মাদানীর নামে গাজীপুরে মামলা

রফিকুল ইসলাম মাদানি। ফাইল ছবি

মাদানীর নামে গাজীপুরে মামলা

গাজীপুরের গাছা থানায় মামলাটি করা হয় বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলাম।

শিশুবক্তা হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানীর নামে গাজীপুরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে র‌্যাব।

জেলার গাছা থানায় মামলাটি করা হয় বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলাম।

রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে রফিকুল ইসলাম মাদানীকে নেত্রকোণা থেকে আটক করে র‌্যাব।

নেত্রকোণার পূর্বধলার লেডির কান্দার নিজ বাড়ি থেকে মাদানিকে আটক করা হয় বলে বুধবার দুপুরে নিউজবাংলাকে জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ইমরান খান।

জিজ্ঞাসাবাদ

মাদানিকে নেত্রকোণা থেকে আটক করার পর হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব।

পরে মাদানীকে উদ্ধৃত করে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘কী আর বলমু স্যার, জোশের কারণে অনেক সময় হুঁশ থাকে না। ওয়াজের মঞ্চে উঠলে শরীরে একটা জোশ চলে আসে। তখন আর নিজেরে ধরে রাখা যায় না। অনেক কিছু না বুঝেই বলে ফেলছি। আর এমন হবে না। এবারের মতো আমারে মাফ করে দেন।’

নিউজবাংলাকে টেলিফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলাম।

খর্বকায় ও শিশুতোষ কণ্ঠের অধিকারী হওয়ায় রফিকুল ইসলাম মাদানীকে অনেকে ‘শিশুবক্তা’ বলে মনে করলেও তিনি নিজে দাবি করেছেন, তিনি মোটেও শিশু নন। তার বয়স ২৬ বছর।

এর আগে ২৫ মার্চ মতিঝিল এলাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরবিরোধী মিছিল ও ভাঙচুরের সময় রফিকুল ইসলাম মাদানীকে আটক করেছিল রমনা থানার পুলিশ। সেখানেও তিনি মৌখিক আশ্বাস দিয়েছিলেন, আর এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন না।

সে কথা না রাখার কারণ জানতে চাইলে মাদানী র‌্যাবকে বলেন, পুলিশের আটকের বিষয়টি তিনি ‘সিরিয়াসলি’ নেননি। ভেবেছিলেন, জনপ্রিয়তার কারণে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে না।

মাদানি নেত্রকোণার একটি মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে ঢাকার বারিধারার জামিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করলেও কোরআন চর্চার চেয়ে তার জনপ্রিয়তার দিকে ঝোঁক বেশি বলে মনে করেন জিজ্ঞাসাবাদের দায়িত্বে থাকা র‌্যাবের একাধিক কর্মকর্তা।

তারা নিউজবাংলাকে বলেন, ওয়াজে তার আলোচনার মূল বিষয় থাকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যু। যেকোনো ওয়াজে তার উদ্দেশ্যই থাকে উপস্থিত মুসল্লিদের উত্তেজিত করে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করা।

জিজ্ঞাসাবাদে রফিকুল ইসলাম মাদানীর একটি কথিত বিয়ের বিষয়েও জানতে পারে র‌্যাব। খায়রুল ইসলাম জানান, ২০১৯ সালের শেষের দিকে তিনি তার এক আত্মীয়কে গোপনে কলেমা পড়ে বিয়ে করেন। তাদের এই বিয়ের কোনো কাবিননামা করা হয়নি। দুই পরিবারের কেউই এই বিয়ের কথা জানতেন না।

র‌্যাবের ভাষ্য, মামুনুল হকের রিসোর্ট-কাণ্ডের পর ভীত হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে রফিকুল ইসলাম মাদানী তার মা ও পরিবারের স্বজনদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ফুলপুরের রহিমগঞ্জে ওই নারীর বাড়িতে যান। কিন্তু মাদানীকে পছন্দ না হওয়ায় ওই নারীর বাবা বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

আরও পড়ুন:
‘ওয়াজের মঞ্চে জোশের কারণে হুঁশ ছিল না’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মৃত দুই তিমি যাবে সাফারি পার্কে

মৃত দুই তিমি যাবে সাফারি পার্কে

কক্সবাজারের হিমছড়ি পয়েন্টে মৃত তিমি। ছবি: নিউজবাংলা

সমুদ্র দূষণের কারণে তিমির মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করছেন পরিবেশবাদীরা। এক থেকে দুসপ্তাহ আগে তিমির মৃত্যু হলে তা ভেসে আসে সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টে। প্রাপ্তবয়স্ক এসব তিমি ব্রাইডস হোয়েল জাতীয় বলে জানা গেছে।

সাগরে ভেসে আসা দুটি মৃত তিমির কঙ্কাল কক্সবাজারের চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে সংরক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে তিমি দুটিকে সাফারি পার্কে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ন কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিমি দুটিকে আগে সমুদ্র থেকে কিছু দূরে সরিয়ে রাখা হবে। পরে তিমি দুটির কঙ্কাল সাফারি পার্কে সংরক্ষণ করা হবে। মৃত তিমি ব্রাইডস হোয়েল জাতীয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেলেও এর মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। মৃত তিমির একটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৩ ফুট প্রস্থ ১৪ ফুট। এটি ১৫ দিন আগে মারা যেতে পারে বলে ধারণা কারা হচ্ছে। শনিবার হিমছড়ি পয়েন্টে পাওয়া দ্বিতীয় তিমির মৃতদেহ পরিদর্শন করে তিনি এসব কথা জানান।

শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টে পাওয়া যায় একটি তিমির মৃতদেহ। তিমিটির শরীরে বেশকিছু জখমের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বনবিভাগ ও মৎস্য প্রণী সম্পদ অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ময়নাতদন্তের জন্য আলামত সংগ্রহ করে।

শুক্রবার বেলা ১২ টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টের কাছাকাছি স্থানে আরেকটি মৃত তিমি পাওয়া যায়। দুটি তিমি ‘ব্রাইডস হোয়েল’ জাতের বলে শনাক্ত করেছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের গবেষক মোহাম্মদ আশরাফুল হক।

তিনি জানান, তিমিটি প্রাপ্তবয়স্ক। এটির বসবাস বঙ্গোপসাগরে। এটি নীল তিমিরই একটি জাত। তিমিটির দৈর্ঘ্য ৪৪ ফুট এবং প্রস্থ ২৬ ফুট। যার ওজন আনুমানিক ২০ টন। অন্তত এক সপ্তাহ আগে এই তিমিটি মারা গেছে বলে ধারণা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা এর কক্সবাজারের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল বলেন, ‘সমুদ্র দূষণের কারণে বা প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য খাওয়ার ফলে তিমির মৃত্যু হতে পারে। এসব হজম করতে না পেরে পরিপাকতন্ত্র বিকল হয়ে তিমির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমুদ্র দূষণের কারণে সামুদ্রিক জীব‌বৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন-আল পারভেজ বলেন, ‘তিমির মৃতদেহ যে অবস্থায় পাওয়া গেছে তাতে মনে হচ্ছে সাগরের তলদেশে কোথাও কয়েকদিন আগে তিমির মৃত্যু হয়েছে। আমরা দ্রুত সমাহিত করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

২০১৮ সালে মে মাসে কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছিল বড় আকারের একটি মৃত ব্রাইডস হোয়েল। এরপর গত বছর জানুয়ারিতে সেন্টমার্টিন উপকূল ঘেঁষে ভাসতে দেখা যায় আরেকটি মৃত ব্রাইডস হোয়েল। জুন মাসের মাঝামাঝি টেকনাফে শাহপরীরদ্বীপে পাওয়া যায় আরেক তিমির মৃতদেহ। সর্বশেষ গত দুদিনে হিমছড়ি পয়েন্টে ভেসে এসেছে দুটি মৃত তিমি।

আরও পড়ুন:
‘ওয়াজের মঞ্চে জোশের কারণে হুঁশ ছিল না’

শেয়ার করুন

হেফাজতের তাণ্ডবে এবার পটিয়ায় গ্রেপ্তার ৫

হেফাজতের তাণ্ডবে এবার পটিয়ায় গ্রেপ্তার ৫

চট্টগ্রামের পটিয়া থানায় ২৬ মার্চ হামলা চালায় হেফাজত সমর্থকরা। ছবি: নিউজবাংলা

‘২৬ মার্চ বিকেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডবে হতাহতের ঘটনার রেশ ধরে পটিয়া থানায় হামলা চালায় হেফাজতে ইসলামের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৩০ মার্চ অজ্ঞাত ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করে। সেই মামলায় এদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় চট্টগ্রামের পটিয়ায় করা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের কয়েকজন কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

এরা হেফাজত সংশ্লিষ্ট হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্টভাবে সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শনিবার রাত আটটায় তাদেরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম মজুমদার।

যারা ধরা পড়েছেন তারা হলেন মুফতি আরিফুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, ইমতিয়াজ হোসেন, বেলাল উদ্দিন ও খোরশেদ আলম।

ওসি রেজাউল জানান, ২৬ মার্চ পটিয়া থানায় হামলা মামলায় গত রাতে পটিয়া থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে তোলা হলে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ওই হামলার ঘটনায় করা মামলায় হেফাজতের কারও নাম ছিল না। তবে কেবল পটিয়া নয়, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ- কোথাও নাশকতার ঘটনায় করা মামলায় হেফাজতের কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। যদিও পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ জানিয়েছেন, তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, ধরা হবে তাদেরই।

পটিয়া পুলিশ জানাচ্ছে, প্রাথমিক তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েই এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজের পর বিক্ষোভের পর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় হেফাজতে ইসলাম ও সমমনা ইসলামী দলের নেতা-কর্মীরা। ফাইল ছবি

গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের দিন ঢাকায় বায়তুল মোকাররম এলাকায় সরকার সমর্থকদের সঙ্গে কওমিপন্থিদের সংঘর্ষ হয়। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে তাণ্ডব চালায় হেফাজত কর্মীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়, আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে আগুন দেয়া হয়। হামলা হয় পুলিশ সুপারের কার্যালয়েও।

হাটহাজারীতে ডাকবাংলো, এসিল্যান্ড অফিসের পাশাপাশি হামলা চলে স্থানীয় থানায়।

পটিয়া থানার ওসি বলেন, ‘২৬ মার্চ বিকেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডবে হতাহতের ঘটনার রেশ ধরে পটিয়া থানায় হামলা চালায় হেফাজতে ইসলামের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৩০ মার্চ অজ্ঞাত ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করে। সেই মামলায় এদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজত সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার না করলেও গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়্যাল রিসোর্টে হেফাজত নেতা মামুনুল হক সঙ্গীনি নিয়ে অবরুদ্ধ হওয়ার পর তাণ্ডবের পর পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।

নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হাটহাজারীতে হেফাজতের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে ব্যাপক আন্দোলনের হুমকি দেয়া হেফাজত মামুনুল কাণ্ডের পর অবশ্য চুপসে গেছে।

আরও পড়ুন:
‘ওয়াজের মঞ্চে জোশের কারণে হুঁশ ছিল না’

শেয়ার করুন

কঠোর লকডাউন: আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের ইঙ্গিত

কঠোর লকডাউন: আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের ইঙ্গিত

১২ ও ১৩ এপ্রিল যে দুদিন লকডাউন নেই, সে সময় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু থাকবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে রোববার।

১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা এলে ঢাকা থেকে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান। তবে প্রথম দফা লকডাউন শেষে এবং পরের দফার কঠোর লকডাউনের মাঝখানের দুটি দিন অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলবে কি না, তা সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে বলে জানান তিনি।

গত ৪ এপ্রিল লকডাউন নিয়ে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর পরের দিন থেকে শুরু হয় সাত দিনের লকডাউন। লকডাউন শেষ হচ্ছে রোববার।

৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে আন্তঃজেলা বাস, ট্রেন ও লঞ্চ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় অভ্যন্তরীণ রুটের সব ফ্লাইট। তবে কয়েকটি রুটে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকে।

গণপরিবহন বন্ধ রেখে কল-কারখানা চালু রাখার সরকারি সিদ্ধান্তে ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ। অফিসমুখী মানুষ গাড়ি না পেয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ করে। এমন বাস্তবতায় লকডাউনের তৃতীয় দিন অর্থাৎ ৭ এপ্রিল থেকে খুলে দেয়া হয় শহরের ভেতরের গণপরিবহন।

এই লকডাউনের মধ্যেই শুক্রবার ১৪ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্তের কথা জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি জানান, এ সময় বন্ধ থাকবে সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি কমপ্রেসড লকডাউন হয় ১৪ তারিখ থেকে, তাহলে আমাদের হয়তো আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও বন্ধ করে দিতে হতে পারে।’

করোনার সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ রুখতে সরকারের ঘোষণা করা সাত দিনের লকডাউন শেষ হচ্ছে রোববার। এরপর থেকে আভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলবে কি না, তা ঠিক করতে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে বেবিচক। নিয়ন্ত্রক এ সংস্থার চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান বলেন, ‘সরকার আন্তঃজেলা গণপরিবহন সেবা খুলে দিলে চালু হবে আভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটও।’

৪ থেকে ১১ এপ্রিল ও ১৪ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে যে দুদিন (১২ ও ১৩ এপ্রিল) লকডাউন নেই, সে সময় আভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা এখনো আসেনি।

বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান বলেন, ‘এটা কাল (রোববার) জানা যাবে, যে কী হবে। লকডাউন উইথড্র হবে নাকি এক্সটেন্ড করবে এটা কাল জানিয়ে দেবে।

‘যদি আন্তঃজেলা উইথড্র হয়ে যায়, তাহলে আমরা খুলব। তাহলে হয়তো ১৪ তারিখ থেকে আবার বন্ধ হয়ে যাবে। এটা ডিপেন্ড করছে সরকারের কী সিদ্ধান্ত আসছে, সেটার ওপর। যদি আন্তঃজেলা পরিবহন না চলে, তাহলে ডমেস্টিক ফ্লাইট চলার কোনো প্রশ্নই আসে না।’

গত বছর মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে বন্ধ করে দেয়া হয় সব ধরনের ফ্লাইট। পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে জুলাই থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চালু করা হয়। এরপর ক্রমান্বয়ে চালু হয় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো।

দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে গত ৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের সব দেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় বেবিচক। এটি ছাড়াও বিশ্বের আরও ১২টি দেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলো ছাড়া বাংলাদেশে ফ্লাইট বন্ধ আর্জেন্টিনা, বাহরাইন, ব্রাজিল, চিলি, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, পেরু, কাতার, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক ও উরুগুয়ের।

আরও পড়ুন:
‘ওয়াজের মঞ্চে জোশের কারণে হুঁশ ছিল না’

শেয়ার করুন

জেএমবির ‘ভারপ্রাপ্ত আমির’ গ্রেপ্তার

জেএমবির ‘ভারপ্রাপ্ত আমির’ গ্রেপ্তার

জেএমবির ‘ভারপ্রাপ্ত আমির’ রেজাউল হক।

রেজাউল বর্তমান জেএমবির একমাত্র শুরা সদস্য। দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে তিনি সদস্য ও অর্থ সংগ্রহ করেন। নিষিদ্ধ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের কারাবন্দি সদস্যদের পরিবারে আর্থিক সহায়তা দেন তিনি। অনলাইনে সদস্যদের জন্য নিয়মিত উগ্রবাদ বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন।

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ‘ভারপ্রাপ্ত আমির’ রেজাউল হক ওরফে রেজাকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে পুলিশ। তিনি তানভীর মাহমুদ শিহাব ওরফে আহনাফ নামেও পরিচিত।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট শনিবার বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের বোম্ব ডিজপোজাল টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ রহমত উল্যাহ চৌধুরী নিউজবাংলাকে জানান, গ্রেপ্তার রেজাউল হক বর্তমান জেএমবির শীর্ষ নেতা। তিনি ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চলছিল। ভারপ্রাপ্ত আমিরের পাশাপাশি সংগঠনটির দাওয়া ও বায়তুল মাল বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন রেজাউল।

পুলিশের দাবি, জেএমবির শীর্ষ নেতা পলাতক সালাহউদ্দীন সালেহীনের নির্দেশে বাংলাদেশে জেএমবির কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন রেজাউল। ২০০৫ সালে সারা দেশে ঘটে যাওয়া সিরিজ বোমা হামলায় তার সংশ্লিষ্টতা থাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পরে ২০১৭ সালে তিনি জামিন পেয়ে ফের জেএমবির কার্যক্রমে যুক্ত হন। তার বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি মামলা তদন্তাধীন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে জিআরপি ও বিমানবন্দর থানার দুটি মামলা আদালতে বিচারাধীন।

সিটিটিসি জানায়, জেএমবির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোয় ভারপ্রাপ্ত আমির রেজাউল জেএমবির একমাত্র শুরা সদস্য। দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে তিনি সদস্য সংগ্রহের জন্য দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সারা দেশের জেএমবির সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে সংগঠনের ফান্ড (বায়তুল মাল) সমৃদ্ধ করছিলেন।

এ ছাড়া তিনি সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের কারাবন্দি সদস্যদের পরিবারের কাছে বার্ষিক আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। সারা দেশে থাকা জেএমবির সদস্যদের কাছে অনলাইনে নিয়মিত উগ্রবাদ বিষয়ে বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ রয়েছে রেজাউলের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন:
‘ওয়াজের মঞ্চে জোশের কারণে হুঁশ ছিল না’

শেয়ার করুন

জীবন বাঁচাতে ছাত্রলীগের ‘জয় বাংলা অক্সিজেন’

জীবন বাঁচাতে ছাত্রলীগের ‘জয় বাংলা অক্সিজেন’

ফোন করলেই অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

গত বছরের ২৫ জুন ‘জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা’ নিয়ে আসেন ছাত্রলীগের তিন নেতা। তখন থেকে এভাবেই রাতদিন করোনায় আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেন সেবা দিয়ে আসছেন তারা। ফোন করলেই বাসায় পৌঁছে দেয়া হয় সিলিন্ডার। বিনিময়ে কোনো টাকা নেয়া হয় না। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, ময়মনসিংহে এই সেবা চলছে৷

বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ূন কবীরের প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট। অক্সিজেন লাগবে। করোনার এই সময়ে অক্সিজেন পাওয়া কঠিন।

তবে মুক্তিযোদ্ধার ছেলে শুনতে পারেন এক বিশেষ উদ্যোগ ‘জয় বাংলা অক্সিজেন সেবার’ কথা। সেখানে ফোন দিতেই ঘরেই পৌঁছে গেল সিলিন্ডার।

ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় অক্সিজেন আসার পর অবাক এই মুক্তিযোদ্ধা।

সিলিন্ডার নিয়ে যাওয়া স্বেচ্ছাসেবক তানভীর আলম চৌধুরীকে সামনে রেখে ছেলের কাছে এই মুক্তিযোদ্ধা প্রশ্ন রাখেন, দাম হিসেবে কত টাকা দিতে হবে।

তবে তানভীর বলেন, ‘আংকেল, ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে।’

মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবীর তাকে বলেন, ‘বাবা, পাকিস্তান আমলে আমিও ছাত্রলীগ করেছি। শেষ বয়সে এসে আমার প্রাণের সংগঠনের কাছ থেকে এমন কার্যক্রম আর উপকার পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’

করোনাকালে অক্সিজেন লাগতে পারে যখন তখন। জয় বাংলা অক্সিজেন সেবার স্বেচ্ছাসেবকদের তাই আয়েশের সুযোগ নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার শারমীন জাহান বুধবার রাতে নিজের ফেসবুকে লিখেন, ‘জরুরি একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন। কোনো সহৃদয় ব্যক্তির সহযোগিতা চাচ্ছি।’

রাত দুইটায় তার বাসাতেও পৌঁছে দেয়া হয় বিনামূল্যের অক্সিজেন সিলিন্ডার।

জীবন বাঁচাতে ছাত্রলীগের ‘জয় বাংলা অক্সিজেন’

গত বছরের ২৫ জুন এই সেবা কার্যক্রম শুরু করেন ছাত্রলীগের তিন নেতা। তখন থেকে এভাবেই রাতদিন করোনায় আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেন সেবা দিয়ে আসছেন তারা। বর্তমানে ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, ময়মনসিংহে এই সেবা চলছে৷

গত বছরের জুন থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত পাঁচ হাজার রোগীকে বিনামূল্যে এই অক্সিজেন সরবরাহ করেছেন ছাত্রলীগের নেতারা।

কেবল অক্সিজেনের জন্য কারও কাছে টাকা নেন না তা নয়, কেউ আর্থিক সহায়তা করতে চাইলেও কারও কাছ থেকে নগদে অর্থ নেয়া হয় না। সহায়তা করতে আগ্রহীদেরকে অক্সিজেন কিনে দিতে বলেন ছাত্রলীগ নেতারা।

তিন ছাত্রলীগ নেতা হলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, উপ-বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক সবুর খান কলিন্স এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সবুজ।

তারা ‘অক্সিজেন ফেরিওয়ালা’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন।

কেন শুরু এই উদ্যোগ?

সাদ বিন কাদের তাদের এই সেবা কার্যক্রম শুরুর প্রেক্ষাপট জানান নিউজবাংলাকে।

তিনি বলেন, ‘গত বছর মার্চ মাসে করোনা শুরু হয়। জুন, জুলাইয়ে প্রকট আকার ধারণ করলে বাজার থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার উধাও হয়ে যায়। পত্রিকার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, এক শ্রেণির মানুষ অক্সিজেনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিভিন্ন হাসপাতালে ২০ মিনিটের অক্সিজেন সেবার দাম ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে নিচ্ছে। তখনই মূলত আমরা এই সেবা কার্যক্রম শুরু করার চিন্তা করি।’

জীবন বাঁচাতে ছাত্রলীগের ‘জয় বাংলা অক্সিজেন’

তিনি বলেন, ‘প্রথম দিন ১২টা অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে ঢাকাতে আমাদের সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে আমাদের ৯০টি সিলিন্ডার আছে। সারা বাংলাদেশে ১৪০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। এদের প্রত্যেককে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছি কীভাবে অক্সিজেন চালাতে হয়।

এই সেবা কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন বলে জানান সাদ।

শুরুর ১২টি অক্সিজেন সিলিন্ডারের ছয়টি নিজেদের টাকা দিয়ে কেনেন তিন ছাত্রলীগ নেতা। বাকি ছয়টি এক ‘বড় ভাই’ উপহার দেন।

শুরুর দিকে প্রত্যেকটি সিলিন্ডারের দাম ছিল ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা৷ পরে এগুলোর দাম কমে।

সাদ বলেন, ‘সংকট বাড়লে রিফিল সেন্টারগুলোও সংকট তৈরি করে৷ ফলে প্রতিটি সিলিন্ডার রিফিল করতে ৩০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্তও আমাদের খরচ হয়েছে।’

যেভাবে জোগাড় হয় অর্থ

এই টাকাটা কীভাবে যোগাড় হয় -জানতে চাইলে ছাত্রলীগের এই নেতা বলেন, ‘আমরা কারও কাছ থেকে সরাসরি টাকা নেয়া নিরুৎসাহিত করি। তবে কেউ রিফিল কস্ট (খরচ) দিতে চাইলে আমরা তাদের রিফিল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেই। তারা সেখানেই মূল্যটা পরিশোধ করেন।

‘মাঝে মাঝে রোগীরা সিলিন্ডারগুলো ফেরত পাঠানোর সময় রিফিল করে দেয়। এছাড়া আমাদের এ কাজে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এগিয়ে আসে। এসব আমরা প্রতিমাসে ফেইসবুক লাইভে হিসাব দেই। তারপরও কোনো সময় কোথাও আটকে গেলে ছাত্রলীগ থেকে আমাদের সর্বোচ্চ সাহায্য করা হয়।’

জীবন বাঁচাতে ছাত্রলীগের ‘জয় বাংলা অক্সিজেন’

সাদ বিন কাদের বলেন, ‘শুরুর দিকে আমাদের জন্য কাজটি সহজ ছিল না। আমরা যখন শুরু করি তখন মানুষের মাঝে বিরাজ করছিল করোনার মারাত্মক ভীতি। কোনো বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে গেলে আশপাশের মানুষের হাজারো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতো। এমনও হয়েছে অক্সিজেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে, ছেলে সামনে আসেনি। তার বাবাকে আমরাই অক্সিজেন সেট করে দিয়ে এসেছি।’

বেশি ফোন রাতে, তাই ঘুম শুরু সকালে

অক্সিজেন সরবরাহ শুরুর পর থেকে ঘুমের রুটিন পাল্টে গেছে স্বেচ্ছাসেবকদের।

সাদ বলেন, ‘রাতের একটা নির্দিষ্ট সময়ে যখন অক্সিজেনের দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যায় তখনই মূলত আমাদের কাছে বেশি ফোন আসে। আর সেজন্য আমরা অনেকে সকাল হলে তারপর ঘুমাতে যাই, আর বাকিরা তখন সজাগ থাকে৷ এভাবে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা আমাদের এই সেবা চলছে।’

জীবন বাঁচাতে ছাত্রলীগের ‘জয় বাংলা অক্সিজেন’

গভীর রাতে অক্সিজেন সেবা পেয়ে ফেসবুকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ঢাকার তানভীর রহমান। তিনি লেখেন, ‘গত রাতে কিছুক্ষণের জন্য হঠাৎ করেই মনে হচ্ছিল মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছি। হঠাৎ প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অক্সিজেন নেয়াটা জরুরি হয়ে পরে। ফোন দেই জয়বাংলা অক্সিজেন সার্ভিসের সাদ বিন কাদের ভাইকে।

‘কিন্তু কোনো সিলিন্ডার ফাঁকা ছিল না, অনেকক্ষণ চেষ্টার পর আমার বাসায় সিলিন্ডারটি পৌঁছে দেয়া হয়। অক্সিজেন নেয়ার পর আমি এখন স্বাভাবিক।’

কখনও অক্সিজেন সংকট হয়েছে কি না জানতে চাইলে সাদ বলেন, ‘শুরুর পর থেকে এ বছরের এপ্রিল মাসের আগ পর্যন্ত শুধু এক রাতের জন্য আমাদের অক্সিজেন সংকটে পড়েছে। তবে পরের দিন আমরা সেটি রিকাভার করে ফেলি।

‘তবে এই এপ্রিল থেকে আমাদের প্রচুর সংকট৷ যেভাবে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে সে অনুপাতে আমরা পেরে উঠছি না। তবে খুব জরুরি হলে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা অক্সিজেন ভাড়া নিয়ে রোগীকে সেবা দেই। আর আমরাই টাকাটা পরিশোধ করি।’

করোনারা দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেড়েছে চাহিদা

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা যখন বেড়ে চলেছে, তখন অক্সিজেনের চাহিদাও তুঙ্গে।

সাদ বলেন, ‘শুক্রবার আমরা ১৭ জনকে সেবা দিয়েছি। আজ ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত ১১টা কল পেয়েছি। কিন্তু আমরা দিতে পারছি না। কারণ, আমাদের সব সিলিন্ডার বিভিন্ন রোগীদের কাছে৷ তাদের কাছ থেকে নিয়ে আমরা বাকিদের কাছে পৌঁছাব।

‘এমনও হয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন শেষ হয়ে গিয়েছে, আমরা সেখানেও আমাদের সেবা পৌঁছিয়ে দিয়েছি৷’

সেবার নামে জয় বাংলা কেন?

অক্সিজেন সেবার এই নাম রাখার কারণ জানতে চাইলে সাদ বলেন, “মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘জয় বাংলা’ সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে৷ ‘জয় বাংলা’ আমাদের শক্তি৷ ‘জয় বাংলা’ মানে মুক্তি। এই সংকট থেকে মুক্তির জন্য আমরা ‘জয় বাংলা’ নামটা ব্যবহার করেছি।”

আরও পড়ুন:
‘ওয়াজের মঞ্চে জোশের কারণে হুঁশ ছিল না’

শেয়ার করুন

‘হেফাজতের সঙ্গে আপস আমাদের মস্তবড় ভুল’

‘হেফাজতের সঙ্গে আপস আমাদের মস্তবড় ভুল’

মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে সারা দেশে সহিংস হয়ে ওঠেছে হেফাজতে ইসলাম। ছবিটি ২৮ মার্চ হেফাজতের ডাকা হরতালের দিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ এলাকা থেকে তোলা

‘ধর্ম ব্যবসায়ীরা আজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আর এজন্য আমরা অনেকখানি দায়ী। তাদের সঙ্গে আপস করা ছিল আমাদের মস্তবড় ভুল। এটার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এর ফলে দেশ জাতি আজ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।’

হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আপস করা হয়েছিল উল্লেখ করে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেছেন, এটা তাদের মস্তবড় ভুল ছিল।

নারায়ণগঞ্জের রিসোর্টকাণ্ডে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

এই গোষ্ঠীকে ‘ধর্ম ব্যবসায়ী’ আখ্যা দিয়ে বিচারপতি মানিক বলেন, তাদের শক্তি কখনও বেশি নয়। কঠোর ব্যবস্থা নিলে তারা ‘লেজ গুটিয়ে পালাবে।’

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ৫০তম বার্ষিকীতে শনিবার এক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

১৯৭১-এর ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগর থেকে বাংলাদেশের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিরা ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করেন। এই ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতে ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়।

নির্মূল কমিটি গত ১৭ বছর ধরে এই দিনটি পালন করছে।

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ওয়েবিনারে অতিথিরা

কমিটির আইন সহায়ক কমিটির সভাপতি বিচারপতি মানিক বলেন, ‘ধর্ম ব্যবসায়ীরা আজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আর এজন্য আমরা অনেকখানি দায়ী।

‘তাদের সঙ্গে আপস করা ছিল আমাদের মস্তবড় ভুল। এটার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এর ফলে দেশ জাতি আজ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালের ৫ মে এই অপশক্তিকে আমরা নির্মূল করে দিতে পারতাম। তারা সেদিন শিয়ালের মতো লেজ গুটিয়ে পালিয়েছিল। তাদের শক্তি আমাদের চেয়ে বেশি না।’

মামুনুলকে কেন গ্রেপ্তার করা হবে না- এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘তার মতো এত বড় ভণ্ড আর ধর্মব্যবসায়ী মাদ্রাসার শিশুদের কী শেখাবে। এরা কালো টাকা জমিয়েছে। এদের টাকার উৎস খতিয়ে দেখা হোক।’

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে আজও প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। এই ব্যর্থতা আমাদের স্বীকার করতে হবে। আমরা যদি স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করি, সেটাও আমাদের ভুল হবে। আমরা বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারিনি সাংগঠনিকভাবে। এই ব্যর্থতার দায় আমাদের স্বীকার করে নিয়ে আমাদের ভাবা উচিত, আমাদের কোথায় কোথায় ভুল ছিল। কেন আমরা পারিনি। সেই জায়গাটাতে আমরা অনেক সময় কথা বলি না।’

ওয়েবিনারে প্রধান বক্তা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের রচয়িতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, ‘যারা ধর্মের নামে হত্যা, হামলা, আইনশৃঙ্খলাকে ভেঙে ফেলে, এরা ঘৃণার পাত্রে পরিণত হবে। আমাদের রাষ্ট্রের দর্শন ও সামাজিক ন্যায়বিচার এইগুলোকে আমাদের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ্যবইয়ে সংযুক্ত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর যে আদর্শের জায়গা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্থাপন করা হয়েছে, সেটা আমাদের ঠিক রাখতে হবে। আমাদের মৌলিক অধিকারগুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের অর্থনৈতিক সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘আজকে সরকারকে হেফাজতের অনুমতি নিয়ে কাজ করতে হয়। তারা দেখিয়ে দেয় তাদের শক্তি। সরকার তার বিরুদ্ধে কিছু করতে পারে না। ব্যাপারটা খুব মজার।’

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন না করার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘বহু বছর ধরে আমরা এটা পালন করে আসছি। কিন্তু রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন তারা কিন্তু এটা পালন করছেন না। নির্মূল কমিটিকে রাষ্ট্রের সব দায়িত্ব নিতে হলেও সমস্যা হয়ে যায়। সব কিছুর দায়িত্ব আমাদের না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যারা ছিলেন যারা এখন মন্ত্রী হয়েছেন, নীতি নির্ধারক হয়েছেন। তারাও কিন্তু ১৭ বছর আমাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারাও কিন্তু মন্ত্রণালয় চালাচ্ছেন।’

ইতিহাস বিকৃতি শুধু যে বিএনপি করে তা নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরাও কমবেশি সবাই করি। এইসব প্রশ্নে নীরব থাকার অর্থ এটাই বোঝায়।’

আয়োজক সংগঠন নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানপন্থীরা বোধগম্য কারণেই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র মানে না। তারা যখনই সুযোগ পায় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরুদ্ধাচরণ করে।’

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, ’৭১-এর গণহত্যা তথা মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক সত্য অস্বীকারকারীদের শাস্তির জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ‘হলোকস্ট ডিনায়াল অ্যাক্ট’-এর মতো আইন করার দাবিও জানান তিনি।

শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি আরমা দত্ত, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা তুরিন আফরোজ, শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর ছেলে আসিফ মুনীর তন্ময়ও এ সময় বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
‘ওয়াজের মঞ্চে জোশের কারণে হুঁশ ছিল না’

শেয়ার করুন

বারবার রুলেও রায় কার্যকর না হওয়া দুঃখজনক: প্রধান বিচারপতি

বারবার রুলেও রায় কার্যকর না হওয়া দুঃখজনক: প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। ফাইল ছবি

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘যেখানে নির্দেশ পালনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে, সেখানে কেন আমাদের আবার তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল ইস্যু করতে হবে। কারণ রাষ্ট্রের সবার দায়িত্ব হলো সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করা। আমরা কন্টেম্পট (অবমাননার রুল) করে করে হয়রান।’

সংবিধান অনুযায়ী আদালতের নির্দেশনা পালনে দেশের নির্বাহী বিভাগসহ সবার বাধ্যবাধকতা থাকলেও রায় কার্যকর না হওয়া দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

রায় কার্যকর করতে বারবার কেন আদালত অবমাননার রুল জারি করতে হবে, সে প্রশ্নও করেছেন তিনি।

দুই বিচারপতির লেখা দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শনিবার এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।

অনুষ্ঠানে ইতিহাসবিদ ড. মুনতাসীর মামুন প্রশ্ন করেন, ‘হাইকোর্ট গত এক দশকে বেশ কিছু যুগান্তকারী রায় দিয়েছে। কিন্তু সে রায়গুলো কার্যকর কতটা হচ্ছে?’

ওই সময় রায় সঠিকভাবে কার্যকর হয় কি না, তা দেখভালের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠনের কথা বলেন তিনি।

তার এ বক্তব্যের রেশ টেনে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘প্রফেসর মুনতাসীর মামুন একটা কথা বলেছেন, আমাদের রায় কার্যকর হচ্ছে না। এ জন্য একটা সেল করা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদে বলা আছে দেশের নির্বাহী বিভাগসহ সবাই সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে কাজ করবে।

‘যেখানে নির্দেশ পালনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে, সেখানে কেন আমাদের আবার তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল ইস্যু করতে হবে। কারণ রাষ্ট্রের সবার দায়িত্ব হলো সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করা। আমরা কন্টেম্পট (অবমাননার রুল) করে করে হয়রান। কন্টেম্পট করেও প্রপ্রারলি (যথাযথভাবে) রায় কার্যকর যেভাবে হওয়ার কথা, সেভাবে হচ্ছে না। এটা এখন দুঃখের বিষয়।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি তো আসলে সরকারি না। সম্পত্তির মালিক হলো জনগণ। সরকার হলো সংরক্ষণকারী। জনগণের পক্ষে সরকার সম্পত্তি সংরক্ষণ করে। এই সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ করা কিন্তু সকলের দায়িত্ব।

‘আমি বলতে চাই, আমাদের যেসব রায় হচ্ছে আশা করি নির্বাহী বিভাগের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় প্রত্যেকটা রায় বাস্তবায়িত হবে।’

‘বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের কথা সামনে আনতে হবে’

বক্তব্যে ভিন্ন একটি বিষয়ের অবতারণা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সেদিন বঙ্গভবনে মালদ্বীপের ফার্স্ট লেডি আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন যারা বঙ্গবন্ধুর ঘাতক তাদের কী বিচার হয়নি? তখন আমি তাকে বলেছি, এদের বিচার হয়েছে। সাধারণ আদালতেই এদের বিচার হয়েছে। এদের বিচারের রায় হাইকোর্ট হয়ে আপিল বিভাগ পর্যন্ত বলবৎ থেকেছে। পরে খুনিদের ফাঁসি হয়েছে। যারা পলাতক রয়েছে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে তাদের ধরে আনার।

‘আমার কথা হলো, এই যে আমাদের যে একটা বিশাল অর্জন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পেরেছি। এই কথা তো যারা বিদেশি মেহমান এসেছে, তাদেরকে বলতে পারিনি এবং আমাদের নতুন প্রজন্ম যারা এসেছে তাদের কাছে এসব বিষয় তুলে ধরতে পারিনি। সুতরাং আমি বলব, এসব বিষয়ে আরও বেশি নজর দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যদি জাগ্রত করতে হয় তাহলে কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের কথা আনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোনো খুনিদের দেশ নয়; এটা বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশ। বঙ্গবন্ধুর এই সোনার দেশ অবশ্যই আমরা রক্ষা করব। বিচার বিভাগ এ বিষয়ে তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে আপনাদের কথা দিতে পারি।’

আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান রচিত ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ একজন যুদ্ধ শিশুর গল্প এবং অন্যান্য’ এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ‘বঙ্গবন্ধু সংবিধান আইন আদালত ও অন্যান্য’ নামে বই দুটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বই দুটি প্রকাশ করে মাওলা ব্রাদার্স।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী নাট্যজন আসাদুজ্জামান নূর, অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, একাত্তর টিভির প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবুসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
‘ওয়াজের মঞ্চে জোশের কারণে হুঁশ ছিল না’

শেয়ার করুন