স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কট

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তার অভিযোগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলন বয়কট করেছে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কট

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রেস ব্রিফিং বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম। ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সদস্য রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কট করেছে সাংবাদিকদের কয়েকটি সংগঠন।

বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম, বাংলাদেশ হেলথ্ রিপোর্টার্স ফোরামসহ (বিএইচআরএফ) কয়েকটি সংগঠনের সাংবাদিকরা ব্রিফিং বয়কট করে।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার কিছু পরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনটি শুরু হয়। এ সময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছা বেগমসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ ঘোষণা দেন সংবাদ সম্মেলন বর্জনের।

তিনি বলেন, ‘রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করার অভিযোগে এ সংবাদ সম্মেলন বর্জন করা হলো।’

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির অভিযোগ এনে মামলা করার পর তাকে মঙ্গলবার আদালতে নিয়েছে শাহবাগ থানা-পুলিশ।

মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান সোমবার রাতে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ‘সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিপক্ষে অভিযোগ’-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিং করা হবে।

বিএসআরএফ জানায়, মঙ্গলবার তারা কার্যনির্বাহী কমিটি জরুরি সভা থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

মন্ত্রণালয়ে অবরুদ্ধ করার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর শাহবাগ থানায় এনে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির অভিযোগ তুলে সোমবার রাতে রোজিনার বিরুদ্ধে মামলা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মামলায় বাদী করা হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানীকে। দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় এবং অফিশিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রোজিনাকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
মামলা করবে রোজিনার পরিবার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজকে বিদায়ী সংবর্ধনা

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজকে বিদায়ী সংবর্ধনা

বগুড়া সেনানিবাসের আর্মার্ড কোর সেন্টার ও স্কুলে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে শনিবার বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হয়। ছবি: আইএসপিআর

জেনারেল আজিজ আহমেদ বিদায়ী ভাষণের শুরুতেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী সেনাসদস্যদের।

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে সামরিক রীতিতে বিদায় জানাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কোর, কোর অফ ইঞ্জিনিয়ার্স এবং বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট।

বগুড়া সেনানিবাসের আর্মার্ড কোর সেন্টার ও স্কুলে শনিবার তাকে এই সংবর্ধনা দেয়া হয়।

২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর আর্মার্ড কোরের, ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই কোর অফ ইঞ্জিনিয়ার্স এবং ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জেনারেল আজিজ।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে উপস্থিত সবার উদ্দেশে বিদায়ী কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।

জেনারেল আজিজ আহমেদ বিদায়ী ভাষণের শুরুতেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী সব সেনাসদস্যের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেনারেল আজিজ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ একটি আধুনিক এবং চৌকস বাহিনী হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।’

কর্নেল কমন্ড্যান্ট হিসেবে তার গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে আজিজ আহমেদ জানান, ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর আলোকে একটি আধুনিক এবং যুগোপযোগী সেনাবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে আর্মার্ড কোর, কোর অফ ইঞ্জিনিয়ার্স এবং বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টে নতুন ইউনিট প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সংযোজন করা হয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সরঞ্জামাদি।

সেই সঙ্গে আধুনিকায়ন এবং সম্প্রসারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারসহ প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করেছেন বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কোর, কোর অফ ইঞ্জিনিয়ার্স এবং বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে উন্নতি ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন জেনারেল আজিজ আহমেদ।

অনুষ্ঠানে আর্মার্ড কোর, কোর অফ ইঞ্জিনিয়ার্স এবং বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাসহ অন্য সামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

গত রোববার থেকে বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব ফরমেশনে বিদায়ী পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সব পদবির সামরিক ও অসামরিক সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বিদায়ী বক্তব্য দেন। ফরমেশন থেকে আবেগঘন পরিবেশে বিদায়ী সেনাপ্রধানকে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে খোলা জিপ টেনে সামরিক রীতিতে বিদায় জানানো হয়।

আরও পড়ুন:
রোজিনাকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
মামলা করবে রোজিনার পরিবার

শেয়ার করুন

বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা, বললেন না কিছুই

বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা, বললেন না কিছুই

আদালতে জবানবন্দি শেষে বাড়ি ফিরছেন ত্ব-হা। ছবি: নিউজবাংলা

কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশীদ বলেন, আদালতের কাজ শেষে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

নিখোঁজের আট দিন পরে অবশেষে আদালত হয়ে বাড়ি ফিরলেন আলোচিত ইসলাম বিষয়ক বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান এবং তার দুই সঙ্গী।

এসময় তারা সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি।

ত্ব-হার বাকি দুই সঙ্গী হলেন আমির হোসেন ও আব্দুল মুহিত।

রাত সাড়ে ১১টায় রংপুর মহানগর আমলি আদালতের বিচারক কে এম হাফিজুর রহমানের আদালতে জবানবন্দি শেষে আইনজীবী সোলায়মান আহমেদ সিদ্দিকী বাবুর জিম্মায় তারা বাড়ি ফেরেন।

আদালত চত্বরে এসময় তিন পরিবারের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশীদ। তিনি বলেন, আদালতের কাজ শেষে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

আইনজীবী সোলায়মান সিদ্দিকী বাবু বলেন, ‘যেহেতু তারা প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদেরকে কেউ অবরুদ্ধ করেনি এ কারণে বিজ্ঞ আদালত মনে করেন যে, তারা নিজ জিম্মায় বাড়ি যেতে পারবে। পরে আদালত চাইলে অবশ্যই তারা উপস্থিত হতে বাধ্য থাকবেন।’

বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা, বললেন না কিছুই
আদালতে ত্ব-হার জবানবন্দিকে ঘিরে সংবাদকর্মীদের ভিড়

আদালত চত্বরে থাকা ত্ব-হার মা আজেদা বেগম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেয়েছি।’

শুক্রবার বিকেলে ত্ব-হাকে রংপুর মহানগরীর আবহাওয়া অফিস মাস্টার পাড়ার তার প্রথম স্ত্রীর বাসা থেকে বের করে মহানগর পুলিশের ডিবি কার্যালয়ে নেয় পুলিশ। বিকেল ৫টার দিকে প্রেস কনফারেন্স করেন পুলিশের অপরাধ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন।

সেখানে তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ত্ব-হাকে আদালতে নেয়া হবে।

আদালত পরিদর্শক নাজমুল কাদের জানান, ইসলাম বিষয়ক বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান ও তার দুই সঙ্গীকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে আনা হয়। মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক কেএম হাফিজুর রহমানের আদালতে জবানবন্দি দেন তারা।

১০ জুন থেকে চার সহযোগীসহ নিখোঁজ হন ত্ব-হা। কোথা থেকে কীভাবে নিখোঁজ হন, এমন তথ্য দিতে পারছিল না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও।

অনেকে অভিযোগ তুলছিল, সমসাময়িক অন্যান্য ইস্যুতে আন্তরিকতা দেখালেও ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে তেমন কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না সরকার। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন:
রোজিনাকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
মামলা করবে রোজিনার পরিবার

শেয়ার করুন

আবরার স্মরণে ‘এক মুঠো ভাত’

আবরার স্মরণে ‘এক মুঠো ভাত’

আবরার ফাহাদ হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে বুয়েট ক্যাম্পাসে ‘এক মুঠো ভাত’ কর্মসূচি পালন করেছে অঙ্কুর ফাউন্ডেশন। ছবি: নিউজবাংলা

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে বুয়েট ক্যাম্পাসে ‘এক মুঠো ভাত’ কর্মসূচি পালন করেছে অঙ্কুর ফাউন্ডেশন। এ কর্মসূচির আওতায় শুক্রবার দুপুরে ক্যাম্পাসে ১০০ জনের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে বুয়েট ক্যাম্পাসে ‘এক মুঠো ভাত’ কর্মসূচি পালন করেছে অঙ্কুর ফাউন্ডেশন।

এ কর্মসূচির আওতায় শুক্রবার দুপুরে ক্যাম্পাসে ১০০ জনের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

রাজধানীরসহ দেশের ৬৪টি জেলা শহরে শুক্রবার এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন সংগঠনটির সিনিয়র স্বেচ্ছাসেবক জুবায়ের।

জুবায়ের জানান, আবরারের নিজ জেলা কুষ্টিয়াতে আয়োজিত কর্মসূচিতে আবরার ফাহাদের বাবা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ‘অঙ্কুর ফাউন্ডেশন’ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই ফাউন্ডেশনের বেশ কয়েকটি প্রজেক্টের মধ্যে ‘এক মুঠো ভাত’ অন্যতম।

কর্মসূচির বিষয়ে সংগঠনটির মিডিয়া সমন্বয়ক মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘আবরার হত্যার পর আসামীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক বছর ৯ মাস পার হয়ে গেলেও বিচার কাজে তেমন অগ্রগতি হয়নি।’

আবরার স্মরণে ‘এক মুঠো ভাত’
আবরার হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে বুয়েট ক্যাম্পাসে অঙ্কুর ফাউন্ডেশন বিশেষ কর্মসূচী পালন করে। ছবি: নিউজবাংলা

‘সম্প্রতি আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বুয়েট থেকে আজীবন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বিটু ক্লাসে ফিরেছেন। আবার হত্যার বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও সাম্প্রতিক ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন।’

আলাউদ্দিন বলেন, সংগঠনের অবস্থান প্রশাসন বা সরকারের বিরুদ্ধে নয়। বরং আমরা সরকারের কাছে অভিনব এই প্রক্রিয়ায় আবরার ফাহাদের জন্য দ্রুত ন্যায় বিচার দাবি করছি।

আবরার স্মরণে ‘এক মুঠো ভাত’
নিহত আবরার ফাহাদ। ফাইল ছবি

আরও পড়ুন:
রোজিনাকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
মামলা করবে রোজিনার পরিবার

শেয়ার করুন

চাকরির কথা বলে ভ্রমণ ভিসায় লোক পাঠাতেন অমি

চাকরির কথা বলে ভ্রমণ ভিসায় লোক পাঠাতেন অমি

পরীমনির করা মামলায় প্রধান আসামি নাসিরউদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে অমি, যাকে এই ঘটনার পরিকল্পনাকারী বলছেন এই অভিনেত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

এবার অমির বিরুদ্ধে মানবপাচারের মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অমির রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে দুবাইয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তির এক আত্মীয় এ মামলা করেন। এর আগে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসির ইউ মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমির নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি তুহিন সিদ্দিকী অমির বিরুদ্ধে এবার অভিযোগ উঠেছে মানবপাচারের।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চাকরি দেয়ার কথা বলে নিজের রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিলেও তিনি তাদের পাঠাতেন ভ্রমণ ভিসায়। নির্ধারিত দেশে যাওয়ার পর উচ্চ বেতনে চাকরির পরিবর্তে পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে হয় অমির মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া ব্যক্তিদের।

এমনই দুই ভুক্তভোগীর আত্মীয় সাভারের আব্দুল কাদের নামে এক ব্যক্তি বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের দক্ষিণখান থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেছেন। তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ পাঁচজনকে এই মামলায় আসামী করা হয়। মামলার অন্য আসামীরা অমির রিক্রুটিং এজেন্ট।

মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। মানবপাচার ও প্রতারণার ঘটনায় বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অমিকে রিমান্ডে আনার জন্য আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির পরিদর্শক মো. মোস্তফা। মামলাটি তিনি তদন্ত করছেন।

পরিদর্শক মোস্তফা জানান, বাদী অভিযোগ করেছেন, তার দুজন আত্মীয়কে বিদেশ পাঠাতে অমির অফিসে যোগাযোগ করা হয়। অমির অফিস জানায়, দুবাইয়ের একটি মার্কেটে ফ্লোর ম্যানেজার হিসেবে চাকরি হয়েছে তাদের। মাসে পাবে ১৬৯০ দিরহাম। তাদের এজেন্সির মাধ্যমে যেতে হলে জনপ্রতি দিতে হবে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সে অনুযায়ী দুজন তাদের টাকা জমা দেয়। দুবাইয়ে পাঠানোও হয়।

দুবাই যাওয়ার পর বাদীর দুই আত্মীয় বুঝতে পারেন তাদের কাজের ভিসার কথা বলে ভ্রমণ ভিসায় পাঠানো হয়েছে। এরপর থেকে তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বৈধভাবে তারা কোনো কাজ করতে পারছেন না বলে জানান পরিদর্শক মোস্তফা।

তিনি বলেন, বাদী আব্দুল কাদের দুই আত্মীয়ই নয়, সাভারের আরও দুজন এভাবে প্রতারিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, মামলার অন্য আসামীদের আটকে আমাদের অভিযান চলছে।

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ১৪ জুন চিত্রনায়িকা পরীমনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসির ইউ মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমির নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। আরও চারজনকে এ মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামি করা হয়।

পরীমনির মামলার পর ওই দিনই নাসির, অমিসহ পাঁচজনকে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনেও একটি মামলা হয়।

গত ১৫ জুন রাতে উত্তরার দক্ষিণখানে অমির অফিসে অভিযান চালায় সাভার থানা পুলিশ। দক্ষিণখানে রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসে অভিযান চালিয়ে শতাধিক পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় দক্ষিণখান থানায় অমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বুধবার পাসপোর্ট আইনে মামলা করেছে সাভার থানা পুলিশ।

ধর্ষণ চেষ্টা, মাদক, পাসপোর্ট আইনে তিনটি মামলার তদন্ত চলাকালেই ১৭ জুন মানবপাচার আইনে নতুন এই মামলাটি হয় অমির বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন:
রোজিনাকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
মামলা করবে রোজিনার পরিবার

শেয়ার করুন

আপনার ছেলে বাসায় এসেছে: ত্ব-হার মাকে পুত্রবধূর ফোন

আপনার ছেলে বাসায় এসেছে: ত্ব-হার মাকে পুত্রবধূর ফোন

কী থেকে কী হচ্ছে আমি জানি না। আমার ছেলে জীবিত ফিরে এসেছে এ জন্য শুকরিয়া আদায় করছি। কোনো যেন বিপদ-আপদ না হয় সেই দাবি করছি: ত্ব-হার মা আজেদা বেগম।

নিখোঁজের আট দিন পর আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের ফিরে আসার খবর তার মা আজেদা বেগম জেনেছেন পুত্রবধূ আবিদা নূরের কাছে। তবে ছেলেকে দেখতে পারেননি তিনি। তার আগেই নিয়ে আসে পুলিশ।

আজেদার সঙ্গে কথা হয়েছে নিউজবাংলার। তিনি বলেন, “আমার ছেলের স্ত্রী আমাকে দুপুরে ফোন করে জানায়, ‘মা, আপনার ছেলে ফিরে এসেছে, এখন বাসায় আছে আপনি আসেন’।”

‘দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে যাই। কিন্তু শুধু তাকে দেখতে পাই, এর মধ্যে পুলিশ এসে নিয়ে যায়’- আট দিন ধরে উৎকণ্ঠিত মা তার ছেলের সঙ্গে কথা না বলতে পারার আক্ষেপ তুলে ধরেন এভাবে।

আবিদা নূর তার বাবা আজহারুল ইসলাম মণ্ডলের বাড়িতেই থাকেন। বাসাটি রংপুর সদরের আবহাওয়া অফিসের কাছে।

গত ১০ জুন থেকে ত্ব-হার নিখোঁজ হওয়ার কথা জানা যায়। বিষয়টি প্রথমে গণমাধ্যমের সামনে আনেন দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার। পরে আজেদা বেগমও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন নিউজবাংলার সঙ্গে।

ত্ব-হার মা বলেন, ‘কী থেকে কী হচ্ছে আমি জানি না। আমার ছেলে জীবিত ফিরে এসেছে এ জন্য শুকরিয়া আদায় করছি। কোনো যেন বিপদ-আপদ না হয় সেই দাবি করছি।’

ঢাকায় থাকা দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহারের মতো স্বামীর ফিরে আসা নিয়ে কথা বলতে চাননি প্রথম স্ত্রী আবিদা নূরও। তবে কথা বলেছেন আবিদার ছোট বোন নিশা মনি।

তিনি বলেন, ‘ভাইয়া (ত্ব-হা) দুপুরে এসেই আপুর ঘরে যায়। আমরা আত্মীয়স্বজনদের খবরটা জানাই। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে ভাইয়াকে নিয়ে যায়।’

ত্ব-হার শ্বশুর আজহারুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, ‘ঘটনার দিন (১০ জুন) আমি আমার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ছিলাম। সেখানে ঘটনাটা শুনে মনটা খারাই হয়ে গেছিল। এই কয়দিন কিছু ভালো লাগছিল না। ছটছট করি বেড়াইছি। আজ বাসায় আসছে। কিন্তু দেখা হয় নাই। এলাও দেখা হয় না।’

ত্ব-হাকে নিয়ে আসার পর রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ। বাহিনীটির অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন দাবি করেন, ব্যক্তিগত কারণে ত্ব-হা ও তার চার সঙ্গী আত্মগোপনে ছিলেন।

তার ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন থেকেই ত্ব-হা গাইবান্ধায় তার এক বন্ধুর বাসায় ছিলেন। এই কয়দিন নিজের ও সঙ্গীদের সব ফোন বন্ধ করে রাখেন তিনি।

তবে কেন ত্ব-হা এই কাজ করতে গেলেন, সেই প্রশ্নের জবাব এখনই দিতে চাননি এই পুলিশ কর্মকর্তা। বলেন, বিষয়টি যেহেতু ব্যক্তিগত, তাই তারা প্রকাশ করতে চান না এখনই। এ নিয়ে আরও যাচাই-বাছাই করবেন তারা।

আরও পড়ুন:
রোজিনাকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
মামলা করবে রোজিনার পরিবার

শেয়ার করুন

ত্ব-হা ছিলেন আত্মগোপনে: পুলিশ

ত্ব-হা ছিলেন আত্মগোপনে: পুলিশ

রংপুর ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ত্ব-হার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, গাবতলী থেকে ত্ব-হা গাইবান্ধায় আসেন, সেখানে তিনি আত্মীয়র বাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে আজ দুপুরে প্রথম স্ত্রীর বাবার বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে আমরা তাকে সেখান থেকে নিয়ে আসি।

নিখোঁজ নয়, ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান গত ৮ দিন যাবৎ ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

রংপুর ডিবি কার্যালয়ে শুক্রবার বিকেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন।

তিনি বলেন, '(ত্ব-হা) ঘটনার দিন গাবতলী থেকে গাইবান্ধা চলে আসেন। সেখানে এক আত্মীয়র বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। শুক্রবার ত্ব-হা আবহাওয়া অফিস মাস্টারপাড়ার শ্বশুরবাড়িতে চলে আসেন। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। উনি এখন আমাদের হেফাজতেই আছেন।

‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার পাশাপাশি বগুড়ায় খোঁজ মেলা আরেকজনকেও আমরা নিয়ে আসছি। তারা আপাতত আমাদের হেফাজতেই আছে। আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’

বেলা সোয়া তিনটার দিকে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মজনু নিউজবাংলাকে জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে ত্ব-হাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার আরেক এসআই এরশাদ হোসেন জানান, শুক্রবার দুপুরে তাকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বেলা ৩টার দিকে রংপুরের আবহাওয়া অফিসের মাস্টারপাড়ায় ত্ব-হার শ্বশুর আজহারুল ইসলামের বাড়ি থেকে তাকে পুলিশ বের করে নিয়ে যায়।

তবে খোকন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি মাস্টারপাড়ায় তাকে দেখেন। কিন্তু ত্ব-হা সে সময় কোনো কথা বলেননি। মুখে আঙুল দিয়ে চুপ থাকতে বলেন।

১০ জুন থেকে চার সহযোগীসহ নিখোঁজ হন ত্ব-হা। কোথা থেকে কীভাবে নিখোঁজ হন, এমন তথ্য দিতে পারছিল না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও।

অনেকে অভিযোগ তুলছিল, সমসাময়িক অন্যান্য ইস্যুতে আন্তরিকতা দেখালেও ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে তেমন কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না সরকার। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন:
রোজিনাকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
মামলা করবে রোজিনার পরিবার

শেয়ার করুন

ত্ব-হার কাছে এখনই যাবেন না সাবিকুন্নাহার

ত্ব-হার কাছে এখনই যাবেন না সাবিকুন্নাহার

বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে ত্ব-হার কাছে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার। তবে স্বামীর সন্ধান মেলার পর এখনই না যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

‘ত্ব-হাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেন, না হলে তার কাছে আমাকে নিয়ে যান’ বলে সংবাদ সম্মেলনের দুই দিনের মাথায় স্বামী ফিরে আসার পর সাকিবুন্নাহারের কাছে নিউজবাংলা প্রশ্ন রাখে, ‘আপনি রংপুর যাচ্ছেন না কি?’। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি রংপুর কেন যাব এখন? দেখি কী হয়। বলতে তো পারছি না, ওরা যদি গ্রেপ্তার দেখায় কোনো মামলায়।’

ত্ব-হার খোঁজ নেই। প্রথমে বিষয়টি জানান দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহারই। থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করার চেষ্টা, সেটি নেয়া হচ্ছে না বলে গণমাধ্যমে অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন করে ‘ত্ব-হাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেন, না হলে তার কাছে আমাকে নিয়ে যান’ বলে আবেগপ্রবণ বক্তব্য দিলেও স্বামীর খোঁজ পাওয়ার পর তিনি এ প্রসঙ্গে এখন কিছু বলতে রাজি হচ্ছেন না। তার কাছেও এখনই যেতে চাইছেন না।

গত ১০ জুন রাতে রংপুর থেকে ত্ব-হা আসছিলেন ঢাকা। সঙ্গে দুজন, আর গাড়িচালক। রাত ২টা ৩৮ মিনিটের পর ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন সাবিকুন্নাহার।

দুই দিন ধরে নানা জল্পনা-কল্পনার পর পরিবারটি অভিযোগ করতে থাকে, পল্লবী থানা সাধারণ ডায়েরি নেয়নি।

তবে এ ঘটনায় একটি ডায়েরি হয় রংপুরে। ত্ব-হার মা আজেদা বেগম সাধারণ ডায়েরি করেন রংপুর থানায়। সেখানেই তার বাড়ি। আর সেই সূত্র ধরে তদন্ত করতে থাকে পুলিশ।

তার অন্তর্ধানের বিষয়টি তুমুল আলোচনা তৈরি করে সারা দেশে। অনুসারীরা অভিযোগ করতে থাকেন, দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা তাকে তুলে নিয়েছে। তবে আট দিন পর তিনি ফেরেন রংপুরে তার প্রথম স্ত্রীর বাবার বাড়ি। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখেন। পরে পুলিশ গিয়ে নিয়ে আসে তাকে।

পুলিশ জানিয়েছে, ত্ব-হা গাইবান্ধায় তার এক বন্ধুর বাসায় ছিলেন।

তার অন্তর্ধানের চেয়ে বেশি আলোড়ন তোলে তার ফিরে আসার বিষয়টি। গণমাধ্যমগুলোতে আসতে থাকে ‘ব্রেকিং নিউজ’।

দুই দিন আগে সাবিকুন্নাহার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আসেন সংবাদ সম্মেলনে। পরে বেসরকারি টেলিভিশনে দিতে থাকেন সাক্ষাৎকার। আকুতি জানাতে থাকেন ত্ব-হাকে ফিরিয়ে দিতে।

ত্ব-হার কাছে এখনই যাবেন না সাবিকুন্নাহার
দুপুরে রংপুর শহরে আবহাওয়া অফিসের কাছে শ্বশুর বাড়ি থেকে ত্ব-হাকে নিয়ে আসে পুলিশ

শুক্রবার দুপুরে ত্ব-হা ফিরে আসার পর কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় সাবিকুন্নাহারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে নিউজবাংলা। তবে এই চেষ্টাটা সহজ ছিল না।

দুপুর থেকে তার ফোনে কখনও কল যাচ্ছিল না, কখনও পাওয়া যায় ব্যস্ত। পরে মিরপুর-১১ নম্বরের ‘এ’ ব্লকের একটি বাসায় যায় নিউজবাংলা।

এই বাসার ঠিকানা ব্যবহার করেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গত ১৪ জুন ত্ব-হাকে উদ্ধারের আবেদন করে চিঠি দেয়া হয়।

তবে সেই বাসায় থাকেন না সাবিকুন্নাহার। সেটি নারীদের একটি কওমি মাদ্রাসা। মাদ্রাসাটি পরিচালনা করেন সাবিকুন্নাহার এবং তার বোন। এই মাদ্রাসায় কখনও আসেননি ত্ব-হা। শুক্রবার থাকায় মাদ্রাসাটি বন্ধ পাওয়া যায়।

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও মাদ্রাসার কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে সেই বাড়ির বাসিন্দা আল-আমিন নামে একজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বাড়ির মালিকের ভাই বলে পরিচয় দেন।

তিনি জানান, নিচতলার পাঁচটি কক্ষ নিয়ে এই মাদ্রাসা। তিন মাস আগে বাসাটি ভাড়া নেন সাবিকুন্নাহার।

তবে সাবিকুন্নাহারের বাসার ঠিকানা কোনটি, সেটি জানাতে পারেননি আল আমিন। বলেন, ‘কয়েক মাস আগে মাদ্রাসার পাশের গলির একটি বাসায় থাকতেন তারা। কিন্তু এখন অন্য জায়গায় থাকেন। কোথায় সেটি জানি না।’

সেখান থেকে চলে এসে সন্ধ্যায় অবশেষে ফোনে কথা হয় ত্ব-হার স্ত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে আপনাদের কাছে কিছু বলতে পারব না।‘

ত্ব-হার কাছে এখনই যাবেন না সাবিকুন্নাহার
মিরপু-১১ নম্বরের এই মাদ্রাসাটি চালান ত্ব-হার দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার

ফোনে কথা বলতে না চাইলে বাসায় আসব কি না- এমন প্রশ্নে সাবিকুন্নাহার বলেন, ‘আমার কথা বলা নিষেধ আছে। আপনারা বোঝার চেষ্টা করেন।’

তবে কার নিষেধ, সেটি বলেননি তিনি।

ত্ব-হার সঙ্গে দেখা করতে রংপুরে যাবেন কি না- এমন প্রশ্নে তার স্ত্রী বলেন, ‘আমি রংপুর কেন যাব এখন? দেখি কী হয়। বলতে তো পারছি না, ওরা যদি গ্রেপ্তার দেখায় কোনো মামলায়।’

উদ্ধার হওয়ার পর ত্ব-হার সঙ্গে কথা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু বলতে পারছি না।’

আপনি বলছিলেন, ত্ব-হা আপনার কাছে আসছে। কিন্তু তিনি তো গেলেন প্রথম স্ত্রীর কাছে।

এই মন্তব্যের জবাবে সাবিকুন্নাহার কিছু না বলে চুপ থাকেন।

আরও পড়ুন:
রোজিনাকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
মামলা করবে রোজিনার পরিবার

শেয়ার করুন