× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জাতীয়
আনিসুলের কান্নায় তসলিমার কটাক্ষ
hear-news
player
print-icon

আনিসুলের কান্নায় তসলিমার কটাক্ষ

আনিসুলের-কান্নায়-তসলিমার-কটাক্ষ
আনিসুল হকের কান্নার এই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
আনিসুলের কান্না প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, ‘লেখক আনিসুল হককে হাপুস নয়নে কাঁদতেও দেখা গেল। সহকর্মীর জন্য কেঁদেছেন। এক কাগজে রোজিনা ইসলাম আর আনিসুল হক-দুজনই লেখেন কিনা। আনিসুল হক আর আমিও কিন্তু একসময় এক কাগজে লিখতাম। সাপ্তাহিক পূর্বাভাসে। পত্রিকা অফিসে আমাদের দেখাও হতো, আড্ডাও হতো। আমার ওপর যখন অন্যায়ভাবে অত্যাচার করল সরকার, আমাকে দেশ থেকে তাড়াল, ২৭ বছর আমাকে দেশে ফিরতে দিল না তখন কী করেছিলেন তিনি?’

সরকারি নথি চুরির চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জন্য তার সহকর্মী আনিসুল হকের কান্নায় কটাক্ষ করেছেন তসলিমা নাসরিন। নির্বাসিত এই লেখিকা নিজের জন্যও প্রথম আলোর এ সহযোগী সম্পাদকের কাছ থেকে এমন কান্না প্রত্যাশা করেছেন।

সচিবালয়ে সোমবার এক কর্মকর্তার কক্ষে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ রাখার পর রোজিনার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানী। মামলায় রোজিনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নথি চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

পর দিন তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। মামলায় রোজিনাকে পাঁচ দিনের জন্য রিমান্ডে পেতে আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে এই আবেদন নাকচ করে দেন বিচারক মোহাম্মদ জসীম।

জামিন আবেদন করেছিলেন আসামি পক্ষের আইনজীবী। এই আবেদন আংশিক শুনানি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন রাখেন বিচারক। রোজিনাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় কারাগারে।

রোজিনার জামিন না হওয়ার খবর শুনে আদালত প্রাঙ্গণে বসেই কেঁদে ফেলেন তার সহকর্মী আনিসুল হক। তার কান্নার বেশ কিছু ছবি ও একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ট্রল করছেন অনেকে।

বিষয়টি নজরে এসেছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে আন্দোলনের মুখে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া তসলিমা নাসরিনের।

আনিসুলের কান্নাকে কটাক্ষ করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একটি স্ট্যাটাস দেন তসলিমা। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় দেয়া এই স্ট্যাটাসে রোজিনা ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের একহাত নিয়েছেন তিনি।

তসলিমা লিখেছেন, ‘কে বলেছে বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবাদ করতে জানে না? খুব জানে। এই যে রোজিনা নামের এক সাংবাদিককে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের লোকেরা হেনস্তা করল, এর প্রতিবাদ করতে তো ঝাঁপিয়ে পড়েছে শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, যদু মধু রাম শ্যাম সকলে।’

আনিসুলের কান্না প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, ‘লেখক আনিসুল হককে হাপুস নয়নে কাঁদতেও দেখা গেল। সহকর্মীর জন্য কেঁদেছেন। এক কাগজে রোজিনা ইসলাম আর আনিসুল হক-দুজনই লেখেন কিনা। আনিসুল হক আর আমিও কিন্তু একসময় এক কাগজে লিখতাম। সাপ্তাহিক পূর্বাভাসে। পত্রিকা অফিসে আমাদের দেখাও হতো, আড্ডাও হতো। আমার ওপর যখন অন্যায়ভাবে অত্যাচার করল সরকার, আমাকে দেশ থেকে তাড়াল, ২৭ বছর আমাকে দেশে ফিরতে দিল না তখন কী করেছিলেন তিনি?

‘এমন অবিশ্বাস্য ভয়াবহ অত্যাচারের কথা জেনেও তিনি কিন্তু আমার জন্য চোখের জল ফেলেননি। হয়তো আমার সঙ্গে সেই হৃদ্যতা ছিল না, যে হৃদ্যতা রোজিনার সঙ্গে আছে। কিন্তু আমার নামটিও একবার কোথাও উচ্চারণ করেছেন বলে শুনিনি। শুষ্ক চোখেও তো কোনোদিন কোথাও দায়সারাভাবেও বলেননি যে, একজন লেখকের ওপর সরকার অন্যায় করছে।’

আনিসুলের কান্নায় তসলিমার কটাক্ষ
তসলিমা নাসরিন

আনিসুলের কান্না প্রসঙ্গে তসলিমা আরও বলেন, ‘তাহলে আনিসুল হকের চোখের জলের পেছনে ব্যক্তিগত হৃদ্যতা আছে, মানবতা নেই। মানবতা থাকলে সব অত্যাচারিতের জন্য কাঁদতেন, অথবা নিদেনপক্ষে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন।

‘শুধু আনিসুল হক কেন, বাংলাদেশের কোনো শিল্পী সাহিত্যিক সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী তো প্রশ্ন করেন না, সরকার কেন আমাকে দেশে প্রবেশ করতে দেয় না। প্রতিবাদ যে তারা করতে জানেন না, অথবা করতে ভয় পান এমন তো নয়।’

দেশে ফিরতে কারও সহায়তা না পাওয়া প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, ‘আমাকে কেউ কেউ বলেছেন, “দেশ নষ্ট হয়ে গেছে, ওই দেশে গেলে অত্যাচার করবে, না যাওয়াই ভালো।” ঠিক এভাবে রোজিনাকে কিন্তু কেউ বলেননি, “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নষ্ট হয়ে গেছে, ওখানে গেলে অত্যাচার করবে, না যাওয়াই ভালো।” বরং তারা মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার, এবং অত্যাচারিত না হওয়ার অধিকার দাবি করছেন। প্রতিবাদে কাজও হয়েছে, অন্যায় যারা করেছেন, তাদের বদলি করে দেয়া হয়েছে।’

তসলিমা বলেন, ‘মাঝে মাঝে আমার নিজের কাছেই অবিশ্বাস্য লাগে দেশের একটি ভয়াবহ অন্যায় নিয়ে ২৭ বছর মানুষ কী করে চুপ করে আছে। অথচ ক্ষুদ্র কিছু অন্যায় নিয়ে চিৎকার করে বেশ গলা ফাটায়। আসলে সরকার আমাকে নির্ভাবনায় নির্যাতন করছে, কারণ জানে দেশের বুদ্ধিজীবীরা অন্য যেকোনো নির্যাতন নিয়ে মুখ খুললেও এই নির্যাতনটি নিয়ে মুখ খুলবে না।’

‘বেছে বেছে প্রতিবাদ যারা করে, তাদের ধিক্কার জানাই’-বলেন তসলিমা নাসরিন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
The expellees of Eden Chhatra League are going on hunger strike

আমরণ অনশনে যাচ্ছেন ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতরা

আমরণ অনশনে যাচ্ছেন ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতরা সংবাদ সম্মেলন শেষে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হন ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতরা। ছবি: নিউজবাংলা
ইডেন কলেজ ক্যাম্পাসে সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতরা। সংবাদ সম্মেলন শেষে তারা ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হন।

সংবাদ সম্মেলনের পর আমরণ অনশনে শুরু করছেন ইডেন কলেজে মারামারির ঘটনায় বহিষ্কৃত শাখা ছাত্রলীগের নেতারা।

কলেজ ক্যাম্পাসে সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন তারা।

আমরণ অনশনে যাচ্ছেন ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতরা

সংবাদ সম্মেলন শেষে তারা ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হন।

এর আগে আমরণ অনশনে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন কলেজ ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত ১ নম্বর সহসভাপতি সোনালি আক্তার।

তিনি বলেছিলেন, সোমবার দুপুর থেকে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে অনশন শুরু হবে।

কমিটি স্থগিত

দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে ১৬ জনকে।

রোববার মধ্যরাতে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়াদের মধ্যে ১০ জন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক আর চারজন কর্মী।

তারা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ করে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অপরাধে ১৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর এটির প্রাথমিক প্রমাণও পাওয়া গেছে।

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়া ছাত্রীরা হলেন ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি সোনালি আক্তার, সুস্মিতা বাড়ৈ, জেবুন্নাহার শিলা, কল্পনা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস, আফরোজা রশ্মি, মারজানা ঊর্মি, সানজিদা পারভীন চৌধুরী, এস এম মিলি ও সাদিয়া জাহান সাথী। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা খানম বিন্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখি এবং কর্মী রাফিয়া নীলা, নোশিন শার্মিলী, জান্নাতুল লিমা ও সূচনা আক্তার।

মারধরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ

শনিবার রাতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের এক সহসভাপতিকে মারধর করেন কলেজ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এর প্রতিবাদে রাতেই বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানান ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের ৪৩ সদস্যের কমিটির ২৫ জন। সন্ধ্যায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ। বাকিরা এর প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষে আবারও সংঘর্ষ হয়।

আরও পড়ুন:
সংবাদ সম্মেলনে ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতরা
ইডেন ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত, বহিষ্কার ১৬
ইডেনের সংঘর্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আ. লীগ
ইডেনের ক্যাম্পাসছাড়া রিভা-রাজিয়া
ছাত্র পেটানো তিলোত্তমার নেতৃত্বে কমিটি মানেন না ইডেনের কর্মীরা

মন্তব্য

জাতীয়
Mere age not bailable in consideration of infirmity Appellate Division

শুধু বয়স, অসুস্থতা বিবেচনায় জামিন নয়: আপিল বিভাগ

শুধু বয়স, অসুস্থতা বিবেচনায় জামিন নয়: আপিল বিভাগ সুপ্রিম কোর্ট ভবনের একাংশ। ফাইল ছবি
রায়ে আপিল বিভাগ বলেছে, ‘জামিন দেয়ার বিষয়টি আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা। যখন অপরাধ জামিনযোগ্য হয়, তখন বিচারাধীন আসামির জামিন নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধ অজামিনযোগ্য হলে অসুস্থ ও জরাগ্রস্ত বন্দি, নারী ও শিশুর জামিন বিবেচনা করার সুযোগ আদালতের রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিচারাধীন বা দণ্ডিত আসামির জামিন মঞ্জুরের বিষয়টি পুরোপুরি ভিন্ন। একসঙ্গে মেলানোর সুযোগ নাই।’

অপরাধের গভীরতা বিবেচনা না করে শুধু বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দণ্ডিত অপরাধীকে জামিন দেয়ার সুযোগ নেই বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

রোববার আপিল বিভাগ থেকে প্রকাশিত ‘দুদক বনাম মো. কুতুব উদ্দিন আহমেদ’ মামলার রায়ে এমন মত দিয়েছে আদালত।

আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানসহ তিন বিচারপতির বেঞ্চ পূর্ণাঙ্গ রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি কৃঞ্চা দেবনাথ।

রায়ে আদালত বলেছে, ‘জামিন দেয়ার বিষয়টি আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা। যখন অপরাধ জামিনযোগ্য হয়, তখন বিচারাধীন আসামির জামিন নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধ অজামিনযোগ্য হলে অসুস্থ ও জরাগ্রস্ত বন্দি, নারী ও শিশুর জামিন বিবেচনা করার সুযোগ আদালতের রয়েছে।

‘এ ক্ষেত্রে বিচারাধীন বা দণ্ডিত আসামির জামিন মঞ্জুরের বিষয়টি পুরোপুরি ভিন্ন। একসঙ্গে মেলানোর সুযোগ নাই।’

শ্বশুরসহ কয়েকজন আত্মীয়ের নামে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন আহমেদকে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন তিনি।

ওই আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গত ১৪ জুলাই হাইকোর্ট আসামিকে ৬ মাসের জামিন দেয়। এই জামিন বাতিল চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে দুদক। গত ৩১ আগস্ট হাইকোর্টের জামিন বাতিল করে দেয় আপিল বিভাগ।

জামিন বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ বলেছে, ‘কোনো মামলায় জামিন দেয়া বা না দেওয়া হাইকোর্টের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা, কিন্তু যখন কোনো মামলায় যুক্তির বাইরে গিয়ে হাইকোর্ট জামিনের সিদ্ধান্ত দেয়, তখনই আপিল বিভাগ হস্তক্ষেপ করে। বর্তমান মামলায় আসামির আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত থাকার পরেও শুনানি না করে আসামিকে জামিনে মুক্তির আদেশ দিয়েছে, যা ন্যায়সঙ্গত হয়নি।

‘হাইকোর্টের উচিত ছিল, যেহেতু আসামির আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত, সেহেতু দ্রুত নিষ্পত্তি করা, কিন্তু সেটা না করে বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জামিন দিয়েছে। এ কারষে আমরা মনে করি হাইকোর্টের জামিনের সিদ্ধান্ত ছিল অবিবেচনাপ্রসূত ও ন্যায়ভ্রষ্ট। সে জন্য ওই জামিন আদেশ বাতিল করা হলো।’

আপিল বিভাগের রায়ের পর্যবেক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান।

তিনি বলেন, দণ্ডিত আসামির জামিনের ক্ষেত্রে শুধু বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড প্যানেলে আরও ৯ আইনজীবী
সুপ্রিম কোর্টের ৫০ বছর, থিম লোগো উন্মোচন
ভারতে প্রথম লাইভে সুপ্রিম কোর্টের শুনানি
তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় মামলাজট কমান, সুপ্রিম কোর্টকে রাষ্ট্রপতি
সম্পর্ক ভেঙে গেলে ধর্ষণ মামলা নয়: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট  

মন্তব্য

জাতীয়
Outcasts of Eden Chhatra League at the press conference

সংবাদ সম্মেলনে ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতরা

সংবাদ সম্মেলনে ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতরা ইডেন কলেজ ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতরা। ছবি: নিউজবাংলা
ইডেন কলেজ ক্যাম্পাসে সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতরা। এর আগে আমরণ অনশনে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন কলেজ ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত ১ নম্বর সহসভাপতি সোনালি আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন রাজধানীর ইডেন কলেজে মারামারির ঘটনায় বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের পদধারীরা।

কলেজ ক্যাম্পাসে সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন তারা।

এর আগে আমরণ অনশনে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন কলেজ ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত ১ নম্বর সহসভাপতি সোনালি আক্তার।

তিনি বলেন, সোমবার দুপুর থেকে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে অনশন শুরু হবে।

সোনালি বলেন, ‘আমাদের সহকর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস আপুর ওপর হওয়া হামলার ঘটনায় এতসব ঘটনা। অথচ সেই আপুর ওপর হওয়া হামলার কোনো বিচার না করে আমরা যারা এটির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি, তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।’

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার না হয়ে একপাক্ষিক বিচার হয়েছে। এই একপাক্ষিক বিচারের প্রতিবাদে আমরা একটু পর ধানমন্ডির পার্টি অফিসে গিয়ে আমরণ অনশন করব।’

নিজেদের দাবির বিষয়ে ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত এ নেতা বলেছিলেন, ‘আমাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে ২৫ জন পদধারী নেত্রী, কিন্তু বহিষ্কার করা হয়েছে ১২ জনকে।

‘আমরা তাদের বহিষ্কার চাচ্ছি না। আমরা চাচ্ছি জান্নাতুল ফেরদৌস আপুর ওপর হওয়া হামলার সুষ্ঠু বিচার।’

তিনি আরও বলেন, ‘জান্নাত আপুর ওপর হওয়া হামলার বিচার না করে আমাদের কেন বহিষ্কার করা হলো? আগে তাদের বিচারের আওতায় এনে আমাদের যদি কোনো দোষ থাকে, সেটির ব্যবস্থা নিতে পারত।’

কমিটি স্থগিত

দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে ১৬ জনকে।

রোববার মধ্যরাতে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়াদের মধ্যে ১০ জন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক আর চারজন কর্মী।

তারা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ করে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অপরাধে ১৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর এটির প্রাথমিক প্রমাণও পাওয়া গেছে।

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়া ছাত্রীরা হলেন ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি সোনালি আক্তার, সুস্মিতা বাড়ৈ, জেবুন্নাহার শিলা, কল্পনা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস, আফরোজা রশ্মি, মারজানা ঊর্মি, সানজিদা পারভীন চৌধুরী, এস এম মিলি ও সাদিয়া জাহান সাথী। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা খানম বিন্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখি এবং কর্মী রাফিয়া নীলা, নোশিন শার্মিলী, জান্নাতুল লিমা ও সূচনা আক্তার।

মারধরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ

শনিবার রাতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের এক সহসভাপতিকে মারধর করেন কলেজ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এর প্রতিবাদে রাতেই বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানান ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের ৪৩ সদস্যের কমিটির ২৫ জন। সন্ধ্যায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ। বাকিরা এর প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষে আবারও সংঘর্ষ হয়।

আরও পড়ুন:
বাইডেন দেশের শত্রু: ট্রাম্প
ট্রাম্প সমর্থকরা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: বাইডেন
রিভার তোপে হলছাড়া সেই দুই ছাত্রী
ফের বিতর্কে ছাত্রলীগ নেত্রী রিভা
অডিও ফাঁস: ক্ষমা চাইলেন ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি

মন্তব্য

জাতীয়
Extortion of crores of rupees a year from waste disposal

ময়লার ভাগাড় থেকে বছরে কোটি টাকার চাঁদাবাজি

ময়লার ভাগাড় থেকে বছরে কোটি টাকার চাঁদাবাজি সাভারে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের চক্রবর্তী, শ্রীপুর, বাইপাইল, পলাশবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে মূলত বাসাবাড়ির উচ্ছিষ্ট ময়লা দিন-রাত ছোট ছোট গাড়িতে করে এনে ফেলা হচ্ছে।
ছোট গাড়িতে করে ময়লাকর্মীরা বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহ করে সড়কের পাশে এসব ভাগাড়ে ফেলেন। এ জন্য তাদের গাড়িপ্রতি দিতে হয় চাঁদা। ময়লার এসব ভাগাড় নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

মহাসড়ক কিংবা সড়কের যত্রতত্র ময়লার ভাগাড়। উটকো গন্ধে নাজেহাল পথচারী। রাজধানী ঢাকার কাছে সাভারের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়ের দুর্ভোগ এখানকার নাগরিকদের এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। উটকো পচা গন্ধে নাভিশ্বাস উঠলেও অভিযোগ জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন তারা।

কেন বছরের পর বছর ধরে সড়কের পাশে ময়লা ফেলা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না– এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নিউজবাংলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সাভারে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের চক্রবর্তী, শ্রীপুর, বাইপাইল, পলাশবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে মূলত বাসাবাড়ির উচ্ছিষ্ট ময়লা দিন-রাত ছোট ছোট গাড়িতে করে এনে ফেলা হচ্ছে। মহল্লাভিত্তিক বাসাবাড়ি থেকে যারা ময়লা সংগ্রহ করেন, তারা বাসাপ্রতি ১০০ টাকা নিয়ে থাকেন। ছোট গাড়িতে করে তারা বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহ করে সড়কের পাশে এসব ভাগাড়ে ফেলেন। এ জন্য তাদের গাড়িপ্রতি গুনতে হয় চাঁদা। ময়লার এসব ভাগাড় নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় শাহরিয়ার গার্মেন্টস নামক একটি পোশাক কারখানার বিপরীতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পাশে রয়েছে এ রকম একটি ময়লার ভাগাড়। এখানে ময়লা ফেলতে গাড়িপ্রতি ৫০০ টাকা চাঁদা আদায় করে একটি চক্র। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫টি গাড়ি এখানে ময়লা ফেলে। সে হিসাবে মাসে এই একটি স্পট থেকে প্রায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা চলে যায় চাঁদাবাজদের পকেটে। বছরে সেই অঙ্কটা প্রায় ১ কোটি টাকা।

ময়লার ভাগাড় থেকে বছরে কোটি টাকার চাঁদাবাজি

এ ছাড়া চক্রবর্তী, শ্রীপুর ও পলাশবাড়ীতে ময়লার স্পটগুলো থেকেও চাঁদাবাজির কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ময়লা ব্যবসায়ীরা। আর হকার্স লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সংশ্লিষ্টতার তথ্যও দিয়েছেন তারা।

বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহকারী মো. বাবুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পাবলিকের কাছ থাইকে আমরা আগে নিছি ৬০ ট্যাকা রুমপ্রতি। এখন সব জিনিসের দাম বাড়ার কারণে ১০০ ট্যাকা কইরা নেই। ওহানে মাল ফালাইলে হ্যাগো কিছু ট্যাকা দেয়া লাগে। তিন গাড়ি মাল ফালাইলে ৫০০ ট্যাকা কইরা গাড়িপ্রতি মোট ১৫০০ ট্যাকা দেয়া লাগে। ওরা গাড়িপ্রতি ৫০০ ট্যাকা নেয় জুয়েল আর ওবায়দুল।’

এখন ময়লা ফেলানো বন্ধ আছে কি না- এমন প্রশ্নে বলেন, ‘না না, বন্ধ নাই। কোনো ঝামেলা নাই। ভোর ৬টা থাইকা শুরু কইরে মনে করেন সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মাল পড়ে। যত গাড়ি আপনে পারেন। ৪০ থেকে ৪৫টি গাড়ির ময়লা পড়ে।’

অভিযুক্ত আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. ওবায়দুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি ভাই আমারে দেহেন, আমারে পান, তহন আমারে ধইরা নিয়া যাইয়েন। আমার এলাকায় আমি ময়লার ব্যবসা করি। আমার একটা গাড়ি আছে। ওখানে বাধা দেয়ার পর আমার গাড়িগুলার ময়লা চক্রবর্তীতে পড়ে। আমি এটার মধ্যে জড়িত না ভাই। যারা নেয়, তাদের নামে নিউজ করেন। আমার কাছে আগে শরীফ নামের একজন নিত। আমি আগে মাসে ১১ হাজার ট্যাকা দিয়া ফালাইতাম। হকার্স লীগের ওই শরিফরে দিতাম। ঢাকা জেলা হকার্স লীগের আহ্বায়ক। ভাই, সত্য কথা, আমি আগে ফালাইতাম। এখন আর ফালাই না ভাই।’

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন এমন প্রশ্নে বলেন, ‘জানি না। হয়তো যারা গাড়ির ময়লা ফালায়, আমার নাম দেয়। বিভিন্ন এলাকার আছে। আমার অবস্থান ভালো তো, হয়তো বা আমার নাম দিয়া বাঁইচা যায় আরকি। আমি আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির সহসভাপতি ছিলাম।’

ময়লার ভাগাড় থেকে বছরে কোটি টাকার চাঁদাবাজি

মো. জুয়েল নামে আরেক অভিযুক্তের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে ঢাকা জেলা হকার্স লীগের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম সবুজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এটার সঙ্গে জড়িত না। আমি এটার বিপক্ষে। আমি ওখানে শাহরিয়ার গার্মেন্টসের সিকিউরিটি গার্ডকে বইলা রাখছি, একটা গাড়ি এখানে যদি ফেলতে দেখ, আমারে ফোন দিবা, আমি আসুম।’

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওবায়দুল আপনাকে টাকা দিয়ে এখানে ময়লা ফেলেছে- এমন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘না না, ওবায়দুল নামের কাউকে চিনি না তো। যদি আমার নাম কেউ বলে থাকে, আমাকে ফোন দিবেন।’

মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নয়ারহাট শাখার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাখার প্রকৌশলী আরাফাত সাকলায়েন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি পুরোটা পরিষ্কার করেছি। পরিষ্কার করে ময়লাগুলো ঠেলে দিয়ে একটা ব্যানার দিছি বড়। আমাকে এলাকার লোকজন ফোন দিছিল। পাশাপাশি আমি জিডির কাগজ পৌঁছাইছি পুলিশের কাছে। পুলিশ এখনও জিডি করে নাই। ওনারা নাকি এখন সরেজমিনে পরিদর্শন করে জিডি করে। আমি লোক পাঠায় জিডিটা এনসিওর করাব।’

টাকার বিনিময়ে ওখানে ময়লা ফেলানো হচ্ছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা ওই জায়গায় একটি বড় ড্রেন করি বাস যেন দাঁড়াতে পারে- এ রকম একটা কিছু করতে চাচ্ছি। যেহেতু জায়গাটা আমাদের হাত থেকে ছুটেই যাচ্ছে। ওরা বারবার ময়লা ফালাচ্ছে, এই করতেছে, সেই করতেছে। একটা পার্মানেন্ট সলুশন চাচ্ছি আরকি।’

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেক দিন আগে ওই স্থানটি বেদখল হয়ে যাচ্ছে বলে আমাদের অবগত করা হয়েছিল। তবে জিডি বা অভিযোগ দায়ের হয়নি। নতুন করে ময়লার ভাগাড় থেকে চাঁদা উত্তোলনের বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে পিটুনি
বরিশালের অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মারধর-চাঁদাবাজির অভিযোগ
মেয়রের মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রলীগের ২ নেতা
মাঝিরঘাটে চাঁদাবাজির মামলায় সেই শহীদ চেংগা গ্রেপ্তার

মন্তব্য

জাতীয়
Boat capsizing in Panchgarh Death toll rises to 30

পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩২

পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩২ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের উদ্ধার কার্যক্রম। ছবি: নিউজবাংলা
বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। যার বেশির ভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনা শেষে ফিরছিলেন।

পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় এক শিশুসহ আরও সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩২ জনে।

সোমবার সকালে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আত্রাই নদীর জিয়া সেতুর নিচ থেকে একজনের, বীরগঞ্জ অংশে কাশিমনগর বাদলারঘাটে এক শিশুসহ দুজনের, বোদা ও দেবীগঞ্জে দুজন করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তাৎক্ষণিক উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজয় কুমার রায়, খানসামা থানার ওসি চিত্তরঞ্জন, বীরগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার ও দেবীগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার সোহেল রানা নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক সৈয়দ মাহাবুবুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৫টায় দ্বিতীয় দিনের মতো নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রংপুর, কুড়িগ্রাম ও রাজশাহী থেকে ডুবুরিদল এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস।

‘ঘটনাস্থল করতোয়ার আউলিয়ার ঘাট থেকে ৩০ কিলোমিটার ভাটির দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা টহল দিচ্ছেন, নজর রাখছেন।’

মাড়েয়া ইউপি সচিব কামরুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, নদীর বিভিন্ন অংশে মরদেহ ভেসে উঠছে। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদে এনে রাখছে। সেখান থেকে মরদেহ স্বজনদের কাছে স্থানান্তর করা হবে।

বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। যার বেশির ভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনা শেষে ফিরছিলেন।

এ ঘটনায় রোববার রাত ৮টা পর্যন্ত ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সব মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সৎকারের জন্য পরিবারগুলোকে ২০ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে।

এই প্রাণহানির জন্য অতিরিক্ত যাত্রী বহনকে দায়ী করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

তিনি বলেন, ‘নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। ঘটনাস্থলে মারওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পুলিশ ছিল। তারা সবাই ওই নৌকায় এত লোক উঠতে নিষেধ করেছিলেন।

‘গতকাল বৃষ্টি হওয়ার কারণে নদীতে পানি বেশি ছিল, স্রোতও বেশি ছিল। নিষেধ করতে করতে সবাই উঠে যায়। যেহেতু ধর্মীয় বিষয় সবাই উঠতে চাইছিলেন। এরপর মাঝনদীতে গিয়ে ডুবে যায় নৌকাটি।’

এদিকে এই দুর্ঘটনা তদন্তে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথৈ আদিত্যকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবি, ৩ জন নিখোঁজ
নৌকাডুবির ৩ দিন পর মিলল শিশুর মরদেহ
গড়াই নদীতে নৌকাডুবি: নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে ডুবুরিদল
নৌকা ডুবে যাওয়ায় স্থগিত বাইচ
গ্রিসে নৌকা ডুবে নিখোঁজ ৫০

মন্তব্য

জাতীয়
1 killed in Hazaribagh chemical explosion

হাজারীবাগে কেমিক্যাল বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু

হাজারীবাগে কেমিক্যাল বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু কেমিক্যাল বিস্ফোরণের পর দুর্ঘটনাস্থল। ছবি: নিউজবাংলা
ওসি বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছি। এখনো কর্তৃপক্ষের কাউকে পাইনি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের সাক্ষাৎ পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। তাদের খুঁজছি আমরা। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

রাজধানীর হাজারীবাগে কেমিক্যাল বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার রাত সোয়া ১২টার দিকে মেট্রো এক্সপ্রেস কুরিয়ার অ্যান্ড পার্সেল সার্ভিসে কেমিক্যাল আনলোডের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এই বিস্ফোরণে আরও তিন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলেই মারা যাওয়া ৩৮ বছর বয়সী ব্যক্তির নাম মো. ইলিয়াস। আহতরা হলেন ২৮ বছর বয়সী হালিম, ৩৬ বছর বয়সী মার্সেল ও ৪০ বছর বয়সী আশিক।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোক্তারুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছি। এখনো কর্তৃপক্ষের কাউকে পাইনি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের সাক্ষাৎ পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। তাদের খুঁজছি আমরা। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

আহত শ্রমিকদের সহকর্মী মোহাম্মদ সালাম মিয়া জানান, আহতদের গ্রামের বাড়ি রাজশাহী জেলায়। তারা এখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কর্তব্যরত চিকিৎসক (ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার) জানান, হাজারীবাগ এলাকা থেকে দগ্ধ হয়ে তিনজন এসেছেন। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের চিকিৎসা চলছে।

আরও পড়ুন:
কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হাজতির ঢামেকে মৃত্যু
বাড়ির পাশে পুকুরে ভাসছিল ২ শিশুর মরদেহ
এক মেয়ের দেহ তুলতে গিয়ে পেলেন আরেক মেয়েকে
ব্যবসায়ী হত্যা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামির সাজা কমে যাবজ্জীবন

মন্তব্য

জাতীয়
The husband was hanging the body of his wife on the bed

খাটে স্ত্রীর মরদেহ, ফ্যানে ঝুলছিলেন স্বামী

খাটে স্ত্রীর মরদেহ, ফ্যানে ঝুলছিলেন স্বামী প্রতীকী ছবি
পুলিশ জানায়, তারা স্বামী-স্ত্রী সাবলেট থাকতেন। দরজায় অনেকবার নক করেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে বাড়ির কেয়ারটেকারের উপস্থিতিতে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯-এ ফোন করে পাশের কক্ষের পরিবার। সেই ফোনেই ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

দিনে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া শুনেছেন পাশের কক্ষে সাবলেটে থাকা পরিবার। আর রাতেই একই কক্ষ থেকে উদ্ধার হলো তাদের মরদেহ।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে এই দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, স্ত্রীকে মেরে স্বামী আত্মহত্যা করেছেন।

নিহতরা হলেন মো. নোমান ও ও তার স্ত্রী শামীমা। তাদের গ্রামের বাড়ি ভোলার লালমোহন এলাকায়।

রোববার রাত ১১টার দিকে বাসার কক্ষের দরজা ভেঙে নোমানকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকা অবস্থায় এবং শামিমাকে বিছানার ওপর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, তারা স্বামী-স্ত্রী সাবলেটে থাকতেন। দরজায় অনেকবার নক করেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে বাড়ির কেয়ারটেকারের উপস্থিতিতে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯-এ ফোন করে পাশের কক্ষের পরিবার। সেই ফোনেই ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মুজিব পাটোয়ারী।

তিনি বলেন, ‘নোমান সৌদি আরবে থাকেন। এই মাসের ৯ তারিখে দেশে এসেছেন। পরে বউ নিয়ে ঢাকায় এসে এই বাসায় সাবলেটে ভাড়া থাকেন। আজকে দিনে তারা অনেক ঝগড়াঝাটি করে কোনো একসময়ে স্ত্রীকে মেরে ফেলেছে নোমান। পরে নিজে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলেছেন।’

স্ত্রীকে কীভাবে মারা হয়েছে জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘স্ত্রীর মুখে রক্ত ও আঘাতের দাগ আছে। ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিনও আলামত সংগ্রহ করছে। ‍কাজ শেষ হলে এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

আরও পড়ুন:
নারী চিকিৎসক হত্যা: রেজাউলের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন পিছিয়েছে
বাসার নিচে গৃহকর্মীর রক্তাক্ত দেহ, হাসপাতালে মৃত্যু
বাইরে তালা, ঘরে দম্পতির হাত-মুখ বাঁধা মরদেহ
কিশোরীকে ‘খুন’ করে নিখোঁজ মামলা, পরে ধরা  

মন্তব্য

p
উপরে