ফ্যামিলিকে কীভাবে পালব

ফ্যামিলিকে কীভাবে পালব

আন্তজেলা বাস চালুর দাবিতে ঈদের সকালে সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে বাস শ্রমিকদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমাদেরকে টাকা দেন, না হলে গাড়ি চলতে দেন। সবাই যদি চলতে পারে তবে আমরা কেন পারব না? আমাদের তো বউ পোলাপান আছে। আমার গাড়ি যদি বসে থাকে আমি আমার ফ্যামিলিকে কীভাবে পালব?’

ঈদের আনন্দের লেশ নেই। স্বজনদের বায়না পূরণ করার সঙ্গতি নেই, আসলে সামনে জীবন চালানার মতো কোনো অবলম্বনই নেই।

লকডাউনের কারণে বিধিনিষেধে এখনও যারা ঘরে বসে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো আন্তজেলা বাসের চালক শ্রমিকরা।

ঈদে আনন্দ আয়োজন বা স্বজনদের সঙ্গে সুখ সময় কাটাতে অন্যরা যখন ব্যস্ত, তখন রাজধানীসহ সারা দেশে তারা ব্যস্ত সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে।

তারা চাইছেন, জেলার ভেতর বাস চলাচলে যেভাবে সুযোগ দেয়া হয়েছে, একইভাবে যেন আন্তজেলাতেও সুযোগ দেয়া হয়।

ঢাকা মহানগর সড়ক প‌রিবহন শ্র‌মিক ইউ‌নিয়নের ব্যানা‌রের স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার পরিবহন চালুসহ পাঁচ দফা দা‌বি‌তে ঈ‌দের দিন সকাল ১০ থে‌কে বেলা ১২টা পর্যন্ত এ অবস্থান কর্মসূচি পালন ক‌রেন প‌রিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।

সায়েদাবাদ বাস টা‌র্মিনাল ভব‌নের সাম‌নে পূর্ব‌ নির্ধা‌রিত অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নি‌য়ে শাহজাহান খান বলেন, ‘যেভাবে মানুষ গ্রামে গেছেন, সেভাবে তারা আবার ফিরে আসবেন। তাদের ঘরে আটকে রাখা যাবে না। তাই ফিরে আসা যাত্রী‌দের দুর্ভোগ কমাতে কয়েক‌দিনের জন্য হলেও দূরপাল্লার প‌রিবহন চালু করা জরু‌রি।’

গত ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন শুরুর পরে প্রথমে মহানগরে আর ঈদের আগে জেলার ভেতরে গণপরিবহন চালু হয়। তবে আন্তজেলা রুটে বন্ধ থাকে বাস।

শাজাহান খান প্রথমে গাবতলী ও পরে মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে কথা বলেন শ্রমিকদের সঙ্গে।

ফ্যামিলিকে কীভাবে পালব
মহাখালী টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা বাসের সামনে দাঁড়িয়ে জীবনের কঠিন বাস্তবতার কথা বলছিলেন দুুই চালক সুমন মিয়া ও মামুন মিয়া

মহাখালীতে সৌখিন পরিবহনের চালক সুমন মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৩৭ দিন ধরে গাড়ি বন্ধ। ঈদের পর আরও সাত দিন দিবে। শাহজাহান খান তো আমাদের কথাই বলল। এহন মালিকপক্ষ আমাদের সাথে মিলছে। আগে তো কিছু কই নাই। ফেরিতে মানুষ গাদাগাদি করে যাচ্ছে। সেখানে তো করোনা ঢুকতেছে। আমরা মিনতি করলাম আগের মত একসিটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদেরকে চালানোর সুযোগ করে দেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে টাকা দেন, না হলে গাড়ি চলতে দেন। সবাই যদি চলতে পারে তবে আমরা কেন পারব না? আমাদের তো বউ পোলাপান আছে। আমার গাড়ি যদি বসে থাকে আমি আমার ফ্যামিলিকে কীভাবে পালব?’

হতাশার সুরে সুমন বলেন, ‘আমি না হয় একজনের কাছ থেকে চাইয়া ভাত খাইলাম কিন্তু আমার বউ বাচ্চা কীভাবে খাবে? আমারে আমার স্টান্ড এর খিচুড়ি দিয়েছে। কিন্তু আমার পরিবারকে কে দিবে?’

ফ্যামিলিকে কীভাবে পালব
চালকরা বলছেন, জেলার ভেতরে বাস চললে আন্তজেলাতেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালানো সম্ভব

৩৭ দিন কোন আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সীমিত আকারে কিছু কিছু এলাকায় ত্রাণ দেয়া হয়েছে। এলাকাভিত্তিক দিয়ছে। কিন্তু আমরা তো এমন ত্রাণ চাই না। আমাদেরকে ন্যায্যদামে খাবার দেয়া হোক।’

সুমন বলেন, ‘সরকার তো অনেক ক্ষমতা প্রশাসনকে দিয়েছে। আমাদেরকে গাড়ি চালাতে দেন যদি কেউ স্বাস্থ্যবিধি না মানে তবে ব্যবস্থা নেন।… যদি সরকার মনে করে সব বন্ধ রাখবে তবে সেইভাবে আইন হোক। কিন্তু সবকিছু খোলা আছে শুধু আমরা পথে বসে আছি।’

আরেক চালক মামুন মিয়া বলেন, ‘আমাগো নেতারা কইলো তারা নাকি সরকারের কাছে টাকা চাইছিল। দেয় নাই। শুনছি পাঁচ হাজার কোটি টাকা দিব, তো দেয় নাই। চাল চাইছি, পাই নাই। আমরা বলছিলাম ১০ টাকা দামে চাল খাইতে চাই দেয় নাই।’

শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানিক মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে তো শুধু আমাদের আন্দোলন ছিল। এখন মালিকপক্ষ আইসা যোগ দিছে। মালিকগো একটা ধারণা হইছে বিভিন্ন গার্মেন্টেসে টাকা দিছে, তাদেরকে যেন দেয়া হয়।

‘লকডাউন তো ইচ্ছাকৃত দেয়া হয়নি। লকডাউন দিছে সারা দেশের জন্য। আমরা তো বাস্তব পরিস্থিতি দেখতেছি তাতে তো কিছুই মানা হইতেছে না। যারা এখন রাস্তায় চলতেছে আমরা তাদের থেকে ভালো স্বাস্থ্যবিধি মানি।’

ফ্যামিলিকে কীভাবে পালব
শ্রমিকদের জন্য সহায়তা, ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রিসহ পাঁচটি দাবি আছে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাসে এক সিট থেকে আরেক সিটের দুরত্ব তো ছয় ফিট। যারা সিএনজি বা মাইক্রোবাসে চলে তাদের তো কোনো দূরত্ব নাই। এক সিটে চারজন নিয়ে যাইতেছে। মোটরসাইকেলে তিন জন যাইতেছে। সেইখানে তো স্বাস্থ্যবিধি মানতেছে না।’

তিনিও বলেন, ‘লকডাউন দিলে সবখানে দেন। আমরা এত বড় একটা গোষ্ঠী না খেয়ে আছি। আমরা এও বলেছিলাম একটা তালিকা করেন। সরকারের কাছেও তো আমাদের তালিকা দেয়া আছে। সেই তালিকা দেখে আমাদের টার্মিনালে ন্যায্যমূল্যে আমাদের চাল দিক। মাসে ২০ কেজি চাল চাইছি। তাও পাইনি।’

এর আগে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। সেগুলো হলো- স্বাস্থ্যবিধি মেনে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার বাস চালু এবং স্বাভাবিক মালামাল নিয়ে পণ্য পরিবহন চলাচলের সুযোগ দেয়া, লকডাউনের কারণে কর্মহীন সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের আর্থিক অনুদান ও খাদ্য সহায়তা প্রদান, মালিকদের সহজ শর্তে পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেয়া।

আরও পড়ুন:
মে দিবসে পরিবহন শ্রমিকদের চাল বিতরণ
এবার মালিকদের ত্রাণ পেল মিরপুরের বাস শ্রমিকরা
পরিবহন শ্রমিকেরা কীভাবে বাঁচবেন?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘ফিরে এসে চেনা মুখগুলো আর পাইনি’

‘ফিরে এসে চেনা মুখগুলো আর পাইনি’

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

‘আমি, আমার ছোট বোন বিদেশে ছিলাম। জুলাই মাসের ৩১ তারিখ আমরা জার্মানিতে পৌঁছাই। বেঁচে গিয়েছিলাম কিন্তু দেশে আসতে পারিনি। তখনকার মিলিটারি ডিক্টেটর আমাকে আসতে দেয়নি। আমার অবর্তমানে আমার দল আমাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করে। আমার দল, সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষ, তাদেরই আহ্বানে আমি বাংলাদেশে ফিরে আসি।’

১৯৭৫ সালের জুলাইয়ের শেষে জার্মানি যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্যদের বিদায় জানালেও ফিরে এসে তাদের না পাওয়ার স্মৃতি এখনও পোড়ায় বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের স্মৃতিচারণা করেন সরকারপ্রধান।

স্মৃতিকাতর শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর মাত্র সাড়ে ৩ বছরে যখন আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন স্বাধীনতাবিরোধী, পরাজিত শক্তির দোসর এবং কিছু বেইমান মুনাফেকের চক্রান্তে ১৫ আগস্ট তাকে (বঙ্গবন্ধু) হত্যা করা হয়। আর সেই থেকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সব আদর্শকে জলাঞ্জলি দেয়া হয়।’

‘আমি, আমার ছোট বোন বিদেশে ছিলাম। জুলাই মাসের ৩১ তারিখ আমরা জার্মানিতে পৌঁছাই। বেঁচে গিয়েছিলাম কিন্তু দেশে আসতে পারিনি। তখনকার মিলিটারি ডিক্টেটর আমাকে আসতে দেয়নি। আমার অবর্তমানে আমার দল আমাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করে। আমার দল, সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষ, তাদেরই আহ্বানে আমি বাংলাদেশে ফিরে আসি।’

তবে ফিরে আসার পথ মসৃণ ছিল না বলেও জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারণ মিলিটারি ডিক্টেটর যিনি তখন ছিলেন অনেকভাবে বাধা দেয়া চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেদিন আমি দেখেছিলাম হাজার হাজার মানুষ।’

‘আমি যখন বাংলাদেশ থেকে যাই, তখন বিমানবন্দরে আমার ভাইবোন ওরাই ছিল। কিন্তু যখন ফিরে আসি তখন হাজার মানুষ পেয়েছি। কিন্তু সেই চেনা মুখগুলো আর পাইনি। পেয়েছি আমার দলের লোকেরা, সমর্থকরা এবং অগণিত সাধারণ মানুষ।’

জাতির পিতার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণকেই নিজের পাথেয় হিসেবে নেয়ার কথা তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বলেন, ‘আমি সেখানেই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, তাদের বলেছিলাম জাতির পিতা যে আদর্শ নিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আমরা সেটা বাস্তবায়ন করব।

‘তাই আমরা যখন ২১ বছর পর প্রথম সরকার গঠন করি, আমাদের একটাই চিন্তা তৃণমূলে পড়ে থাকা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, তাদের জীবনমান উন্নত করা, তাদের একটু সুস্থ জীবন দেয়া, উন্নত জীবন দেয়া। যে মৌলিক চাহিদাগুলোর কথা আমাদের সংবিধানে দেয়া হয়েছে সেগুলো পূরণ করা। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
মে দিবসে পরিবহন শ্রমিকদের চাল বিতরণ
এবার মালিকদের ত্রাণ পেল মিরপুরের বাস শ্রমিকরা
পরিবহন শ্রমিকেরা কীভাবে বাঁচবেন?

শেয়ার করুন

ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল

ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা পূর্বঘোষিত ৩১ জুলাই তারিখের পরিবর্তে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

করোনা মহামারির উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তির আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা পূর্বঘোষিত ৩১ জুলাই তারিখের পরিবর্তে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

এর আগে গত ১ জুন কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের অন্তর্গত গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজগুলোর ১ম বর্ষ সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৭ আগস্ট শুক্রবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

ভর্তি পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা, নম্বর ১০০, পাশ নম্বর ৪০ এবং পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। এই ইউনিটে শুধু নারী শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। গত ১৫ জুন থেকে শুরু হয় এ ইউনিটে অনলাইনে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া।

২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাধ্যমিক/সমমান এবং শুধু ২০২০ সালের বাংলাদেশের যে কোন শিক্ষাবোর্ড/উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়/কারিগরি শিক্ষাবোর্ড/মাদ্রাসা বোর্ড/এ-লেভেল বা সমমানের বিদেশি ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। ভর্তির আবেদন ফি ৬৫০ টাকা।

ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় ৪র্থ বিষয়সহ প্রাপ্ত জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৫.৫ হতে হবে। তবে কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ২.৫ এর কম হলে আবেদন করা যাবে না।

আরও পড়ুন:
মে দিবসে পরিবহন শ্রমিকদের চাল বিতরণ
এবার মালিকদের ত্রাণ পেল মিরপুরের বাস শ্রমিকরা
পরিবহন শ্রমিকেরা কীভাবে বাঁচবেন?

শেয়ার করুন

আবাসিক হোটেলেও করোনা চিকিৎসা

আবাসিক হোটেলেও করোনা চিকিৎসা

‘আমাদের হাসপাতাল করার আর জায়গা নেই। হাসপাতাল খালিও নেই। তাই আমরা এখন হোটেল খুঁজছি। যেখানে আমরা একটা ব্যবস্থা করতে পারি, মৃদু যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের রাখতে পারি। ওখানে থেকে চিকিৎসা নিয়ে যাতে ভালো হয়ে বাড়ি যেতে পারেন। সেই ব্যবস্থাটুকু আমরা হাতে নিয়েছি।’

করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। তাই করোনায় আক্রান্ত হওয়া কম ঝুঁকিপূ্র্ণ রোগীদের হোটেলে রেখে চিকিৎসা দেয়ার চিন্তা-ভাবনা সরকার করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মন্ত্রী বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত সবাইকে কিন্তু হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ে না। যেগুলো হালকা, মাইল্ড কেস, সেই সমস্ত রোগীর জন্য আমরা আলাদা হোটেল ভাড়া করার চিন্তা করেছি। যে হোটেলের মধ্যে আমাদের ডাক্তার থাকবে, নার্স থাকবে, ওষুধপত্র থাকবে, কিছু অক্সিজেনের ব্যবস্থাও আমরা রাখব।’

হাসপাতালে শয্যা সংকট হওয়ার কারণে সরকার এই বিকল্প ভাবনা ভাবছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘কারণ আমাদের হাসপাতাল করার আর জায়গা নেই। হাসপাতাল খালিও নেই। তাই আমরা এখন হোটেল খুঁজছি। যেখানে আমরা একটা ব্যবস্থা করতে পারি, মৃদু যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের রাখতে পারি। ওখানে থেকে চিকিৎসা নিয়ে যাতে ভালো হয়ে বাড়ি যেতে পারেন। সেই ব্যবস্থাটুকু আমরা হাতে নিয়েছি।’

ইতিমধ্যে হাসপাতালে ৯০ শতাংশ আসনে রোগী ভর্তি আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রোগী আছে, (শয্যা) ফাঁকা নেই। আইসিইউ অলরেডি ৯৫ শতাংশ অকুপাইড। এই চিন্তা করে আমরা ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করছি। সেটার কাজ চলমান আছে। সেখানে ইমিডিয়েটলি আমরা হয়তো ৫০০ থেকে ৬০০ বেড রেডি করতে পারব। পরে তা এক হাজার বেডে নেয়া যাবে।’

আগামী ৭ আগস্ট থেকে সাত দিনের জন্য বাংলাদেশ প্রত্যেকটি ইউনিয়ন-ওয়ার্ডে টিকা দেয়ার কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই সাত দিনে আমরা প্রায় এক কোটি টাকা দিব। এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।’

এজন্য সভায় বিভিন্ন দপ্তরের সাহায্য চাওয়া হয়েছে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে গ্রামের বয়স্কদের আমরা অগ্রাধিকার দিব। পঞ্চাশোর্ধ যারা আছেন, তাদের আমরা অগ্রাধিকার দেব, এই বয়সীদের মৃত্যু এখন ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে সোয়া কোটি টিকা আছে। আরও এক কোটি টিকা আমাদের হাতে এসে পৌঁছাবে। অর্থাৎ টিকা কর্মসূচি বজায় থাকবে।’

‘এনআইডির (জাতীয় পরিচয়পত্র) মাধ্যমে আমরা ভ্যাকসিন দিব। যাদের এনআইডি নেই তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় টিকা দেয়া হবে। এ বিষয়ে ঘোষণার আগেই দেয়া হয়েছে।’

স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদনের বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে এবং বাংলাদেশের একটি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করেছি। সেই টিকা উৎপাদন করার কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমতিও পেয়েছি।’

আরও পড়ুন:
মে দিবসে পরিবহন শ্রমিকদের চাল বিতরণ
এবার মালিকদের ত্রাণ পেল মিরপুরের বাস শ্রমিকরা
পরিবহন শ্রমিকেরা কীভাবে বাঁচবেন?

শেয়ার করুন

সাংবাদিকতার নামে কী হচ্ছে: হাইকোর্ট

সাংবাদিকতার নামে কী হচ্ছে: হাইকোর্ট

প্রতীকী ছবি

একটি মামলার শুনানির সময় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলে, ‘সাংবাদিকতার নামে কী হচ্ছে দেখেন না। কী এক (হেলেনা) জাহাঙ্গীর বেরিয়েছে আইপি টিভি, কত চ্যানেল, কত টিভি।’

দুদকের এক কর্মকর্তার বদলি আদেশ নিয়ে ভুল সংবাদ পরিবেশন বিষয়ে শুনানির সময় দেশের সাংবাদিকতার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট। এ সময়ে আদালত বলেন, সাংবাদিকতার নামে কী হচ্ছে।

মঙ্গলবার শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব কথা বলে।

এ সময় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর গ্রেপ্তার হেলেনা জাহাঙ্গীরের আইপি টিভি জয়যাত্রা নিয়েও কথা বলে আদালত।

বিচারক বলেন, ‘সাংবাদিকতার নামে কী হচ্ছে দেখেন না। কী এক (হেলেনা) জাহাঙ্গীর বেরিয়েছে। আইপিটিভি নামে কত চ্যানেল, কত টিভি।’

দুদকের এক কর্মকর্তার বদলি আদেশ নিয়ে ভুল সংবাদ করায় চট্টগামের পূর্বকোণসহ বেশ কিছু স্থানীয় পত্রিকা বিষয়ে আলোচনা করাই শুনানির মূল বিষয় ছিল।

শুনানির শুরুতেই দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান আদালতকে জানান, চট্টগ্রামের পূর্বকোণ পত্রিকা সংশোধনী ছেপেছে। এই ভুলের জন্য তারা ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।

তিনি বলেন, ‘আদালতের আদেশ নিয়ে যে আইনজীবী সার্টিফায়েড কপি দিয়েছে সেটিকে আমার কাছে জাল মনে হয়েছে। তার কারণ জজ সাহেবের নামও ভুল লিখেছে।’

তখন বিচারক আদালত বলেন, ‘এটা জাল হয়ে থাকলে এর দায়ভার পিটিশনারকে নিতে হবে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার আদেশ হবে। আরও যদি কোনো তথ্য থাকে তাহলে দেন। কারণ এটা ধরে নিতে হবে পিটিশনার এবং তার আইনজীবী এটা করেছেন।’

এ সময় দুদক আইনজীবী জানান, দৈনিক পূর্বকোণ ছাড়াও মহানগর চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার নিউজে এসেছে।

তখন বিচারক বলেন, ‘আপনি সবগুলাতে যোগাযোগ করেন। আপনার অফিস থেকে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেন।’

দুদক আইনজীবী বলেন, ‘পূর্বকোণের যে রিপোর্টার পাবলিশ করেছেন তিনি আমাকে বলেছেন, অনেকগুলো পত্রিকায় তারা দেখে ছেপেছে। এরপরও তারা ক্ষমা চেয়েছেন। এছাড়া আমি দুদক অফিসে জানিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘এখন কমিশনের সিদ্ধান্ত হলো যদি এই নিউজ বা রিটের পেছনে দুদকের কোনো কর্মকর্তা কর্মচারীর ইন্ধন থাকে, তাহলে দুদক তার নিজস্ব ইনটেলিজেন্সির মাধ্যমে খাতিয়ে দেখবে। এরপরও আদালত যে নির্দেশ দেবে সে অনুযায়ী দুদক পদক্ষেপ নেবে।’

তখন বিচারক বলেন, ‘মৌখিকভাবে শুনলাম। সামগ্রিক বিষয়ে বৃহস্পতিবার আদেশ দেব। এক পর্যায়ে বিচারক সাংবাদিকতার নামে কী হচ্ছে দেখেন না। কী এক জাহাঙ্গীর বেরিয়েছে আইপি টিভি, কত চ্যানেল, কত টিভি।’

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের বদলির আদেশ স্থগিত করেছে হাইকোর্ট- এমন শিরোনামে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। অথচ হাইকোর্ট এমন কোনো আদেশই দেয়নি।

বিষয়টি সোমবার আদালতের নজরে আনা হলে আদালত দুদক আইনজীবীকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেয়। পরে দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তিনি জানান, চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি পত্রিকায় নিউজ দেখে তারাও রিপোর্টটি করেছে। তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে সংশোধনীও ছেপেছে এবং আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণ লিখেছে দুদক কর্মকর্তার বদলির আদেশ হাইকোর্ট স্থগিত করেছে। আসলে হাইকোর্ট কোনো বদলির আদেশ স্থগিত করেননি। বরং হাইকোর্ট তার আবেদনটি ডিলিট করে দিয়েছে।

‘সেই দুদক কর্মকর্তার বদিল আদেশ স্থগিত’ শিরোনামে গত ২৯ জুলাই চট্টগ্রামে দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি সোমবার আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। তখন আদালতের বিচারক বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘না, আমরা এমন কোনো আদেশ দেয়নি।’

এ সময় আইনজীবী ওই পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি আদালতকে দেখান। তখন আদালত দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খানকে ডেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়।

আরও পড়ুন:
মে দিবসে পরিবহন শ্রমিকদের চাল বিতরণ
এবার মালিকদের ত্রাণ পেল মিরপুরের বাস শ্রমিকরা
পরিবহন শ্রমিকেরা কীভাবে বাঁচবেন?

শেয়ার করুন

৭ দিনে দেয়া হবে এক কোটি টিকা

৭ দিনে দেয়া হবে এক কোটি টিকা

‘দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম দুটি করে কেন্দ্রে টিকা দেয়া হবে। প্রায় ১৪ হাজার কেন্দ্রে একসঙ্গে সপ্তাহব্যাপী ভ্যাকসিন দেয়া হবে। সেখানে বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। শ্রমজীবী মানুষ, দোকানদার, বাসের হেলপারদের ভ্যাকসিন দেয়া হবে। ভ্যাকসিন না দিয়ে কেউ কোনো কর্মস্থলে আসতে পারবেন না। যার যার এলাকা থেকে ভ্যাকসিন নিতে হবে। ১১ আগস্টের পরে টিকা না নিয়ে কেউ মুভমেন্ট করলে শাস্তিযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’

করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৭ আগস্ট থেকে সাত দিন দেশের সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে এক কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ সময় ১৪ হাজার কেন্দ্রে একযোগে টিকা কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার কোভিড-১৯ পর্যালোচনাসংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে তারা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

৫০ বছরের বেশি বয়সীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই টিকা দেয়া হবে বলেও জানান তারা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, ৭ আগস্ট থেকে সাত দিনের জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে প্রায় এক কোটি টিকা দেব। সেই টিকা দিতে অনেকের সহযোগিতা লাগবে। এ জন্য আজ সভা করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বাহিনীপ্রধানদের কাছে সেই সাহায্য চাওয়া হয়েছে। গ্রামের বয়স্ক, অর্থাৎ ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের অগ্রাধিকার দেব। কারণ তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৮০-৯০ শতাংশ।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম দুটি করে কেন্দ্রে টিকা দেয়া হবে। প্রায় ১৪ হাজার কেন্দ্রে একসঙ্গে সপ্তাহব্যাপী ভ্যাকসিন দেয়া হবে। সেখানে বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। শ্রমজীবী মানুষ, দোকানদার, বাসের হেলপারদের ভ্যাকসিন দেয়া হবে। ভ্যাকসিন না দিয়ে কেউ কোনো কর্মস্থলে আসতে পারবেন না। যার যার এলাকা থেকে ভ্যাকসিন নিতে হবে। ১১ আগস্টের পরে টিকা না নিয়ে কেউ মুভমেন্ট করলে শাস্তিযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’

সরকারের টিকার মজুত নিয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হাতে সোয়া কোটি টিকা আছে। এ মাসে আরও এক কোটি টিকা এসে পৌঁছাবে। যাদের এনআইডি কার্ড নেই, তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় টিকা দেব।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদনে জোর দিয়েছি। চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছি। আইন মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্রও পাওয়া গেছে।’

মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
মে দিবসে পরিবহন শ্রমিকদের চাল বিতরণ
এবার মালিকদের ত্রাণ পেল মিরপুরের বাস শ্রমিকরা
পরিবহন শ্রমিকেরা কীভাবে বাঁচবেন?

শেয়ার করুন

জাপান থেকে টিকার তৃতীয় চালান ঢাকায়

জাপান থেকে টিকার তৃতীয় চালান ঢাকায়

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে জাপানের নারিতা বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় উড়াল দেয়ার অপেক্ষায় কার্গো বিমান। ছবি: ফেসবুক

সোমবার জাপান দূতাবাসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৃতীয় চালান ঢাকায় রওনা দিয়েছে। অল নিপ্পন এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানে (এএনএ) আসছে চালানটি। এই চালানে আছে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৮০ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। হংকং হয়ে ক্যাথে প্যাসেফিকে ঢাকা পৌঁছাল চালানটি।

জাপান থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার তৃতীয় চালান ঢাকায় এসে পৌঁছেছে।

ছয় লাখের বেশি ডোজের টিকার চালানটি মঙ্গলবার বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

ক্যাথে প্যাসেফিক এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানে চালানটি আসে।

সোমবার সন্ধ্যায় এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ চালানটি জাপান থেকে রওনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি লিখেন, ‘আজকে জাপান থেকে আরও ৬ লাখ ১৬ হাজার অক্সফোর্ডের টিকা একটু আগে ঢাকার পথে রওনা হয়েছে।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সবাইকে মাস্ক পরা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও। তিনি বলেন, ‘উপসর্গ থাকলে পরীক্ষা করুন এবং পরীক্ষা করাতে সহযোগিতা করুন। টিকা নিতে উৎসাহিত করুন। টিকার মজুত এখন যথেষ্ট আছে।’

জাপান থেকে টিকার তৃতীয় চালান পাঠানোর বিষয়টি টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসও নিশ্চিত করেছে। সোমবার দূতাবাসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৃতীয় চালান ঢাকায় রওনা দিয়েছে। অল নিপ্পন এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানে (এএনএ) আসছে চালানটি। এই চালানে আছে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৮০ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। হংকং হয়ে ক্যাথে প্যাসেফিকে ঢাকা পৌঁছাল চালানটি।

দূতাবাস জানায়, জাপানের স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টা ২১ মিনিটে টিকার চালান নিয়ে বিমানটি নারিতা বিমানবন্দরের এক নম্বর টার্মিনাল ত্যাগ করে।

কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ৩০ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে জাপান। দেশটি থেকে এর মধ্যে দুই চালানে ১০ লাখের বেশি টিকা ঢাকায় পৌঁছেছে।

বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে করোনার টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে গড়ে তোলা প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের আওতায় বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে জাপান।

এ টিকার ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে কিনেছিল বাংলাদেশ। দুই দফায় ৭০ লাখ ডোজ টিকা দেয়ার পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাকি টিকা দিতে পারেনি সিরাম।

সরবরাহ সংকটের কারণে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যায়নি। জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসায় অপেক্ষমাণদের রোববার থেকে আবার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৫টি দেশের জন্য ১ কোটি ১০ লাখ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে জাপান। সেখান থেকে দফায় দফায় ৩০ লাখ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা বাংলাদেশকে দেবে পূর্ব এশিয়ার দেশটি।

মাঝে দিয়ে দেশে টিকা সংকট তৈরি হলেও সে অবস্থা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। দফায় দফায় টিকা আসছে চীনের সিনোফার্ম থেকে। এ ছাড়া কোভ্যাক্সের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসছে মডার্না ও ফাইজারের টিকা।

আরও পড়ুন:
মে দিবসে পরিবহন শ্রমিকদের চাল বিতরণ
এবার মালিকদের ত্রাণ পেল মিরপুরের বাস শ্রমিকরা
পরিবহন শ্রমিকেরা কীভাবে বাঁচবেন?

শেয়ার করুন

শাটডাউন বাড়ল ৫ দিন

শাটডাউন বাড়ল ৫ দিন

আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘১১ তারিখ থেকে যানবাহন চলবে। সেটা রোটেশন মাফিক। জেলা প্রশাসন স্থানীয়ভাবে এটির ব্যবস্থা করবে। ১০ তারিখ পর্যন্ত বিধিনিষেধ চলমান থাকবে।’

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় সংক্রমণ রুখতে চলমান ‘শাটডাউন’ আরও পাঁচদিন বাড়িয়েছে সরকার। পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক শেষে সভার সভাপতি মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘১১ তারিখ থেকে যানবাহন চলবে। সেটা রোটেশন মাফিক। জেলা প্রশাসন স্থানীয়ভাবে এটির ব্যবস্থা করবে। ১০ তারিখ পর্যন্ত বিধিনিষেধ চলমান থাকবে।’

‘১১ তারিখ থেকে ১৮ বছরের বেশি বয়সী কোনো লোক টিকা নেয়া ছাড়া রাস্তায় নামতে পারবে না। নামলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে। আইন না মানলে সরকার অধ্যাদেশ জারি করে শাস্তি প্রয়োগের ক্ষমতাও দিতে পারে।’

বর্তমানে দেশে ঈদুল আজহা পরবর্তী ১৪ দিনের শাটডাউন চলছে, যা শেষ হবে ৫ আগস্ট। এর আগেই তা আরও পাঁচদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এলো সরকার থেকে।

টিকা বিষয়েও কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী। বলেন, ‘আগামী সপ্তাহের মধ্যে এক কোটির বেশি লোককে টিকার আওতায় আনা হবে। টিকা নেয়ার জন্য দৌড়াতে হবে না, ১৪ হাজার কেন্দ্রে একযোগে টিকা দেয়া হবে। বয়স্ক মানুষকে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

‘১১ তারিখ থেকে দোকান পাট খোলা হবে বলে আশা সরকারের। তবে টিকা ছাড়া কাউকে কাজে যোগ দিতে দেয়া হবে না। ১০ তারিখের মধ্যে সবাইকে টিকা নেয়ার সুযোগ দেয়া হবে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সবাইকে সচেতন করতে হবে। সেজন্য গ্রামে গ্রামে মহল্লায় কমিটি গঠন করা হবে। মাস্ক ছাড়া কাউকে ঘরের বাইরে আসতে দেয়া হবে না।’

আরও পড়ুন:
মে দিবসে পরিবহন শ্রমিকদের চাল বিতরণ
এবার মালিকদের ত্রাণ পেল মিরপুরের বাস শ্রমিকরা
পরিবহন শ্রমিকেরা কীভাবে বাঁচবেন?

শেয়ার করুন