নদীর মুক্ত বাতাসে ‘ভিড়ে সমস্যা হবে না’

ঈদে কুড়িগ্রামের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। ছবি: নিউজবাংলা

নদীর মুক্ত বাতাসে ‘ভিড়ে সমস্যা হবে না’

‘বছরের একটা দিনে বন্ধুদের নিয়ে ছবি ও সেলফি তুলে ফেসবুক পোস্ট করেছি। সেই সঙ্গে ধরলা নদীতে ডিঙ্গি নৌকায় ঘুরেছি। সব মিলিয়ে করোনার প্রভাব আমাদের এবারের ঈদ-আনন্দটা বিলীন হয়নি। ধরলা পারের মুক্ত বাতাসে কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না।’

কুড়িগ্রাম ঈদের ছুটিতে দল বেঁধে মানুষ ভিড় জমাচ্ছে ঘুরে বেড়ানোর স্থানগুলোতে। বিশেষ করে ধরলার সেতু এলাকায় বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের অবস্থান দেখা যায়।

করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব আর মাস্ক পরার যে সাবধানতার কথা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন, তার কোনো বালাই নেই সেখানে।

স্বাস্থ্যবিধি মানাতে আর ভিড় সামলাতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।

কুড়িগ্রাম ছাড়াও লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও মানুষ নদীর দুই পার, বাঁধ এবং বালু চর এলাকায় ভিড় জমায়।

অনেকে সেতুর উপর, বাঁধ এবং ধরলা নদীর কাছাকাছি গিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে ছবি উঠানো আর সেলফি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেকে বন্ধু-স্বজনদের নিয়ে নৌভ্রমণে বের হয়।

পর্যটকরা ভ্যান, রিকশা, অটো, মোটরসাইকেল বা মাইক্রোবাস, যে যেভাবে পারে, সেভাবেই আসেন। এসব যানবাহনের চাপে ধরলা সেতু এবং ফুলবাড়ি উপজেলায় শেখ হাসিনা সেতুর উপরে দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হয়।

নদীর মুক্ত বাতাসে ‘ভিড়ে সমস্যা হবে না’
ধরলা পারে মানুষের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

মানুষের এমন মিলনকে ঘিরে নদীর পারে ফুচকা, চানাচুর, আইসক্রিম, চুরি-ফিতা ও বেলুনসহ নানা পণ্যের দোকান বসে। সেসব দোকানেও ক্রেতাদের ভিড় উপচেপড়া।

শাহবাজার এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুর নবী সরকার ঘুরতে এসে নিজেও ভিড় দেখে অবাক হয়েছেন।

ঘুরতে আসা বুলবুলি আকতার বলেন, শহরে কোনো পার্ক না থাকায় পরিবার নিয়ে এখানে এসেছেন।

শিল্পী সরকার বলেন, ‘এত সমাগমে স্বাস্থ্যবিধি মানা প্রায় অসম্ভব। তারপরও যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করছি।’

সবুজ বলেন, ‘বছরের একটা দিনে বন্ধুদের নিয়ে ছবি ও সেলফি তুলে ফেসবুক পোস্ট করেছি। সেই সঙ্গে ধরলা নদীতে ডিঙ্গি নৌকায় ঘুরেছি। সব মিলিয়ে করোনার প্রভাব আমাদের এবারের ঈদ-আনন্দটা বিলীন হয়নি। ধরলা পারের মুক্ত বাতাসে কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না।’

সেতুতে দায়িত্ব থাকা লালমনিরহাট সদর থানার উপপরিদর্শক কামাল হোসেন বলেন, ‘কোনোভাবেই দর্শনার্থীদের ঠেকানো যাচ্ছে না।’

কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাঁন মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি পালনে

আমরা মাইকিং অব্যাহত রেখেছি।’

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন দাস জানান, ‘ধরলা পারে দর্শনার্থীর ঢলের বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি নিজেই সেখান উপস্থিত হই। তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ জন্য সচেতনতামূলক প্রচার অব্যাহত রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ভারতফেরত ৪ জনের করোনা পজিটিভ 
করোনা আক্রান্তের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত
৫৫ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ২৬১
আবু হেনার ‘মর্জিতে’ ৯ কোটি টাকার করোনা কিট
ম্যাগনেটিক চিপ নেই করোনা টিকায়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিনা ভোটে কুমিল্লার এমপি হচ্ছেন নৌকার হাশেম

বিনা ভোটে কুমিল্লার এমপি হচ্ছেন নৌকার হাশেম

রোববার সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শওকত উসমান। তিনি বলেন, তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টির জসিম উদ্দিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এ বিষয়ে আগামী ২৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম খান।

রোববার সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শওকত উসমান। তিনি বলেন, তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টির জসিম উদ্দিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

এ বিষয়ে আগামী ২৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কারণ জানতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। এসএমএস পাঠিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা দলীয় প্রার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেন। কেউ কেউ ফুল নিয়েও প্রার্থীর সঙ্গে দেখা করেন।

গত ১৪ জুন পর্যন্ত এ আসনে মোট আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও ১৫ জুন মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন মাত্র দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু ১৪ এপ্রিল মারা যান। ২১ এপ্রিল আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। তিনি এ আসন থেকে মোট পাঁচবার (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৮) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ভারতফেরত ৪ জনের করোনা পজিটিভ 
করোনা আক্রান্তের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত
৫৫ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ২৬১
আবু হেনার ‘মর্জিতে’ ৯ কোটি টাকার করোনা কিট
ম্যাগনেটিক চিপ নেই করোনা টিকায়

শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুরে উপনির্বাচনে সব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

লক্ষ্মীপুরে উপনির্বাচনে সব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিতরা রোববার দুপুর থেকে উপনির্বাচনের কেন্দ্রে ভোটের সামগ্রী পৌঁছানো শুরু করেছেন। ছবি: নিউজবাংলা

লক্ষ্মীপুর-২ আসনে উপনির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দুলার তালুকদার জানান, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর-২ (সদরের একাংশ ও রায়পুর) আসনে উপনির্বাচনের পাশাপাশি রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সোমবার। প্রতিটি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের লক্ষ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। কেউ অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমনের হুঁশিয়ারী দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।

প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃংখলা বাহিনীর সার্বক্ষণিক টহল নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল তালুকদার।

টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিতরা রোববার দুপুর থেকে উপনির্বাচনের প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটের সামগ্রী পৌঁছানো শুরু করেছেন। উপনির্বাচনে ভোট হবে ইভিএমে।

নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এবং লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির শেখ মো. ফায়িজ উল্যাহ শিপন উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি এ নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি।

আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস জানায়, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার ৯২৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪ হাজার ৪৬০ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৩ জন। কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৬টি।

সোমবার সকাল ৮ থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

নির্বাচনী এলাকার লোকজন জানান, উপনির্বাচন ও ইউপি নির্বাচন নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই ভোটারদের। তবুও যারা কেন্দ্রে যাবেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন ভোটাররা।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেখ ফয়েজের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মীরা তার নেতাকর্মীদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। তার কর্মীদের ভোটকেন্দ্র যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

ভোটারদের মাঝে কোন ধরনের ভয়ভীতি নেই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুর উদ্দিন জানান, মানুষের মাঝে ভোটের আমেজ দেখা দিয়েছে। কখন ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিবেন, সে অপেক্ষা করছে মানুষ। বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী তিনি।

এ দিকে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ছয় ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ হচ্ছে একই দিনে। কমলনগরের তোরাবগঞ্জ, চরফলকন, হাজিরহাট এবং রামগতির চরবাদাম, চরপোড়াগাছা ও চররমজি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার এক লাখ ২৩ হাজার ৩১৪।

বিএনপি ইউপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও ছয় ইউনিয়নে রয়েছে আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। নির্বাচনী এলাকার লোকজন জাজান, আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বিরোধ। প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, পাল্টা হামলা ও হুমকি-ধামকির অভিযোগ তুলেছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে হামলার ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার।

তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়সাল আহমদ রতনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের প্রার্থী মির্জা আশ্রাফুল জামাল রাসেলের সমর্থকদের হামলা-মামলার ভয়ে তার কর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। সুষ্ঠু ভোটের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

তবে হামলা-মামলাসহ ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মির্জা আশ্ররাফুল উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট চেয়েছেন। তিনি জানান, বিজয় হলে এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে। বন্ধ হবে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী।

একই কথা বলছেন অন্য উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনে উপনির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দুলার তালুকদার জানান, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন।

লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনোয়ার হোছাইন আকন্দ ও পুলিশ সুপার (এসপি) ড. এএইচ এম কামরুজ্জামান জানান, ভোটাররা যেনো নিরাপদে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেটরা প্রস্তুত আছেন।

কেউ কোন ধরনের অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারী দেন ডিসি-এসপি।

২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ২৮ জানুয়ারি মানব ও অর্থ পাচারের দায়ে পাপুলকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয় কুয়েতের আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১৯ লাখ কুয়েতি রিয়াল জরিমানা করা হয়। এরপর আপিলে সাজা তিন বছর বাড়িয়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

২৩ ফেব্রুয়ারি পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। ৩ মার্চ লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ভারতফেরত ৪ জনের করোনা পজিটিভ 
করোনা আক্রান্তের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত
৫৫ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ২৬১
আবু হেনার ‘মর্জিতে’ ৯ কোটি টাকার করোনা কিট
ম্যাগনেটিক চিপ নেই করোনা টিকায়

শেয়ার করুন

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বুয়েটে তাকিয়ে সরকার

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বুয়েটে তাকিয়ে সরকার

ফাইল ছবি

সড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা একটি প্রতিবেদন তৈরি চলমান রয়েছে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, সড়ক অনুযায়ী যানবাহনের পরিমাণ নির্ধারণসহ নানা বিষয় এতে উঠে আসবে।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছে সরকার।

সচিবালয়ে রোববার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সড়ক পরিবহনবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠক শেষে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

মন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে বিভিন্ন সময়ে কীভাবে দুর্ঘটনা হয়, সেটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে তারা তাদের মতামত রেখেছেন।’

সড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা একটি প্রতিবেদন তৈরি চলমান রয়েছে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, সড়ক অনুযায়ী যানবাহনের পরিমাণ নির্ধারণসহ নানা বিষয় এতে উঠে আসবে।

‘তারা বিস্তারিতভাবে একটি টেকনিক্যাল রিপোর্ট আমাদের সাবমিট করবেন। সার্ভে করে কোন রাস্তায় কী পরিমাণ গাড়ি চলতে পারে- সমস্ত বিষয় নিয়ে তারা একটি রিপোর্ট সাবমিট করবেন। পুলিশের মাধ্যমে সেটা আমাদের কাছে আসবে।’

মোটরসাইকেলে আবারও চালক বাদে দুইজন আরোহী নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে বলে সড়ক পরিবহন বিষয়ক টাস্কফোর্সের বৈঠকে জানানো হয়। এর ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বাড়ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মোটরসাইকেলে কোনো ক্রমেই দুইজনের বাইরে যেন কেউ না উঠতে না পারে সেজন্য পুলিশ প্রশাসন লক্ষ্য রাখবেন। তারা লক্ষ্য রেখে যাচ্ছেন। তবে সেটাকে আরও জোরদার করবেন।’

অনিবিন্ধিত মোটরসাইকেলসহ কোনো যানবাহনে যেন সড়কে না নামতে পারে, সেদিকে নজর দিতে পুলিশবাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলে, ‘আমরা সেটার ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছি। পুলিশ প্রশাসন সেটা দেখবে। মোটরসাইকেল হোক বা যেকোনো যানবাহন হোক নিবন্ধনের বাইরে যাতে কোনো যানবাহন রাস্তায় বের করতে না পারে সে ব্যবস্থা করব।’

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বুয়েটে তাকিয়ে সরকার
সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে বলে জানিয়েছে সড়ক পরিবহনবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স

দুর্ঘটনা বাড়ার রিপোর্ট নেই

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও সামগ্রিকভাবে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে বলে মনে করেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা খুব বেড়েছে এ রকম কোনো রিপোর্ট আমার কাছে নেই। ডেইলি রিপোর্ট আমরা দেখি।’

তবে স্বীকার করেছেন, দুর্ঘটনা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনা কমানোর জন্যই টেকনিক্যাল এক্সপার্টরা পুলিশের সঙ্গে বসে একটা প্রতিবেদন আমাদের সাবমিট করবে, আমাদের ফলো করার জন্য। সেটা নিয়ে কাজ করতে আমরা রেডি হচ্ছি।’

দুর্ঘটনার প্রতিরোধ ও কারণ অনুসন্ধানে মহাসড়কে ক্যামেরা বসানো হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘হাইওয়েতে আমরা ক্যামেরা স্থাপন করছি। টেন্ডার হয়ে গেছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হাইওয়ে পুরোপরি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’

এরমধ্য দিয়ে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নজরদারি বাড়ানো সম্ভব হবে বলেও মত তার।

‘তাহলে দুর্ঘটনা কীভাবে হলো, কে কীভাবে গাড়ি থামাল- সব নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। আমাদের পুলিশবাহিনী বসে বসে দেখতে পারবে কী হচ্ছে।’

যেখানে সেখানে টোল আদায় নয়

নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও গাড়ি থামিয়ে টোল, রাজস্ব আদায় করা যাবে না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সড়ক পরিবহন বিষয়ক টাস্কফোর্স।

সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইজারাকৃত জায়গায় এবং আমাদের স্থানীয় সরকার পরিচালিত যে সমস্ত সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা আছে, তাদের নির্ধারিত ফি কিংবা টোল সবগুলোই কিংবা পরিবহনের নির্ধারিত টার্মিনাল ছাড়া কোনো জায়গা থেকে চাঁদা আদায় করতে পারবে না।’

রাস্তায় দাঁড় করিয়ে কোন যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করা যাবে না জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘চাঁদা কিংবা টোল বা রাজস্ব যেটাই হোক আদায় করতে হবে নির্ধারিত স্থান থেকে, নির্ধারিত টার্মিনাল থেকে। আমরা এটাও আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

টাস্কফোর্সের অগ্রগতি

টাস্কফোর্সের ১১১ সুপারিশ কার্যকরেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘টাস্কফোর্সের গতি বাড়ানোর জন্য চার মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির মাধ্যমে একজন করে ফোকাল পয়েন্ট থাকবেন। টাস্কফোর্সের ১১১টি সুপারিশ বাস্তবায়নে তারা একটি কর্মপদ্ধতি বের করে আগামী বৈঠকে পেশ করবেন।’

সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের পথে। কিছু কিছু সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়েছে। আর বাকিগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করব সেজন্য একটা কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছি। সেগুলো নিয়ে আমরা পরবর্তী মিটিংয়ের দীর্ঘ আলোচনা করব।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ভারতফেরত ৪ জনের করোনা পজিটিভ 
করোনা আক্রান্তের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত
৫৫ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ২৬১
আবু হেনার ‘মর্জিতে’ ৯ কোটি টাকার করোনা কিট
ম্যাগনেটিক চিপ নেই করোনা টিকায়

শেয়ার করুন

পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্র বাধ্যতামূলক

পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্র বাধ্যতামূলক

ফাইল ছবি

সড়ক পরিবহনবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার অপেক্ষায় থাকা সড়ক পরিবহন আইনের আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। টাস্কফোর্স সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিবহনখাতে কর্মরত চালক-শ্রমিক সবার নিয়োগপত্র থাকা বাধ্যতামূলক করছে সরকার। নিয়োগপত্র না থাকলে আটকে দেয়া হবে ড্রাইভিং লাইসেন্স। শিগগিরই বিষয়টি নিষ্পতি করার লক্ষ্যে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সচিবালয়ে রোববার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সড়ক পরিবহনবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার অপেক্ষায় থাকা সড়ক পরিবহন আইনের আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। টাস্কফোর্স সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের মালিকপক্ষ থেকে নিয়োগপত্র দিতে হবে। তারা দুই পক্ষ খুব তাড়াতাড়ি বিষয়টি বাস্তবায়ন করবেন বলে জানিয়ে গেছে।’

এমন সিদ্ধান্তের কারণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘সড়ক আইনটি যেহেতু হচ্ছে, সেটার মধ্যে সুস্পষ্টভাবে আছে যে মালিকদেরকে অবশ্যই নিয়োগপত্র দিতে হবে। সে আইনটা পাস হয়েছিল। কিন্তু সেটা আবার পরিশুদ্ধ করে আমাদের পার্লামেন্টে আসছে।’

বিষয়টি বাস্তবায়নে জটিলতা আছে বলে স্বীকার করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘আর এটা নিয়ে অনেক জটিলতা আছে। আমরা দীর্ঘ আলাপ করেছি। চালক ও শ্রমিকরা-এরা বিভিন্ন সময় জায়গা পাল্টায়। এক মালিকের কাছ থেকে আরেক মালিককের কাছে চলে যায়। নানা ধরনের কথা-বার্তা আসছে।’

মালিক-শ্রমিক দুইপক্ষকে বসে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘মহাসড়ক বিভাগের সচিব এখানে আছেন। বিআরটিএও সেখানে ব্যবস্থা নেবেন। তারা (পরিবহন শ্রমিকরা) রেজিস্ট্রেশন করার সময় সেগুলো না দেখাতে পারলে রেজিস্ট্রেশন দেবেন না- এমন কথা বার্তাও হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ভারতফেরত ৪ জনের করোনা পজিটিভ 
করোনা আক্রান্তের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত
৫৫ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ২৬১
আবু হেনার ‘মর্জিতে’ ৯ কোটি টাকার করোনা কিট
ম্যাগনেটিক চিপ নেই করোনা টিকায়

শেয়ার করুন

এখন নজর দিতে হবে বিদ্যুৎ সঞ্চালনে

এখন নজর দিতে হবে বিদ্যুৎ সঞ্চালনে

সিপিডির ভার্চুয়াল সেমিনারে বলা হয়, চাহিদার তুলনায় এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন (জেনারেশন) বেশি হচ্ছে। সুতরাং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বাজেটে বরাদ্দ আর বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। এখন মনোযোগ দিতে হবে সঞ্চালন ও সরবরাহের ওপর। এখানে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

দেশে যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এখন পরিমাণ না বাড়িয়ে বিদ্যুতের গুণগত মানের দিকে নজর দিতে হবে। এ জন্য বিদ্যুৎ খাতের দক্ষতা বাড়িয়ে সংস্কার করার এখনই সময়।

প্রস্তাবিত বাজেটে ‘বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ ও সংস্কার’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল সেমিনারে এ অভিমত বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের। তারা আরও বলেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে হিসাব দেখাচ্ছে, তা শুভংকরের ফাঁকি। বেশি উৎপাদনের তথ্য দেখাচ্ছে সরকার। এটি প্রকৃত চিত্র নয়।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির ঊর্ধ্বতন গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

বক্তারা মনে করেন, চাহিদার তুলনায় এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন (জেনারেশন) বেশি হচ্ছে। সুতরাং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বাজেটে বরাদ্দ আর বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। আমাদের এখন মনোযোগ দিতে হবে সঞ্চালন ও সরবরাহের (ট্রান্সমিশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন) ওপর। এখানে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

ভাড়ায় চালিত রেন্টাল ও কুইক রেন্টালে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সময় আর না বাড়ানোর দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে পরিবেশদূষণ রোধ ও টেকসই পরিবেশ উন্নয়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন তারা।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে রোডম্যাপ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সঞ্চালন এবং সরবরাহ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরুৎসাহিত করে ক্রমান্বয়ে সবুজ অর্থনীতির দিকে যাওয়ার পরামর্শ দেন তারা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

স্বাগত বক্তবে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের দক্ষতা বাড়লে গ্রাহক সাশ্রয়ী দামে সেবা পাবেন। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন পর্যাপ্ত। এখন গুণগত মানের দিকে নিজর দিতে হবে। এ জন্য ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন থেকে সরে আসার ঘোষণা থাকলেও তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। টেকসই পরিবেশের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেশি নজর দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, উৎপাদন বাড়ছে, এটা ইতিবাচক। তবে লোডশেডিং এখনও হচ্ছে। তার মানে দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সঞ্চালনব্যবস্থায় সংকট আছে। রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উঠিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও তা রয়ে গেছে এখনও।

বিদ্যুৎ খাতে আগের বছরের তুলনায় আনুপাতিক হারে বরাদ্দ বাড়লেও মোট বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে অংশ কমে গেছে। বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে ডিস্ট্রিবিউশন এবং ট্রান্সমিশনে।

বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমছে, আরও কমানোর সুযোগ আছে, যদি দক্ষতা বাড়ানো যায়– মন্তব্য করেন গোলাম মোয়াজ্জেম।

বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ উদ্যোক্তা আসিফ আশরাফ বলেন, ‘দেশে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ আছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই আমাদের এখন নতুন করে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের দরকার নেই। টেকসই পরিবেশের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে। এসব কেন্দ্র স্থাপনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানিতে উচ্চ হারে কর রয়েছে। তা কমাতে হবে।’

যারা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, তাদের কর প্রণোদনা দেয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।

সরকারি সংস্থা ইডকলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন মালিক বলেন, ‘আমাদের ধীরে ধীরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হচ্ছে জমি। ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।’

আরেকজন বেসরকারি উদ্যোক্তা ডি এম মুজিবর রহমান বলেন, ‘এখন আমাদের ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ব্যবহার হচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। বাকিটা উদ্বৃত্ত। ২০৩০ সালের মধ্যে ৫৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন করেন, এত বিদ্যুৎ দিয়ে আমরা কী করব?’

ডিস্ট্রিবিউশন-ব্যবস্থায় বিশাল অপচয় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এবং পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে সমন্বয় না থাকার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

বুয়েটের অধ্যাপক ম. তামিম দাবি করেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের হিসাব আসলে ‘কাগজে-কলমে’। ৪ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র বসে আছে। দেড় থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এমন অনেক প্লান্টের অবস্থা খুবই খারাপ। আসলে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ শুভংকরের ফাঁকি ছাড়া কিছু নয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের হিসাব ‘অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করেন তিনি।

বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারসের সভাপতি ইমরান করিম ট্রান্সমিশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন-ব্যবস্থায় বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন না করার পরামর্শ দেন তিনি।

বুয়েটের ড. ফারসিন মান্নান মোহম্মদী বলেন, আগে জাতীয় বাজেটে বিদ্যুতের ওপর আলাদা একটি রোডম্যাপ বা পথনকশা দেয়া হতো। এবারের বাজেটে তা দেয়া হয়নি। জ্বালানি খাতে কোনো পরিকল্পনা নেই। এর জন্য রোডম্যাপ দরকার। আনুপাতিক হারে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে এ খাতে। তবে মোট বাজেটের তুলনায় বরাদ্দ কমে গেছে।

বেসরকারি উদ্যোক্তা ইমরান রশিদ বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে চুক্তিগুলো আরও স্বচ্ছ হওয়া দরকার। ‘একতরফা’ এসব চুক্তিতে দর-কষাকষির সুযোগ নেই। এ খাতে জমি একটি বড় সমস্যা। যথাসময়ে পেমেন্ট না পাওয়াও বড় সমস্যা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির টাকা (এডিপি) ঠিকমতো খরচ হয় না। বিদ্যুৎ খাতে অদক্ষতার পেছনে এসব বিষয় কাজ করে। এ জন্য এ খাতে সংস্কার করার এখনই সময়।

সরকারি সংস্থা পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ পৃথিবীর সব দেশেই আছে। তবে কীভাবে খরচ কমানো যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের দক্ষতা ও গুণগত মান নিয়েও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

নতুন কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা এ মুহূর্তে সরকারের নেই বলে জানান তিনি।

বাজেটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখন বরাদ্দ বেশি নয় বলে দাবি করেন তিনি। বরং দুই-তৃতীয়াংশ বরাদ্দ দেয়া হয় ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশনে। রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আর অব্যাহত রাখা হবে না বলে জানান তিনি।

মোহাম্মদ হোসেন আরও বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমরা বাজেটে ডিস্ট্রিবিউশন এবং ট্রান্সমিশনে বরাদ্দ বেশি রাখার বিষয়ে নজর দিয়েছি এবং ভবিষ্যতে তা অব্যাহত থাকবে। এখন বিদ্যুৎ খাতে বেশির ভাগ প্রকল্প এ-সংক্রান্ত।’

সিপিডিরি নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বিদ্যুতের গুণগত বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে এর উৎপাদন খরচ বাড়বে। পরিবেশদূষণ রোধে আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজায়নের দিকে যেতে হবে। এ জন্য এসব খাতে বাজেট বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ভারতফেরত ৪ জনের করোনা পজিটিভ 
করোনা আক্রান্তের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত
৫৫ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ২৬১
আবু হেনার ‘মর্জিতে’ ৯ কোটি টাকার করোনা কিট
ম্যাগনেটিক চিপ নেই করোনা টিকায়

শেয়ার করুন

জাবিতে অনলাইনে শিক্ষক নিয়োগ রিট খারিজ

জাবিতে অনলাইনে শিক্ষক নিয়োগ রিট খারিজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার। ছবি: ফেসবুক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি দর্শন বিভাগে ছয়জন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর ১২ জুন অনলাইনে তাদের মৌখিক পরীক্ষাও হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দর্শন বিভাগে অনলাইনে শিক্ষক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দুটি রিটই খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

এর ফলে অনলাইন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কোনো বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

রোববার (২০ জুন) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক ও সৈয়দা নাসরিন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কুমার দেবুল দে। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।

জাবির আইনজীবী কুমার দেবুল দে বলেন, অনলাইনে শিক্ষক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দুটি রিটই সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ফলে নিয়োগে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি দর্শন বিভাগে ছয়জন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর ১২ জুন অনলাইনে তাদের মৌখিক পরীক্ষাও হয়েছে।

দর্শন বিভাগে অনলাইনের নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে গত ১০ জুন হাইকোর্টে রিট করেন একই বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, জাকির হোসেন ও সহকারী অধ্যাপক আবদুছ ছাত্তার।

রিটে শিক্ষা সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন এবং দর্শন বিভাগের প্রধানকে বিবাদী করা হয়।

এর আগে এদেরকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

এই রিটের শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার আরও কিছু ডকুমেন্ট দাখিলের জন্য রোববার দিন ঠিক করে দেয়। রোববার আদালত ওই রিট খারিজ করে দেয়।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ভারতফেরত ৪ জনের করোনা পজিটিভ 
করোনা আক্রান্তের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত
৫৫ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ২৬১
আবু হেনার ‘মর্জিতে’ ৯ কোটি টাকার করোনা কিট
ম্যাগনেটিক চিপ নেই করোনা টিকায়

শেয়ার করুন

১২০ কি. মি. দূরে আঘাত হানতে পারে সেনাবাহিনীর মিসাইল

১২০ কি. মি. দূরে আঘাত হানতে পারে সেনাবাহিনীর মিসাইল

সেনাবাহিনীকে আধুনিক টাইগার মাল্টিপল লঞ্চ রকেট বা মিসাইল সিস্টেম (টাইগার এমএলআরএস) প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘অত্যাধুনিক টাইগার এমএলআরএস অন্তর্ভুক্তির ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ হলো। ভবিষ্যতেও সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আধুনিক টাইগার মাল্টিপল লঞ্চ রকেট বা মিসাইল সিস্টেম (টাইগার এমএলআরএস) প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাভার সেনানিবাসস্থ মিলিটারি পুলিশ সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে (সিএমপিসিএনএস) রোববার দুপুের সেনাবাহিনীতে টাইগার মাল্টিপল লান্স রকেট সিস্টেমস এর (এমএলআরএস) অন্তর্ভুক্তিকরণ অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সেনাবাহিনীর এডহক ৫১ আর্টিলারি ইউনিটকে এই অন্তর্ভুক্তিকরণ সনদ দেন জেনারেল আজিজ আহমেদ। তুরস্কের তৈরি এই টাইগার মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম (মিসাইল) সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতির পিতার হাত ধরেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পুনর্গঠন শুরু হয়। তার অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

‘বঙ্গবন্ধু প্রণীত ‘প্রতিরক্ষা নীতি ১৯৭৪’-এর ভিত্তিতে বর্তমান সরকার নতুন করে ‘প্রতিরক্ষা নীতি ২০১৮’ এবং ‘ফোর্সেস গাল ২০৩০’ প্রণয়ন করে। যার বাস্তবায়ন অনেক দূর এগিয়ে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক ও উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীতে অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জাম সংযোজন করেছে।

‘অত্যাধুনিক টাইগার এমএলআরএস অন্তর্ভুক্তির ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ হলো। ভবিষ্যতেও সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’

দেশ গঠন, দুর্যোগ মোকাবিলা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সেনাবাহিনীর আত্মত্যাগ ও অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। করোনা মোকাবিলায় দৃষ্টান্তমূলক অবদান রাখায় সেনাবাহিনীর সম্মুখযোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

১২০ কি. মি. দূরে আঘাত হানতে পারে সেনাবাহিনীর মিসাইল

মাতৃভূমির অখণ্ডতা রক্ষা ও জাতির যেকোনো প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদবির সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ভারতফেরত ৪ জনের করোনা পজিটিভ 
করোনা আক্রান্তের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত
৫৫ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ২৬১
আবু হেনার ‘মর্জিতে’ ৯ কোটি টাকার করোনা কিট
ম্যাগনেটিক চিপ নেই করোনা টিকায়

শেয়ার করুন