ঈদযাত্রায় সড়কে প্রাণ গেল ৩১৪ জনের

ঈদ ঘিরে বাড়ি ফিরছেন রাজধানীবাসী । ফাইল ছবি

ঈদযাত্রায় সড়কে প্রাণ গেল ৩১৪ জনের

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণমতে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৯৪টি জাতীয় মহাসড়কে, ৮৯টি আঞ্চলিক সড়কে, ৩৪টি গ্রামীণ সড়কে, ১৮টি শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৪টি হয়েছে।

ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে ১৪ দিনে (৭-২০ মে) দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৩৯টি। এ সময় নিহত হয়েছে ৩১৪ জন এবং আহত হয়েছে ২৯১ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৪৩ ও শিশু ২৮।

এই সময়ে চারটি নৌ-দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছে। এ ছাড়া একটি রেলপথ দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে।

শনিবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সব তথ্য জানানো হয়।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র

বিজ্ঞপ্তিতে দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৪ জন, বাস যাত্রী ৪ জন, ট্রাক, পিকআপ, ট্রাক্টর ও ট্রলি যাত্রী ১৭ জন, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার যাত্রী ২৯ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী (সিএনজি-ইজিবাইক-অটোরিকশা-টেম্পো) ৩৩ জন, নছিমন, ভটভটি, মাহিন্দ্র ও চান্দের গাড়ি যাত্রী ১৬ জন, প্যাডেল রিকশা, বাইসাইকেলের আরোহী ৫ জন নিহত হয়েছে।

দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৯৪টি জাতীয় মহাসড়কে, ৮৯টি আঞ্চলিক সড়কে, ৩৪টি গ্রামীণ সড়কে, ১৮টি শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৪টি হয়েছে।

ঈদযাত্রায় সড়কে প্রাণ গেল ৩১৪ জনের

দুর্ঘটনার ধরন

দুর্ঘটনাগুলোর ৪৪টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৯৫টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৭৬টি পথচারীকে চাপা অথবা ধাক্কা দেয়া, ১৯টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৫টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় আক্রান্ত বা জড়িত যানবাহন

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ, ট্রাক্টর ও ট্রলি ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, অ্যাম্বুলেন্স ও জীপ ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৯ দশমিক ২৩ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা- টেম্পু) ২০ দশমিক ৪১ শতাংশ, নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-চান্দের গাড়ি ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং প্যাডেল রিকশা-রিকশা ভ্যান-বাইসাইকেল ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা

দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা ৪৩১টি। যার মধ্যে ট্রাক ৬২, বাস ২১, কাভার্ডভ্যান ১২, পিকআপ ২৩, ট্রলি ৭, ট্রাক্টর ৯, মাইক্রোবাস ২৪, প্রাইভেটকার ১৬, অ্যাম্বুলেন্স ১, জীপ ১, র‌্যাবের পিকআপ ১, মোটরসাইকেল ১২৬, ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা-টেম্পু ৮৮, নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-চান্দের গাড়ি ২৯ এবং প্যাডেল রিকশা, রিকশাভ্যান, বাই-সাইকেল ১১টি।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ৩৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ ও প্রাণহানি ৩২ দশমিক ৮০ শতাংশ; রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ ও প্রাণহানি ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ; চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ ও প্রাণহানি ১৬ দশমিক ২৪ শতাংশ; খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ ও প্রাণহানি ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ; বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ, প্রাণহানি ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ; সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ, প্রাণহানি ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ; রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ ও প্রাণহানি ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও প্রাণহানি ৫ দশমিক ৯ শতাংশ ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৮০টি দুর্ঘটনায় নিহত ১০৩ জন। সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে। ১৪টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ জন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১৮টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত। সবচেয়ে কম জামালপুর জেলায়। ২টি দুর্ঘটনা ঘটলেও কেউ হতাহত হয়নি।

ঈদযাত্রায় সড়কে প্রাণ গেল ৩১৪ জনের

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল ও তরুণ ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো অন্যতম।

এছাড়া জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি ও গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিও রয়েছে।

সুপারিশ

দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়াতে হবে। চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে। বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্বরাস্তা (সার্ভিস লেন) তৈরি করতে হবে। পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে। গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।

রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের উপর চাপ কমাতে হবে। টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

আরও পড়ুন:
চকরিয়ায় বাসের ধাক্কায় শিশু নিহত
মাইক্রোবাস উল্টে যুবকের মৃত্যু
রোগী নিয়ে আসার সময় লাশ হলেন ২ স্বজন
আলুবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ৩
সেতুর রেলিং ভেঙে ট্রাক খালে, নিহত ১

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আষাঢ়ে ইলিশের খোঁজে

আষাঢ়ে ইলিশের খোঁজে

শনিবার বড় স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ইলিশশূন্য বাজার। অধিকাংশ আড়তেই নেই মাছ। বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা কিছু ইলিশ নিয়ে বসে আছেন বিক্রির উদ্দেশ্যে। কিন্তু দাম অত্যধিক বেশি হওয়ায় ক্রেতাদেরও আনাগোনা নেই খুব একটা। যারাই দু-একজন কিনছেন, প্রত্যেকেই চড়া দামে ইলিশ কিনে বাড়ি ফিরছেন।

আষাঢ়ে টানা বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কমায় স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে। কিন্তু ইলিশবাজারের চিত্রটা উল্টো। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় মাছের চড়া দাম।

দেশের অন্যতম বড় ইলিশবাজার বড় স্টেশন মাছঘাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইলিশের যে চাহিদা, সে তুলনায় সরবরাহ নেই বললেই চলে। তাই শুধু ভিআইপিরাই ইলিশ কিনতে পারছেন, সাধারণ মানুষ নাগাল পাচ্ছে না ইলিশের।

সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, সাধ থাকলেও সাধ্যে কুলাচ্ছে না। তাই দাম শুনেই কেনার আশা মিটে যাচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আর কিছুদিন পরেই জেলেদের জালে ধরা পড়বে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। তখন নামবে দামের পারদ।

শনিবার বড় স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ইলিশশূন্য বাজার। অধিকাংশ আড়তেই নেই মাছ। বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা কিছু ইলিশ নিয়ে বসে আছেন বিক্রির উদ্দেশ্যে। কিন্তু দাম অত্যধিক বেশি হওয়ায় ক্রেতাদেরও আনাগোনা নেই খুব একটা। যারাই দু-একজন কিনছেন, প্রত্যেকেই চড়া দামে ইলিশ কিনে বাড়ি ফিরছেন।

ইলিশ ব্যবসায়ী বিপ্লব খান বলেন, মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও ইলিশ ধরা শুরু হয়েছে নদীতে। কিন্তু জালে উঠছে না ইলিশ। মাছের যে চাহিদা, সেই তুলনায় মাছ নেই। তাই ইলিশের দাম এখন বেশি।

তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ২ কেজি ৬০০ গ্রামের একটি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১২ হাজার টাকায়; যে টাকা দিয়ে একটি আস্ত খাসি কেনা যেত। মাছ না থাকায় আমাদের কিনতে হচ্ছে বেশি টাকায়, তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি মূল্যে।’

বাজারে এখন ৫০০ গ্রাম থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ হাজার থেকে ৩৮ হাজার টাকায়। তা ছাড়া ৮০০ গ্রাম থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মণপ্রতি ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকায়। এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকায় এবং ১২০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা মণ দরে।

বাজারের খুচরা ইলিশ বিক্রেতা আলাউদ্দিন ও মো. মোস্তফা বলেন, ‘আমরা যারা খুচরা ইলিশ বেচি, আমাগো কাছেও অন্যান্য বছর এই সময় ১০ থেকে ১২ মণ ইলিশ মজুত থাকত। অনেক সাধারণ মানুষ মাছ কিনতে আইত। বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকত। কিন্তু অহন মাছ না থাহনে এক মণ ইলিশও মজুত করতে পারি না। ইলিশের দাম হুইন্নাই সাধারণ মানুষ জায়গ্যা। ঠেহায় না পড়লে কেউ মাছ কেনে না। বড় বড় সরকারি অফিসার, ঠিকাদার, ব্যবসায়ীসহ ভিআইপি কাস্টমাররাই অহন ইলিশ কেনে।’

সবুজ হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘বাজারে আসছিলাম ইলিশ কিনতে। কিন্তু যেই দাম চায়, তা শুনে আর সাহসে কুলায় নাই। এই দাম দিয়া আমাগো মতো মানুষের ইলিশ কেনা সম্ভব না। তাই খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছি, অন্য বাজার থেকে তেলাপিয়া মাছ নিয়া যামু বাড়িতে।’

চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত বলেন, ঘাটে ইলিশের সরবরাহ নেই। অন্যান্য বছর এই সময়ে কয়েক শ মণ ইলিশ সরবরাহ হলেও বর্তমানে হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ মণ। যে চাহিদা রয়েছে, তার কিছুই সরবরাহ হয় না। তাই ইলিশ কিনতে ঢাকাসহ দূরদূরান্ত থেকে মানুষ চাঁদপুরে এসে অনেক সময় খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, মূলত এ বছর বৈশাখ মাসে ঝড়-বৃষ্টি কম হওয়ায় নদীতে মাছ নেই খুব একটা। তা ছাড়া মা-ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ অভিযানের সময় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ নিধন করারও প্রভাব পড়েছে এখন। তবে আগামী দুই-এক মাস পর থেকে নদীতে আবারও ইলিশ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

চাঁদপুর মৎস্য ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, ‘মূলত এপ্রিল, মে, জুন, জুলাই ইলিশের জন্য ডাল সিজন। এই সময়টাতে সাধারণত নদীতে ইলিশ কম আসে, তাই ধরাও পড়ে কম। তা ছাড়া এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় নদীতে কম হয়েছে, তাই সমুদ্র থেকে ইলিশ উঠে আসেনি নদীতে।’

তবে তিনি জেলে ও ব্যবসায়ীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আশা করছি, ঠিকমতো বৃষ্টিপাত হলে আগামী জুলাই মাসের শেষ থেকেই নদীতে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ পাওয়া যাবে। তখন দামও ক্রেতা সাধারণের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।’

আরও পড়ুন:
চকরিয়ায় বাসের ধাক্কায় শিশু নিহত
মাইক্রোবাস উল্টে যুবকের মৃত্যু
রোগী নিয়ে আসার সময় লাশ হলেন ২ স্বজন
আলুবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ৩
সেতুর রেলিং ভেঙে ট্রাক খালে, নিহত ১

শেয়ার করুন

হাসপাতালে ঝুঁকি থাকায় বাসায় খালেদা: চিকিৎসক

হাসপাতালে ঝুঁকি থাকায় বাসায় খালেদা: চিকিৎসক

৫৩ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর বাড়ি ফেরেন খালেদা জিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘হাসপাতালে খালেদা জিয়া বারবার সংক্রমিত হচ্ছিলেন এবং আমরা খুব সহজেই নির্ণয় করতে পেরেছি এই জীবাণু কোত্থেকে এসেছে। এটা হাসপাতালে তৈরি। তাই হাসপাতাল উনার জন্য এই মুহূর্তে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।’

হাসপাতালে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ডক্টর এফ এম সিদ্দিকী।

শনিবার রাতে খালেদা জিয়া তার বাসভবন ফিরোজায় পৌঁছানোর পরে বাসার সামনে সাংবাদিকদের চিকিৎসক এ তথ্য জানান।

এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘হাসপাতালে খালেদা জিয়া বারবার সংক্রমিত হচ্ছিলেন এবং আমরা খুব সহজেই নির্ণয় করতে পেরেছি এই জীবাণু কোত্থেকে এসেছে। এটা হাসপাতালে তৈরি। তাই হাসপাতাল উনার জন্য এই মুহূর্তে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ২/৩ সপ্তাহ পরে উনাকে আবার নিয়মিত কিছু পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেয়া লাগতে পারে।’

খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল তবে সুস্থ হয়ে উঠেনি বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক অধ্যাপক এএফএম সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ উনি (খালেদা জিয়া) স্থিতিশীল আছেন। তার মানে এই না যে, উনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছেন।’

‘আমাদের মেডিকেল টিম যেটা এভারকেয়ার হাসপাতালে সুদক্ষ টিম আছে সেটা, দেশের বাইরে যারা আছেন এবং আমরা যারা আছি সবাই মিলে উনাকে নিবিড় পর্যবেক্ষনের রেখে চিকিৎসাটা আপাতত এখানে (বাসায়) রেখে চালিয়ে যাবো।’

হাসপাতালে ঝুঁকি থাকায় বাসায় খালেদা: চিকিৎসক
শনিবার রাতে খালেদা জিয়া তার বাসভবন ফিরোজায় পৌঁছানোর পরে বাসার সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তার চিকিৎসক। ছবি: নিউজবাংলা।

ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক এএফএম সিদ্দিকী বলেন, ‘উনার অসুখটা চিকিৎসায় একটা স্থিতি অবস্থায় এসছে। উনি কিউর হয়ে ‍যাননি। উনার যেই হার্টের জটিলতা, কিডনির জটিলতা, লিভারের জটিলতা সেগুলো কোভিডের কারণে যে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছিলো সেই অবস্থার উত্তরণ ঘটেছে। কিন্তু সেই অসুস্থতাগুলো রয়েই গেছে।

‘সেগুলোকে এড্রেস করার যে চিকিৎসা এবং যে প্রস্তুতি বা প্রক্রিয়া সেইগুলো আমরা কিন্তু এখনও পরিপূর্ণভাবে করতে পারিনি। যার জন্য একটা রিস্ক উনার থেকেই যাচ্ছে। আমরা প্ল্যান করেছি, উনাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করাব। উনি অবজারভেশনে আছেন। কিন্তু দুই সপ্তাহ বা তিন সপ্তাহ পরে আবার আমাদের অপশন রাখতে হচ্ছে যে, উনাকে হসপিটাল নিয়ে রিভিউ করার প্রয়োজন হতে পারে।’

এএফএম সিদ্দিকী বলেন, ‘উনার যে জটিলতাগুলো আছে সেগুলো প্রাইমারি ডিজিজ। সেগুলোর চিকিতসার জন্য আমরা মেডিক্যাল বোর্ড থেকে কতগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেটা আমরা লিখিত আকারে উনারদের কাছে দেবো।'

এভার কেয়ার হাসপাতালে ৫৩দিন চিকিৎসা শেষে শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় গুলশানের বাসায় ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খানসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
চকরিয়ায় বাসের ধাক্কায় শিশু নিহত
মাইক্রোবাস উল্টে যুবকের মৃত্যু
রোগী নিয়ে আসার সময় লাশ হলেন ২ স্বজন
আলুবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ৩
সেতুর রেলিং ভেঙে ট্রাক খালে, নিহত ১

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের রায়হানের প্রশংসায় আল-জাজিরার সাংবাদিক

বাংলাদেশের রায়হানের প্রশংসায় আল-জাজিরার সাংবাদিক

পুরস্কার পাওয়া পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রায়হান কবিরের সাহসিকতার প্রশংসা করলেন আল-জাজিরার সাংবাদিক ড্রিউ অ্যামরোজ। ছবি: সংগৃহীত 

পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় ড্রিউ অ্যামরোজ বলেন, ‘সত্য বলার মতো সাহসী মানুষ ছাড়া নিপীড়ন প্রকাশে এমন বড় কাজ আমার পক্ষে করা সম্ভবপর ছিল না। প্রবাসী কর্মী রায়হান কবিরের ওপর মালয়েশীয় সরকারের ভয়াবহ চাপ থাকা সত্ত্বেও সত্য প্রকাশ করা থেকে পিছুপা হননি বাংলাদেশি এই যুবক।’

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী শ্রমিকদের নির্যাতনের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রের জন্য পুরস্কার পাওয়া পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রায়হান কবিরের সাহসিকতার প্রশংসা করলেন আল-জাজিরার সাংবাদিক ড্রিউ অ্যামরোজ।

দেশটিতে প্রবাসীদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরায় ২৫ মিনিটের এই প্রামাণ্যচিত্রের জন্য অস্ট্রেলিয়ার এই সাংবাদিককে শুক্রবার দেয়া হয় আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাকর ওয়ান ওয়ার্ল্ড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিবেদন তৈরি করায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি তাকে জার্নালিস্ট অব দ্য ইয়ার হিসেবে নির্বাচিত করে।

এমন পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় ড্রিউ অ্যামরোজ বলেন, ‘সত্য বলার মতো সাহসী মানুষ ছাড়া নিপীড়ন প্রকাশে এমন বড় কাজ আমার পক্ষে করা সম্ভবপর ছিল না। প্রবাসী কর্মী রায়হান কবিরের ওপর মালয়েশীয় সরকারের ভয়াবহ চাপ থাকা সত্ত্বেও সত্য প্রকাশ করা থেকে পিছুপা হননি বাংলাদেশি এই যুবক।’

তিনি আরও জানান, মহামারি চলাকালীন বিশ্বের অনেক দেশে মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর বিভিন্ন অজুহাতে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বিধিনিষেধ। এমন প্রতিকূলতার মাঝে সাংবাদিকতার জন্য এ পুরস্কার অর্জন সত্যিই প্রশংসনীয় ও উৎসাহজনক।

দেশটির সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

এর আগে এই প্রামাণ্যচিত্রটি লাভ করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্যালি অ্যাওয়ার্ড ও হংকংয়ের হিউম্যান রাইটস প্রেস অ্যাওয়ার্ড।

এরই মধ্যে এই প্রামাণ্যচিত্রটিকে ২০২০ সালের সেরা প্রতিবেদন হিসেবে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রেখেছে গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্ক।

‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়াস লকডাউন’ ডকুমেন্টারিতে মালয়েশিয়ায় আটকে পড়া অবৈধ শ্রমিকদের বেহাল দশার কথা তুলে ধরা হয়।

আল-জাজিরা গত ৩ জুলাই এই প্রামাণ্যচিত্রটি সম্প্রচার করে।

এতে দেখানো হয়, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুই হাজারের বেশি অনিবন্ধিত অভিবাসী শ্রমিককে আটক করে। একই সময় দেশটিতে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতি রোধে চলা লকডাউনের মধ্যেই তাদের বিপর্যয়কর পরিবেশে আটক রাখা হয়।

বাংলাদেশি যুবক রায়হান কবির আল-জাজিরার ওই সাংবাদিকের কাছে নিপীড়নের বিষয় ও মালয়েশিয়া সরকারের সমালোচনা করে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন।

প্রামাণ্যচিত্রটি সম্প্রচার হওয়ার পরপরই মালয়েশিয়ার পুলিশ রায়হান কবিরকে গ্রেপ্তার করে।

আরও পড়ুন:
চকরিয়ায় বাসের ধাক্কায় শিশু নিহত
মাইক্রোবাস উল্টে যুবকের মৃত্যু
রোগী নিয়ে আসার সময় লাশ হলেন ২ স্বজন
আলুবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ৩
সেতুর রেলিং ভেঙে ট্রাক খালে, নিহত ১

শেয়ার করুন

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল দুই-ই হারালেন সেই রনি

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল দুই-ই হারালেন সেই রনি

‘আমি আজীবন ছাত্রলীগ করেছি। রাজপথে থেকে মিটিং মিছিল করেছি। আমাকে নিয়ে একটি কুচক্রী মহল হীনস্বার্থ হাসিলে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে। যুবদলের যে রায়হান রনির কথা বলা হচ্ছে, সে ব্যক্তি আমি নই। আমি যদি বিএনপির কোনো কর্মী হতাম, তাহলে কোথাও না কোথাও তাদের সঙ্গে আমার ছবি থাকত। আমি এই ভিত্তিহীন মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ জানাই।’

সদ্য ঘোষিত আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে স্থান পান ছাত্রদলের প্রথম সারির এক নেতা। জানাজানি হওয়ার পর শনিবার ওই বিতর্কিত নেতাকে বিতাড়িত করেছে উভয় দলই।

অভিযোগ, রায়হান রনি নামের ওই নেতা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা অবস্থাতেই উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পান।

রায়হান রনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার আলফাডাঙ্গা মৌজার বাসিন্দা। পড়াশোনা করেন যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে।

ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে ২৩ জানুয়ারি ২১ সদস্যবিশিষ্ট আলফাডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। ওই কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছে রায়হান রনির নাম।

অপরদিকে গত ১২ জুন আলফাডাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে আংশিক কমিটি অনুমোদন করে জেলা ছাত্রলীগ। ঘোষিত ওই কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রয়েছে মোহাম্মদ রায়হান রনির নাম।

স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ছাত্রদলের রায়হান রনি ও ছাত্রলীগের মোহাম্মদ রায়হান রনি একই ব্যক্তি।

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল দুই-ই হারালেন সেই রনি


এ নিয়ে মোহাম্মদ রায়হান রনি বলেন, ছাত্রদলের রায়হান রনি আর তিনি এক ব্যক্তি নন। তিনি আজীবন ছাত্রলীগ করেছেন, ছাত্রদল তিনি করেননি। ছাত্রদলের রায়হান রনিকে তিনি চেনেনও না।

ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশীদ চৌধুরী রিয়ান জানান, তার জানামতে ছাত্রদলের রায়হান রনি আর ছাত্রলীগের রায়হান রনি এক ব্যক্তি নন। তারপরও কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারে এই দুই রনি একজনই তাহলে রায়হান রনির বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ছাত্রলীগে কোনো বিতর্কিত লোকের স্থান হবে, না এমনকি অন্য যেকোনো রাজনৈতিক সংগঠন করে ছাত্রলীগে আসা যাবে না।

অবশ্য এমন বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার বিকেলে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশীদ চৌধুরী রিয়ান ও সধারণ সম্পাদক ফাহিম আহম্মেদের যৌথ স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগের ভিত্তিতে মোহাম্মদ রায়হান রনিকে (সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, আলফাডাঙ্গা পৌর শাখা) নিজ পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো।’

শনিবার অপর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু ও সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েস বলেন, ‘সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শচ্যুতির অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মোহাম্মদ রায়হান রনি, প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, আলফাডাঙ্গা পৌর শাখাকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও বহিষ্কার করা হলো।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকরাম হোসেন বলেন, ‘জেলা থেকে কখন কী কমিটি ঘোষণা করে, আমাদের কাছ থেকে মতামত বা পরামর্শও নেয় না। ছাত্রলীগের এই কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রেও আমার কাছ থেকে কোনো পরামর্শ নেয়া হয়নি। এখন শুনছি, ছাত্রদলের এক নেতা কমিটির বড় পদ পেয়েছেন।’

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল দুই-ই হারালেন সেই রনি


এদিকে নিজেকে শুধু ছাত্রলীগ নেতা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার বাসিন্দা মোহাম্মদ রায়হান রনি। শনিবার দুপুরে আলফাডাঙ্গা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি আজীবন ছাত্রলীগ করেছি। রাজপথে থেকে মিটিং মিছিল করেছি। আমাকে নিয়ে একটি কুচক্রী মহল হীনস্বার্থ হাসিলে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে। যুবদলের যে রায়হান রনির কথা বলা হচ্ছে, সে ব্যক্তি আমি নই। আমি যদি বিএনপির কোনো কর্মী হতাম, তাহলে কোথাও না কোথাও তাদের সঙ্গে আমার ছবি থাকত। আমি এই ভিত্তিহীন মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গার পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুর রহমানসহ নেতারা।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লা আল মিলন জানান, ছাত্রদলের রায়হান রনি ও ছাত্রলীগের মোহাম্মদ রায়হান রনি একই ব্যক্তি।

আরও পড়ুন:
চকরিয়ায় বাসের ধাক্কায় শিশু নিহত
মাইক্রোবাস উল্টে যুবকের মৃত্যু
রোগী নিয়ে আসার সময় লাশ হলেন ২ স্বজন
আলুবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ৩
সেতুর রেলিং ভেঙে ট্রাক খালে, নিহত ১

শেয়ার করুন

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজকে বিদায়ী সংবর্ধনা

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজকে বিদায়ী সংবর্ধনা

বগুড়া সেনানিবাসের আর্মার্ড কোর সেন্টার ও স্কুলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে শনিবার বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হয়। ছবি: আইএসপিআর

জেনারেল আজিজ আহমেদ বিদায়ী ভাষণের শুরুতেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী সেনাসদস্যদের।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে সামরিক রীতিতে বিদায় জানাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কোর, কোর অফ ইঞ্জিনিয়ার্স এবং বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট।

বগুড়া সেনানিবাসের আর্মার্ড কোর সেন্টার ও স্কুলে শনিবার তাকে এই সংবর্ধনা দেয়া হয়।

২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর আর্মার্ড কোরের, ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই কোর অফ ইঞ্জিনিয়ার্স এবং ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জেনারেল আজিজ।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে উপস্থিত সবার উদ্দেশে বিদায়ী কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।

জেনারেল আজিজ আহমেদ বিদায়ী ভাষণের শুরুতেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী সব সেনাসদস্যের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেনারেল আজিজ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ একটি আধুনিক এবং চৌকস বাহিনী হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।’

কর্নেল কমন্ড্যান্ট হিসেবে তার গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে আজিজ আহমেদ জানান, ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর আলোকে একটি আধুনিক এবং যুগোপযোগী সেনাবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে আর্মার্ড কোর, কোর অফ ইঞ্জিনিয়ার্স এবং বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টে নতুন ইউনিট প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সংযোজন করা হয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সরঞ্জামাদি।

সেই সঙ্গে আধুনিকায়ন এবং সম্প্রসারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারসহ প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করেছেন বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কোর, কোর অফ ইঞ্জিনিয়ার্স এবং বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে উন্নতি ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন জেনারেল আজিজ আহমেদ।

অনুষ্ঠানে আর্মার্ড কোর, কোর অফ ইঞ্জিনিয়ার্স এবং বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাসহ অন্য সামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

গত রোববার থেকে বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব ফরমেশনে বিদায়ী পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সব পদবির সামরিক ও অসামরিক সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বিদায়ী বক্তব্য দেন। ফরমেশন থেকে আবেগঘন পরিবেশে বিদায়ী সেনাপ্রধানকে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে খোলা জিপ টেনে সামরিক রীতিতে বিদায় জানানো হয়।

আরও পড়ুন:
চকরিয়ায় বাসের ধাক্কায় শিশু নিহত
মাইক্রোবাস উল্টে যুবকের মৃত্যু
রোগী নিয়ে আসার সময় লাশ হলেন ২ স্বজন
আলুবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ৩
সেতুর রেলিং ভেঙে ট্রাক খালে, নিহত ১

শেয়ার করুন

আবরার স্মরণে ‘এক মুঠো ভাত’

আবরার স্মরণে ‘এক মুঠো ভাত’

আবরার ফাহাদ হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে বুয়েট ক্যাম্পাসে ‘এক মুঠো ভাত’ কর্মসূচি পালন করেছে অঙ্কুর ফাউন্ডেশন। ছবি: নিউজবাংলা

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে বুয়েট ক্যাম্পাসে ‘এক মুঠো ভাত’ কর্মসূচি পালন করেছে অঙ্কুর ফাউন্ডেশন। এ কর্মসূচির আওতায় শুক্রবার দুপুরে ক্যাম্পাসে ১০০ জনের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে বুয়েট ক্যাম্পাসে ‘এক মুঠো ভাত’ কর্মসূচি পালন করেছে অঙ্কুর ফাউন্ডেশন।

এ কর্মসূচির আওতায় শুক্রবার দুপুরে ক্যাম্পাসে ১০০ জনের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

রাজধানীরসহ দেশের ৬৪টি জেলা শহরে শুক্রবার এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন সংগঠনটির সিনিয়র স্বেচ্ছাসেবক জুবায়ের।

জুবায়ের জানান, আবরারের নিজ জেলা কুষ্টিয়াতে আয়োজিত কর্মসূচিতে আবরার ফাহাদের বাবা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ‘অঙ্কুর ফাউন্ডেশন’ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই ফাউন্ডেশনের বেশ কয়েকটি প্রজেক্টের মধ্যে ‘এক মুঠো ভাত’ অন্যতম।

কর্মসূচির বিষয়ে সংগঠনটির মিডিয়া সমন্বয়ক মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘আবরার হত্যার পর আসামীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক বছর ৯ মাস পার হয়ে গেলেও বিচার কাজে তেমন অগ্রগতি হয়নি।’

আবরার স্মরণে ‘এক মুঠো ভাত’
আবরার হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে বুয়েট ক্যাম্পাসে অঙ্কুর ফাউন্ডেশন বিশেষ কর্মসূচী পালন করে। ছবি: নিউজবাংলা

‘সম্প্রতি আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বুয়েট থেকে আজীবন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বিটু ক্লাসে ফিরেছেন। আবার হত্যার বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও সাম্প্রতিক ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন।’

আলাউদ্দিন বলেন, সংগঠনের অবস্থান প্রশাসন বা সরকারের বিরুদ্ধে নয়। বরং আমরা সরকারের কাছে অভিনব এই প্রক্রিয়ায় আবরার ফাহাদের জন্য দ্রুত ন্যায় বিচার দাবি করছি।

আবরার স্মরণে ‘এক মুঠো ভাত’
নিহত আবরার ফাহাদ। ফাইল ছবি

আরও পড়ুন:
চকরিয়ায় বাসের ধাক্কায় শিশু নিহত
মাইক্রোবাস উল্টে যুবকের মৃত্যু
রোগী নিয়ে আসার সময় লাশ হলেন ২ স্বজন
আলুবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ৩
সেতুর রেলিং ভেঙে ট্রাক খালে, নিহত ১

শেয়ার করুন

বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা, বললেন না কিছুই

বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা, বললেন না কিছুই

আদালতে জবানবন্দি শেষে বাড়ি ফিরছেন ত্ব-হা। ছবি: নিউজবাংলা

কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশীদ বলেন, আদালতের কাজ শেষে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

নিখোঁজের আট দিন পরে অবশেষে আদালত হয়ে বাড়ি ফিরলেন আলোচিত ইসলাম বিষয়ক বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান এবং তার দুই সঙ্গী।

এসময় তারা সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি।

ত্ব-হার বাকি দুই সঙ্গী হলেন আমির হোসেন ও আব্দুল মুহিত।

রাত সাড়ে ১১টায় রংপুর মহানগর আমলি আদালতের বিচারক কে এম হাফিজুর রহমানের আদালতে জবানবন্দি শেষে আইনজীবী সোলায়মান আহমেদ সিদ্দিকী বাবুর জিম্মায় তারা বাড়ি ফেরেন।

আদালত চত্বরে এসময় তিন পরিবারের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশীদ। তিনি বলেন, আদালতের কাজ শেষে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

আইনজীবী সোলায়মান সিদ্দিকী বাবু বলেন, ‘যেহেতু তারা প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদেরকে কেউ অবরুদ্ধ করেনি এ কারণে বিজ্ঞ আদালত মনে করেন যে, তারা নিজ জিম্মায় বাড়ি যেতে পারবে। পরে আদালত চাইলে অবশ্যই তারা উপস্থিত হতে বাধ্য থাকবেন।’

বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা, বললেন না কিছুই
আদালতে ত্ব-হার জবানবন্দিকে ঘিরে সংবাদকর্মীদের ভিড়

আদালত চত্বরে থাকা ত্ব-হার মা আজেদা বেগম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেয়েছি।’

শুক্রবার বিকেলে ত্ব-হাকে রংপুর মহানগরীর আবহাওয়া অফিস মাস্টার পাড়ার তার প্রথম স্ত্রীর বাসা থেকে বের করে মহানগর পুলিশের ডিবি কার্যালয়ে নেয় পুলিশ। বিকেল ৫টার দিকে প্রেস কনফারেন্স করেন পুলিশের অপরাধ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন।

সেখানে তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ত্ব-হাকে আদালতে নেয়া হবে।

আদালত পরিদর্শক নাজমুল কাদের জানান, ইসলাম বিষয়ক বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান ও তার দুই সঙ্গীকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে আনা হয়। মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক কেএম হাফিজুর রহমানের আদালতে জবানবন্দি দেন তারা।

১০ জুন থেকে চার সহযোগীসহ নিখোঁজ হন ত্ব-হা। কোথা থেকে কীভাবে নিখোঁজ হন, এমন তথ্য দিতে পারছিল না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও।

অনেকে অভিযোগ তুলছিল, সমসাময়িক অন্যান্য ইস্যুতে আন্তরিকতা দেখালেও ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে তেমন কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না সরকার। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন:
চকরিয়ায় বাসের ধাক্কায় শিশু নিহত
মাইক্রোবাস উল্টে যুবকের মৃত্যু
রোগী নিয়ে আসার সময় লাশ হলেন ২ স্বজন
আলুবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ৩
সেতুর রেলিং ভেঙে ট্রাক খালে, নিহত ১

শেয়ার করুন