আইনের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আইনের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আইনের যে ধারা আছে, সে ধারা অনুযায়ী দেশ চলে। আইন কিন্তু মানুষের জন্য, মানুষকে কষ্ট দেয়ার জন্য নয়।’

মন্ত্রী, এমপি, সাংবাদিক সবাই দেশের উন্নয়নে কাজ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, আইনের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। বিশৃঙ্খলা করে দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।

সদর উপজেলার গড়পাড়ার শুভ্র সেন্টারে শনিবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে কোথাও যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয়। তাহলে সেই সমস্যাকে যথাযথভাবে সমাধান করতে হবে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

‘যে দেশে আইনের শাসন নাই সে দেশ সোমালিয়া হয়ে যায়। ইউরোপ, আমেরিকাতে আইনের শাসন আছে। বাংলাদেশেও আইনের শাসন আছে। আইনের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। তবেই দেশ এগিয়ে যাবে।’

সবার জন্য আইন সমান উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আইনের যে ধারা আছে, সে ধারা অনুযায়ী দেশ চলে। আইন কিন্তু মানুষের জন্য, মানুষকে কষ্ট দেয়ার জন্য নয়।’

অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সুদেব কুমার সাহা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসরাফিল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন সরকারসহ দলীয় নেতাকর্মী ও ইউপি চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকলে অক্সিজেনের অভাব হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চাপের কারণে শহরে গণপরিবহন চালু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সতর্ক না হলে সব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সতর্ক না হলে করোনার তৃতীয় ঢেউ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সব দেশ টিকা না পেলে সংকট মিটবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

১৫০ টাকার তেল ১০০ টাকায়, টিসিবির ট্রাকে ভিড়

১৫০ টাকার তেল ১০০ টাকায়, টিসিবির ট্রাকে ভিড়

টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য নিতে ক্রেতাদের লাইন। সাইফুল ইসলাম ছবিটি তুলেছেন সচিবালয়ের পাশ থেকে

টিসিবির ট্রাক সেলের বিক্রেতা মো. মামুন জানান, ‘কথা কওয়ার সময় নাই ভাই। কয়েক দিন ধইরাই এ স্পটে ট্রাক দাঁড়ায়। আজ মাসের শেষ বেচা। তাই মানুষও বেশি। সবাই তেল চাইতাছে। চিনি, ডাল কম কাস্টটমারই নেয়। তবে কেউ সব মাল নিলে ৪২০ টাকা খরচ হচ্ছে। বাজার থেকে যা প্রায় ১৮০ টাকা কম। তয় লাইন না ধরলে মাল দিমু না।’

বৃহস্পতিবার দুপর ১২টা। বাড্ডা লিংক রোড মোড় পেরিয়ে হাতির ঝিলের দিকে এগুলেই দূর থেকে দেখা যায়, রাস্তার পশ্চিম প্রান্তে মানুষের জটলা। তবে কাছে যেতেই দেখা গেল, শতাধিক নারী-পুরুষ সবাই আলাদা লাইন করে দাঁড়িয়ে আছে টিসিবির ট্রাকের সামনে। ট্রাকের ৪ কর্মী তাদের পণ্য দিতে ব্যস্ত।

কর্মী মো. মানুন জানান, ‘আজ ভিড় বেশি। সবাই তেল চায়। আমরাও যে যেমন চাচ্ছে দিচ্ছি। যতক্ষণ আছে দিব। তেলের সঙ্গে মসুর ডাল ও চিনিও নিচ্ছে কেউ কেউ।’

বাজারে সয়াবিত তেলের প্রতি লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে প্রায় দেড়শ টাকায়। খুচরা দাম ১২৫ টাকার বেশি। টিসিবির ট্রাকে তেল বিক্রি হয় লিটার প্রতি ১০০ টাকা করে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার দর পর্যালোচনার তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এখন খোলা সয়াবিনের দাম ৪৪ শতাংশ, বোতলজাত সয়াবিনে ৪৩ শতাংশ এবং পাম অয়েলের দাম ৬৫ শতাংশ বেশি। এমনকি এক মাসের ব্যবধানেও বিভিন্ন তেলের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ।

আর মসুর ডালের দাম বছরের ব্যবধানে ৩ শতাংশ এবং মাসের ব্যবধানে ১০ শতাংশ বেড়েছে। চিনির দামও গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ শতাংশ বাড়তি।

সংস্থাটির হিসাবে, বৃহস্পতিবার খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১২২ থেকে ১২৬ টাকায়, এক লিটারের বোতাল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, ৫ লিটারের বোতল ৬৬০ থেকে ৭৩০ টাকা এবং পাম অয়েল ১১০ থেকে ১১৮ টাকা বিক্রি হয়েছে। আকার ভেদে প্রতি কেজি মসুর ৭৫ থেকে ১১০ টাকা এবং চিনি ৬৮ থেকে ৭০ টাকা।

টিসিবির ট্রাক সেলের বিক্রেতা মো. মামুন জানান, ‘কথা কওয়ার সময় নাই ভাই। কয়েক দিন ধইরাই এ স্পটে ট্রাক দাঁড়ায়। কিন্তু আজ (বৃহস্পতিবার) মাসের শেষ বেচা। (এ মাসে আর পণ্য বিক্রি করবে না টিসিবি) তাই মানুষও বেশি। সবাই তেল চাইতাছে। চিনি, ডাল কম কাস্টটমারই নেয়। তবে কেউ সব মাল নিলে ৪২০ টাকা খরচ হচ্ছে। বাজার থেকে যা প্রায় ১৮০ টাকা কম। তয় লাইন না ধরলে মাল দিমু না।’

মামুন জানান, তিনি ট্রাকে ৪০০ কেজি করে মসুর ডাল ও চিনি এবং ১০০০ লিটার সয়াবিন তেল পেয়েছেন। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ২ কেজি করে ডাল ও চিনি এবং দুই লিটার সাবিন তেল কিনতে পারছেন। এর মধ্যে তেল ১০০ টাকা লিটার এবং চিনি ও ডাল ৫৫ টাকা প্রতি কেজি।

ট্রাক থেকে চিনি তেল ও ডাল নিয়ে মুখে অনেকটা বিজয়ের হাসি দিয়ে রাজা মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক ঘণ্টা লাগছে। তাতে কী? কয়টা ট্যাকা তো বাঁচছে। মাসের শুরুতে আবার আইলে আবার কিনমু। দুই দিনের কষ্টে মাসের তেল ডালের চিন্তা শেষ। আমি আগে দাঁড়াইছি, সময় কম লাগছে। এখন মানুষ বেশি, সময়ও বেশি লাগতাছে।’

তবে এরই মধ্যে লাইনের বাইরেও ট্রাকের পাশ থেকে মাল নেয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায় অনেককে। কিন্তু এতে লাইন থেকে সবাই চিৎকার করে উঠে। কেউবা আবার নিজের লাইন ঠিক রেখে ট্রাকের পাশ কেউ এলে তাকে সরিয়েও দিচ্ছেন।

লাইনে দাঁড়ানো মধ্য বয়স্ক নারী রহিমা বেগম বলেন, ‘কী করমু বাবা, চাইল-তেলের যে দাম। না কিনতে পারলে, বাঁচতাম। কিন্তু পেট তা বুঝবো না। তাই আধাঘণ্টা দাঁড়ায়া আছি, তেলের লাইগা। আর বেশি সময় লাগবো না। আশপাশ থাইকা মানুষ ঢুকলে সময় বেশি লাগতাছে। আমরা দাঁড়ায়া নিলে তারা পারবো না ক্যান।’

পাশে রিকসা রেখে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধ চালক আরজ মিয়া বলেন, তেলের জন্য লাইন ধরছি, দূরের কাস্টমার পাইলে চলে যামু। না পাইলে দুই লিটার তেল কিনমু। একশ টাকা লাভ হইব, না হয় ভাড়ার টাকা পামু।’

টিসিরি মুখপাত্র হুমায়ুন কবির নিউজবাংলাকে বলেন, এ ট্রাক সেল টিসিবির সারা বছরের কার্যক্রমের অংশ।

‘প্রতি মাসেই একটি নির্দিষ্ট সময় ট্রাকে সেল দেয় টিসিবি। আগামী মাসের ৪-৫ তারিখে নতুন করে পণ্য দেয়া হবে। মাসের শেষ সেল হিসাবে আজ ঢাকায় ট্রাকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সাধারণত প্রতিদিন ৮০টি ট্রাকে পণ্য দেয়া হলেও আজ ঢাকায় ১৩০টি ট্রাক পাঠানো না হয়েছে। যেমন, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা লিংক রোড, মাধ্য বাড্ডা, কুড়িল বিশ্ব রোড, নদ্দায় ট্রাক রয়েছে। যেসব এলাকায় চাহিদা বেশি সেখানে বেশি পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকলে অক্সিজেনের অভাব হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চাপের কারণে শহরে গণপরিবহন চালু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সতর্ক না হলে সব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সতর্ক না হলে করোনার তৃতীয় ঢেউ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সব দেশ টিকা না পেলে সংকট মিটবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

বাইক থেকে পড়ে আহত জাবি ছাত্রী তৃষ্ণার মৃত্যু

বাইক থেকে পড়ে আহত জাবি ছাত্রী তৃষ্ণার মৃত্যু

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী জান্নাতুল তৃষ্ণা। ছব: সংগৃহীত

মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়ায় বন্ধুর বাইকের পেছন থেকে পড়ে গিয়ে আহত হন তৃষ্ণা। ঘটনাস্থল থেকে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার হেলিকপ্টারে ঢাকায় এনে শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির পর থেকে তিনি আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ডাক্তারদের পর্যবেক্ষণে ছিলেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী জান্নাতুল তৃষ্ণা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে লড়াইয়ে তিনি হেরে গেলেন।

রাজধানীর শমরিতা হাসাপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিই) চিকিৎসা চলাকালে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তৃষ্ণার বাবা ফজলুল হক।

তৃষ্ণা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৪৬ তম ব্যাচের (তৃতীয় বর্ষ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

ফজলুল হক জানান, মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়ায় বন্ধুর বাইকের পেছন থেকে পড়ে গিয়ে আহত হন তৃষ্ণা। ঘটনাস্থল থেকে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় এনে শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর থেকে তিনি আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ডাক্তারদের পর্যবেক্ষণে ছিলেন।

সন্ধ্যায় তৃষ্ণার মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসে তার পরিবার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকসহ তৃষ্ণার কয়েকজন সহপাঠী।

এ সময় তৃষ্ণার বাবা ফজলুল হক বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে ও (তৃষ্ণা) জাহাঙ্গীরনগরে ভর্তি হয়েছিল। আজ তার লাশ নিয়ে আসতে হলো ক্যাম্পাসে। দুর্ঘটনায় মেয়েটাকে হারালাম। আর কারও বুক যাতে এভাবে খালি না হয়।’

তিনি জানান, শুক্রবার বাদ জুমা বগুড়া সৈয়দ আহম্মদ কলেজ মাঠে জানাজা শেষে শুখানপুকুর গ্রামের বাড়িতে তৃষ্ণাকে দাফন করা হবে।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহমদ জানান, ‘তৃষ্ণার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তার পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাই।’

আরও পড়ুন:
করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকলে অক্সিজেনের অভাব হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চাপের কারণে শহরে গণপরিবহন চালু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সতর্ক না হলে সব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সতর্ক না হলে করোনার তৃতীয় ঢেউ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সব দেশ টিকা না পেলে সংকট মিটবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মৎস্য খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে হবে

মৎস্য খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে হবে

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে মৎস্য অধিদপ্তর এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এক অনুষ্ঠানে জলবায়ু মোকাবিলায় যৌক্তিক, বাস্তবতাপূর্ণ ও বিজ্ঞানসম্মত প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান। ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গোটা বিশ্বকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছে। সে জায়গা থেকে সমগ্র বিশ্বের প্রয়োজনেই মৎস্য খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।’ জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোন দায় না থাকলেও বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য ছোট ছোট রাষ্ট্র এর কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের মৎস্য খাত যাতে বিপন্ন অবস্থায় না পড়ে সেজন্য যৌক্তিক, বাস্তবতাপূর্ণ ও বিজ্ঞানসম্মত প্রস্তুতি নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে মৎস্য অধিদপ্তর এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাস্তবায়নাধীন ‘কমিউনিটি বেজড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ফিসারিজ অ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের উদ্বোধনী কর্মশালায় মন্ত্রী একথা জানান।

তিনি বলেন, ‘ভৌগলিক অবস্থানের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যসম্পদ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে নানা কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। প্রচলিত ও অপ্রচলিত সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ আহরণ করে খাবারের সমৃদ্ধিসহ বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করার জন্য গভীর সমুদ্রে টুনা মাছ আহরণ প্রকল্পসহ একাধিক প্রকল্প নেয়া হয়েছে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃতির প্রতিকূলতা যাতে আমাদের ধ্বংস করে দিতে না পারে সেজন্য প্রস্তুতি থাকতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমরা ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।’

মৎস্য খাতের সম্প্রসারণ ও গুণগত বিকাশ শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারাবিশ্বের জন্য প্রয়োজন বলে মনে করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গোটা বিশ্বকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছে। সে জায়গা থেকে সমগ্র বিশ্বের প্রয়োজনেই মৎস্য খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।’

জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোন দায় না থাকলেও বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য ছোট ছোট রাষ্ট্র এর কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

এসময় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সব আন্তর্জাতিক সংস্থাকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের সম্প্রসারণ করার জন্য কারিগরি সহযোগিতাসহ অন্যান্য বিষয়ে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান মন্ত্রী।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তৌফিকুল আরিফ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ এবং এফএও-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন।

আরও পড়ুন:
করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকলে অক্সিজেনের অভাব হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চাপের কারণে শহরে গণপরিবহন চালু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সতর্ক না হলে সব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সতর্ক না হলে করোনার তৃতীয় ঢেউ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সব দেশ টিকা না পেলে সংকট মিটবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

রেস্টুরেন্টে ধূমপান এলাকা নিষিদ্ধের দাবি

রেস্টুরেন্টে ধূমপান এলাকা নিষিদ্ধের দাবি

অনেক রেস্তোরাঁ কফিশপে ধূমপানের জন্যে আলাদা জায়গা থাকে। রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি এটি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে।

জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে দেশের রেস্টুরেন্টগুলোতে ‘নির্দিষ্ট ধূমপান এলাকা’ নিষিদ্ধ চান বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

বৃহস্পতিবার ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির ভূমিকা’ র্শীষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি ও ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন মৃধার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি মো. রেজাউল করিম সরকার রবিন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আন্দালিব, কোষাধ্যক্ষ তৌফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি ও কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি নাইমুল হক চৌধুরী, ক্যাম্পেইন ফর টোবাকো ফ্রি কিডস বাংলাদেশের লিড পলিসি এডভাইজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, গ্র্যান্টস ম্যানেজার আবদুস সালাম মিয়া, সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার মো. আতাউর রহমান মাসুদ, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহকারী পরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান প্রমুখ। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়ক মো. শরিফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বক্তারা অভিমত দিয়ে বলেন, রেস্তোরাঁকে পুরোপুরি ধূমপানমুক্ত করলে ধূমপানমুক্ত রেস্তোরাঁয় মহিলা শিশুসহ সবাই স্বস্তিবোধ করে। ফলে গ্রাহক সমাগম বেশি হবে। এ ছাড়া অযথা টেবিল দখলে থাকে না বলে গ্রাহক ফিরে যায় না। রেস্তোরাঁর পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে, বিড়ি সিগারেটের আগুন থেকে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে না, মালিক, ম্যানেজার বা কর্মচারীরাও পরোক্ষ ধূমপানের ধোঁয়া থেকে রক্ষা পাবে। এ জন্য রেস্তোঁরাসমূহে তামাক ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রেস্টুরেন্টগুলোকে পুরোপুরি ধূমপানমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করোর প্রতিশ্রুতি দেন।

ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস বাংলাদেশের লিড পলিসি এডভাইজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যিনি ধূমপান করেন না, তার অধিকার আছে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতির হাত থেকে নিজেকে রক্ষার। অথচ পরোক্ষ ধূমপানে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যাই বেশি। যেহেতু ধূমপানের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, সেজন্য রেস্তোরাঁসহ সব ধরনের পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান নিষিদ্ধ করা উচিত।

আরও পড়ুন:
করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকলে অক্সিজেনের অভাব হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চাপের কারণে শহরে গণপরিবহন চালু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সতর্ক না হলে সব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সতর্ক না হলে করোনার তৃতীয় ঢেউ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সব দেশ টিকা না পেলে সংকট মিটবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ জাতিসংঘের নিরাপত্তা উপদেষ্টা

বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ জাতিসংঘের নিরাপত্তা উপদেষ্টা

পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

এক সহকর্মীর ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য গত মঙ্গলবার পাঠানো অভিনন্দনপত্রে বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘের নিরাপত্তা উপদেষ্টা রমেশ চন্দ্র সিংহ। তিনি বলেছেন, ‘এটা সম্ভব হয়েছে তাদের আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে। সত্যিই এই কাজটা অনেক প্রশংসার দাবি রাখে।’

পুলিশের আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বাহিনীর মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ, তেজগাওঁ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ ও শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মুন্সিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ইউএনডিএসএস) নিরাপত্তা উপদেষ্টা রমেশ চন্দ্র সিংহ।

এক সহকর্মীর ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য গত মঙ্গলবার পাঠানো অভিনন্দনপত্রে বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, ‘এটা সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে। সত্যিই এই কাজটা অনেক প্রশংসার দাবি রাখে।’

অভিনন্দনপত্রের একটি অনুলিপি বৃহস্পতিবার পেয়েছে নিউজবাংলা। অভিনন্দনপত্রে রমেশ চন্দ্র বলেন, ‘জাতিসংঘে আমাদের একজন সহকর্মী প্রতীক রঞ্জন বিশী, যিনি ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনে (আইএলও) কর্মরত। গত ৪ জুন রাত ৯টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার ২৭ নম্বর রোডের একটি ফুটওভার ব্রিজে দস্যুতার শিকার হন তিনি।

‘ডাকাত দল ধারাল অস্ত্রের মুখে তার কাছ থেকে অফিসের কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন, একটি ব্যক্তিগত স্মার্ট ওয়াচ ও একটি স্বর্ণের রিং ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ৫ জুন শেরেবাংলা নগর থানায় অভিযোগ করা হয়।’

শেরেবাংলা থানার ওসি জানে আলম মুন্সি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডাকাতি মামলা হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একটি টিম তদন্তে নামে। নোয়াখালী থেকে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি চাকুও উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের প্রত্যেকেই ডাকাতির কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। ডাকাত দলের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ জাতিসংঘের নিরাপত্তা উপদেষ্টা

অভিনন্দনপত্রে বলা হয়, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার হওয়ার পরপরই শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতীক রঞ্জন বিশীকে অবহিত করে বুঝিয়ে দেয়া হয়।

রমেশ লেখেন, ‘ভারতের পুলিশ বাহিনীতে ২০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ছিনতাই হওয়া জিনিস উদ্ধার করে তা প্রকৃত মালিককে ফেরত দেয়া কতটা কষ্টকর, চ্যালেঞ্জিং ও গর্বের বিষয়- সেটা বাংলাদেশ পুলিশ করে দেখিয়েছে।

‘এটা সম্ভব হয়েছে তাদের আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে। সত্যিই এই কাজটা অনেক প্রশংসার দাবি রাখে। আমি বিশ্বাস করি, পুলিশ ও জনগণের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে এই ধরনের কাজের মাধ্যমে।’

প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মো. শহিদুল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ধরনের অভিনন্দন সবসময়ই আনন্দের। এতে পুলিশের পেশাদারত্বিপূর্ণ কাজে আরও গতি আসে।’

আরও পড়ুন:
করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকলে অক্সিজেনের অভাব হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চাপের কারণে শহরে গণপরিবহন চালু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সতর্ক না হলে সব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সতর্ক না হলে করোনার তৃতীয় ঢেউ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সব দেশ টিকা না পেলে সংকট মিটবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

প্রজেক্ট হিলসা: সাবান নেই বাবুর্চিদের টয়লেটে

প্রজেক্ট হিলসা: সাবান নেই বাবুর্চিদের টয়লেটে

‘রেস্তোরাঁটিতে অতিথিদের টয়লেটে সাবানের ব্যবস্থা থাকলেও বাবুর্চি ও স্টাফদের টয়লেটে কোনো সাবান পাওয়া যায়নি। টয়লেট ব্যবহারের পর বাবুর্চিরা সাবান ব্যবহার করছিলেন না। শুধু পানি দিয়েই হাত পরিষ্কার করছিলেন। বিষয়টা খুবই অস্বাস্থ্যকর।’

মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়াঘাটের কাছে রেস্টুরেন্ট প্রজেক্ট হিলসা। সম্প্রতি যাত্রা শুরু করা ইলিশ মাছের আদলের এই রেস্টুরেন্ট নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। বিশেষ করে ছুটির দিনে লোকজনদের ঢল দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর ডিজাইন ও খাবারের দাম নিয়ে চর্চাও হচ্ছে বেশ।

আলোচিত এই রেস্টুরেন্টটির মান যাচাইয়ে এবার অভিযান চালাল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বুধবার দুপুরে প্রজেক্ট হিলসা অভিযান পরিচালনা করে মুন্সীগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

অভিযানের সময় রেস্টুরেন্টের বাবুর্চিদের ও কর্মচারীদের টয়লেটে কোনো সাবান পাওয়া যায়নি। সেই সঙ্গে মিলেছে অনুমোদনহীন খাদ্যসামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ।

অভিযানটি পরিচালনা করেন মুন্সিগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ। টেলিফোনে তিনি নিউজবাংলাকে জানান, ‘রেস্তোরাঁটিতে অতিথিদের টয়লেটে সাবানের ব্যবস্থা থাকলেও বাবুর্চি ও স্টাফদের টয়লেটে কোনো সাবান পাওয়া যায়নি।

‘এমনকি রেস্টুরেন্টে কাস্টমারদের জন্য বেসিন ও টয়লেটে সাবান রাখা হলেও স্টাফদের বাথরুমে সাবান রাখা হয়নি। আমরা যখন অভিযান পরিচালনা করছিলাম তখন টয়লেট ব্যবহারের পর বাবুর্চিরা সাবান ব্যবহার করছিলেন না। শুধু পানি দিয়েই হাত পরিষ্কার করছিলেন। বিষয়টা খুবই অস্বাস্থ্যকর।’

প্রজেক্ট হিলসা: সাবান নেই বাবুর্চিদের টয়লেটে


তিনি আরও বলেন, কিচেন পরিষ্কার থাকলেও ফ্রিজে কাঁচামাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবারও মজুত রাখা হয়েছিল, যা ঠিক নয়।

সেই সঙ্গে রেস্তোরাঁটিতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর অনুমোদনহীন বিপুল পরিমাণের সস ও নুডলসও পাওয়া গেছে বলে জানান ভোক্তা অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এসব পণ্যের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন লাগবে।

প্রজেক্ট হিলসার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে আসিফ আল আজাদ বলেন, ‘তারা রেস্টুরেন্টটি চালু করেছে বেশি দিন হয়নি। তাই অনেক নিয়ম সম্পর্কে তারা জানেন না। তারা দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে ভুলগুলো শুধরে নিবেন বলে জানিয়েছেন।

‘আমাদের পক্ষ থেকেও তাদেরকে নিয়ম-কানুন জানানো হয়েছে। সেজন্য প্রথমবারের মতো তাদের সতর্ক করা হয়েছে। পরবর্তীতে নিয়ম অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকলে অক্সিজেনের অভাব হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চাপের কারণে শহরে গণপরিবহন চালু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সতর্ক না হলে সব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সতর্ক না হলে করোনার তৃতীয় ঢেউ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সব দেশ টিকা না পেলে সংকট মিটবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

দেশের সবচেয়ে বড় মেধাসম্পদ ছিলেন বঙ্গবন্ধু: শিল্পমন্ত্রী

দেশের সবচেয়ে বড় মেধাসম্পদ ছিলেন বঙ্গবন্ধু: শিল্পমন্ত্রী

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন

বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস ২০২১ উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান প্যাটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস্ অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) আয়োজিত ‘জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে মেধাসম্পদ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু একটা থেকে আরেকটাকে আলাদা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেন ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মেধাসম্পদ।’

বৃহস্পতিবার বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস ২০২১ উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান প্যাটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস্ অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) আয়োজিত ‘জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে মেধাসম্পদ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিপিডিটির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. ওবায়দুর রহমান।

বিষয়ের ওপর আলোচনায় অংশ নেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব লুৎফুন নাহার বেগম, মো. সানোয়ার হোসেন এবং ডিপিডিটির রেজিস্ট্রার মো. আবদুস সাত্তার।

অনুষ্ঠানে প্যাটেন্ট, ডিজাইন, ট্রেডমার্কস্ এবং ভৌগলিক নির্দেশক পণ্যের (জিআই) সনদ প্রদান করা হয়। এবার ‘প্যাটেন্ট’ ক্যাটাগরিতে সনদ পেয়েছেন বিজয় ডিজিটালের মোস্তফা জাব্বার ও হিসাব লিমিটেড।

‘ডিজাইন’ ক্যাটাগরিতে বিডি ফুড লিমিটেড, জিহান প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, আমান প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ‘ট্রেডমার্কস’ ক্যাটাগরিতে মোহনা টেলিভিশন লিমিটেড, এক্সসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম,ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড, গোল্ডেন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল বিডি, প্রাণ আরএফএল গ্রুপ লিমিটেড এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড সনদ পেয়েছে।

এ ছাড়া ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই) হিসেবে ঢাকাই মসলিন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম, রংপুরের শতরঞ্জির জন্য বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসান, রাজশাহী সিল্ক বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক আবদুল হাকিম, বিজয়পুরের সাদা মাটির জন্য নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমান, দিনাজপুরের কাটারীভোগ ও বাংলাদেশ কালিজিরার জন্য বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউশনের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীরকে সনদ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মেধাসম্পদ সংরক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্যাটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস্ অধিদপ্তর এ পর্যন্ত ৬০২১টি প্যাটেন্ট সনদ, ১৮,৪৯৮টি ডিজাইন সনদ এবং ৬২,৬০৯টি ট্রেডমার্কস্ নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্যাটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস্ অধিদপ্তর বাংলাদেশের ইলিশ, জামদানি, ঢাকাই মসলিন, খিরসাপাতি আম, চিনিগুড়া ও কাটারীভোগ চাল, শতরঞ্জি, রাজশাহী সিল্কের ভৌগোলিক পণ্যের নিবন্ধন সনদ প্রদান করেছে।

অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মেধাসম্পদ ছিলেন বঙ্গবন্ধু’ শিল্পমন্ত্রী তার এই মন্তব্যের যথার্থতা তুলে ধরে আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ডিজাইন করেছেন, দিয়েছেন প্যাটেন্ট। তার চেয়ে বড় ডিজাইনার আর কেউ নাই। মূলত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, ডিজাইন ও নির্দেশনার আলোকেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। তার কারণে বাংলাদেশ হলো, একটি জাতি হলো এবং একটি মানচিত্রের জন্ম নিলো। আমরাও ‌আজকের জায়গায় এসে পৌঁছেছি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরাধিকার প্রধানমন্ত্রীর প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে।’

বিশ্ব সৃজনশীলতার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে হলে দেশের সফল গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, শিল্পপতি, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে মেধাসম্পদ সংরক্ষণ এবং এর যথাযথ ব্যবহার এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।

তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য মেধাসম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে- এই উপলব্ধি বঙ্গবন্ধু অনেক আগেই করেছিলেন। দেশে আজকের যেই অর্জন, তার সেই উপলব্ধি থেকেই উৎসারিত হয়েছে। এখন মেধাসম্পদকে সংরক্ষণ ও কাজে লাগাতে হলে এর গুরুত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। গবেষণা বাড়াতে হবে, প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে এবং সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে শিল্পসচিব বলেন, ‘সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমেই কেবল একটি দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব। এ জন্য মেধাসম্পদের যথাযথ ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। আর এ লক্ষ্যে মেধা সম্পদ সংরক্ষণে অগ্রণী প্রতিষ্ঠান প্যাটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস্ অধিদপ্তর তথা শিল্প মন্ত্রণালয় এক সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকলে অক্সিজেনের অভাব হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চাপের কারণে শহরে গণপরিবহন চালু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সতর্ক না হলে সব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সতর্ক না হলে করোনার তৃতীয় ঢেউ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সব দেশ টিকা না পেলে সংকট মিটবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন