন্ন ঈদে যাতে দেশে অবৈধভাবে গবাদি পশু প্রবেশ করতে না পারে এবং পশুর চামড়া যাতে পাচার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী বলেন, ‘খুব শিগগিরই ব্যবসায়ীদের নিয়ে চামড়ার মূল্য নির্ধারণের সভা করা হবে এবং নির্ধারিত মূল্যে চামড়া ক্রয় বিক্রয়ের জন্য মনিটরিং টিম গঠন করতে হবে।’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী বলেন, ‘কোরবানির পশু জবাইয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্মতভাবে বিধি-নিষেধ অনুসরন করতে হবে। যেখানে সেখানে কোরবানির পশু জবাই করা যাবে না। বিশেষ করে, রাস্তার ওপর কোরবানির পশু জবাই করা যাবে না।’

চামড়া সংগ্রহ-সংরক্ষণে অব্যবস্থাপনা চায় না সরকার

জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহেদ আলী বলেন, ‘কোরবানিকে কেন্দ্র করে অবৈধ গবাদি পশু আসা এবং কোরবানির পশুর চামড়া চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিজিবির মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের দিন ও পরদিন চামড়া নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং এ সময় যাতে কোনো গুজব না ছড়ায়, সে বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হবে।’

সভায় আরও যুক্ত ছিলেন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা, বিসিক চেয়ারম্যান মোশতাক হাসান, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাইদুর রহমান, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

সভায় জানানো হয়, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ট্যানারি মালিকদের সহজশর্তে ঋণ দেয়া এবং চামড়া ব্যবসায়ীদের পূর্বের ঋণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থবিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে দ্রুত সভা করা হবে।

আরও পড়ুন:
৩৩৩: খাদ্য পায়নি তিনজনের দুইজনই
৩৩৩ নম্বরে খাদ্য চেয়ে ফোন, পাচ্ছেন বাড়িও

শেয়ার করুন

১৬ বছরেই চলে গেল ডেপুটি স্পিকারের নাতি

১৬ বছরেই চলে গেল ডেপুটি স্পিকারের নাতি

ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার নাতি মো. ফাহিম আলম রাফি

ফাহিম আল রাফি ডেপুটি স্পিকারের দ্বিতীয় কন্যার প্রথম সন্তান। রাফি ডেপুটি স্পিকারের খুবই প্রিয় ছিল। নানার বাসভবনে তার সঙ্গেই থাকত সে।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার নাতি মো. ফাহিম আলম রাফি মারা গেছেন।

সোমবার দুপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ১৬ বছর বয়সী এই কিশোর।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখার উপপরিচালক স্বপন কুমার বিশ্বাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফাহিম আল রাফি ডেপুটি স্পিকারের দ্বিতীয় কন্যার প্রথম সন্তান। রাফি ডেপুটি স্পিকারের খুবই প্রিয় ছিল। নানার বাসভবনে তার সঙ্গেই থাকত সে।

মঙ্গলবার সকালে গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাঘাটায় তার জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে।

কন্যাপুত্রের মৃত্যুতে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার।

আরও পড়ুন:
৩৩৩: খাদ্য পায়নি তিনজনের দুইজনই
৩৩৩ নম্বরে খাদ্য চেয়ে ফোন, পাচ্ছেন বাড়িও

শেয়ার করুন

২৪ জুন খুলছে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল

২৪ জুন খুলছে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে খোলা হচ্ছে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ জানান, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজারের পর্যটন সেক্টর বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এখন সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে শর্ত সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে খুলে দেয়া হচ্ছে কক্সবাজারের হোটেল মোটেল ও গেস্ট হাউস।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ২৪ জুন থেকে খোলা হচ্ছে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস। তবে পুরোপুরি বন্ধ থাকবে পর্যটন কেন্দ্র।

সোমবার বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে করোনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, পর্যটন সংশ্লিষ্ট মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে হোটেল মোটেল ও গেস্ট হাউস খুলে দেয়া হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নে গঠন করা হয়েছে একটি মনিটরিং কমিটি।

এই কমিটি এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ দিক নির্দেশনা দিয়েছে।

দিক নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যত্যয় ঘটলে মনিটরিং কমিটি আবারও সব বন্ধ করে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

সভা শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ বলেন, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজারের পর্যটন সেক্টর বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এখন সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে শর্ত সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে খুলে দেয়া হচ্ছে হোটেল মোটেল ও গেস্ট হাউস।

তিনি বলেন, এসব খোলার পর স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নে পুলিশ-প্রশাসনের চেয়ে হোটেল মোটেল কর্তৃপক্ষের চ্যালেঞ্জ বেশি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। রক্ষা করতে হবে প্রতিশ্রুতি। ব্যবসা করতে হবে নিজের ও অন্যের জীবনকে ঝুঁকিতে না ফেলে।

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে শর্তগুলো হলো, ৫০ ভাগ কক্ষ বুকিং, রুম সার্ভিস ছাড়া রেস্টুরেন্ট বন্ধ এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে কক্ষ ভাড়া দেয়া যাবে না। এছাড়া বন্ধ থাকবে সুইমিংপুল।

অন্য শর্তের মধ্যে রয়েছে হোটেলের প্রবেশমুখে জীবানুনাশক স্প্রে ও তাপমাত্র পরিমাপের ব্যবস্থা, লবিসহ সব কক্ষে হ্যান্ড সেনিটাইজার রাখাসহ পুরো হোটেলে শতভাগ স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করা।

সভায় বক্তব্য রাখেন ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দীন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) পঙ্কজ বড়ুয়া, কক্সবাজার চেম্বারের সভাপতি আবু মোর্শেদ খোকা, জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের সৈয়দ মুরাদ ইসলাম, কলাতলী মেরিনড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান, হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ।

আরও পড়ুন:
৩৩৩: খাদ্য পায়নি তিনজনের দুইজনই
৩৩৩ নম্বরে খাদ্য চেয়ে ফোন, পাচ্ছেন বাড়িও

শেয়ার করুন

ভারতে নারী পাচার: আলোচিত সেই নদী গ্রেপ্তার

ভারতে নারী পাচার: আলোচিত সেই নদী গ্রেপ্তার

ভারতে নারী পাচারের ঘটনায় আলোচিত হয়ে উঠা নদী

সম্প্রতি ভারতে নারী পাচারের বিষয়টি সামনে আসে সে দেশে বাংলাদেশি তরুণীকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর। তখনই জানা যায়, টিকটক ভিডিও করে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভারতে নারী পাচারের একটি চক্র গড়ে উঠেছে। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে সর্বশেষ শনিবার রাতে আরও দুটি মামলা হয়েছে। মামলা দুটি করেছেন ভারত থেকে পালিয়ে আসা আরও দুই তরুণী। সব কটি মামলায় টিকটক হৃদয়সহ তার চক্রের সদস্যদের আসামি করা হয়েছে। একটি মামলায় নদীসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।

সামাজিকমাধ্যম টিকটক ব্যবহার করে কৌশলে ভারতে নারী পাচারের মামলায় অন্যতম আসামি নদীসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে নড়াইল ও যশোর সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার হাফিজ আল ফারুক নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামিদের ঢাকায় আনা হচ্ছে। বাকি সদস্যদের তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে।’

ভারতে পাচার হওয়ার পর দেশে পালিয়ে এসে গত ১৯ জুন নদীসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন এক তরুণী। ওই তরুণী জানান, তিনি পাচার হওয়ার আগে তার বড় বোনও নদীর মাধ্যমে পাচার হয়েছিলেন। পরে বোন অসুস্থ বলে তাকে ও তার ছোট খালাকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই তরুণী ফিরে আসলেও তার বড় বোন ও খালা কোথায় আছে তা জানেন না তিনি।

সম্প্রতি ভারতে নারী পাচারের বিষয়টি সামনে আসে সে দেশে বাংলাদেশি তরুণীকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর। তখনই জানা যায়, টিকটক ভিডিও করে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভারতে নারী পাচারের একটি চক্র গড়ে উঠেছে।

দুই দেশেই ব্যাপক আলোচিত ওই ঘটনায় ‘টিকটক হৃদয়’ নামে পরিচয় পাওয়া রিফাদুল ইসলাম হৃদয় বাবুসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভারতে। একই ঘটনায় বাংলাদেশেও মামলা হয়েছে।

ভারত থেকে পালিয়ে আসা দুই তরুণীও মামলা করেছেন। হাতিরঝিল থানার এই তিন মামলায় বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১২ জনকে।

মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে সর্বশেষ শনিবার রাতে আরও দুটি মামলা হয়েছে। মামলা দুটি করেছেন ভারত থেকে পালিয়ে আসা আরও দুই তরুণী। সব কটি মামলায় টিকটক হৃদয়সহ তার চক্রের সদস্যদের আসামি করা হয়েছে। একটি মামলায় নদীসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।

যেভাবে পাচার

যে তরুণীর মামলায় নদী গ্রেপ্তার হয়েছেন, তার ছদ্মনাম সায়মা। তিনি জানান, চার বোনের মধ্যে তিনি মেজো। থাকতেন রাজধানীর মাতুয়াইলে। তার বাবা টাইলস মিস্ত্রি। ২০১৪ সালে বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। মা আরেকজনকে বিয়ে করেন। মা ও সৎবাবার সঙ্গে চার বোন কাজলায় থাকতে শুরু করেন।

ফেসবুকে ভারতপ্রবাসী নদীর সঙ্গে পরিচয় হয় সায়মার। তিনি জানান, বেঙ্গালুরুতে বিউটি পারলারে লোক নেবে। মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতন। ৫ জন মেয়ে নেবে।

এই প্রস্তাব সায়মা তার মাকে জানালে তিনি রাজি হননি। কিন্তু বড় বোন সংসারের অভাব-অনটনের কথা চিন্তা করে মাকে রাজি করান।

সায়মা জানান, নদীর কথামতো যশোরের বেনাপোল এলাকার ইসরাফিল হোসেন খোকন তার বড় বোনকে ফোন করেন।

পরে নদীর নির্দেশনা মতো তার বড় বোন ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর রাতে যশোরের উদ্দেশে বাসযোগে যাত্রা শুরু করেন। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খোকনের নির্দেশনা মোতাবেক যশোরের শার্শা এলাকায় বাস থেকে নামে তার বড় বোন।

ভারতে নারী পাচার: আলোচিত সেই নদী গ্রেপ্তার
ভারতে নারী পাচারের বিষয়টি সামনে আসে সে দেশে বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নির্যাতনের ভিডিও ছড়ানোর পর

সেখান থেকে তরিকুল নামে একজনের ইজিবাইকে আল-আমিন নামে একজনের বাসায় যান বোন।

২১ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে বেনাপোল সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় শেষবার বোনের সঙ্গে কথা হয় সায়মার। পরের দিন তার ইমো নম্বরে ফোন করেন নদী। কিন্তু তিন-চার দিন পর বোনের খোঁজ নিতে নদীর ইমো নম্বরে ফোন দিয়ে বন্ধ পান তিনি।

ছোট বোন খালাকে পাচারের ফাঁদ

১০-১২ দিন পর আবার নদীর ভারতীয় ইমো নম্বরে ফোন করে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর বিউটি নামে আরেকজনের ইমো নম্বরে ফোন করলে তিনি জানান, তার বড় বোন অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি আছে। চিকিৎসা হচ্ছে। তবে সেখানে দেখাশোনা করার মতো লোক নাই।

এই কথা শুনে সায়মা ও তার ছোট খালা ভারত যেতে চান।

২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর মগবাজারের নূরজাহান আবাসিক হোটেলের সামনে নদীর সঙ্গে দেখা হয় তার ও ছোট খালার। নদী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সেখান থেকে তাদের কল্যাণপুরে নিয়ে যায়। এরপর যশোরের বেনাপোলের দুটি টিকিট করে বাসে উঠিয়ে দিয়ে জানায়, সকালের দিকে তার লোক এসে তাদের নিয়ে যাবে।

২০২০ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে হেঁটে হেঁটে সীমান্ত পাড়ি দেন তারা।

ভারতে নারী পাচার: আলোচিত সেই নদী গ্রেপ্তার
ভারতে নারী পাচারে টিকটক হৃদয় বাবু ও নদী মিলিয়ে একটি চক্র গড়ে ওঠার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ

ভারতে বিউটি পারলারে কাজের কথা বলে বেঙ্গালুরুর ইলেকট্রনিক সিটির একটি বাসায় সায়মাকে এবং তার খালাকে কেরালার একটি হোটেলে পাঠানো হয়। সেখানে আমাদের দুজনের ওপরই যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

সেখানে হৃদয় বাবু, সাগর, আখিল, রুবেল ওরফে রাহুল, সবুজ বিউটির বাসায় এসে সায়মার বোনকে খুব মারধর করে।

পরে তাকে ও তার সঙ্গে কয়েকজনকে চেন্নাই, কেরালা ও বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন হোটেলে ও ম্যাসেজ সেন্টারে পাঠানো হয়। একপর্যায়ে তার পেটে বাচ্চা আসে।

গত ২ মে বেঙ্গালুরুর একটি ম্যাসেজ সেন্টারের জানালা ভেঙে পালাতে সক্ষম হন। আর ট্রেনে কলকাতা এসে ৬ মে বাংলাদেশে আসেন।

পালিয়ে আসা এই তরুণী জানান, বেঙ্গালুরুতে অবস্থানকালে কৌশলে সবার নাম ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে রাখেন।

২২ জন ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা

সায়মার করা মামলায় ২২ আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন নদী, ইসরাফিল হোসেন ওরফে খোকন, তরিকুল, আল-আমিন, আব্দুল হাই ওরফে সবুজ, সাইফুল, তাসলিমা ওরফে বিউটি, বিনাশ শিকদার, আমিরুল, মেম্বার, আনিস, আলম, মেহেদী হাসান বাবু, মহিউদ্দিন, সালাম, বকুল ওরফে ছোট খোকন, পলক মণ্ডল, রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, আখিল, সাগর, রুবেল ওরফে রাহুল ও সবুজ।

হাতিরঝিল থানায় করা আরেক মামলায় টিকটক হৃদয়সহ ১৪ আসামির নাম উল্লেখ আছে। অপর ১৩ জন হলেন ইসরাফিল হোসেন ওরফে খোকন, তরিকুল, আল-আমিন, আব্দুল হাই ওরফে সবুজ, আমিরুল, সাইফুল, পলক মণ্ডল, বকুল ওরফে ছোট খোকন, সাগর, সবুজ, রুবেল ওরফে রাহুল, আখিল ও ডালিম।

আরও পড়ুন:
৩৩৩: খাদ্য পায়নি তিনজনের দুইজনই
৩৩৩ নম্বরে খাদ্য চেয়ে ফোন, পাচ্ছেন বাড়িও

শেয়ার করুন