ঘাটে চাপ আছে, নেই জট

ঘাটে চাপ আছে, নেই জট

ঈদযাত্রার সবচেয়ে বেশি চাপ ছিল শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে। ফেরার চাপও এই পথে বেশি। রোববার দুই ঘাটেই সকাল থেকে দেখা গেছে যাত্রী ও যানবাহনের আধিক্য। তবে ফেরিতে ওঠার জন্য যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি।

ঈদের ছুটি শেষে এবার কাজে ফেরার পালা। ঈদ করতে বাড়ি যাওয়া লোকজন কর্মস্থল ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন শনিবার থেকেই। রোববার ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বেড়েছে ঘাটগুলোতে।

ঈদযাত্রার সবচেয়ে বেশি চাপ ছিল শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে। ফেরার চাপও এই পথে বেশি। রোববার দুই ঘাটেই সকাল থেকে দেখা গেছে যাত্রী ও যানবাহনের আধিক্য। তবে ফেরিতে ওঠার জন্য যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শফিকুল জানান, সকাল থেকে ১৫টি ফেরি এই নৌপথে চলাচল করছে। প্রত্যেকটিতে বিপুল যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাবাজার ঘাট থেকে প্রচুর যাত্রী নিয়ে প্রত্যেকটি ফেরি শিমুলিয়া ঘাটে ভিড়ছে। নদীর দুই পারেই যাত্রী এবং যানবাহনের চাপ রয়েছে।

‘কিছু মানুষ, যারা ঈদে বাড়ি যেতে পারেননি, তারা বাড়ি যাচ্ছেন। আবার কিছু মানুষ ঈদ করে ঢাকা ফিরছেন।’

শিমুলিয়া ঘাটের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) হিলাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘাট এলাকায় বর্তমানে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে ছোট-বড় মিলিয়ে তিন শতাধিক গাড়ি। এসবের মধ্যে ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যাই বেশি।’

তিনি জানান, ঘাট এলাকা ছাড়াও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, শিমুলিয়া মোড়সহ কয়েকটি পয়েন্টে কিছু গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। ঘাট এলাকার গাড়িগুলো পারাপার হয়ে গেলে এসব গাড়ি ঘাটে প্রবেশ করবে।

ঘাটে চাপ আছে, নেই জট

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথেও রোববার সকাল থেকে ভিড় ঢাকামুখী যাত্রীদের। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় গাদাগাদি করে তিন চাকার যানে চড়ে ভেঙে ভেঙে দৌলতদিয়া ঘাটে আসছেন যাত্রীরা।

ঢাকাগামী এক যাত্রী বলেন, ‘আমি যশোর থেকে ঢাকা যাচ্ছি। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় আসতে হয়েছে অটোরিকশায়। ভাড়া লেগেছে দ্বিগুণ। সময়ও লাগছে অনেক।

‘আমাদের চরম ভোগান্তির মধ্যে আসতে হয়েছে। আবার ভোগান্তির মধ্যেই ঢাকা যেতে হচ্ছে। সরকারের উচিত দূরপাল্লার গণপরিবহন চালু করে দেয়া।’

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী উপব্যবস্থাপক মজিবর শেখ জানান, এই নৌপথে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৬টি ফেরি চলছে। পারাপার হচ্ছে শত শত যাত্রী, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল। নিয়মিত ফেরি চলায় পারাপারের অপেক্ষায় যানবাহন আটকে নেই ঘাটে।

ঘাটে চাপ আছে, নেই জট

ঘাটে এলেই ফেরি পেয়ে যাওয়ায় ফিরতি যাত্রীদের ভোগান্তি কমেছে পাটুরিয়া ঘাটে। সেখানেও আটকে নেই যানবাহন, নেই যাত্রীদের জটলা।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান জানান, ঘাটে চাপ বাড়লেও যানজট বা ভোগান্তি নেই। ঘাট থেকে নেমে পরিবহনও পাচ্ছেন কর্মস্থলে যোগ দিতে আসা লোকজন।

আরও পড়ুন:
অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মন গলেনি কেবল হাওলাদারের
শিমুলিয়ায় আবার চাপ, যাত্রী নিয়েই ছাড়ল ৫ ফেরি
শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার
ভিড়ের চাপে মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ
যাত্রীর অপেক্ষায়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করতে তৈরি নাসির

পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করতে তৈরি নাসির

নাসির উদ্দিন মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমাকে জনসমক্ষে সে (পরীমনি) হেয় করেছে। আমি অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব, মামলা করব।’

র‍্যাবের অভিযানে আটক আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনির বিরুদ্ধে শিগগিরই মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য নাসির উদ্দিন মাহমুদ।

পরীমনির বাসায় র‍্যাবের অভিযানের মধ্যে বুধবার বিকেলে তিনি নিউজবাংলাকে এ কথা জানান।

পরীমনি গত ৯ জুন রাতে ঢাকা বোট ক্লাবে যাওয়ার পর ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলে সারা দেশে তোলপাড় ফেলেন।

এরপর ১৪ জুন তিনি সাভার থানায় নাসির উদ্দিন ও অমির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন নাসির।

১ জুলাই জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান নাসির উদ্দিন মাহমুদ। শুরু থেকেই তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করছেন।

পরীমনির বাসায় বুধবার র‌্যাবের অভিযানের সময় নাসির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার সম্পর্কে সে (পরীমনি) মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিল, যা সত্য নয় তা বলেছিল। ভিডিও ফুটেজ এবং তার কথাবার্তা সবকিছুতেই অসংগতি ছিল। বাস্তবে এর কোনো মিল ছিল না।

‘এই মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমাকে জনসমক্ষে সে হেয় করেছে। আমি অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব, মামলা করব।’

তিনি বলেন, ‘আমার মানহানি হয়েছে, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা ছড়িয়েছে, ফেসবুকে মিথ্যাচার করেছে, বোট ক্লাবে ড্রিংক নিয়ে জোরাজুরি করেছে। আমি মামলা তো করবই। তাকে তো ছাড় দেয়া যায় না। আমি আমার মতো করে লিখে রেখেছি, যেকোনো সময় বিমানবন্দর থানায় পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করব।’

আরও পড়ুন:
অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মন গলেনি কেবল হাওলাদারের
শিমুলিয়ায় আবার চাপ, যাত্রী নিয়েই ছাড়ল ৫ ফেরি
শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার
ভিড়ের চাপে মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ
যাত্রীর অপেক্ষায়

শেয়ার করুন

আগস্টে বন্যার আভাস

আগস্টে বন্যার আভাস

জুলাইয়ের শুরুর দিকে ভারী বর্ষণ ছিল। এ মাসেও তেমনই আভাস দিচ্ছে আবহাওয়া দপ্তর। ছবি: সাইফুল ইসলাম

‘আমরা আগস্টেও স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত দেখব। কোনো মডেলে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি হতে পারে। স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত বলতে আমরা বুঝিয়েছি, মূলত গত ৩০ বছরে এই মাসের সঙ্গে সমন্বয় করেই আমরা জলবায়ুর পূর্বাভাস দিয়ে থাকি।’

দেশে জুলাই মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। মাসের শুরুতে অতিবর্ষণ হলেও মাঝের দিনগুলো বৃষ্টিহীন থাকে।

শেষ সময়ে লঘুচাপের ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বর্ষণ ও ভূমিধস দেখা দিলেও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগস্ট মাসেও একই রকম বৃষ্টিপাত হতে পারে, সেই সঙ্গে বন্যাও দেখা দেবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুল কালাম মল্লিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আমরা বলেছি, স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে জুলাই মাসে। তবে সেটি -৫.১% বিচ্যুতি রয়েছে। এটাকে স্বাভাবিকের কাতারেই ধরা হয়।’

এই আবহাওয়াবিদ আরও বলেন, ‘এটাকে আমরা কম বৃষ্টি বলতে পারব না। আমাদের আবহাওয়ার ক্ষেত্রে প্লাস-মাইনাস অল্প একটু ভ্যারি করবেই। তবে এটা স্বাভাবিক।’

একই ধারা অব্যাহত থাকবে আগস্ট মাসে উল্লেখ করে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘আমরা আগস্টেও স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত দেখব। কোনো মডেলে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি হতে পারে। স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত বলতে আমরা বুঝিয়েছি, মূলত গত ৩০ বছরে এই মাসের সঙ্গে সমন্বয় করেই আমরা জলবায়ুর পূর্বাভাস দিয়ে থাকি।’

আব্দুল কালাম বলেন, ‘দেশে এখন মৌসুমি বায়ু সক্রিয়। বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় আছে। এর ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।’

কেমন ছিল জুলাই মাস

জুলাই মাসে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিকের অপেক্ষা বেশি এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে স্বাভাবিকের অপেক্ষা কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জুলাইয়ের ১ ও ২ তারিখে সারা দেশে মাঝারি ও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হয়।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ২৭ থেকে ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের অনেক স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হয়। এ সময় এই মাসের দৈনিক সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত টেকনাফে ৩২৮ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়।

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অতিভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হয়েছে। ২৭ জুলাই বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়, যা ২৮ জুলাই বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়। এটি ২৯ জুলাই দুপুর ১২টায় খুলনা, সাতক্ষীরা অঞ্চল ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়।

কেমন থাকবে আগস্ট মাস

আগস্ট মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সমতলে স্থিতিশীল থাকতে পারে। পরবর্তী সময়ে মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। অপরদিকে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বঞ্চলীয় পার্বত্য অববাহিকার কিছু স্থানে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

আরও পড়ুন:
অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মন গলেনি কেবল হাওলাদারের
শিমুলিয়ায় আবার চাপ, যাত্রী নিয়েই ছাড়ল ৫ ফেরি
শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার
ভিড়ের চাপে মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ
যাত্রীর অপেক্ষায়

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়ার জড়িত থাকা স্পষ্ট: তথ্যমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়ার জড়িত থাকা স্পষ্ট: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের সময় সাক্ষী ও আসামিরা জবানবন্দিতে স্পষ্টভাবেই বলেছে কখন, কোথায় জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। জিয়াউর রহমান কী বলেছে, কীভাবে সম্মতি দিয়েছে, তাও জানিয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জড়িত। বিচার-প্রক্রিয়ার সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে এ বিষয়টি দিবালোকের মতো ‘স্পষ্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সচিবালয়ে বুধবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) নবারুণ ও সচিত্র বাংলাদেশ মাসিক পত্রিকা দুটির মুজিববর্ষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারে সাক্ষ্যপ্রমাণই বলে দেয় জিয়াউর রহমান এতে যুক্ত, তার সম্পৃক্ততা দিবালোকের মতো স্পষ্ট।’

বিএনপি মিথ্যাচারে যুক্ত বলে অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘আগস্ট মাস এলেই বিএনপি নানা কথা বলে, জঘন্য মিথ্যাচার করে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের সময় সাক্ষী ও আসামিরা যে জবানবন্দি দিয়েছে, সেগুলো তো রেকর্ডেড। তারা জবানবন্দিতে স্পষ্টভাবেই বলেছে কখন, কোথায় জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। জিয়াউর রহমান কী বলেছে, কীভাবে সম্মতি দিয়েছে, তাও জানিয়েছে।’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমানের যুক্ত থাকার বিষয়টি আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল ফারুক ও রশিদ ১৯৭৬ সালের আগস্টে যুক্তরাজ্যের একটি টেলিভিশনকে জানিয়েছে বলেও দাবি করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘জিয়া যদি মোশতাকের আস্থাভাজনই না হয়, তাহলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমানকে কেন সেনাপ্রধান করা হলো? বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হচ্ছে জিয়াউর রহমান এবং তার পরিবার।’

মন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ছদ্মাবরণে পাকিস্তানিদের দোসর ছিলেন। তিনি রণাঙ্গনে, আর তার স্ত্রী-পুত্ররা পাকিস্তানিদের কাছে মেহমানের মতো থাকে, এ থেকেই তো গোমরটা বোঝা যায়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জিয়াউর রহমানের কাছে পাকিস্তানি কর্নেল বেগের লেখা যে চিঠি, তাতেও অনেক বিষয় স্পষ্ট। চিঠিতে লেখা ছিল- ‘‘তুমি চিন্তা করো না, তোমার স্ত্রী-পুত্ররা ভালো আছে। তোমার কাজে আমরা সন্তুষ্ট।’’- এগুলো তো অস্বীকার করার উপায় নেই।’

আরও পড়ুন:
অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মন গলেনি কেবল হাওলাদারের
শিমুলিয়ায় আবার চাপ, যাত্রী নিয়েই ছাড়ল ৫ ফেরি
শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার
ভিড়ের চাপে মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ
যাত্রীর অপেক্ষায়

শেয়ার করুন

সরকারের সিদ্ধান্ত বদলে বক্তব্য প্রত্যাহার মোজাম্মেলের

সরকারের সিদ্ধান্ত বদলে বক্তব্য প্রত্যাহার মোজাম্মেলের

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ফাইল ছবি

‘আমরা কালকে একটা কথা বলেছিলাম যে আগামী ১১ তারিখ থেকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তি যদি টিকা ছাড়া রাস্তায় চলাফেরা করেন তারা আইনের আওতায় আসবেন। আমরা সেটা পর্যালোচনা করে দেখেছি যে সেটা বাস্তবসম্মত নয়। সেজন্য আমরা আমাদের, আমি যে কথা বলেছিলাম সেটা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’

১১ আগস্টের মধ্যে ১৮ ঊর্ধ্ব সকল নাগরিককে করোনা প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনা সম্ভব নয় বলে সরকার তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায়, নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের আরোপ করা শাটডাউন নামে পরিচিতি পাওয়া কঠোর বিধিনিষেধ শেষে টিকা ছাড়া ১৮ বছরের বেশি বয়সীরা বাইরে আসতে পারবেন না বলে দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়ার কারণ ব্যাখ্যায় এ কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

রাজধানীর আব্দুল গণি রোডে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং নিজের বক্তব্য প্রত্যাহারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান মন্ত্রী।

আ ক ম মোজাম্মেল বলেন, ‘আমরা কালকে একটা কথা বলেছিলাম যে আগামী ১১ তারিখ থেকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তি যদি টিকা ছাড়া রাস্তায় চলাফেরা করেন তারা আইনের আওতায় আসবেন। আমরা সেটা পর্যালোচনা করে দেখেছি যে সেটা বাস্তবসম্মত নয়। সেজন্য আমরা আমাদের, আমি যে কথা বলেছিলাম সেটা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’

এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যেহেতু ১১ তারিখে সমস্ত লোককে টিকা দেয়া সম্ভব নয়। কাজেই টিকা না দিয়ে আসতে পারবে না, সেই ইয়েটাও ইমপোজ করা যায় না। সে কারণেই আমরা আমাদের সিদ্ধান্তের ওই অংশটুকু, ১১ তারিখের পর থেকে কেউ আসলে আইনের আওতায় আসবে, ওই অংশটুকু প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সরকার এ দেশের সকল নাগরিকদের পর্যায়ক্রমে টিকা দেয়ার জন্য আমরা বলেছি যে ১৪ হাজার টিকা কেন্দ্র স্থাপন করে আগামী ৭ তারিখ থেকে কার্যক্রম চলবে। ১৮ বছরের সকল নাগরিকদেরকে টিকা দেয়ার জন্য আমাদের সরকার বদ্ধ পরিকর।’

নিজের বক্তব্য শেষ করেই তড়িঘড়ি করে কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সম্মেলন কক্ষ ছেড়ে যান মন্ত্রী।

যদিও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন মঙ্গলবারে অনুষ্ঠিত কোভিড-১৯ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃ মন্ত্রণালয় সভায় এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

ওই বৈঠকে তিনি অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন বক্তব্য কারও ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে, কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্ত নয়।’

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সেখানে আসলে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি যে (টিকা ছাড়া) ১৮ বছরের বেশি বয়সের কেউ বের হলে অপরাধ হবে। সে ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

এমন বক্তব্য সরকারের সমন্বয়হীনতা কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নাহ, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত সেখানে হয়নি। আমাদের সচিবও সেই বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি কারও ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে, কিন্তু এই ধরনের সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি।’

মাস্ক পরার ওপর জোর দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি যাতে সবাই মানে সেটির ওপর জোর দেয়া হয়েছে।’

পুলিশের হাতে শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাস্ক না পরলে পরে যাতে ইন্সট্যান্টলি শাস্তি দেয়া যায়, সেজন্য পুলিশের কাছে এ ধরনের... অবশ্যই বিচারিক ক্ষমতা নয়, পুলিশ যেমন অবৈধ যানবাহনের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করে, ট্রাফিক পুলিশ ভায়োলেট করলে সেখান থেকে জরিমানা আদায় করে, সুতরাং সেই ধরনের ইনস্টিটিউট দ্বারা ভ্যালিডেটেড অবশ্যই হতে হবে সেটি আইন আনুযায়ী।’

বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘পুলিশ যাতে জরিমানা করতে পারে, সেটি আইনের মধ্যে থেকে কীভাবে করা যায়, সেটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সেটা করা প্রয়োজন বলেও সবাই অভিমত ব্যক্ত করেছে।’

৭ আগস্ট থেকে সরকার ব্যাপক টিকা কার্যক্রমে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১ সপ্তাহে ১৪ হাজার কেন্দ্র থেকে ১ কোটি দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

‘তখন কেউ কেউ, আমার ঠিক মনে নেই, এ ধরনের আলোচনা করেছে। টিকা ছাড়া বের হলে... এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

আরও পড়ুন:
অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মন গলেনি কেবল হাওলাদারের
শিমুলিয়ায় আবার চাপ, যাত্রী নিয়েই ছাড়ল ৫ ফেরি
শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার
ভিড়ের চাপে মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ
যাত্রীর অপেক্ষায়

শেয়ার করুন

বার কাউন্সিলে ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি

বার কাউন্সিলে ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই অ্যাডহক বার কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।’

অ্যার্টর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরিচালনায় ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বুধবার এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের কথা জানিয়েছে। আগেরদিন এ সম্পর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার জানান, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির ১৯৭২ সালের ৪৬ নম্বর আদেশ)-এর অনুচ্ছেদ (৮)-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ১৫ সদস্যের সমন্বয়ে এই অ্যাডহক বার কাউন্সিল গঠন করেছে।

তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই অ্যাডহক বার কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।’

কমিটিতে আরও আছেন- জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আব্দুল বাসেত মজুমদার, সৈয়দ রেজাউর রহমান, মোখলেছুর রহমান বাদল, এইচ এ এম জহিরুল ইসলাম খান (জেড আই খান পান্না), শাহ মো. খসরুজ্জামান ও মো. কামরুল ইসলাম।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির কাজী নজীবুল্লাহ হিরু, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির মুজিবুল হক, সিলেট আইনজীবী সমিতির এ এফ মো. রুহুল আনাম চৌধুরী মিন্টু, ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতির কবির উদ্দিন ভূঞা, খুলনা আইনজীবী সমিতির পারভেজ ইসলাম খান, রাজশাহী আইনজীবী সমিতির মো. ইয়াহিয়া এবং সিরাজগঞ্জ আইনজীবী সমিতির মো. আব্দুর রহমানকে রাখা হয়েছে এই অ্যাডহক কমিটিতে।

এই কমিটি ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে। আগামী বছরের ৩১ মে বা তার আগে বার কাউন্সিলের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে কমিটিকে। আর নির্বাচিত কমিটিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হবে ২০২২ সালের ১ জুলাই।

আরও পড়ুন:
অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মন গলেনি কেবল হাওলাদারের
শিমুলিয়ায় আবার চাপ, যাত্রী নিয়েই ছাড়ল ৫ ফেরি
শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার
ভিড়ের চাপে মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ
যাত্রীর অপেক্ষায়

শেয়ার করুন

ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুকে সাজা, মুক্তি দিতে বলল হাইকোর্ট

ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুকে সাজা, মুক্তি দিতে বলল হাইকোর্ট

এর আগে সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির দুই শিশুর মুক্তি চেয়ে বিচারপতিকে চিঠি দেন। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের মুক্তিতে উদ্যোগ নেয় আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দণ্ড দেয়া দুই শিশুকে মুক্তির ব্যবস্থা নিতে ডিসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বুধবার বিকেলে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা সাইফুর রহমানকে নেত্রকোণার ডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এর আগে সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির দুই শিশুর মুক্তি চেয়ে বিচারপতিকে চিঠি দেন। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের মুক্তিতে উদ্যোগ নেয় আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা সাইফুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আদালতের আদেশের পর আমি নেত্রকোণার ডিসিকে টেলিফোনে আদালতের আদেশের বিষয়টি অবগত করি। তিনি জানান, শিশু দুটিকে ইতোমধ্যে আপিল শুনানি করে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে আইনজীবী শিশির মনির ই-মেইলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে চিঠিটি পাঠান।

এতে বলা হয়েছে, মোবাইল কোর্ট আইনবহির্ভূতভাবে দুই শিশুকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনে বলা আছে, শিশু আইনের বিধান প্রযোজ্য হওয়ার অর্থ হলো শিশু আদালতে তাদের বিচার হবে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট সেটা না করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের সাজা দিয়েছেন, যা আইনসম্মত হয়নি।

আইনজীবী শিশির মনির চিঠিতে যা লিখেছিলেন

আজ ৪ আগস্ট দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে দণ্ড’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে জানতে পারি, নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে এক মাসের সাজা দিয়েছেন। এই রিপোর্ট পড়ে আমার কাছে মনে হয়েছে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। শিশু আইনের অধীন মোবাইল কোর্টের কোনো এখতিয়ার নেই। ফলে অত্র সাজা এখতিয়ারবহির্ভূত।

চিঠি পাঠানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। আমি অত্র আদালতের একজন অফিসার। আমার মনে আছে, ফতোয়ার মামলায় পত্রিকার রিপোর্ট দরখাস্ত হিসেবে গৃহীত হয়েছিল। ছাত্রজীবনে পড়েছি, একটি টেলিফোন কল নাকি এফআইআর হিসেবে গণ্য হয়েছিল। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রধান বিচারপতি বরাবর চিঠি পাঠিয়েছিলেন এক সন্তানহারা মা নীলাবতি বেহারা। সেই চিঠির ভিত্তিতে তিনি ক্ষতিপূরণও পেয়েছিলেন।

‘স্বচক্ষে দেখেছি, পত্রিকার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনেক স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারি হয়েছে। বিচারও হয়েছে। জেল থেকে পাঠানো চিঠিগুলো জেল আপিল হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব উদারহণ দেখে কিছুটা অতি উৎসাহী হয়ে এই পত্র লিখলাম। আশা করি, আমার এই পত্র বৃথা যাবে না।’

পত্রিকার প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে

ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে এক মাসের দণ্ডাদেশ দিয়েছেন নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া।

গত রোববার রাতে জেলার আটপাড়ায় সুলতানা রাজিয়া তার নিজ কার্যালয়ে ওই দণ্ডাদেশ দেন। একই সঙ্গে শিশু দুটিকে গাজীপুরে অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শিশু দুটি গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত নেত্রকোণা জেলা কারাগারে ছিল।

শিশু দুটির বাড়ি আটপাড়া উপজেলার দুওজ ইউনিয়নে। তাদের মধ্যে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটির বয়স ১৫ বছর (জেএসসির নিবন্ধন কার্ড অনুযায়ী)। ছেলেটিও সমবয়সী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে প্রায় দুই বছর ধরে তারা দুজন লেখাপড়ার পাশাপাশি ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি নেয়। এ সময় উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি মেয়েটি ছেলেটিকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। ছেলেটি তা প্রত্যাখ্যান করে।

গত ঈদুল আজহায় তারা গামের বাড়িতে আসে। এরপর বিয়ের দাবিতে মেয়েটি গত বুধবার রাত থেকে ছেলের বাড়িতে অবস্থান নেয়। নিরুপায় হয়ে গত রোববার সন্ধ্যায় উভয় পরিবার তাদের বিয়ের আয়োজন করে। বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়া সেখানে পুলিশ পাঠান। এরপর দুজনকে তার কার্যালয়ে এনে রাত ৮টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসান। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ অনুযায়ী দুজনকেই এক মাসের জন্য আটকাদেশ দিয়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বলা হয়, তাদের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭-এর ৭(২) ধারায় এ আটকাদেশ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মন গলেনি কেবল হাওলাদারের
শিমুলিয়ায় আবার চাপ, যাত্রী নিয়েই ছাড়ল ৫ ফেরি
শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার
ভিড়ের চাপে মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ
যাত্রীর অপেক্ষায়

শেয়ার করুন

প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা নিয়ে বিদেশি চাপ

প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা নিয়ে বিদেশি চাপ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা বা রেখে দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে ঢাকা রাজি নয়। আমাদের অগ্রাধিকার ইস্যু হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গারা তাদের বাসভূমে ফিরে যাবে।’

মিয়ানমারের আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিজভূমে ফেরত যাওয়া বা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা আপাতত দেখছে না বাংলাদেশ। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসার পর এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আর এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসহ নানা সংস্থা ও রাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে রাখার কথা বিবেচনায় নিয়ে কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের ওপর নানা রকম চাপ প্রয়োগের চেষ্টাও আছে। যদিও শুরু থেকে এ ধরনের চাপ নাকচ করে আসছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা কিন্তু হাল ছেড়ে বসে নেই। আমরা সেখানে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কারণ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চীন মূল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিল। তাদের উদ্যোগেই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়।

‘সম্প্রতি তাসখন্দ সফরেও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াই ইয়ির সঙ্গে আমার বৈঠক হয়। বৈঠকে আমরা আবারও ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরুর বিষয়ে একমত হই। কিন্তু সমস্যাটা হলো মিয়ানমারে সামরিক শাসন জারির পর থেকে তাদের দেশে যে পরিমাণ বিক্ষোভ-সংঘর্ষ চলছে, তাতে প্রকৃত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগটা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন।’

মোমেন বলেন, তাসখন্দে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে তার কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বললাম, আপনারা বলছেন, মিয়ানমারের বিষয়ে অ্যাফ্রেড। আপনারা বলেছিলেন যে, রোহিঙ্গা ইস্যুটা দ্বিপক্ষীয় হোক। তৃতীয় পক্ষ এলে অনিশ্চয়তা বাড়বে। আপনি বলেছিলেন, মিডেল-ইস্টে দেখো। সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেনে তৃতীয় পক্ষ আসায় কোনো লাভ হয়নি। আপনাদের কথামতো আমরা দ্বিপক্ষীয় অনেক মিটিং করলাম। কোনো লাভই তো হয়নি। অনেক চেষ্টাই তো করলাম। একজন লোকও ফিরিয়ে দিতে পারলাম না। আমরা তো ত্রিপক্ষীয় আলোচনাও করলাম।’

মোমেন বলেন, ‘আমি তাকে বললাম, আমি চাই আপনি এই ট্রাইলেটারাল উদ্যোগে অংশ নিন এবং রোহিঙ্গা ফেরাতে ভূমিকা রাখেন। আপনার সঙ্গে তাদের এত ভালো সম্পর্ক! এই সেদিন ওদের (মিয়ানমার) মিলিটারি চিফ আসল। আপনারা তাদের জিনিসপত্র দিচ্ছেন! আপনারা বললে ওরা শুনবে।

‘জবাবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে বললেন, “আমরা তো বলছি। আবারও বলব।” কিন্তু ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সম্পর্কে আমি যেটা বলছি, সেটায় তিনি রাজি হননি। কারণ হিসেবে উনি বললেন, এটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। আমি বললাম, আচ্ছা সময় নেন। প্রয়োজনে চীনের সঙ্গেও কথা বলেন। কেননা আপনি ও চীনই তো মিয়ানমারকে শক্ত অবস্থানে রাখছেন। উনি এতে সাদামাটা কোনো জবাব দেননি। কেবল বলেছেন, এটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে হবে।’

এদিকে ২৬ জুলাই ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মিয়ানমারের অন্যতম মিত্র জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পথ খুঁজছেন তারা। রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান এই পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইতো নাওকি বলেন, জাপান দ্রুত প্রত্যাবাসনে সক্রিয় পরিবেশ তৈরিতে যথাযথ চেষ্টা করবে। তবে ‘উপযুক্ত সময়’ এলেই মিয়ানমারের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অবস্থান

এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক তাদের প্রস্তাবিত ‘রিফিউজি পলিসি রিভিউ ফ্রেমওয়ার্ক’-এ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের স্থানীয় সমাজের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের মূল সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা বা স্থায়ীভাবে রেখে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে প্রস্তাবটিকে অবাস্তব বা কল্পনাপ্রসূত অভিহিত করে তা নাকচ করে দিয়েছে সরকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা বা রেখে দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে ঢাকা রাজি নয়। আমাদের অগ্রাধিকার ইস্যু হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গারা তাদের বাসভূমে ফিরে যাবে।’

প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা নিয়ে বিদেশি চাপ

বিশ্বব্যাংক তাদের প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের জন্য সব ধরনের অধিকার দাবি করেছে, যাতে তারা দেশের সর্বত্র কাজ করতে পারে অন্য সকল বাংলাদেশির মতো। তাদের আইনি অধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে। তাদের চলাচলের স্বাধীনতা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এমনকি বলা হয়েছে, তাদের জমিজমা কেনার ও ব্যবসা করতে ক্ষমতা দেয়ার কথাও। বলা হয়েছে, তারা যাতে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে দেশের নাগরিকদের মতো।

মোমেন বলেন, ‘আমরা বলেছি, প্রথমে আমাদের সংজ্ঞায় রোহিঙ্গারা রিফিউজি না। আমরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারছি না। দে শুড গো ব্যাক। দে আর ট্যাম্পোরারি পিপল, নট রিফিউজিস। আর আমাদের প্রতিবেশী মিয়ানমারও কখনও বলেনি তারা ফেরত নেবে না।

‘আমরা কোনো শরণার্থী আশ্রয় দিইনি। আমরা বিপদগ্রস্ত, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের সাময়িক আশ্রয় দিয়েছি। তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ তাদের মাতৃভূমিতে আছে। তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তাই তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘তারা (ইউএনএইচসিআর) রোহিঙ্গাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। আমরা বলেছি, না আমরা এটা গ্রহণ করতে পারছি না। রোহিঙ্গা সমস্যা সাময়িক। এ নিয়ে ট্যাম্পোরারি কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। আমরা আমাদের এই কথা তাদের জানিয়ে দিয়েছি।’

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কড়া প্রতিক্রিয়ায় সুর বদলেছে বিশ্বব্যাংক। তারা মঙ্গলবার নিজেদের ওয়েবসাইটে দেয়া বিবৃতিতে বলছে, শরণার্থী বিষয়ে বাংলাদেশসহ কোনো দেশকেই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়নি তারা। যতদিন রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফেরত না যাচ্ছে, ততদিন সহায়তা অব্যাহত রাখারও অঙ্গীকার করেছে বৈশ্বিক এই দাতা সংস্থা।

আরও পড়ুন:
অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মন গলেনি কেবল হাওলাদারের
শিমুলিয়ায় আবার চাপ, যাত্রী নিয়েই ছাড়ল ৫ ফেরি
শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার
ভিড়ের চাপে মৃত্যু, কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ
যাত্রীর অপেক্ষায়

শেয়ার করুন