রোজিনাকে ঘষেটি বেগমের সঙ্গে তুলনা, আইনজীবীর প্রতিবাদ

রোজিনাকে ঘষেটি বেগমের সঙ্গে তুলনা, আইনজীবীর প্রতিবাদ

আসামিপক্ষের আইনজীবীর যুক্তির বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দীন খান হিরণ রোজিনাকে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার খালা ঘষেটি বেগমের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি আদালতকে বলেন, ‘ঘষেটি বেগমও নারী ছিলেন। কিন্তু ষড়ষন্ত্রকারী রোজিনাও তাই। সেজন্য নারী হওয়ায় তিনি জামিনের বিশেষ সুবিধা পেতে পারেন না।’

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন শুনানি চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাকে ষড়যন্ত্রকারী ঘষেটি বেগমের সঙ্গে তুলনা করেন।

তবে একজন আইনজীবী হিসেবে এমন শব্দ ব্যবহার করা শোভনীয় নয় মন্তব্য করে এর প্রতিবাদ জানান রোজিনার আইনজীবী।

রোজিনা ইসলামের জামিন শুনানি শুরু হয় নির্ধারিত সময়েরও দুই ঘণ্টা পর। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ভার্চু্য়াল শুনানির সময় নির্ধারিত থাকলেও, ইন্টারনেট সংযোগের ত্রুটির কারণে দুপুর ১টায় শুরু হয় শুনানি।

সচিবালয়ে সোমবার এক কর্মকর্তার কক্ষে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ রাখার পর রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানী। মামলায় রোজিনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নথি চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার শুনানি চলাকালে রোজিনার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী জামিনের আবেদনের পক্ষে তার যুক্তি তুলে ধরেন। বলেন, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে কথিত চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

সেই অভিযোগের এজাহারে পেনাল কোডের ৩৭৯ ও ৪১১ ধারা এবং অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ১৯২৩-এর ৩ ও ৫ ধারার কোনো উপাদান নেই।

তিনি বলেন, ৩৭৯ ও ৪১১ ধারা সংযুক্ত করতে হলে অবশ্যই কী কী চুরি হয়েছে তার সুস্পষ্ট বর্ণনা থাকতে হবে। কিন্তু সেই বর্ণনা এজাহারের কোথাও নেই। অর্থাৎ রোজিনা কী ডকুমেন্ট চুরি করেছিলেন সেটার উল্লেখ নেই। সেই সাথে জব্দ তালিকা দেয়া আছে, সেটা পুলিশ রোজিনার কাছ থেকে উদ্ধার করেনি, বরং একজন সরকারি কর্মকর্তা সেগুলো পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেছেন।

‘তাই কথিত চুরি করা ডকুমেন্ট রোজিনার কাছ থেকে উদ্ধার করেছেন কি না কিংবা তিনি আসলেই চুরি করেছেন কি না সে নিয়ে আইনি প্রশ্ন থেকে যায়। তা ছাড়া অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ধারা হলো গুপ্তচরবৃত্তি সংক্রান্ত। রোজিনা গুপ্তচারিতা করছিলেন এজাহারে কোথাও এমনটি উল্লেখ নেই।

‘আর ৫ ধারা হলো রাষ্ট্রীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শত্রুর কাছে হস্তান্তর করতে যোগাযোগ করা। এমন কোনো তথ্যও এজাহারে নাই।’

আইনজীবী সমাজী বলেন, ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের সেকশন ১২ মতে আইনের ৩ ধারা ছাড়া অন্য সব ধারায় অপরাধ জামিনযোগ্য। এই রেফারেন্সে আমরা রোজিনার জামিন চেয়েছি। আমি বিজ্ঞ আদালতকে বলেছি, এই ঘটনায় রোজিনার জামিন পাওয়া তার প্রতি কোনো দয়া নয় বরং তার আইনি অধিকার। সি ডিজার্ভস টু বি রিলিজড অন বেইল।’

সেই সঙ্গে রোজিনার আইনজীবী আদালতকে বলেন, ‘রোজিনা একজন নারী ও শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাই তার জামিন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া হোক। আসামির বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কোভিডের এমন মহামারির সময়ে রোজিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমন ষড়যন্ত্রের মুখে পড়েছেন।’

আসামিপক্ষের আইনজীবীর এই যুক্তির বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দীন খান হিরণ রোজিনাকে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার খালা ঘষেটি বেগমের সঙ্গে তুলনা করেন।

তিনি আদালতকে বলেন, ‘ঘষেটি বেগমও নারী ছিলেন। কিন্তু ষড়ষন্ত্রকারী রোজিনাও তাই। সেজন্য নারী হওয়ায় তিনি জামিনের বিশেষ সুবিধা পেতে পারেন না।’

শুনানি শেষে সাংবাদিকরা আইনজীবী হিরণকে তার মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আসামিপক্ষের আইনজীবীও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে অনেক কটূক্তি করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমিও এই মন্তব্য করেছি।’

অন্যদিকে রোজিনার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজি অভিযোগ করে বলেন, ‘একজন আইনজীবী হিসেবে এই শব্দ ব্যবহার করা শোভনীয় নয়। আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যের পর আমি এমন শব্দ ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়েছি।

‘তিনি আইনের বাইরে গিয়ে তার ব্যক্তিগত অভিমত থেকে এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা তিনি কোনোভাবেই পারেন না।’

আরও পড়ুন:
সাংবাদিক রোজিনার জামিন আদেশ রোববার
রোজিনার জামিনের অপেক্ষায় মন্ত্রণালয়ের কমিটি
দেশের বদনাম হচ্ছে, রোজিনা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রোজিনার জামিন আবেদনে শুনানি শেষ, আদেশ আজই
রোজিনাও ভুল করতে পারেন: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খুলছে না ভারত সীমান্ত

খুলছে না ভারত সীমান্ত

মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, ভারত সীমান্ত খোলা নির্ভর করছে সে দেশের করোনা পরিস্থিতির ওপর। সেখানে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিগগিরই সীমান্ত খোলার সম্ভাবনা নেই। তবে আপাতত তা ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পর্যালোচনার মাধ্যমে তা প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।

করোনাভাইরাসের চলমান পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রাখার মেয়াদ আরও একদফা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশটির সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রাখা হবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে রোববার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, ভারত সীমান্ত খোলা নির্ভর করছে সে দেশের করোনা পরিস্থিতির ওপর। সেখানে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিগগিরই সীমান্ত খোলার সম্ভাবনা নেই। তবে আপাতত তা ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পর্যালোচনার মাধ্যমে তা প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।

ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চরমে পৌঁছালে গত ২৬ এপ্রিল থেকেই দেশটির সঙ্গে সীমান্ত করে সরকার। মাঝে কয়েক দফায় বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ তা ১৪ জুন করা হয়। এবার তা ৩০ জুন পর্যন্ত করা হলো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে আটকে পড়াদের দেশে ফেরার সুযোগও বন্ধ থাকছে। সেখানে করোনার উচ্চ সংক্রমণ, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট চিহ্নিত ও লকডাউন চলার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সীমান্ত যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল অব্যাহত আছে।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিক রোজিনার জামিন আদেশ রোববার
রোজিনার জামিনের অপেক্ষায় মন্ত্রণালয়ের কমিটি
দেশের বদনাম হচ্ছে, রোজিনা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রোজিনার জামিন আবেদনে শুনানি শেষ, আদেশ আজই
রোজিনাও ভুল করতে পারেন: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ভারতীয় গরু ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকাড়ি, হাট নির্দিষ্ট স্থানে

ভারতীয় গরু ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকাড়ি, হাট নির্দিষ্ট স্থানে

সীমান্ত দিয়ে বৈধ বা অবৈধ কোনো পথেই যেন ভারত থেকে গরু না আসে সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আমাদের দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যেন ভারত থেকে বৈধ-অবৈধভাবে পশু না আসে সে জন্য নিজ নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের শক্ত অবস্থানে থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত বন্ধ আছে। সামনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে যাতে ভারতীয় গরু না আসতে পারে সে জন্য কড়াকড়ি আরোপের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত ‘ঈদুল আজহা-২০২১ উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাইকরণ এবং কোরবানির বর্জ্য অপসারণ’ নিয়ে প্রস্তুতি-পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বৈধ-অবৈধ পথে ভারত থেকে যাতে গরু আসতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।’

সেই সঙ্গে ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসবে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া দেশের কোথাও পশুর হাট বসতে দেয়া হবে না।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ভারতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় দেশটি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ায় আমাদের দেশেও কিছু কিছু এলাকায়, বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় এ ভ্যারিয়েন্ট দেখা দিয়েছে। তাই এ বছর সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করেই পশুর হাট বসানো হবে।’

ভারতীয় গরু ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকাড়ি, হাট নির্দিষ্ট স্থানে
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ সুবিধাজনক স্থানে পশুরহাট নির্ধারণ করবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষ পশুর হাট বসানোর জন্য এবং পশু জবাইয়ের যে স্থান নির্ধারণ করবেন শুধু সেখানেই হাট বসবে। এর বাইরে কোরবানির পশুর হাট ও পশু জবাই করতে দেয়া হবে না।’

দেশের ভারতীয় সীমান্ত এলাকাগুলো করোনাভাইরাসের সংক্রমণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে ভারত থেকে দেশে বৈধ-অবৈধ পথে অনেক পশু আসে এবং মানুষ যাতায়াত করে থাকে।

‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আমাদের দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যেন ভারত থেকে বৈধ-অবৈধভাবে পশু না আসে সে জন্য নিজ নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের শক্ত অবস্থানে থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সড়ক-মহাসড়ক এবং রেল লাইনের ওপর কুরবানির পশুর হাট বসানো যাবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ এসব জায়গায় হাট বসানোর ইজারা দেয় না। কিন্তু অবৈধভাবে এসব জায়গায় পশুর হাট বসানো হয়। রাস্তার ওপরে পশুর হাট বসানো অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

‘রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরাসহ সকলের সমন্বিত উদ্যোগ এটি বন্ধ করতে হবে।’

পশু কোরবানির পর দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণে ব্যবস্থা নিতে দেশের সব স্তরের জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় পশুর হাট বসানোর জন্য গত বছর গণমাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ বছরও এটি করা হবে।’

সিটি করপোরেশন ছাড়াও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে সচেতনামূলক প্রচার চালাবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনদুর্ভোগ কমাতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সভায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেরসহ সকল সিটি করপোরেশনের মেয়র, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব, স্বাস্থ্য, তথ্য ও সম্প্রচারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সচিবসহ বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিক রোজিনার জামিন আদেশ রোববার
রোজিনার জামিনের অপেক্ষায় মন্ত্রণালয়ের কমিটি
দেশের বদনাম হচ্ছে, রোজিনা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রোজিনার জামিন আবেদনে শুনানি শেষ, আদেশ আজই
রোজিনাও ভুল করতে পারেন: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

সিলেট-৩: ভোটে থাকছে বিএনপিও

সিলেট-৩: ভোটে থাকছে বিএনপিও

সিলেট-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা বলা হলেও প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি। আর বিএনপির পক্ষ থেকে এই নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

তবে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা বলা হলেও প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শিল্পপতি শফি আহমদ চৌধুরী চিকিৎসার জন্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সহকারী রাজু আহমদ রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্যার এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। প্রার্থী হওয়ার জন্য এরই মধ্যে দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। সোমবার বিকেলে তিনি সিলেটে পৌঁছবেন।’

শফি চৌধুরী ২০০১ সালে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের কাছে পরাজিত হন তিনি।

গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৮ জুলাই আসনটিতে উপনির্বাচন হবে।

হাবিবুর রহমান হাবিবকে শনিবার এই আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। এর আগে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নিজেদের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিককে প্রার্থী মনোনীত করে।

আরও পড়ুন: দুই ডজনকে ডিঙালেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা



সাবেক সংসদ সদস্য শফি চৌধুরীর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় এই আসনে জমজমাট লড়াইয়ের আশা করছেন ভোটাররা।

শফি চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী রাজু আহমদ বলেন, তিনি মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। তার পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র তুলে তা পূরণ করে জমার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শফি চৌধুরীর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণার ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, ‘এমনটি আমিও শুনেছি। তবে নিশ্চিত করে কিছু জানি না। শফি চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’

কামরুল হুদা বলেন, ‘এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না, এটা আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। কেউ এই সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া দলীয় নেতা-কর্মীদেরও বলে দেয়া হবে তার সঙ্গে না থাকার জন্য।’

আরও পড়ুন:
সাংবাদিক রোজিনার জামিন আদেশ রোববার
রোজিনার জামিনের অপেক্ষায় মন্ত্রণালয়ের কমিটি
দেশের বদনাম হচ্ছে, রোজিনা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রোজিনার জামিন আবেদনে শুনানি শেষ, আদেশ আজই
রোজিনাও ভুল করতে পারেন: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানকে পরানো হলো র‍্যাঙ্ক ব্যাজ

বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানকে পরানো হলো র‍্যাঙ্ক ব্যাজ

বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানকে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়। ছবি: পিআইডি

নবনিযুক্ত বিমানবাহিনী প্রধানকে এয়ার মার্শালের র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন সেনাবাহিনীর কোয়াটার মাস্টার জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং নৌবাহিনীর সহকারী প্রধান (অপারেশন) রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আবু আশরাফ।

বিমানবাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধান এয়ার মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানকে র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়েছে।

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে রোববার সকালে শেখ আব্দুল হান্নানকে এয়ার মার্শালের র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়।

নবনিযুক্ত বিমানবাহিনী প্রধানকে এয়ার মার্শালের র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরান সেনাবাহিনীর কোয়াটার মাস্টার জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং নৌবাহিনীর সহকারী প্রধান (অপারেশন) রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আবু আশরাফ।

র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ইমরুল কায়েস জানান, র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনিযুক্ত বিমানবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান ও তার সফলতা কামনা করেন। বিমানবাহিনীর নতুন প্রধানও ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী।

র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরার মধ্য দিয়ে শেখ আব্দুল হান্নান বিমানবাহিনীর বিদায়ী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিক রোজিনার জামিন আদেশ রোববার
রোজিনার জামিনের অপেক্ষায় মন্ত্রণালয়ের কমিটি
দেশের বদনাম হচ্ছে, রোজিনা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রোজিনার জামিন আবেদনে শুনানি শেষ, আদেশ আজই
রোজিনাও ভুল করতে পারেন: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ইউরোপে নতুন শ্রমবাজার, সার্বিয়ায় গেলেন ৯ কর্মী

ইউরোপে নতুন শ্রমবাজার, সার্বিয়ায় গেলেন ৯ কর্মী

ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় যাচ্ছেন বাংলাদেশের ৯ কর্মী। এবারই প্রথম দেশটিতে যাচ্ছে প্রশিক্ষিত কর্মীরা। ছবি: সংগ্রহীত

সার্বিয়ার একটি কোম্পানির চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে বৈধভাবে প্রথমবারের মতো ৯ কর্মীকে পাঠাল বাংলাদেশ। দুই বছর মেয়াদে এ চাকরিতে খাওয়া, চিকিৎসা ও বাসস্থান সুবিধা পাওয়া যাবে। শিগগিরই দেশটিতে আরও প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় প্রথমবারের মতো কর্মী পাঠাল বাংলাদেশ।

দেশটির একটি কোম্পানির চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে এই প্রথম বৈধভাবে ৯ প্রশিক্ষিত কর্মী গেলেন সার্বিয়ায়।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলম বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার সকালে টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে প্রথমবারের মতো এই কর্মীদের পাঠানো হয় মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান উপদ্বীপের ছোট্ট দেশটিতে।

শিগগিরই দেশটিতে আরও প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১৭টি শর্তে সার্বিয়ায় ভিসা পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেয়া হয়।

সার্বিয়ার বেডেম এনার্জি সলিউশন্স কোম্পানির জন্য ৩২ জন কর্মীর চাহিদাপত্র পায় রিক্রুটিং এজেন্সি লিংক-আপ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।

তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩২ জন কর্মীর চাহিদাপত্রের বিপরীতে ভিসাপ্রাপ্ত ১৩ জন কর্মীর নিয়োগ অনুমতি দেয় মন্ত্রণালয়।

আর এর সঙ্গে স্মার্ট কার্ড ইস্যুসহ ১৭টি শর্ত জুড়ে দেয় মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে অন্যতম প্ৰধান শর্ত হচ্ছে—রিক্রুটিং এজেন্সির একজন প্রতিনিধি তাদের সঙ্গে যাবেন।

সার্বিয়ান এই কোম্পানি ট্রাক ড্রাইভার, এক্সকাভেটর ড্রাইভার, টিম লিডার, সিএনজি কম্প্রেসার মেকানিক, ট্রাক মেকানিক, ট্রাক ওয়াসার, কুক এবং ক্লিনার পদে কর্মীর চাহিদা দেয়। তাদের বেতন ৩০০ থেকে ৫৭০ ইউরো পর্যন্ত।

অন্যান্য সুবিধার মধ্যে আছে খাবার, চিকিৎসা ও বাসস্থান। যাতায়াত কোম্পানি বহন করবে। চাকরির মেয়াদ হবে দুই বছর। যা নবায়নযোগ্য। ৮ কর্মঘণ্টা কাজ করতে হবে।

এ ছাড়া বিমানভাড়া যোগদানের সময় কর্মী বহন করবে এবং অন্যান্য শর্তাবলি সার্বিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিক রোজিনার জামিন আদেশ রোববার
রোজিনার জামিনের অপেক্ষায় মন্ত্রণালয়ের কমিটি
দেশের বদনাম হচ্ছে, রোজিনা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রোজিনার জামিন আবেদনে শুনানি শেষ, আদেশ আজই
রোজিনাও ভুল করতে পারেন: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

বিসিএস ক্যাডার ভেবে বিয়ে, মৃত্যুতে শেষ

বিসিএস ক্যাডার ভেবে বিয়ে, মৃত্যুতে শেষ

সুসময়ের ছবি। স্বামী মামুন মিল্লাতের সঙ্গে নুসরাত জাহান। ছবি: সংগৃহীত

‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মেয়ে নুসরাত ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে মামুন মিল্লাতকে বিয়ে করে। বিয়ের আগে তার নাম ছিল নিবেদিতা রোজারিও। মামুন নিজেকে বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নুসরাতকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু মামুন পুলিশ কর্মকর্তা নয়। সে একটা ফ্রড।’

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টার থেকে নুসরাত জাহান নামের ২৭ বছর বয়সী এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করেও নুসরাতের কোনো সাড়া পাননি। পরে ওই ভবনের সভাপতি শেরেবাংলা নগর থানায় বিষয়টি জানান।

দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে আগারগাঁও থানার পুলিশ আসে। তারা বাসার দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় নুসরাতকে দেখতে পায়।

পুলিশ জানায়, নুসরাত তার স্বামী মামুন মিল্লাতের সঙ্গে আগারগাঁওয়ের সংসদ সচিবালয়ের কোয়ার্টারের একটি বাসায় সাবলেট থাকত। নুসরাত খাগড়াছড়ির সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী বলেও জানা যায়।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মুন্সি ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে নুসরাতের স্বামী পলাতক।

‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মেয়ে নুসরাত ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে মামুন মিল্লাতকে বিয়ে করে। বিয়ের আগে তার নাম ছিল নিবেদিতা রোজারিও। মামুন নিজেকে বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নুসরাতকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু মামুন পুলিশ কর্মকর্তা নয়। সে একটা ফ্রড।’

ওসি আরও বলেন, মামুন ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা জানার পর থেকে তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়।

‘মামুনের প্ররোচনায় নুসরাত আত্মহত্যা করেছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা নুসরাতের আত্মীয়স্বজনদের খবর দিয়েছি।’ তার বাবা অভিযোগ করলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

ওসি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নুসরাতের মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিক রোজিনার জামিন আদেশ রোববার
রোজিনার জামিনের অপেক্ষায় মন্ত্রণালয়ের কমিটি
দেশের বদনাম হচ্ছে, রোজিনা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রোজিনার জামিন আবেদনে শুনানি শেষ, আদেশ আজই
রোজিনাও ভুল করতে পারেন: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

প্রতীকী ছবি

দেশের হাইকোর্ট একাধিক রায় দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো নারীর সম্মতিতে তার সঙ্গে কারও যৌন সম্পর্ক হলে সেটিকে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এসব রায়ে আদালত ‘বিয়ের প্রলোভন’ এর অভিযোগকেও নাকচ করেছে।

প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ এর মতো অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হলেও এ ধরনের ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে আইন বিশেষজ্ঞদের।

এমনকি দেশের হাইকোর্টও একাধিক রায় দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো নারীর সম্মতিতে তার সঙ্গে কারও যৌন সম্পর্ক হলে সেটিকে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এসব রায়ে আদালত ‘বিয়ের প্রলোভন’ এর অভিযোগকেও খারিজ করেছে। আইনজীবীরা বলছেন, হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল না হওয়ায় আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে আদেশগুলো কার্যকর রয়েছে।

পাশের দেশ ভারতের উচ্চ আদালতও বলেছে, কোনো নারী স্বেচ্ছায় দীর্ঘদিন ধরে কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনতে পারবেন না।

আরও পড়ুন: ‘বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক সব সময় ধর্ষণ নয়’

এমন প্রেক্ষাপটে আলোচিত এই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে, দেশের উচ্চ আদালত এ বিষয়ে একাধিক রায় দিলেও সেটি তেমনভাবে সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিষয়টি নিয়ে ৩০ বছর আগে ১৯৯১ সালে হাইকোর্ট বিভাগ লুকুছ মিয়া বনাম রাষ্ট্র মামলায় একটি পর্যবেক্ষণ দেয়।

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

বিচারপতি আব্দুল বারী সরকার ও বিচারপতি হাবিবুর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ লুকুছ মিয়ার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ খারিজ করে বলে, ‘এটি অপরাধের মধ্যে পড়ে না। তার কারণ অভিযোগকারী নারী স্বেচ্ছায় যৌন সম্পর্কে অংশ নিয়েছেন। এর ফলে তার একটি সন্তানও হয়েছে। সব কিছু বিবেচনায় লুকুছ মিয়ার আপিল মঞ্জুর এবং অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হলো।’

মৌলভীবাজারের ছিকার আলীর ছেলে লুকুছ মিয়ার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন এক নারী। এ মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত লুকুছকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন লুকুছ মিয়া। ওই আপিল শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তাকে খালাস দেয়।

এছাড়া ২০০৭ সালে মনোয়ার মল্লিক বনাম রাষ্ট্র মামলায় বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রায় দিয়েছিল। এতে বলা হয়, ‘অভিযোগকারী নারী বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে স্বেচ্ছায় যৌন মিলনে সম্মত হয়েছেন। তবে এ কারণে আসামিকে ধর্ষণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।’

আদালত রায়ে আরও বলে, ‘আমরা কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাইনি, যার ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল তাকে (মনোয়ার) সাজা দিতে পারে। তাই ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখা আমাদের জন্য কঠিন।’

এছাড়া, ২০১৬ সালে নাজিম উদ্দিন বনাম রাষ্ট্র মামলায় বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চও একই ধরনের রায় দেয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলে, ‘সার্বিক পরিস্থিতি এবং সাক্ষ্য প্রমাণে এটা প্রমাণিত হয় না যে, এখানে এক পক্ষ দোষী। বরং এ কাজে দুই জনের সমান অংশগ্রহণ রয়েছে। সব কিছু বিবেচনায় দেখা যায়, ধর্ষণের জন্য শুধু পুরুষ সঙ্গীকে দায়ী করা যায় না।’

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

কী আছে আইনে

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনেও প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ এর মতো অভিযোগ মিমাংসা করায় জটিলতা রয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু ইত্যাদির শাস্তি অংশের ৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি [মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে] দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।’

এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত [ষোল বৎসরের] অধিক বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা [ষোল বৎসরের] কম বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।’

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন ২০২০ এও এই ধারাটি রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারার ব্যাখ্যায় প্রাপ্ত বয়স্কের ক্ষেত্রে ‘প্রতারণামূলকভাবে সম্মতি’ আদায়ের বিষয়টিকে ‘ধর্ষণ’ বলে গণ্য করার কথা থাকলেও আদালতে ‘বিয়ের প্রলোভনকে’ প্রতারণা হিসেবে প্রমাণ করা বেশ কঠিন।

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

হাইকোর্টের রায় নিয়ে আইনজীবীদের অভিমত

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাইকোর্ট যদি এ ধরনের রায় দিয়ে থাকে, তাহলে সেটি সবার ক্ষেত্রেই কার্যকর থাকবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা আছে, প্রতারণা করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌন মিলন করলে সেটি ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে দুইজন যদি প্রাপ্তবয়স্ক হয়, সম্মতিতে মিলন হয়, তাহলে সেটি ধর্ষণ হবে না।’

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ নিউজবাংলকে বলেন, ‘আদালত ঠিক রায়ই দিয়েছে। এ ধরনের অভিযোগে মামলা হলে সেটি ধর্ষণের মামলা হওয়া উচিত না।’

তিনি বলেন, ‘আমি আইনজীবী হিসেবে দেখেছি অনেক ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সম্মতিতেই সম্পর্ক হয়ে থাকে। পরে কোনো এক পর্যায়ে দেখে যে সুবিধা হচ্ছে না, তখনই মামলা মোকদ্দমা করা হয়। ধরেন কোনো পুরুষ সম্পর্কে জড়ানোর পরে যদি সে তার পছন্দসই অন্য কাউকে বিয়ে করতে চায়, কিংবা তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, তখনই নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করে দেন। এক্ষেত্রে আমার অভিমত হলো, এখানে ধর্ষণের অভিযোগে নয়, প্রতারণা বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে মামলা হওয়া উচিত।’

এ অভিমতের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তবে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইনে ১৬ বছর উল্লেখ আছে, এ ক্ষেত্রে এটি ১৮ বছর করা উচিত ছিল।’

রাশনা ইমাম বলেন, ‘এমনিতেই ধর্ষণের মামলা অনেকভাবে টেকে না। তার মধ্যে প্রথমত অনেক নারী অভিযোগ দায়ের করতে চান না। দ্বিতীয়ত, থানায় গেলেও দেখা যায় ভিকটিম উল্টো হয়রানি শিকার হন। তৃতীয়ত সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে অনেক সময় আসামি খালাস পেয়ে যায়। এসব বিবেচনায় নিয়ে পুরো আইনটিই সংশোধন ও সময়োপযোগী করা উচিত।’

যা বলেছে ভারতের আদালত

ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট গত বছর একটি মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলে, কোনো নারী স্বেচ্ছায় দীর্ঘদিন ধরে কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনতে পারবেন না।

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খালাস দিয়ে আদালত বলে, ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতিকে কোনোভাবেই দীর্ঘায়িত ও একান্ত যৌন সম্পর্কের প্ররোচনা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে না।’

পর্যবেক্ষণে বিচারপতি বিভু বাখ্রু বলেন, ‘অভিযোগকারী নারী যদি কিছু সময়ের জন্য নিজেকে অভিযুক্তের যৌন কামনার শিকার বলে মনে করেন, সেক্ষেত্রে বিষয়টিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্ররোচিত করার মতো অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।

‘এ ধরনের সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একপক্ষ মানসিকভাবে রাজি না থাকার পরেও অন্য পক্ষের বিয়ের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে যৌন সম্পর্ক তৈরিতে সম্মতি দিতে পারে।’

আদালত বলে, স্বল্প সময়ের এই ‘সম্মতি’র ক্ষেত্রে বিয়ের প্রলোভনের মতো বিষয়টি প্রযোজ্য হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো একটি পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক সম্মতি আদায়ের অভিযোগ তুলতে পারবে এবং ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের মামলা করা যাবে।

“তবে একটি পক্ষ অপরপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক সম্পর্কের মধ্যে থাকলে এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের শারীরিক সম্পর্ক বজায় থাকলে, বিষয়টিকে বিয়ের প্রলোভনের কারণে ‘অনিচ্ছুক শারীরিক সম্পর্ক’ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।”

এর আগে ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে বলেছিল, শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি না রাখার প্রতিটি ঘটনাকেই ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

সবশেষ গত মার্চে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে বলে, একসঙ্গে থাকা নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে পুরুষ পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি না রাখলে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যাবে না। আদালত বলেছে, ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়া ঠিক নয়। এমনকি একজন নারীর ক্ষেত্রেও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে সম্পর্ক ভেঙে দেয়া উচিত নয়। তবে এর মানে এই নয় যে, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যৌনমিলনকে ধর্ষণ হিসেবে অভিহিত করা যাবে।’

আরও পড়ুন:
সাংবাদিক রোজিনার জামিন আদেশ রোববার
রোজিনার জামিনের অপেক্ষায় মন্ত্রণালয়ের কমিটি
দেশের বদনাম হচ্ছে, রোজিনা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রোজিনার জামিন আবেদনে শুনানি শেষ, আদেশ আজই
রোজিনাও ভুল করতে পারেন: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন