ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পার্বত্য সীমান্তে বিজিবির মহাপরিচালক

ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পার্বত্য সীমান্তে বিজিবির মহাপরিচালক

বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম ঈদের দিন বিজিবির চট্টগ্রাম রিজিয়নের আওতাধীন কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত ‘দুমদুমিয়া সিআইও ক্যাম্প’ এবং রাজনগর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ‘বদিপাড়া বিওপি’ পরিদর্শন করেন।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশলাদি বিনিময় করতে দুর্গম পার্বত্য সীমান্ত পরিদর্শন করলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম।

শুক্রবার বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম ঈদের দিন বিজিবির চট্টগ্রাম রিজিয়নের আওতাধীন কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত ‘দুমদুমিয়া সিআইও ক্যাম্প’ এবং রাজনগর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ‘বদিপাড়া বিওপি’ পরিদর্শন করেন।

বিজিবি মহাপরিচালক সেখানে নিয়োজিত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশলাদি বিনিময় করেন এবং গাছের চারা রোপণ করেন।

দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দক্ষতা ও সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য বিজিবি সদস্যদের অভিনন্দন জানান বাহিনীর মহাপরিচালক। সেই সঙ্গে তাদেরকে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে পবিত্র দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় বিজিবি সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন ও প্রশিক্ষণ), বিজিবি রাঙ্গামাটি সেক্টরের কমান্ডারসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
খুলনায় কোয়ারেন্টিন সেন্টারের নিরাপত্তায় বিজিবি
মৃত ব্যক্তির নামে মামলা, বিজিবি কর্মকর্তাকে বদলি
অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ, পাশে চিরকুট
অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় সীমান্তে আটক ৮
‘বিজিবির তিন লাখ টাকা নিয়ে’ নিখোঁজ ১ সদস্য

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অনুমোদনহীন ডিগ্রি সরাতে রাজি ডা. জাহাঙ্গীর

অনুমোদনহীন ডিগ্রি সরাতে রাজি ডা. জাহাঙ্গীর

ডা. জাহাঙ্গীর বললেন, ‘বিএমডিসি যদি আপত্তি তোলে, তাহলে আমি প্রয়োজনে এগুলো লিখব না। এগুলো সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ড থেকে বাদ দিয়ে দিব।’

বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন ছাড়া চারটি ডিগ্রি এখন থেকে আর সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ডে ব্যবহার করবেন না বলে জানিয়েছেন কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএমডিসি চিঠি পাঠাবে এটা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে বিএমডিসি যদি আপত্তি তোলে, তাহলে আমি প্রয়োজনে এগুলো লিখব না। এগুলো সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ড থেকে বাদ দিয়ে দেব।’

তিনি বলেন, ‘কোনো চিকিৎসক যদি ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসে, সেটা তো বিএমডিসি অনুমোদন দেবে না। কারণ বিএমডিসি সেটা গ্রহণ করবে না।’

ডা. জাহাঙ্গীর দাবি করেন, প্রেসক্রিপশনে তিনি তার ডিগ্রিকে ট্রেইনিং (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) হিসেবে উল্লেখ করতেন। তবে বিএমডিসির দাবি, তিনি তার প্রেসক্রিপশনে ডিগ্রি হিসেবেই উল্লেখ করতেন। এরকম প্রেসক্রিপশনের নমুনা তাদের কাছে আছে।

এর আগে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে ‘অপচিকিৎসার’ অভিযোগ তোলে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজ (এফডিএসআর)। এ অভিযোগের পর দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়ে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে বিতর্কিত ভিডিওসহ মোট তিনটি পোস্ট সরিয়ে নেবেনে বলে জানান ডা. জাহাঙ্গীর।

তবে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এফডিএসআর নেতারা বলছেন, ডা. জাহাঙ্গীরকে কিটো ডায়েট সংক্রান্ত সব ভিডিও সরাতে হবে। তা না হলে ‘অপচিকিৎসার’ অভিযোগে মামলা করা হবে তার বিরুদ্ধে। এসব ভিডিও সরিয়ে নিতে ডা. জাহাঙ্গীরকে সাত দিনের সময় দিয়েছে এফডিএসআর।


আরও পড়ুন: ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ডিগ্রির ‘অনুমোদন নেই’

বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী, দেশের চিকিৎসকরা তাদের সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ডে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি উল্লেখ করতে গেলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন নিতে হয়। এই আইন না মেনে দীর্ঘদিন ধরে বিএমডিসির অনুমোদন ছাড়াই চারটি ডিগ্রি ব্যবহার আসছেন ডা. জাহাঙ্গীর।

আইন অনুযায়ী, প্র্যাকটিস করা যে কোনো চিকিৎসককে তাদের অর্জিত ডিগ্রির সদনের কপি বিএমডিসিতে জমা দিয়ে তা ব্যবহারের অনুমোদন নিতে হয়। বিএমডিসি সেগুলো যাচাই করে একটি নিবন্ধন নম্বর দেয়। এরপর ডিগ্রির তথ্য বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ করার অনুমতি মেলে।

ডা. জাহাঙ্গীর কবির তার সাইনবোর্ডে, প্রেসক্রিপশনে যেসব ডিগ্রি উল্লেখ করেছেন সেগুলোর বিষয়ে তিনি বিএমডিসিতে কোনো আবেদন করেননি।

ডা. জাহাঙ্গীর এমবিবিএস ছাড়াও যে চারটি ডিপ্লোমা ডিগ্রি ব্যবহার করছেন, সেগুলো হলো: ডিপ্লোমা মডিউল ইন ডায়াবেটিস (এডুকেশন ফর হেলথ), ডিপ্লোমা মডিউল ইন অ্যাজমা (এডুকেশন ফর হেলথ), ডিপ্লোমা মডিউল ইন সিওপিডি (এডুকেশন ফর হেলথ), স্পিরো ৩৬০ স্পাইরোমেট্রি কোর্স (ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি)।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমডিসির ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা যেহেতু অভিযোগ পেয়ে তাকে চিঠি দিয়েছি, এ বিষয়ে তিনি আমাদের কারণ ব্যাখ্যা করে জবাব দেবেন। এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘এছাড়া ডা. জাহাঙ্গীর কবির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ভিডিও তৈরি করছেন। এই ভিডিওগুলোতে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। তিনি কেন অনুমোদন ছাড়াই ডিগ্রিগুলো ব্যবহার করছেন? এটা কী ধরনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ, সেটা আমাদের আইনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাখ্যা দিতে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।’

বিএমডিসির পরবর্তী পদক্ষেপ জানতে চাইলে মো. লিয়াকত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৫ দিনে জবাব না এলে ধারাবাহিকভাবে তিনটা চিঠি তার কাছে পাঠানো হবে। এরপরেও জবাব না দিলে ডিগ্রিগুলো নকল ধরে নিয়ে র‌্যাবের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমাদের সংস্থার কর্মকর্তারা সেই অভিযানে থাকবেন।’

চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজের (এফডিএসআর) মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ব্যবহার করা ডিগ্রিগুলোর অনুমোদন বিএমডিসি দেয়নি। এগুলো আসলে মানুষকে প্রলুব্ধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটা এক ধরনের প্রতারণার শামিল এবং অবশ্যই নিয়ম লঙ্ঘন।’

আরও পড়ুন:
খুলনায় কোয়ারেন্টিন সেন্টারের নিরাপত্তায় বিজিবি
মৃত ব্যক্তির নামে মামলা, বিজিবি কর্মকর্তাকে বদলি
অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ, পাশে চিরকুট
অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় সীমান্তে আটক ৮
‘বিজিবির তিন লাখ টাকা নিয়ে’ নিখোঁজ ১ সদস্য

শেয়ার করুন

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হচ্ছে কাল

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হচ্ছে কাল

করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শাটডাউনের মেয়াদ ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ালেও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর সুযোগ রেখে বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সরকার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর অভ্যন্তরীণ রুটে শুক্রবার থেকে আবার ফ্লাইট চলাচল শুরু হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ সাতটি রুটে ফ্লাইট ঘোষণা করেছে দুটি বেসরকারি এয়ারলাইনস। একই সময়ে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর কথা জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শাটডাউনের মেয়াদ ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ালেও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর সুযোগ রেখে বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে ১০ আগস্ট ২০২১ রাত ১২টা পর্যন্ত এ বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়ানো হলো। শিল্প, কলকারখানা বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট।

সরকারি ঘোষণার পরপরই বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ৬ আগস্ট থেকে অভ্যন্তরীণ সব রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হবে।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সৈয়দপুর, যশোর, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহীতে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত জানায় এয়ারলাইনসটি।

বেসরকারি আরেক এয়ারলাইনস নভো এয়ার শুক্রবার থেকে ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

এক বিজ্ঞপ্তিতে নভো এয়ার জানায়, সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুক্রবার থেকে প্রতিদিন চট্টগ্রামে ৬টি, সৈয়দপুরে ৬টি, যশোরে ৬টি, বরিশালে ২টি, সিলেট ২টি, রাজশাহীতে ২টি এবং কক্সবাজারে ২টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানায়, শুক্রবার তারা বেশ কয়েকটি নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এদিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ২টি, সৈয়দপুরে ২টি, সিলেট, কক্সবাজার, রাজশাহী, বরিশাল ও যশোরে ১টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

বিমান শনিবার থেকে চট্টগ্রামে ৩টি, সৈয়দপুরে ৩টি, সিলেটে ২টি, কক্সবাজারে ২টি, বরিশালে ২টি, যশোরে ২টি ও রাজশাহীতে ১টি করে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ রুখতে গত ১ জুলাই থেকে সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এ সময় অভ্যন্তরীণ রুটের সব ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়। ঈদের কারণে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল ছিল। এ সময় অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল করে।

পরে ২৩ জুলাই আবারও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে বন্ধ হয় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল। তবে এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে প্রবাসী কর্মীদের আনা-নেয়া করার জন্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিটধারীদের জন্য সীমিতসংখ্যক অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট রাখা হয়।

আরও পড়ুন:
খুলনায় কোয়ারেন্টিন সেন্টারের নিরাপত্তায় বিজিবি
মৃত ব্যক্তির নামে মামলা, বিজিবি কর্মকর্তাকে বদলি
অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ, পাশে চিরকুট
অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় সীমান্তে আটক ৮
‘বিজিবির তিন লাখ টাকা নিয়ে’ নিখোঁজ ১ সদস্য

শেয়ার করুন

যেসব পাওয়া গেল পরী-রাজের বাসায়

যেসব পাওয়া গেল পরী-রাজের বাসায়

চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের সঙ্গে চিত্রনায়িকা পরীমনি।

পরীর বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে আট বোতল প্লাটিনাম লেভেল, তিনটি ব্ল্যাক লেভেল, দুটি চিভাস রিগাল, দুটি ফক্স গ্রোভ, একটি ব্লু লেভেল, দুটি গ্ল্যানলিভেট, এক বোতল গ্ল্যানফিডিচ। তার বাসা থেকে আরও জব্দ হয়েছে চার গ্রাম আইস ও এক স্লট এলএসডি। এর ছাড়া জব্দ তালিকায় একটি বং পাইপের কথাও বলা হয়েছে।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনি এবং চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের বাসায় পাওয়া পণ্যের জব্দতালিকা করেছে র‍্যাব। এই তালিকায় বিপুল পরিমাণ মদের পাশাপাশি রাখা হয়েছে নিষিদ্ধঘোষিত মাদকদ্রব্য আইস ও এলএসডির নাম।

র‍্যাব জানায়, পরীর বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে আট বোতল প্লাটিনাম লেভেল, তিনটি ব্ল্যাক লেভেল, দুটি চিভাস রিগাল, দুটি ফক্স গ্রোভ, একটি ব্লু লেভেল, দুটি গ্ল্যানলিভেট, এক বোতল গ্ল্যানফিডিচ।

তার বাসা থেকে আরও জব্দ হয়েছে চার গ্রাম আইস ও একটি স্লট এলএসডি। এর ছাড়া জব্দতালিকায় একটি বং পাইপের কথাও বলা হয়েছে।

এদিকে চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক নজরুল ইসলাম রাজের অফিস থেকে বিপুল মদ জব্দ করার কথা জানিয়েছে র‍্যাব। জব্দতালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার বাসায় মিলেছে সাত বোতল গ্ল্যানলিভেট, দুটি গ্ল্যানফিডিচ, চারটি ফক্স গ্রোভ, একটি প্লাটিনাম লেভেল।

এর বাইরে সিসায় ব্যবহৃত চারকোলের একটি প্যাকেট, দুই সেট সিসার সরঞ্জাম, দুই ধরনের সীমা তামাক, সিসা সেবনের জন্য ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের একটি রোল, ৯৭০ পিস ইয়াবার কথাও বলা হয়েছে জব্দতালিকায়।

এ ছাড়া বেআইনি যৌনাচারের জন্য ব্যবহৃত ১৪টি বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম, একটি সাউন্ড বক্স ও দুটি মোবাইল ফোন সেট এবং একটি মেমোরি কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বনানীতে পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব। এ সময় অবৈধ মাদকদ্রব্য আইস ও এলএসডি এবং বিপুল মদ জব্দ করা হয়। রাত সোয়া ৯টার দিকে এই অভিনেত্রীকে র‍্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরীমনির বাসায় অভিযান শেষ না হতেই বনানী ৭ নম্বর সড়কে আরেকটি বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখা। ওই বাসা থেকে ইয়াবা, মদ এবং অনুমোদনহীন যৌনাচারের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। রাজকেও আটক দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় র‍্যাব কার্যালয়ে।

সেখানেই পরীমনি ও রাজকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছে র‍্যাব। বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে ব্রিফিং শেষে তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
খুলনায় কোয়ারেন্টিন সেন্টারের নিরাপত্তায় বিজিবি
মৃত ব্যক্তির নামে মামলা, বিজিবি কর্মকর্তাকে বদলি
অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ, পাশে চিরকুট
অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় সীমান্তে আটক ৮
‘বিজিবির তিন লাখ টাকা নিয়ে’ নিখোঁজ ১ সদস্য

শেয়ার করুন

অনৈতিক কাজের দায় এড়ানো যাবে না: তথ্যমন্ত্রী

অনৈতিক কাজের দায় এড়ানো যাবে না: তথ্যমন্ত্রী

সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অভিনয়-মডেলিং এগুলো আমাদের শিল্প-সংস্কৃতিরই অংশ। যারা এগুলো চর্চা করেন তারা এই অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেন ও অনেকে জীবিকাও নির্বাহ করেন। কিন্তু এর আড়ালে কেউ যদি অবৈধ-অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তিনি যে-ই হন, সেই দায় তো তাকে নিতেই হবে।’

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকা পরীমনি বা মডেল পিয়াসাসহ কেউই অভিনয়-মডেলিংয়ের আড়ালে অনৈতিক কাজ করে দায় এড়াতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি একাধিক অভিনয়শিল্পী-মডেল গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিনয়-মডেলিং এগুলো আমাদের শিল্প-সংস্কৃতিরই অংশ। যারা এগুলো চর্চা করেন তারা এই অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেন ও অনেকে জীবিকাও নির্বাহ করেন। কিন্তু এর আড়ালে কেউ যদি অবৈধ-অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তিনি যে-ই হন, সেই দায় তো তাকে নিতেই হবে।’

এ ধরনের গ্রেপ্তার অভিযানে শিল্পাঙ্গনে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না বলেও মনে করেন ড. হাছান।

তিনি বলেন, ‘অনৈতিক বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত যে কারোর বিষয়ে সব সময়ই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ব্যবস্থা নিতে পারে। এতে পুরো অঙ্গনের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি না।’

এদিন শহিদ শেখ কামালের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শহিদ হওয়া পরিবারের সদস্য শেখ কামাল ছিলেন একাধারে ক্রীড়াবিদ ও অন্যদিকে সংস্কৃতিকর্মী। তিনি ফুটবল খেলতেন, ক্রিকেট খেলতেন। আবাহনী ক্রীড়া চক্র সংগঠিত করে বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তন করেছিলেন তিনি।

‘একই সঙ্গে তিনি অভিনয় করতেন, সেতার বাজাতেন, গান গাইতেন। এমন বহুগুণ ছিল শহিদ শেখ কামালের। তার জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’

ড. হাছান বলেন, ‘শেখ কামালকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে ক্রীড়াঙ্গন-সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। অহমিকাহীন এ মানুষটিকে দেখে কেউ বলতে পারত না তিনি জাতির পিতার পুত্র কিংবা দেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতির পুত্র। নির্লোভ, নিরহংকার এমন মানুষকে হত্যাকারী খুনি চক্রের প্রতি আমি ধিক্কার জানাই।’

আরও পড়ুন:
খুলনায় কোয়ারেন্টিন সেন্টারের নিরাপত্তায় বিজিবি
মৃত ব্যক্তির নামে মামলা, বিজিবি কর্মকর্তাকে বদলি
অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ, পাশে চিরকুট
অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় সীমান্তে আটক ৮
‘বিজিবির তিন লাখ টাকা নিয়ে’ নিখোঁজ ১ সদস্য

শেয়ার করুন

নজরদারিতে এক ডজনের বেশি মডেল

নজরদারিতে এক ডজনের বেশি মডেল

রোববার অভিনেত্রী পিয়াসাকে বারিধারার বাসা থেকে আটক করে ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগ। ছবি: নিউজবাংলা

ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পিয়াসা মৌদের মতো মডেলের সংখ্যা অনেক। যারা দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইলিং ও মাদক ব্যবসা করে আসছিল। আমরা আরও কিছু মডেলের নাম পেয়েছি। তাদের বিষয়েও তথ্য নেয়া হচ্ছে।’  

ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, মরিয়ম আক্তার মৌ, পরীমনির মতো আরও এক ডজনের বেশি মডেল ও অভিনেত্রীর তালিকা প্রস্তুত করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলিং ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তালিকায় থাকা এসব মডেল-অভিনেত্রীদের নজরদারিতে রেখেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হবে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও র‍্যাবের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এদিকে রিমান্ডে থাকা পিয়াসা ও মৌয়ের কাছ থেকে অভিযোগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

ডিবি বলছে, কীভাবে এই কথিত মডেলরা ধনাঢ্যদের টার্গেট করতেন এবং পরে তাদের নিজেদের বাসায় বা অন্য জায়গায় পার্টির নামে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের উদ্দেশ্যে ভিডিও ও ছবি ধারণ করতেন, এসব বিষয় তদন্ত সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন পিয়াসা ও মৌ।

সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, ব্ল্যাকমেইল করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই কথিত মডেলরা।

লাখ টাকা ভাড়ার ফ্ল্যাট, কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি, বিলাসি জীবন সবই ব্ল্যাকমেইলিং এবং অবৈধ উপায়ে উপার্জিত টাকায়। বড় ব্যবসায়ী, ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইল করত ওই কথিত মডেলরা।

নজরদারিতে এক ডজনের বেশি মডেল
রোববার রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে কথিত মডেল মৌকে আটক করে পুলিশ

ডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পিয়াসা ও মৌয়ের মোবাইলে বেশ কিছু ভিডিও পাওয়া গেছে। এগুলো তারা গোপনে ধারণ করেছিলেন। তাদের মোবাইল থেকে এবং জিজ্ঞাসাবাদে এ ধরনের কাজে জড়িত আরও কিছু মডেলের নাম পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই বাছাই চলছে।

বুধবার দুপুরে পিয়াসার দুই সহযোগী শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে রর‍্যাব।

র‍্যাব বলছে, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বিভিন্ন পার্টির আয়োজন করতেন মিশু। পরীমনিসহ বিভিন্ন মডেলদের এসব পার্টিতে হাজির করতেন তিনি।

র‍্যাব জানায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এই চক্রের সদস্য প্রায় ১০ থেকে ১২ জন। তারা রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকা বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করে থাকে। এসব পার্টিতে তারা অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকে। অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য।

নজরদারিতে এক ডজনের বেশি মডেল
বুধবার ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পরীমনিকে আটক করেছে র‍্যাব

সংস্থাটি বলছে, প্রতি পার্টিতে ১৫-২০ জন অংশগ্রহণ করত। এছাড়া বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করা হত। একইভাবে উচ্চবিত্ত প্রবাসীদের জন্যেও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টি আয়োজন করতেন অভিযুক্তরা। ক্লায়েন্টদের একান্ত মুহূর্তের ছবি ধারণ করে অপব্যবহার করা হত বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তারা।

র‍্যাব বলছে, পার্টি আয়োজনের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের চাহিদা ও পছন্দের গুরুত্ব দিয়ে পার্টি আয়োজন করা হত। গ্রেপ্তাররা তাদের এই অবৈধ অর্থ নামেবেনামে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে।

এদিকে পিয়াসা ও মৌকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের মাদক ব্যবসা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) হারুন অর রশীদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পিয়াসা মৌদের মতো মডেলের সংখ্যা অনেক। যারা দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইলিং ও মাদক ব্যবসা করে আসছিল। আমরা আরও কিছু মডেলের নাম পেয়েছি। তাদের বিষয়েও তথ্য নেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
খুলনায় কোয়ারেন্টিন সেন্টারের নিরাপত্তায় বিজিবি
মৃত ব্যক্তির নামে মামলা, বিজিবি কর্মকর্তাকে বদলি
অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ, পাশে চিরকুট
অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় সীমান্তে আটক ৮
‘বিজিবির তিন লাখ টাকা নিয়ে’ নিখোঁজ ১ সদস্য

শেয়ার করুন

শেখ কামালের জন্মদিনে ডাকটিকিট

শেখ কামালের জন্মদিনে ডাকটিকিট

বৃহস্পতিবার গণভবনে শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক খাম অবমুক্ত করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিট, ১০ টাকার উদ্বোধনী খাম ও ৫ টাকা মূল্যের ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের ৭২তম জন্মদিনে স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ডাকটিকিট, খাম ও ডাটা কার্ড অবমুক্ত করা হয়।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

তিনি জানান, শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিট, ১০ টাকার উদ্বোধনী খাম ও ৫ টাকা মূল্যের ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো. আফজাল হোসেন এবং ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামাল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিহত হন তিনি। তখন তার বয়স ছিল ২৬ বছর।

ওই বয়সেই বাবার পরিচয়ের বলয়ের বাইরে নিজের পরিচয় তৈরি করে নেন শেখ কামাল। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক। খেলাধুলা, সংস্কৃতি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন সব ক্ষেত্রেই ছিল তার পদচারণা।

আরও পড়ুন:
খুলনায় কোয়ারেন্টিন সেন্টারের নিরাপত্তায় বিজিবি
মৃত ব্যক্তির নামে মামলা, বিজিবি কর্মকর্তাকে বদলি
অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ, পাশে চিরকুট
অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় সীমান্তে আটক ৮
‘বিজিবির তিন লাখ টাকা নিয়ে’ নিখোঁজ ১ সদস্য

শেয়ার করুন

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ দিন: হাইকোর্ট

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ দিন: হাইকোর্ট

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘মোবাইল কোর্টটা হচ্ছে অনলি স্পট। যেখানে ঘটনা ঘটবে সেখানেই করতে হবে। এটা চেম্বারেও বসে করার সুযোগ নাই। থানায় বসে করারও সুযোগ নাই।’

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম হবে শুধু ঘটনাস্থলকেন্দ্রীক। যেখানে ঘটনা ঘটবে সেখানেই শুধু আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। চেম্বারে বা থানায় বসে আদালত পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। এসব বিষয় উল্লেখ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে বলেছে হাইকোর্ট।

ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে কথা বলতে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশনা দিয়েছে আদালত।

একইসঙ্গে আদালত নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় দুই শিশুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়ার ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়ার ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। ২৬ আগস্টের মধ্যে এ ব্যাখ্যা দিতে হবে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।

এ সময় নেত্রকোণায় দুই শিশুকে সাজা দেয়ার ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়ার কাছে জেলা প্রশাসক যে ব্যাখ্যা চেয়েছেন, তার কপি আদালতে দাখিলের নির্দেশনা চান বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনা আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেন ব্লাস্টের আইনজীবী রেজাউল করিম।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও বিপুল বাগমার।

শুনানির এক পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সম্প্রতি বেশ কিছু ঘটনায় সাজা দেয়ার প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘মিস্টার অ্যাটর্নি জেনারেল, আপনি আছেন ভালোই হয়েছে। আমি যতটুকু নিউজে পড়ে জেনেছি ম্যাজিস্ট্রেট রাজিয়া সুলতানা তার চেম্বারে বসে অর্ডারটা পাস করেছেন। এটা কি তিনি করতে পারেন?’

তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘মাই লর্ড এটা হয়তো অন্য বিষয়। এতে তিনি প্রসিডিউর লংঘন করেছেন।’

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘শুধু প্রসিডিউর না, সবটাই আপনাকে দেখতে হবে। আপনি দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল, ল কোথায়, কীভাবে লংঘন হয় সেটা আপনাকে দেখতে হবে।

‘মোবাইল কোর্টটা হচ্ছে অনলি স্পট। যেখানে ঘটনা ঘটবে সেখানেই করতে হবে। এটা চেম্বারেও বসে করার সুযোগ নাই। থানায় বসে করারও সুযোগ নাই।’

বিচারক বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে- আমরা পত্রপত্রিকায় দেখি হয়তো ঘটনা ঘটেছে। হয়তো শাস্তিযোগ্য অপরাধ, কিন্তু দেখা যায়, ম্যাজিস্ট্রেটরা দুই দিন, তিন দিন পরে গিয়ে মোবাইল কোর্টে সাজা দিয়ে দেয়। সুতরাং এগুলো আপনারা সরকারি পর্যায়ে বলেন। ম্যাজিস্ট্রেটদের ফাউন্ডেশন ট্রেনিং হয়, সেখানে মোবাইল কোর্ট কীভাবে পরিচালনা হবে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হোক।’

আরেকটি ঘটনার উল্লেখ করে বিচারক বলেন, ‘এই কিছু দিন আগে বরগুনা বা পিরোজপুরে দিকে হবে সম্ভবত। এক লোকের ক্ষেতে পাখি গিয়ে ফসল নষ্ট করেছে বলে শতাধিক পাখি সে মেরে ফেলেছে। নিঃসন্দেহে এ ঘটনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে আমি যতটুকু দেখছিম দুই-তিন দিন পরে গিয়ে মোবাইল কোর্ট ওই ব্যক্তিকে সাজা দিয়েছে। মোবাইল কোর্টের স্পিরিট কিন্তু এটা না। এ ধরনের অনেকগুলো বিষয় পত্রিকায় দেখেছি।

‘আপনারা একটু মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে বলেন, ওনাদেরও প্রশিক্ষণের ব্যাপার আছে।’

এ সময় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলও আদালতের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ‘মোবাইল শব্দটাই তো চলমান।’

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে কথা বলবো।’

নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় দুই শিশুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়ার ঘটনায় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে বুধবার চিঠি লেখেন সুপ্রিকোর্টের আইনজীবী শিশির মনির। পরে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে বুধবারই শিশু দুটিকে মুক্তির নির্দেশ দেয়।

অবশ্য হাইকোর্টের আদেশের আগেই নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক দুই শিশুকে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।

ওই ব্যাখ্যা চাওয়ার একটি কপি আদালতে দাখিলের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন জানান আইনজীবী। পরে আদালত বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।

নেত্রকোণায় যা ঘটেছে

ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনে দুই শিশুকে এক মাসের দণ্ড দেন নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া।

জেলার আটপাড়ায় সুলতানা রাজিয়া তার নিজ কার্যালয়ে গত রোববার রাতে আদালত বসিয়ে ওই দণ্ডাদেশ দেন। একই সঙ্গে শিশু দুটিকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

শিশু দুটির বাড়ি আটপাড়া উপজেলার দুওজ ইউনিয়নে। তাদের মধ্যে নবম শ্রেনিতে পড়ুয়া মেয়েটির বয়স ১৫ বছর (জেএসসির নিবন্ধন কার্ড অনুযায়ী), ছেলেটিও সমবয়সী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে প্রায় দুই বছর ধরে তারা দুজন লেখাপড়ার পাশাপাশি ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করছিল। এ সময়ে দুজনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সম্প্রতি মেয়েটি ছেলেটিকে বিয়ে জন্য চাপ দেয়, তবে ছেলেটি তাতে রাজি হয়নি। গত ঈদুল আজহার সময়ে তারা গ্রামের বাড়িতে আসে। এরপর বিয়ের দাবিতে গত সপ্তাহের বুধবার রাত থেকে ছেলের বাড়িতে অবস্থান নেয় মেয়েটি। এ অবস্থায় গত রোববার সন্ধ্যায় উভয় পরিবার তাদের বিয়ের আয়োজন করে।

তবে বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়া ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। এরপর দুই জনকে তার কার্যালয়ে এনে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

শিশু আদালতে বিচার না করে দুজনকে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনে আটকাদেশ দেয়াকে আইন বহির্ভূত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন:
খুলনায় কোয়ারেন্টিন সেন্টারের নিরাপত্তায় বিজিবি
মৃত ব্যক্তির নামে মামলা, বিজিবি কর্মকর্তাকে বদলি
অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ, পাশে চিরকুট
অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় সীমান্তে আটক ৮
‘বিজিবির তিন লাখ টাকা নিয়ে’ নিখোঁজ ১ সদস্য

শেয়ার করুন