মুভমেন্ট পাস উধাও

মুভমেন্ট পাস উধাও

শুরুতে মুভমেন্ট পাস নিয়ে কড়াকড়ি অবস্থানে গিয়েছিল পুলিশ। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

কোথাও এখন মুভমেন্ট পাসের বাধ্যবাধকতা দেখা যাচ্ছে না। তবে পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, মুভমেন্ট পাস এখনও বহাল আছে। যতদিন লকডাউন থাকবে, ততদিনই পুলিশের মুভমেন্ট পাস লাগবে। বিশেষ করে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাওয়ার জন্য অবশ্যই মুভমেন্ট পাস লাগবেই।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউনে মানুষের অনিয়ন্ত্রিত ও অপ্রয়োজনীয় চলাচল রোধে পুলিশ চালু করে ‘মুভমেন্ট পাস’। এ নিয়ে শুরুরতে কড়াকড়ি দেখা গেলেও বিষয়টি এখন উধাও। অবশ্য পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, চলাফেরায় মুভমেন্ট পাস নেয়ার বাধ্যবাধকতা এখনও আছে।

বাস্তবে চলাফেরা করতে এখন কারোর মুভমেন্ট পাস লাগে না। লকডাউন চলমান থাকলেও চেকপোস্টগুলোতে এ বিষয়ে কিছু জানতে বা যাচাই করতে চায় না পুলিশ।

রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটেরিয়ামে গত ২৩ এপ্রিল দুপুরে মুভমেন্ট পাস ওয়েব সাইট উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কয়েকটি তথ্য সরবরাহ করে খুব সহজইে মুভমেন্ট পাস সংগ্রহ করতে পারবেন দেশের যেকোনো নাগরিক। তখন বলা হয়, এ ওয়েবসাইট ব্যবহার করলে একদিকে যেমন জরুরি প্রয়োজনে নাগরিকদের চলাচল নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে মানুষের অপ্রয়োজনীয় ও অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও বন্ধ করা যাবে। এই মুভমেন্ট পাসের ব্যবহার নেই বললেই চলে।

মতিঝিল এলাকার ট্রাফিক সারজেন্ট কানু লাল দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উপর থেকে যে নির্দেশ আসে আমরা সেটা ফলো করি। আগে চেক করার জন্য নির্দেশ ছিল। কিন্তু এখন ওভাবে নাই তাই চেক করা হয় না।

‘লকডাউন এখন নরমাল, লাখ লাখ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে। কয়জনকে চেক করব। আমরা এখন মাস্ক ও পরিবহনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। গণপরিবহন চলাচল শুরু হলে তাদের স্বাস্থ্যবিধি মানার দিকেও গুরুত্ব দেয়া হবে।’

লকডাউনের মধ্যে মুভমেন্ট পাস বাধ্যতামূলক করার পর প্রতিদিনই গুলশানে নিজের কর্মস্থলে যেতে এই পাস নিতে হতো মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা গোলাম আনোয়ারকে। এখন আর সেটা করতে হয় না বলে জানালেন তিনি।

নিউজবাংলাকে আনোয়ার বলেন, ‘লকডাউনের প্রথমদিকে প্রতিদিনই মুভমেন্ট পাস নিয়ে বের হওয়া লাগতো। এখন রাস্তায় ঘুরে বেড়ালেও কেউ মুভমেন্ট পাস চায় না। চেকপোস্টের সামনে দিয়ে গেলেও পুলিশ মুভমেন্ট পাস দেখতে চায় না।

‘লকডাউনের শুরুতে মুভমেন্ট পাসের জন্য রাস্তায় কতোই না ঝামেলা হয়েছে। এখন সারা ঢাকা চষে বেড়ালেও এটার দরকার পড়ে না।’

মুভমেন্ট পাস উধাও

মুভমেন্ট পাসকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে চিকিৎসক সাঈদা শওকত জেনির বাগবিতণ্ডা ছিল আলোচিত বিষয়

আনোয়ারের কথা সত্যি। শুরুতে মুভমেন্ট পাস নিয়ে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে পুলিশের চেকপোস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক চিকিৎসকের বাগবিতণ্ডার বিষয়টি সবার নজর কাড়ে।

বিষয়টি নিয়ে পাল্টা-পাল্টি বিবৃতি আসে চিকিৎসক ও পুলিশের বিভিন্ন সংগঠন থেকে। ওই ঘটনার পর থেকেই মুভমেন্ট পাস নিয়ে কড়াকড়ির বিষয়টি শিথিল হয়ে আসে।

চলমান লকডাউনে মুভমেন্ট পাসের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘থানা থেকে তো কাউকে মুভমেন্ট পাস দেই না। আর এই ব্যাপারে আমার কোনো এখতিয়ার নেই। এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আছে, তাদের সঙ্গে কথা বলেন।’

মিরপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী লাবনী নিশাত। থাকেন মিরপুরেই। পড়াশুনার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মুভমেন্ট পাস এখন আর লাগে না। এই মুভমেন্ট পাস নিয়ে কত রঙ্গই না হলো। কত ট্রল, কত হয়রানি। একটা জিনিস শুরু করে দুই দিন পর আবার আগেই মতই চললে এই নিয়ম করে কী লাভ।’

মুভমেন্ট পাস উধাও

মুভমেন্ট পাস কেন চেক করা হচ্ছে না জানতে চাইলে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষের চলাচল বেড়ে গেছে। প্রথম দিকে শুধু অফিসগামী মানুষ বের হতেন। এরপর কলকারখানা, মার্কেট ও শপিংমলসহ সবই খুলে দেয়ায় মানুষের চলাচল বাড়ায় কয়জনকে চেক করব?

‘শপিংমল খোলা রেখে আমি মুভমেন্ট পাস চাইব, এটা কেমন হয়ে গেল না। এত মানুষকে দাঁড় করিয়ে মুভমেন্ট পাস চেক করার মতো আমার ফোর্সও নেই। আমরা এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি মাস্কের ওপর। মাস্ক ছাড়া কেউ বের হলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। মাস্ক ছাড়া কোনো দোকানি থাকলে বা তার দোকানে মাস্ক ছাড়া কেউ আসলে তাদের কাছে বিক্রি করলে আমরা দোকান বন্ধ করে দিচ্ছি।’

মুভমেন্ট পাস এখনও আছে, এখনও মানুষকে চেক করা হয় বলে দাবি করলেন মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আ স ম মাহাতাব উদ্দিন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মুভমেন্ট পাস এখনও আছে। মুভমেন্ট পাস নিয়ে মানুষ জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যায়। এখনও মানুষকে চেক করা হয়। আগে একটু বেশি চেক করা হতো এখন কম হয়। তবে চেক হচ্ছে।’

রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমল ঘুরে দেখা যায় কোথাও মুভমেন্ট পাস চেক করা হচ্ছে না। জবাবে ডিসি আ স ম মাহাতাব উদ্দিন বলেন, ‘চেক তো আপনার সামনে করবে না। চেক করে তবে চেকটা একটু কম হচ্ছে। আর মার্কেট তো খুলে দিছে। এখন কতজনকে চেক করব। হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষ বের হচ্ছে। প্রত্যেকটা মার্কেটে উপচে পড়া ভিড়।

‘আপনি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যান তখন আপনার মুভমেন্ট পাস লাগবে। সিটিতে মুভমেন্ট পাস একটু কমে গেছে তবে সিটির বাইরে আপনি মুভমেন্ট পাস ছাড়া যেতে পারবেন না।’

মুভমেন্ট পাস উধাও

মুভেমেন্ট পাস পেতে https://movementpass.police.gov.bd/ ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হয়। ২৩ এপ্রিল থেকে বুধবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এই সাইটে মোট হিট পড়ে ২২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ১১৪টি।

মোট রেজিস্ট্রেশন করেছেন ১২ লাখ ৬২ হাজার ৩২০ জন। এর মধ্যে মুভমেন্ট পাস ইস্যু করা হয়েছে ১৯ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি। আর ২৬ এপ্রিল থেকে ৫ মে দুপুর পর্যন্ত গড়ে মুভমেন্ট পাস ইস্যু করা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ করে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ কবীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যতদিন লকডাউন থাকবে, ততদিনই পুলিশের মুভমেন্ট পাস লাগবে। বিশেষ করে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাওয়ার জন্য অবশ্যই মুভমেন্ট পাস লাগবে। তবে নগরীর অভ্যন্তরে চলাচলের জন্য এই পাস ব্যবহারে শৈথিল্য এসেছে। পুলিশও কাউকে চেক করছে না।’

এই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, বর্তমানে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাওয়ার জন্য মুভমেন্ট পাসের আবেদন বেড়েছে। অন্যদিকে জেলা, নগর বা শহরে যাতায়াতের মুভমেন্ট পাসের আবেদনকারীর সংখ্যা কমেছে।

আরও পড়ুন:
শপিংমলে যেতেও লাগবে মুভমেন্ট পাস
মুভমেন্ট পাস পেতে ৪৬ ঘণ্টায় ১৬ কোটি হিট
মুভমেন্ট পাসের আবেদনের জন্য হিট ৭ কোটি ৮১ লাখ
শিং মাছ কিনতে বেরিয়ে ফিরলেন মামলা খেয়ে
মুভমেন্ট পাসের আবেদন যেভাবে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সমুদ্রসীমা নিয়ে জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে আপত্তি

সমুদ্রসীমা নিয়ে জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে আপত্তি

বঙ্গোপসাগর

মহিসোপান নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিতর্ক শুরু ২০০৯ সালে। সেবার ভারত তাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য যে বেইজ পয়েন্ট নির্ধারণ করে, তার দুটি নিয়ে আপত্তি ছিল বাংলাদেশের।

সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারতের দাবির বিরোধীতা করে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে চিঠিটি প্রকাশিত হয়েছে।

২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতের রায়ে বাংলাদেশ নতুন প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা পেয়েছে। কিন্তু গত এপ্রিলে বাংলাদেশের দাবির উপরে আপত্তি এবং নিজেদের কিছু দাবি দাওয়া জানিয়ে চিঠি দেয় ভারত। চিঠিতে বলা হয়- বাংলাদেশ যে মহীসোপান নিজেদের বলে দাবি করছে, তা ভারতের মহীসোপানের অংশ।

সেই সময়ই বাংলাদেশ জানিয়ে দেয় যে, ভারতের ওই আপত্তির কোন আইনগত ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণ কমিশনের সামনে নিজেদের বক্তব্যও তুলে ধরে বাংলাদেশ।

এবার সরাসরি জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে চিঠি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

মহিসোপান নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিতর্ক শুরু ২০০৯ সালে। সেবার ভারত তাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য যে ভিত্তিরেখা বা বেইজ পয়েন্ট নির্ধারণ করে, তার একটি ছিল বাংলাদেশের জলসীমার ভেতরে। আরেকটি ছিল সাড়ে দশ নটিক্যাল মাইল সমুদ্রের ভেতরে।

ওই দুটি বেইজ পয়েন্টের ক্ষেত্রে ভারত কোনো নিয়ম মানেনি বলে দাবি করে বাংলাদেশ। তাই এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সংশোধনের অনুরোধ করা হয় এবং ২০১১ সালে জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণ বিষয়ক কমিশনেও যাওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে বাংলাদেশের পক্ষে রায় আসে।

আদালতের রায় নিয়ে সেই সময় কোনো উচ্চ বাচ্য না করলেও পরে দ্বিপক্ষীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে জল ঘোলা করতে থাকে ভারত। সাত বছর এমন চলার পর সর্বশেষ গত এপ্রিলে জাতিসংঘে নিজেদের দাবি দাওয়া উপস্থাপন করে তারা। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো ছাড় না দেওয়ার মনোভব বাংলাদেশের।

আরও পড়ুন:
শপিংমলে যেতেও লাগবে মুভমেন্ট পাস
মুভমেন্ট পাস পেতে ৪৬ ঘণ্টায় ১৬ কোটি হিট
মুভমেন্ট পাসের আবেদনের জন্য হিট ৭ কোটি ৮১ লাখ
শিং মাছ কিনতে বেরিয়ে ফিরলেন মামলা খেয়ে
মুভমেন্ট পাসের আবেদন যেভাবে

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিক কমান্ডের কমান্ডিং জেনারেল, জেনারেল চার্লস এ ফ্লিনের সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। ছবি: আইএসপিআর

সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ।

সরকারি সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

শনিবার তিনি দেশে ফিরেছেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সফরে মার্কিন সেনাবাহিনী এবং পাপুয়া নিউ গিনি ডিফেন্স ফোর্সের যৌথ আয়োজন ‘ইন্দো-প্যাসিফিক আর্মি চিফস কনফারেন্স’-এ অংশগ্রহণ করেন সেনাপ্রধান।

১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের এই কনফারেন্সের প্রথম দিন তিনি যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর ২৫তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের সক্ষমতা এবং দেশটির আর্মি প্যাসিফিক কমান্ড পরিচালিত একটি লাইভ ফায়ার মহড়া দেখেন।

দ্বিতীয় দিনে ‘দ্য চ্যাঞ্জিং ফিজিক্যাল এনভায়রনমেন্ট অফ ল্যান্ড অপারেশন্স’ এবং ‘দ্য ইভলভিং হিউম্যান এনভায়রনমেন্ট অফ ল্যান্ড অপারেশন্স’ শীর্ষক দুটি প্ল্যানারি সেশনে অংশ নেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। প্ল্যানারি সেশনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল জেমস মেকনভিল স্বাগত ভাষণ রাখেন।

কনফারেন্সের শেষ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিক কমান্ডের কমান্ডিং জেনারেল, জেনারেল চার্লস এ ফ্লিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন সেনাপ্রধান।

এ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আন্দিকা পেরকাসা, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল নাম ইয়ং শিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডার ইন চিফ অফ রয়্যাল থাই আর্মি জেনারেল পর্নসাক পুলসাওয়াদ, পাপুয়া নিউগিনি ডিফেন্স ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল গিলবার্ট টরোপো, কমান্ডার মঙ্গোলিয়ান ল্যান্ড ফোর্স কমান্ড মেজর জেনারেল বুজিনভ আমগালানবাটার, সিঙ্গাপুর আর্মির চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফ্রেডেরিক চো এবং মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের কমান্ড্যান্ট সার্ভিস কোরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদ শাফিকের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের সঙ্গে এসব দেশের সেনাবাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ।

যুক্তরাষ্ট্রে সেনাপ্রধানের এই সফরের মধ্য দিয়ে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
শপিংমলে যেতেও লাগবে মুভমেন্ট পাস
মুভমেন্ট পাস পেতে ৪৬ ঘণ্টায় ১৬ কোটি হিট
মুভমেন্ট পাসের আবেদনের জন্য হিট ৭ কোটি ৮১ লাখ
শিং মাছ কিনতে বেরিয়ে ফিরলেন মামলা খেয়ে
মুভমেন্ট পাসের আবেদন যেভাবে

শেয়ার করুন

অভিযানের ২ বছরে ক্যাসিনো অনলাইনে

অভিযানের ২ বছরে ক্যাসিনো অনলাইনে

ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় চলে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান। ফাইল ছবি

সারা দেশে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে অনেকগুলো মামলা হলে র‍্যাব তদন্তের দায়িত্ব পায় ১০টি মামলায়। এর মধ্যে ৯টির তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেয়া হয়ে গেছে। একটির তদন্ত আটকে আছে আদালতের স্থগিতাদেশে।

দুই বছর আগের আলোচিত ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর থেকে রাজধানীর ক্লাবগুলোতে প্রকাশ্যে এই খেলা বন্ধ হয়েছে। তবে এই খেলা বন্ধ হয়ে গেছে, এমনটা বলার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আর অভিযানের কারণে এখন ঝোঁক তৈরি হয়েছে অনলাইন ক্যাসিনোতে।

২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে র‍্যাব। এই অভিযানে সরকার দলীয় বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বসহ ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করার কথা জানানো হয়।

অভিযানের সফলতা প্রসঙ্গে বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকার ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনোর জন্য খেলাধুলা বন্ধ ছিল। আমাদের অভিযানের পর আবার খেলা চালু হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ঢাকা শহরে দৃশ্যত এখন ক্যাসিনো নেই। কোনো ক্লাবেই এটা হচ্ছে না। গোয়েন্দারা নজরদারি করছে। কোথাও এমন কিছু পেলে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে ক্যাসিনো বন্ধ হলেও অনলাইন ক্যাসিনোতে ঝুঁকছে মানুষ। তা বন্ধেও আমাদের নজরদারি রয়েছে।’

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে এসব সাইটের বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে বাংলায়। অনলাইন ক্যাসিনোর অ্যাপ ইনস্টলের জন্যও দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন অফার। এমনকি বিজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগোও ব্যবহার করা হচ্ছে।

এসব অ্যাপের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কারিগরি সক্ষমতার অভাব রয়েছে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের। তারা বলছে, বিদেশ থেকে অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালিত হওয়ায় এগুলো ঠেকানো সহজ নয়।

অভিযানের ২ বছরে ক্যাসিনো অনলাইনে
ঠিকাদার ও ক্যাসিনো কারবারি জি কে শামীম। ফাইল ছবি

ফেসবুকে বুস্ট করা বেশ কয়েকটি অনলাইন ক্যাসিনোর বিজ্ঞাপন পেয়েছে নিউজবাংলা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে এই অনলাইন ক্যাসিনো। তবে এসব ক্যাসিনোর মালিক কারা বা কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কোনো তথ্য নেই।

কয়েকটি ক্যাসিনোর ফেসবুক পেজে দেয়া রয়েছে ওয়াটসঅ্যাপ নম্বর। এগুলোতে যোগাযোগ করেও তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং টাকার বিনিময়ে গ্রুপের সদস্য হওয়ার শর্ত দেয়া হয়েছে। চাওয়া হয়েছে ভোটার আইডি কার্ড, নাম, বয়স, জন্মতারিখ, মোবাইল ফোন নম্বর। এসব তথ্য দিলেই মেলে গ্রুপের সদস্য হওয়ার অনুমতি।

অনলাইনে ক্যাসিনো চালাতে রীতিমতো অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এর নাম বাজি। অ্যাপটি স্মার্টফোনে নামিয়ে জিমেইল আইডি ও ফোন নম্বর দিয়ে আইডি খুললেই ঢোকা যায় অনলাইন ক্যাসিনো দুনিয়ায়। যে অ্যাকাউন্ট খোলা হলো, তাতে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে টাকা ঢুকিয়ে শুরু করা যায় বাজি খেলা বা জুয়া খেলা। বাজি ধরা যায় সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ‘যত ইচ্ছা’ তত টাকা।

অ্যাপটিতে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই চলে জুয়া খেলা। অংশগ্রহণকারীরা যে যার মতো বিভিন্ন দানের ঘর বা আইকন বাজি ধরার পর ঘুরতে শুরু করে ক্যাসিনোর চাকা বা হুইল। হুইলের কাঁটা যে ঘরে থামে, সেই ঘরে যারা বাজি ধরেছিলেন তারা জিতে যান দান। টাকা পান ১০ গুণ, ২০ গুণ, ৪০ গুণ, ৪০০ গুণ, এমনকি ৪০০০ গুণ পর্যন্ত।

সাইবার পুলিশ বলছে, অনলাইন ক্যাসিনোর সাইটগুলোর ডোমেইন দেশের বাইরে এবং নির্ধারিত সময় পর পর এসব সাইটের আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) ঠিকানা পরিবর্তন করে নিয়ন্ত্রণকারীরা। যে কারণে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মাধ্যমে অনলাইন ক্যাসিনোর কিছু সাইট বন্ধ করা হলেও ফল মিলছে না। এমন শতাধিক সাইট ও অ্যাপস চিহ্নিত করেছে র‍্যাব।

অভিযানের ২ বছরে ক্যাসিনো অনলাইনে
র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ও ক্যাসিনো কারবারি সম্রাট। ফাইল ছবি

সারা দেশে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে অনেকগুলো মামলা হলে র‍্যাব তদন্তের দায়িত্ব পায় ১০টি মামলায়। এর মধ্যে ৯টির তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেয়া হয়ে গেছে। একটির তদন্ত আটকে আছে আদালতের স্থগিতাদেশে।

পাঁচটি ক্লাবে অভিযান দিয়ে শুরু

২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মতিঝিলে চারটি ও গুলশানের একটি ক্যাসিনোতে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান শুরু করে। ২০১ জনকে আটক করে দেয়া নয় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড। বিদেশি মদ, বিদেশি সিগারেট, বিয়ার, হেরোইন, কষ্টি পাথরের মূর্তি এবং ক্যাসিনো সামগ্রী উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

পাঁচটি ক্লাব হলো- ফকিরাপুল ইয়াং ম্যান্স ক্লাব, ওয়ান্ডার্স ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা চিত্তবিনোদন ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া ও গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ।

খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রেপ্তার

অভিযান শুরুর প্রথমদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান থেকে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফকিরাপুল ইয়াং ম্যান্স ক্লাবে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়।

তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় মাদক, অবৈধ অস্ত্র, ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫০ টাকা ও বিদেশি মুদ্রা। লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করায় তার দুটি অস্ত্রও জব্দ করা হয়।

অভিযানের ২ বছরে ক্যাসিনো অনলাইনে
ক্যাসিনো খালেদ নামে পরিচিত ছিলেন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

তার কমলাপুর অফিসে অভিযান চালিয়ে মাদক ও শক দেয়ার ইলেক্ট্রিক মেশিনও জব্দ করা হয়। গুলশান ও মতিঝিল থানায় চারটি মামলা করা হয়। গুলশান থানায় অস্ত্র আইনে মামলাটির অভিযোগপত্রও দিয়েছে র‌্যাব।

একই দিনে ঢাকার ওয়ান্ডার্স ক্লাবে অভিযান করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তারা হলেন- সাইফুল ইসলাম, তুহিন মুন্সি ও নবীর হোসেন সিকদার।

ওই ক্লাব থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ছাড়াও বিদেশি মদ পাওয়ার কথা জানানো হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মতিঝিল থানায় মামলা হয়।

জি কে শামীম গ্রেপ্তার

২০ সেপ্টেম্বর যুবলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা ও শীর্ষ ঠিকাদার জি কে শামীমের নিকেতনের বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব। সাত দেহরক্ষীসহ জি কে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে গুলশান থানায় তিনটি মামলা হয়।

শফিকুল আলম ফিরোজ গ্রেপ্তার

২০ সেপ্টেম্বর অভিযান চালানো হয় কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে। অভিযানে ক্লাবটির সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে মাদক, অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ তাসসহ গ্রেপ্তার করা হয। তার বিরুদ্ধে ধানমন্ডি ও গুলশান থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হয়

এই মামলাতেও র‌্যাব অভিযোগপত্র দিয়েছে।

অভিযানের ২ বছরে ক্যাসিনো অনলাইনে
লোকমান ও শফিকুল আলম ফিরোজকেও ক্যাসিনো কারবারির জন্য গ্রেপ্তার করা হয়। ফাইল ছবি

ধানমন্ডি ক্লাবে অভিযান

একইদিন ধানমন্ডি ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ক্লাবটি সিলগালা করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্লাবে অভিযান

২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পাশাপাশি চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র, হালিশহরের আবাহনী লিমিটেড ও সদরঘাট এলাকায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জুয়া খেলার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

এনু-রুপনের বাসায় অভিযান

ওয়ান্ডার্স ক্লাবে ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় দুই ভাই এনামুল হক এনু, রুপন ভূঁইয়া ও তার দুই বিশ্বস্ত সহযোগীর বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৫ কোটি ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ৭ দশমিক ২০ ভরি সোনা এবং ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র (একটি অবৈধ) উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুর, ওয়ারী থানাতে সাতটি মামলা হয়। অস্ত্র, মানি লন্ডারিং ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাগুলো করা হয়।

এই মামলাতেও র‌্যাব অভিযোগপত্র দিয়েছে।

ফু-ওয়াং ক্লাবে অভিযান

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ফু-ওয়াং ক্লাবে অভিযান হয় ২৫ সেপ্টেম্বর। ব্যবস্থাপকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ক্লাব থেকে নগদ ৭ লাখ টাকা, অবৈধ মদ ২ হাজার বোতল, বিয়ার ক্যান ১০ হাজার ও বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। তেজগাঁও থানায় মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়।

এই মামলায় র‌্যা অভিযোগপত্র দিয়েছে।

‘ক্যাসিনো সেলিম’ গ্রেপ্তার

দেশ ত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ৩০ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাই এয়ারওয়েজের বিমান থেকে অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসার হোতা সন্দেহে সেলিম প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার দেয়া তথ্যে সেলিমের বাসা ও অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক, পাসপোর্ট, চেক বই, দেশি ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া সেলিমের তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

অভিযানের ২ বছরে ক্যাসিনো অনলাইনে
দেশে অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান। ফাইল ছবি

সেলিম প্রধানকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। এ ছাড়া গুলশানে মাদক ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়।

এই মামলাতেও র‌্যাব অভিযোগপত্র দিয়েছে।

সম্রাট-আরমান গ্রেপ্তার

৬ অক্টোবর ভোরে র‌্যাবের অভিযানে যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট ও এনামুল হক আরমানকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন সাহেব নগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মনির চৌধুরী নামে একজনের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন তারা।

গ্রেপ্তারের সময় এমরানুল হক আরমানকে মদ্যপ অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক আইনে তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়।

গ্রেপ্তারের পর সম্রাট ও আরমানকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। সম্রাটের দেয়া তথ্যে ঢাকার কাকরাইল (সম্রাটের অফিস), মহাখালী ডিওএইচএস (বাসা), শান্তিনগরে (ভাইয়ের বাসা) অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সম্রাটের কাকরাইলের অফিস থেকে উদ্ধার করা মাদক, অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, বন্যপ্রাণীর চামড়া ও শারীরিক নির্যাতনে ব্যবহার করা সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। সম্রাটকে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অফিসে বন্যপ্রাণী চামড়া রাখার দায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়।

সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা করা হয়। এ ছাড়া আরমানের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের বাসায় অভিযান করে বিভিন্ন ব্যাংকের ১২টি চেক বই জব্দ করা হয়।

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম থানায় তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে এবং রমনা মডেল থানায় মাদক আইনে মামলা করা হয়। রমনা থানায় অস্ত্র আইনে মামলার অভিযোগপত্র দিয়েছে র‌্যাব।

পাগলা মিজান গ্রেপ্তার

২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর র‌্যাবের অভিযানে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি ও সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানকে দেশত্যাগের সময় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর মিজানকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। মিজানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার লালমাটিয়া অফিস ও আওরঙ্গজেব রোডের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। মিজানের আওরঙ্গজেব সড়কের বাসা থেকে নগদ ২ লাখ টাকা, ৬ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার টাকার চেক, এক কোটি টাকার এফডিআরসহ অস্ত্র এবং গুলি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় অস্ত্র আইনে ও মোহাম্মদপুরে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়।

কমিশনার রাজীব গ্রেপ্তার

১৯ অক্টোবর চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব, কিশোরগ্যাং নিয়ন্ত্রণ ও মাদক সেবন করার অভিযোগে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার দেয়া তথ্যে মোহাম্মদপুর বাসা ও অফিস অভিযান পরিচালনা করে বাসা থেকে নগদ ৩৩ হাজার টাকা, ৫ কোটি টাকার চেক, বিদেশি মদ, পাসপোর্টসহ অস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

তার বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা হয়। অস্ত্র আইনে মামলাটির অভিযোপত্র দিয়েছে র‌্যাব।

কাউন্সিলর ময়নুল গ্রেপ্তার

চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, মাদক কারবার ও জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগে ৩১ অক্টোবর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে ময়নুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার অফিস থেকে অস্ত্র ও মাদক জব্দ করা হয়। পরে তার তথ্যে হাটখোলা রোডের ‘গ্লোব নিবাসে' অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ওয়ারী থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হয়।

সম্রাটের সহযোগী জাকির গ্রেপ্তার

ইসমাইল হোসেন সম্রাটের ক্যাসিনো ব্যবসার সহযোগী হিসেবে নাম আসা জাকির হোসেন আত্মগোপন করে ভোলার চরনোয়াবাদ এলাকায় চলে যান। ২৯ অক্টোবর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে অস্ত্র ও মাদক জব্দ করা হয়। ভোলা সদর থানায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হয়।

আরও পড়ুন:
শপিংমলে যেতেও লাগবে মুভমেন্ট পাস
মুভমেন্ট পাস পেতে ৪৬ ঘণ্টায় ১৬ কোটি হিট
মুভমেন্ট পাসের আবেদনের জন্য হিট ৭ কোটি ৮১ লাখ
শিং মাছ কিনতে বেরিয়ে ফিরলেন মামলা খেয়ে
মুভমেন্ট পাসের আবেদন যেভাবে

শেয়ার করুন

ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

একই উদ্ভিজ্জ তেল বারবার ব্যবহার করলে বেশি বেশি ট্রান্সফ্যাটে পরিণত হয়।

ঢাকায় ডালডার ৯২ শতাংশ নমুনায় ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২ শতাংশ মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পেয়েছেন গবেষকরা।

হৃদরোগে মৃত্যুর পেছনে বড় আতঙ্কের নাম এখন ট্রান্সফ্যাট। খাদ্যে উচ্চমাত্রার শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের কারণে পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করে। আতঙ্কের ব্যাপার হলো, ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

খাবারের ট্রান্সফ্যাট বা ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড হলো ক্ষতিকর চর্বিজাতীয় খাবার। এটি রক্তের ‘ভালো’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ‘খারাপ’ কোলেস্টরেলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। খারাপ কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বেশির ভাগ ট্রান্সফ্যাট তৈরি হয় শিল্প-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিজ্জ তেল তৈরির সময় তাতে হাইড্রোজেন যুক্ত হয়। এই হাইড্রোজেনযুক্ত উদ্ভিজ্জ তেল, যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায়ও জমে যায়, সেটিই হলো ট্রান্সফ্যাট। খাবার তৈরির সময় উদ্ভিজ্জ তেল পরিবর্তন না করে ভাজার জন্য বারবার ব্যবহার করলে তা বেশি বেশি ট্রান্সফ্যাটে পরিণত হয়, যা শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর।

শনিবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় ট্রান্সফ্যাট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একদল বক্তা। ‘ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা: অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক ওই কর্মশালাটির আয়োজন করে অ্যাডভোকেসি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।

কর্মশালায় বক্তারা জানান, ভয়ংকর খাদ্য উপাদান ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণের খসড়া নীতিমালাটি এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি সরকার। এ জন্য ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা চূড়ান্ত করে বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
বিএমএ ভবন মিলনায়তনে ‘ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা: অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

কর্মশালায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, ‘শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট খাদ্যের একটি বিষাক্ত উপাদান, যা হৃদরোগজনিত অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ডালডা বা বনস্পতি ঘি এবং তা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার, ফাস্টফুড ও বেকারি পণ্যে ট্রান্সফ্যাট থাকে।’

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের গবেষক দল ঢাকায় ডালডার ৯২ শতাংশ নমুনায় ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২ শতাংশ মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পেয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছে।

প্রবিধানমালার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিএফএসএর সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ‘খাদ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই খসড়া প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত করতে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ে এটি চূড়ান্ত হবে।’

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মো. রূহুল কুদ্দুস বলেন, ‘ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের অর্থনৈতিক গুরুত্বও অনেক। আমাদের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বাজার দিন দিন বাড়ছে। ট্রান্সফ্যাটমুক্ত পণ্য তৈরি করতে না পারলে আমরা আন্ত‍‍র্জাতিক বাজার হারাব এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশে ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগ ঝুঁকি বাড়বে এবং চিকিৎসা খাতে ব্যয় বাড়বে।’

কর্মশালায় প্রজ্ঞার পক্ষ থেকে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন ট্রান্সফ্যাট নির্মূল প্রকল্পের টিমলিডার মো. হাসান শাহরিয়ার এবং প্রকল্প সমন্বয়ক মাহমুদ আল ইসলাম শিহাব।

কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৯ সংবাদকর্মী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক নাদিরা কিরণ ও প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের।

আরও পড়ুন:
শপিংমলে যেতেও লাগবে মুভমেন্ট পাস
মুভমেন্ট পাস পেতে ৪৬ ঘণ্টায় ১৬ কোটি হিট
মুভমেন্ট পাসের আবেদনের জন্য হিট ৭ কোটি ৮১ লাখ
শিং মাছ কিনতে বেরিয়ে ফিরলেন মামলা খেয়ে
মুভমেন্ট পাসের আবেদন যেভাবে

শেয়ার করুন

‘শফী হত্যা’র বিচার শুরু হয়নি এক বছরেও

‘শফী হত্যা’র বিচার শুরু হয়নি এক বছরেও

হাটহাজারী মাদ্রাসায় হাঙ্গামার পর মারা যাওয়া শাহ আহমেদ শফীর মৃত্যুকে অবহেলাজনিত নরহত্যা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেয় পিবিআই।

পুলিশের তদন্ত সংস্থা পিবিআই আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার প্রতিবেদন ১২ এপ্রিল আদালতে জমা দেয়। তবে এখনও শুরু হয়নি বিচার কার্যক্রম। মানসিক নির্যাতন ও পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেন শফীর শ্যালক মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন।

হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর এক বছর হলেও নড়ছে না তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া হত্যা মামলার বিচার। পুলিশের তদন্ত সংস্থা পিবিআই মামলাটির প্রতিবেদন ১২ এপ্রিল আদালতে জমা দিলেও এখনও শুরু হয়নি বিচার কার্যক্রম।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান আহমদ শফী। এর আগের দুই দিন চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় হাঙ্গামার ঘটনা ঘটে। মাদ্রাসায় বাবুনগরীর অনুসারীরা এসময় হেফাজতের আমিরের কক্ষে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে নানা হুমকি-ধমকি দিয়েছিলেন বলে তার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।

শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পর চট্টগ্রাম জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শিবলু কুমার দের আদালতে আহমদ শফীকে মানসিক নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেন তার শ্যালক মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়।

আল্লামা শফীর এক নাতনির লেখা পুস্তিকায় বলা হয়েছে, আল্লামা শফীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা ছাড়াও তার চিকিৎসায় বাধা দেয়া হয়েছে। অক্সিজেনের নল কেটে ফেলা হয়েছে, এমনকি অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে দেয়া হয়নি। আর এ কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

‘শফী হত্যা’র বিচার শুরু হয়নি এক বছরেও

হাটহাজারী মাদ্রাসায় হাঙ্গামার পর হেফাজতের সে সময়ের আমির শাহ আহমেদ শফীকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখনই তার জীবন ছিল সংকটাপন্ন। ফাইল ছবি

পুলিশের তদন্ত সংস্থা পিবিআই তদন্ত করে ‘অপরাধজনিত নরহত্যার’ অভিযোগ এনে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গত ১২ এপ্রিল আদালতে জমা দেয়া প্রতিবেদনে ৪৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে শফীর পর হেফাজতের আমির হওয়া জুনায়েদ বাবুনগরীর নাম ছিল। তিনি মারা গেছেন।

দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি

আল্লামা শফীকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে এই ঘটনার উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার দুই দিন পর গত ১৪ এপ্রিল মন্ত্রী ঢাকায় তার বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে কথা বলেন বিষয়টি নিয়ে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মওলানা শফী সাহেব আমার নির্বাচনী এলাকার ও আমার পাশের ইউনিয়নের একজন আলেম ছিলেন। তার মতাদর্শ নিয়ে নানা কথা থাকলেও মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন সজ্জন। যারা মামলা করেছেন, তারাও আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ। আমি চাই, আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ মওলানা শফী সাহেবকে যারা নির্যাতন করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে, তাদের উপযুক্ত দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক।’

আল্লামা শফী চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার সাবেক মহাপরিচালকও ছিলেন। তিনি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

আহমদ শফী আলোচনায় আসেন ২০১০ সালে নারীনীতি বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে হেফাজতে ইসলাম গঠন করে।

তবে এই সংগঠনটি তোলপাড় ফেলে দেয় ২০১৩ সালে। সে সময় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে উঠা শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের বিরোধিতা করে সংগঠনটি ঢাকা অবরোধ ডাকে ৫ মে।

মতিঝিলে সমাবেশ করে সেখান থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর পর রাতে সেখানেই অবস্থান করে হেফাজত সরকার পতনের দাবি তোলে। রাতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির যৌথ অভিযানে তারা শাপলা চত্বরের দখল ছাড়ে।

এরপর শুরু হয় নজিরবিহীন গুজব। ওই রাতে হাজার হাজার মানুষকে হত্যার অবাস্তব অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত একজনেরও নাম দিতে ব্যর্থ হয় হেফাজত। আর আল্লামা শফী এক পর্যায়ে সরকারের সঙ্গে দূরত্ব ঘুঁচিতে আনেন। কওমিপন্থিদের প্রধান দাবি দাওরায়ে হাদিসকে ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার হাতেই তুলে দেন।

তবে আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর হেফাজত আবার সরকারবিরোধী অবস্থানে ফিরে যায়। গত মার্চ ও এপ্রিলের শুরুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের নানাস্থানে ব্যাপক সহিংসতা চালায় নেতা-কর্মীরা। পরে ধরপাকড় শুরু হলে হেফাজত ‘সমঝোতায়’ মরিয়া হয়ে উঠে।

এর মধ্যে জুনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যু হলে সংগঠনটি কওমিপন্থিদের মধ্যেও গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে অনেকাংশে।

আল্লামা আহমদ শফীর জন্ম ১৯২০ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার পাখিয়াটিলা গ্রামে। ১৯৪১ সালে তিনি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখান থেকে দাওরায়ে হাদিস শেষ করেন ১৯৪৬ সালে হাটহাজারীতে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠানের মজলিসে শূরার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব পান। ২০০৫ সালে তিনি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড-বেফাকের সভাপতি নির্বাচিত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে আল্লামা শপীর স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি, নাতনি রয়েছে।

আরও পড়ুন:
শপিংমলে যেতেও লাগবে মুভমেন্ট পাস
মুভমেন্ট পাস পেতে ৪৬ ঘণ্টায় ১৬ কোটি হিট
মুভমেন্ট পাসের আবেদনের জন্য হিট ৭ কোটি ৮১ লাখ
শিং মাছ কিনতে বেরিয়ে ফিরলেন মামলা খেয়ে
মুভমেন্ট পাসের আবেদন যেভাবে

শেয়ার করুন

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন প্রাণ গোপাল

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন প্রাণ গোপাল

কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল তালুকদার বলেন, ‘আমরা রোববার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট পাঠাব। পরদিন গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।’

কুমিল্লা-৭ আসনের উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।

জাতীয় পার্টির পর এবার বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) প্রার্থী মনিরুল ইসলাম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. দুলাল তালুকদার।

তিনি জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ন্যাপের প্রার্থী মনিরুল ইসলাম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। কারণ হিসেবে মনিরুল জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে বলা হচ্ছে। এ জন্য ন্যাপের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের সিদ্ধান্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন।

নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল তালুকদার আরও জানান, এই আসনে উপনির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন চারজন। ১৪ সেপ্টেম্বর যাচাই-বাছাই শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছালেহ ছিদ্দিকী ছাড়া বাকি তিনজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

তাদের মধ্যে জাপা ও ন্যাপের দুই প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা রোববার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট পাঠাব। পরদিন গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।’

গত ৩০ জুলাই পাঁচবারের নির্বাচিত সাংসদ সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক মো. আলী আশরাফের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। এরপর ২ সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৭ অক্টোবর ইভিএমে এই আসনে ভোট হওয়ার কথা ছিল।

জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে দল থেকে বহিষ্কার

কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী এবং কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফর রেজা খোকনকে বহিষ্কার করেছে জাতীয় পার্টি।

কেন্দ্রীয় নেতাদের না জানিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

আরও পড়ুন:
শপিংমলে যেতেও লাগবে মুভমেন্ট পাস
মুভমেন্ট পাস পেতে ৪৬ ঘণ্টায় ১৬ কোটি হিট
মুভমেন্ট পাসের আবেদনের জন্য হিট ৭ কোটি ৮১ লাখ
শিং মাছ কিনতে বেরিয়ে ফিরলেন মামলা খেয়ে
মুভমেন্ট পাসের আবেদন যেভাবে

শেয়ার করুন

২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিথিল বাংলাদেশিদের যুক্তরাজ্য ভ্রমণ

২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিথিল বাংলাদেশিদের যুক্তরাজ্য ভ্রমণ

২২ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাজ্য ভ্রমণে কোয়ারেন্টিনের বাধ্যবাধকতা থাকছে না বাংলাদেশিদের জন্য। ছবি: এএফপি

ব্রিটেনের পরিবহন সচিব গ্রান্ট শ্যাপস প্রায় সাড়ে চার মাস পর শুক্রবার বাংলাদেশকে এ তালিকা থেকে বাদ দেয়ার ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ ছাড়া আরও সাত দেশের ওপর থেকে ভ্রমণ কড়াকড়ি তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয় দেশটি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ কমে আসায় বাংলাদেশের ওপর জারি রেড অ্যালার্ট তুলে নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

ব্রিটেনের পরিবহন সচিব গ্রান্ট শ্যাপস প্রায় সাড়ে চার মাস পর শুক্রবার বাংলাদেশকে এ তালিকা থেকে বাদ দেয়ার ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ ছাড়া আরও সাত দেশের ওপর থেকে ভ্রমণ কড়াকড়ি তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয় দেশটি।

এই ঘোষণা কার্যকর হলে দেশটি সফরে যাওয়া বাংলাদেশিদের আর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন শুক্রবার ফেসবুক লাইভে এসে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এটা সুখবর। বর্তমানে দেশে কয়েক হাজার ব্রিটিশ নাগরিক আটকে আছে। এ ছাড়া বাংলাদেশিরা তাদের প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যে যেতে পারছেন না। যারা যাচ্ছেন তাদের কয়েক লাখ টাকা খরচ করে হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে। রেড অ্যালার্ট তুলে নিলে তাদের আর কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। আজই এই ঘোষণা আসবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সফরে সে দেশের কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছি। সে দেশের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি। তাদের বলেছি, বাংলাদেশ ব্রিটেনের ৫০ বছরের পুরোনো বন্ধু। স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীর বছরে বাংলাদেশের ওপর এমন বিধিনিষেধ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘তারা আমার কথা রেখেছে। বাংলাদেশকে নরমাল ক্যাটাগারিতে আনা হচ্ছে। এ জন্য ব্রিটিশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রতিবার যুক্তরাজ্যে বিশ্রাম নেন। এবার তিনি ফিনল্যান্ডের বিশ্রাম নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত লন্ডনকে কড়া বার্তা দিয়েছে বলেই তারা দ্রুত এই তালিকা হালনাগাদের সিদ্ধান্ত নেয়।

গত সপ্তাহে লন্ডন সফর থেকে ফিরে ব্রিটিশ সরকারের কড়া সমালোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

সবশেষ গত রোববার রাজধানীর এক হোটেলে করোনাভাইরাসের আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশকে ব্রিটেনের লাল তালিকায় রাখা যুক্তিসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
শপিংমলে যেতেও লাগবে মুভমেন্ট পাস
মুভমেন্ট পাস পেতে ৪৬ ঘণ্টায় ১৬ কোটি হিট
মুভমেন্ট পাসের আবেদনের জন্য হিট ৭ কোটি ৮১ লাখ
শিং মাছ কিনতে বেরিয়ে ফিরলেন মামলা খেয়ে
মুভমেন্ট পাসের আবেদন যেভাবে

শেয়ার করুন