মহাসড়কে বেড়েছে দূরপাল্লার বাস

মহাসড়কে বেড়েছে দূরপাল্লার বাস

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, দূরপাল্লার বাস দেখলেই আটকে দেয়া হচ্ছে, ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে মহাসড়কে রোববার থেকে অবাধেই চলতে দেখা গেছে উত্তরবঙ্গ থেকে আসা বাস।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে অবাধেই চলছে দূরপাল্লার বাস। ঈদ শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে ফেরা যাত্রীদের নিয়ে গত দুইদিন ধরেই সড়কে বেড়েছে এই বাসগুলোর চলাচল।

মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে সোমবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গ থেকে রাতে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী অসংখ্য বাস সেখানে। রোববার সকাল থেকেই মহাসড়ক দিয়ে চলতে দেখা গেছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাস।

গাজীপুর পরিবহন নামের বাসের চালক মো. মাহিম বলেন, ‘সকালে গাজীপুরের যাত্রী নিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে ছেড়ে এসেছি। সরকারিভাবে দূরপাল্লার বাস বন্ধ রাখা হলেও পয়সার জন্যই বাস চালাতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও বাধা পাইনি।’

তবে পুলিশের দাবি, দূরপাল্লার বাস দেখলেই ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাস আসলেও তাদের ছেড়ে আসা স্থানে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।’

যদিও এই দাবির সত্যতা দেখা যায়নি মহাসড়কে। ঢাকার দিকে যেতে দেখা গেছে যাত্রীবোঝাই অনেক বাসই।

বাস ছাড়াও পিকআপ, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন পরিবহনে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। তবে মহাসড়কের কোথাও যানজট নেই। পরিবহন বাড়ায় ভোগান্তিও নেই যাত্রীদের।

মহাসড়কে বেড়েছে দূরপাল্লার বাস

এবারের ঈদযাত্রায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে রেকর্ড পরিমান যানবাহন চলাচল করেছে। সেতু সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১২ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত এই সেতু দিয়ে চলাচল করেছে ৫২ হাজার যানবাহন। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ২৪ ঘণ্টায় এ পরিমাণ টোল এই সেতুতে এর আগে আদায় হয়নি।

মহাসড়কে বেড়েছে দূরপাল্লার বাস

ঈদ যাত্রায় শুরু থেকে যাত্রী চলাচলে ফেরি বন্ধ থাকায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটের যাত্রীরা বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে গন্তব্যে যান। যাত্রী চলাচলে পরে ফেরি খুলে দেয়া হলেও ঝামেলা এড়াতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে না গিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঘুরেই বাড়ি যান দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।

মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে মাদারীপুরের বাংলাবাজার হয়ে যারা চলাচল করে, সেই পথেরও কিছু কিছু গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায় বঙ্গবন্ধু সেতুতে। এতে সেতুটিতে যানবাহন চলাচলের সংখ্যা বাড়ে ঈদের আগে।

আরও পড়ুন:
ছুটি শেষে ঢাকার পথে শ্রমজীবীরা
ঈদের পরদিনই ঢাকার পথে
‘মানু আয় নাকি লাশ লইয়ায় বুঝি না’
২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি টাকা টোল
ঈদযাত্রায় প্রাণ গেল যুবকের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চাকরি হারালের ত্ব-হার সেই বন্ধু সিয়াম

চাকরি হারালের ত্ব-হার সেই বন্ধু সিয়াম

ত্ব-হার বন্ধু সিয়াম। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমি অপ্পো কোম্পানির রংপুর মুন্সিপাড়া অফিসে কো-অর্ডিনেটর (এইচআর) পদে চাকরি করতাম। আজ (রোববার) লাঞ্চে যাবার পর কিছু সাংবাদিক আমার অফিসে আসে। তারা ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে আমার সম্পৃক্ততা আছে বলে দাবি করে। এ কারণে আমার অফিস আমাকে অব্যাহতি দিয়েছে।’

আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান অন্তর্ধানের সময় সিয়াম নামে ছোটবেলার যে বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

রোববার মোবাইল ফোন কোম্পানি ‘অপো’ তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয় বলে সিয়াম নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি অপ্পো কোম্পানির রংপুর মুন্সিপাড়া অফিসে কো-অর্ডিনেটর (এইচআর) পদে চাকরি করতাম। আজ (রোববার) লাঞ্চে যাবার পর কিছু সাংবাদিক আমার অফিসে আসে। আমার খোঁজ করে।

‘তারা ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে আমার সম্পৃক্ততা আছে বলে দাবি করে। এ কারণে আমার অফিস আমাকে অব্যাহতি দিয়েছে।’

তবে এখনও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো অব্যাহতিপত্র দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সিয়াম। তিনি বলেন, ‘‘কোনো অফিসিয়াল কাগজপত্র দেয়া হয়নি। কিন্তু ম্যাসেস দিয়েছে, ‘স্যরি ভাই, উই ক্যান নট কন্টিনিউ উইথ ইউ, বিকোজ অফ কোম্পানি ইমেজ’। অফিসের সব গ্রুপ থেকেও আমাকে রিমুভ করা হয়েছে।’’

অফিস থেকে সরাসরি কিছু বলা হয়নি জানিয়ে সিয়াম বলেন, ‘আমি তো কোনো অপরাধ করিনি। আমার চাকরি যাবে কেন, তাও বুঝতেছি না।’

অপোর এরিয়া ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম সিয়ামকে অব্যাহতি দেয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চাকরি হারালের ত্ব-হার সেই বন্ধু সিয়াম
ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা আট দিন ধরে ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানায় গোয়েন্দা পুলিশ।

১০ জুন থেকে চার সহযোগীসহ নিখোঁজ হন ইসলামি বক্তা ত্ব-হা। কোথা থেকে কীভাবে নিখোঁজ হন, এমন তথ্য দিতে পারছিল না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও।

অনেকে অভিযোগ তুলেছিল, সমসাময়িক অন্যান্য ইস্যুতে আন্তরিকতা দেখালেও ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে তেমন কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না সরকার। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছিল।

শুক্রবার বিকেলে ত্ব-হাকে রংপুর মহানগরীর আবহাওয়া অফিস মাস্টার পাড়ার তার প্রথম স্ত্রীর বাসা থেকে বের করে মহানগর পুলিশের ডিবি কার্যালয়ে নেয় পুলিশ।

বিকেল ৫টার দিকে প্রেস কনফারেন্স করেন পুলিশের অপরাধ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন। তিনি দাবি করেন, ত্ব-হা ব্যক্তিগত কারণে গাইবান্ধা সদর উপজেলার পশ্চিম পিয়ারাপুর গ্রামে সিয়ামের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন।

সিয়ামের দাবি, কিছুই জানতেন না

ত্ব-হা যে তার বাড়িতে ছিলেন সে বিষয়ে কিছুই জানতেন বলে দাবি করেছেন সিয়াম।

তিনি জানান, বাড়িতে তার বৃদ্ধা মা নিশাত নাহার একাই থাকেন। চাকরির কারণে তিনি থাকেন রংপুরের কামালকাচনা এলাকায়।

গত ১০ জুন ত্ব-হার নিখোঁজের খবর প্রকাশের পর তাকে উদ্ধারের দাবিতে রংপুরে যে কয়েকটি মানববন্ধন হয় তাতে অংশ নেন তিনি। সেখানে বক্তব্যও দেন।

এ বিষয়ে সিয়াম বলেন, ‘ত্ব-হা আমার স্কুল-কলেজের ফ্রেন্ড। আমরা রংপুরে এক সঙ্গে পড়তাম। সেই থেকে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক। আমার বাসায় সে অসংখ্যবার গেছে। আমি থাকতেও গেছে, না থাকলেও গেছে।

‘এবার সে আমার বাড়িতে গেছে আমি এ বিষয়ে কিছুই জানতাম না। যখন সে উদ্ধার হলো, মানে শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হলো, তখন আমি জানি। এরপর আমি মাকে বলি, এত বড় ঘটনা তুমি আমাকে জানালে না কেন? আমি মায়ের সঙ্গে রাগ করি। মা তো আসলে জানত না যে, ত্ব-হা এই কাজ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ত্ব-হা মাকে বলেছে, আন্টি আমি সমস্যায় পড়েছি, কাউকে কিছু বলিয়েন না। মা সে কারণে হয়তো কাউকে কিছু বলেনি, তিনি বুঝতে পারেননি…। এমনকি আমাকেও বলেনি।’

সিয়ামের মা যা জানিয়েছিলেন

সিয়ামের মা নিশাত নাহার নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, ‘শুক্রবার ও (ত্ব-হা) হুট করেই আসছে। আগে কিছুই জানায়নি। সঙ্গে ছিল আরও তিনজন। সবার চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ ছিল। পরে বলে যে, কে জানি ওদের ফলো করতেছে। এটা বলার পর কয়েকদিন এখানে থাকতে চায়। আমি আর না করতে পারিনি।’

এক প্রশ্নে নিশাত জানান, তাদের অন্তর্ধান নিয়ে দেশজুড়ে যে তোলপাড়, সেটি বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত জানতে পারেননি। সেই রাতে তার মেয়ে ফোন করে ত্ব-হার বিষয়টি তাকে জানান।

তিনি দাবি করেন, বৃহস্পতিবার রাতে ত্ব-হাকে তিনি বলেন, তোমার তো বিপদ কেটে গেছে। তোমার সঙ্গে মিডিয়া আছে। তুমি তাহলে কাল সকালে বাড়িতে যাও। তোমার আর কোনো সমস্যা নাই। পরে শুক্রবার সকালে তারা ফিরে যান।

আরও পড়ুন:
ছুটি শেষে ঢাকার পথে শ্রমজীবীরা
ঈদের পরদিনই ঢাকার পথে
‘মানু আয় নাকি লাশ লইয়ায় বুঝি না’
২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি টাকা টোল
ঈদযাত্রায় প্রাণ গেল যুবকের

শেয়ার করুন

আধুনিক অস্ত্র সম্ভাব্য শত্রুদের প্রতিহত করবে: সেনাপ্রধান

আধুনিক অস্ত্র সম্ভাব্য শত্রুদের প্রতিহত করবে: সেনাপ্রধান

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘এমএলআরএস আমাদের বিদ্যমান জেনারেল সাপোর্টস আর্টিলারি অপেক্ষা অধিক দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুকে দুই ধরনের মিসাইল দিয়ে যথাক্রমে ৭০ এবং ১২০ কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম। এই মিসাইল সিস্টেম স্বল্প সময়ে এক বা একাধিক লঞ্চার ব্যবহারের মাধ্যমে একাধিক লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত হানতে পারে। সেই সঙ্গে স্থল ও জলসীমার বড় এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা দিতে সক্ষম।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নতুন সংযোজন হওয়া টাইগার মাল্টিপল লঞ্চ রকেট বা মিসাইল সিস্টেম (টাইগার এমএলআরএস) সম্ভাব্য শত্রুদের যেকোনো অশুভ উদ্দেশ্য প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

সাভার সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশ সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে রোববার দুপুরে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সেনাবাহিনীর এডহক ৫১ আর্টিলারি ইউনিটকে অন্তর্ভুক্তিকরণ সনদ দেন জেনারেল আজিজ আহমেদ।

এর আগে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে এই অন্তর্ভুক্তিকরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘এমএলআরএস আমাদের বিদ্যমান জেনারেল সাপোর্টস আর্টিলারি অপেক্ষা অধিক দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুকে দুই ধরনের মিসাইল দিয়ে যথাক্রমে ৭০ এবং ১২০ কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম। এই মিসাইল সিস্টেম স্বল্প সময়ে এক বা একাধিক লঞ্চার ব্যবহারের মাধ্যমে একাধিক লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত হানতে পারে। সেই সঙ্গে স্থল ও জলসীমার বড় এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা দিতে সক্ষম।

সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘এই সিস্টেমের ওপর নির্বাচিত সেনা সদস্যদের তুরস্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে এই সিস্টেমের ওপর স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে।

‘আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সকল সদস্যকে কারিগরি ও পেশাগত জ্ঞান নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। আমি বিশ্বাস করি, এই অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের সংযোজন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল সদস্যের মনোবল বাড়াবে।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের হাত ধরে যে সেনাবাহিনীর জন্ম, তা আজ কালের পরিক্রমায় বিশ্ব দরবারে একটি দক্ষ ও সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আধুনিক হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ হয়েছে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্রবাহিনী আধুনিক অস্ত্র, সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণে সক্রিয়তা বাড়াতে পেরেছে। আমাদের এই অবস্থান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য দেশপ্রেম ও অবিচল নেতৃত্বের অবদান।’

২০১৮-১৯ বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ‘গভর্নমেন্ট ২০০০’ চুক্তি সম্পাদিত হয়। প্রথম ধাপে গত ৩০মে তুরস্ক থেকে কেনা মিসাইল ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি দেশে এসে পৌঁছায়।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে এ বছরের অক্টোবরে এবং সর্বশেষ ধাপে আগামী বছর অক্টোবরে এই চুক্তির অবশিষ্ট সরঞ্জামাদি ও সকল মিসাইল বাংলাদেশ আসবে।

আরও পড়ুন:
ছুটি শেষে ঢাকার পথে শ্রমজীবীরা
ঈদের পরদিনই ঢাকার পথে
‘মানু আয় নাকি লাশ লইয়ায় বুঝি না’
২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি টাকা টোল
ঈদযাত্রায় প্রাণ গেল যুবকের

শেয়ার করুন

বিনা ভোটে কুমিল্লার এমপি হচ্ছেন নৌকার হাশেম

বিনা ভোটে কুমিল্লার এমপি হচ্ছেন নৌকার হাশেম

রোববার সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শওকত উসমান। তিনি বলেন, তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টির জসিম উদ্দিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এ বিষয়ে আগামী ২৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম খান।

রোববার সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শওকত উসমান। তিনি বলেন, তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টির জসিম উদ্দিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

এ বিষয়ে আগামী ২৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কারণ জানতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। এসএমএস পাঠিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা দলীয় প্রার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেন। কেউ কেউ ফুল নিয়েও প্রার্থীর সঙ্গে দেখা করেন।

গত ১৪ জুন পর্যন্ত এ আসনে মোট আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও ১৫ জুন মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন মাত্র দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু ১৪ এপ্রিল মারা যান। ২১ এপ্রিল আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। তিনি এ আসন থেকে মোট পাঁচবার (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৮) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
ছুটি শেষে ঢাকার পথে শ্রমজীবীরা
ঈদের পরদিনই ঢাকার পথে
‘মানু আয় নাকি লাশ লইয়ায় বুঝি না’
২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি টাকা টোল
ঈদযাত্রায় প্রাণ গেল যুবকের

শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুরে উপনির্বাচনে সব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

লক্ষ্মীপুরে উপনির্বাচনে সব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিতরা রোববার দুপুর থেকে উপনির্বাচনের কেন্দ্রে ভোটের সামগ্রী পৌঁছানো শুরু করেছেন। ছবি: নিউজবাংলা

লক্ষ্মীপুর-২ আসনে উপনির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দুলার তালুকদার জানান, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর-২ (সদরের একাংশ ও রায়পুর) আসনে উপনির্বাচনের পাশাপাশি রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সোমবার। প্রতিটি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের লক্ষ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। কেউ অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমনের হুঁশিয়ারী দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।

প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃংখলা বাহিনীর সার্বক্ষণিক টহল নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল তালুকদার।

টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিতরা রোববার দুপুর থেকে উপনির্বাচনের প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটের সামগ্রী পৌঁছানো শুরু করেছেন। উপনির্বাচনে ভোট হবে ইভিএমে।

নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এবং লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির শেখ মো. ফায়িজ উল্যাহ শিপন উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি এ নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি।

আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস জানায়, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার ৯২৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪ হাজার ৪৬০ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৩ জন। কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৬টি।

সোমবার সকাল ৮ থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

নির্বাচনী এলাকার লোকজন জানান, উপনির্বাচন ও ইউপি নির্বাচন নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই ভোটারদের। তবুও যারা কেন্দ্রে যাবেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন ভোটাররা।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেখ ফয়েজের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মীরা তার নেতাকর্মীদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। তার কর্মীদের ভোটকেন্দ্র যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

ভোটারদের মাঝে কোন ধরনের ভয়ভীতি নেই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুর উদ্দিন জানান, মানুষের মাঝে ভোটের আমেজ দেখা দিয়েছে। কখন ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিবেন, সে অপেক্ষা করছে মানুষ। বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী তিনি।

এ দিকে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ছয় ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ হচ্ছে একই দিনে। কমলনগরের তোরাবগঞ্জ, চরফলকন, হাজিরহাট এবং রামগতির চরবাদাম, চরপোড়াগাছা ও চররমজি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার এক লাখ ২৩ হাজার ৩১৪।

বিএনপি ইউপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও ছয় ইউনিয়নে রয়েছে আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। নির্বাচনী এলাকার লোকজন জাজান, আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বিরোধ। প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, পাল্টা হামলা ও হুমকি-ধামকির অভিযোগ তুলেছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে হামলার ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার।

তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়সাল আহমদ রতনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের প্রার্থী মির্জা আশ্রাফুল জামাল রাসেলের সমর্থকদের হামলা-মামলার ভয়ে তার কর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। সুষ্ঠু ভোটের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

তবে হামলা-মামলাসহ ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মির্জা আশ্ররাফুল উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট চেয়েছেন। তিনি জানান, বিজয় হলে এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে। বন্ধ হবে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী।

একই কথা বলছেন অন্য উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনে উপনির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দুলার তালুকদার জানান, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন।

লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনোয়ার হোছাইন আকন্দ ও পুলিশ সুপার (এসপি) ড. এএইচ এম কামরুজ্জামান জানান, ভোটাররা যেনো নিরাপদে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেটরা প্রস্তুত আছেন।

কেউ কোন ধরনের অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারী দেন ডিসি-এসপি।

২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ২৮ জানুয়ারি মানব ও অর্থ পাচারের দায়ে পাপুলকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয় কুয়েতের আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১৯ লাখ কুয়েতি রিয়াল জরিমানা করা হয়। এরপর আপিলে সাজা তিন বছর বাড়িয়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

২৩ ফেব্রুয়ারি পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। ৩ মার্চ লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন:
ছুটি শেষে ঢাকার পথে শ্রমজীবীরা
ঈদের পরদিনই ঢাকার পথে
‘মানু আয় নাকি লাশ লইয়ায় বুঝি না’
২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি টাকা টোল
ঈদযাত্রায় প্রাণ গেল যুবকের

শেয়ার করুন

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বুয়েটে তাকিয়ে সরকার

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বুয়েটে তাকিয়ে সরকার

ফাইল ছবি

সড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা একটি প্রতিবেদন তৈরি চলমান রয়েছে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, সড়ক অনুযায়ী যানবাহনের পরিমাণ নির্ধারণসহ নানা বিষয় এতে উঠে আসবে।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছে সরকার।

সচিবালয়ে রোববার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সড়ক পরিবহনবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠক শেষে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

মন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে বিভিন্ন সময়ে কীভাবে দুর্ঘটনা হয়, সেটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে তারা তাদের মতামত রেখেছেন।’

সড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা একটি প্রতিবেদন তৈরি চলমান রয়েছে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, সড়ক অনুযায়ী যানবাহনের পরিমাণ নির্ধারণসহ নানা বিষয় এতে উঠে আসবে।

‘তারা বিস্তারিতভাবে একটি টেকনিক্যাল রিপোর্ট আমাদের সাবমিট করবেন। সার্ভে করে কোন রাস্তায় কী পরিমাণ গাড়ি চলতে পারে- সমস্ত বিষয় নিয়ে তারা একটি রিপোর্ট সাবমিট করবেন। পুলিশের মাধ্যমে সেটা আমাদের কাছে আসবে।’

মোটরসাইকেলে আবারও চালক বাদে দুইজন আরোহী নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে বলে সড়ক পরিবহন বিষয়ক টাস্কফোর্সের বৈঠকে জানানো হয়। এর ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বাড়ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মোটরসাইকেলে কোনো ক্রমেই দুইজনের বাইরে যেন কেউ না উঠতে না পারে সেজন্য পুলিশ প্রশাসন লক্ষ্য রাখবেন। তারা লক্ষ্য রেখে যাচ্ছেন। তবে সেটাকে আরও জোরদার করবেন।’

অনিবিন্ধিত মোটরসাইকেলসহ কোনো যানবাহনে যেন সড়কে না নামতে পারে, সেদিকে নজর দিতে পুলিশবাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলে, ‘আমরা সেটার ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছি। পুলিশ প্রশাসন সেটা দেখবে। মোটরসাইকেল হোক বা যেকোনো যানবাহন হোক নিবন্ধনের বাইরে যাতে কোনো যানবাহন রাস্তায় বের করতে না পারে সে ব্যবস্থা করব।’

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বুয়েটে তাকিয়ে সরকার
সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে বলে জানিয়েছে সড়ক পরিবহনবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স

দুর্ঘটনা বাড়ার রিপোর্ট নেই

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও সামগ্রিকভাবে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে বলে মনে করেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা খুব বেড়েছে এ রকম কোনো রিপোর্ট আমার কাছে নেই। ডেইলি রিপোর্ট আমরা দেখি।’

তবে স্বীকার করেছেন, দুর্ঘটনা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনা কমানোর জন্যই টেকনিক্যাল এক্সপার্টরা পুলিশের সঙ্গে বসে একটা প্রতিবেদন আমাদের সাবমিট করবে, আমাদের ফলো করার জন্য। সেটা নিয়ে কাজ করতে আমরা রেডি হচ্ছি।’

দুর্ঘটনার প্রতিরোধ ও কারণ অনুসন্ধানে মহাসড়কে ক্যামেরা বসানো হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘হাইওয়েতে আমরা ক্যামেরা স্থাপন করছি। টেন্ডার হয়ে গেছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হাইওয়ে পুরোপরি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’

এরমধ্য দিয়ে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নজরদারি বাড়ানো সম্ভব হবে বলেও মত তার।

‘তাহলে দুর্ঘটনা কীভাবে হলো, কে কীভাবে গাড়ি থামাল- সব নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। আমাদের পুলিশবাহিনী বসে বসে দেখতে পারবে কী হচ্ছে।’

যেখানে সেখানে টোল আদায় নয়

নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও গাড়ি থামিয়ে টোল, রাজস্ব আদায় করা যাবে না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সড়ক পরিবহন বিষয়ক টাস্কফোর্স।

সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইজারাকৃত জায়গায় এবং আমাদের স্থানীয় সরকার পরিচালিত যে সমস্ত সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা আছে, তাদের নির্ধারিত ফি কিংবা টোল সবগুলোই কিংবা পরিবহনের নির্ধারিত টার্মিনাল ছাড়া কোনো জায়গা থেকে চাঁদা আদায় করতে পারবে না।’

রাস্তায় দাঁড় করিয়ে কোন যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করা যাবে না জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘চাঁদা কিংবা টোল বা রাজস্ব যেটাই হোক আদায় করতে হবে নির্ধারিত স্থান থেকে, নির্ধারিত টার্মিনাল থেকে। আমরা এটাও আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

টাস্কফোর্সের অগ্রগতি

টাস্কফোর্সের ১১১ সুপারিশ কার্যকরেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘টাস্কফোর্সের গতি বাড়ানোর জন্য চার মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির মাধ্যমে একজন করে ফোকাল পয়েন্ট থাকবেন। টাস্কফোর্সের ১১১টি সুপারিশ বাস্তবায়নে তারা একটি কর্মপদ্ধতি বের করে আগামী বৈঠকে পেশ করবেন।’

সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের পথে। কিছু কিছু সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়েছে। আর বাকিগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করব সেজন্য একটা কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছি। সেগুলো নিয়ে আমরা পরবর্তী মিটিংয়ের দীর্ঘ আলোচনা করব।’

আরও পড়ুন:
ছুটি শেষে ঢাকার পথে শ্রমজীবীরা
ঈদের পরদিনই ঢাকার পথে
‘মানু আয় নাকি লাশ লইয়ায় বুঝি না’
২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি টাকা টোল
ঈদযাত্রায় প্রাণ গেল যুবকের

শেয়ার করুন

পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্র বাধ্যতামূলক

পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্র বাধ্যতামূলক

ফাইল ছবি

সড়ক পরিবহনবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার অপেক্ষায় থাকা সড়ক পরিবহন আইনের আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। টাস্কফোর্স সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিবহনখাতে কর্মরত চালক-শ্রমিক সবার নিয়োগপত্র থাকা বাধ্যতামূলক করছে সরকার। নিয়োগপত্র না থাকলে আটকে দেয়া হবে ড্রাইভিং লাইসেন্স। শিগগিরই বিষয়টি নিষ্পতি করার লক্ষ্যে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সচিবালয়ে রোববার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সড়ক পরিবহনবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার অপেক্ষায় থাকা সড়ক পরিবহন আইনের আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। টাস্কফোর্স সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের মালিকপক্ষ থেকে নিয়োগপত্র দিতে হবে। তারা দুই পক্ষ খুব তাড়াতাড়ি বিষয়টি বাস্তবায়ন করবেন বলে জানিয়ে গেছে।’

এমন সিদ্ধান্তের কারণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘সড়ক আইনটি যেহেতু হচ্ছে, সেটার মধ্যে সুস্পষ্টভাবে আছে যে মালিকদেরকে অবশ্যই নিয়োগপত্র দিতে হবে। সে আইনটা পাস হয়েছিল। কিন্তু সেটা আবার পরিশুদ্ধ করে আমাদের পার্লামেন্টে আসছে।’

বিষয়টি বাস্তবায়নে জটিলতা আছে বলে স্বীকার করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘আর এটা নিয়ে অনেক জটিলতা আছে। আমরা দীর্ঘ আলাপ করেছি। চালক ও শ্রমিকরা-এরা বিভিন্ন সময় জায়গা পাল্টায়। এক মালিকের কাছ থেকে আরেক মালিককের কাছে চলে যায়। নানা ধরনের কথা-বার্তা আসছে।’

মালিক-শ্রমিক দুইপক্ষকে বসে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘মহাসড়ক বিভাগের সচিব এখানে আছেন। বিআরটিএও সেখানে ব্যবস্থা নেবেন। তারা (পরিবহন শ্রমিকরা) রেজিস্ট্রেশন করার সময় সেগুলো না দেখাতে পারলে রেজিস্ট্রেশন দেবেন না- এমন কথা বার্তাও হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
ছুটি শেষে ঢাকার পথে শ্রমজীবীরা
ঈদের পরদিনই ঢাকার পথে
‘মানু আয় নাকি লাশ লইয়ায় বুঝি না’
২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি টাকা টোল
ঈদযাত্রায় প্রাণ গেল যুবকের

শেয়ার করুন

এখন নজর দিতে হবে বিদ্যুৎ সঞ্চালনে

এখন নজর দিতে হবে বিদ্যুৎ সঞ্চালনে

সিপিডির ভার্চুয়াল সেমিনারে বলা হয়, চাহিদার তুলনায় এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন (জেনারেশন) বেশি হচ্ছে। সুতরাং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বাজেটে বরাদ্দ আর বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। এখন মনোযোগ দিতে হবে সঞ্চালন ও সরবরাহের ওপর। এখানে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

দেশে যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এখন পরিমাণ না বাড়িয়ে বিদ্যুতের গুণগত মানের দিকে নজর দিতে হবে। এ জন্য বিদ্যুৎ খাতের দক্ষতা বাড়িয়ে সংস্কার করার এখনই সময়।

প্রস্তাবিত বাজেটে ‘বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ ও সংস্কার’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল সেমিনারে এ অভিমত বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের। তারা আরও বলেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে হিসাব দেখাচ্ছে, তা শুভংকরের ফাঁকি। বেশি উৎপাদনের তথ্য দেখাচ্ছে সরকার। এটি প্রকৃত চিত্র নয়।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির ঊর্ধ্বতন গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

বক্তারা মনে করেন, চাহিদার তুলনায় এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন (জেনারেশন) বেশি হচ্ছে। সুতরাং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বাজেটে বরাদ্দ আর বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। আমাদের এখন মনোযোগ দিতে হবে সঞ্চালন ও সরবরাহের (ট্রান্সমিশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন) ওপর। এখানে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

ভাড়ায় চালিত রেন্টাল ও কুইক রেন্টালে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সময় আর না বাড়ানোর দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে পরিবেশদূষণ রোধ ও টেকসই পরিবেশ উন্নয়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন তারা।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে রোডম্যাপ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সঞ্চালন এবং সরবরাহ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরুৎসাহিত করে ক্রমান্বয়ে সবুজ অর্থনীতির দিকে যাওয়ার পরামর্শ দেন তারা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

স্বাগত বক্তবে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের দক্ষতা বাড়লে গ্রাহক সাশ্রয়ী দামে সেবা পাবেন। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন পর্যাপ্ত। এখন গুণগত মানের দিকে নিজর দিতে হবে। এ জন্য ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন থেকে সরে আসার ঘোষণা থাকলেও তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। টেকসই পরিবেশের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেশি নজর দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, উৎপাদন বাড়ছে, এটা ইতিবাচক। তবে লোডশেডিং এখনও হচ্ছে। তার মানে দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সঞ্চালনব্যবস্থায় সংকট আছে। রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উঠিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও তা রয়ে গেছে এখনও।

বিদ্যুৎ খাতে আগের বছরের তুলনায় আনুপাতিক হারে বরাদ্দ বাড়লেও মোট বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে অংশ কমে গেছে। বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে ডিস্ট্রিবিউশন এবং ট্রান্সমিশনে।

বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমছে, আরও কমানোর সুযোগ আছে, যদি দক্ষতা বাড়ানো যায়– মন্তব্য করেন গোলাম মোয়াজ্জেম।

বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ উদ্যোক্তা আসিফ আশরাফ বলেন, ‘দেশে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ আছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই আমাদের এখন নতুন করে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের দরকার নেই। টেকসই পরিবেশের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে। এসব কেন্দ্র স্থাপনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানিতে উচ্চ হারে কর রয়েছে। তা কমাতে হবে।’

যারা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, তাদের কর প্রণোদনা দেয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।

সরকারি সংস্থা ইডকলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন মালিক বলেন, ‘আমাদের ধীরে ধীরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হচ্ছে জমি। ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।’

আরেকজন বেসরকারি উদ্যোক্তা ডি এম মুজিবর রহমান বলেন, ‘এখন আমাদের ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ব্যবহার হচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। বাকিটা উদ্বৃত্ত। ২০৩০ সালের মধ্যে ৫৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন করেন, এত বিদ্যুৎ দিয়ে আমরা কী করব?’

ডিস্ট্রিবিউশন-ব্যবস্থায় বিশাল অপচয় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এবং পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে সমন্বয় না থাকার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

বুয়েটের অধ্যাপক ম. তামিম দাবি করেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের হিসাব আসলে ‘কাগজে-কলমে’। ৪ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র বসে আছে। দেড় থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এমন অনেক প্লান্টের অবস্থা খুবই খারাপ। আসলে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ শুভংকরের ফাঁকি ছাড়া কিছু নয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের হিসাব ‘অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করেন তিনি।

বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারসের সভাপতি ইমরান করিম ট্রান্সমিশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন-ব্যবস্থায় বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন না করার পরামর্শ দেন তিনি।

বুয়েটের ড. ফারসিন মান্নান মোহম্মদী বলেন, আগে জাতীয় বাজেটে বিদ্যুতের ওপর আলাদা একটি রোডম্যাপ বা পথনকশা দেয়া হতো। এবারের বাজেটে তা দেয়া হয়নি। জ্বালানি খাতে কোনো পরিকল্পনা নেই। এর জন্য রোডম্যাপ দরকার। আনুপাতিক হারে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে এ খাতে। তবে মোট বাজেটের তুলনায় বরাদ্দ কমে গেছে।

বেসরকারি উদ্যোক্তা ইমরান রশিদ বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে চুক্তিগুলো আরও স্বচ্ছ হওয়া দরকার। ‘একতরফা’ এসব চুক্তিতে দর-কষাকষির সুযোগ নেই। এ খাতে জমি একটি বড় সমস্যা। যথাসময়ে পেমেন্ট না পাওয়াও বড় সমস্যা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির টাকা (এডিপি) ঠিকমতো খরচ হয় না। বিদ্যুৎ খাতে অদক্ষতার পেছনে এসব বিষয় কাজ করে। এ জন্য এ খাতে সংস্কার করার এখনই সময়।

সরকারি সংস্থা পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ পৃথিবীর সব দেশেই আছে। তবে কীভাবে খরচ কমানো যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের দক্ষতা ও গুণগত মান নিয়েও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

নতুন কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা এ মুহূর্তে সরকারের নেই বলে জানান তিনি।

বাজেটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখন বরাদ্দ বেশি নয় বলে দাবি করেন তিনি। বরং দুই-তৃতীয়াংশ বরাদ্দ দেয়া হয় ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশনে। রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আর অব্যাহত রাখা হবে না বলে জানান তিনি।

মোহাম্মদ হোসেন আরও বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমরা বাজেটে ডিস্ট্রিবিউশন এবং ট্রান্সমিশনে বরাদ্দ বেশি রাখার বিষয়ে নজর দিয়েছি এবং ভবিষ্যতে তা অব্যাহত থাকবে। এখন বিদ্যুৎ খাতে বেশির ভাগ প্রকল্প এ-সংক্রান্ত।’

সিপিডিরি নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বিদ্যুতের গুণগত বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে এর উৎপাদন খরচ বাড়বে। পরিবেশদূষণ রোধে আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজায়নের দিকে যেতে হবে। এ জন্য এসব খাতে বাজেট বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ছুটি শেষে ঢাকার পথে শ্রমজীবীরা
ঈদের পরদিনই ঢাকার পথে
‘মানু আয় নাকি লাশ লইয়ায় বুঝি না’
২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি টাকা টোল
ঈদযাত্রায় প্রাণ গেল যুবকের

শেয়ার করুন