সৈকত বাঁচাবে বালুভর্তি টিউব

সৈকত বাঁচাবে বালুভর্তি টিউব

বালুক্ষয় থেকে কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় প্রথমবারের মতো বসানো হচ্ছে ওভেন জিয়োটিউব। ছবি: নিউজবাংলা

তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে টিউব বসানোর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এর বাস্তবায়ন হলে বর্ষা মৌসুমে সৈকত বালুক্ষয় থেকে রক্ষা পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বালুক্ষয় থেকে সৈকত রক্ষায় দেশে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে ওভেন জিয়োটিউব।

পরীক্ষামূলকভাবে বালুভর্তি এ টিউব বসানো শুরু হয়েছে ভাঙনপ্রবণ কুয়াকাটা সৈকতের দেড় কিলোমিটার এলাকায়।

তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে টিউব বসানোর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এর বাস্তবায়ন হলে বর্ষা মৌসুমে সৈকত বালুক্ষয় থেকে রক্ষা পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে অমাবশ্যা-পূর্নিমার জোর প্রভাবে বালুক্ষয়ে ধ্বংস হয় ‘সাগরকন্যা’ খ্যাত পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা।

বালুক্ষয়ের ফলে ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সৈকতটির প্রস্থ জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে।

পর্যটকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি ও আন্দোলন-সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি বছর নামমাত্র সৈকত রক্ষার অস্থায়ী চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে, জোয়ারের তীব্রতায় সৈকত রক্ষার চেষ্টা ম্লান হয়ে যায়। সেদিকে খেয়াল রেখে এবার বিদেশ থেকে আমদানিকৃত জিয়োটিউব বসানো হচ্ছে সৈকতে।

কোথায় বসছে টিউব

পটুয়াখালী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল রহমান জানান, সৈকতের মূল পয়েন্টের দুই পাশে দেড় কিলোমিটার এলাকায় বসানো হচ্ছে ওভেন আর নন ওভেন জিয়োটিউবগুলো।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সময় ধরা হয়েছিল জুন। তবে এরই মধ্যে কাজ প্রায় শেষের পথে।

রাশেদুল জানান, জিয়োটিউবের মধ্যে এক কিলোমিটার সাদা রঙের বা নন-ওভেন। এগুলো বাংলাদেশ তৈরি। বাকি ৫০০ মিটার বা আধা কিলোমিটারে বসানো হচ্ছে কালো রঙের ওভেন জিয়োটিউব, যেগুলো বিদেশি তৈরি।

তিনি জানান, নন-ওভেন টিউবের চেয়ে ওভেন টিউব বেশি টেকসই হওয়ায় বালুক্ষয় থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

এ কর্মকর্তা আরও জানান, জিয়োটিউবের বাইরে ও ভেতরের দিকে জিয়ো ব্যাগ স্থাপন করায় এবারের প্রতিরক্ষা বাঁধটি আগের চেয়ে টেকসই হবে। সৈকত রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সৈকত বাঁচাবে বালুভর্তি টিউব
কুয়াকাটা সৈকতে ওভেন জিয়োটিউব স্থাপনে কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা

সম্প্রতি কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক নন ওভেন জিয়োটিউব স্থাপনের কাজ করছেন। ভাটার সময় শ্রমিকরা অনরবত কাজ করতে পারলেও জোয়ারের সময় ঢেউয়ের ঝাপটায় তারা কাজ করা থেকে বিরত থাকেন।

কাজে ব্যস্ত শ্রমিক রফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাডার সময়ে কাম করতে সুবিধা অয়। কিন্তু যহন জোয়ার আয় তহন লবণপানি ঢুইকা কামে সমস্যা অয়।

‘মুহূর্তের মধ্যে বস্তার (নন ওভেন জিয়োটিউব) উপরে বালু জমা অইয়া শক্ত অইয়া যায়। পরে হেগুলো আরেকখানে নেওয়া যায় না।’

পটুয়াখালী পাউবোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মজিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বালুক্ষয় থেকে কুয়াকাটা সৈকতকে রক্ষায় একটি স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজের জন্য ডিপিপি বা খসড়া প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে। সেটি চূড়ান্ত হলে সে অনুযায়ী এখানে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ তৈরি করা হবে।’

তিনি আরও জানান, গত বছর যে জিয়োটিউব বসানো হয়েছিল, সেগুলো স্থানীয় লোকজন কিংবা পর্যটকরা নষ্ট করেছিলেন। কিন্তু ওভেন জিয়োটিউব এতই শক্ত ও মজবুত যে এগুলো যে কেউ ইচ্ছা করলেই নষ্ট করতে পারবে না। কারণ এগুলো কাটা-ছেঁড়া সম্ভব নয়।

তবে কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।

সৈকত বাঁচাবে বালুভর্তি টিউব
জিয়োটিউবগুলোতে মোটা বালু দেয়ার কথা বলেছেন স্থানীয় অনেকে। ছবি: নিউজবাংলা

পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতবারের চাইতে এবারের টিউবগুলো দ্যাখতে ভালো মনে হয়। কিন্তু এসব টিউবে যদি লাল এবং মোটা বালু দিত তাইলে আরও ভালো হইত।’

এসব টিউবে স্থানীয় বালু দেয়ায় স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন স্থানীয় আরও অনেকে।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব শরীফ নিউজবাংলাকে জানান, ভাঙনের কবল থেকে সৈকতটি স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে না পারলে পর্যটকরা এখানে ভ্রমণের আগ্রহ হারাবেন। পাশাপাশি উদ্যোক্তারাও কুয়াকাটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। তাই যেভাবেই হোক সৈকতটিকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘শুনেছি গত বছরের চেয়ে এবারের ব্যাগগুলো নাকি খুব মজবুত। যদি তাই হয় তাহলে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ পৌর মেয়রের উচিত এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা।’

স্থানীয়দের বিরুদ্ধে দেশি জিয়োটিউব কেটে ফেলার অভিযোগ করেছেন পাউবোর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার স্বপন মৃধা।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় খুটা জাল ব্যবহারকারী কিংবা সৈকতে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালকরা পরিকল্পিতভাবে দেশীয় তৈরি নন ওভেন জিয়োটিউবগুলো গত বছরের মতো এবারও কেটে নষ্ট করে ফেলছে। ফলে সেগুলো জোয়ারের পানির সাথে মিশে যাচ্ছে।’

সরকারি সম্পত্তি এভাবে নষ্ট না করার আহ্বান জানান তিনি।

তবে লকডাউন থাকায় এ ব্যাপারে স্থানীয় জেলে আর মোটরসাইকেল চালকদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সৈকত বাঁচাবে বালুভর্তি টিউব
পাশাপাশি দূরত্বে দুটি করে জিয়োটিউব স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মেয়র। ছবি: নিউজবাংলা

পাহারার আশ্বাস মেয়রের

জিয়োটিউবগুলো যাতে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে কড়া নজরদারির আশ্বস দেন কুয়াকাটা পৌরসভা মেয়র মো. আনোয়ার হাওলাদার।

তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে দিনে-রাতে পাহারার ব্যবস্থা করা হবে। তারপরও সরকারি এই সম্পত্তি আর কাউকে নষ্ট করতে দেয়া হবে না।’

স্থায়িত্ব বাড়াতে তিনি কাছাকাছি দূরত্বে দুটি করে টিউব স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

তার মতে, দুটি টিউব বসানো হলে সাগরের উত্তাল ঢেউ থেকে গোটা পয়েন্টটা বর্ষা মৌসুমে রক্ষা পাবে।

২০১৯ সালে এক কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে একই স্থানে দেশীয় তৈরি জিয়োটিউব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সেটি সাগরে বিলীন হয়ে যায়। এর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থানীয়দের দায়ী করেছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ কলেজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে

অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ কলেজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে

মারধরে আহত রাজশাহীর গোদাগাড়ী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উমরুল হক। ছবি: নিউজবাংলা

গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে তার কক্ষ থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে পুলিশ। আহত শিক্ষক দাবি করেছেন, কয়েকজন শিক্ষক তাকে মারপিট করেছেন।’

রাজশাহীর গোদাগাড়ী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উমরুল হককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কলেজের কয়েক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

পুলিশ জানিয়েছে, মারধরের পর অধ্যক্ষকে অফিস কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে তারা গিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হলে শুক্রবার তিনি মামলা করতে পারেন।

কলেজ থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে সমাজকর্ম বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল হান্নানসহ কয়েকজন শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তারা অধ্যক্ষের কক্ষের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।

পরে ৫-৬ জন শিক্ষক অধ্যক্ষ উমরুল হককে মারধর করে বাইরে থেকে কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উমরুল হক মারধরের অভিযোগ করলেও কারণ বলেননি। তবে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল হান্নানের মোবাইল ফোনে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে তার কক্ষ থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। আহত শিক্ষক দাবি করেছেন, কয়েকজন শিক্ষক তাকে মারপিট করেছেন।’

ওসি আরও বলেন, ‘এখনও এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। অধ্যক্ষ আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকায় লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি। শুক্রবার তিনি অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

২০১৮ সালের আগস্ট মাসে গোদাগাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানকে মারধরের ঘটনা ঘটে। কয়েকজন শিক্ষক তাকে মারপিট করেন। সম্প্রতি পিবিআই ওই ঘটনার তদন্ত শেষে ১১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উমরুল হকও রয়েছেন।

শেয়ার করুন

শিক্ষিকাকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, কারাগারে ২

শিক্ষিকাকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, কারাগারে ২

পুলিশ জানায়, সোমবার এক শিক্ষিকা হেঁটে নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুজন পথরোধ করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার রাতে এলাকাবাসী ওই দুজনকে আটক করে বোচাগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে এক শিক্ষিকাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদেরকে দিনাজপুরের আমলি আদালতে (বোচাগঞ্জ) নেয় পুলিশ। আসামিরা ওই শিক্ষিকাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যান বলে সন্ধ্যায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বোচাগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, শিক্ষিকার করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে নেয়া হয়। সেখানে আসামিরা শিক্ষিকাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে ধর্ষণের কথা তারা স্বীকার করেননি, মেডিক্যাল রিপোর্ট এলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

সাজা পাওয়া আসামিরা হলেন উপজেলার সুলতানপুর আবাসনের মামুনুর রশিদ ও সেনিহারী গ্রামের সুজন আলী। তাদের বয়স ২৫-২৬ বছর।

পুলিশ জানায়, সোমবার এক শিক্ষিকা হেঁটে নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ওই দুজন পথরোধ করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার রাতে এলাকাবাসী ওই দুজনকে আটক করে বোচাগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

ওই শিক্ষিকা বুধবার রাতে দুজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, ওই মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে আদালতে নেয়া হয়। সন্ধ্যায় তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহবুবুর রহমান সরকার জানান, ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই নারীকে বিকেলে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের

ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ে নিহত হওয়ার পর হাসপাতালে স্বজনদের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ওয়াহেদকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার ছোট মেয়ে ও স্ত্রীসহ অন্যদের অবস্থা গুরুতর ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা পর শিশু হাবিবার মৃত্যু হয়।  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে বাবা ও তার ১৩ মাসের শিশুকন্যা নিহত হয়েছে।

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ধরখার ইউনিয়নের তন্তর এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল ওয়াহেদ ভূঁইয়ার বাড়ি নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ওয়ারুক গ্রামে। তার শিশুকন্যার নাম মোছা. হাবিবা।

দুর্ঘটনায় শিশুসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছে। তারা হলো স্মৃতি বেগম, রোকসানা, ১০ বছরের ফারুমা, ৫ বছরের ওয়াফি ও ১৩ বছরের তামিমা।

নিহতের পরিবার ও খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ জানায়, আব্দুল ওয়াহেদ ইসলামপুর পলিটেকনিক্যাল কলেজের হিসাব-বিজ্ঞানের জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে আব্দুল ওয়াহেদ পরিবার নিয়ে কাউতলী থেকে কসবার নয়নপুরে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে তন্তর নামক এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আব্দুল ওয়াহেদের মৃত্যু হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তার মেয়ে হবিবা ও স্ত্রীসহ ছয়জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা পর হাবিবার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ওয়াহেদকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার ছোট মেয়ে ও স্ত্রীসহ অন্যদের অবস্থা গুরুতর ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা পর শিশু হাবিবার মৃত্যু হয়।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের একই হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন

কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীকে হত্যা: ২ ‘হত্যাকারী’ শনাক্ত

কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীকে হত্যা: ২ ‘হত্যাকারী’ শনাক্ত

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কলেজের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম রাহাত। ফাইল ছবি

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে আমরা হত্যাকারী দুজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কলেজের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম রাহাতকে ক্যাম্পাসের ভেতর ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় জড়িত দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে হত্যাকারীদের পরিচয় নিশ্চিতের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন ছাত্রলীগ নেতা বলে জানা গেছে।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে আমরা হত্যাকারী দুজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি জানিয়ে ওসি বলেন, ‘লাশ এখনও ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন হবে। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।’

ওসি হত্যায় সন্দেহভাজন দুজনের নাম প্রকাশ না করলেও প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের একজনের নাম সামসুদ্দোহা সাদী ও অপরজনের নাম তানভীর আহমদ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে চাচাতো ভাই রাফিকে নিয়ে কলেজে যান রাহাত। কলেজ ক্যাম্পাস থেকে তারা যখন বের হয়ে আসছিলেন তখন সিলভার রংয়ের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকেন সাদী ও তানভীর।

কলেজ ফটকের ২০-২৫ গজ ভেতরে রাহাতকে দেখতে পেয়ে মোটরসাইকেল থামান তারা। এরপর নেমেই রাহাতের উরুতে ছুরিকাঘাত করেন সাদী। সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাহাত। আর ছুরিকাঘাতের পরই মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় সাদী ও তানভীর।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশের একাধিক সূত্র।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত সামসুদ্দোহা সাদী কলেজের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের দায়ে তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সাদী ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। তিনি সিলেট ছাত্রলীগের কাশ্মীর বলয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র। তার বাড়ি দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানা এলাকার সিলাম পশ্চিম পাড়া গ্রামে। অপর অভিযুক্ত তানভীরও একই এলাকার বাসিন্দা।

আর নিহত রাহাতের বাড়ি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পুরাতন তেতলি এলাকায়।

এ ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা কলেজের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কলেজ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম জানান, কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কলেজে তিন দিন পাঠদান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে পরীক্ষা চলবে।

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক হামলা: বেগমগঞ্জ থানার ওসি বদলি

সাম্প্রদায়িক হামলা: বেগমগঞ্জ থানার ওসি বদলি

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদার। ছবি: নিউজবাংলা

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম বদলির তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বেগমগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান শিকদারকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশে বদলি করা হয়েছে। তার স্থানে মীর জাহেদুল হক রনিকে বেগমগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলার পর বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদারকে বদলি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আদেশ দেয়া হয়। বেগমগঞ্জের একাধিক পূজা মণ্ডপ, মন্দির এবং বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার পর তাকে বদলির দাবি জানিয়েছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

এই দাবি ওঠার পর কামরুজ্জামান সিকদারকে বদলির অনুমতি চেয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। বর্তমানে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কারণে বেগমগঞ্জ থানা নির্বাচন কমিশনের অধীনে রয়েছে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম বদলির তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বেগমগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান শিকদারকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশে বদলি করা হয়েছে। তার স্থানে মীর জাহেদুল হক রনিকে বেগমগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

কুমিল্লা, চাঁদপুরের পর দেশে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল নোয়াখালীতে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এবং শুক্রবার দুপুরে একই উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকায় ১১টি পূজামণ্ডপে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

হামলায় প্রাণ হারান প্রান্ত চন্দ্র দাশ নামে এক যুবক, আতঙ্কে হৃদরোগে যতন সাহা নামে আরেকজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে যতনের পরিবারের অভিযোগ, তিনিও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ওই সময় লুটপাট করা হয় মন্দিরের আসবাব, স্বর্ণালংকার, ভাঙচুর করা হয় প্রতিমা।

শেয়ার করুন

গঙ্গাচড়ায় এক দিনের বন্যা: পানি কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ

গঙ্গাচড়ায় এক দিনের বন্যা: পানি কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার পানি বাড়ায় তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, ফসলি জমি। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পানির তোড়ে রুদ্ধেশ্বর গ্রামে ভেঙে গেছে রংপুর-কাকিনা-বুড়িমারী সড়ক। ফলে এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। গান্নারপাড় গ্রামে তিস্তার ডান তীর প্রতিরক্ষা মূল বাঁধ আংশিক ভেঙে গেছে। উপজেলায় তিস্তার চরাঞ্চল ও তীরবর্তী এলাকার কয়েক শ বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে।

তিস্তায় আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলাবাসী। মাত্র এক দিনের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ।

কাঁচা-পাকা সড়ক পানিতে ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির অভাব ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। আবার পানি কমলেও ঘরে ফিরতে পারছেন না ক্ষতিগ্রস্তরা। ফলে গবাদিপশুসহ সড়কে ও বাঁধে দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বুধবার দুপুরে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বৃহস্পতিবার দুপুরে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পানির তোড়ে রুদ্ধেশ্বর গ্রামে ভেঙে গেছে রংপুর-কাকিনা-বুড়িমারী সড়ক। ফলে এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। গান্নারপাড় গ্রামে তিস্তার ডান তীর প্রতিরক্ষা মূল বাঁধ আংশিক ভেঙে গেছে। উপজেলায় তিস্তার চরাঞ্চল ও তীরবর্তী এলাকার কয়েক শ বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে।

চরইশরকুল গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবার আইত (রাত) থাকি হু-হু করি পানি ঢুকি হামার সোগে তলে গেইছে। সারা আইত ছাওয়াপোয়া নিয়্যা চৌকির ওপর বসি থাকা লাগছে। পরের দিন বাড়ি ছাড়িয়া বাঁধোত চলি আসছি। আন্নাবান্না (রান্না) নাই, খাওয়া নাই। যে একনা চিড়া-মুড়ি দিয়ে, তা এক দিনে শ্যাষ হইচে।’

চর ইচলী গ্রামের হযরত আলী জানান, টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় একটু পানি যে খাবেন সে উপায়ও নেই। অনেক দূরে অন্যের বাড়ি থেকে পানি আনতে হয়। বেশি যাওয়াও যায় না, মানুষ খারাপভাবে নেয়। এ জন্য কম করে পানি খাচ্ছেন।

চর ছালাপাক মহিষাশুর গ্রামের আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আস্তাঘাট সোগ শ্যাষ। পানিত ভাসি গেইচে। গোটায় আস্তাত কাদো (কাদা), ট্যাং পিচলি পিচলি যায়। হাঁটা যায় না।’

একই গ্রামের আবদুল মতিন বলেন, ‘পানিতবন্দি হয়া খুব কষ্টোত আছি। শুকনা জায়গাও নাই যে সেটে উঠমো। কী খামো, কোটে যামো, ভাবি পাওচি না।

‘এ্যালাও হামার খোঁজখবর নেবার জনতে কায়ো আইসে নাই। সারা বছর হামার কষ্ট লাগি থাকে। এমন হঠাৎ করি অসময়ে ভারত পানি ছাড়লে হামাক তো ডুবি মরা লাগবে।’

গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী জানান, চল্লিশ সাল, শংকরদহ, পশ্চিম ইচলী, মধ্য ইচলী ও বাগেরহাট এলাকায় তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়েছে ২৪০টি পরিবারের বাড়িঘর। ইউনিয়নে প্রায় ৩০০টি পুকুর প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে মাছ। এ ছাড়া প্রায় ৩০০ পরিবারের আসবাবপত্র, মালপত্র ও গৃহপালিত পশুপাখি ভেসে গেছে।

কোলকোন্দ ইউপির চেয়ারম্যান সোহরাব আলী রাজু জানান, ইউনিয়নের মটুকপুর, উত্তর চিলাখাল, মধ্য চিলাখাল, বিনবিনা, খলাইর চর, শখের বাজার, আবুলিয়া, সাউদপাড়া ও আলেকিশামত গ্রামের ৩৯০টি পরিবারের বাড়িঘর তিস্তা নদীতে বিলীন হয়েছে। বন্যার্ত পরিবারগুলোর মাঝে বুধবার রাত থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়।

গঙ্গাচড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক হিসাবে গতকালের (বুধবার) বন্যায় উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমির আমন, ৩০ হেক্টর বাদাম, ৩৫ হেক্টর জমির মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের ২০ টন চাল ও ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার দেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলো বিতরণ করা হবে।’

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীকে মারধর, তিন আনসার সদস্য বরখাস্ত

শিক্ষার্থীকে মারধর, তিন আনসার সদস্য বরখাস্ত

মারধরের শিকার জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ঐশ্বর্য সরকার। ছবি: নিউজবাংলা

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘ঐশ্বর্য তীব্র মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। টিকিট সংগ্রহের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আনসার সদস্য মাসুদ ও শরীফ ছুটে আসেন এবং তারাও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে লাঠি দিয়ে মারধর করেন তারা।’

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় তিন সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে দুপুর ১২টার দিকে মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম ঐশ্বর্য সরকার। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

বরখাস্ত হওয়া তিন আনসার সদস্য হলেন মো. মাসুদ, মো. শরীফ ও মো. শফিকুল। তারা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর আগে দুপুর ২টার দিকে মাসুদ ও শরীফকে মেডিক্যাল কলেজ থেকে সরিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে তাদের ময়মনসিংহের আনসার ক্যাম্পে পাঠানো হয়।

এসব তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন।

মারধরের শিকার শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য সরকারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ঐশ্বর্য তীব্র মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। টিকিট সংগ্রহের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আনসার সদস্য মাসুদ ও শরীফ ছুটে আসেন এবং তারাও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে লাঠি দিয়ে মারধর করেন তারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি জানতে পেরে দ্রুত ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করি এবং ঘটনাটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাই। ঐশ্বর্য তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাদুজ্জামান নিউটনকে জানালে তিনি হাসপাতালে আসেন। তাকে আমরা হাসপাতালের উপপরিচালকের কাছে নিয়ে যাই।’

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুপুর দুইটার দিকে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শিক্ষার্থীকে মারধরের সত্যতা পাওয়া যায়। তখনই দুই আনসার সদস্যকে ময়মনসিংহের আনসার ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপমহাপরিচালক নূরে আলম সিদ্দিকী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আনসার সদস্য মাসুদ ও শরীফের সঙ্গে শফিকুলকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কারণ ঘটনার সময় শফিকুল ওই দুই আনসার সদস্যকে না ফিরিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদেরকে আনসার ক্যাম্প থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির প্রধান সহকারী জেলা কমান্ডেন্ট সোহাগ পারভেজ। অন্য সদস্যরা হলেন জেলা সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট ওসমান গণি ও উপজেলা আনসার কমান্ডার রমজান মিয়া। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।’

প্রতিবেদন পেলে ওই তিন আনসার সদস্যকে চাকরিচ্যুতসহ কালোতালিকাভুক্ত করা হবে বলেও জানান নূরে আলম।

শেয়ার করুন