হাসিনা-কেরি বৈঠকে থাকায় সম্মানিতবোধ করছি: মিলার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিষয়ক দূত কেরির বৈঠক। ছবি: নিউজবাংলা।

হাসিনা-কেরি বৈঠকে থাকায় সম্মানিতবোধ করছি: মিলার

মিলার বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিষয়ক দূত কেরির বৈঠকে যোগ দিতে পেরে সম্মানিতবোধ করছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত ও দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ঢাকা সফর করে যাওয়ার পর এ নিয়ে টুইট করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার।

এতে মিলার বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিষয়ক দূত কেরির বৈঠকে যোগ দিতে পেরে সম্মানিতবোধ করছি।’

তিনি বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর বক্তব্য অবশ্যই শোনা উচিত। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্ব “রোড টু গ্লাসগো”র জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

সিভিএফের বর্তমান চেয়ার হলো বাংলাদেশ। সে হিসেবে সভাপতির দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কাঁধে। ২০১১-১৩ প্রথম মেয়াদে সিভিএফ সভাপতির পর বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো ২০২০-২২ মেয়াদে সিভিএফ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোরামটি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত তথা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো নিয়ে গঠিত। এর বর্তমান সদস্যসংখ্যা ৪৮। রোড টু গ্লাসগো হিসেবে মিলার আসলে নভেম্বরের কপ-২৬ সম্মেলনকে বুঝিয়েছেন।

এবারের এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে হবে। এর আয়োজকও যুক্তরাজ্য।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
ঢাকা ছেড়েছেন জন কেরি
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের একার নয়: জন কেরি
ঢাকায় বাইডেনের দূত জন কেরি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঈদ শেষে কেউ ফিরছে, কেউ যাচ্ছে বাড়ি

ঈদ শেষে কেউ ফিরছে, কেউ যাচ্ছে বাড়ি

ঢাকাগামী এক যাত্রী বলেন, ‘সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলাচল করলেও সমস্যা শুধু ফেরিতে। লাখ লাখ মানুষ কীভাবে ফেরিতে করে চলাচল করতে পারে। ফেরিতে দাঁড়ানোর, বসার জায়গা নেই।’

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথের দুই পারেই যাত্রী ও যানবাহনের চাপ সোমবার সকাল থেকে। ঘাট কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে পারে চাপ।

তবে ১৬টি ফেরি চলায় ঘাটে আটকে থাকছে না যানবাহন কিংবা অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না যাত্রীদের।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শফিকুল জানান, সকাল থেকে ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। প্রত্যেকটি ফেরিতে বিপুল যাত্রী এবং যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাবাজার ঘাট থেকেও প্রচুর যাত্রী নিয়ে প্রত্যেকটি ফেরি শিমুলিয়া ঘাট আসছে। নদীর দুই পাড়েই যাত্রী এবং যানবাহনের চাপ আছে। আজকেও (সোমবার) অনেকে বাড়ি যাচ্ছেন। কারণ তারা ঈদে বাড়ি যেতে পারেননি। আবার কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকা ফিরছেন অনেকে।

ফরিদপুর থেকে ঢাকাগামী আফজাল হোসেন জানান, ‘সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলাচল করলেও সমস্যা শুধু ফেরিতে। লাখ লাখ মানুষ কীভাবে ফেরিতে করে চলাচল করতে পারে। ফেরিতে দাঁড়ানোর, বসার জায়গা নেই। এমনিতেই তাপমাত্রা এখন অনেক বেশি, তার ওপর এমন গাদাগাদি করে যাতায়াত করলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’

আরেক যাত্রী সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শুধু ফেরিতে কোনোভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব নয়। সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মানাতে হলে অবশ্যই লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক করে দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
ঢাকা ছেড়েছেন জন কেরি
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের একার নয়: জন কেরি
ঢাকায় বাইডেনের দূত জন কেরি

শেয়ার করুন

মহাসড়কে বেড়েছে দূরপাল্লার বাস

মহাসড়কে বেড়েছে দূরপাল্লার বাস

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, দূরপাল্লার বাস দেখলেই আটকে দেয়া হচ্ছে, ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে মহাসড়কে রোববার থেকে অবাধেই চলতে দেখা গেছে উত্তরবঙ্গ থেকে আসা বাস।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে অবাধেই চলছে দূরপাল্লার বাস। ঈদ শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে ফেরা যাত্রীদের নিয়ে গত দুইদিন ধরেই সড়কে বেড়েছে এই বাসগুলোর চলাচল।

মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে সোমবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গ থেকে রাতে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী অসংখ্য বাস সেখানে। রোববার সকাল থেকেই মহাসড়ক দিয়ে চলতে দেখা গেছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাস।

গাজীপুর পরিবহন নামের বাসের চালক মো. মাহিম বলেন, ‘সকালে গাজীপুরের যাত্রী নিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে ছেড়ে এসেছি। সরকারিভাবে দূরপাল্লার বাস বন্ধ রাখা হলেও পয়সার জন্যই বাস চালাতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও বাধা পাইনি।’

তবে পুলিশের দাবি, দূরপাল্লার বাস দেখলেই ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাস আসলেও তাদের ছেড়ে আসা স্থানে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।’

যদিও এই দাবির সত্যতা দেখা যায়নি মহাসড়কে। ঢাকার দিকে যেতে দেখা গেছে যাত্রীবোঝাই অনেক বাসই।

বাস ছাড়াও পিকআপ, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন পরিবহনে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। তবে মহাসড়কের কোথাও যানজট নেই। পরিবহন বাড়ায় ভোগান্তিও নেই যাত্রীদের।

লকডাউনে মহাসড়কে অবাধে চলছে দূরপাল্লার বাস

এবারের ঈদযাত্রায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে রেকর্ড পরিমান যানবাহন চলাচল করেছে। সেতু সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১২ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত এই সেতু দিয়ে চলাচল করেছে ৫২ হাজার যানবাহন। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ২৪ ঘণ্টায় এ পরিমাণ টোল এই সেতুতে এর আগে আদায় হয়নি।

লকডাউনে মহাসড়কে অবাধে চলছে দূরপাল্লার বাস

ঈদ যাত্রায় শুরু থেকে যাত্রী চলাচলে ফেরি বন্ধ থাকায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটের যাত্রীরা বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে গন্তব্যে যান। যাত্রী চলাচলে পরে ফেরি খুলে দেয়া হলেও ঝামেলা এড়াতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে না গিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঘুরেই বাড়ি যান দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।

মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে মাদারীপুরের বাংলাবাজার হয়ে যারা চলাচল করে, সেই পথেরও কিছু কিছু গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায় বঙ্গবন্ধু সেতুতে। এতে সেতুটিতে যানবাহন চলাচলের সংখ্যা বাড়ে ঈদের আগে।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
ঢাকা ছেড়েছেন জন কেরি
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের একার নয়: জন কেরি
ঢাকায় বাইডেনের দূত জন কেরি

শেয়ার করুন

মিতু হত্যায় স্বীকারোক্তি দিতে পারেন বাবুল

মিতু হত্যায় স্বীকারোক্তি দিতে পারেন বাবুল

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, মিতু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যেসব তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, সেগুলোর প্রতিটি পয়েন্ট ধরে ধরে বাবুলের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এতে তার অস্বীকার করার উপায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করতে বাধ্য হন।

চট্টগ্রামের আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে পারেন।

মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা রোববার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাবুল আকতরা কীভাবে, কেন, কার কার মাধ্যমে নিজের স্ত্রীকে হত্যা করেছেন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সেগুলো বর্ণনা করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, মিতু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যেসব তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, সেগুলোর প্রতিটি পয়েন্ট ধরে ধরে বাবুলের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এতে তার অস্বীকার করার উপায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করতে বাধ্য হন।

পিবিআইয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, একপর্যায়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে তার জবানবন্দি লিখিত আকারে নেয়া হয়। সেই মোতাবেক আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার কথা বলা হলে তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আরও কিছু সময় চেয়ে নেন। পরে রাতে ভেবে-চিন্তে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, বাবুল আকতারের পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষ হচ্ছে রোববার রাত ১২টায়। তাকে সোমবার দুপুরে আদালতে তোলা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য আদালতে লিখিতভাবে জানানো হবে।

পিবিআইয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, বাবুল আকতারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ‘সাইকো’ মনে হয়েছে। তিনি আদালতের সামনে গিয়ে মত পাল্টাতেও পারেন। সে ক্ষেত্রে আদালতের কাছে আবার রিমান্ড আবেদন করা হবে। তবে তিনি যে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে পরকীয়ার জের ধরে স্ত্রীর সঙ্গে তুমুল ঝগড়া হয় বাবুলের। এরপর সর্বশেষ ঢাকায় পোস্টিং হওয়াকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হয় তাদের।

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে মিতুকে হত্যার অভিযোগ তুলে তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে গত ১২ মে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হলে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ তাদের মেয়েকে হত্যার জন্য বাবুল আকতারকেই দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার দেয় পিবিআইকে।

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার গত বুধবার এক ব্রিফিংয়ে জানান, মিতু হত্যায় বাবুলের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজন্য নতুন একটি মামলায় তাকে আসামি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
ঢাকা ছেড়েছেন জন কেরি
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের একার নয়: জন কেরি
ঢাকায় বাইডেনের দূত জন কেরি

শেয়ার করুন

লকডাউনে খুলল জ্যাকব টাওয়ার ও শিশুপার্ক

লকডাউনে খুলল জ্যাকব টাওয়ার ও শিশুপার্ক

ভোলার চরফ্যাশনের জ্যাকব টাওয়ার। ছবি: নিউজবাংলা

‘করোনার মধ্যে পার্কটি বন্ধ ছিল। ঈদ উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকেল থেকে পার্কটি খুলে দেয়া হয়েছে।’

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পঞ্চম দফা লকডাউন বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারির আগের দিন খুলে দেয়া হলো ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জ্যাকব টাওয়ার ও শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্ক।

ঈদের পরদিন বিকেল থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এই দুটি বিনোদন কেন্দ্র উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

রোববার বিকেলে চরফ্যাশনের শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্কে গিয়ে দেখা যায় শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর পার্কের টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করছে। এদের কারও মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব দেখা যয়নি।

পার্কের গেটেও রাখা হয়নি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সুরক্ষা সামগ্রী। এমনকি গেটে থাকা নিরাপত্তাকর্মী ও টিকিট চেক করার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীদের মুখেও ছিল না মাস্ক। পার্কের ভেতরেও একই চিত্র। গাদাগাদি করে দর্শনার্থীরা পার্কের বিভিন্ন রাইডে উঠছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে জ্যাকব টাওয়ারে। সেখানেও দর্শনার্থীরা গাদাগাদি করে লিফটে চড়ে টাওয়ারের চূড়ায় উঠছেন। আবার কেউ বাইরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন।

লকডাউনে খুলল জ্যাকব টাওয়ার ও শিশু পার্ক
ভোলার চরফ্যাশনে শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্ক

পার্কের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন জানান, ‘করোনার মধ্যে পার্কটি বন্ধ ছিল। ঈদ উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকেল থেকে পার্কটি খুলে দেয়া হয়েছে।’

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘শনিবার ভোলার জেলা প্রশাসক চরফ্যাশন আসায় তার জন্য পার্ক ও টাওয়ারটি খোলা হয়। তিনি যাওয়ার পর আবার বন্ধ করে দেয়ার কথা। তবে এখনও খোলা আছে কি না সেটি আমার জানা নাই। আমি বিষয়টি পৌরসভার মেয়রের সঙ্গে আলাপ করব।’

লকডাউনে খুলল জ্যাকব টাওয়ার ও শিশু পার্ক
শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্কে ঘুরতে আসা মানুষজনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা দেখা যায়নি

ভোলার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক-ই-লাহী জানান, ‘আমরা আসার পর টিকিট কেটে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ করার বিষয়টি আমার জানা নাই। আমি খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
ঢাকা ছেড়েছেন জন কেরি
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের একার নয়: জন কেরি
ঢাকায় বাইডেনের দূত জন কেরি

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশক

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশক

প্রায় ছয় বছর বিদেশে থাকার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে শেখ হাসিনা বিদেশে থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত করা হয় তাকে। এরপর গত চার দশক তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়া দলটির।

১৯৮১ সালের ১৭ মে বিকেল। ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর হাজির লাখ লাখ মানুষ। তাদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে কাঁপছে বিমানবন্দর এলাকা। এমন পরিবেশে ছয় বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা।

এর আগে শেখ হাসিনা বিদেশে থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত করা হয় তাকে। এরপর গত চার দশক তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়া দলটির।

সেদিন বিমানবন্দর থেকে শেখ হাসিনা সরাসরি যান মানিক মিয়া এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে। সেদিন লাখ লাখ মানুষের সামনে তিনি বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।

‘আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেলসহ সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই।’

তার হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নানামতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দেশে ফিরেই আওয়ামী লীগকে পুনরায় সংগঠিত করেন তার কন্যা শেখ হাসিনা।

সেদিনের স্মৃতিচারণ করে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আজ থেকে ৪০ বছর আগে বঙ্গবন্ধুর রক্তে গড়া পতাকা আমরা প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিয়েছিলাম। সে পতাকা হাতে জেল-জুলুম নির্যাতনের মুখে ৪০ বছরে তিনি আওয়ামী লীগকে এই উপমহাদেশের শক্তিশালী একটি সংগঠনের রূপান্তর করেছেন।

‘যেদিন আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা বাংলার মাটি স্পর্শ করেছিলেন সেদিন ছিল ঝড়-বৃষ্টি। আমরা স্লোগান তুলেছিলাম “ঝড় বৃষ্টি আঁধার রাতে, শেখ হাসিনা আমরা আছি তোমার সাথে”। এই গগন বিদারী স্লোগানে আমরা তাকে বরণ করেছিলাম। লক্ষ লক্ষ লোক সেদিন কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসেছিল। আমার নিজের কাছে মনে হয়েছিল শেখ হাসিনার বেশে আমরা বঙ্গবন্ধুকেই বরণ করছি।’

আওয়ামী লীগের আরেক প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু বলেন, ‘৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হারানোর পর তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে ১৭ মে’র মতো এমন একটি শুভ দিনের অপেক্ষায় ছিল বাঙালি। শেখ হাসিনার মাঝে বঙ্গবন্ধুকে খুঁজে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিল তারা। তাই তো দীর্ঘদিন নির্বাসন শেষে শেখ হাসিনার স্বদেশ ফেরার দিন বিমানবন্দরে ছিল বাঁধ ভাঙা মানুষের জোয়ার।

‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ভূলণ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে দল ভাঙার রাজনীতি, রাজনীতিবিদদের চরিত্র হনন, সর্বোপরি রাজনীতিকে বিরাজনীতিকরণের মাধ্যমে দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এই প্রতিকূল অবস্থায় দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করে দেশকে আজ উন্নয়ন আর অগ্রগতির পথে নিয়ে এসেছেন শেখ হাসিনা।’

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের নিজ বাসভবনে সপরিবারে হত্যা করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সে সময় ছোট বোন শেখ রেহানাসহ জার্মানিতে ছিলেন শেখ হাসিনা। এ কারণেই বেঁচে যান তারা।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর নানা পথ পাড়ি দিয়ে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে পড়ে নানা ভাগে। ১৯৭৯-৮০ সালের দিকে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ভারত সফর করে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসতে শেখ হাসিনাকে রাজি করানো।

১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হয়। এতে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাকে সভাপতি নির্বাচিত করেন দলটির নেতারা। ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি আব্দুল মালেক উকিল, ড. কামাল হোসেন, জিল্লুর রহমান, তোফায়েল আহমেদসহ কয়েকজন নেতা দিল্লি সফর করেন। পরবর্তী চারদিন সেখানে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বেই কয়েকটি বৈঠকে অংশ নেন তারা।

ওই বছরেরই ১৬ মে শেখ হাসিনা ও তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ দিল্লি থেকে কলকাতা আসেন। কলকাতা থেকে ১৭ মে আসেন ঢাকায় তারা।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আজকে বারবার মনে হয়, ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর রক্তে গড়া পতাকা আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিয়ে আমরা সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলাম। তিনি একমাত্র নেত্রী যিনি ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে ১৫ জুলাই ২০০১ সালে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন।

‘সর্বমোট চারবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে বাংলাদেশকে আলোকিত করেছেন। আজ বাংলাদেশ অন্ধকার থেকে আলোকিত হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎসহ অনেক উন্নয়নমূলক কাজ তিনি করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন। আজ সারা বিশ্ব কোভিড নাইন্টিনে আক্রান্ত। বাংলাদেশও আক্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু দেখেন আপনারা গত কয়েক দিনে ধীরে ধীরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপে বাংলাদেশে এ হার কমে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শূন্য হাতে শুরু করেছিলেন দুটি বিষয়কে সামনে রেখে। একটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, আরেকটি অর্থনৈতিক উন্নতি। বাংলার স্বাধীনতা তিনি এনে দিয়েছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তি বঙ্গবন্ধু শেষ করে যেতে পারেননি। সে অসমাপ্ত কাজ তার কন্যা শেখ হাসিনার হাতে শেষ হতে চলেছে।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথ ধরেই তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন উন্নয়নের মহাসড়কে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন তিনি। মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতার বাড়ি ও পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও কর্ণফুলী টানেলের কাজ এগিয়ে চলেছে দ্রুত গতিতে। এই অগ্রযাত্রা শেখ হাসিনার স্বদেশে ফিরে আসার ফল।

‘প্রধানমন্ত্রীর সাহসী পদক্ষেপে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধের বিচার যেমন সম্পন্ন করে চলেছেন, তেমনি ছিটমহল সমস্যার সমাধান, সমুদ্রসীমানা বিরোধেরও নিষ্পত্তি করেছেন শেখ হাসিনা।’

কর্মসূচি

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশব্যাপী প্রতিবছর বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করলেও এবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দিবসটি পালন করবে।

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশকপূর্তি উপলক্ষে ‘শেখ হাসিনার চার দশক: বদলে যাওয়া বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটি।

এই তথ্যচিত্র প্রদশর্নীর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।

দুই দিনব্যাপী (১৬ ও ১৭ মে) এই প্রদর্শনী ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষে সোমবার বেলা ১১টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর এবং বিকেল ৩টায় মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠান হবে।

এ ছাড়া সারা দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
ঢাকা ছেড়েছেন জন কেরি
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের একার নয়: জন কেরি
ঢাকায় বাইডেনের দূত জন কেরি

শেয়ার করুন

বাসায় তালা, বাবুল-মিতুর দুই সন্তান কোথায়

বাসায় তালা, বাবুল-মিতুর দুই সন্তান কোথায়

মঙ্গলবার তার বর্তমান স্ত্রী এবং বাবুল-মিতু দম্পতির দুই সন্তান ও বাবুলের এক ভাতিজা মোহাম্মদপুরের ওই বাসা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন বলে বের হন। এরপর তারা কোথায় আছেন জানা যায়নি। বাবুলের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপায় যাননি তার বর্তমান স্ত্রী ও সন্তানরা।

ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তার স্বামী এখন কারাগারে আছেন।

বাবুল আকতার গত বুধবার গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের সন্তান কোথায় আছে, তা জানতে পারেনি মামলাটির বর্তমান তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তবে নিউজবাংলার অনুসন্ধান অনুযায়ী, দুই সন্তান বাবুলের বর্তমান স্ত্রীর সঙ্গে রয়েছে। সোমবার ভোরে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে বের হন বাবুল আকতরা। তার সর্বশেষ কর্মস্থল আদ-দীন হাসপাতালের একটি গাড়িতে চড়ে বাসা থেকে বের হন তিনি।

পরদিন মঙ্গলবার তার বর্তমান স্ত্রী এবং বাবুল-মিতু দম্পতির দুই সন্তান ও বাবুলের এক ভাতিজা মোহাম্মদপুরের ওই বাসা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন বলে বের হন। এরপর তারা কোথায় আছেন জানা যায়নি। বাবুলের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপায় যাননি তার বর্তমান স্ত্রী ও সন্তানরা।

বাবুল-মিতুর দুই সন্তান কোথায় আছে, তা জানতে তদন্ত কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, ‘তারা (বাবুল-মিতুর দুই সন্তান) ঢাকার বাসায় নেই। তারা নিরাপদে আছে কি না জানতে আমাদের তদন্ত কর্মকর্তারা পেটার্নাল পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে এখনও জানা যায়নি।’

মামলায় ভুল ঠিকানা দিয়েছিলেন বাবুল

মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আকতারসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এই মালায় বাবুল আকতারের মোহাম্মদপুরের বাসার ভুল ঠিকানা দেয়া হয়, যে ঠিকানা বাবুলই তার করা হত্যা মামলায় দিয়েছিলেন।

মামলায় মোহাম্মদপুরের বাসার ঠিকানায় লিখা ছিল বাবর রোড, ব্লক সি, রোড-১১, বাড়ি-২২। এই ঠিকানায় কোনো বাড়ি পাওয়া যায়নি। বাড়ি নম্বর ঠিক থাকলেও রোড ও ব্লক নম্বর ভুল ছিল।

তবে ভুল ঠিকানায় বাড়ি খুঁজতে গিয়েই পাওয়া যায় প্রকৃত বাড়ির ঠিকানা। সেখানে কথা হয় কেয়ারটেকার সোহেলের সঙ্গে। তিনি জানান, সোমবার ভোরে আদ-দ্বীনের গাড়িতে করে বাসা থেকে বের হন বাবুল আকতার। পরদিন বাবুলের বর্তমান স্ত্রী, দুই সন্তান ও ভাতিজা বাসা থেকে বেরিয়ে যান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, ‘উনি (বাবুল আক্তার) মিডিয়া ও বাইরের মানুষের থেকে তার সন্তানদের দূরে রাখতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে বাবুলের কাছ থেকে সঠিক ঠিকানা নিয়ে বাসায় যান পিবিআই ঢাকার কর্মকর্তারা। তবে বাসায় কাউকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে বাসাটি তালাবদ্ধ রয়েছে।

ডিবি পরিচয়ে মুসাকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

মিতু হত্যার পর কেটে গেছে পাঁচ বছর। কিন্তু এতদিনেও এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসার কোনো সন্ধান জানাতে পারেনি পুলিশ।

তবে মুসার স্ত্রীর অভিযোগ, ২০১৬ সালে ৫ জুন মিতু হত্যার পর ২২ জুন মুসাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়।

মিতু হত্যার একদিন পর তার স্বামী তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আকতার চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। ওই মামলা প্রথমে ডিবি ও সর্বশেষ পিবিআই তদন্ত করে। ওই মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে বাবুল আকতারকে আসামি করে ১২ মে নতুন আরেকটি মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

এই মামলায় এক নম্বর আসামি বাবুল আকতার। দ্বিতীয়তে রয়েছে মুসার নাম। আসামি রয়েছেন আরও ছয়জন।

বাবুল আকতার চট্টগ্রামে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মুসা তার সোর্স হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার।

তিনি বলেন, ‘মিতু খুন হওয়ার পর আমরা আত্মগোপনে চলে যাই। মুসার একজন পরিচিত ড্রাইভার ছিল নুরুন্নবী নামে। নুরুন্নবীর এক আত্মীয়ের বাসা ছিল চট্টগ্রামের বন্দর কাঠঘর তিন রাস্তার মাথার কাছে। মুসা সারেন্ডার করতে চাইছিল ২১ তারিখ । ২২ তারিখ কোর্টে যাইবে। আমাদের বলছিল নুরুন্নবীর আত্মীয়ের বাসায় যাইতে। উনি সকালে আসবে বলছিল।

‘মুসা বাসায় আসার আগে ডিবির লোক আমাকে ও নুরুন্নবীকে একটা সাদা গাড়িতে করে নিয়ে যায়। আমাদের নিয়ে গাড়িটা দাঁড়ায় তিন রাস্তার মোড়ে। কিছুক্ষণ পর ওইখানে আসে মুসা। ও নুরুন্নবীর বাসা চিনতেছিল, এই কারণে রাস্তার পাশে দাঁড়াইয়া ছিল। এদিকে মুসা আসার পর নুরুন্নবীর কাছ থেকে ডিবি পুলিশ কনফার্ম হয় যে এটাই মুসা। এরপর মুসাকে ধরে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে একটি পিকআপে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এরপর আর দেখা পাইনি মুসার।’

মুসার স্ত্রী পান্না আরও বলেন, ‘যারা মুসাকে তুলে নিছিল, তাদের আমি চিনতে পারছি। তাদের নামও আমি সংবাদ সম্মেলনে বলছিলাম। মাস খানেক আগে পিবিআইকেও বলছি। কিন্তু তারা বলছে, নেয়নি। আমার চোখের সামনে ওরা নিয়ে গিয়ে অস্বীকার করছে।’

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, মুসা পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আট আসামির তিনজন পলাতক

গত ১২ মে মিতুর বাবার করা মামলায় বাবুল আকতরসহ আটজনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে মুসাসহ পলাতক রয়েছেন তিনজন। অন্য ‍দুজন হলেন তিন নম্বর আসামি এহতেশামুল হক ওরফে হানিফুল হক ওরফে ভোলাইয়্যা এবং ছয় নম্বর আসামি খায়রুল ইসলাম ওরফে কালু ওরফে কসাই কালু।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমাও বলেন, মিতু হত্যার প্রথম মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনজন। তারা হলেন মোতালেব মিয়া অরফে ওয়াসিম, আনোয়ার হোসেন ও শাহজাহান মিয়া। আর নতুন মামলা হওয়ার পর বাবুল আকতার ও সাইদুল ইসলাম সিকদার গ্রেপ্তার হয়েছেন।

মুসাসহ পলাতক তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান সন্তোষ কুমার।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
ঢাকা ছেড়েছেন জন কেরি
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের একার নয়: জন কেরি
ঢাকায় বাইডেনের দূত জন কেরি

শেয়ার করুন

ঢাকা ফেরায় তাড়াহুড়ো চায় না সরকার

ঢাকা ফেরায় তাড়াহুড়ো চায় না সরকার

ঈদের ছুটি শেষ হতেই আবার রাজধানী মুখী হচ্ছে কর্মজীবীরা। ছবি: নিউজবাংলা

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকে ফিরে আসতে চাচ্ছেন। আমরা চাই, সকলেই যে যেখানে আছেন সেখান থেকে আগে নিশ্চিত হোন, আক্রান্ত হয়েছেন কি না, জীবাণু কোন অবস্থায় আছে। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে একটু ধীরেসুস্থে আসুন। আমরা খুলে দেব তখন আপনারা চলে আসতে পারবেন।’

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে লকডাউন বা চলমান বিধিনিষেধ তুলে স্বাভাবিক জীবন ফেরাতে চায় সরকার। এজন্য মেনে চলতে হবে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি। এমন পরিস্থিতিতে ঈদে হুড়োহুড়ি করে যারা বাড়ি গেছেন, তাদের ফিরতি যাত্রায় কোনো ঝুঁকি না নিয়ে নিজ নিজ অবস্থানে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার কথা মাথায় রেখে ঈদের আগে খুলে দেয়া হয় শপিং মল ও দোকানপাট। বন্ধ রাখা হয় আন্তজেলা গণপরিবহন, কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে শপিং মলগুলোতে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়, মাস্ক ছাড়াই অনেকে করেছেন কেনাকাটা। জরিমানা করেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি ঈদবাজার।

বাড়িমুখী মানুষকে গাড়ি বন্ধ করেও ঠেকানো সম্ভব হয়নি। ফেরিতে অগুণতি মানুষের সমাগম যেন তারই প্রমাণ রেখেছে। পদদলিত হয়ে প্রাণহানির ঘটনার পরও আটকে রাখা যায়নি মানুষের স্রোত। এতে সংক্রমণ বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

করোনাভাইরাসের ছোবলে প্রতিবেশী দেশগুলো যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন পঞ্চম দফায় আরও এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের সময় বাড়িয়েছে সরকার। আগের নিয়মে বন্ধ রয়েছে আন্তজেলা বাস, লঞ্চ।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকে ফিরে আসতে চাচ্ছেন। আমরা চাই, সকলেই যে যেখানে আছেন সেখান থেকে আগে নিশ্চিত হোন, আক্রান্ত হয়েছেন কি না, জীবাণু কোন অবস্থায় আছে। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে একটু ধীরেসুস্থে আসুন। আমরা খুলে দেব তখন আপনারা চলে আসতে পারবেন।’

চাকরিজীবীদের ঈদে বাড়তি ছুটি ছিল না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অফিস আদালতে কাজ করছেন, মাত্র তিন দিনের ছুটি, তারা যাননি বললেই চলে। অতএব যারা গিয়েছেন তারা একটু পরে ফিরলেও মনে হয় ক্ষতি হবে না। কিছুদিন পরে যখন আমরা সবকিছু খুলে দেব, তখন ফিরলে সবচেয়ে ভালো হবে। কারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি ফেরা যায় সবচেয়ে ভালো হবে।’

সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ করোনাকে আমরা মোকাবিলা করব। আমরা চাই সংক্রমণ হারকে আরও কমিয়ে ফেলতে।’

বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ঈদের ছুটিতে এভাবে বাড়ি ফিরতে দেখা যায় শহরবাসীর অনেককে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

মাস্ক পরা অভ্যাসে পরিণত করতে চায় সরকার

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলে পরিস্থিতি বুঝে যত দ্রুত সম্ভব লকডাউন বা বিধিনিষেধ তুলে নিতে চাইছে সরকার। তার আগেই সিটি করপোরেশন, জেলা শহর ও পৌর এলাকাগুলোতে মাস্ক পরা শতভাগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব আমরা খুলে দিতে চাই, আমাদের অবস্থা-পরিস্থিতি বুঝে।’

বৈশ্বিক মহামারি করোনাকে নিয়েই যেহেতু এগিয়ে যেতে হবে, তাই মাস্ক পরাকে নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিকে আমরা আরও কমফোর্টেবল অবস্থায় নিতে চাই। তাই আমরা আগাম চিন্তা করছি, যখন আমরা খুলে দেব তখন শহর এলাকাগুলোতে যাতে শতভাগ মাস্ক পরা নিশ্চিত করা যায়। এটাকে ধরে রেখে আমাদের সমস্ত কাজকর্ম করতে পারব। এটাকে আমাদের একটা পার্মানেন্ট হ্যাভিটের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। নিয়ে এসে সব কাজকর্ম আমরা করতে চাই। আমাদের চিন্তাভাবনাটা এই রকম।’

প্রতিমন্ত্রী বলছেন, দেশের বেশির ভাগ মানুষ সাড়া দিচ্ছেন বলেই পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে দেশের ৯০ ভাগ মানুষ সাড়া দিলেও ১০ ভাগ মানুষ মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না বলে ধারণা তার। তাই সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে পুলিশকে সংযুক্ত করার কথা ভাবছে সরকার।

ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘পুলিশের এ ধরনের কোনো এখতিয়ার নাই, তারা কাউকে কিছু বলবে। আমরা চাচ্ছি পুলিশকে একটু ইনভলভ করতে, যাতে মাস্ক পরার জন্য তারা সবাইকে বলতে পারে।’

সব জায়গায় মোবাইল কোর্ট করা সম্ভব হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মোবাইল কোর্টের সংখ্যা এত বেশি করাও যায় না। সেজন্য আমরা চিন্তাভাবনা করছি। আমাদের তো সবকিছু ওপেন করতে হবে একসময়। তাহলে যখন আমরা ওপেন করব, তখন যাতে স্বাস্থ্যবিধিটা সকলেই- বিশেষ করে আপনার সিটি করপোরেশন, জেলা শহর এবং পৌরসভার মধ্যে শতভাগ মেনে চলে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই। সেজন্য পুলিশকে এখানে ইনভলভ করার বিষয়টি ভাবছি।’

করোনা নিয়ন্ত্রণে সবাইকে মাস্ক পরতে আহ্বান জানিয়ে আসছে সরকার। ছবি: নিউজবাংলা

জনসমাগম ও সংক্রমণ মাত্রা যেখানে বেশি, সেখানে শতভাগ মাস্ক পরা ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন জানিয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা একটু চিন্তাভাবনা করছি। আইনের হালকা একটু পরিবর্তন বা কোনো কিছু যদি করতে হয় তা নিয়ে একটু চিন্তাভাবনা আমাদের চলছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘমেয়াদে করোনার সঙ্গে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে করোনা যাতে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে এবং ২ শতাংশের মধ্যে থাকে সেটি আমরা চাইব।’

সবার মাস্ক পরা নিশ্চিতে পুলিশকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে আলোচনা শোনা যাচ্ছে।

কবে নাগাদ বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২৩ তারিখ পর্যন্ত লকডাউন চলমান আছে। এরপর আমরা যখন আস্তে আস্তে সব ওপেন করব... আবার ২২ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত একটা ঝুঁকির ব্যাপার আছে। সেটিও এখন আমাদের পর্যবেক্ষণ করতে হচ্ছে। সবকিছু দেখে যখন আমাদের খোলা সম্ভব হবে, তখন যাতে করে আমরা পুলিশকেও কিছু দায়িত্ব দিতে পারি, কারণ মাস্ক পরার ব্যাপারটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। করোনা না যাওয়া পর্যন্ত মাস্ক পরাটাকে আমাদের শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
ঢাকা ছেড়েছেন জন কেরি
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের একার নয়: জন কেরি
ঢাকায় বাইডেনের দূত জন কেরি

শেয়ার করুন