কেন আসছেন জন কেরি?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা জন কেরি

কেন আসছেন জন কেরি?

জো বাইডেনের জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ নিয়ে শুক্রবার ঢাকায় পা রাখছেন জন কেরি। তবে মনে করা হচ্ছে, আমন্ত্রণ জানানো ছাড়া আরও কিছু বিষয়ে দূতিয়ালী করবেন জন কেরি।

শুক্রবার সকালে ঢাকা আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা জন কেরি, যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। জন কেরি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জলবায়ু উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন নিউজবাংলাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন প্রশাসনের অন্যতম প্রধান ইস্যু জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করে করোনাকালে অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন নতুন খাত উদ্ভাবন। আগামী দিনের এই জলবায়ু লড়াইয়ে জয়ী হতে বাংলাদেশকে পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

এ জন্য আগামী ২৩ ও ২৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ‘ক্লাইমেট লিডারস সামিট’ নামে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলনটি ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। এতে যোগ দিতে ৪০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জো বাইডেন।

আবদুল মোমেন বলেন, ‘মূলত এসব কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জলবায়ু বিষয়ক ওই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাতে সশরীরে ৯ এপ্রিল ঝটিকা সফরে ঢাকা আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি।’

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, যে সম্মেলন ভার্চুয়ালি হবে, এই মহামারির মধ্যে সেটার আমন্ত্রণপত্র হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কথা নয়। ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে বাংলাদেশের গুরুত্ব বেড়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল বাস্তবায়নেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশাসনকে পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন।

এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি ইস্যুতে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। একইসঙ্গে ভারত, জাপান, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার চতুর্দেশীয় সামরিক জোট কোয়াডে বাংলাদেশকে অন্তর্ভূক্ত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

এতে পশ্চিমা এ দেশটির সঙ্গে সমান চেষ্টা চালাচ্ছে প্রধান উন্নয়ন অংশীদার জাপান। চীনের সঙ্গে বিরোধের কারণে প্রতিবেশী দেশ ভারত আগে থেকেই সামরিক জোটে নিতে চায় বাংলাদেশকে। এদের সবার লক্ষ্য চীনকে ঠেকানো।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট গত ৩১ মার্চ জানিয়েছে, আসন্ন ক্লাইমেট লিডারস সামিট এবং কপ-২৬ (বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন) সম্মেলনের ভালো অগ্রগতি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি ১ থেকে ৯ এপ্রিল আবুধাবি, নয়াদিল্লি ও ঢাকা সফর করবেন।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে: ‘জলবায়ুজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় এই বছর আমরা খুব ভালো অগ্রগতি করতে চাই, যা আমাদের জন্য জরুরি। রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূত জন কেরি এ বিষয়ে একাধিক দেশ ভ্রমণে বের হওয়ার কারণ হচ্ছে, আমরা যে অগ্রগতি করতে চাই তা সমন্বয়ের জন্য শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে আমরা সকলে মিলে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে পারি।

‘কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে যাতে সকলে মিলে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখে, বিশেষ দূত জন কেরির এই সফর তা নিশ্চিতের চেষ্টা করবে। এই সফরে জন কেরি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জনস্বাস্থ্য আইন এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাও পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে এই সফরে তারা অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।’

স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা জেমস দিউয়ে বলেন, ‘যেহেতু এটা করোনাকাল, তাই এই সফরে জন কেরি খুবই সতর্ক থাকবেন। এই সফরে যাদের সঙ্গে তার বৈঠক হবে, তাদের সঙ্গে আগে থেকেই কথা বলে বৈঠকের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছে।’

কূটনৈতিক মহল মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং চীনের নেতৃত্বে রোড অ্যান্ড বেল্ট উদ্যোগসহ একাধিক বৈশ্বিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশিদার।

ভৌগলিক অবস্থানই বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিশ্বের ২৬ ভবিষ্যত শক্তির মধ্যেও বাংলাদেশ ১৮তম। তাই ১ নম্বর শক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং দুই নম্বর শক্তি চীনসহ জাপান, ভারত, অষ্ট্রেলিয়া সবাই বাংলাদেশকে পাশে চায়।

বাংলাদেশ সবার সঙ্গে উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক জোটে থাকতে চাইলেও কোনো সামরিক জোটে আগ্রহী নয় বলে একাধিকবার জানিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এসে সবার চাপ ঢাকার ওপর বেড়েছে। মার্কিন একজন উপমন্ত্রী সাম্প্রতিককালে ঢাকা সফরে এসে ইন্দো-প্যাসিফিক জোটে যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরে সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে তাদের আগ্রহের কথা আবার জানান। একই সময়ে জাপানের পররাষ্ট্র সচিব দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে তাদের আগ্রহের কথা জানান।

তবে কেরির সফরকে বাংলাদের জন্য গর্বের বলে মনে করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘উনি না আসলেও পারতেন। কিন্তু উনি প্রধানমন্ত্রীকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। এতে আমরা খুবই গর্ব ফিল করছি। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন জলবায়ু ইস্যুকে বড়ই গুরুত্ব দিচ্ছে।

‘বাইডেন শপথ নিয়েই জন কেরিকে তার জলবায়ু উপদেষ্টা নিয়োগ করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্যারিস চুক্তি নিয়ে গভীরভাবে কাজ করেছেন। বলতে গেলে তার চেষ্টাতেই ২০১৫ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে জলবায়ু চুক্তি (প্যারিস এগ্রিমেন্ট) হয়েছিল।’

যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে আগে একাধিকবার কথা হয়েছে জানিয়ে মোমেন বলেন, ‘বাইডেন শপথের পরই কেরি আমাকে ফোন কল করেছিল। সেই সময় থেকেই তারা আমাদের সঙ্গে জলবায়ু ইস্যু নিয়ে কাজ করতে চায় বলে জানান।

‘এরপরও তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমার আমেরিকা সফরেও তার সঙ্গে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা আমাদের সঙ্গে কাজ করতে বড়ই উদগ্রীব।’

কেরির সফরের সময় বাংলাদেশ প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেবে বলে জানান মোমেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বৈশ্বিক উষ্ণতা দেড় ডিগ্রিতে নামিয়ে আনার বিষয়ে জোর দেব। একইসঙ্গে প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী উন্নত ও শিল্পন্নোত দেশগুলো জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে যে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের জন্য চাপ দেব।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রটোকলের আশা ছিল, পাইনি: পরীমনি

প্রটোকলের আশা ছিল, পাইনি: পরীমনি

ডিবি কার্যালয়ের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ক্যামেরাবন্দি হন পরীমনি। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমি অপেক্ষা করছিলাম যে, কেউ আমাকে প্রোটোকল দিয়ে নেয় কিনা। আসলে কেউ আসে নাই। সো আমারই যেতে হচ্ছে। কারণ আমার তো যাইতে হবে। কথা বলতে হবে তাদের সাথে।’

আলোচিত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনি মঙ্গলবার নিজ বাসা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে যাওয়ার পথে পুলিশি প্রটোকল পাওয়ার আশা করেছিলেন। তবে সেটা না পেয়ে শেষপর্যন্ত নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়েই বনানী থেকে রওনা হন মিন্টো রোডের উদ্দেশে।

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলায় প্রধান অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হওয়ার পরদিন পরীমনিকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। ডিবির কর্মকর্তারা জানান, মামলার তদন্তের জন্য পরীমনির বক্তব্য দরকার। আর সে জন্যই ডাকা হয় পরীমনিকে।

এতে সাড়া দিয়ে বেলা সোয়া ৩টার দিকে নিজের বাসা থেকে একটি সাদ রংয়ের প্রাইভেট কারে বেরিয়ে যান পরীমনি। এ সময় তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি অপেক্ষা করছিলাম যে, কেউ আমাকে প্রোটোকল দিয়ে নেয় কিনা। আসলে কেউ আসে নাই। সো আমারই যেতে হচ্ছে। কারণ আমার তো যাইতে হবে। কথা বলতে হবে তাদের সাথে।’

কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি শুরুতে বলেন, ‘ডিসি অফিস।’ পরে সংশোধন করে বলেন, ‘ডিবি অফিস।’

পরীমনিকে পুলিশের নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল না। তবে আমি আশা করছিলাম যে, আমি একটা প্রোটোকল পাব।’

তাহলে প্রোটোকল ছাড়াই যাচ্ছেন কেন- এমন প্রশ্নে পরীমনি বলেন, ‘আমার তো এখন সাংবাদিক ভায়েরা আছেন। আপনারা আছেন। তবে আমি কোনো প্রোটোকল চাইনি। আসলে মনে মনে আশা করছিলাম, কিন্তু মনে মনে চাইলে তো আর হয় না। আমি বলিনি তাদেরকে।

‘এখন তো আমার মনে হয় রাস্তায় হঠাৎ করে আমাকে কেউ আক্রমণ করবে না। আমি এখন নিরাপদ আমার মনে হয়। কারণ সবাই এখন জানে জিনিসটা।’

বাসা থেকে বের হওয়ার প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে পৌঁছান পরীমনি। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেরিয়ে তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পরীমনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমি আসলে মেন্টালি কতটা স্ট্রং হয়ে গেছি। সবাই এত সাপোর্ট দিয়েছেন…।’

এর আগে রোববার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেন পরীমনি। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এই বিচার কই চাইব আমি? কোথায় চাইব? কে করবে সঠিক বিচার? আমি খুঁজে পাইনি গত চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু বেনজীর আহমেদ আইজিপি স্যার! আমি কাউকে পাই না মা (প্রধানমন্ত্রী)।’

তবে ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে পুলিশের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ছিল পরীমনির কণ্ঠে।

আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরীমনি বলেন, ‘আমার একমাত্র ভরসা উনিই ছিলেন। আমি সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারতেছিলাম না বলেই এসব কথা। তিনি যখন জেনেছেন এই কথাটা, বেনজীর স্যার যখন জেনেছেন, তার কান অবধি গেছে, কান অবধি পৌঁছাতে পেরেছি, তখন তো আপনারা দেখলেন, কয়েক ঘণ্টা লাগছে মাত্র।

‘আমার তো মূল বিশ্বাসটা ওইটাই ছিল, তার কান অবধি পৌঁছালে সে একদম সেটা নিজের মতো করে দেখে নেবে।’

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রথম দিকে হতাশার কারণ জানতে চাইলে পরীমনি বলেন, ‘আমি ওই পর্যন্ত যেতে পারছিলাম না, এটা নিয়েই তো এতক্ষণ কথা বলছি।’

ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে পরীমনি বলেন, ‘এখানে এসে আমি আসলে মেন্টালি অনেক রিফ্রেশড। আমি যে কাজে ফিরব, এটা কেউ আমাকে কিন্তু বলেনি। আমার আশপাশে যারা ছিল তারা সবাই আমাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেছে কিন্তু আমার যে কাজে ফিরতে হবে, আমাকে এই শক্তিটা তারা (পুলিশ) জুগিয়েছেন এতক্ষণ ধরে।’

গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে কী বিষয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার কাজ নিয়ে কথা বলেছে, আমাকে নানা রকম গুড ভাইভ দেয়া হচ্ছে। আমার নরমাল লাইফে কীভাবে ফিরে যাব। আমি এতটা তাদের কাছে আশা করিনি। তারা এতটা বন্ধুসুলভ, একটা ম্যাজিকের মতো হয়ে গেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদেরও প্রশংসা করেন পরীমনি। বলেন, ‘এত তাড়াতাড়ি হারুন স্যার যেভাবে ম্যাজিকের মতো কয়েক ঘণ্টার মধ্যে…। ঘুমিয়ে মানুষ জাগে সকালে, সেইটাও আমি সুযোগটা পাইনি। মানে ঘুমানোরই আমি টাইম পাইনি। তার আগেই দেখলাম যে এত দ্রুত কাজগুলো (আসামিদের গ্রেপ্তার) হয়ে গেছে।’

শেয়ার করুন

ডিএসইর সমস্যাসংকুল অ্যাপে ফি নিয়ে ক্ষোভ

ডিএসইর সমস্যাসংকুল অ্যাপে ফি নিয়ে ক্ষোভ

গত বছরও ডিএসই অ্যাপ ব্যবহারে ফি নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তখন কথা ছিল, তারা মাসে নেবে ১৫০ টাকা করে। কিন্তু অ্যাপের দুর্বলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা আপত্তি তোলার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কথা বলে ডিএসইর সঙ্গে। আর তখন ফি নেয়ার বিষয়টি থেমে যায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বিনিয়োগকারীরা ব্রোকারেজ হাউজের প্রতিনিধিদের সহযোগিতা ছাড়া নিজে নিজেই অ্যাপ ব্যবহার করে শেয়ার কেনাবেচার আদেশ দিতে পারলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে।

অ্যাপটির নানা সমস্যার কারণে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ দুঃখও প্রকাশ করেছে একাধিকবার, ত্রুটি দূর করার আশ্বাসও এসেছে বহুবার। কিন্তু সেগুলোর সমাধান না করেই অ্যাপ ব্যবহারে মাসিক ফি নেয়ার ঘোষণা আসার পর বিনিয়োগকারীরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।

তারা প্রশ্ন তুলছেন, যে অ্যাপ হ্যাং করে, সেটিতে কেনা বেচার আদেশ দেয়ার পর তা কার্যকর হয়েছে কি না, তা দেখতে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হয়, সেটির দুর্বলতা দূর না করে টাকা নেয়ার ঘোষণার কী যুক্তি।

ডিএসই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাসে ১০০ টাকা করে ফি নেবে তারা, এই হিসাবে বছরে দিতে হবে এক হাজার দুইশ টাকা। অথচ ব্রোকারেজ হাউজগুলো বছরে ৪৫০ টাকা করে নেয়, তারা প্রতিনিধির মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচার অর্ডার নেয়ার পাশাপাশি ফোনেও অর্ডার নিয়ে থাকে।

গত বছরও ডিএসই অ্যাপ ব্যবহারে ফি নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তখন কথা ছিল তারা মাসে নেবে ১৫০ টাকা করে। কিন্তু অ্যাপের দুর্বলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা আপত্তি তোলার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কথা বলে ডিএসইর সঙ্গে। আর তখন ফি নেয়ার বিষয়টি থেমে যায়।

তবে দ্বিতীয়বারের মতো সোমবার ডিএসইর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়, যাতে ফি নেয়ার বিষয়টি জানানো হয়।

এরপর থেকে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক পেজে শত শত বিনিয়োগকারী এ নিয়ে তাদের আপত্তির কথা বলে আসছেন।

পাপলু হোসেন নামে একজন বিনিয়োগকারী বলেছেন, অ্যাপ কার্যকর হলে ফি দিতে আমাদের আপত্তি থাকত না। কিন্তু তারা তো মানসম্পন্ন সেবা দিতে পারছে না। তাহলে ফি নেবে কেন?

তিনি নিউজবাংলাকে এই অ্যাপের চারটি দুর্বলনার কথা জানিয়েছেন।

০১. এই অ্যাপটি বেশি অর্ডারের চাপ নিতে পারে না। অর্ডার দিলে লোডিং মুডে থাকে অনেকক্ষণ। বোঝা যায় না অর্ডার কার্যকর হয়েছে কি না। অথচ পুঁজিবাজারে এই সামান্য সময়ও গুরুত্বপূর্ণ।

০২. অ্যাপে অর্ডার সংশোধন বা মডিফাই করা যায় না। কোনো শেয়ারের দাম কমে যেতে থাকলে বা বেড়ে যেতে থাকলে আগের অর্ডার ডিলিট করে নতুন অর্ডার দিতে হয়। অথচ ব্রোকারেজ হাউজে তাৎক্ষণিকভাবে অর্ডার সংশোধনের সুযোগ আছে।

০৩. অ্যাপে ড্রিপ নেই। কোনো বিনিয়োগকারী যদি এক লাখ শেয়ার কিনতে চান, কিন্তু দেখাতে চান ৫০০০, তাহলে তিনি তা পারবেন না। অথচ ব্রোকারেজ হাউজে তিনি ভাগ ভাগ করে অর্ডার দিতে পারেন। একে বলে ড্রিপ। কিন্তু অ্যাপে সেটা সম্ভব নয়।

০৪. অ্যাপ হ্যাং করে বারবার। লগ আউট হয়ে যায় নিজে থেকেই। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কিনতে বা বিক্রি করতে হয়রানির মুখে পড়তে হয়।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা

জানতে চাইলে ডিএসই পরিচালক রকিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অ্যাপটি পরিচালনার জন্য ডিএসইকে অনেক খরচ বহন করতে হয়। আর এ থেকে ডিএসইর কোনো আয় নেই। ফি যেটা ধরা হয়েছে সেটিও নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দিতে হবে। অনেকে ব্রোকার হাউজ, বিনিয়োগকারী অ্যাপ নিয়েছে কিন্তু ব্যবহার করে না, তাদের ব্যয়ও বহন করতে হয়। তাই আমার কথা হচ্ছে, যাদের প্রয়োজন তারাই ব্যবহার করুক। তাদের ফি দিতে সমস্যা নেই।’

তবে অ্যাপের দুর্বলতার বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

মোবাইল অ্যাপ নিয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, ‘ডিএসই মোবাইল অ্যাপ সেবা এতদিন ফ্রি দিয়েছে। সেটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছিল। এখন যদি ফি বেশি হয় তাহলে তা কমানোর সুযোগ। বাড়তি টাকা ফেরত দেয়ারও ব্যবস্থা আছে। আর যদি আবারও ফ্রি দেয়া যায় তাহলে তাই হবে। এটি নিয়ে খুব বেশি জটিলতা দেখছি না।’

বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছে নিউজবাংলা। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে যেহেতু এটি করা হয়েছে, এখন যদি বিনিয়োগকারীরা এটি থেকে সঠিক তথ্য পেতে ব্যহৃত হয়, সেটি দেখা হবে। আর ফি বিষয়টি নিয়েও না হয় আমি কথা বলব।’

শেয়ার করুন

‘গার্ড অফ অনার’ বিষয়ে চূড়ান্ত হলে দেখবে হাইকোর্ট

‘গার্ড অফ অনার’ বিষয়ে চূড়ান্ত হলে দেখবে হাইকোর্ট

রিটকারীর উদ্দেশে আদালত বলে, বিষয়টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ মাত্র। এমন সুপারিশ গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে তখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেয়া হবে। তাই সে পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেয়ার সময় সরকারের নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিকল্প চাওয়া সংসদীয় কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে বিষয়টি হাইকোর্ট দেখবে বলে জানিয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ কথা বলে।

রিটকারীর উদ্দেশে আদালত বলে, বিষয়টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ মাত্র। এমন সুপারিশ গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে তখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেয়া হবে। তাই সে পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।

পরে আদালত চার সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবির আদেশ দেয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ফাওজিয়া করিম। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম।

পরে ফাওজিয়া করিম ফিরোজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টি প্রথমে মৌখিকভাবে আদালতের নজরে আনি। কিন্তু আদালত লিখিত আবেদন আকারে যেতে বলেন। পরে এ বিষয়ে রিট দায়ের করা করি।’

মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ল’ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এফএলএডি) এর আইন ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম রিটটি দায়ের করেন।

রিটে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে বিবাদী করা হয়।

রিট আবেদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ কেন বৈষম্যমূলক, বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়।

মৃত্যুবরণকারী (শহীদ) বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদানে নারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বিকল্প চেয়ে সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। কমিটি এক্ষেত্রে যেসব জায়গায় নারী ইউএনও রয়েছেন, সেখানে পুরুষ কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদান করার পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদান দিনের বেলায় আয়োজন করার সুপারিশ করা হয়।

গত ১৩ জুন সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এরপরই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আপত্তিতে ক্ষুব্ধ নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে ধর্মের বিষয়টিকে সামনে আনা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

ক্ষমতায় থাকতে হাজারও গাছ কাটেন জিয়া, দাবি তথ্যমন্ত্রীর

ক্ষমতায় থাকতে হাজারও গাছ কাটেন জিয়া, দাবি তথ্যমন্ত্রীর

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গাছ লাগান তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে কেউ একজন বলেছিলেন, গাছের ফাঁক থেকে আপনাকে গুলি করতে পারে। এ কারণে ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করতে ঢাকার সব গাছ কেটে ফেললেন তিনি।’

ক্ষমতায় টিকে থাকতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজধানী ঢাকার কয়েক হাজার গাছ ধ্বংস করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে কেউ একজন বলেছিলেন, গাছের ফাঁক থেকে আপনাকে গুলি করতে পারে। এ কারণে ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করতে ঢাকার সব গাছ কেটে ফেললেন তিনি।’

‘আবার আমরা দেখলাম, হেফাজতের আন্দোলনের সময় বিএনপি-জামায়াত মিলে ঢাকা শহরের সব গাছ কেটে ফেলেছে। পরিবেশ-প্রকৃতি নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের বেশির ভাগকে তখন চুপ থাকতে দেখেছি, যেটি অনভিপ্রেত।’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকতে দেশে একটি অদ্ভূত ধরনের তন্ত্র চালু করেছিলেন, সেটা হচ্ছে কারফিউতন্ত্র।’

‘যাদের বয়স পঞ্চাশের ওপরে তাদের মনে থাকবে, জিয়াউর রহমানের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম শহরে বছরের পর বছর রাতের বেলা কারফিউ ছিল। তিনি ঢাকা শহরের রাস্তার দুই ধারের গাছপালা সব কেটে ফেলেছিলেন।’

প্রতিবছর বর্ষাকালের শুরুতে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী বিভিন্ন সংগঠন। এর অংশ হিসেবে দলের বন ও পরিবেশ উপকমিটি চার মাসের চারা রোপণ ও পরিচর্যা কর্মসূচি শুরু করে।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতার সময় দেশে বনভূমির পরিমাণ ৮ শতাংশে নেমে এসেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত সাড়ে ১২ বছরে বৃক্ষ আচ্ছাদিত জমির পরিমাণ অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে বনভূমির পরিমাণও ১২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।’

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃক্ষরোপণ-বৃক্ষসৃজনকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করেছেন। আমরা একটি করে বনজ, ভেষজ ও ঔষধি তিন ধরনের গাছ লাগিয়ে এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করব।’

এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সমালোচনা করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গুরুজনকে সম্মান করার শিক্ষা আমার পরিবার এবং আমার নেত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন, সে জন্য বয়সে জ্যেষ্ঠ খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান রেখে বলছি, তার ডাকনাম পুতুল, এই জন্যই হয়তো পুতুল কথাটি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবে মাথায় ঘুরপাক খায়।’

অনুষ্ঠানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা কালীমন্দিরসংলগ্ন অংশে ফলদ, বনজ ও ঔষধি তিন প্রকারের একটি করে বৃক্ষের চারা রোপণ করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।

শেয়ার করুন

তিন আসনে উপনির্বাচন: মনোনয়নপত্র জমা ১৪ প্রার্থীর

তিন আসনে উপনির্বাচন: মনোনয়নপত্র জমা ১৪ প্রার্থীর

শূন্য হওয়া তিন আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার। এদিন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আটজন এবং স্বতন্ত্র ছয় প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।

বিভিন্ন সময়ে শূন্য হওয়া ঢাকা-১৪, সিলেট-৩ ও কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মোট ১৪ জন।

এসব আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার। এদিন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আটজন এবং স্বতন্ত্র ছয় প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে জানানো হয়, শূন্য তিন আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ ১৪ জন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশ কংগ্রেস, বিএনএফ- এই পাঁচ দলের আটজন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ছয়জন মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এদিকে উপনির্বাচনসহ আপাতত কোনো নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দেবে না বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

তিন আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন যারা-

ঢাকা-১৪

এই আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ছয়জন।

তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আগা খান মিন্টু, জাতীয় পার্টির মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, বিএনএফের কামরুল ইসলাম। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মনিরুজ্জামান ও রুহুল আমীন।

সিলেট-৩

এই আসনেও প্রার্থী হয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান, জাতীয় পার্টির মো. আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ফাহমিদা হোসেন, শফি আহমেদ চৌধুরী ও শেখ জাহিদুর রহমান মাসুম।

কুমিল্লা-৫

এই আসনের জন্য দুজন প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল হাসেম খান ও জাতীয় পার্টির মো. জসিম উদ্দিন।

গত ২ জুন শূন্য হওয়া এসব সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।

তফসিল অনুযায়ী, আসন তিনটিতে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৫ জুন, মনোয়নপত্র বাছাই ১৭ জুন ও প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৩ জুন। ২৪ জুন প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর ভোট হবে আগামী ২৮ জুলাই।

শেয়ার করুন

এবার জকিগঞ্জে মিলবে গ্যাস!

এবার জকিগঞ্জে মিলবে গ্যাস!

জকিগঞ্জে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে অনুসন্ধান চালাচ্ছে বাপেক্স। এতে আশাবাদী হওয়ার মতো অনেক কিছুই মিলছে। সবগুলো পরীক্ষা সফল হলে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়া হবে। সে ক্ষেত্রে এটি হবে জকিগঞ্জ উপজেলার প্রথম ও দেশের ২৮তম গ্যাসক্ষেত্র।

সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জে একটি গ্যাসক্ষেত্র পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে সেখানে গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

জকিগঞ্জের পশ্চিম আনন্দপুর গ্রামে অনুসন্ধান চালায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। এ অনুসন্ধানে প্রথম দফার পরীক্ষায় গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আরও কয়েক দফা পরীক্ষা চালিয়ে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বাপেক্স কর্মকর্তারা।

সব পরীক্ষা সফল হলে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়া হবে। সে ক্ষেত্রে এটি হবে জকিগঞ্জ উপজেলার প্রথম ও দেশের ২৮তম গ্যাসক্ষেত্র।

১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে প্রথম গ্যাসের সন্ধান মেলে। এরপর আবিষ্কৃত হয়েছে আরও বেশ কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্র। দেশের গ্যাসের চাহিদার একটি বড় অংশের জোগানদাতা উত্তর-পূর্বের এই জনপদ।

হরিপুর, কৈলাশটিলা, রশিদুপর, বিয়ানীবাজার ও ছাতক গ্যাসক্ষেত্র মিলিয়ে সিলেট গ্যাসফিল্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্যাসকূপই রয়েছে ২৯টি। এ ছাড়া সিলেট ও হবিগঞ্জের একাধিক ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান শেভরন। সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা আর মৌলভীবাজারের মাগুরছড়ায় উত্তোলনকালে আগুনে ধ্বংসও হয় দুটি গ্যাসক্ষেত্র।

জকিগঞ্জে নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনা সম্পর্কে সিলেট গ্যাসফিল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে আমাদের ধারণা। এই ধারণা থেকে অনেক জায়গায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। সিলেটের জকিগঞ্জে বাপেক্স অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এই অনুসন্ধানে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এখনও তারা আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।’

এদিকে, বাপেক্সের অনুসন্ধানে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়ায় মঙ্গলবার সকালে উপজেলা শহরের অদূরে পশ্চিম আনন্দপুর গ্রামের অনুসন্ধান কূপে ড্রিল স্টিম টেস্ট (ডিএসটি) ‘সৌভাগ্য শিখা’ প্রজ্বালন করা হয়।

বাপেক্স কর্মকর্তারা জানান, জকিগঞ্জের পাশের বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় একাধিক গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। জকিগঞ্জেও দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। এই প্রথম আশাবাদি হওয়ার মতো উপকরণ পাওয়া গেছে।

সিলেট গ্যাসফিল্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন এই গ্যাসক্ষেত্রের প্রকল্প পরিচালক কবির আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জকিগঞ্জে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে অনুসন্ধান চালাচ্ছে বাপেক্স। অনুসন্ধানে আশাবাদী হওয়ার মতো অনেক কিছুই মিলছে। তবে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাবে না।’

বাপেক্স কর্মকর্তারা বলছেন, কূপটির অভ্যন্তরে চাপ রয়েছে ৬ হাজার পিএসআই (প্রতি বর্গইঞ্চি) আর ফ্লোটিং চাপ রয়েছে ১৩ হাজারের বেশি। কূপটিতে মোট চারটি স্তরে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাপেক্সের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথম দফা পরীক্ষায় গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এখন আরও তিন দফা পরীক্ষা চালানো হবে। এরপর গ্যাসের উপস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তখন নিশ্চিতভাবে বলা যাবে এই কূপে গ্যাস আছে কি না।’

বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মঞ্জুরুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ভালো কিছু আশা করছি। তবে এখনও এখানে পর্যবেক্ষণ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় অনুসন্ধান কূপে পকেট থাকতে পারে। তাই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চূড়ান্তভাবে সফল হলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।’

বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা জকিগঞ্জে নতুন গ্যাসের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছি। আগামীকাল সকালে এই পরীক্ষার চূড়ান্ত সময় ২৪ ঘণ্টা পার হবে। তখন নিশ্চিত করা হবে। বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।’

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ২৭টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এসব গ্যাসক্ষেত্রে প্রমাণিত মজুতের পরিমাণ ২১ দশমিক ৪ টিসিএফ, আরও ৬ টিসিএফ রয়েছে সম্ভাব্য মজুত। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৮ টিসিএফ উত্তোলন করা হয়েছে। সে হিসাবে প্রমাণিত মজুত অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৩ টিসিএফ।

শেয়ার করুন

দাম নির্ধারণের এখতিয়ার নেই বিইআরসির: লোয়াব

দাম নির্ধারণের এখতিয়ার নেই বিইআরসির: লোয়াব

মঙ্গলবার রাজধানীর রুপসী বাংলা হোটেলে এলপিজি অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বিইআরসির পেট্রিলিয়াম প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণে কোনো বিধিমালাই নেই। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, আইন ও হাইকোর্টের আদেশ বিবেচনায় নিয়ে গণশুনানির মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণের আদেশ দিয়েছে কমিশন। প্রয়োজনে আবার গণশুনানির ব্যবস্থা করা হবে। সর্বজন স্বীকৃত ফর্মুলার ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।  

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণের কোন এখতিয়ার নেই বলে দাবি করেছে এলপিজি অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)।

মঙ্গলবার রাজধানীর রুপসী বাংলা হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করে।

সংবাদ সম্মেলনে লোয়াবের সভাপতি আজম জে চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন তাড়াহুড়া করে একটি মূল্যহার নির্ধারণ করেছে। দাম নির্ধারণে জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের যে ধরনের যোগ্যতা, দক্ষতা থাকা দরকার তা তাদের নেই।

‘পেট্রিলিয়াম প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণে তাদের কোনো বিধিমালাই নেই। তাহলে তারা কীভাবে দাম নির্ধারণ করে। যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে তা একপেশে। তারা এই শিল্পকে ধ্বংস করতে চায়। তাদের এ সিদ্ধান্তের কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এলপিজির সংকট তৈরি হচ্ছে। তারা যে দাম নির্ধারণ করেছে সেটি বাজারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।’

তবে তার এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, আইন ও হাইকোর্টের আদেশ বিবেচনায় নিয়ে গণশুনানির মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণের আদেশ দিয়েছে কমিশন। প্রয়োজনে আবার গণশুনানির ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সর্বজন স্বীকৃত ফর্মুলার ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৬ সালে ভোক্তা অধিকার সমিতির করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) তাড়াহুড়া করে একটি মূল্যহার ঘোষণা করে। মামলার সময় প্রতিটি ১২ কেজি রিলিফ সিলিন্ডারের দাম বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ব্যাপক বিনিয়োগের ফলে এলপি গ্যাস পরিস্থিতির বেশ উন্নতি ঘটে। বাজারে সরবরাহ ও সেবা বৃদ্ধি পায় এবং এর মূল্য অনেক কমে যায়। মূল্য যখন

অনেক কমে যায় তখন মামলাটির শুনানী শুরু হয়।

‘গত ১২ এপ্রিল বিইআরসি যে মূল্যহার ঘোষণা করেছে তাতে খরচ ও মুনাফার প্রকৃত হিসেব প্রতিফলিত হয়নি এবং ভ্যালু চেইনের প্রতিটি স্তরে চরম ভুল বোঝাবুঝি ও অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ঘোষিত খুচরা মূল্যহার (এমআরপি) চালু হওয়ার পর থেকে উৎপাদনকারী অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলার সবাই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ বিইআরসি ঘোষিত মূল্যহার প্রকৃত উৎপাদন ব্যয়ের চেয়েও কম এবং ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলারদের যে ব্যয় ধরা হয়েছে তা সরকারি এলপি গ্যাসের তুলনায় অনেক কম।’

লোয়াবের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন এলপি গ্যাসের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৫ সালে তা দ্বিগুণ হতে পারে। দেশে সরবরাহ করা এলপি গ্যাসের ৯৮ শতাংশেরও বেশি আমদানি করা। বেসরকারি খাতের ৫৬টি কোম্পানি এখন পর্যন্ত লাইসেন্স পেয়েছে। এর মধ্যে ২০টি কোম্পানি আমদানি ও ২৮টি কোম্পানি বিপণন করছে। ওই ২০টি কোম্পানির মোট বিনিয়োগ প্রায় ৩০০ কোটি ডলার (আড়াই হাজার কোটি টাকা)।

বেসরকারি কোম্পানিগুলো প্রায় এক লাখ টন মজুতের সক্ষমতা গড়ে তুলেছে। নৌপথের পাশাপাশি সড়ক পথেও নিরাপদে সরবরাহ ও বিপণনের ব্যবস্থা এবং ২০টি স্যাটেলাইট প্লান্ট গড়ে তুলেছে।

শেয়ার করুন