পররাষ্ট্র নীতি সমৃদ্ধে সহায়তা চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্র নীতি সমৃদ্ধে সহায়তা চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মঙ্গলবার ঢাকার ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড এ কে আব্দুল মোমেন।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলোচকরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণের আলোকে পররাষ্ট্রনীতির সম্ভাব্য সমন্বয় ও উন্নয়নের রূপরেখার বিষয়ে মতামত জানান। এছাড়া প্রত্যেকেই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত দশ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রশংসা করেন।

আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিকে সমৃদ্ধ করতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

পররাষ্ট্র নীতিকে আরও পরিণত ও যুগোপযোগী করার সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে মঙ্গলবার ঢাকার ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

এসময় বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদাপর্ণের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ তুলে ধরারও অনুরোধ জানান তিনি।

মঙ্গলবারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, আলোচনা সভায় উপস্থিত রাজনীতিবিদ, সাবেক কূটনীতিক, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকরা দেশের ও বিশ্বের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সাফল্য প্রচারের ব্যবস্থা করার পক্ষে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

জনবান্ধব কূটনীতির ভিত মজবুত করে বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের জনগণের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বাড়ানো ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্র নীতির অন্যতম মূল উপজীব্য হতে পারে বলে মতপ্রকাশ করেন তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলোচকরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণের আলোকে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে টেকসই করতে পররাষ্ট্রনীতির সম্ভাব্য সমন্বয় ও উন্নয়নের রূপরেখার বিষয়ে নিজেদের মতামত জানান। এছাড়া প্রত্যেকেই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত দশ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রশংসা করেন।

সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অধীনে উন্নয়নের মহাসড়কে দ্রুতগতিতে ধাবমান বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে একটি নেতৃত্বশীল ও আস্থার স্থান লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের এই মর্যাদাশীল অবস্থানকে সুসংহত করা এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে সেটি মোকাবিলায় এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রায় ১৫০ দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের কাছ থেকে শুভেচ্ছাবার্তা এবং ৩৩টি ভিডিও বার্তা পাওয়া গেছে। এসব বার্তায় বিশ্ব নেতারা বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা, করোনা মহামারির মতো বিষয়গুলো মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বেগবান করার পাশাপাশি দূতাবাসগুলোর সেবার মান বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলে, ‘বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে জনমুখী করতে ইতোমধ্যে ‘দূতাবাস’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ঘরে বসেই ৩৪টি সেবা পাওয়া যাবে। বর্তমানে বাংলাদেশ দুই বছর মেয়াদে ডি-৮ এবং তিন বছর মেয়াদে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) দায়িত্ব পালন করছে।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হাবিবে মিল্লাত, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক মিজ শাম্মী আহমেদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ইনাম আহমেদ চৌধুরী, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মুবীন চৌধুরী ও তৌহিদ হোসেন, বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মনিরুজ্জামান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম শাখাওয়াত হোসেন, এয়ার কমোডর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী এবং মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, সাবেক কূটনীতিক ওয়ালিউর রহমান ও মহিউদ্দিন আহমেদ, বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, অধ্যাপক বেগম আমেনা মহসিন, ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, ড. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক শাহাব এনাম খান, অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন, ড. প্রণব কুমার পাণ্ডে এবং সাংবাদিক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ ।

আরও পড়ুন:
‘আমাদের পররাষ্ট্রনীতি আমরা ঠিক করব’
‘যথাসময় টিকা আসবে, সবাই পাবে’
বিদেশ যাওয়ার জট খুলছে ব্যবসায়ী-শিক্ষার্থীর
শেখ হাসিনার কূটনীতির প্রশংসায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী
অমিত শাহের জবাব দিলেন মোমেন

শেয়ার করুন

মন্তব্য