সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা বিস্তার রোধে সকাল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে বাংলাবাজার ঘাটে। এতে ঢাকায় প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই।
শনিবার থেকে পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া ফেরিঘাটে দিনের বেলায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে বলে শুক্রবার রাতে জানায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।
মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীরা ঘাটে ভিড় করছেন। কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্তে ফেরি না ছাড়ায় যাত্রীরা যেতে পারছেন না। কেউ কেউ বাড়ি ফিরে গেলেও অনেকেই অপেক্ষা করে বিকল্প পথ খুঁজছেন।
বিআইডব্লিউটিসি জানায়, ঈদে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মানুষ গাদাগাদি করে ফেরিতে করে পার হয়ে বাড়ি ফিরছেন। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় এ প্রবণতা কয়েক গুণ বেশি দেখা যায়। ফেরিতে মানুষ পারের ছবি রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা দিনজুড়ে।
বাংলাবাজার ৩ নম্বর ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক কামাল হোসেন বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিসির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাংলাবাজার ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় রয়েছে। ফেরি না ছাড়ায় অনেকেই বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে কেউ কেউ এখনও ঘাটে অপেক্ষা করছেন।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন বিধি-নিষেধের বাইরে ছিল না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছিল।
সোমবার (২২ জুন) সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা হলরুমে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সনদ ও অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সব ধর্মেই ভালো ও মন্দ কাজের প্রতিফল সম্পর্কে ধারণা রয়েছে। মানুষ তার কর্ম অনুযায়ী ফল ভোগ করবে।
ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো সাংঘর্ষিক আইন সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমাকে ইফতার পার্টি আয়োজন করতে দেওয়া হয়নি। তখন আমি গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে ইফতার বিতরণ করতাম। ইসলাম যেমন নিরাকার আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তেমনি আমি একজন হিন্দু হিসেবে সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করি।
ধর্ম ও কর্ম একে অপরের পরিপূরক। রাষ্ট্রের আইন এবং দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে। কোনো ধরনের উগ্রবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা দক্ষিণ শাখা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু, কেরানীগঞ্জ উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইনচার্জ মো. আল-আমীন, বিএনপি নেতা আলি হোসেন আলী, চঞ্চল এবং যুবদল নেতা আরমান উল্লাহ ডাবলু প্রমুখ।
ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করেছে সরকার।
সোমবার (২২ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সার্চ কমিটি গঠনের তথ্য জানায়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন যুগ্মসচিব তানভীর আহমেদ। সার্চ কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচাপতি মো. রেজাউল হক।
সার্চ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল। এছাড়া আইন অনুযায়ী পদাধিকারবলে বাংলাদেশ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী, বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোবাশ্বের মোনেম এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সচিব ড. নাসিমুল গনি।
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের মেঘালয় রাজ্যে টানা ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। রাজ্যের মাওসিনারাম গ্রামে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৫৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর প্রভার পড়ছে বাংলাদেশের নদ-নদীতে। রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা নদী ও দুধকুমার নদের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে, কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সিলেটে এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে। তবে পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। জামালপুরে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রধান নদী সুরমাসহ নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেঘালয়ের উজানে এ ধরনের অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট-ময়মনসিংহ বিভাগ) ও সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়িয়ে বন্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মাওসিনরামে এক রাতেই যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা সাধারণত ভারতের রাজস্থান রাজ্যের শুষ্ক অঞ্চলগুলোর ছয় মাসেরও বেশি সময়ের বৃষ্টিপাতের সমান।
মেঘালয়ের অন্যান্য এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আরকেএম সোহরা এলাকায় ৪৭০ মিলিমিটার ও মাওকিরওয়াট এলাকায় ৩৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ছাড়া শেল্লা এলাকায় ১০০ মিলিমিটার, উইলিয়ামনগর ও মাওরিংকনেং এলাকায় ৯০ মিলিমিটার করে, জোয়াই এলাকায় ৮০ মিলিমিটার এবং বারা পানি ও রাতাচেরা এলাকায় ৭০ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত হয়েছে।
টানা ভারি বর্ষণের কারণে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে। শিলং থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন ডাউকি পর্যন্ত সংযোগকারী জাতীয় মহাসড়কের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিলং শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত লাইটলিংকট শহরের নিচের অংশে প্রবল বৃষ্টির পানির তোড়ে সড়কের একটি অংশ ভেসে গেছে।
যদিও এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে সড়কটির ক্ষতির কারণে ডাউকির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে ওই রুটে যানবাহন চলাচলেও প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কারণ রাজ্যের একাধিক অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেঘালয়ের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা পানি বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের নদ-নদী ও হাওরাঞ্চলে প্রবাহিত হয়। ফলে মাওসিনরামসহ উজানের এলাকাগুলোতে এ ধরনের অস্বাভাবিক ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।
তারা বলছেন, বর্তমানে বন্যার কোনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতা জারি না হলেও মেঘালয়ে স্বল্প সময়ে কয়েকশ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে যদি আগামী দিনগুলোতেও একই ধরনের ভারি বর্ষণ চলতে থাকে, তাহলে নিম্নাঞ্চল ও হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যা বা জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সেই কারণে মেঘালয়ের আবহাওয়া পরিস্থিতির পাশাপাশি বাংলাদেশের উজাননির্ভর নদীগুলোর পানির প্রবাহও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ছয় জেলায় নিম্নাঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস: দেশের উত্তরাঞ্চল এবং উজানে ১০ দিন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। গতকাল রোববার বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের বিশেষ বুলেটিনে ২ জুলাই পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি এবং বন্যার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, আগামী সাত দিনে রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা নদী ও দুধকুমার নদের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদী তীরবর্তী কোনো কোনো নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
বুলেটিনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের নদীগুলোর পানিও আগামী সাত দিনে সামগ্রিকভাবে বাড়তে পারে। সেইসঙ্গে বাড়তে পারে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল; তবে তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, ২১ থেকে ২৮ জুন অথবা সন্নিহিত সময়ে বাংলাদেশের ভেতরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় রাজ্যে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
এসব স্থানে গত সাত দিন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ১০ দিনে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারি বৃষ্টি বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিমিটারে পৌঁছাতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি সমতল বেড়েছে, যা আগামী সাত দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে নদীগুলো সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় প্রবাহিত হতে পারে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে।
একই সময়ে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি সমতল বেড়েছে, যা আগামী সাত দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
এ সময়ে নদীগুলো নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও কংস নদীর পানি সমতল বেড়েছে; যা অব্যাহত থাকতে পারে আগামী সাত দিন।
এ সময়ে ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি : পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন বেড়েছে। বর্তমানে জেলার প্রায় ৩৫টি স্থানে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
উজানের ঢল ও বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, আগামী পাঁচ দিন জেলার নদ-নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা : গত কয়েকদিন থেকে সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রধান নদী সুরমাসহ সব নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে সাময়িক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে ইতোমধ্যে পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার তাহিরপুরের আনোয়ারপুর সড়ক। এতে সুনামগঞ্জ জেলার সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার সরাসরি সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী- সুনামগঞ্জ, সিলেট ও ভারতের মেঘালয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
ইতোমধ্যে সুরমা, বৌলাই, রক্তিসহ বিভিন্ন নদীর পানি বেড়েছে। আগামী দুদিনে ভারি বৃষ্টিপাত হলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। কোথাও কোথাও বিপৎসীমা স্পর্শ করার সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন হাওলাদার বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদীর পানি বাড়ছে। তবে বৃষ্টিপাত হলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা : টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কয়েকটি নদীর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ কারণে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখলেও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গতকাল পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার কোনো নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে সুরমা, কুশিয়ারা, গোয়াইন ও পিয়াইন নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানির সমতল বাড়ছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, কানাইঘাট এলাকায় ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা জেলার পর্যবেক্ষণাধীন পয়েন্টগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। সিলেট শহর এলাকায় একই সময়ে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২ মিলিমিটার।
সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং স্থানীয় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে পানির সমতল আরো বাড়তে পারে। এ কারণে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে সিলেট অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে।
তিস্তায় পানির সঙ্গে বাড়ছে, রংপুর অঞ্চলে বন্যার আভাস:
দেশের অভ্যন্তরে ভারি থেকে অতি ভারি ও উজানে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাতের দরুণ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় তিস্তার পানি বিপৎসীমা উপচে যেতে পারে।
রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও নদীতীরবর্তী ভাঙন পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরাম ও ঘাঘট নদীতে আপাতত বন্যা পরিস্থিতি না থাকলেও তিস্তা পাড়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষায় নির্মাণ করা দ্বৈত সারির বাঁশের স্পারের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে সড়ক ভেঙে বিচ্ছিন্ন গ্রাম : শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে একটি পাকা সড়ক ভেঙে যাওয়ায় বাতকুচি গ্রামটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামবাসী।
জামালপুরে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত: বকশীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের পলাশতলা বাক্কার মোড় এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে একটি বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে এলাকার কৃষকরা আউশ ধান ও পাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পাহাড় থেকে নেমে একটি বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে দ্রুতগতিতে পানি প্রবেশ করছে। এতে আশপাশের কৃষিজমি জলাবদ্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত সফর শেষে চীনের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া ত্যাগ করছেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পর মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা পর্যায়ের ১০ জনসহ মোট ২৩ জন সদস্য ছিলেন। সফরকালে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মালয়েশিয়ার নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধি দল সরাসরি চীনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ মোট ৬টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি নির্দেশনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। মোতায়েন করা জেলাগুলো হলো— ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও গাজীপুর। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এসব জেলায় সেনাসদস্যরা মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে জনগণের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই সেনা মোতায়েনের এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা রুখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো ঢাকাকে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুততম সময়ের মধ্যে উন্মুক্ত করতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) সকালে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও পরবর্তী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।’ শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।’
দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো, হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের পর উভয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালের এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।’ একই সঙ্গে তিনি ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্জিত গণম্যান্ডেটের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা প্রদান করেন এবং মালয়েশীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। এ ছাড়া বাংলাদেশ আসিয়ানের (ASEAN) সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (RCEP) যোগদানের বিষয়ে মালয়েশিয়ার সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এই সফর দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এক গুরুত্বপূর্ণ একান্ত বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের পঞ্চম তলায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। একান্ত আলোচনায় বসার আগে প্রথা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।
একান্ত বৈঠকের সমাপ্তি শেষে দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম উপস্থিত থাকবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি, হালাল অর্থনীতির বিকাশ, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নসহ দুই দেশের মধ্যকার সামগ্রিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শেষে দুই দেশের সরকার প্রধান একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন।
সংবাদ সম্মেলন পরবর্তী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এই ভোজসভায় মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় শিল্পীরা মালে এবং বাংলা ভাষায় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সংস্কৃতির মেলবন্ধন তুলে ধরবেন।
মন্তব্য