সৌদি আরবের কঠিন শর্তের বেড়াজালে বিমান

সৌদি আরবের কঠিন শর্তের বেড়াজালে বিমান

সৌদি সরকারের নতুন শর্ত অনুযায়ী, দেশটিতে ভ্রমণ করতে যাওয়া সব বিদেশি নাগরিকের জন্য কোভিড চিকিৎসা সংক্রান্ত ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই ইন্স্যুরেন্সের আওতায় হাসপাতাল-ক্লিনিকসহ প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিনের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে বিদেশি নাগরিকদের জন্য কঠিন শর্ত আরোপ করায় সৌদি আরবের তিনটি গন্তব্যে আপাতত ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এতে বিপাকে পড়েছেন দেশটিতে যেতে চাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা।

বিমানের রুট পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটির তিনটি গন্তব্যে বর্তমানে ফ্লাইট পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। গন্তব্যগুলো হলো রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দা। এই তিন গন্তব্যে সপ্তাহে ১৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান।

এর বাহিরেও মক্কা ও মদিনাতেও রয়েছে বিমানের ফ্লাইট। তবে কোভিড পরিস্থিতিতে আপাতত এ দুই গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে না।

করোনা সংক্রমণ রুখতে সম্প্রতি নানা শর্ত আরোপ করেছে সৌদি আরব সরকার।

দেশটিতে ভ্রমণ করতে যাওয়া সব বিদেশি নাগরিকের জন্য কোভিড চিকিৎসা সংক্রান্ত ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই ইন্স্যুরেন্সের আওতায় হাসপাতাল-ক্লিনিকসহ প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিনের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের মাধ্যমে। দেশটিতে যেতে চাওয়া যাত্রীদের ভ্রমণের প্রথম ও সপ্তম দিন পিসিআর টেস্টের ব্যবস্থাও এয়ারলাইনসকে করতে হবে বলে শর্ত দেয়া হয়েছে।

ফ্লাইটের যাত্রীদের তালিকাও এয়ারলাইনসকে যাত্রার চার দিন আগে দেশটির কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে হবে বলে শর্ত দিয়েছে সৌদি আরব।

এসব শর্ত কার্যকর হচ্ছে বৃহস্পতিবার থেকে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সৌদি সরকার আমাদের যে শর্তগুলো দিয়েছেন সেগুলো আমাদের স্টেশনগুলোতে জানিয়ে দিয়েছি। এখন সেখানে আমাদের কর্মকর্তারা চেষ্টা করছেন হোটেল ব্যবস্থাপনা করতে।

‘আমরা চেষ্টা করছি কত কম খরচে এই হোটেলগুলো আমরা পেতে পারি। এগুলো করতে কিছুটা সময় লাগছে। এর বাইরেও ফ্লাইট শুরুর চার দিন আগে যাত্রী তালিকা দেয়ার একটি শর্ত রয়েছে। সেটির কারণেও ফ্লাইটে সমস্যা হচ্ছে।’

এদিকে বুধবার মধ্যরাতে বিমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ মে পর্যন্ত সৌদি আরবে ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।

দেশের প্রবাসী আয়ের সবচেয়ে বড় বাজার সৌদি আরব। দেশটির বিভিন্ন শহরে অন্তত ২০ লাখ প্রবাসী বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। এর বাইরেও হজ ও ওমরাহ করতে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশি দেশটিতে গিয়ে থাকেন।

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ রুখতে এর আগে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছিল সৌদি আরব। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। ফ্লাইট না থাকায় ছুটিতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশকে অনিশ্চয়তায় পড়তে হয়। পরে অবশ্য সরকারের মধ্যস্থতায় সমস্যার সমাধান হয়।

বিমান ছাড়াও সৌদি আরবের জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস ও নাস এয়ার ঢাকা থেকে দেশটির বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে।

আরও পড়ুন:
ডাকের চালানে ইয়াবা, আটক ৪
পরিত্যক্ত বিমানবন্দর সচল চায় এয়ারলাইনসগুলো
ঈদে বাড়তি ফ্লাইট চায় দেশি এয়ারলাইন্স
১২টি ছাড়া সব দেশে ফ্লাইট চালু
লকডাউনে উড়বে আরও বিমান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সুদিন ফিরেছে পাটচাষির

সুদিন ফিরেছে পাটচাষির

পাটের আবাদ ও উৎপাদন ভালো হওয়ায় হাসি ফুটেছে চাষির মুখে। ছবি: নিউজবাংলা

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে জেলায় ২৬ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৬২ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন। এ বছর পাটের আবাদ হয়েছে ২৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর এলাকার কৃষক নুরুল ইসলাম চৌকিদার। এবার ৫৬ শতাংশ জমিতে তিনি পাটের আবাদ করে করেছিলেন। ফলন হয় ১৫ মণ ২০ কেজি। এর জন্য নুরুলকে গুনতে হয়েছিল ১৫ হাজার টাকা।

গত সোমবার নড়িয়ার ভোজেশ্বর বাজারে মণপ্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকায় পাট বিক্রি করেন নুরুল। উৎপাদন খরচ ১৫ হাজার টাকা বাদ দিয়ে তার লাভ হয় ৩৯ হাজার ২৫০ টাকা।

নুরুল ইসলামের মতো এবার পাটের আবাদ করে লাভের মুখ দেখেছেন অনেক কৃষক।

কৃষক নুরুল জানান, গত বছর প্রতি শতাংশ জমিতে পাট উৎপাদন হয়েছিল ৯ কেজি। এবার তা বেড়ে হয়েছে ১১ কেজি। এ ছাড়া ২০২০ সালে প্রতি মণ পাট বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে। এবার ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে।

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে জেলায় ২৬ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৬২ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন। এ বছর পাটের আবাদ হয়েছে ২৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন।

শরীয়তপুরে পাট বেচাকেনার সবচেয়ে বড় হাট নড়িয়ার ভোজেশ্বর। সোমবার হাটে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর ও খুলনার বিভিন্ন বেসরকারি পাটকলের পাইকাররা পাট কিনছেন।

বাজারে তোষা জাতের পাট প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। মেছতা জাতের বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার টাকায়। আর সাদা পাট ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভোজেশ্বরের পাট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম বেশি। সামনে কী হবে বুঝতেছি না। এ জন্য এখনই পাট কিনে মজুত করছি না। মিলের চাহিদা অনুযায়ী কিনে সরবরাহ করছি।’

নড়িয়ার রাজনগর এলাকার কৃষক আব্বাস শেখ বলেন, ‘উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে পাট বিক্রি করে দিতে হয়। এ বছর মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পেয়ে পাট বিক্রি করেছি। আমার দুই বিঘা জমিতে খরচ বাদ দিয়ে ৪৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।’

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক গোলাম রসুল বলেন, ‘গত বছর এ অঞ্চলে বন্যা হয়েছিল। যার ফলে কৃষিজমিতে পলি জমেছিল। এ জন্য উৎপাদন এবার বেশি হয়েছে। আর পাটের নানাবিধ চাহিদা সৃষ্টি হওয়ায় বাজার দামও ভালো।’

আরও পড়ুন:
ডাকের চালানে ইয়াবা, আটক ৪
পরিত্যক্ত বিমানবন্দর সচল চায় এয়ারলাইনসগুলো
ঈদে বাড়তি ফ্লাইট চায় দেশি এয়ারলাইন্স
১২টি ছাড়া সব দেশে ফ্লাইট চালু
লকডাউনে উড়বে আরও বিমান

শেয়ার করুন

নারী উদ্যোক্তাদের মার্কেটপ্লেস ই-জয়িতার যাত্রা

নারী উদ্যোক্তাদের মার্কেটপ্লেস ই-জয়িতার যাত্রা

জয়িতা ফাউন্ডেশন জানায়, ই-জয়িতা অনলাইন মার্কেটপ্লেসে এক লাখ নারী উদ্যোক্তা সংযুক্ত হতে পারবে। দেশের সব জেলা থেকে উদ্যোক্তারাদের নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ক্রেতারা ভিডিও কলে পছন্দের পণ্য পছন্দ করতে পারবেন। বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে পণ্য অর্ডার করা যাবে। লেনদেন করা যাবে যেকোনো ব্যাংকের কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং দিয়ে।

দেশে প্রথমবারের মতো নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে চালু হলো অনলাইন মার্কেটপ্লেস ই-জয়িতা। জয়িতা ফাউন্ডেশনের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এটি।

মঙ্গলবার মার্কেটপ্লেসটি উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, ‘ই-জয়িতা মার্কেটপ্লেস দেশে নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও তাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘সবার কাছে ই-কমার্স জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের ৮০ ভাগ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন নারী উদ্যোক্তারা। ফলে নারীরা আর্থিক সচ্ছলতা অর্জনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

‘বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে রয়েছে উদ্যোক্তা হওয়ার বিশাল সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে রয়েছে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতা। এসব বাধা দূর করে ব্যবসায় উদ্যোগে নারীদের সম্পৃক্ত করা ও তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর জয়িতা ফাউন্ডেশনের উদ্বোধন করেন।’

জয়িতা ফাউন্ডেশন জানায়, ই-জয়িতা অনলাইন মার্কেটপ্লেসে এক লাখ নারী উদ্যোক্তা সংযুক্ত হতে পারবে। দেশের সব জেলা থেকে উদ্যোক্তারাদের নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ক্রেতারা ভিডিও কলে পছন্দের পণ্য পছন্দ করতে পারবেন। বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে পণ্য অর্ডার করা যাবে। লেনদেন করা যাবে যেকোনো ব্যাংকের কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং দিয়ে।

আরও পড়ুন:
ডাকের চালানে ইয়াবা, আটক ৪
পরিত্যক্ত বিমানবন্দর সচল চায় এয়ারলাইনসগুলো
ঈদে বাড়তি ফ্লাইট চায় দেশি এয়ারলাইন্স
১২টি ছাড়া সব দেশে ফ্লাইট চালু
লকডাউনে উড়বে আরও বিমান

শেয়ার করুন

রপ্তানি সহায়তায় অডিট ফার্ম নিয়োগে নতুন নির্দেশনা

রপ্তানি সহায়তায় অডিট ফার্ম নিয়োগে নতুন নির্দেশনা

ব্যাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

ব্যাংকে নিয়োজিত অডিট ফার্মের মাধ্যমেই এখন রপ্তানি ভর্তুকির আবেদনপত্র নিরীক্ষা করানো যাবে।

প্রয়োজনে অতিরিক্ত অডিট ফার্ম নিয়োগ দেয়া যাবে। এর আগে ব্যাংক ও রপ্তানি ভর্তুকি যাচাইয়ে আলাদা আলাদা অডিট ফার্ম নিয়োগের নির্দেশনা ছিল।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশে কর্মরত সব অনুমোদিত ডিলারের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরে নগদ রপ্তানি ভর্তুকির আবেদনপত্র বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়োজিত অডিট ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষা করানো যাবে।

তবে নিরীক্ষার কাজ দ্রুত করার জন্য অতিরিক্ত ফার্ম নিয়োগের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয় তথ্যসহ অডিট ফার্মের সংখ্যা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করতে হবে বলে সার্কুলারে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
ডাকের চালানে ইয়াবা, আটক ৪
পরিত্যক্ত বিমানবন্দর সচল চায় এয়ারলাইনসগুলো
ঈদে বাড়তি ফ্লাইট চায় দেশি এয়ারলাইন্স
১২টি ছাড়া সব দেশে ফ্লাইট চালু
লকডাউনে উড়বে আরও বিমান

শেয়ার করুন

এডিবির কাছ থেকে লাখ কোটি টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ

এডিবির কাছ থেকে লাখ কোটি টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ

এডিবি বলেছে, নতুন সিপিএসের প্রধান লক্ষ্য, বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, সবুজ শিল্পায়ন, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালী করতে সহায়তা দেয়া।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) আগামী ৫ বছরে (২০২১-২০২৫) বাংলাদেশকে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ঋণ-সহায়তা দেবে। বর্তমান বিনিময় মূল্য হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ২৭ পয়সা) টাকার অংকে এই অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অবস্থিত সংস্থাটির সদর দপ্তর থেকে মঙ্গলবার নতুন এই কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্যাটেজি (সিপিএস) ঘোষণা করা হয়।

ম্যানিলাভিত্তিক এই উন্নয়ন সংস্থাটি এর আগে গত পাঁচ বছরে (২০১৬-২০২০) বাংলাদেশকে ৯৬০ কোটি ডলার ঋণ-সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর মধ্যে কত অর্থ পাওয়া গেছে তার পুরো হিসাব পেতে বেশ কিছুদিন লাগবে।

এডিবি বলেছে, নতুন সিপিএসের প্রধান লক্ষ্য, বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, সবুজ শিল্পায়ন, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালী করতে সহায়তা দেয়া।

এডিবি বলছে, ‘এই সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন হবে; যা ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে। সেইসঙ্গে করোনাভাইরাস মহামারির ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে আর্থ-সামাজিক খাতকে সহায়তা করবে।’

নতুন কৌশলপত্রের আওতায় সংস্থাটির কাছ থেকে বাংলাদেশ যে পরিমাণ অর্থ সহায়তা পেতে যাচ্ছে, তা আগের পাঁচ বছরের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি।

এডিবি বলছে, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন কিনতে বাংলাদেশকে ৯৪ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে এডিবি। এর বাইরে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য সরকার ১০০ কোটি ডলারের কর্মসূচিভিত্তিক বাজেট সহায়তা চেয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছে। বাকি অর্থ ২০২১-২০২৩ সালের মধ্যে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এডিবির দক্ষিণ এশিয়ার মহাপরিচালক কেনিচি ইয়োকোয়ামা বলেন, ‘টেকসই প্রবৃদ্ধি ও যথাযথ নীতিগত উদ্যোগ বাংলাদেশের উন্নয়নে ভালো ফলাফল এনে দিয়েছে। এখন সামনে আরও এগোনোর জন্য প্রয়োজন শিল্প ও রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা।

‘কৃষিপণ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, হালকা প্রকৌশল এবং ওষুধের মতো শিল্পখাত ও রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্রায়নের সঙ্গে বাড়তি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নতুন নতুন বাজারে প্রবেশাধিকার, কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পুনরুদ্ধার, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

এডিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি বাংলাদেশে তার বেসরকারি খাতের কার্যক্রম আরও প্রসারিত করবে এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অর্থায়ন অব্যাহত রাখবে। ব্যাংকিং খাতের উন্নতি, ব্যবসা সহজীকরণ, ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে, বেসরকারি খাতের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকে উন্নীত করতে সহায়তা করবে।

নতুন এই কৌশলপত্রে প্যারিস চুক্তির সাথে সামঞ্জস্য রেখে জলবায়ু পরিবর্তন এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ও প্রশমন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে এডিবি বাংলাদেশে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে।

এতে বলা হয়, ‘জল, নদী এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলো সরাসরি মোকাবিলা করতে কর্মসূচি সম্প্রসারণের সময় জলবায়ু পরিবর্তনকে সংহত করার জন্য একটি সামগ্রিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন কৌশলপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে দারিদ্র্য কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে। বৈষম্য ও দারিদ্র্য কমাতে সুনির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, অধিকতর ন্যায়সঙ্গত গ্রামীণ ও আঞ্চলিক উন্নয়ন, স্বল্পমূল্যের আবাসন এবং মৌলিক সেবায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে দরিদ্রদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করা।

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ দারিদ্যের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে। অতি দারিদ্যের হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে চাইছে।

‘এডিবির এই সহায়তা বাংলাদেশের এই লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে’ উল্লেখ করে বলা হয়, ‘নতুন কৌশলপত্র বাংলাদেশ সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সাথে আলাপ-আলোচনা করে তৈরি করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হচ্ছে, আরও বেশি সম্পদ আহরণ, উৎপাদন ও রপ্তানির বৈচিত্র্য এবং টেকসই নগরায়ন।’

উন্নয়ন সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চরম দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে এডিবি একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিস্থাপক এবং টেকসই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল অর্জনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি ৬৮টি সদস্য দেশে ৪৯ অঞ্চলে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

আরও পড়ুন:
ডাকের চালানে ইয়াবা, আটক ৪
পরিত্যক্ত বিমানবন্দর সচল চায় এয়ারলাইনসগুলো
ঈদে বাড়তি ফ্লাইট চায় দেশি এয়ারলাইন্স
১২টি ছাড়া সব দেশে ফ্লাইট চালু
লকডাউনে উড়বে আরও বিমান

শেয়ার করুন

ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে এবার আসছে আইন

ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে এবার আসছে আইন

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে অর্থ আত্মসাত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। ফাইল ছবি

ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে একটি কর্তৃপক্ষ তৈরি, সেটির এখতিয়ার নির্ধারণ ও অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানের শাস্তি ঠিক করতে আইন দরকার বলে মনে করে সরকার ও খাত সংশ্লিষ্টরা। বুধবার এ ব্যাপারে সরকারের চার মন্ত্রী বসছেন বৈঠকে।

পরিচালন নির্দেশিকা জারির পর সরকার এবার ই-কমার্স খাতের জন্য নতুন একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণহীন এ খাতে কঠোর শৃঙ্খলা আনতে চায় সরকার।

আইনটির নাম হতে পারে ‘ডিজিটাল ই-কমার্স অ্যাক্ট’। এ ব্যাপারে যৌথ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার এক জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন চার মন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে অন্যদের মধ্যে অংশ নেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ। এ ছাড়া বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বিকেল ৩টায় এ বৈঠক বসবে।

বর্তমানে ই-কমার্স খাতের সুষ্ঠু বিকাশে ডিজিটাল কমার্স পলিসি ২০১৮ নামে শুধু একটি নীতিমালা রয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর তা হালনাগাদ করতে ডিজিটাল কমার্স পলিসি ২০২১ এর খসড়া তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া সাময়িক সমস্যা মোকাবিলা করতে ইতিমধ্যে ডিজিটাল ই-কমার্স খাতের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) জারি হয়েছে, যা সময় সময় পরিবর্তন ও সংশোধনযোগ্য।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এতে ব্যবসায় কিছুটা শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হলেও যারা প্রতারণা করবে তাদের কী শাস্তি দেয়া হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিক-নির্দেশনা নেই। এ ছাড়া ই-কমার্স খাতের কর্তৃপক্ষ কে হবে, কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা বা এখতিয়ার কতটুকু থাকবে, নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিক কী কী ব্যবস্থা নিতে পারবে– এগুলো কোথাও বলা নেই।

দেশে ডিজিটাল ই-কমার্স খাতের যত সম্প্রসারণ ঘটছে, তা নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতাও ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে প্রতারণা। যেখানে একের পর এক আসছে বিতর্কিত মডেলের ব্যবসা। দেয়া হচ্ছে নিয়মবহির্ভূত ডিসকাউন্ট অফার।

এর বিপরীতে তদারকি জোরদার না হওয়া এবং আইনি কাঠামোর দুর্বলতার সুযোগেও দেশে কিছু পঞ্জি মডেলের অসৎ উদ্যোক্তার জন্ম হয়েছে। তারা গ্রাহকের কাছে ব্যাপক ডিসকাউন্ট অফারের টোপ ফেলছে। ক্রেতারা তা লুফে নিতে দলে দলে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত লেনদেন করছেন। ওই টাকা গ্রাহকের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে আগাম।

কিন্তু পঞ্জি উদ্যোক্তা আগাম টাকা নিয়েও সময়মতো পণ্য সরবরাহ করছে না। একইভাবে ঠকানো হচ্ছে পঞ্জি উদ্যোক্তার ব্যবসায় পণ্য দিয়ে সহায়তাকারী মার্চেন্ট বা সেলারদেরও।

ব্যাপক ডিসকাউন্টের ফাঁদে এখন পর্যন্ত দেশের প্রায় ৬ লাখ লোকের ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা খোয়া গেছে, যেখানে গ্রাহক বা ক্রেতা রয়েছেন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ। আর সরবরাহকারী রয়েছেন দুই থেকে আড়াই লাখ।

মূলত ১০-১২টি প্রতিষ্ঠান এ ধরনের প্রতারণায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও একই ধরনের অভিযোগ অন্যান্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও উঠতে শুরু করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খাতটির ওপর গ্রাহকের হারানো আস্থা ফেরাতে আইন তৈরির সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে।

দেশের অনেক খাত ও ব্যবসার জন্য আলাদা আলাদা নীতিমালা, বিধিবিধান ও আইন রয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু ডিজিটাল ই-কমার্সের ক্ষেত্রে।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘ক্রমর্ধমান ডিজিটাল ই-কমার্স খাতে সাম্প্রতিক সময়ে বহু অভিযোগ উঠছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও এখন স্পষ্ট। এ ধরনের প্রবণতা ঠেকাতে একটি আলাদা আইন হওয়া দরকার। সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় করণীয় ঠিক করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।’

ডিজিটাল ই-কমার্স সেল প্রধান ও মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ই-কমার্স খাতের সুষ্ঠ বিকাশে প্রণীত নীতিমালা যুগোপযোগী করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ইতিমধ্যে ডিজিটাল ই-কমার্স খাত পরিচালন নির্দেশিকা (এসওপি) জারি হয়েছে। তবে ক্রমবর্ধমান খাতটির অবাধ বিকাশ ও সম্ভাবনার সুফল পেতে হয়ত আমাদেরকে আইন তৈরির দিকেও যেতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ডাকের চালানে ইয়াবা, আটক ৪
পরিত্যক্ত বিমানবন্দর সচল চায় এয়ারলাইনসগুলো
ঈদে বাড়তি ফ্লাইট চায় দেশি এয়ারলাইন্স
১২টি ছাড়া সব দেশে ফ্লাইট চালু
লকডাউনে উড়বে আরও বিমান

শেয়ার করুন

লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে লাভে ফেরানোর তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর

লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে লাভে ফেরানোর তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর

মঙ্গলবার বিএসইসি আয়োজিত ‘ব্যবসা উন্নয়ন সম্মেলন’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চাই না। এর সঙ্গে কর্মসংস্থানের বিষয় জড়িত। কাজেই নতুন বিনিয়োগ আনতে হবে ও প্রকল্প নিতে হবে। কর্মকতা ও কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। অদক্ষ ও অপ্রয়োজনীয় জনবল বাদ দিতে হবে।’

বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) আওতায় থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের লোকসান কমিয়ে লাভজনক করতে দরকারি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

মঙ্গলবার বিএসইসি আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘ব্যবসা উন্নয়ন সম্মেলন’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

২১-২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ ব্যবসা উন্নয়ন সম্মেলনে বিএসইসির শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা অংশ নেবেন।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চাই না। এর সঙ্গে কর্মসংস্থানের বিষয় জড়িত। কাজেই নতুন নতুন বিনিয়োগ আনতে হবে ও প্রকল্প নিতে হবে। কর্মকতা ও কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। অদক্ষ ও অপ্রয়োজনীয় জনবল বাদ দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন (বিএসইসি) ৬২টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত। কমতে কমতে এখন নয়টি প্রতিষ্ঠান টিকে আছে। মুক্তবাজার অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য উৎপাদিত পণ্যের আন্তর্জাতিক মান রেখে উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এছাড়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার বিবেচনায় পণ্যের দাম নির্ধারণ ও বিক্রি বাড়ানো এবং গ্রাহকের ও ক্রেতার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্য বহুমুখীকরণ করতে হবে। পণ্য উৎপাদনে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন, মালমাল ক্রয় ও পণ্য বিক্রয় ব্যবস্থা যুগোপযোগী করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে বিএসইসির চেয়ারম্যান শহিদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘শুধু ডিপিএম নির্ভর না থেকে আমাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে বহুমুখী উপায় নিতে হবে এবং প্রতিযোগিতায় নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ডাকের চালানে ইয়াবা, আটক ৪
পরিত্যক্ত বিমানবন্দর সচল চায় এয়ারলাইনসগুলো
ঈদে বাড়তি ফ্লাইট চায় দেশি এয়ারলাইন্স
১২টি ছাড়া সব দেশে ফ্লাইট চালু
লকডাউনে উড়বে আরও বিমান

শেয়ার করুন

বাংলাদেশিদের জন্য খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

বাংলাদেশিদের জন্য খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত যেকোনো টিকা নেয়ার পর মালয়েশিয়া যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ান হাইকমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এ আদেশ কার্যকর হবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেয়া বাংলাদেশিদের জন্য মধ্য এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার মালয়েশিয়ার দুয়ার খুলে দেয়ার ঘোষণা এসেছে।

মালয়েশিয়ান হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এ আদেশ কার্যকর হবে।

অবশ্য দেশটিতে যেতে কিছু শর্ত মানতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে মালয়েশিয়ার বৈধ ভিসা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পাওয়া করোনার টিকা নেয়া ব্যক্তিরা দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন।

পাশাপাশি ইমিগ্রেশনের জন্য প্রয়োজন হবে করোনা নেগেটিভ সনদ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ামানুসারে মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুকদের সে দেশে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি হাজার হাজার শ্রমিক করোনাভাইরাস মহামারিতে দেশে এসেছিলেন। তাদের জন্য বন্ধ হয়ে যায় দেশটিতে প্রবেশ। করোনার টিকা নেয়ার পর এখন যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা।

আরও পড়ুন:
ডাকের চালানে ইয়াবা, আটক ৪
পরিত্যক্ত বিমানবন্দর সচল চায় এয়ারলাইনসগুলো
ঈদে বাড়তি ফ্লাইট চায় দেশি এয়ারলাইন্স
১২টি ছাড়া সব দেশে ফ্লাইট চালু
লকডাউনে উড়বে আরও বিমান

শেয়ার করুন