‘হেফাজতের সঙ্গে আপস আমাদের মস্তবড় ভুল’

মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে সারা দেশে সহিংস হয়ে ওঠেছে হেফাজতে ইসলাম। ছবিটি ২৮ মার্চ হেফাজতের ডাকা হরতালের দিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ এলাকা থেকে তোলা

‘হেফাজতের সঙ্গে আপস আমাদের মস্তবড় ভুল’

‘ধর্ম ব্যবসায়ীরা আজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আর এজন্য আমরা অনেকখানি দায়ী। তাদের সঙ্গে আপস করা ছিল আমাদের মস্তবড় ভুল। এটার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এর ফলে দেশ জাতি আজ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।’

হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আপস করা হয়েছিল উল্লেখ করে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেছেন, এটা তাদের মস্তবড় ভুল ছিল।

নারায়ণগঞ্জের রিসোর্টকাণ্ডে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

এই গোষ্ঠীকে ‘ধর্ম ব্যবসায়ী’ আখ্যা দিয়ে বিচারপতি মানিক বলেন, তাদের শক্তি কখনও বেশি নয়। কঠোর ব্যবস্থা নিলে তারা ‘লেজ গুটিয়ে পালাবে।’

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ৫০তম বার্ষিকীতে শনিবার এক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

১৯৭১-এর ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগর থেকে বাংলাদেশের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিরা ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করেন। এই ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতে ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়।

নির্মূল কমিটি গত ১৭ বছর ধরে এই দিনটি পালন করছে।

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ওয়েবিনারে অতিথিরা

কমিটির আইন সহায়ক কমিটির সভাপতি বিচারপতি মানিক বলেন, ‘ধর্ম ব্যবসায়ীরা আজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আর এজন্য আমরা অনেকখানি দায়ী।

‘তাদের সঙ্গে আপস করা ছিল আমাদের মস্তবড় ভুল। এটার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এর ফলে দেশ জাতি আজ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালের ৫ মে এই অপশক্তিকে আমরা নির্মূল করে দিতে পারতাম। তারা সেদিন শিয়ালের মতো লেজ গুটিয়ে পালিয়েছিল। তাদের শক্তি আমাদের চেয়ে বেশি না।’

মামুনুলকে কেন গ্রেপ্তার করা হবে না- এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘তার মতো এত বড় ভণ্ড আর ধর্মব্যবসায়ী মাদ্রাসার শিশুদের কী শেখাবে। এরা কালো টাকা জমিয়েছে। এদের টাকার উৎস খতিয়ে দেখা হোক।’

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে আজও প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। এই ব্যর্থতা আমাদের স্বীকার করতে হবে। আমরা যদি স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করি, সেটাও আমাদের ভুল হবে। আমরা বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারিনি সাংগঠনিকভাবে। এই ব্যর্থতার দায় আমাদের স্বীকার করে নিয়ে আমাদের ভাবা উচিত, আমাদের কোথায় কোথায় ভুল ছিল। কেন আমরা পারিনি। সেই জায়গাটাতে আমরা অনেক সময় কথা বলি না।’

ওয়েবিনারে প্রধান বক্তা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের রচয়িতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, ‘যারা ধর্মের নামে হত্যা, হামলা, আইনশৃঙ্খলাকে ভেঙে ফেলে, এরা ঘৃণার পাত্রে পরিণত হবে। আমাদের রাষ্ট্রের দর্শন ও সামাজিক ন্যায়বিচার এইগুলোকে আমাদের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ্যবইয়ে সংযুক্ত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর যে আদর্শের জায়গা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্থাপন করা হয়েছে, সেটা আমাদের ঠিক রাখতে হবে। আমাদের মৌলিক অধিকারগুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের অর্থনৈতিক সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘আজকে সরকারকে হেফাজতের অনুমতি নিয়ে কাজ করতে হয়। তারা দেখিয়ে দেয় তাদের শক্তি। সরকার তার বিরুদ্ধে কিছু করতে পারে না। ব্যাপারটা খুব মজার।’

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন না করার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘বহু বছর ধরে আমরা এটা পালন করে আসছি। কিন্তু রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন তারা কিন্তু এটা পালন করছেন না। নির্মূল কমিটিকে রাষ্ট্রের সব দায়িত্ব নিতে হলেও সমস্যা হয়ে যায়। সব কিছুর দায়িত্ব আমাদের না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যারা ছিলেন যারা এখন মন্ত্রী হয়েছেন, নীতি নির্ধারক হয়েছেন। তারাও কিন্তু ১৭ বছর আমাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারাও কিন্তু মন্ত্রণালয় চালাচ্ছেন।’

ইতিহাস বিকৃতি শুধু যে বিএনপি করে তা নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরাও কমবেশি সবাই করি। এইসব প্রশ্নে নীরব থাকার অর্থ এটাই বোঝায়।’

আয়োজক সংগঠন নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানপন্থীরা বোধগম্য কারণেই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র মানে না। তারা যখনই সুযোগ পায় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরুদ্ধাচরণ করে।’

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, ’৭১-এর গণহত্যা তথা মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক সত্য অস্বীকারকারীদের শাস্তির জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ‘হলোকস্ট ডিনায়াল অ্যাক্ট’-এর মতো আইন করার দাবিও জানান তিনি।

শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি আরমা দত্ত, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা তুরিন আফরোজ, শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর ছেলে আসিফ মুনীর তন্ময়ও এ সময় বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
সোনারগাঁয়ে আ. লীগ কার্যালয় ভাঙচুর: মামুনুলের বিরুদ্ধে মামলা
হেফাজতের তাণ্ডব: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার ৬১
নারায়ণগঞ্জে হেফাজত ও বিএনপির ৬ নেতাকর্মী জেলে 
‘হেফাজত করলে মসজিদের ইমামতি করতে পারবেন না’
নারায়ণগঞ্জে সহিংসতায় হেফাজতের অতি উৎসাহীরা: নায়েবে আমির

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মিতু হত্যায় স্বীকারোক্তি দিতে পারেন বাবুল

মিতু হত্যায় স্বীকারোক্তি দিতে পারেন বাবুল

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, মিতু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যেসব তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, সেগুলোর প্রতিটি পয়েন্ট ধরে ধরে বাবুলের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এতে তার অস্বীকার করার উপায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করতে বাধ্য হন।

চট্টগ্রামের আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে পারেন।

মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা রোববার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাবুল আকতরা কীভাবে, কেন, কার কার মাধ্যমে নিজের স্ত্রীকে হত্যা করেছেন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সেগুলো বর্ণনা করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, মিতু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যেসব তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, সেগুলোর প্রতিটি পয়েন্ট ধরে ধরে বাবুলের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এতে তার অস্বীকার করার উপায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করতে বাধ্য হন।

পিবিআইয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, একপর্যায়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে তার জবানবন্দি লিখিত আকারে নেয়া হয়। সেই মোতাবেক আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার কথা বলা হলে তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আরও কিছু সময় চেয়ে নেন। পরে রাতে ভেবে-চিন্তে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, বাবুল আকতারের পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষ হচ্ছে রোববার রাত ১২টায়। তাকে সোমবার দুপুরে আদালতে তোলা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য আদালতে লিখিতভাবে জানানো হবে।

পিবিআইয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, বাবুল আকতারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ‘সাইকো’ মনে হয়েছে। তিনি আদালতের সামনে গিয়ে মত পাল্টাতেও পারেন। সে ক্ষেত্রে আদালতের কাছে আবার রিমান্ড আবেদন করা হবে। তবে তিনি যে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে পরকীয়ার জের ধরে স্ত্রীর সঙ্গে তুমুল ঝগড়া হয় বাবুলের। এরপর সর্বশেষ ঢাকায় পোস্টিং হওয়াকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হয় তাদের।

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে মিতুকে হত্যার অভিযোগ তুলে তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে গত ১২ মে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হলে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ তাদের মেয়েকে হত্যার জন্য বাবুল আকতারকেই দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার দেয় পিবিআইকে।

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার গত বুধবার এক ব্রিফিংয়ে জানান, মিতু হত্যায় বাবুলের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজন্য নতুন একটি মামলায় তাকে আসামি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
সোনারগাঁয়ে আ. লীগ কার্যালয় ভাঙচুর: মামুনুলের বিরুদ্ধে মামলা
হেফাজতের তাণ্ডব: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার ৬১
নারায়ণগঞ্জে হেফাজত ও বিএনপির ৬ নেতাকর্মী জেলে 
‘হেফাজত করলে মসজিদের ইমামতি করতে পারবেন না’
নারায়ণগঞ্জে সহিংসতায় হেফাজতের অতি উৎসাহীরা: নায়েবে আমির

শেয়ার করুন

লকডাউনে খুলল জ্যাকব টাওয়ার ও শিশুপার্ক

লকডাউনে খুলল জ্যাকব টাওয়ার ও শিশুপার্ক

ভোলার চরফ্যাশনের জ্যাকব টাওয়ার। ছবি: নিউজবাংলা

‘করোনার মধ্যে পার্কটি বন্ধ ছিল। ঈদ উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকেল থেকে পার্কটি খুলে দেয়া হয়েছে।’

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পঞ্চম দফা লকডাউন বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারির আগের দিন খুলে দেয়া হলো ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জ্যাকব টাওয়ার ও শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্ক।

ঈদের পরদিন বিকেল থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এই দুটি বিনোদন কেন্দ্র উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

রোববার বিকেলে চরফ্যাশনের শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্কে গিয়ে দেখা যায় শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর পার্কের টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করছে। এদের কারও মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব দেখা যয়নি।

পার্কের গেটেও রাখা হয়নি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সুরক্ষা সামগ্রী। এমনকি গেটে থাকা নিরাপত্তাকর্মী ও টিকিট চেক করার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীদের মুখেও ছিল না মাস্ক। পার্কের ভেতরেও একই চিত্র। গাদাগাদি করে দর্শনার্থীরা পার্কের বিভিন্ন রাইডে উঠছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে জ্যাকব টাওয়ারে। সেখানেও দর্শনার্থীরা গাদাগাদি করে লিফটে চড়ে টাওয়ারের চূড়ায় উঠছেন। আবার কেউ বাইরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন।

লকডাউনে খুলল জ্যাকব টাওয়ার ও শিশু পার্ক
ভোলার চরফ্যাশনে শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্ক

পার্কের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন জানান, ‘করোনার মধ্যে পার্কটি বন্ধ ছিল। ঈদ উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকেল থেকে পার্কটি খুলে দেয়া হয়েছে।’

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘শনিবার ভোলার জেলা প্রশাসক চরফ্যাশন আসায় তার জন্য পার্ক ও টাওয়ারটি খোলা হয়। তিনি যাওয়ার পর আবার বন্ধ করে দেয়ার কথা। তবে এখনও খোলা আছে কি না সেটি আমার জানা নাই। আমি বিষয়টি পৌরসভার মেয়রের সঙ্গে আলাপ করব।’

লকডাউনে খুলল জ্যাকব টাওয়ার ও শিশু পার্ক
শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্কে ঘুরতে আসা মানুষজনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা দেখা যায়নি

ভোলার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক-ই-লাহী জানান, ‘আমরা আসার পর টিকিট কেটে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ করার বিষয়টি আমার জানা নাই। আমি খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
সোনারগাঁয়ে আ. লীগ কার্যালয় ভাঙচুর: মামুনুলের বিরুদ্ধে মামলা
হেফাজতের তাণ্ডব: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার ৬১
নারায়ণগঞ্জে হেফাজত ও বিএনপির ৬ নেতাকর্মী জেলে 
‘হেফাজত করলে মসজিদের ইমামতি করতে পারবেন না’
নারায়ণগঞ্জে সহিংসতায় হেফাজতের অতি উৎসাহীরা: নায়েবে আমির

শেয়ার করুন

দম্পতি পরিচয়ে বাসা ভাড়ার পর নারী খুন

দম্পতি পরিচয়ে বাসা ভাড়ার পর নারী খুন

পুলিশ বলছে, ওই নারীর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি ও অজ্ঞাতপরিচয় এক পুরুষ রোববারই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তারা কক্ষে ওঠার দেড় ঘণ্টা পর তার মরদেহ দেখতে পান বাড়িওয়ালা।

রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তির একটি টিনশেড বাসার দোতালার এক কক্ষ থেকে এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, মনোয়ারা বেগম নামের ওই নারীর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা হোমনার গামুটিয়ায়। তিনি ও অজ্ঞাতপরিচয় এক পুরুষ রোববারই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তারা কক্ষে ওঠার দেড় ঘণ্টা পর তার মরদেহ দেখতে পান বাড়িওয়ালা। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মনোয়ারার স্বামী মৃত। ঢাকার কড়াইল বস্তিতে তিন নাতিকে নিয়ে থাকতেন তিনি। তাদের তিনজনের বয়স ৭ থেকে ১২ বছর। তারা পুলিশ হেফাজতে আছে।

বনানী থানা পুলিশ রোববার বেলা ২টার দিকে ৪৪ বছর বয়সী এই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি বেলা ১১টার দিকে একজন অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষ ও ওই নারী স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে টিনশেড দোতালার একটি রুম ভাড়া নিয়ে বাসায় ওঠেন। তখন তারা কোনো মালামাল আনেননি। উত্তরায় তাদের বাসা আছে। সেখান থেকে কিছুক্ষণ পর মালামাল নিয়ে আসবেন- এ কথার ভিত্তিতে বাড়ির মালিক তাদের বাসা ভাড়া দেন।’

ওসি নূরে আজম বলেন, ‘কক্ষে ওঠার প্রায় আধা ঘণ্টা পর পুরুষ লোকটা বাড়ির মালিককে তার বাসার মালামাল নিয়ে আসার জন্য উত্তরা যাচ্ছি বলে বের হয়ে যান। ওই নারী ঘরের ভিতরেই থাকেন। বাসার মালিক দুপুর ১টার দিকে ওই কক্ষের দরজায় নক করেন। সাড়া না পেয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে ভেতরে ঢুকে দেখেন- মেঝেতে শুয়ে আছেন মনোয়ারা। তার মুখ থেকে রক্ত বেরুচ্ছে। তখন বাড়িওয়ালা চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন।’

তিনি বলেন, ‘লোকজন ছুটে এসে দেখেন তিনি মারা গেছেন। এরপর স্থানীয় লোকজন থানায় ফোন করেন। পরে মরদেহ উদ্ধার করে আঙুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় জানতে পারি।’

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

তিনি আরও জানান, মনোয়ারার মেয়ে সিলেটে থাকেন। তাকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সোনারগাঁয়ে আ. লীগ কার্যালয় ভাঙচুর: মামুনুলের বিরুদ্ধে মামলা
হেফাজতের তাণ্ডব: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার ৬১
নারায়ণগঞ্জে হেফাজত ও বিএনপির ৬ নেতাকর্মী জেলে 
‘হেফাজত করলে মসজিদের ইমামতি করতে পারবেন না’
নারায়ণগঞ্জে সহিংসতায় হেফাজতের অতি উৎসাহীরা: নায়েবে আমির

শেয়ার করুন

ঢাকা ফেরায় তাড়াহুড়ো চায় না সরকার

ঢাকা ফেরায় তাড়াহুড়ো চায় না সরকার

ঈদের ছুটি শেষ হতেই আবার রাজধানী মুখী হচ্ছে কর্মজীবীরা। ছবি: নিউজবাংলা

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকে ফিরে আসতে চাচ্ছেন। আমরা চাই, সকলেই যে যেখানে আছেন সেখান থেকে আগে নিশ্চিত হোন, আক্রান্ত হয়েছেন কি না, জীবাণু কোন অবস্থায় আছে। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে একটু ধীরেসুস্থে আসুন। আমরা খুলে দেব তখন আপনারা চলে আসতে পারবেন।’

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে লকডাউন বা চলমান বিধিনিষেধ তুলে স্বাভাবিক জীবন ফেরাতে চায় সরকার। এজন্য মেনে চলতে হবে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি। এমন পরিস্থিতিতে ঈদে হুড়োহুড়ি করে যারা বাড়ি গেছেন, তাদের ফিরতি যাত্রায় কোনো ঝুঁকি না নিয়ে নিজ নিজ অবস্থানে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার কথা মাথায় রেখে ঈদের আগে খুলে দেয়া হয় শপিং মল ও দোকানপাট। বন্ধ রাখা হয় আন্তজেলা গণপরিবহন, কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে শপিং মলগুলোতে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়, মাস্ক ছাড়াই অনেকে করেছেন কেনাকাটা। জরিমানা করেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি ঈদবাজার।

বাড়িমুখী মানুষকে গাড়ি বন্ধ করেও ঠেকানো সম্ভব হয়নি। ফেরিতে অগুণতি মানুষের সমাগম যেন তারই প্রমাণ রেখেছে। পদদলিত হয়ে প্রাণহানির ঘটনার পরও আটকে রাখা যায়নি মানুষের স্রোত। এতে সংক্রমণ বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

করোনাভাইরাসের ছোবলে প্রতিবেশী দেশগুলো যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন পঞ্চম দফায় আরও এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের সময় বাড়িয়েছে সরকার। আগের নিয়মে বন্ধ রয়েছে আন্তজেলা বাস, লঞ্চ।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকে ফিরে আসতে চাচ্ছেন। আমরা চাই, সকলেই যে যেখানে আছেন সেখান থেকে আগে নিশ্চিত হোন, আক্রান্ত হয়েছেন কি না, জীবাণু কোন অবস্থায় আছে। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে একটু ধীরেসুস্থে আসুন। আমরা খুলে দেব তখন আপনারা চলে আসতে পারবেন।’

চাকরিজীবীদের ঈদে বাড়তি ছুটি ছিল না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অফিস আদালতে কাজ করছেন, মাত্র তিন দিনের ছুটি, তারা যাননি বললেই চলে। অতএব যারা গিয়েছেন তারা একটু পরে ফিরলেও মনে হয় ক্ষতি হবে না। কিছুদিন পরে যখন আমরা সবকিছু খুলে দেব, তখন ফিরলে সবচেয়ে ভালো হবে। কারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি ফেরা যায় সবচেয়ে ভালো হবে।’

সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ করোনাকে আমরা মোকাবিলা করব। আমরা চাই সংক্রমণ হারকে আরও কমিয়ে ফেলতে।’

বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ঈদের ছুটিতে এভাবে বাড়ি ফিরতে দেখা যায় শহরবাসীর অনেককে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

মাস্ক পরা অভ্যাসে পরিণত করতে চায় সরকার

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলে পরিস্থিতি বুঝে যত দ্রুত সম্ভব লকডাউন বা বিধিনিষেধ তুলে নিতে চাইছে সরকার। তার আগেই সিটি করপোরেশন, জেলা শহর ও পৌর এলাকাগুলোতে মাস্ক পরা শতভাগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব আমরা খুলে দিতে চাই, আমাদের অবস্থা-পরিস্থিতি বুঝে।’

বৈশ্বিক মহামারি করোনাকে নিয়েই যেহেতু এগিয়ে যেতে হবে, তাই মাস্ক পরাকে নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিকে আমরা আরও কমফোর্টেবল অবস্থায় নিতে চাই। তাই আমরা আগাম চিন্তা করছি, যখন আমরা খুলে দেব তখন শহর এলাকাগুলোতে যাতে শতভাগ মাস্ক পরা নিশ্চিত করা যায়। এটাকে ধরে রেখে আমাদের সমস্ত কাজকর্ম করতে পারব। এটাকে আমাদের একটা পার্মানেন্ট হ্যাভিটের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। নিয়ে এসে সব কাজকর্ম আমরা করতে চাই। আমাদের চিন্তাভাবনাটা এই রকম।’

প্রতিমন্ত্রী বলছেন, দেশের বেশির ভাগ মানুষ সাড়া দিচ্ছেন বলেই পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে দেশের ৯০ ভাগ মানুষ সাড়া দিলেও ১০ ভাগ মানুষ মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না বলে ধারণা তার। তাই সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে পুলিশকে সংযুক্ত করার কথা ভাবছে সরকার।

ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘পুলিশের এ ধরনের কোনো এখতিয়ার নাই, তারা কাউকে কিছু বলবে। আমরা চাচ্ছি পুলিশকে একটু ইনভলভ করতে, যাতে মাস্ক পরার জন্য তারা সবাইকে বলতে পারে।’

সব জায়গায় মোবাইল কোর্ট করা সম্ভব হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মোবাইল কোর্টের সংখ্যা এত বেশি করাও যায় না। সেজন্য আমরা চিন্তাভাবনা করছি। আমাদের তো সবকিছু ওপেন করতে হবে একসময়। তাহলে যখন আমরা ওপেন করব, তখন যাতে স্বাস্থ্যবিধিটা সকলেই- বিশেষ করে আপনার সিটি করপোরেশন, জেলা শহর এবং পৌরসভার মধ্যে শতভাগ মেনে চলে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই। সেজন্য পুলিশকে এখানে ইনভলভ করার বিষয়টি ভাবছি।’

করোনা নিয়ন্ত্রণে সবাইকে মাস্ক পরতে আহ্বান জানিয়ে আসছে সরকার। ছবি: নিউজবাংলা

জনসমাগম ও সংক্রমণ মাত্রা যেখানে বেশি, সেখানে শতভাগ মাস্ক পরা ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন জানিয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা একটু চিন্তাভাবনা করছি। আইনের হালকা একটু পরিবর্তন বা কোনো কিছু যদি করতে হয় তা নিয়ে একটু চিন্তাভাবনা আমাদের চলছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘমেয়াদে করোনার সঙ্গে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে করোনা যাতে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে এবং ২ শতাংশের মধ্যে থাকে সেটি আমরা চাইব।’

সবার মাস্ক পরা নিশ্চিতে পুলিশকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে আলোচনা শোনা যাচ্ছে।

কবে নাগাদ বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২৩ তারিখ পর্যন্ত লকডাউন চলমান আছে। এরপর আমরা যখন আস্তে আস্তে সব ওপেন করব... আবার ২২ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত একটা ঝুঁকির ব্যাপার আছে। সেটিও এখন আমাদের পর্যবেক্ষণ করতে হচ্ছে। সবকিছু দেখে যখন আমাদের খোলা সম্ভব হবে, তখন যাতে করে আমরা পুলিশকেও কিছু দায়িত্ব দিতে পারি, কারণ মাস্ক পরার ব্যাপারটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। করোনা না যাওয়া পর্যন্ত মাস্ক পরাটাকে আমাদের শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
সোনারগাঁয়ে আ. লীগ কার্যালয় ভাঙচুর: মামুনুলের বিরুদ্ধে মামলা
হেফাজতের তাণ্ডব: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার ৬১
নারায়ণগঞ্জে হেফাজত ও বিএনপির ৬ নেতাকর্মী জেলে 
‘হেফাজত করলে মসজিদের ইমামতি করতে পারবেন না’
নারায়ণগঞ্জে সহিংসতায় হেফাজতের অতি উৎসাহীরা: নায়েবে আমির

শেয়ার করুন

রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল

রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল

পুলিশের সাবেক এসপি বাবুল আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, বাবুল আকতারের পাঁচদিনের রিমান্ড শেষ হচ্ছে রোববার রাত ১২টায়। তাকে সোমবার দুপুরে আদালতে তোলা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে যেসব তথ্য মিলেছে, সেসব আদালতে লিখিতভাবে জানানো হবে।

মিতু হত্যা মামলায় বাবুল আকতারের পাঁচদিনের রিমান্ড শেষ হচ্ছে রাতে। সোমবার তাকে আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, বাবুল আকতারের পাঁচদিনের রিমান্ড শেষ হচ্ছে রোববার রাত ১২টায়। তাকে সোমবার দুপুরে আদালতে তোলা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য আদালতে লিখিতভাবে জানানো হবে।

বাবুল আকতারকে ফের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হবে কিনা তাও সোমবারই বলা যাবে বলে জানান সন্তোষ কুমার চাকমা।

বাবুল আক্তার আদালতে মিতু হত্যার দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিতু হত্যা মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে না।

বাবুল আকতারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাসান উল্লাহ সিদ্দিকী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমারা নগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রসিকিউশন শাখার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে, সোমবার বাবুল আকতারকে আদালতে তোলা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণত এসব মামলায় জবানবন্দি না দিলে আসামির একাধিকবার রিমান্ড চাওয়া হয়। তবে বাবুল আকতারের রিমান্ডের আবেদন করলে আমরা বিরোধিতা করব।’

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে মিতুকে হত্যার অভিযোগ তুলে তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে গত ১২ মে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হলে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ মেয়েকে হত্যার জন্য বাবুল আকতারকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেয়।

পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার গত বুধবার এক ব্রিফিংয়ে জানান, মিতু হত্যায় বাবুলের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজন্য নতুন একটি মামলায় তাকে আসামি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
সোনারগাঁয়ে আ. লীগ কার্যালয় ভাঙচুর: মামুনুলের বিরুদ্ধে মামলা
হেফাজতের তাণ্ডব: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার ৬১
নারায়ণগঞ্জে হেফাজত ও বিএনপির ৬ নেতাকর্মী জেলে 
‘হেফাজত করলে মসজিদের ইমামতি করতে পারবেন না’
নারায়ণগঞ্জে সহিংসতায় হেফাজতের অতি উৎসাহীরা: নায়েবে আমির

শেয়ার করুন

বিনা ভাড়ায় শহরে আনার পরামর্শ জাফরুল্লাহর

বিনা ভাড়ায় শহরে আনার পরামর্শ জাফরুল্লাহর

‘সরকারকে বলছি আপনারা ভুল করছেন। ভুলের পর ভুল করছেন। সরকারের উচিত হবে ইন্টার ডিস্ট্রিক্ট বাস-ট্রেন চালু করা ও বিনা পয়সায় ঢাকায় ফেরানোর ব্যবস্থা করা। এবং ঢাকায় ফেরা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য টেস্টের ব্যবস্থা করা।’

ঈদে যারা বাড়ি গিয়েছেন বিনা পয়সায় তাদের ঢাকায় ফেরানোর পরামর্শ দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

রোববার ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে ভার্চুয়াল নাগরিক আলোচনায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

১৯৭৬ সালের এই দিনে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ হয়। সেই থেকে দিনটি ফারাক্কা দিবস হিসেবে পালন হয়ে আসছে।

জাফরুল্লাহ লকডাউনে দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ রাখার বিষয়ে বলেন, ‘ঈদের আগে গণপরিবহন বন্ধ রাখা ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। এতে মানুষের কষ্ট হয়েছে। মানুষ সরকারের ভুলে অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করছে। ঈদের সময় মহিলারা ঝুলে ঝুলে বাড়ি যায়, এত বড় অন্যায় কোনোদিন হয় নাই।

‘সরকারকে বলছি আপনারা ভুল করছেন। ভুলের পর ভুল করছেন। সরকারের উচিত হবে ইন্টার ডিস্ট্রিক্ট বাস-ট্রেন চালু করা ও বিনা পয়সায় ঢাকায় ফেরানোর ব্যবস্থা করা। এবং ঢাকায় ফেরা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য টেস্টের ব্যবস্থা করা।’

গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের হামলারও সমালোচনা করেন জাফরুল্লাহ। বলেন, ‘কয়েক দিন যাবৎ গাজায় শিশু ও মানুষ হত্যা, নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা চলছে। আমরা কিছুই প্রতিবাদ করতে পারি নাই, অন্তত একটা সিম্বলিক প্রতিবাদও করি নাই।

‘মুসলিম রাষ্ট্রের কেউ কেউ ইহুদিদের নির্মতায় নীরব। এ সময়ে যদি মুসলিম রাষ্ট্রের নিজেদের ঝগড়া ভুলে গিয়ে এক হয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ও দাঁতভাঙা জবাব দেয়া যেত।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ভারত খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে আমাদের পানি আটকে রেখেছে। কাজেই এর সমাধান তাদেরই করতে হবে। রাজনৈতিকভাবেই এটাকে মোকাবিলা করতে হবে।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের নির্বাহী চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন আহমেদ, জাতিসংঘের সাবেক পানি বিশেষজ্ঞ এস আই খান, অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন ও সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান চৌধুরী, নিউনেশন পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নুরও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
সোনারগাঁয়ে আ. লীগ কার্যালয় ভাঙচুর: মামুনুলের বিরুদ্ধে মামলা
হেফাজতের তাণ্ডব: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার ৬১
নারায়ণগঞ্জে হেফাজত ও বিএনপির ৬ নেতাকর্মী জেলে 
‘হেফাজত করলে মসজিদের ইমামতি করতে পারবেন না’
নারায়ণগঞ্জে সহিংসতায় হেফাজতের অতি উৎসাহীরা: নায়েবে আমির

শেয়ার করুন

পুলিশকে অপহৃত যুবকের মেসেজ, গ্রেপ্তার ৫

পুলিশকে অপহৃত যুবকের মেসেজ, গ্রেপ্তার ৫

অভিযোগকারী যুবক মাদকাসক্ত। তার এক কাজিনের সঙ্গে মাদক সেবন করতে অন্য একটি এলাকায় এসেছিলেন। স্থানীয় কয়েকজন বিপথগামী তাদের হেনস্থা করে এবং একটি কক্ষে আটকে রাখে। তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। পরে তাদের ছাড়িয়ে নিতে আরও টাকা আনতে বলে। মোট ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে ওই যুবক ও তার কাজিন ছাড়া পান।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে এক যুবক বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং পরিচালিত বাংলাদেশ পুলিশ ফেসবুক পেজের ইনবক্সে মেসেজ আসে, ‘আমি অপহরণ হইছি, স্যার। আমাকে সাহায্য করেন।’

বাংলাদেশ পু‌লিশের এআই‌জি (মি‌ডিয়া) মো. সোহেল রানা বলেন, মেসেজটি পেয়ে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং ওই যুবক ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান সিকদারকে নির্দেশ দেয়া হয়।

সোহেল রানা আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযোগকারী যুবক মাদকাসক্ত। তার এক কাজিনের সঙ্গে মাদক সেবন করতে অন্য একটি এলাকায় এসেছিলেন। স্থানীয় কয়েকজন বিপথগামী তাদের হেনস্থা করে এবং একটি কক্ষে আটকে রাখে। তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। পরে তাদের ছাড়িয়ে নিতে আরও টাকা আনতে বলে। মোট ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে ওই যুবক ও তার কাজিন ছাড়া পান।

তিনি আরও বলেন, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইংয়ের বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দ্রুততম সময়ে এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন অন্তর, নাইম, র‌নি, শওকত ও র‌কি।

এ ছাড়া অভিযোগকারী যুবক ভবিষ্যতে মাদক সেবন করবেন না বা মাদকের সঙ্গে কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা রাখবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
সোনারগাঁয়ে আ. লীগ কার্যালয় ভাঙচুর: মামুনুলের বিরুদ্ধে মামলা
হেফাজতের তাণ্ডব: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার ৬১
নারায়ণগঞ্জে হেফাজত ও বিএনপির ৬ নেতাকর্মী জেলে 
‘হেফাজত করলে মসজিদের ইমামতি করতে পারবেন না’
নারায়ণগঞ্জে সহিংসতায় হেফাজতের অতি উৎসাহীরা: নায়েবে আমির

শেয়ার করুন