রোজিনার বিরুদ্ধে মামলার সাজা তিন বছর

রোজিনার বিরুদ্ধে মামলার সাজা তিন বছর

প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম।

দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ছাড়াও অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সাজা তিন বছর বলে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার হবে এবং এই মামলা জামিনযোগ্য বলে জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের একজন আইনজীবী।

রাষ্ট্রীয় গোপনীয় নথি চুরির অভিযোগ এনে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় মামলা হয়েছে, তাতে তার সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজা হতে পারে বলে মনে করেন বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

এই মামলাটি জামিনযোগ্য বলেও জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেই এর বিচার হবে।

সোমবার বিকেলে এই গণমাধ্যমকর্মী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে গোপন নথি সরানোর অভিযোগে আটক হন। বেলা দুইটা ৫৫ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে শাহবাগ থানায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

রোজিনাকে থানায় নেয়া হয় রাত সাড়ে আটটার পরে। অর্থাৎ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তিনি মন্ত্রণালয়েই ছিলেন।

পরে রাত ১১টার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা অভিযোগটি মামলা হিসেবে নিবন্ধন করে রোজিনাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মামলাটিতে মোট চারটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ছাড়াও অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

৩৭৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি চুরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪১১ ধারায়ও একই ধরনের কথা বলা আছে।

রোজিনার বিরুদ্ধে মামলার সাজা তিন বছর
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা মামলা নিয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, এই ধারায়ও সর্বোচ্চ সাজা আছে তিন বছরের কারাদণ্ড।

অফিসিয়াল সিক্রেসট অ্যাক্ট এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ স্থানে যদি কেউ যায় বা যেতে উদ্যত হয় বা ওই স্থানের কোনো নকশা বা স্কেচ তৈরি করেন বা কোনো গোপন তথ্য সংগ্রহ বা প্রকাশ করেন তবে তিনি অপরাধী হবেন।

৫ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি গোপনে কোনো সংবাদ পেয়ে থাকলে সেই সংবাদ প্রকাশ করতে পারবে না। কোনো সংবাদপত্র যদি কোনো গোপন সংবাদ প্রকাশ করে তবে প্রতিবেদক, সম্পাদক, মুদ্রাকর এবং প্রকাশক অপরাধী হবেন। এসব কাজে সহায়তা করা অপরাধ বলে গণ্য হবে।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, ৩ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা আছে তিন বছর আর ৫ ধারায় দুই বছর।

চারটি ধারা একসঙ্গে চলছে সর্বোচ্চ সাজাও তিন বছর হবে বলেও মনে করেন তিনি।

তবে ৩ ধারায় যে গুপ্তচরবৃত্তির কথা বলা হয়েছে, সেটি রোজিনা কীভাবে করেছেন, সেটা বুঝতে পারছেন না জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। বলেন, ‘দেশের ভেতর কোনো সাংবাদিক কীভাবে গুপ্তচরবৃত্তি করলেন, আইডিয়াটাই আমার মাথায় ঢুকছে না।’

মন্ত্রণালয়ের যে অভিযোগ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে যেসব নথি সরানোর অভিযোগ এনেছে, সেগুলোতে রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য ছিল বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বলা হয়, বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের ভ্যাকসিন ক্রয় সংক্রান্ত আলোচনা চলছে। এর খসড়া সমঝোতা স্মারক ও নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট প্রণয়ন কাজ চলমান রয়েছে। সমঝোতা স্মারক নিয়ে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে প্রতিনিয়ত পত্র ও ই মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ হচ্ছে। যেখানে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সন্নিবেশিত রয়েছে।

রোজিনার বিরুদ্ধে মামলার সাজা তিন বছর

রোজিনার বিরুদ্ধে মামলার সাজা তিন বছর
রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় করা এজহার

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম যেসব নথিপত্রের ছবি তুলেছিল, তার মধ্যে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

বলা হয়, ‘এ সকল তথ্য জনসম্মুখে প্রচার চলে সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

বলা হয়, বিকেল দুইটা ৫৫ মিনিটে রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে সচিবের একান্ত সচিবের দপ্তরে ঢুকেন। তখন একান্ত সচিব দাপ্তরিক কাজে সচিবের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। সে সময় রোজিনা ইসলাম দাপ্তরিক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র শরীরের বিভিন্ন স্থানে লুকানোর পাশাপাশি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছবি তোলেন।

সে সময় সচিবের দপ্তরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মিজানুর রহমান খান বিষয়টি দেখতে পেয়ে রোজিনাকে বাধা দেন। আর নির্ধারিত কর্মকর্তার অনুপস্থিতে তিনি ওই কক্ষে কী করছেন, তা জানতে চান। এ সময় রোজিনা নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন।

অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছা বেগম তল্লাশি করে রোজিনার কাছ থেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কাজগপত্র এবং নথির ছবি সম্বলিত মোবাইল উদ্ধার করেন।

আরও পড়ুন:
রোজিনাকে পাল্টা নির্যাতন মামলা করার পরামর্শ
রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির মামলা: সাংবাদিক রোজিনা গ্রেপ্তার
রোজিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের
রোজিনা ইসলামের সঙ্গে আচরণ লজ্জাজনক: জি এম কাদের
নথি গায়েবের অভিযোগ, সাংবাদিক রোজিনা শাহবাগ থানায়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল

ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা পূর্বঘোষিত ৩১ জুলাই তারিখের পরিবর্তে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

করোনা মহামারির উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তির আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা পূর্বঘোষিত ৩১ জুলাই তারিখের পরিবর্তে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

এর আগে গত ১ জুন কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের অন্তর্গত গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজগুলোর ১ম বর্ষ সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৭ আগস্ট শুক্রবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

ভর্তি পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা, নম্বর ১০০, পাশ নম্বর ৪০ এবং পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। এই ইউনিটে শুধু নারী শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। গত ১৫ জুন থেকে শুরু হয় এ ইউনিটে অনলাইনে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া।

২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাধ্যমিক/সমমান এবং শুধু ২০২০ সালের বাংলাদেশের যে কোন শিক্ষাবোর্ড/উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়/কারিগরি শিক্ষাবোর্ড/মাদ্রাসা বোর্ড/এ-লেভেল বা সমমানের বিদেশি ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। ভর্তির আবেদন ফি ৬৫০ টাকা।

ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় ৪র্থ বিষয়সহ প্রাপ্ত জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৫.৫ হতে হবে। তবে কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ২.৫ এর কম হলে আবেদন করা যাবে না।

আরও পড়ুন:
রোজিনাকে পাল্টা নির্যাতন মামলা করার পরামর্শ
রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির মামলা: সাংবাদিক রোজিনা গ্রেপ্তার
রোজিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের
রোজিনা ইসলামের সঙ্গে আচরণ লজ্জাজনক: জি এম কাদের
নথি গায়েবের অভিযোগ, সাংবাদিক রোজিনা শাহবাগ থানায়

শেয়ার করুন

আবাসিক হোটেলেও করোনা চিকিৎসা

আবাসিক হোটেলেও করোনা চিকিৎসা

‘আমাদের হাসপাতাল করার আর জায়গা নেই। হাসপাতাল খালিও নেই। তাই আমরা এখন হোটেল খুঁজছি। যেখানে আমরা একটা ব্যবস্থা করতে পারি, মৃদু যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের রাখতে পারি। ওখানে থেকে চিকিৎসা নিয়ে যাতে ভালো হয়ে বাড়ি যেতে পারেন। সেই ব্যবস্থাটুকু আমরা হাতে নিয়েছি।’

করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। তাই করোনায় আক্রান্ত হওয়া কম ঝুঁকিপূ্র্ণ রোগীদের হোটেলে রেখে চিকিৎসা দেয়ার চিন্তা-ভাবনা সরকার করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মন্ত্রী বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত সবাইকে কিন্তু হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ে না। যেগুলো হালকা, মাইল্ড কেস, সেই সমস্ত রোগীর জন্য আমরা আলাদা হোটেল ভাড়া করার চিন্তা করেছি। যে হোটেলের মধ্যে আমাদের ডাক্তার থাকবে, নার্স থাকবে, ওষুধপত্র থাকবে, কিছু অক্সিজেনের ব্যবস্থাও আমরা রাখব।’

হাসপাতালে শয্যা সংকট হওয়ার কারণে সরকার এই বিকল্প ভাবনা ভাবছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘কারণ আমাদের হাসপাতাল করার আর জায়গা নেই। হাসপাতাল খালিও নেই। তাই আমরা এখন হোটেল খুঁজছি। যেখানে আমরা একটা ব্যবস্থা করতে পারি, মৃদু যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের রাখতে পারি। ওখানে থেকে চিকিৎসা নিয়ে যাতে ভালো হয়ে বাড়ি যেতে পারেন। সেই ব্যবস্থাটুকু আমরা হাতে নিয়েছি।’

ইতিমধ্যে হাসপাতালে ৯০ শতাংশ আসনে রোগী ভর্তি আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রোগী আছে, (শয্যা) ফাঁকা নেই। আইসিইউ অলরেডি ৯৫ শতাংশ অকুপাইড। এই চিন্তা করে আমরা ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করছি। সেটার কাজ চলমান আছে। সেখানে ইমিডিয়েটলি আমরা হয়তো ৫০০ থেকে ৬০০ বেড রেডি করতে পারব। পরে তা এক হাজার বেডে নেয়া যাবে।’

আগামী ৭ আগস্ট থেকে সাত দিনের জন্য বাংলাদেশ প্রত্যেকটি ইউনিয়ন-ওয়ার্ডে টিকা দেয়ার কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই সাত দিনে আমরা প্রায় এক কোটি টাকা দিব। এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।’

এজন্য সভায় বিভিন্ন দপ্তরের সাহায্য চাওয়া হয়েছে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে গ্রামের বয়স্কদের আমরা অগ্রাধিকার দিব। পঞ্চাশোর্ধ যারা আছেন, তাদের আমরা অগ্রাধিকার দেব, এই বয়সীদের মৃত্যু এখন ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে সোয়া কোটি টিকা আছে। আরও এক কোটি টিকা আমাদের হাতে এসে পৌঁছাবে। অর্থাৎ টিকা কর্মসূচি বজায় থাকবে।’

‘এনআইডির (জাতীয় পরিচয়পত্র) মাধ্যমে আমরা ভ্যাকসিন দিব। যাদের এনআইডি নেই তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় টিকা দেয়া হবে। এ বিষয়ে ঘোষণার আগেই দেয়া হয়েছে।’

স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদনের বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে এবং বাংলাদেশের একটি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করেছি। সেই টিকা উৎপাদন করার কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমতিও পেয়েছি।’

আরও পড়ুন:
রোজিনাকে পাল্টা নির্যাতন মামলা করার পরামর্শ
রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির মামলা: সাংবাদিক রোজিনা গ্রেপ্তার
রোজিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের
রোজিনা ইসলামের সঙ্গে আচরণ লজ্জাজনক: জি এম কাদের
নথি গায়েবের অভিযোগ, সাংবাদিক রোজিনা শাহবাগ থানায়

শেয়ার করুন

সাংবাদিকতার নামে কী হচ্ছে: হাইকোর্ট

সাংবাদিকতার নামে কী হচ্ছে: হাইকোর্ট

প্রতীকী ছবি

একটি মামলার শুনানির সময় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলে, ‘সাংবাদিকতার নামে কী হচ্ছে দেখেন না। কী এক (হেলেনা) জাহাঙ্গীর বেরিয়েছে আইপি টিভি, কত চ্যানেল, কত টিভি।’

দুদকের এক কর্মকর্তার বদলি আদেশ নিয়ে ভুল সংবাদ পরিবেশন বিষয়ে শুনানির সময় দেশের সাংবাদিকতার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট। এ সময়ে আদালত বলেন, সাংবাদিকতার নামে কী হচ্ছে।

মঙ্গলবার শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব কথা বলে।

এ সময় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর গ্রেপ্তার হেলেনা জাহাঙ্গীরের আইপি টিভি জয়যাত্রা নিয়েও কথা বলে আদালত।

বিচারক বলেন, ‘সাংবাদিকতার নামে কী হচ্ছে দেখেন না। কী এক (হেলেনা) জাহাঙ্গীর বেরিয়েছে। আইপিটিভি নামে কত চ্যানেল, কত টিভি।’

দুদকের এক কর্মকর্তার বদলি আদেশ নিয়ে ভুল সংবাদ করায় চট্টগামের পূর্বকোণসহ বেশ কিছু স্থানীয় পত্রিকা বিষয়ে আলোচনা করাই শুনানির মূল বিষয় ছিল।

শুনানির শুরুতেই দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান আদালতকে জানান, চট্টগ্রামের পূর্বকোণ পত্রিকা সংশোধনী ছেপেছে। এই ভুলের জন্য তারা ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।

তিনি বলেন, ‘আদালতের আদেশ নিয়ে যে আইনজীবী সার্টিফায়েড কপি দিয়েছে সেটিকে আমার কাছে জাল মনে হয়েছে। তার কারণ জজ সাহেবের নামও ভুল লিখেছে।’

তখন বিচারক আদালত বলেন, ‘এটা জাল হয়ে থাকলে এর দায়ভার পিটিশনারকে নিতে হবে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার আদেশ হবে। আরও যদি কোনো তথ্য থাকে তাহলে দেন। কারণ এটা ধরে নিতে হবে পিটিশনার এবং তার আইনজীবী এটা করেছেন।’

এ সময় দুদক আইনজীবী জানান, দৈনিক পূর্বকোণ ছাড়াও মহানগর চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার নিউজে এসেছে।

তখন বিচারক বলেন, ‘আপনি সবগুলাতে যোগাযোগ করেন। আপনার অফিস থেকে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেন।’

দুদক আইনজীবী বলেন, ‘পূর্বকোণের যে রিপোর্টার পাবলিশ করেছেন তিনি আমাকে বলেছেন, অনেকগুলো পত্রিকায় তারা দেখে ছেপেছে। এরপরও তারা ক্ষমা চেয়েছেন। এছাড়া আমি দুদক অফিসে জানিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘এখন কমিশনের সিদ্ধান্ত হলো যদি এই নিউজ বা রিটের পেছনে দুদকের কোনো কর্মকর্তা কর্মচারীর ইন্ধন থাকে, তাহলে দুদক তার নিজস্ব ইনটেলিজেন্সির মাধ্যমে খাতিয়ে দেখবে। এরপরও আদালত যে নির্দেশ দেবে সে অনুযায়ী দুদক পদক্ষেপ নেবে।’

তখন বিচারক বলেন, ‘মৌখিকভাবে শুনলাম। সামগ্রিক বিষয়ে বৃহস্পতিবার আদেশ দেব। এক পর্যায়ে বিচারক সাংবাদিকতার নামে কী হচ্ছে দেখেন না। কী এক জাহাঙ্গীর বেরিয়েছে আইপি টিভি, কত চ্যানেল, কত টিভি।’

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের বদলির আদেশ স্থগিত করেছে হাইকোর্ট- এমন শিরোনামে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। অথচ হাইকোর্ট এমন কোনো আদেশই দেয়নি।

বিষয়টি সোমবার আদালতের নজরে আনা হলে আদালত দুদক আইনজীবীকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেয়। পরে দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তিনি জানান, চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি পত্রিকায় নিউজ দেখে তারাও রিপোর্টটি করেছে। তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে সংশোধনীও ছেপেছে এবং আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণ লিখেছে দুদক কর্মকর্তার বদলির আদেশ হাইকোর্ট স্থগিত করেছে। আসলে হাইকোর্ট কোনো বদলির আদেশ স্থগিত করেননি। বরং হাইকোর্ট তার আবেদনটি ডিলিট করে দিয়েছে।

‘সেই দুদক কর্মকর্তার বদিল আদেশ স্থগিত’ শিরোনামে গত ২৯ জুলাই চট্টগ্রামে দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি সোমবার আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। তখন আদালতের বিচারক বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘না, আমরা এমন কোনো আদেশ দেয়নি।’

এ সময় আইনজীবী ওই পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি আদালতকে দেখান। তখন আদালত দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খানকে ডেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়।

আরও পড়ুন:
রোজিনাকে পাল্টা নির্যাতন মামলা করার পরামর্শ
রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির মামলা: সাংবাদিক রোজিনা গ্রেপ্তার
রোজিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের
রোজিনা ইসলামের সঙ্গে আচরণ লজ্জাজনক: জি এম কাদের
নথি গায়েবের অভিযোগ, সাংবাদিক রোজিনা শাহবাগ থানায়

শেয়ার করুন

৭ দিনে দেয়া হবে এক কোটি টিকা

৭ দিনে দেয়া হবে এক কোটি টিকা

‘দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম দুটি করে কেন্দ্রে টিকা দেয়া হবে। প্রায় ১৪ হাজার কেন্দ্রে একসঙ্গে সপ্তাহব্যাপী ভ্যাকসিন দেয়া হবে। সেখানে বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। শ্রমজীবী মানুষ, দোকানদার, বাসের হেলপারদের ভ্যাকসিন দেয়া হবে। ভ্যাকসিন না দিয়ে কেউ কোনো কর্মস্থলে আসতে পারবেন না। যার যার এলাকা থেকে ভ্যাকসিন নিতে হবে। ১১ আগস্টের পরে টিকা না নিয়ে কেউ মুভমেন্ট করলে শাস্তিযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’

করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৭ আগস্ট থেকে সাত দিন দেশের সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে এক কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ সময় ১৪ হাজার কেন্দ্রে একযোগে টিকা কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার কোভিড-১৯ পর্যালোচনাসংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে তারা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

৫০ বছরের বেশি বয়সীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই টিকা দেয়া হবে বলেও জানান তারা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, ৭ আগস্ট থেকে সাত দিনের জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে প্রায় এক কোটি টিকা দেব। সেই টিকা দিতে অনেকের সহযোগিতা লাগবে। এ জন্য আজ সভা করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বাহিনীপ্রধানদের কাছে সেই সাহায্য চাওয়া হয়েছে। গ্রামের বয়স্ক, অর্থাৎ ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের অগ্রাধিকার দেব। কারণ তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৮০-৯০ শতাংশ।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম দুটি করে কেন্দ্রে টিকা দেয়া হবে। প্রায় ১৪ হাজার কেন্দ্রে একসঙ্গে সপ্তাহব্যাপী ভ্যাকসিন দেয়া হবে। সেখানে বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। শ্রমজীবী মানুষ, দোকানদার, বাসের হেলপারদের ভ্যাকসিন দেয়া হবে। ভ্যাকসিন না দিয়ে কেউ কোনো কর্মস্থলে আসতে পারবেন না। যার যার এলাকা থেকে ভ্যাকসিন নিতে হবে। ১১ আগস্টের পরে টিকা না নিয়ে কেউ মুভমেন্ট করলে শাস্তিযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’

সরকারের টিকার মজুত নিয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হাতে সোয়া কোটি টিকা আছে। এ মাসে আরও এক কোটি টিকা এসে পৌঁছাবে। যাদের এনআইডি কার্ড নেই, তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় টিকা দেব।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদনে জোর দিয়েছি। চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছি। আইন মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্রও পাওয়া গেছে।’

মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
রোজিনাকে পাল্টা নির্যাতন মামলা করার পরামর্শ
রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির মামলা: সাংবাদিক রোজিনা গ্রেপ্তার
রোজিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের
রোজিনা ইসলামের সঙ্গে আচরণ লজ্জাজনক: জি এম কাদের
নথি গায়েবের অভিযোগ, সাংবাদিক রোজিনা শাহবাগ থানায়

শেয়ার করুন

জাপান থেকে টিকার তৃতীয় চালান ঢাকায়

জাপান থেকে টিকার তৃতীয় চালান ঢাকায়

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে জাপানের নারিতা বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় উড়াল দেয়ার অপেক্ষায় কার্গো বিমান। ছবি: ফেসবুক

সোমবার জাপান দূতাবাসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৃতীয় চালান ঢাকায় রওনা দিয়েছে। অল নিপ্পন এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানে (এএনএ) আসছে চালানটি। এই চালানে আছে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৮০ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। হংকং হয়ে ক্যাথে প্যাসেফিকে ঢাকা পৌঁছাল চালানটি।

জাপান থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার তৃতীয় চালান ঢাকায় এসে পৌঁছেছে।

ছয় লাখের বেশি ডোজের টিকার চালানটি মঙ্গলবার বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

ক্যাথে প্যাসেফিক এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানে চালানটি আসে।

সোমবার সন্ধ্যায় এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ চালানটি জাপান থেকে রওনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি লিখেন, ‘আজকে জাপান থেকে আরও ৬ লাখ ১৬ হাজার অক্সফোর্ডের টিকা একটু আগে ঢাকার পথে রওনা হয়েছে।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সবাইকে মাস্ক পরা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও। তিনি বলেন, ‘উপসর্গ থাকলে পরীক্ষা করুন এবং পরীক্ষা করাতে সহযোগিতা করুন। টিকা নিতে উৎসাহিত করুন। টিকার মজুত এখন যথেষ্ট আছে।’

জাপান থেকে টিকার তৃতীয় চালান পাঠানোর বিষয়টি টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসও নিশ্চিত করেছে। সোমবার দূতাবাসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৃতীয় চালান ঢাকায় রওনা দিয়েছে। অল নিপ্পন এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানে (এএনএ) আসছে চালানটি। এই চালানে আছে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৮০ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। হংকং হয়ে ক্যাথে প্যাসেফিকে ঢাকা পৌঁছাল চালানটি।

দূতাবাস জানায়, জাপানের স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টা ২১ মিনিটে টিকার চালান নিয়ে বিমানটি নারিতা বিমানবন্দরের এক নম্বর টার্মিনাল ত্যাগ করে।

কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ৩০ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে জাপান। দেশটি থেকে এর মধ্যে দুই চালানে ১০ লাখের বেশি টিকা ঢাকায় পৌঁছেছে।

বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে করোনার টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে গড়ে তোলা প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের আওতায় বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে জাপান।

এ টিকার ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে কিনেছিল বাংলাদেশ। দুই দফায় ৭০ লাখ ডোজ টিকা দেয়ার পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাকি টিকা দিতে পারেনি সিরাম।

সরবরাহ সংকটের কারণে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যায়নি। জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসায় অপেক্ষমাণদের রোববার থেকে আবার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৫টি দেশের জন্য ১ কোটি ১০ লাখ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে জাপান। সেখান থেকে দফায় দফায় ৩০ লাখ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা বাংলাদেশকে দেবে পূর্ব এশিয়ার দেশটি।

মাঝে দিয়ে দেশে টিকা সংকট তৈরি হলেও সে অবস্থা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। দফায় দফায় টিকা আসছে চীনের সিনোফার্ম থেকে। এ ছাড়া কোভ্যাক্সের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসছে মডার্না ও ফাইজারের টিকা।

আরও পড়ুন:
রোজিনাকে পাল্টা নির্যাতন মামলা করার পরামর্শ
রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির মামলা: সাংবাদিক রোজিনা গ্রেপ্তার
রোজিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের
রোজিনা ইসলামের সঙ্গে আচরণ লজ্জাজনক: জি এম কাদের
নথি গায়েবের অভিযোগ, সাংবাদিক রোজিনা শাহবাগ থানায়

শেয়ার করুন

শাটডাউন বাড়ল ৫ দিন

শাটডাউন বাড়ল ৫ দিন

আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘১১ তারিখ থেকে যানবাহন চলবে। সেটা রোটেশন মাফিক। জেলা প্রশাসন স্থানীয়ভাবে এটির ব্যবস্থা করবে। ১০ তারিখ পর্যন্ত বিধিনিষেধ চলমান থাকবে।’

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় সংক্রমণ রুখতে চলমান ‘শাটডাউন’ আরও পাঁচদিন বাড়িয়েছে সরকার। পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক শেষে সভার সভাপতি মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘১১ তারিখ থেকে যানবাহন চলবে। সেটা রোটেশন মাফিক। জেলা প্রশাসন স্থানীয়ভাবে এটির ব্যবস্থা করবে। ১০ তারিখ পর্যন্ত বিধিনিষেধ চলমান থাকবে।’

‘১১ তারিখ থেকে ১৮ বছরের বেশি বয়সী কোনো লোক টিকা নেয়া ছাড়া রাস্তায় নামতে পারবে না। নামলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে। আইন না মানলে সরকার অধ্যাদেশ জারি করে শাস্তি প্রয়োগের ক্ষমতাও দিতে পারে।’

বর্তমানে দেশে ঈদুল আজহা পরবর্তী ১৪ দিনের শাটডাউন চলছে, যা শেষ হবে ৫ আগস্ট। এর আগেই তা আরও পাঁচদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এলো সরকার থেকে।

টিকা বিষয়েও কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী। বলেন, ‘আগামী সপ্তাহের মধ্যে এক কোটির বেশি লোককে টিকার আওতায় আনা হবে। টিকা নেয়ার জন্য দৌড়াতে হবে না, ১৪ হাজার কেন্দ্রে একযোগে টিকা দেয়া হবে। বয়স্ক মানুষকে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

‘১১ তারিখ থেকে দোকান পাট খোলা হবে বলে আশা সরকারের। তবে টিকা ছাড়া কাউকে কাজে যোগ দিতে দেয়া হবে না। ১০ তারিখের মধ্যে সবাইকে টিকা নেয়ার সুযোগ দেয়া হবে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সবাইকে সচেতন করতে হবে। সেজন্য গ্রামে গ্রামে মহল্লায় কমিটি গঠন করা হবে। মাস্ক ছাড়া কাউকে ঘরের বাইরে আসতে দেয়া হবে না।’

আরও পড়ুন:
রোজিনাকে পাল্টা নির্যাতন মামলা করার পরামর্শ
রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির মামলা: সাংবাদিক রোজিনা গ্রেপ্তার
রোজিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের
রোজিনা ইসলামের সঙ্গে আচরণ লজ্জাজনক: জি এম কাদের
নথি গায়েবের অভিযোগ, সাংবাদিক রোজিনা শাহবাগ থানায়

শেয়ার করুন

করোনা টিকা না নিলে কর্মীদের বেতন বন্ধ: অ্যাটর্নি অফিস

করোনা টিকা না নিলে কর্মীদের বেতন বন্ধ: অ্যাটর্নি অফিস

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা গ্রহণে নিজেদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জোর নির্দেশনা দিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস। এক নোটিশে বলা হয়েছে, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া টিকা না নিলে বেতন বন্ধসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে নিজেদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সময় বেঁধে দিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস। এর মধ্যে টিকা গ্রহণের সনদ জমা না দিলে বেতন বন্ধসহ স্টাফদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার একটি নোটিশ জারি করেছে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস। এতে বলা হয়েছে, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে করোনা প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ করে এর সনদ ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রশাসনিক শাখায় জমা দিতে হবে।

নোটিশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া ভ্যাকসিন গ্রহণ না করলে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার স্বার্থে নিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যারা এখনও কোডিড-১৯-এর ভ্যাকসিন গ্রহণ করেননি তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন করে আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে কোভিড-১৯-এর টিকা গ্রহণে নির্দেশ রয়েছে নোটিশে।

এতে বলা হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ভ্যাকসিন গ্রহণ সম্পর্কিত টিকা কার্ড বা টিকা সনদ আগামী ২২ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রশাসনিক শাখায় জমা প্রদান করবেন।

সেই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া ভ্যাকসিন গ্রহণ না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বেতন বন্ধসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন:
রোজিনাকে পাল্টা নির্যাতন মামলা করার পরামর্শ
রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির মামলা: সাংবাদিক রোজিনা গ্রেপ্তার
রোজিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের
রোজিনা ইসলামের সঙ্গে আচরণ লজ্জাজনক: জি এম কাদের
নথি গায়েবের অভিযোগ, সাংবাদিক রোজিনা শাহবাগ থানায়

শেয়ার করুন