‘ডিজিটাল বাংলাদেশের সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে বিদ্যুৎ’

ড. আতিউর রহমান

‘ডিজিটাল বাংলাদেশের সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে বিদ্যুৎ’

ড. আতিউর বলেন, বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। তা বাস্তবে রূপ দিতে এবং মহামারিজনিত অর্থনৈতিক স্থিতাবস্থা থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের সাফল্যে বিদ্যুৎ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান।

শনিবার বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিপিএমআই) আয়োজিত ‘পাঁচ দশকে বাংলাদেশ: অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অনন্য অভিযাত্রা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিপিএমআই-এর রেক্টর মাহবুব-উল-আলম এনডিসি এতে সভাপতিত্ব করেন।

মূল নিবন্ধে ড. আতিউর রহমান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর অসামান্য নেতৃত্ব বলে যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে এনেছিলেন। আর তাঁর সুযোগ্য কন্যা আজ সেই যাত্রায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ড. আতিউর বলেন, বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। তা বাস্তবে রূপ দিতে এবং মহামারিজনিত অর্থনৈতিক স্থিতাবস্থা থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। আর পুনরুদ্ধার এবং আরও প্রবৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি যেন সবুজ তথা পরিবেশবান্ধব হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তির বিকাশের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভাগকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গত ১০-১২ বছরে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ও সরবরাহে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। সর্বস্তরে বিদ্যুৎ সুবিধা ছড়িয়ে গেছে। এতে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ, গ্রামাঞ্চলে অ-কৃষি খাতের বিকাশ, সরকারি সেবা ডিজিটাইজেশন, ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসার, শিক্ষা খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোপরি- শিল্পায়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব বলেন, সব মানুষের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দিতে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি প্রদত্ত সেবার মানোন্নয়নের বিষয়েও মনযোগী হতে হবে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইউরোপে নতুন শ্রমবাজার, সার্বিয়ায় গেলেন ৯ কর্মী

ইউরোপে নতুন শ্রমবাজার, সার্বিয়ায় গেলেন ৯ কর্মী

ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় যাচ্ছেন বাংলাদেশের ৯ কর্মী। এবারই প্রথম দেশটিতে যাচ্ছে প্রশিক্ষিত কর্মীরা। ছবি: সংগ্রহীত

সার্বিয়ার একটি কোম্পানির চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে বৈধভাবে প্রথমবারের মতো ৯ কর্মীকে পাঠাল বাংলাদেশ। দুই বছর মেয়াদে এ চাকরিতে খাওয়া, চিকিৎসা ও বাসস্থান সুবিধা পাওয়া যাবে। শিগগিরই দেশটিতে আরও প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় প্রথমবারের মতো কর্মী পাঠাল বাংলাদেশ।

দেশটির একটি কোম্পানির চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে এই প্রথম বৈধভাবে ৯ প্রশিক্ষিত কর্মী গেলেন সার্বিয়ায়।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলম বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার সকালে টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে প্রথমবারের মতো এই কর্মীদের পাঠানো হয় মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান উপদ্বীপের ছোট্ট দেশটিতে।

শিগগিরই দেশটিতে আরও প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১৭টি শর্তে সার্বিয়ায় ভিসা পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেয়া হয়।

সার্বিয়ার বেডেম এনার্জি সলিউশন্স কোম্পানির জন্য ৩২ জন কর্মীর চাহিদাপত্র পায় রিক্রুটিং এজেন্সি লিংক-আপ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।

তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩২ জন কর্মীর চাহিদাপত্রের বিপরীতে ভিসাপ্রাপ্ত ১৩ জন কর্মীর নিয়োগ অনুমতি দেয় মন্ত্রণালয়।

আর এর সঙ্গে স্মার্ট কার্ড ইস্যুসহ ১৭টি শর্ত জুড়ে দেয় মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে অন্যতম প্ৰধান শর্ত হচ্ছে—রিক্রুটিং এজেন্সির একজন প্রতিনিধি তাদের সঙ্গে যাবেন।

সার্বিয়ান এই কোম্পানি ট্রাক ড্রাইভার, এক্সকাভেটর ড্রাইভার, টিম লিডার, সিএনজি কম্প্রেসার মেকানিক, ট্রাক মেকানিক, ট্রাক ওয়াসার, কুক এবং ক্লিনার পদে কর্মীর চাহিদা দেয়। তাদের বেতন ৩০০ থেকে ৫৭০ ইউরো পর্যন্ত।

অন্যান্য সুবিধার মধ্যে আছে খাবার, চিকিৎসা ও বাসস্থান। যাতায়াত কোম্পানি বহন করবে। চাকরির মেয়াদ হবে দুই বছর। যা নবায়নযোগ্য। ৮ কর্মঘণ্টা কাজ করতে হবে।

এ ছাড়া বিমানভাড়া যোগদানের সময় কর্মী বহন করবে এবং অন্যান্য শর্তাবলি সার্বিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।

শেয়ার করুন

বিসিএস ক্যাডার ভেবে বিয়ে, মৃত্যুতে শেষ

বিসিএস ক্যাডার ভেবে বিয়ে, মৃত্যুতে শেষ

সুসময়ের ছবি। স্বামী মামুন মিল্লাতের সঙ্গে নুসরাত জাহান। ছবি: সংগৃহীত

‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মেয়ে নুসরাত ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে মামুন মিল্লাতকে বিয়ে করে। বিয়ের আগে তার নাম ছিল নিবেদিতা রোজারিও। মামুন নিজেকে বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নুসরাতকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু মামুন পুলিশ কর্মকর্তা নয়। সে একটা ফ্রড।’

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টার থেকে নুসরাত জাহান নামের ২৭ বছর বয়সী এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করেও নুসরাতের কোনো সাড়া পাননি। পরে ওই ভবনের সভাপতি শেরেবাংলা নগর থানায় বিষয়টি জানান।

দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে আগারগাঁও থানার পুলিশ আসে। তারা বাসার দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় নুসরাতকে দেখতে পায়।

পুলিশ জানায়, নুসরাত তার স্বামী মামুন মিল্লাতের সঙ্গে আগারগাঁওয়ের সংসদ সচিবালয়ের কোয়ার্টারের একটি বাসায় সাবলেট থাকত। নুসরাত খাগড়াছড়ির সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী বলেও জানা যায়।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মুন্সি ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে নুসরাতের স্বামী পলাতক।

‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মেয়ে নুসরাত ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে মামুন মিল্লাতকে বিয়ে করে। বিয়ের আগে তার নাম ছিল নিবেদিতা রোজারিও। মামুন নিজেকে বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নুসরাতকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু মামুন পুলিশ কর্মকর্তা নয়। সে একটা ফ্রড।’

ওসি আরও বলেন, মামুন ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা জানার পর থেকে তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়।

‘মামুনের প্ররোচনায় নুসরাত আত্মহত্যা করেছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা নুসরাতের আত্মীয়স্বজনদের খবর দিয়েছি।’ তার বাবা অভিযোগ করলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

ওসি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নুসরাতের মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুন

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

প্রতীকী ছবি

দেশের হাইকোর্ট একাধিক রায় দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো নারীর সম্মতিতে তার সঙ্গে কারও যৌন সম্পর্ক হলে সেটিকে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এসব রায়ে আদালত ‘বিয়ের প্রলোভন’ এর অভিযোগকেও নাকচ করেছে।

প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ এর মতো অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হলেও এ ধরনের ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে আইন বিশেষজ্ঞদের।

এমনকি দেশের হাইকোর্টও একাধিক রায় দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো নারীর সম্মতিতে তার সঙ্গে কারও যৌন সম্পর্ক হলে সেটিকে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এসব রায়ে আদালত ‘বিয়ের প্রলোভন’ এর অভিযোগকেও খারিজ করেছে। আইনজীবীরা বলছেন, হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল না হওয়ায় আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে আদেশগুলো কার্যকর রয়েছে।

পাশের দেশ ভারতের উচ্চ আদালতও বলেছে, কোনো নারী স্বেচ্ছায় দীর্ঘদিন ধরে কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনতে পারবেন না।

আরও পড়ুন: ‘বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক সব সময় ধর্ষণ নয়’

এমন প্রেক্ষাপটে আলোচিত এই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে, দেশের উচ্চ আদালত এ বিষয়ে একাধিক রায় দিলেও সেটি তেমনভাবে সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিষয়টি নিয়ে ৩০ বছর আগে ১৯৯১ সালে হাইকোর্ট বিভাগ লুকুছ মিয়া বনাম রাষ্ট্র মামলায় একটি পর্যবেক্ষণ দেয়।

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

বিচারপতি আব্দুল বারী সরকার ও বিচারপতি হাবিবুর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ লুকুছ মিয়ার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ খারিজ করে বলে, ‘এটি অপরাধের মধ্যে পড়ে না। তার কারণ অভিযোগকারী নারী স্বেচ্ছায় যৌন সম্পর্কে অংশ নিয়েছেন। এর ফলে তার একটি সন্তানও হয়েছে। সব কিছু বিবেচনায় লুকুছ মিয়ার আপিল মঞ্জুর এবং অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হলো।’

মৌলভীবাজারের ছিকার আলীর ছেলে লুকুছ মিয়ার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন এক নারী। এ মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত লুকুছকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন লুকুছ মিয়া। ওই আপিল শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তাকে খালাস দেয়।

এছাড়া ২০০৭ সালে মনোয়ার মল্লিক বনাম রাষ্ট্র মামলায় বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রায় দিয়েছিল। এতে বলা হয়, ‘অভিযোগকারী নারী বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে স্বেচ্ছায় যৌন মিলনে সম্মত হয়েছেন। তবে এ কারণে আসামিকে ধর্ষণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।’

আদালত রায়ে আরও বলে, ‘আমরা কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাইনি, যার ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল তাকে (মনোয়ার) সাজা দিতে পারে। তাই ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখা আমাদের জন্য কঠিন।’

এছাড়া, ২০১৬ সালে নাজিম উদ্দিন বনাম রাষ্ট্র মামলায় বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চও একই ধরনের রায় দেয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলে, ‘সার্বিক পরিস্থিতি এবং সাক্ষ্য প্রমাণে এটা প্রমাণিত হয় না যে, এখানে এক পক্ষ দোষী। বরং এ কাজে দুই জনের সমান অংশগ্রহণ রয়েছে। সব কিছু বিবেচনায় দেখা যায়, ধর্ষণের জন্য শুধু পুরুষ সঙ্গীকে দায়ী করা যায় না।’

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

কী আছে আইনে

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনেও প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ এর মতো অভিযোগ মিমাংসা করায় জটিলতা রয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু ইত্যাদির শাস্তি অংশের ৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি [মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে] দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।’

এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত [ষোল বৎসরের] অধিক বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা [ষোল বৎসরের] কম বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।’

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন ২০২০ এও এই ধারাটি রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারার ব্যাখ্যায় প্রাপ্ত বয়স্কের ক্ষেত্রে ‘প্রতারণামূলকভাবে সম্মতি’ আদায়ের বিষয়টিকে ‘ধর্ষণ’ বলে গণ্য করার কথা থাকলেও আদালতে ‘বিয়ের প্রলোভনকে’ প্রতারণা হিসেবে প্রমাণ করা বেশ কঠিন।

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

হাইকোর্টের রায় নিয়ে আইনজীবীদের অভিমত

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাইকোর্ট যদি এ ধরনের রায় দিয়ে থাকে, তাহলে সেটি সবার ক্ষেত্রেই কার্যকর থাকবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা আছে, প্রতারণা করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌন মিলন করলে সেটি ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে দুইজন যদি প্রাপ্তবয়স্ক হয়, সম্মতিতে মিলন হয়, তাহলে সেটি ধর্ষণ হবে না।’

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ নিউজবাংলকে বলেন, ‘আদালত ঠিক রায়ই দিয়েছে। এ ধরনের অভিযোগে মামলা হলে সেটি ধর্ষণের মামলা হওয়া উচিত না।’

তিনি বলেন, ‘আমি আইনজীবী হিসেবে দেখেছি অনেক ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সম্মতিতেই সম্পর্ক হয়ে থাকে। পরে কোনো এক পর্যায়ে দেখে যে সুবিধা হচ্ছে না, তখনই মামলা মোকদ্দমা করা হয়। ধরেন কোনো পুরুষ সম্পর্কে জড়ানোর পরে যদি সে তার পছন্দসই অন্য কাউকে বিয়ে করতে চায়, কিংবা তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, তখনই নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করে দেন। এক্ষেত্রে আমার অভিমত হলো, এখানে ধর্ষণের অভিযোগে নয়, প্রতারণা বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে মামলা হওয়া উচিত।’

এ অভিমতের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তবে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইনে ১৬ বছর উল্লেখ আছে, এ ক্ষেত্রে এটি ১৮ বছর করা উচিত ছিল।’

রাশনা ইমাম বলেন, ‘এমনিতেই ধর্ষণের মামলা অনেকভাবে টেকে না। তার মধ্যে প্রথমত অনেক নারী অভিযোগ দায়ের করতে চান না। দ্বিতীয়ত, থানায় গেলেও দেখা যায় ভিকটিম উল্টো হয়রানি শিকার হন। তৃতীয়ত সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে অনেক সময় আসামি খালাস পেয়ে যায়। এসব বিবেচনায় নিয়ে পুরো আইনটিই সংশোধন ও সময়োপযোগী করা উচিত।’

যা বলেছে ভারতের আদালত

ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট গত বছর একটি মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলে, কোনো নারী স্বেচ্ছায় দীর্ঘদিন ধরে কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনতে পারবেন না।

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খালাস দিয়ে আদালত বলে, ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতিকে কোনোভাবেই দীর্ঘায়িত ও একান্ত যৌন সম্পর্কের প্ররোচনা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে না।’

পর্যবেক্ষণে বিচারপতি বিভু বাখ্রু বলেন, ‘অভিযোগকারী নারী যদি কিছু সময়ের জন্য নিজেকে অভিযুক্তের যৌন কামনার শিকার বলে মনে করেন, সেক্ষেত্রে বিষয়টিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্ররোচিত করার মতো অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।

‘এ ধরনের সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একপক্ষ মানসিকভাবে রাজি না থাকার পরেও অন্য পক্ষের বিয়ের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে যৌন সম্পর্ক তৈরিতে সম্মতি দিতে পারে।’

আদালত বলে, স্বল্প সময়ের এই ‘সম্মতি’র ক্ষেত্রে বিয়ের প্রলোভনের মতো বিষয়টি প্রযোজ্য হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো একটি পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক সম্মতি আদায়ের অভিযোগ তুলতে পারবে এবং ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের মামলা করা যাবে।

“তবে একটি পক্ষ অপরপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক সম্পর্কের মধ্যে থাকলে এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের শারীরিক সম্পর্ক বজায় থাকলে, বিষয়টিকে বিয়ের প্রলোভনের কারণে ‘অনিচ্ছুক শারীরিক সম্পর্ক’ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।”

এর আগে ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে বলেছিল, শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি না রাখার প্রতিটি ঘটনাকেই ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

সবশেষ গত মার্চে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে বলে, একসঙ্গে থাকা নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে পুরুষ পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি না রাখলে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যাবে না। আদালত বলেছে, ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়া ঠিক নয়। এমনকি একজন নারীর ক্ষেত্রেও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে সম্পর্ক ভেঙে দেয়া উচিত নয়। তবে এর মানে এই নয় যে, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যৌনমিলনকে ধর্ষণ হিসেবে অভিহিত করা যাবে।’

শেয়ার করুন

সৌদিগামীদের দেশে কোয়ারেন্টিন চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সৌদিগামীদের দেশে কোয়ারেন্টিন চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সোনারগাঁ হোটেলে সৌদি অ্যারাবিয়া এয়ারলাইনস অফিসের সামনে দেশটিতে গমনেচ্ছু শ্রমিকদের ভিড়- ফাইল ছবি/ নিউজবাংলা

তাই হলে করোনার এই সময়টাতে সৌদি আরবে যেতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের খরচ সাশ্রয় হবে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বাংলাদেশের প্রস্তাবটি বিবেচনার করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সৌদি আরবে যাওয়ার পর দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনের পরিবর্তে শ্রমিকদের দেশেই কোয়েন্টিনে রেখে পাঠাতে চায় বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে আলাপও হয়েছে ঢাকার।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে শনিবার বিষয়টি নিয়ে ফোনালাপ হয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বলেছেন, বাংলাদেশের শ্রমিকরা দেশে কোয়ারেন্টাইন শেষ করে সৌদি গেলে সেদেশের কোয়ারেন্টাইন থেকে অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে।

তাই হলে করোনার এই সময়টাতে সৌদি আরবে যেতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের খরচ সাশ্রয় হবে বলে উল্লেখ করেন মোমেন। বাংলাদেশের প্রস্তাবটি বিবেচনার করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বিদেশি নাগরিকদের সৌদি ভ্রমণে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করে দেশটির সরকার। দেশটিতে ভ্রমণ করতে যাওয়া সব বিদেশি নাগরিককে বাধ্যতামূলকভাবে কোভিড চিকিৎসা সংক্রান্ত ইনস্যুরেন্স করতে হয়। এই ইনস্যুরেন্সের আওতায় হাসপাতাল-ক্লিনিকসহ প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিনের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। সব মিলিয়ে বাড়তি খরচ পড়ে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা।

করোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশি শ্রমিকের সৌদি যাওয়ার অনুমতি দেয়ায় ফোলানাপে দেশের সরকারকে ধন্যবাদ জানান মোমেন।

এ সময় হজ প্রসঙ্গেও কথা হয় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ জানান, এ বছর করোনা মহামারির কারণে অন্য দেশ থেকে কোনো ব্যক্তি সৌদি আরবে গিয়ে হজ পালন করার সুযোগ পাবেন না। তবে সৌদিতে অবস্থানরত সৌদি নাগরিকের পাশাপাশি অন্য দেশের নাগরিকরাও হজ পালনের সুযোগ পাবেন।

রোহিঙ্গা বিষয়টিও তুলে ধরেন আব্দুল মোমেন। তিনি জানান, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সেদেশে নিরাপদ মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনকে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করে। এ বিষয়ে তিনি সৌদি আবরের সহযোগিতা কামনা করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা গ্রহণ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের করবেন বলে জানান।

শেয়ার করুন

ভোটের গুরুত্ব করোনার চেয়ে বেশি: সিইসি

ভোটের গুরুত্ব করোনার চেয়ে বেশি: সিইসি

বরিশাল সার্কিট হাউজে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকে বক্তব্য দেন সিইসি। ছবি: নিউজবাংলা

‘নির্বাচন করলেই করোনা সংক্রমণ বাড়ে, তা সঠিক নয়। রাজশাহীতে এখন নির্বাচন নেই, অথচ করোনা বৃদ্ধি।’

নির্বাচনের গুরুত্ব আলাদা, করোনার চেয়েও বেশি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।

আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে শনিবার সকালে বরিশাল সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত বৈঠকে সিইসি এমন মন্তব্য করেন।

দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন করলেই করোনা সংক্রমণ বাড়ে, তা সঠিক নয়। রাজশাহীতে এখন নির্বাচন নেই, অথচ করোনা বৃদ্ধি।’

দেশ-বিদেশের এমন নানা চিত্র তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, করোনার চেয়েও নির্বাচনের গুরুত্ব বেশি।

জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে দেয়ার প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেন সিইসি। বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের কাছেই থাকা উচিত। কেননা ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির কাজ তারাই করেছে।’

সার্কিট হাউসে ওই বৈঠকে বিভাগীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সেখানে আগামী ২১ জুন হতে যাওয়া ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে মাঠ কর্মকর্তাদের কথা শোনেন সিইসি।

বৈঠকে মাঠ কর্মকর্তাদের অনেকেই নির্বাচন নিয়ে নানা শঙ্কা প্রকাশ করেন। জানান, অভ্যন্তরীণ দলাদলিতে নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা হতে পারে।

এ জন্য প্রতি ইউনিয়নে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দেবার দাবি জানান তারা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে নির্দেশনা দিয়ে সিইসি বলেন, দলমত না দেখে আচরণবিধি ভঙ্গকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বরিশা‌লের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। বি‌শেষ অতি‌থি ছি‌লেন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল, ব‌রিশাল মে‌ট্রোপ‌লিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান, রেঞ্জ ডিআই‌জি এস এম আক্তারুজ্জামান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মেদ খান, বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন।

শেয়ার করুন

৭৫ ভাগ পৌরসভার বেতন ৭০ মাস পর্যন্ত আটকে

৭৫ ভাগ পৌরসভার বেতন ৭০ মাস পর্যন্ত আটকে

সুনামগঞ্জ পৌরসভার পৌর ভবন। ফাইল ছবি

পৌরসভা শ্রমিক-কর্মচারীদের সংগঠনটি জানায়, এখন ১ হাজার ২৬ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকা অবসরকালীন ভাতা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি ৩২৯টি পৌরসভার ১১ হাজার ৬৭৫ জন কর্মচারীর ৮৭৫ কোটি টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে।

দেশের ৭৫ শতাংশ পৌরসভার কর্মীর বেতন-ভাতা দুই থেকে ৭০ মাস পর্যন্ত বকেয়া পড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

পৌরসভা শ্রমিক-কর্মচারীদের সংগঠনটি জানায়, এখন ১ হাজার ২৬ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকা অবসরকালীন ভাতা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি ৩২৯টি পৌরসভার ১১ হাজার ৬৭৫ জন কর্মচারীর ৮৭৫ কোটি টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার সংগঠনটি সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের আট দফা দাবি তুলে ধরে। কর্মীদের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে জেলা প্রশাসক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল সাত্তার বলেন, ‘সংবিধানের ৫১(১) অনুচ্ছেদে পৌরসভাগুলোকে প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের অন্য প্রশাসনিক ইউনিটের কর্মচারীদের সঙ্গে সীমাহীন বৈষম্য থাকার কারণে পৌরসভার কর্মচারীদের দুঃখ-দুর্দশা চরম আকার ধারণ করেছে।

‘সরকারের নির্দেশনা মেনে প্রায় ৩২ হাজার পৌর কর্মচারী রাত-দিন পরিশ্রম করলেও বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।’

৭৫ ভাগ পৌরসভার বেতন ৭০ মাস পর্যন্ত আটকে
বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। ছবি: নিউজবাংলা

সাত্তার বলেন, ‘নতুন মেয়ররা স্বেচ্ছাচারিতা অব্যাহত রেখেছেন। নির্বাচিত হয়েই পুরোনো মাস্টাররোলের কর্মচারীদের ছাঁটাই করে অর্থের বিনিময়ে নতুন কর্মচারী নিয়োগ দিচ্ছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল আলিম মোল্লা বলেন, ‘২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মচারীদের বেতন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও পৌর কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে গত বছরের মতো মাত্র ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

‘জাতীয় বাজেটের পরিমাণ হাজার হাজার কোটি টাকা বাড়লেও পৌর কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি।’

বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের আট দাবি হলো-

১. বেতন-ভাতা যেগুলো বকেয়া ছিল, সেটা জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে ৭৯২ কোটি টাকার ৫০ ভাগ বা ৩৪৬ কোটি টাকা সাহায্যে অর্থ বিভাগে চিঠি দেয়া হয়, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে গত বছরের ১৫ অক্টোবর হাইকোর্ট স্থানীয় সরকার বিভাগকে সংবিধানের ২০ ধারা মোতাবেক বেতন দিতে আদেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি। উচ্চ আদালতের এই আদেশ দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।

২. পৌরসভাগুলো আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় বাজেটে এর কর্মচারীদের বেতন খাত নং ৩৬৩১১০১-এ আর্থিক অনুদান বৃদ্ধি করে ইউনিয়ন পরিষদের মতো সংশোধিত বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করাসহ প্রতিবছর এ বরাদ্দ অব্যাহত রাখতে হবে।

৩. স্থানীয় সরকার বিভাগের গঠিত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন করে বকেয়া বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন ভাতা স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত কমিটির প্রস্তাবিত ৭৯২ কোটি টাকা বেতন খাতে বরাদ্দ করতে হবে।

৪. তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী প্রয়াত জিল্লুর রহমানের ঘোষণা বাস্তবায়ন করে কেন্দ্রীয়ভাবে অবসরকালীন ভাতা দিতে হবে।

৫. পৌরসভার বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে রাজস্ব খাত থেকে দরপত্র আহ্বান বা অন্য ব্যয় যাতে করতে না পারে, সে জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের তদারকি জোরদার করতে হবে।

৬. রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য এ-সংক্রান্ত কমিটিতে জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে কর্মকর্তাদের পদায়ন করতে হবে।

৭. স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক আয়-ব্যয়সংক্রান্ত বিষয়ে সব পৌরসভাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

৮. নিয়োগে দুর্নীতি রোধে সব ধরনের নিয়োগে স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশিষ্টতা বাড়াতে হবে।

শেয়ার করুন

ভার্চুয়াল আদালতে ৪০ দিনে হাজার শিশুর জামিন

ভার্চুয়াল আদালতে ৪০ দিনে হাজার শিশুর জামিন

ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে ৪০ দিনে জামিনে মুক্ত হয়েছে এক হাজার ১৭ শিশু। ফাইল ছবি

ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে ৪০ কার্যদিবসে সারাদেশের সকল অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৫টি জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি করে ৬৩ হাজার ৭৫ জনকে জামিন দিয়েছেন। 

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে দেশে জারি করা কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে ৪০ কার্যদিবসে ভার্চুয়াল আদালত থেকে ১ হাজার ১৭ শিশুকে জামিন দেয়া হয়েছে।

সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান শনিবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিউজবাংলাকে সাইফুর রহমান বলেন, ‘কঠোর বিধিনিষেধের সময় বিগত ৪০ কার্যদিবসে দেশের বিভিন্ন আদালত থেকে ভার্চুয়ালি শুনানি করে ১ হাজার ১৭ শিশুকে জামিন দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থেকে তাদের মুক্তিও দেয়া হয়েছে।’

এ ছাড়া ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে ৪০ কার্যদিবসে সারাদেশের সকল অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৫টি জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি করে ৬৩ হাজার ৭৫ জনকে জামিন দিয়েছেন।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে দেশের সকল আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জরুরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য সীমিত পরিসরে কিছু কোর্ট খোলা রাখা হয়। যেখানে ভার্চুয়ালি শুনানি হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে কোর্ট সংখ্যা বাড়ানো হয়।

করোনার কারণে গত বছরের ২৬ মার্চ প্রথমে আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তার এক মাস পর ২৬ এপ্রিল ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর উদ্যোগ নেন প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রী।

পরে ওই বছরের ৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

এর দুই দিন পর ৯ মে ভার্চুয়াল কোর্ট সম্পর্কিত অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সে বছরের ১০ মে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা প্রসঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ফুল কোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান বিচরপতির সভাপতিত্বে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতিরা অংশ নেন।

ফুলকোর্ট সভায় ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’ এর আওতায় উচ্চ আদালত এবং নিম্ন আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্র্যাকটিস ডাইরেকশন অনুমোদিত হয়। পরে বিজ্ঞপ্তিত জারি করে ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়।

২০২০ সালের শেষের দিকে করোনা সংক্রমণ কমে আসলে ফের নিয়মিত আদালত শুরু হয়। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে আবারও আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে গত ১২ এপ্রিল থেকে ভার্চুয়াল আদালতে বিচার কাজ শুরু হয়।

শেয়ার করুন