বাসায় তালা, বাবুল-মিতুর দুই সন্তান কোথায়

বাসায় তালা, বাবুল-মিতুর দুই সন্তান কোথায়

মঙ্গলবার তার বর্তমান স্ত্রী এবং বাবুল-মিতু দম্পতির দুই সন্তান ও বাবুলের এক ভাতিজা মোহাম্মদপুরের ওই বাসা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন বলে বের হন। এরপর তারা কোথায় আছেন জানা যায়নি। বাবুলের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপায় যাননি তার বর্তমান স্ত্রী ও সন্তানরা।

ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তার স্বামী এখন কারাগারে আছেন।

বাবুল আকতার গত বুধবার গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের সন্তান কোথায় আছে, তা জানতে পারেনি মামলাটির বর্তমান তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তবে নিউজবাংলার অনুসন্ধান অনুযায়ী, দুই সন্তান বাবুলের বর্তমান স্ত্রীর সঙ্গে রয়েছে। সোমবার ভোরে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে বের হন বাবুল আকতরা। তার সর্বশেষ কর্মস্থল আদ-দীন হাসপাতালের একটি গাড়িতে চড়ে বাসা থেকে বের হন তিনি।

পরদিন মঙ্গলবার তার বর্তমান স্ত্রী এবং বাবুল-মিতু দম্পতির দুই সন্তান ও বাবুলের এক ভাতিজা মোহাম্মদপুরের ওই বাসা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন বলে বের হন। এরপর তারা কোথায় আছেন জানা যায়নি। বাবুলের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপায় যাননি তার বর্তমান স্ত্রী ও সন্তানরা।

বাবুল-মিতুর দুই সন্তান কোথায় আছে, তা জানতে তদন্ত কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, ‘তারা (বাবুল-মিতুর দুই সন্তান) ঢাকার বাসায় নেই। তারা নিরাপদে আছে কি না জানতে আমাদের তদন্ত কর্মকর্তারা পেটার্নাল পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে এখনও জানা যায়নি।’

মামলায় ভুল ঠিকানা দিয়েছিলেন বাবুল

মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আকতারসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এই মালায় বাবুল আকতারের মোহাম্মদপুরের বাসার ভুল ঠিকানা দেয়া হয়, যে ঠিকানা বাবুলই তার করা হত্যা মামলায় দিয়েছিলেন।

মামলায় মোহাম্মদপুরের বাসার ঠিকানায় লিখা ছিল বাবর রোড, ব্লক সি, রোড-১১, বাড়ি-২২। এই ঠিকানায় কোনো বাড়ি পাওয়া যায়নি। বাড়ি নম্বর ঠিক থাকলেও রোড ও ব্লক নম্বর ভুল ছিল।

তবে ভুল ঠিকানায় বাড়ি খুঁজতে গিয়েই পাওয়া যায় প্রকৃত বাড়ির ঠিকানা। সেখানে কথা হয় কেয়ারটেকার সোহেলের সঙ্গে। তিনি জানান, সোমবার ভোরে আদ-দ্বীনের গাড়িতে করে বাসা থেকে বের হন বাবুল আকতার। পরদিন বাবুলের বর্তমান স্ত্রী, দুই সন্তান ও ভাতিজা বাসা থেকে বেরিয়ে যান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, ‘উনি (বাবুল আক্তার) মিডিয়া ও বাইরের মানুষের থেকে তার সন্তানদের দূরে রাখতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে বাবুলের কাছ থেকে সঠিক ঠিকানা নিয়ে বাসায় যান পিবিআই ঢাকার কর্মকর্তারা। তবে বাসায় কাউকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে বাসাটি তালাবদ্ধ রয়েছে।

ডিবি পরিচয়ে মুসাকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

মিতু হত্যার পর কেটে গেছে পাঁচ বছর। কিন্তু এতদিনেও এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসার কোনো সন্ধান জানাতে পারেনি পুলিশ।

তবে মুসার স্ত্রীর অভিযোগ, ২০১৬ সালে ৫ জুন মিতু হত্যার পর ২২ জুন মুসাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়।

মিতু হত্যার একদিন পর তার স্বামী তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আকতার চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। ওই মামলা প্রথমে ডিবি ও সর্বশেষ পিবিআই তদন্ত করে। ওই মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে বাবুল আকতারকে আসামি করে ১২ মে নতুন আরেকটি মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

এই মামলায় এক নম্বর আসামি বাবুল আকতার। দ্বিতীয়তে রয়েছে মুসার নাম। আসামি রয়েছেন আরও ছয়জন।

বাবুল আকতার চট্টগ্রামে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মুসা তার সোর্স হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার।

তিনি বলেন, ‘মিতু খুন হওয়ার পর আমরা আত্মগোপনে চলে যাই। মুসার একজন পরিচিত ড্রাইভার ছিল নুরুন্নবী নামে। নুরুন্নবীর এক আত্মীয়ের বাসা ছিল চট্টগ্রামের বন্দর কাঠঘর তিন রাস্তার মাথার কাছে। মুসা সারেন্ডার করতে চাইছিল ২১ তারিখ । ২২ তারিখ কোর্টে যাইবে। আমাদের বলছিল নুরুন্নবীর আত্মীয়ের বাসায় যাইতে। উনি সকালে আসবে বলছিল।

‘মুসা বাসায় আসার আগে ডিবির লোক আমাকে ও নুরুন্নবীকে একটা সাদা গাড়িতে করে নিয়ে যায়। আমাদের নিয়ে গাড়িটা দাঁড়ায় তিন রাস্তার মোড়ে। কিছুক্ষণ পর ওইখানে আসে মুসা। ও নুরুন্নবীর বাসা চিনতেছিল, এই কারণে রাস্তার পাশে দাঁড়াইয়া ছিল। এদিকে মুসা আসার পর নুরুন্নবীর কাছ থেকে ডিবি পুলিশ কনফার্ম হয় যে এটাই মুসা। এরপর মুসাকে ধরে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে একটি পিকআপে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এরপর আর দেখা পাইনি মুসার।’

মুসার স্ত্রী পান্না আরও বলেন, ‘যারা মুসাকে তুলে নিছিল, তাদের আমি চিনতে পারছি। তাদের নামও আমি সংবাদ সম্মেলনে বলছিলাম। মাস খানেক আগে পিবিআইকেও বলছি। কিন্তু তারা বলছে, নেয়নি। আমার চোখের সামনে ওরা নিয়ে গিয়ে অস্বীকার করছে।’

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, মুসা পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আট আসামির তিনজন পলাতক

গত ১২ মে মিতুর বাবার করা মামলায় বাবুল আকতরসহ আটজনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে মুসাসহ পলাতক রয়েছেন তিনজন। অন্য ‍দুজন হলেন তিন নম্বর আসামি এহতেশামুল হক ওরফে হানিফুল হক ওরফে ভোলাইয়্যা এবং ছয় নম্বর আসামি খায়রুল ইসলাম ওরফে কালু ওরফে কসাই কালু।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমাও বলেন, মিতু হত্যার প্রথম মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনজন। তারা হলেন মোতালেব মিয়া অরফে ওয়াসিম, আনোয়ার হোসেন ও শাহজাহান মিয়া। আর নতুন মামলা হওয়ার পর বাবুল আকতার ও সাইদুল ইসলাম সিকদার গ্রেপ্তার হয়েছেন।

মুসাসহ পলাতক তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান সন্তোষ কুমার।

আরও পড়ুন:
‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার
নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা
মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা ‘ডাকাত’, দুদকের জালে ইসি কর্মকর্তা

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা ‘ডাকাত’, দুদকের জালে ইসি কর্মকর্তা

পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন করে রোহিঙ্গা নুর আলমকে স্মার্ট কার্ড দেয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, রোহিঙ্গা নুর আলমকে চট্টগ্রাম নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জন্ম সনদ ও জাতীয় পরিচয় পত্র দেয়া হয়। তৎকালীন কাউন্সিলর সরফরাজ কাদের চৌধুরীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে তাকে পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন করে স্মার্ট কার্ড দেয়া হয়। তখন পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ছিলেন আব্দুল লতিফ শেখ।

কক্সবাজারে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত রোহিঙ্গা ‘ডাকাত’ নুর আলমকে ভোটার করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্মকর্তাসহ ছয় জনকে আসামি করে মামলা করেছে দুদক।

মঙ্গলবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন মামলাটি করেন।

রোহিঙ্গা নুর আলমকে এনআইডি, জন্মসনদ ও জাতীয়তা সনদ দেয়ার অভিযোগে মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

তারা হলেন চট্টগ্রাম নগরীর সাবেক পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ও বর্তমানে পাবনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ, চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাবেক ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোহাম্মদ শাহ জামাল, পাঁচলাইশ নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রুফ রিডার উৎপল বড়ুয়া ও রন্তু বড়ুয়া, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের (দক্ষিণ হালিশহর) তৎকালীন কাউন্সিলর সরফরাজ কাদের চৌধুরী রাসেল, একই ওয়ার্ডের জন্মনিবন্ধন সহকারী ফরহাদ হোসাইন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, এনআইডি পেতে নুর আলম তার ঠিকানা চট্টগ্রাম নগরীর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের আমিন জুট মিল কলোনি উল্লেখ করে পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবারক আলী ওই ঠিকানায় নুর আলমের অবস্থানের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রত্যয়ন করেন।

পরে নুর আলম নিজেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ঠান্ডাছড়ি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা উল্লেখ করে আবেদন করেন। রাজানগর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান সামশুল আলমও ওই ঠিকানায় নুর আলম কখনও অবস্থান করেননি বলে প্রত্যয়ন করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, এক পর্যায় নুর আলমকে চট্টগ্রাম নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড (দক্ষিণ হলিশহর) থেকে জন্ম সনদ ও জাতীয় পরিচয় পত্র দেয়া হয়। তৎকালীন কাউন্সিলর সরফরাজ কাদের চৌধুরী রাসেলের প্রত্যয়নের ভিত্তিতে নুর আলমকে পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন করে স্মার্ট কার্ড দেয়া হয়। তখন পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ছিলেন আব্দুল লতিফ শেখ।

নুর আলমকে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন ও স্মার্ট কার্ডের জন্য তথ্য সার্ভারে আপলোড এবং পরে স্মার্ট কার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবারক আলী ও রাজানগর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান সামশুল আলমের প্রত্যয়ন আমলে নেননি। এমনকি তাদের দেয়া তথ্য সংরক্ষণও করেননি।

দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা নুর আলমকে ভোটার তালিকাভুক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট কার্ড) সরবরাহের জন্য ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় আসামিরা অপরাধ করেছেন।

২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার জাদিমুরা ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন রোহিঙ্গা ‘ডাকাত’ নুর আলম। ওইদিন বিকেলে তাকে টেকনাফের রঙ্গিখালী উলুচামারী পাহাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল টেকনাফ থানা পুলিশ। স্থানীয় যুবলীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন নুর আলম।

আরও পড়ুন:
‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার
নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা
মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই

শেয়ার করুন

প্রটোকলের আশা ছিল, পাইনি: পরীমনি

প্রটোকলের আশা ছিল, পাইনি: পরীমনি

ডিবি কার্যালয়ের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ক্যামেরাবন্দি হন পরীমনি। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমি অপেক্ষা করছিলাম যে, কেউ আমাকে প্রোটোকল দিয়ে নেয় কিনা। আসলে কেউ আসে নাই। সো আমারই যেতে হচ্ছে। কারণ আমার তো যাইতে হবে। কথা বলতে হবে তাদের সাথে।’

আলোচিত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনি মঙ্গলবার নিজ বাসা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে যাওয়ার পথে পুলিশি প্রটোকল পাওয়ার আশা করেছিলেন। তবে সেটা না পেয়ে শেষপর্যন্ত নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়েই বনানী থেকে রওনা হন মিন্টো রোডের উদ্দেশে।

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলায় প্রধান অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হওয়ার পরদিন পরীমনিকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। ডিবির কর্মকর্তারা জানান, মামলার তদন্তের জন্য পরীমনির বক্তব্য দরকার। আর সে জন্যই ডাকা হয় পরীমনিকে।

এতে সাড়া দিয়ে বেলা সোয়া ৩টার দিকে নিজের বাসা থেকে একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেট কারে বেরিয়ে যান পরীমনি। এ সময় তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি অপেক্ষা করছিলাম যে, কেউ আমাকে প্রোটোকল দিয়ে নেয় কিনা। আসলে কেউ আসে নাই। সো আমারই যেতে হচ্ছে। কারণ আমার তো যাইতে হবে। কথা বলতে হবে তাদের সাথে।’

কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি শুরুতে বলেন, ‘ডিসি অফিস।’ পরে সংশোধন করে বলেন, ‘ডিবি অফিস।’

পরীমনিকে পুলিশের নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল না। তবে আমি আশা করছিলাম যে, আমি একটা প্রোটোকল পাব।’

তাহলে প্রোটোকল ছাড়াই যাচ্ছেন কেন- এমন প্রশ্নে পরীমনি বলেন, ‘আমার তো এখন সাংবাদিক ভায়েরা আছেন। আপনারা আছেন। তবে আমি কোনো প্রোটোকল চাইনি। আসলে মনে মনে আশা করছিলাম, কিন্তু মনে মনে চাইলে তো আর হয় না। আমি বলিনি তাদেরকে।

‘এখন তো আমার মনে হয় রাস্তায় হঠাৎ করে আমাকে কেউ আক্রমণ করবে না। আমি এখন নিরাপদ আমার মনে হয়। কারণ সবাই এখন জানে জিনিসটা।’

বাসা থেকে বের হওয়ার প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে পৌঁছান পরীমনি। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেরিয়ে তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পরীমনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমি আসলে মেন্টালি কতটা স্ট্রং হয়ে গেছি। সবাই এত সাপোর্ট দিয়েছেন…।’

এর আগে রোববার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেন পরীমনি। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এই বিচার কই চাইব আমি? কোথায় চাইব? কে করবে সঠিক বিচার? আমি খুঁজে পাইনি গত চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু বেনজীর আহমেদ আইজিপি স্যার! আমি কাউকে পাই না মা (প্রধানমন্ত্রী)।’

তবে ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে পুলিশের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ছিল পরীমনির কণ্ঠে।

আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরীমনি বলেন, ‘আমার একমাত্র ভরসা উনিই ছিলেন। আমি সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারতেছিলাম না বলেই এসব কথা। তিনি যখন জেনেছেন এই কথাটা, বেনজীর স্যার যখন জেনেছেন, তার কান অবধি গেছে, কান অবধি পৌঁছাতে পেরেছি, তখন তো আপনারা দেখলেন, কয়েক ঘণ্টা লাগছে মাত্র।

‘আমার তো মূল বিশ্বাসটা ওইটাই ছিল, তার কান অবধি পৌঁছালে সে একদম সেটা নিজের মতো করে দেখে নেবে।’

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রথম দিকে হতাশার কারণ জানতে চাইলে পরীমনি বলেন, ‘আমি ওই পর্যন্ত যেতে পারছিলাম না, এটা নিয়েই তো এতক্ষণ কথা বলছি।’

ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে পরীমনি বলেন, ‘এখানে এসে আমি আসলে মেন্টালি অনেক রিফ্রেশড। আমি যে কাজে ফিরব, এটা কেউ আমাকে কিন্তু বলেনি। আমার আশপাশে যারা ছিল তারা সবাই আমাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেছে কিন্তু আমার যে কাজে ফিরতে হবে, আমাকে এই শক্তিটা তারা (পুলিশ) জুগিয়েছেন এতক্ষণ ধরে।’

গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে কী বিষয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার কাজ নিয়ে কথা বলেছে, আমাকে নানা রকম গুড ভাইভ দেয়া হচ্ছে। আমার নরমাল লাইফে কীভাবে ফিরে যাব। আমি এতটা তাদের কাছে আশা করিনি। তারা এতটা বন্ধুসুলভ, একটা ম্যাজিকের মতো হয়ে গেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদেরও প্রশংসা করেন পরীমনি। বলেন, ‘এত তাড়াতাড়ি হারুন স্যার যেভাবে ম্যাজিকের মতো কয়েক ঘণ্টার মধ্যে…। ঘুমিয়ে মানুষ জাগে সকালে, সেইটাও আমি সুযোগটা পাইনি। মানে ঘুমানোরই আমি টাইম পাইনি। তার আগেই দেখলাম যে এত দ্রুত কাজগুলো (আসামিদের গ্রেপ্তার) হয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন:
‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার
নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা
মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই

শেয়ার করুন

ডিএসইর সমস্যাসংকুল অ্যাপে ফি নিয়ে ক্ষোভ

ডিএসইর সমস্যাসংকুল অ্যাপে ফি নিয়ে ক্ষোভ

গত বছরও ডিএসই অ্যাপ ব্যবহারে ফি নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তখন কথা ছিল, তারা মাসে নেবে ১৫০ টাকা করে। কিন্তু অ্যাপের দুর্বলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা আপত্তি তোলার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কথা বলে ডিএসইর সঙ্গে। আর তখন ফি নেয়ার বিষয়টি থেমে যায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বিনিয়োগকারীরা ব্রোকারেজ হাউজের প্রতিনিধিদের সহযোগিতা ছাড়া নিজে নিজেই অ্যাপ ব্যবহার করে শেয়ার কেনাবেচার আদেশ দিতে পারলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে।

অ্যাপটির নানা সমস্যার কারণে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ দুঃখও প্রকাশ করেছে একাধিকবার, ত্রুটি দূর করার আশ্বাসও এসেছে বহুবার। কিন্তু সেগুলোর সমাধান না করেই অ্যাপ ব্যবহারে মাসিক ফি নেয়ার ঘোষণা আসার পর বিনিয়োগকারীরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।

তারা প্রশ্ন তুলছেন, যে অ্যাপ হ্যাং করে, সেটিতে কেনা বেচার আদেশ দেয়ার পর তা কার্যকর হয়েছে কি না, তা দেখতে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হয়, সেটির দুর্বলতা দূর না করে টাকা নেয়ার ঘোষণার কী যুক্তি।

ডিএসই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাসে ১০০ টাকা করে ফি নেবে তারা, এই হিসাবে বছরে দিতে হবে এক হাজার দুইশ টাকা। অথচ ব্রোকারেজ হাউজগুলো বছরে ৪৫০ টাকা করে নেয়, তারা প্রতিনিধির মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচার অর্ডার নেয়ার পাশাপাশি ফোনেও অর্ডার নিয়ে থাকে।

ডিএসইর সমস্যাসংকুল অ্যাপে ফি নিয়ে ক্ষোভ
অনেকটা অকার্যকর ডিএসইর মোবাইল অ্যাপ

গত বছরও ডিএসই অ্যাপ ব্যবহারে ফি নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তখন কথা ছিল তারা মাসে নেবে ১৫০ টাকা করে। কিন্তু অ্যাপের দুর্বলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা আপত্তি তোলার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কথা বলে ডিএসইর সঙ্গে। আর তখন ফি নেয়ার বিষয়টি থেমে যায়।

তবে দ্বিতীয়বারের মতো সোমবার ডিএসইর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়, যাতে ফি নেয়ার বিষয়টি জানানো হয়।

এরপর থেকে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক পেজে শত শত বিনিয়োগকারী এ নিয়ে তাদের আপত্তির কথা বলে আসছেন।

পাপলু হোসেন নামে একজন বিনিয়োগকারী বলেছেন, অ্যাপ কার্যকর হলে ফি দিতে আমাদের আপত্তি থাকত না। কিন্তু তারা তো মানসম্পন্ন সেবা দিতে পারছে না। তাহলে ফি নেবে কেন?

ডিএসইর সমস্যাসংকুল অ্যাপে ফি নিয়ে ক্ষোভ
লেনদেনের বেশির ভাগ সময়েই ব্যবহার অনুপযোগী থাকে ডিএসইর মোবাইল অ্যাপ

তিনি নিউজবাংলাকে এই অ্যাপের চারটি দুর্বলনার কথা জানিয়েছেন।

০১. এই অ্যাপটি বেশি অর্ডারের চাপ নিতে পারে না। অর্ডার দিলে লোডিং মুডে থাকে অনেকক্ষণ। বোঝা যায় না অর্ডার কার্যকর হয়েছে কি না। অথচ পুঁজিবাজারে এই সামান্য সময়ও গুরুত্বপূর্ণ।

০২. অ্যাপে অর্ডার সংশোধন বা মডিফাই করা যায় না। কোনো শেয়ারের দাম কমে যেতে থাকলে বা বেড়ে যেতে থাকলে আগের অর্ডার ডিলিট করে নতুন অর্ডার দিতে হয়। অথচ ব্রোকারেজ হাউজে তাৎক্ষণিকভাবে অর্ডার সংশোধনের সুযোগ আছে।

০৩. অ্যাপে ড্রিপ নেই। কোনো বিনিয়োগকারী যদি এক লাখ শেয়ার কিনতে চান, কিন্তু দেখাতে চান ৫০০০, তাহলে তিনি তা পারবেন না। অথচ ব্রোকারেজ হাউজে তিনি ভাগ ভাগ করে অর্ডার দিতে পারেন। একে বলে ড্রিপ। কিন্তু অ্যাপে সেটা সম্ভব নয়।

০৪. অ্যাপ হ্যাং করে বারবার। লগ আউট হয়ে যায় নিজে থেকেই। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কিনতে বা বিক্রি করতে হয়রানির মুখে পড়তে হয়।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা

জানতে চাইলে ডিএসই পরিচালক রকিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অ্যাপটি পরিচালনার জন্য ডিএসইকে অনেক খরচ বহন করতে হয়। আর এ থেকে ডিএসইর কোনো আয় নেই। ফি যেটা ধরা হয়েছে সেটিও নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দিতে হবে। অনেকে ব্রোকার হাউজ, বিনিয়োগকারী অ্যাপ নিয়েছে কিন্তু ব্যবহার করে না, তাদের ব্যয়ও বহন করতে হয়। তাই আমার কথা হচ্ছে, যাদের প্রয়োজন তারাই ব্যবহার করুক। তাদের ফি দিতে সমস্যা নেই।’

তবে অ্যাপের দুর্বলতার বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

ডিএসইর সমস্যাসংকুল অ্যাপে ফি নিয়ে ক্ষোভ
ডিএসইর মোবাইল অ্যাপ এমন হ্যাঙ অবস্থায় থাকে অহরহ

মোবাইল অ্যাপ নিয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, ‘ডিএসই মোবাইল অ্যাপ সেবা এতদিন ফ্রি দিয়েছে। সেটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছিল। এখন যদি ফি বেশি হয় তাহলে তা কমানোর সুযোগ। বাড়তি টাকা ফেরত দেয়ারও ব্যবস্থা আছে। আর যদি আবারও ফ্রি দেয়া যায় তাহলে তাই হবে। এটি নিয়ে খুব বেশি জটিলতা দেখছি না।’

বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছে নিউজবাংলা। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে যেহেতু এটি করা হয়েছে, এখন যদি বিনিয়োগকারীরা এটি থেকে সঠিক তথ্য পেতে ব্যহৃত হয়, সেটি দেখা হবে। আর ফি বিষয়টি নিয়েও না হয় আমি কথা বলব।’

আরও পড়ুন:
‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার
নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা
মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই

শেয়ার করুন

‘গার্ড অফ অনার’ বিষয়ে চূড়ান্ত হলে দেখবে হাইকোর্ট

‘গার্ড অফ অনার’ বিষয়ে চূড়ান্ত হলে দেখবে হাইকোর্ট

রিটকারীর উদ্দেশে আদালত বলে, বিষয়টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ মাত্র। এমন সুপারিশ গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে তখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেয়া হবে। তাই সে পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেয়ার সময় সরকারের নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিকল্প চাওয়া সংসদীয় কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে বিষয়টি হাইকোর্ট দেখবে বলে জানিয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ কথা বলে।

রিটকারীর উদ্দেশে আদালত বলে, বিষয়টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ মাত্র। এমন সুপারিশ গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে তখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেয়া হবে। তাই সে পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।

পরে আদালত চার সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবির আদেশ দেয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ফাওজিয়া করিম। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম।

পরে ফাওজিয়া করিম ফিরোজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টি প্রথমে মৌখিকভাবে আদালতের নজরে আনি। কিন্তু আদালত লিখিত আবেদন আকারে যেতে বলেন। পরে এ বিষয়ে রিট দায়ের করা করি।’

মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ল’ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এফএলএডি) এর আইন ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম রিটটি দায়ের করেন।

রিটে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে বিবাদী করা হয়।

রিট আবেদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ কেন বৈষম্যমূলক, বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়।

মৃত্যুবরণকারী (শহীদ) বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদানে নারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বিকল্প চেয়ে সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। কমিটি এক্ষেত্রে যেসব জায়গায় নারী ইউএনও রয়েছেন, সেখানে পুরুষ কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদান করার পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদান দিনের বেলায় আয়োজন করার সুপারিশ করা হয়।

গত ১৩ জুন সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এরপরই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আপত্তিতে ক্ষুব্ধ নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে ধর্মের বিষয়টিকে সামনে আনা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার
নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা
মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই

শেয়ার করুন

ক্ষমতায় থাকতে হাজারও গাছ কাটেন জিয়া, দাবি তথ্যমন্ত্রীর

ক্ষমতায় থাকতে হাজারও গাছ কাটেন জিয়া, দাবি তথ্যমন্ত্রীর

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গাছ লাগান তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে কেউ একজন বলেছিলেন, গাছের ফাঁক থেকে আপনাকে গুলি করতে পারে। এ কারণে ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করতে ঢাকার সব গাছ কেটে ফেললেন তিনি।’

ক্ষমতায় টিকে থাকতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজধানী ঢাকার কয়েক হাজার গাছ ধ্বংস করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে কেউ একজন বলেছিলেন, গাছের ফাঁক থেকে আপনাকে গুলি করতে পারে। এ কারণে ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করতে ঢাকার সব গাছ কেটে ফেললেন তিনি।’

‘আবার আমরা দেখলাম, হেফাজতের আন্দোলনের সময় বিএনপি-জামায়াত মিলে ঢাকা শহরের সব গাছ কেটে ফেলেছে। পরিবেশ-প্রকৃতি নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের বেশির ভাগকে তখন চুপ থাকতে দেখেছি, যেটি অনভিপ্রেত।’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকতে দেশে একটি অদ্ভূত ধরনের তন্ত্র চালু করেছিলেন, সেটা হচ্ছে কারফিউতন্ত্র।’

‘যাদের বয়স পঞ্চাশের ওপরে তাদের মনে থাকবে, জিয়াউর রহমানের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম শহরে বছরের পর বছর রাতের বেলা কারফিউ ছিল। তিনি ঢাকা শহরের রাস্তার দুই ধারের গাছপালা সব কেটে ফেলেছিলেন।’

প্রতিবছর বর্ষাকালের শুরুতে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী বিভিন্ন সংগঠন। এর অংশ হিসেবে দলের বন ও পরিবেশ উপকমিটি চার মাসের চারা রোপণ ও পরিচর্যা কর্মসূচি শুরু করে।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতার সময় দেশে বনভূমির পরিমাণ ৮ শতাংশে নেমে এসেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত সাড়ে ১২ বছরে বৃক্ষ আচ্ছাদিত জমির পরিমাণ অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে বনভূমির পরিমাণও ১২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।’

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃক্ষরোপণ-বৃক্ষসৃজনকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করেছেন। আমরা একটি করে বনজ, ভেষজ ও ঔষধি তিন ধরনের গাছ লাগিয়ে এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করব।’

এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সমালোচনা করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গুরুজনকে সম্মান করার শিক্ষা আমার পরিবার এবং আমার নেত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন, সে জন্য বয়সে জ্যেষ্ঠ খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান রেখে বলছি, তার ডাকনাম পুতুল, এই জন্যই হয়তো পুতুল কথাটি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবে মাথায় ঘুরপাক খায়।’

অনুষ্ঠানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা কালীমন্দিরসংলগ্ন অংশে ফলদ, বনজ ও ঔষধি তিন প্রকারের একটি করে বৃক্ষের চারা রোপণ করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার
নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা
মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই

শেয়ার করুন

তিন আসনে উপনির্বাচন: মনোনয়নপত্র জমা ১৪ প্রার্থীর

তিন আসনে উপনির্বাচন: মনোনয়নপত্র জমা ১৪ প্রার্থীর

শূন্য হওয়া তিন আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার। এদিন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আটজন এবং স্বতন্ত্র ছয় প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।

বিভিন্ন সময়ে শূন্য হওয়া ঢাকা-১৪, সিলেট-৩ ও কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মোট ১৪ জন।

এসব আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার। এদিন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আটজন এবং স্বতন্ত্র ছয় প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে জানানো হয়, শূন্য তিন আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ ১৪ জন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশ কংগ্রেস, বিএনএফ- এই পাঁচ দলের আটজন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ছয়জন মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এদিকে উপনির্বাচনসহ আপাতত কোনো নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দেবে না বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

তিন আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন যারা-

ঢাকা-১৪

এই আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ছয়জন।

তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আগা খান মিন্টু, জাতীয় পার্টির মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, বিএনএফের কামরুল ইসলাম। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মনিরুজ্জামান ও রুহুল আমীন।

সিলেট-৩

এই আসনেও প্রার্থী হয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান, জাতীয় পার্টির মো. আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ফাহমিদা হোসেন, শফি আহমেদ চৌধুরী ও শেখ জাহিদুর রহমান মাসুম।

কুমিল্লা-৫

এই আসনের জন্য দুজন প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল হাসেম খান ও জাতীয় পার্টির মো. জসিম উদ্দিন।

গত ২ জুন শূন্য হওয়া এসব সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।

তফসিল অনুযায়ী, আসন তিনটিতে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৫ জুন, মনোয়নপত্র বাছাই ১৭ জুন ও প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৩ জুন। ২৪ জুন প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর ভোট হবে আগামী ২৮ জুলাই।

আরও পড়ুন:
‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার
নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা
মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই

শেয়ার করুন

এবার জকিগঞ্জে মিলবে গ্যাস!

এবার জকিগঞ্জে মিলবে গ্যাস!

জকিগঞ্জে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে অনুসন্ধান চালাচ্ছে বাপেক্স। এতে আশাবাদী হওয়ার মতো অনেক কিছুই মিলছে। সবগুলো পরীক্ষা সফল হলে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়া হবে। সে ক্ষেত্রে এটি হবে জকিগঞ্জ উপজেলার প্রথম ও দেশের ২৮তম গ্যাসক্ষেত্র।

সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জে একটি গ্যাসক্ষেত্র পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে সেখানে গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

জকিগঞ্জের পশ্চিম আনন্দপুর গ্রামে অনুসন্ধান চালায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। এ অনুসন্ধানে প্রথম দফার পরীক্ষায় গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আরও কয়েক দফা পরীক্ষা চালিয়ে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বাপেক্স কর্মকর্তারা।

সব পরীক্ষা সফল হলে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়া হবে। সে ক্ষেত্রে এটি হবে জকিগঞ্জ উপজেলার প্রথম ও দেশের ২৮তম গ্যাসক্ষেত্র।

১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে প্রথম গ্যাসের সন্ধান মেলে। এরপর আবিষ্কৃত হয়েছে আরও বেশ কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্র। দেশের গ্যাসের চাহিদার একটি বড় অংশের জোগানদাতা উত্তর-পূর্বের এই জনপদ।

হরিপুর, কৈলাশটিলা, রশিদুপর, বিয়ানীবাজার ও ছাতক গ্যাসক্ষেত্র মিলিয়ে সিলেট গ্যাসফিল্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্যাসকূপই রয়েছে ২৯টি। এ ছাড়া সিলেট ও হবিগঞ্জের একাধিক ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান শেভরন। সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা আর মৌলভীবাজারের মাগুরছড়ায় উত্তোলনকালে আগুনে ধ্বংসও হয় দুটি গ্যাসক্ষেত্র।

জকিগঞ্জে নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনা সম্পর্কে সিলেট গ্যাসফিল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে আমাদের ধারণা। এই ধারণা থেকে অনেক জায়গায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। সিলেটের জকিগঞ্জে বাপেক্স অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এই অনুসন্ধানে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এখনও তারা আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।’

এদিকে, বাপেক্সের অনুসন্ধানে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়ায় মঙ্গলবার সকালে উপজেলা শহরের অদূরে পশ্চিম আনন্দপুর গ্রামের অনুসন্ধান কূপে ড্রিল স্টিম টেস্ট (ডিএসটি) ‘সৌভাগ্য শিখা’ প্রজ্বালন করা হয়।

বাপেক্স কর্মকর্তারা জানান, জকিগঞ্জের পাশের বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় একাধিক গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। জকিগঞ্জেও দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। এই প্রথম আশাবাদি হওয়ার মতো উপকরণ পাওয়া গেছে।

সিলেট গ্যাসফিল্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন এই গ্যাসক্ষেত্রের প্রকল্প পরিচালক কবির আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জকিগঞ্জে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে অনুসন্ধান চালাচ্ছে বাপেক্স। অনুসন্ধানে আশাবাদী হওয়ার মতো অনেক কিছুই মিলছে। তবে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাবে না।’

বাপেক্স কর্মকর্তারা বলছেন, কূপটির অভ্যন্তরে চাপ রয়েছে ৬ হাজার পিএসআই (প্রতি বর্গইঞ্চি) আর ফ্লোটিং চাপ রয়েছে ১৩ হাজারের বেশি। কূপটিতে মোট চারটি স্তরে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাপেক্সের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথম দফা পরীক্ষায় গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এখন আরও তিন দফা পরীক্ষা চালানো হবে। এরপর গ্যাসের উপস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তখন নিশ্চিতভাবে বলা যাবে এই কূপে গ্যাস আছে কি না।’

বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মঞ্জুরুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ভালো কিছু আশা করছি। তবে এখনও এখানে পর্যবেক্ষণ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় অনুসন্ধান কূপে পকেট থাকতে পারে। তাই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চূড়ান্তভাবে সফল হলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।’

বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা জকিগঞ্জে নতুন গ্যাসের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছি। আগামীকাল সকালে এই পরীক্ষার চূড়ান্ত সময় ২৪ ঘণ্টা পার হবে। তখন নিশ্চিত করা হবে। বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।’

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ২৭টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এসব গ্যাসক্ষেত্রে প্রমাণিত মজুতের পরিমাণ ২১ দশমিক ৪ টিসিএফ, আরও ৬ টিসিএফ রয়েছে সম্ভাব্য মজুত। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৮ টিসিএফ উত্তোলন করা হয়েছে। সে হিসাবে প্রমাণিত মজুত অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৩ টিসিএফ।

আরও পড়ুন:
‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার
নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা
মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই

শেয়ার করুন