বারের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে হট্টগোল, সভা পণ্ড

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নতুন সভাপতি নির্বাচনে বিশেষ সাধারণ সভায় আওয়ামীপন্থি ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের হট্টগোল। ছবি: নিউজবাংলা

বারের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে হট্টগোল, সভা পণ্ড

গত ১৪ এপ্রিল আব্দুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে সভাপতি পদটি শূন্য হয়। এ অবস্থায় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিশেষ সাধারণ সভা ডেকে পরবর্তী সভাপতি নির্বাচিত করার বিধান রয়েছে। আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা বলছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনকে সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বলছেন, সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে এই পদে নতুন করে কাকে নির্বাচিত করা হবে তা নিয়ে হট্টগোল হয়েছে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে।

তবে আওয়ামী সমর্থিত আইনজীবীদের দাবি কণ্ঠভোটে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনকে সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দাবি হট্টগোল হওয়ায় সাধারণ সভা মুলতবি করা হয়েছে। কাউকে সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়নি।

১৪ এপ্রিল খসরুর মৃত্যুতে সভাপতি পদটি শূন্য হয়। এ অবস্থায় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিশেষ সাধারণ সভা ডেকে পরবর্তী সভাপতি নির্বাচিত করার বিধান রয়েছে।

সে অনুযায়ী মঙ্গলবার বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়। সাধারণ সভার সভাপতির দায়িত্ব পালন কে করবেন তা নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, বারের আর্টিকেল ১৬ তে আছে যদি কোনো কারণে পদ শূন্য হয়। সভাপতি পদত্যাগ করেন বা পদচ্যুত করা হয় কিংবা মারা যান তাহলে বিশেষ সাধারণ সভার মাধ্যমে নতুন একজন সভাপতি নির্বাচিত হবেন। সেই বিশেষ সাধারণ সভায় কীভাবে সভাপতি হবেন তা নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি শুনতে পেলাম যে, আজকে বিশেষ সাধারণ সভায় ওনারা আমার নাম প্রস্তাব করেছেন, সেখানে অন্যকোনো নাম প্রস্তাব নাকি হয়নি। তারপরে আমার নাম সমর্থন করেছেন। আমি এখনও রেজুলেশন পাইনি। রেজুলেশন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানতে পারব।

‘বারের সবাই আমাদের যদি নির্বাচিত করে, তাহলে গত দুই বছর বারের উন্নয়নে যে রূপ কাজ করেছি। বিশেষ করে বহুতল ভবন করার জন্য আমরা যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম। প্রয়াত সভাপতি আবদুল মতিন খসরু নির্বাচিত হলেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তার মৃত্যু হয়েছে। এখন তার মৃত্যুর কারণে বারের সভাপতি পদ যে শূন্য হয়েছে, বারের সাধারণ সদস্যরা মনে করছেন আমার মাধ্যমে বারের দাবিটা হয়তো পূরণ হবে। সেই কারণে ওনারা হয়তো আমার নাম প্রস্তাব করেছেন।’

বারের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে হট্টগোল, সভা পণ্ড
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হলেও দায়িত্ব নেয়ার আগেই করোনায় মারা যান আবদুল মতিন খসরু

অন্যদিকে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, সাধারণ সভা উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কোনো আলোচনা ও সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে।

বিএনপিপন্থি আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, নির্বাচিত সভাপতি আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে এই পদ পূরণে কি পদ্ধতিতে পূরণ করা হবে তার করণীয় ঠিক করতে আজকে বিশেষ সাধারণ সভা আহবান করা হয়েছিল। এই সাধারণ সভার পর এজেন্ডা ছিল নির্বাচনের পদ্ধতি কী হবে তা নিয়ে। সভাপতি নির্ধারিত ছিল দুপুর দুইটায়।

তিনি বলেন, ‘আমি এই সভার সম্পাদক হিসেবে সভা পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলাম। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি, সাধারণ সভার জন্য যে ব্যানার করা হয়েছিল, সেটি টানানো হয়েছিল। সভার শুরুতে দেখি ভিন্ন একটি ব্যানার। যেখানে সভার সভাপতিত্ব করার জন্য একজন সহ সভাপতির নাম রয়েছে। সভার শুরুতে কে সভাপতিত্ব করবেন সিনিয়র সহ সভাপতি নাকি সহ-সভাপতি এ বিষয়ে যখন আমি ব্যাখ্যা দিচ্ছিলাম। তখন আইনজীবীদের মধ্য থেকে কেউ কেউ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তখন সভা পরিচালনা করা সাধ্যছিল না। সভা মুলতবি করতে বাধ্য হই।’

সভায় অংশ নেয়া বারের কয়েকজন সদস্য জানান, সভার শুরুতে সাধারণ সভার সভাপতিত্ব নিয়ে আওয়ামী এবং বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। এ অবস্থায় সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ঘোষণা দেন যে বারের সংবিধান অনুযায়ী তিনি এ সভা পরিচালনা করবেন। তখন এক পক্ষ বিরোধিতা শুরু করলে আওয়ামীপন্থি আইনজীবী, বারের নির্বাচিত সহ সভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্লাহ ডায়েসে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেন তিনি সভার সভাপতিত্ব করবেন।

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “উনাকে (শফিক উল্লাহ) সভাপতিত্ব করার কোনো কার্যবিবরণী পাস হয়নি। সিনিয়র আরেকজন সহ সভাপতি আছেন। তখন শফিক উল্লাহ বলেন, ‘আমি আজকের সভার সভাপতি। এই সভা থেকে ঘোষণা করছি, আজ থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন’। তখন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা তাকে সমর্থন দেন।

“এ সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে থাকেন। তারা চিৎকার করে বলতে থাকেন- ‘কণ্ঠ ভোট নয়, নির্বাচন চাই’। এক পর্যায়ে মিলনায়তনের বৈদ্যুতিক সংযোগ ও মাইকের সংযোগ বিছিন্ন করে দেয়া হয়। মঞ্চের ওপর ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।”

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২১-২০২২ সালের নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের সাদা প্যানেল থেকে সভাপতি পদে আবদুল মতিন খসরু নির্বাচিত হন। নির্বাচনে বিজয় হলেও দায়িত্ব নেয়ার আগেই তিনি করোনা আক্রান্ত হন। এরপর গত ১৪ এপ্রিল তিনি মারা যান। তারপরই পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপরই নতুন করে সভাপতি নির্বাচনের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৪ পদের মধ্যে সভাপতিসহ আটটিতে আওয়ামী আইনজীবীদের সাদা প্যানেল এবং সম্পাদকসহ ছয়টি পদে বিএনপিপন্থি নীল প্যানেল জয়লাভ করে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আরও ৬ খাতে শিশুশ্রম ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার সুপারিশ

আরও ৬ খাতে শিশুশ্রম ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার সুপারিশ

ছবি: সংগৃহীত

ঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলো হচ্ছে: গৃহকর্ম, শুঁটকিপল্লী, পথশিশু, পাথর কুড়ানো বহন ভাঙানো, দর্জির কাজ এবং ময়লার ভাগাড়ে কাজ।

দেশে ৬ খাতে শিশুশ্রম ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করতে সুপারিশ পেয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর, সরকারি বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত কমিটির কাছ থেকে এ সুপারিশ এসেছে।

ঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলো হচ্ছে: গৃহকর্ম, শুঁটকিপল্লী, পথশিশু, পাথর কুড়ানো বহন ভাঙানো, দর্জির কাজ এবং ময়লার ভাগাড়ে কাজ।

বুধবার জাতীয় শিশু শ্রম কল্যাণ পরিষদের ১০ম সভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশে শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮টি খাত রয়েছে। এর মধ্যে আটটি খাতকে ইতোমধ্যে শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছরের মধ্যে আরও কয়েকটি খাতকে শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব খাতকেই দেশে শিশুশ্রম মুক্ত করা হবে।

সভায় জানানো হয়, শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় শিশু শ্রম কল্যাণ পরিষদের অধীনে বিভাগীয় পর্যায়ে ৫৫টি এবং জেলা পর্যায়ে ১২৫টি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় শিশু শ্রম কল্যাণ পরিষদের ১০ম সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আবদুস সালাম, অতিরিক্ত সচিব সাকিউন নাহার বেগম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, শ্রম অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আব্দুল লতিফ খান, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী, জাতীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদের সদস্য বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা জেড এম কামরুল আনামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইএলও, ইউনিসেফ, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ‘আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে হলে আমাদের শিশুশ্রম নিরসন করতেই হবে।’

শিশুশ্রম বন্ধে সবার মধ্যে মানবিক ও মমত্ববোধ জাগানোরও আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে। আগামী প্রজন্মের যাতে সুস্থ মনের বিকাশ ঘটে সেজন্য সবাইকে আরও আন্তরিক হতে হবে।’

দেশে শিশুশ্রম নিরসনে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে মুন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ইতোমধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। শিগগিরই মাঠ পর্যায়ে এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হবে।

শেয়ার করুন

জামিন জালিয়াতি: হাইকোর্ট থেকে আইনজীবী গ্রেপ্তার

জামিন জালিয়াতি: হাইকোর্ট থেকে আইনজীবী গ্রেপ্তার

আসামিপক্ষে শুনানি করতে এসে হাইকোর্ট থেকে গ্রেপ্তার আইনজীবী রাজু আহমেদ রাজীব।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি বগুড়াতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের ছোটভাই মশিউল আলম গত ১০ ফেব্রুয়ারি বগুড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় যুবলীগের সহসভাপতি আমিনুল ইসলামসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে আমিনুল ইসলামসহ ৩০ জনের জামিন নেয়ার একটি ভুয়া আদেশনামা (জামিন আদেশ) তৈরি করা হয়।

ভুয়া আগাম জামিন আদেশ তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার ঘটনায় করা মামলায় ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী রাজু আহমেদ রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হাইকোর্টের আদেশ জালিয়াতির মামলায় বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সামিরা তারান্নুম রাবেয়া।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বগুড়ার ৩০ আসামির জামিন জালিয়াতির ঘটনায় মামলা হয়। ওই মামলায় সিআইডির তদন্তে ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী রাজু আহমেদ রাজু, বগুড়ার আইনজীবী তানজীম আল মিসবাহ, রাজু আহমেদ রাজুর ক্লার্ক সোহাগ শেখ, কম্পিউটার অপারেটর মাসুদ রানাসহ চারজনের নাম উঠে আসে।

‘এর মধ্যে সোহাগ শেখ গ্রেপ্তার হলে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আরও কিছু আসামির নাম উঠে আসে।’

বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন। আদালত তখন অন্যান্য আসামিরা এখনও গ্রেপ্তার হচ্ছে না কেন জানতে চান।

তখন তদন্তকারী জানান, আসামিদের খুঁজে পাচ্ছেন না।

সে সময় আসামির আইনজীবী রাজু আহমেদ রাজু হাইকোর্টে পক্ষভুক্ত হতে আবেদন করেন।

এ সময় আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেন, ‘আসামিরা হাইকোর্টে এসে পক্ষভুক্ত হতে চায়, আর আপনি আসামিদের খুঁজে পান না?’

আদালত তাদেরকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়।

পরে তদন্ত কর্মকর্তা আসামি আইনজীবী রাজু আহমেদ রাজুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান।

এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১২ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছে হাইকোর্ট।

এ মামলায় গত ৯ জুন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত দুই আইনজীবী ও কম্পিউটার অপারেটর মাসুদ রানাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের জাল আদেশ দাখিল করে বগুড়ার আদালত থেকে জামিন নেয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় হাইকোর্ট গত ২৪ ফেব্রুযারি এক আদেশে যুবলীগের সহসভাপতি (ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) ও কাউন্সিলর আমিনুল ইসলামসহ ৩০ আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়।

এই আদেশ বাস্তবায়ন করে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি বগুড়াতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের ছোটভাই মশিউল আলম গত ১০ ফেব্রুয়ারি বগুড়া থানায় মামলা করেন।

মামলায় যুবলীগের সহসভাপতি আমিনুল ইসলামসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে আমিনুল ইসলামসহ ৩০ জনের জামিন নেয়ার একটি আদেশনামা (জামিন আদেশ) তৈরি করা হয়।

আদেশনামায় দেখানো হয়েছে যে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে আসামিদের ৬ সপ্তাহের জামিন দিয়েছে। এই জামিন শেষে তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়।

এই ভুয়া আদেশের তথ্য সংশ্লিষ্ট আদালতের নজরে আসে। এরপর এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আরজি জানান। পরে হাইকোর্ট এদের বিরুদ্ধে মামলা করতে নির্দেশ দেয়। পরে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন মামলা করে।

শেয়ার করুন

সাবেক এমপি মিজানের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

সাবেক এমপি মিজানের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান। ছবি: সংগৃহীত

মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১০ কোটি ৫৮ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮১ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে ২০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের মামলায় খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে চার্জশিটে অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের বিষয়ক উপ পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১০ কোটি ৫৮ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮১ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে ২০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট এই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকের ঢাকা সমন্বিত কার্যালয়-১ এ মামলা করেন সংস্থাটির পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ।

এমপি থাকা অবস্থায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মিজানের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৭ মার্চ অনুসন্ধানে নামে দুদক। ওই বছরের ৭ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয় তাকে। ১৬ এপ্রিল দুদক কার্যালয়ে মিজানকে প্রায় ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, এমপি থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখায় তার বিরুদ্ধে দুদক আইন-২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।

এজাহারে বলা হয়, মিজান খুলনার বটিয়াঘাটার কৃষ্ণনগর মৌজায় ৯০ শতাংশ জমির মূল্য দেড় কোটি টাকা নির্ধারণ করে পরে ২০ লাখ টাকা বিনিময় করে দলিল সম্পাদন করেন। দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে জমি কেনার এই তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে, প্রভাব খাটিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য অফিসের ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়ে নামমাত্র কাজ করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে মিজানের বিরুদ্ধে। ২০১৮ বছরের শুরুতে এই অভিযোগেরও তদন্ত করে দুদকের অনুসন্ধানি টিম।

মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি নামে-বেনামে বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংকে জমানো মোটা অঙ্কের সম্পদ অর্জনের অভিযোগও ছিল মিজানের বিরুদ্ধে।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মঞ্জুর মোর্শেদ মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে এমপি মিজান অভিযোগ অস্বীকার করেন।

নিজের বক্তব্যের সমর্থনে দুদককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দাখিল করেন বলে জানান মিজান। কীভাবে সম্পদের মালিক হয়েছেন সেসব প্রমাণও দিয়েছেন বলে দাবি তার।

দুদক বলছে, এমপি হওয়ার পর তিনি ১০ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিশাল বাড়ি, খুলনা শহরতলিতে ৫০ কোটি টাকার জমি, স্ত্রীর নামে সোনাডাঙ্গায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের তিন তালা বাড়ি করেন। সন্তানদের নামে বিঘা বিঘা জমিও আছে। রাজধানীর গুলশান ও ধানমণ্ডিতে রয়েছে আলিশান ফ্ল্যাট। এর বাইরে বেনামি সম্পদ রয়েছে কোটি কোটি টাকার।

শেয়ার করুন

সংকট নেই আইসিইউর

সংকট নেই আইসিইউর

এবার আর গতবারের মতো আইসিইউ সংকট নেই। ছবি: নিউজবাংলা

সারা দেশে করোনা রোগীদের জন্য শয্যার সংখ্যা ১২ হাজার ৪৯৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে আট হাজার ৮৯ শয্যা ফাঁকা রয়েছে। আর আইসিইউ শয্যার সংখ্যা ১ হাজার ১৩৪টি। বর্তমানে ৬২৫টি খালি রয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বহুসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ায় এখন উল্লিখিতসংখ্যক আইসিইউ শয্যা খালি হয়েছে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ঢাকাকে ঘিরে রাখা সাত জেলায় কঠোর লকডাউনের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যু—দুই-ই বেড়েছে।

তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর দিকে দেশে আইসিইউ নিয়ে যেমন হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তেমন পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।

সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর রোগী শনাক্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইসিইউ চাহিদা বেড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল নয় আইসিইউ। সারা দেশে এখন আইসিইউ শয্যার অর্ধেকেরই বেশি ফাঁকা রয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সারা দেশে করোনা রোগীদের জন্য শয্যার সংখ্যা ১২ হাজার ৪৯৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে আট হাজার ৮৯ শয্যা ফাঁকা রয়েছে। আর আইসিইউ শয্যার সংখ্যা ১ হাজার ১৩৪টি। বর্তমানে ৬২৫টি খালি রয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বহুসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ায় এখন উল্লিখিতসংখ্যক আইসিইউ শয্যা খালি হয়েছে।

ঢাকা মহানগর হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা ৫ হাজার ১৬১টির মধ্যে খালি রয়েছে ৩ হাজার ৫৫২টি। ৮২১টি আইসিইউর মধ্যে ফাঁকা ৫০৮টি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৭০৫টি শয্যার মধ্যে খালি ৩৩২টি। তবে এখানকার ২০টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে কোনোটি খালি নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের ২৩০টি শয্যার মধ্যে খালি রয়েছে ১৩৪টি। ২০টি আইসিইউর মধ্যে খালি রয়েছে ৩টি।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের মোট ২৭৫টি শয্যার মধ্যে খালি রয়েছে ২৯টি, তবে সেখানে থাকা ১০টি আইসিইউ শয্যার কোনোটি খালি নেই। মুগদা জেনারেল হাসপাতালের মোট ৩৫০টি শয্যার মধ্যে খালি ২৫১টি, ১০টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে একটিও ফাঁকা নেই।

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের মোট ১৬৯টি শয্যার মধ্যে খালি ১১৩টি। ২৬টি আইসিইউর মধ্যে খালি ১৬টি। শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের ১৭৪টি শয্যার মধ্যে খালি ১৫৪টি। এখানে ১৬টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে খালি ৯টি।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ২৬৩টি শয্যার মধ্যে খালি ১৭২টি। ১০টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে একটিও খালি নেই। সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ৯০টি শয্যার মধ্যে খালি রয়েছে ৬৭টি। ৬টি আইসিইউর মধ্যে খালি ৪টি। রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের মোট ৪৭০টি শয্যার মধ্যে খালি ৩৬৮টি। ১৫টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে খালি ৭টি।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ৫০টি শয্যার মধ্যে খালি ৪৮টি। এনআইসিভিডি হাসপাতালের ১২৭টি শয্যার মধ্যে খালি ১০৬টি। টিবি হাসপাতালের মোট ১৮৩টি শয্যার মধ্যে খালি ১৭১টি। ৫টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে খালি ৪টি। ডিএনসিসি হাসপাতালের মোট ২৫০টি সাধারণ শয্যার মধ্যে খালি ২৫০টি। ২১২টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে খালি ১২৯টি। এনআইডিসিএইচ মহাখালীর ১১৪টি, এনআইকেডিইউ শ্যামলীর মোট ১৫টি শয্যার মধ্যে খালি ১৪টি।

ঢাকার মধ্যে ১২টি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। এই হাসপাতালগুলোতে মোট শয্যার সংখ্যা পাঁচ হাজার ১৬১। এর মধ্যে বর্তমানে খালি রয়েছে সাড়ে তিন হাজারের ওপরে। এসব হাসপাতালে মোট ৮২১টি আইসিইউ রয়েছে। এর মধ্যে ৫০৮ বর্তমানে খালি রয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন বলেন, ঢাকাতে করোনা সেবার জন্য রাখা ৫ হাজার বেডের মধ্যে ৩ হাজারই খালি। সংক্রমণ যদি অনেক বেশি হয় তাহলে যেসব হাসপাতালে খালি শয্যা রয়েছে, সেগুলো আবারও সেবার জন্য প্রস্তুত করা হবে। ঢাকাসহ সারা দেশে ১২ হাজারের মতো শয্যা করোনা সেবা দেয়ার জন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজারের মতো শয্যা এখনও খালি রয়েছে। তবে সীমান্ত এলাকায় যেসব হাসপাতাল রয়েছে, এসব হাসপাতালের শয্যা খালি নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্য কমিটির সদস্য ডা. আবু জামিল ফয়সাল নিউজবাংলাকে বলেন, সম্প্রতি আইসিডিডিআরবির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার করোনাভাইরাসের ৬৮ শতাংশ নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এটা ঢাকার জন্য খুবই উদ্বেগের। ভ্যারিয়েন্ট ছাড়াও, জনগণের স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে শৈথিল্যও করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী। গত দুই সপ্তাহে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে সংক্রমণ বেড়েছে। এমন পরিস্থিত কয়েক দিনের মধ্যে ঢাকাতেও তৈরি হতে পারে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

তৃতীয় ঢেউ ফিরে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করে আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহে খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে সংক্রমণ। এটি প্রতিরোধে পরীক্ষা বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।’

শেয়ার করুন

এনু-রুপনের জামিন বিষয়ে রায় ১৪ জুলাই

এনু-রুপনের জামিন বিষয়ে রায় ১৪ জুলাই

২০২০ সালে এনু-রুপনের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয়। ফাইল ছবি

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গেন্ডারিয়ায় এনু-রুপনের বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। তাদের বাসায় টয়লেটে স্বর্ণের কমোট পাওয়া যায়। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় গ্রেপ্তার হওয়া অর্থ পাচার মামলার আসামি গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি এনামুল হক এনু ও তার ভাই সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রুপন ভূঁইয়ার জামিন শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে রায়ের জন্য আগামী ১৪ জুলাই দিন ঠিক করেছে হাইকোর্ট।

বুধবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ঠিক করে দেয়।

আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন শাহরিয়ার কবির বিপ্লব। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

শাহরিয়ার কবির বিপ্লব নিউজবাংলাকে বলেন, দুটি মামলায় জামিন বিষয়ে রায়ের জন্য দিন ঠিক করে দিয়েছে আদালত। এর মধ্যে একটি মামলা অর্থপাচার এবং আরেকটি মামলা বিশেষ ক্ষমতা আইনে।

একটি মামলায় বলা হয়েছে, এনুর বাসায় ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ টাকা, সঙ্গে ৫ হাজার ১৬৪ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া গেছে।

‘আমাদের বক্তব্য হচ্ছে ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ টাকা কারো বাসায় পাওয়া যায়, তাহলে দেশের কোন আইন নাই, যে আইন বলে বাংলাদেশি টাকা ঘরে রাখায় কোন অপরাধের মধ্যে পড়ে। এখন অর্থপাচার হতে হলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসতে হবে। এমন কোন অভিযোগ আসেনি। অথচ ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে তাদের রিটার্ন দাখিলে দেখানো হয়েছে ১৯ কোটি টাকার উপরে। আর পরের বছর দেখানো হয়েছে ২০ কোটি টাকার উপরে। এখন কথা হলো বৈধ টাকা ঘরে থাকলে অপরাধের মধ্যে পড়ে কি?’

আরেকটি মামলায় রুপনের বাসায় এক কোটি ৯৯ লাখ টাকা পাওয়ার বিষয়ে তার আইনজীবী বলেন, ‘তারও ইনকাম ট্যাক্সে একই রকম রিটার্ন দাখিল করা হয়েছে। এখন কথা হলো, কারো বাসায় যদি টাকা পাওয়া যায় তাহলে অর্থপাচার হয় কী করে? এসব বিষয় আমরা আদালতে তুলে ধরেছি। আদালত রায়ের জন্য দিন ঠিক করে দিয়েছেন।’

এনু-রুপনের জামিন বিষয়ে রায় ১৪ জুলাই
ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে নাম আসা আলোচিত দুই ভাই এনু রুপন

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গেন্ডারিয়ায় এনু-রুপনের বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। তাদের বাসায় টয়লেটে স্বর্ণের কমোট পাওয়া যায়। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়।

এরপর ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের কর্মচারী আবুল কালাম ও এনুর বন্ধু হারুন অর রশিদের বাসায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে ৫ কোটি ৫ লাখ টাকা, ৮ কেজি স্বর্ণালঙ্কার ও ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করে র‌্যাব।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৩ জানুয়ারি এনু ও রুপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই থেকে তারা কারাবন্দী।

২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ৮৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

এনুর বিরুদ্ধে ৪৭ কোটি ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৭৮ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ এবং তার ভাই রুপন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ ১৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এনু-রুপনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার আইনে পাঁচটি মামলা হয়। সেগুলোর মধ্যে চারটি মামলার তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দিয়েছে সিআইডি।

শেয়ার করুন

টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশের: প্রধানমন্ত্রী

টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশের: প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টিকার জন্য আমাদের সরকার রাশিয়া কর্তৃপক্ষের সংস্পর্শে রয়েছে। আমি উল্লেখ করতে চাই, টিকা উৎপাদনের সুযোগ পেলে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায়কেও সহযোগিতা করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।’

রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে চিন্তা করলে এ দেশে একটিমাত্র মূল দল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শেখ হাসিনা। সেটি হলো আওয়ামী লীগ।

২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার বিকেলে দলের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন দলটির সভাপতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতকর্মীরা প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আমরা যদি শহীদের তালিকা দেখি কটা মানুষ জীবন দিয়েছে এদেশের জন্য, একমাত্র আওয়ামী লীগই। আর একটা রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আমরা যদি হিসেবে করে দেখি তাহলে এ দেশে কটা রাজনৈতিক দল আছে?

‘অনেকে অনেক কথা বলেন। আমরা যদি জনগণের সংগঠন হিসেবে দেখি, গণমানুষের সংগঠন হিসেবে দেখি, তৃণমুলের মানুষের দ্বারা রচিত একটি সংগঠন, সেটি কিন্তু আওয়ামী লীগ। সেই সাথে আমাদের আরও পার্টি আছে যেমন কমিউনিস্ট পার্টি বা অন্যান্য পার্টিগুলি আছে, ছোটখাটো। কিন্তু মূল একটি সংগঠনই সেটা হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।’

তিনি বলেন, ‘এর বিপরীতে যে দলগুলো যারা খুব আহাজারি করে তাদের কীভাবে জন্ম? পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে…নিজেদের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেয়। ক্ষমতা দখল করে আর্মি রুলস অ্যাক্ট সব বাদ দিয়ে, সংবিধান লঙ্ঘন করে নিজেদের ঘোষণা দিয়ে তারপর আবার রাজনীতিতে অবতরণ করে।

‘তখন ক্ষমতায় বসে সেই মার্শাল ল জারি অবস্থায় যে দল তৈরি করে সেটাই একটা হলো বিএনপি আর একটা হলো জাতীয় পার্টি। এখন বিএনপি জাতীয় পার্টি তো জনগণের মধ্য থেকে উঠে আসে নাই বা জনগণের জন্য কাজ করেও উঠে আসে নাই। ক্ষমতা দখলকারীর হাতে সৃষ্টি হওয়া একটি দল। আমি মনে করি যারা সমালোচনা করেন তাদের এটি মনে রাখা উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইয়ুব খান যে পদ্ধতিতে ক্ষমতায় এসেছিল, একইভাবে জেনারেল জিয়াউর রহমানও ক্ষমতায় আসে, জেনারেল এরশাদও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে।

‘কিন্তু এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে রাজপথে যারা রক্ত দিয়েছে সংগ্রাম করেছে তারা হলো আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। আর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এ সংগ্রাম করেছে বলেই আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি। আজকে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন সেটাও যদি সেটাও কিন্তু এই আওয়ামী লীগের হাতেই।’

আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল বলেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘তার কারণ একটাই। যেহেতু আওয়ামী লীগ এ দেশের গণমানুষের সংগঠন, মানুষের বঞ্চনা-শোষণ তারা দেখেছে। মানুষের কষ্ট দুঃখ তারা উপলব্ধি করেছে। এই কষ্ট দুঃখ থেকে মুক্তি দেয়ার জন্যই কিন্তু আওয়ামী লীগের সৃষ্টি।

‘আওয়ামী লীগ যখনই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে এই বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যই পরিবর্তন হয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে যদি বিবেচনা করা যায় তাহলে এখানে কিছু বাম দল আছে, কিছু দক্ষিণপন্থি আছে। কিন্তু সত্যিকারের গণমানুষের দল হিসেবে বাংলাদেশের জন্য একমাত্র দল আওয়ামী লীগ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেকে অনেক কিছু বলেন কিন্তু এই জিনিসটা কখনো উপলব্ধি করেন না। করবেন কী করে? এদেশে যদি একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বা যখন কোনো অরাজনৈতিক অথবা অগণতান্ত্রিক সরকার আসে তখন তাদের মূল্যটা বারে। কেউ কেউ পাবার আশায় বসে থাকে।

‘এ কারণে তারা এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে না। তারা ক্ষমতার পেছনে ছুটেন। পদলেহন করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে যা করে জনগণের কল্যাণে করে।’

দেশের পুরনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এ বছর ৭২ বছর পূর্ণ করলো। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেন ভবনে জন্ম হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের। পরে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলের রাখা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

সে সময় প্রতাপশালী মুসলিম লীগের সঙ্গে লড়াই করে দলটিকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। মুক্তিযুদ্ধের পর জাসদ, এরপর জিয়াউর রহমানের সেনাশাসন, পরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সেনাশাসন এরপর বিএনপির সঙ্গে লড়াই, প্রতিযোগিতা করে আজকের অবস্থানে এসেছে দলটি।

শেয়ার করুন

কোন বাহনে ব্যাটারি চলবে না, স্পষ্ট করল সরকার

কোন বাহনে ব্যাটারি চলবে না, স্পষ্ট করল সরকার

সনাতন এই রিকশাগুলোতে লাগানো ব্যাটারি ও মোটর খুলে ফেলতে হবে বলে। ফাইল ছবি

যেসব অটোরিকশা স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটারিচালিত, সেগুলো চলবে আগের মতোই। প্যাডাল চালিত যেসব বাহনে মোটর লাগানো হয়েছে, খুলে ফেলতে হবে কেবল সেগুলো।  

সারাদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধ ঘোষণার তিনদিন পর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল সরকার। বলা হয়েছে, প্যাডেল চালিত যেসব রিকশা ও ভ্যানে ব্যাটারি বা মোটরযন্ত্র লাগানো হয়েছে সেগুলো থেকে ব্যাটারি ও মোটরযন্ত্র খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপুর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ যেসব অটোরিকশা স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটারিচালিত, সেগুলো চলবে আগের মতোই।

কোন বাহনে ব্যাটারি চলবে না, স্পষ্ট করল সরকার
স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটারিচালিত এই অটোরিকশাগুলো চলবে আগের মতোই। ছবি: সাইফুল ইসলাম

তবে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে বিপুল সংখ্যক বাহন থেকে মোটর ও ব্যাটারি খুলে ফেলতে হবে। কারণ, গত কয়েক বছরে বিপুল সংখ্যক রিকশায় মোটর লাগানো হয়েছে। এতে চালকদের কষ্ট কমার পাশাপাশি গতি দ্রুত হওয়ার কারণে, একই সময়ে বেশি ভাড়া পাওয়া যায়। ফলে আয় ভালো হয়। আর এ কারণে এই চালকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

গত রোববার সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা জোরদার করা ও এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত টাস্কর্ফোসের তৃতীয় সভায় সড়ক মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্যাডেল চালিত রিকশা ও ভ্যান থেকে ব্যাটারি বা মোটরযন্ত্র খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘সারা দেশে রিকশা-ভ্যানের ভেতরে ব্যাটারিচালিত মোটর লাগিয়ে রাস্তায় চলছে। সামনের চাকায় শুধু ব্রেক। পেছনের চাকায় কোনো ব্রেক নাই কিংবা ব্রেকের ব্যবস্থা থাকলেও অপ্রতুল। সেগুলো যখন ব্রেক করে প্যাসেঞ্জারসহ গাড়ি উল্টে যায়। এ দৃশ্য আমরা দেখেছি। আমরা দেখেছি হাইওয়েতেও এ রিকশা চলে এসেছে।’

তিনি সেদিন আরও বলেছিলেন, ‘সে জন্য আমরা সারা দেশে, এই ধরনের ব্যাটারিচালিত রিকশাকে যারা ইঞ্জিন দিয়ে রূপান্তর করেছিলেন, সেই সমস্ত রিকশা-ভ্যান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আজকের সভাতে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি হবে।’

সরকারের এ ঘোষণার পর সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এসব ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান চালকরা।

সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে, ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে না দিলে রাজপথে গরুর গাড়ি চালানোর হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সমানে বুধবার রিকশাভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ হুমকি দেন।

সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ইজিবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেয়া না হলে সরকারকেও আমরা চলতে দেব না। সরকারকে শিক্ষা দিতে আমরা গরুর গাড়ি চালাব। রাজপথ গরুর গাড়ি দিয়ে ভরিয়ে দেব। একটা এসি গাড়িও আমরা চলতে দেব না।’

এ ঘটনার ঘণ্টা দুয়েক পরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।

শেয়ার করুন