‘মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ডে’ চাঞ্চল্য হেফাজতে

‘মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ডে’ চাঞ্চল্য হেফাজতে

হেফাজত নেতারা মনে করছেন, এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। নেতৃবৃন্দ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মামুনুলকে নেতৃত্ব থেকে এখনই অপসারণের উদ্যোগ নেয়া না হলেও উত্তেজনা থিতিয়ে এলে পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে বলে সংগঠনের নেতারা নিজেদের মধ্যে আলাপ করেছেন।    

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের রিসোর্ট-কাণ্ডে জটিলতায় পড়েছে সংগঠনটি। একের পর এক ফোনালাপ ফাঁস ও কেলেঙ্কারির তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করায় ধর্মভিত্তিক সংগঠনটির ভেতরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও হেফাজতে ইসলামের অনেক নেতা পরস্পরের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা সংগঠনের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তবে হেফাজত নেতারা প্রকাশ্যে বলছেন, এখনই মামুনুল হককে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। আর হেফাজতে ইসলামের মতো ধর্মীয় সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা কঠিন বিষয়।

Mamunul-pic

মামুনুল হকের ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে সোমবার হেফাজতের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করে তার কাছে বিষয়টি জানতে চান। তবে সংগঠনের শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে এ বিষয়ে এখনই কোনো পদক্ষেপ নিতে চান না সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। বরং তারা প্রকাশ্যে মামুনুলের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কৌশল নিয়েছেন।

হেফাজত নেতা মামুনুল হক গত শনিবার এক নারীকে নিয়ে সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাকে ঘেরাও করে। মামুনুল ওই নারীকে নিজের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি করলেও এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যে ব্যাপক গরমিল পাওয়া যায়।

এ নিয়ে সন্দেহ হলেও কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। পরে বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হলে প্রতীয়মান হয়, মামুনুল বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। এরই মধ্যে ফেসবুকে ভিডিওবার্তা দিয়েছেন রিসোর্টে তার সঙ্গীনি জান্নাত আরা ঝর্ণার বড় ছেলে আব্দুর রহমান জামি। তিনি তার মা-বাবার সংসার ভাঙার জন্য মামুনুলকে দায়ী করে বক্তব্য দেন।

জামি বলেন, ‘এখানে আমি আশা করব, আমি বাংলাদেশের মানুষের কাছে আশা করব, এর যেন সঠিক বিচার হয়, আপনারা কারও অন্ধ ভক্ত হয়েন না।’

তিনি বলেন, ‘এই লোকটা (মামুনুল) আলেম নামধারী একটা মুখোশধারী একটা জানোয়ার। এর মধ্যে কোনো মনুষ্যত্ব নাই।’

জামির ওই বক্তব্যের পর চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় হেফাজতে ইসলামে। হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সর্বশেষ কথোপকথনের অডিও ফাঁস হয়েছে। এতে এক নেতা অপরজনকে বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে মামুনুল হকের এমনটা করা উচিত হয়নি।

তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ড. আহমেদ আব্দুল কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রথম দিকের নিউজ দেখে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল যে এটা আসলেই বিয়ে কি না? পরে আমরা মিটিং করেছি। মিটিংয়ে জানা গিয়েছে, তিনি বিয়ে করেছেন। পরে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে বিয়ে হয়েছে ঠিক আছে, যদিও বিয়ের বিষয়ে সামাজিকতার কিছুটা ঘাটতি আছে। ওনার এদিকে না গেলেই ভালো হতো।’

মামুনুলের গোপনে দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি সংগঠনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি না এটার দরকার আছে।’

বিয়ে কেলেঙ্কারির কারণে সংগঠনে মামুনুলের নেতৃত্ব পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম একটি ধর্মীয় সংগঠন, কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। বিভিন্ন ব্যক্তি ও দলের লোকেরা এখানে যুক্ত আছে। কাজেই এখানে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া অনেক কঠিন।’

তবে হেফাজত নেতারা প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও রিসোর্ট-কাণ্ড নিয়ে সংগঠনে চাঞ্চল্য চাপা থাকছে না। কয়েকটি অডিওতে মামুনুল হকের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কথা বলতে শোনা গেছে হেফাজতের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে, সেখানে তারা এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এসব অডিওতে বলা হচ্ছে, মামুনুল হক শুধু হেফাজত নয়, আলেম সমাজের সুনাম নষ্ট করেছেন।

মুখরক্ষার কারণে এখনই মামুনুল হককে বহিষ্কারের পদক্ষেপ না নেয়া হলেও তার পদের ব্যাপারে অদূরভবিষ্যতে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে সংগঠনটির ভেতরে আলোচনা হচ্ছে। সংগঠনের ‘দুর্বলতা’ প্রকাশ পাবে মনে করে বিষয়টি এসব আলোচনা গোপন রাখার কৌশল নিয়েছেন সংগঠের নেতারা।

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আব্দুর রব ইউসূফী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই ঘটনায় (মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় বিয়ে) সংগঠনের মধ্যে কোনো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে বলে আমার জানা নেই।’

তিনি বলেন, ‘গত শনিবার রিসোর্টের ঘটনায় আমরা প্রমাণ পেয়েছি যে ওই নারী তার (মামুনুল) ওয়াইফ। আমরা নিশ্চিত হয়েছি বলেই তো বলেছি সে তার স্ত্রী। যেভাবে নিশ্চিত হওয়া দরকার সেভাবেই হইছি।’

এ বিষয়ে সংগঠন কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পদক্ষেপ নেয়া হলে তো জানতেই পারবেন।’

মামুনুলের তথ্যে গরমিল

গত শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে র‌য়্যাল রিসোর্ট নামে একটি আবাসিক অবকাশ যাপন কেন্দ্রে জান্নাত আরা ঝর্ণা নামে এক নারীকে নিয়ে সময় কাটাতে যান হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদের অবরুদ্ধ করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

মামুনুল ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করলেও সাংবাদিকদের প্রশ্ন ও পরে পুলিশের জেরায় তিনি যেসব তথ্য দেন, তাতে অনেক গরমিল পাওয়া যায়।

রিসোর্টের সঙ্গীর নাম, তার বাবার নাম ও বাড়ির ঠিকানা নিয়ে দুই ধরনের তথ্যের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুকে ফাঁস হওয়া বেশ কিছু ফোনালাপ হেফাজত নেতার বিয়ের দাবির সত্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।

ফোনালাপের একটিতে বোঝা যায়, ঘটনার পরপরই মামুনুল তার চার সন্তানের জননী স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, সেই নারী (ঝর্ণা) তার পরিচিত শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। ঘটনার কারণে চাপে পড়ে ওই নারীকে নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে তিনি বাধ্য হয়েছেন। এ নিয়ে যেন তার স্ত্রী ভুল না বোঝেন। পরে বাসায় এসে বুঝিয়ে বলবেন।

পরে আরেকটি কথোপকথন ফাঁস হয়, যা মামুনুলের সঙ্গে তার রিসোর্টের সঙ্গীনির মধ্যকার বলে প্রতীয়মান হয়। সেখানে ওই নারী জানান, তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার মায়ের একটি বন্ধ মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। আর অন্য একজন যখন তাকে কোথায় বিয়ে হয়েছে জিজ্ঞেস করেছেন, তখন তিনি বলেছেন, এটা জানেন না। মামুনুলের সঙ্গে কথা বলে নেবেন।

আরও একটি কথোপকথনে বোঝা যায়, মামুনুলের বোন কথা বলেছেন হেফাজত নেতার চার সন্তানের জননী স্ত্রীর সঙ্গে। তিনি তাকে বুঝিয়েছেন, কেউ যদি তাকে ফোন করে, তাহলে তিনি যেন বলেন, তিনি এই দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন এবং তার শাশুড়ি এই বিয়ের আয়োজন করেছেন।

এরই মধ্যে মামুনুলের রিসোর্টের সঙ্গীনির বড় ছেলে ফেসবুক লাইভে এসে মামুনুলের বিরুদ্ধে কথা বলেন। তিনি তার মায়ের সঙ্গে বাবার সংসার ভাঙার জন্য মামুনুলকে দায়ী করেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গ্যাস লাইট বিস্ফোরণে দগ্ধ ৫

গ্যাস লাইট বিস্ফোরণে দগ্ধ ৫

দগ্ধদের মধ্যে একজন। ছবি: নিউজবাংলা

‘শনিবার রাত ৮টার দিকে নগরের বাকলিয়ায় তাস খেলার সময় গ্যাস লাইট দিয়ে সিগারেটে আগুন ধরানোর চেষ্টা করছিলেন একজন। এ সময় গ্যাস লাইটটি বিস্ফোরিত হয়ে কক্ষে আগুন লেগে যায়। এতে দগ্ধ হন পাঁচজন।’

চট্টগ্রামে গ্যাস লাইট বিস্ফোরণে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন।

নগরের বাকলিয়া থানার ভড়াপুকুর পাড় এলাকায় শনিবার রাত ৮টার দিকে তাস খেলার সময় সিগারেটে আগুন ধরাতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন মধু সুদন দত্ত, যদু বিশ্বাস, পংকজ দে, কিশোর কুমার এবং প্রদীপ দাস।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক এএসআই শীলব্রত বড়ুয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শনিবার রাত ৮টার দিকে নগরের বাকলিয়া থানাধীন ভড়াপুকুর পাড় এলাকায় তাস খেলার সময় গ্যাস লাইট দিয়ে সিগারেটে আগুন ধরানোর চেষ্টা করছিলেন একজন। এ সময় গ্যাস লাইট বিস্ফোরিত হয়ে কক্ষে আগুন লেগে যায়। এতে দগ্ধ হন পাঁচজন।’

তিনি আরও জানান, ‘দুর্ঘটনার পর তাদের উদ্ধার করে সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাদের ৩৬ নম্বর বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে প্রদীপ দাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

শেয়ার করুন

দেশে ফিরে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে নতুন সিদ্ধান্ত

দেশে ফিরে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে নতুন সিদ্ধান্ত

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় সীমান্ত চেকপোস্ট। ছবি: নিউজবাংলা

দেশে আসার পর সীমান্ত এলাকায় কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা থাকলেও বহুজন পালিয়ে বাড়িতে আসার ঘটনা ঘটেছে। তবে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে আসা সবার পাসপোর্ট নিয়ে নেবে প্রশাসন। কোয়ারেন্টিন শেষে সিভিল সার্জনের ছাড়পত্রের পর তা ফেরত দেয়া হবে।

বিধিনিষেধের মধ্যে ভারত থেকে স্থল সীমান্ত দিয়ে দেশে এসে কোয়ারেন্টিনের শর্ত পূরণ না করে যাত্রীদের পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা প্রশাসন।

সিদ্ধান্ত হয়েছে, যারা দর্শনা সীমান্ত দিয়ে দেশে আসবেন, তাদের সবার পাসপোর্ট পুলিশ হেফাজতে থাকবে। কোয়ারেন্টিন শেষে সিভিল সার্জনের ছাড়পত্রের পর তা ফেরত দেয়া হবে।

রোববার থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে আসতে পারবেন ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা। তবে দেশে আসার পর তাদের করোনা পরীক্ষা করা হবে। আক্রান্ত শনাক্ত হলে রাখা হবে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে। তবে সবাইকেই সীমান্ত এলাকাতে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে।

শনিবার করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কিত চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে বিষয়টি জানায় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার।

তিনি জানান, কোয়ারেন্টিন সেন্টার হিসেবে প্রাথমিকভাবে নার্সিং ইনস্টিটিউট ও দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে নির্বাচন করা হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নির্ধারিত পরিবহনে আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন সেন্টারে যাত্রীদেরকে পৌঁছানো হবে। কোয়ারেন্টিনে অবস্থানকালীন সবাইকেই থাকা ও খাওয়ার খরচ বহন করতে হবে।

ভারতে ছড়িয়ে পড়া করোনার ধরন যেন দেশে ঢুকতে না পারে, সে জন্য গত ২৬ এপ্রিল থেকে সীমান্ত ১৪ দিনের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে আরও ১৪ দিন বাড়ানো হয় নিষেধাজ্ঞা। তবে এরই মধ্যে দেশে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে।

আর সীমান্ত দিয়ে দেশে আসার পর সীমান্ত এলাকায় কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা থাকলেও বহুজন পালিয়ে বাড়িতে আসার ঘটনা ঘটেছে। এই খবর পেয়ে ভোলায় এক শিক্ষকের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। আর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আসার পর একজনের করোনাও শনাক্ত হয়েছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে চুয়াডাঙ্গা প্রশাসন পাসপোর্ট আটকে রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি তদারকির জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীনকে প্রধান করে সাত সদস্যের মনিটরিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা) আবু রাসেল, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি আওলিয়ার রহমান, চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি প্রতিনিধি, জেলা গ্রাম প্রতিরক্ষা ও আনসার বাহিনীর প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরদার আল আমিন ও জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম মঈনুদ্দিন মুক্তা।

সভায় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, দেশে আসা মানুষদের জন্য যাতে সংক্রমণ ঝুঁকি তৈরি না হয় সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সবাইকে কোয়ারেন্টিনের আওতায় নিতে এরইমধ্যে অন্তত চারটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি চারটি হোটেল নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনের পর তাদের বাড়িতে অবস্থানের অনুমতি দেয়া হবে।

শেয়ার করুন

নদীর মুক্ত বাতাসে ‘ভিড়ে সমস্যা হবে না’

নদীর মুক্ত বাতাসে ‘ভিড়ে সমস্যা হবে না’

ঈদে কুড়িগ্রামের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। ছবি: নিউজবাংলা

‘বছরের একটা দিনে বন্ধুদের নিয়ে ছবি ও সেলফি তুলে ফেসবুক পোস্ট করেছি। সেই সঙ্গে ধরলা নদীতে ডিঙ্গি নৌকায় ঘুরেছি। সব মিলিয়ে করোনার প্রভাব আমাদের এবারের ঈদ-আনন্দটা বিলীন হয়নি। ধরলা পারের মুক্ত বাতাসে কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না।’

কুড়িগ্রাম ঈদের ছুটিতে দল বেঁধে মানুষ ভিড় জমাচ্ছে ঘুরে বেড়ানোর স্থানগুলোতে। বিশেষ করে ধরলার সেতু এলাকায় বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের অবস্থান দেখা যায়।

করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব আর মাস্ক পরার যে সাবধানতার কথা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন, তার কোনো বালাই নেই সেখানে।

স্বাস্থ্যবিধি মানাতে আর ভিড় সামলাতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।

কুড়িগ্রাম ছাড়াও লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও মানুষ নদীর দুই পার, বাঁধ এবং বালু চর এলাকায় ভিড় জমায়।

অনেকে সেতুর উপর, বাঁধ এবং ধরলা নদীর কাছাকাছি গিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে ছবি উঠানো আর সেলফি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেকে বন্ধু-স্বজনদের নিয়ে নৌভ্রমণে বের হয়।

পর্যটকরা ভ্যান, রিকশা, অটো, মোটরসাইকেল বা মাইক্রোবাস, যে যেভাবে পারে, সেভাবেই আসেন। এসব যানবাহনের চাপে ধরলা সেতু এবং ফুলবাড়ি উপজেলায় শেখ হাসিনা সেতুর উপরে দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হয়।

ধরলা পারে মানুষের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

মানুষের এমন মিলনকে ঘিরে নদীর পারে ফুচকা, চানাচুর, আইসক্রিম, চুরি-ফিতা ও বেলুনসহ নানা পণ্যের দোকান বসে। সেসব দোকানেও ক্রেতাদের ভিড় উপচেপড়া।

শাহবাজার এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুর নবী সরকার ঘুরতে এসে নিজেও ভিড় দেখে অবাক হয়েছেন।

ঘুরতে আসা বুলবুলি আকতার বলেন, শহরে কোনো পার্ক না থাকায় পরিবার নিয়ে এখানে এসেছেন।

শিল্পী সরকার বলেন, ‘এত সমাগমে স্বাস্থ্যবিধি মানা প্রায় অসম্ভব। তারপরও যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করছি।’

সবুজ বলেন, ‘বছরের একটা দিনে বন্ধুদের নিয়ে ছবি ও সেলফি তুলে ফেসবুক পোস্ট করেছি। সেই সঙ্গে ধরলা নদীতে ডিঙ্গি নৌকায় ঘুরেছি। সব মিলিয়ে করোনার প্রভাব আমাদের এবারের ঈদ-আনন্দটা বিলীন হয়নি। ধরলা পারের মুক্ত বাতাসে কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না।’

সেতুতে দায়িত্ব থাকা লালমনিরহাট সদর থানার উপপরিদর্শক কামাল হোসেন বলেন, ‘কোনোভাবেই দর্শনার্থীদের ঠেকানো যাচ্ছে না।’

কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাঁন মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি পালনে

আমরা মাইকিং অব্যাহত রেখেছি।’

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন দাস জানান, ‘ধরলা পারে দর্শনার্থীর ঢলের বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি নিজেই সেখান উপস্থিত হই। তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ জন্য সচেতনতামূলক প্রচার অব্যাহত রয়েছে।’

শেয়ার করুন

তলোয়ার নিয়ে সংসদে হামলার পরিকল্পনা: আদালতে জবানবন্দি

তলোয়ার নিয়ে সংসদে হামলার পরিকল্পনা: আদালতে জবানবন্দি

খোলা তলোয়ার নিয়ে সংসদে হামলা করে শহিদ হওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার আবু সাকিব ও তাকে উসকানি দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার আলী হাসান ওসামা।

‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব বলেছে, ফেইসবুকে একটি গ্রুপ খুলে সংসদ ভবনে হামলার জন্য তলোয়ার এবং কলেমা লেখা পতাকা নিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলে সে। পরে কাল সন্ধ্যায় সে সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে দেখে, কেউ নেই তার ডাকে সাড়া দিয়ে আসেনি। ওসামার কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সাকিব শহীদ হতে সংসদ ভবনে হামলার জন্য এসেছিলেন।’

জাতীয় সংসদ ভবনে কালো পতাকা ও খোলা তলোয়ার নিয়ে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার আলী হাসান ওসামা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

তার সঙ্গে গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য অপর আসামি আবু সাকিব ওরফে আল আমিনকে কারাগারে আটক রাখার আদেশও দিয়েছেন বিচারক।

রিমান্ড ফেরত দুই জঙ্গিকে এদিন আদালতে হাজির করা হয়।

আসামি আলী হাসান ওসামা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। একইসঙ্গে জবানবন্দি দিতে রাজি না হওয়া অপর আসামি আল আমিনকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

গত ১২ মে রিমান্ড শেষে আসামিদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান তাদেরকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠান।

এর আগে ৬ মে দুই আসামিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। সে সময় পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক পাঁচ দিন করে রিমান্ডে পাঠান।

গত ৫ মে সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থেকে আনসার আল ইসলামের সদস্য আবু সাকিবকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

সে সময় কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (ইভেস্টিগেশন) উপ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব বলেছে, ফেইসবুকে একটি গ্রুপ খুলে সংসদ ভবনে হামলার জন্য তলোয়ার এবং কলেমা লেখা পতাকা নিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলে সে। পরে কাল সন্ধ্যায় সে সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে দেখে, কেউ নেই তার ডাকে সাড়া দিয়ে আসেনি।’

সাকিব সিরাজগঞ্জের একটি কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র৷

পরে এই হামলার পরিকল্পনায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে আলী হাসান ওসামাকে রাজবাড়ী জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ওসামার কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সাকিব শহীদ হতে সংসদ ভবনে হামলার জন্য এসেছিলেন।

এ ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।

শেয়ার করুন

রাজধানীতে যুবলীগ নেতাকে গুলি

রাজধানীতে যুবলীগ নেতাকে গুলি

আহত সাইফুল ২ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) আক্তারুল ইসলাম বলেন, ‘কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, কারা করেছে তা এখনও জানা যায়নি। আমাদের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।’

খিলগাঁও ফ্লাইওভারের সংলগ্ন এলাকায় সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবলীগ নেতা গুলিতে আহত হয়েছেন।

তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের ২ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাকে কে গুলি করেছে, সেই বিষয়টি এখনও জানাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে অতীশ দীপঙ্কর সড়কে চায়না পার্ক রেস্টুরেন্টের পাশে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সাইফুলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) আক্তারুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, কারা করেছে তা এখনও জানা যায়নি। আমাদের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।’

ঘটনার সময় সাইফুল একাই ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে তার ভাষ্যের ওপরই নির্ভর করতে হবে। কিন্তু এখনও তার কাছ থেকে জানার মতো পরিস্থিতি হয়নি বলেও জানান আক্তারুল ইসলাম।

বলেন, ‘আহত ব্যক্তি স্থানীয় বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

শেয়ার করুন

কারাগারে মামুনুলের বিষণ্ন ঈদ

কারাগারে মামুনুলের বিষণ্ন ঈদ

হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক। ফাইল ছবি

বন্দিরা মানসিকভাবে যে পরিস্থিতিতে থাকেন, মামুনুলও তাদের মতোই সেলে বন্দি রয়েছেন। কখনও বিষন্ন, কখনও স্বাভাবিক দেখা গেছে: জেলার

হাইসিকিউরিটি কারাগারে বন্দি। করোনার কারণে স্বজনদেরও সাক্ষাতে মানা। যে অভিযোগে বন্দি, তার কারণে অন্য বন্দিরাও কাছে ঘেঁষতে চান না। এই পরিস্থিতিতে হেফাজতে ইসলামের দাপুটে নেতা মামুনুল হকের ঈদ কাটল বিষণ্নতায়।

ঈদের সময়ে বাইরে থেকে এবার খাবার আনতেও ছিল মানা। ফলে কারা কর্তৃপক্ষ যে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করেছে, তাতেই ভরসা করতে হয়েছে।

গত ১৮ এপ্রিল ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার এই নেতা এখন গাজীপুরের কাশিমপুরের হাই সিকিউরিটি কারাগারে আছেন।

এই কারাগারে বন্দি থাকেন দুর্ধর্ষ অপরাধী, আলোচিত আসামি বা যাদেরকে নিয়ে নিরাপত্তার দুশ্চিন্তায় থাকে কারা কর্তৃপক্ষ।

প্রায় আড়াই হাজার বন্দি রয়েছেন এই কারাগারে। এদের মধ্যে ফাঁসির আসামি প্রায় এক হাজার আর যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা পাঁচশর আশেপাশে।

সাম্প্রতিক নাশকতা ও ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের তাণ্ডবের মামলায় হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির আরও অন্তত ৪০ নেতা আছেন এখানে। ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যার আলোচিত মামলার আসামি সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনও এই কারাগারেই আছেন।

কারাগারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামুনুল কক্ষে একাই থাকেন। সেলের বাইরে কোনো কারা কর্মকর্তা বা কারারক্ষী দেখামাত্রই দোয়া দরুদ পাঠ শুরু করেন। কথা বলার জন্য ইশারা-ইঙ্গিত দেন। তবে অপ্রয়োজনে কেউই তার কাছে ঘেঁষেন না।

একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘মামুনুল হক সারাক্ষণই বিষণ্ন মনে বসে থাকেন। বাইরে থাকা স্বজনদের কারও সঙ্গে দেখা বা সাক্ষাতের সুযোগ নেই তার। তবে কারা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ফোনে তিনি কথা বলেছেন স্বজনদের সঙ্গে।’

তবে কোন স্বজনের সঙ্গে কী কথা বলেছেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না কারা কর্মকর্তারা।

জেলার দেবদুলাল কর্মকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের কারণে এমনিতেই স্বজনদের সঙ্গে বন্দিদের দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ রয়েছে। তবে ফোনে মামুনুল হক কারও সঙ্গে কথা বলেছেন কি না সে বিষয়টি জানা নেই।’

তিনি বলেন, ‘হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রত্যেকটি সেলে একজন করে বন্দি রাখা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থেই একটি সেলে একাধিক বন্দি রাখার নিয়ম নেই। কাজেই অন্যান্য আসামির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ নেই মামুনুলের।’

তার মানসিক অবস্থা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এই কারা কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘বন্দিরা মানসিকভাবে যে পরিস্থিতিতে সময় কাটায়, মামুনুলও তাদের মতোই সেলে বন্দি রয়েছেন। কখনও বিষণ্ন, কখনও স্বাভাবিক দেখা গেছে।’

গত ১১ মে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) থেকে মামুনুল হককে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

শেয়ার করুন

বৃষ্টিতে ভাসল ঈদ বিনোদন

বৃষ্টিতে ভাসল ঈদ বিনোদন

হাতিরঝিল থেকে ছবিটি তুলেছেন সাইফুল ইসলাম

হঠাৎ বৃষ্টিতে অস্বস্তিতে পড়ে রাজধানীবাসী। ঈদ বিনোদন উপলক্ষে অনেকে বের হতে পারেননি। সেজেগুজে যারা বের হয়েছিলেন তাদের অনেককে ফিরতে হয়েছে ভিজে।

ঈদের দিন রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়া পেলেও পরের দিনই বৃষ্টিতে ভিজল রাজধানীবাসী। সন্ধ্যাবেলার বৃষ্টিতে ভেসে গেছে তাদের ঈদ বিনোদনও।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আগেই জানানো হয়েছিল শনিবার বৃষ্টি হতে পারে রাজধানীতে। বিকেল বেলায় আকাশে মেঘ জমতে শুরু করে। সন্ধ্যা হতেই নামে বৃষ্টির ঢল। সঙ্গে ছিল হালকা বাতাস।

হঠাৎ এমন বৃষ্টিতে অস্বস্তিতে পড়ে রাজধানীবাসী। ঈদ বিনোদন উপলক্ষে অনেকে বের হতে পারেননি। সেজেগুজে যারা বের হয়েছিলেন তাদের অনেককে ফিরতে হয়েছে ভিজে।

রাজধানীর বাড্ডা, হাতিরঝিল, রামপুরা, গুলশান, পল্টন, মতিঝিল, মগবাজার, কারওয়ানবাজারসহ কমবেশি সবখানেই ঝুম বৃষ্টি হয়েছে।

রাজধানীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা বিনোদন প্রেমীরা বৃষ্টিতে পড়েন বিপাকে। আশপাশে দাঁড়ানোর কোনো জায়গা না থাকায় বৃষ্টিতেই ভিজতে হয় তাদের।

করোনার সব বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় ঢাকার ফাঁকা রাস্তাগুলোই হয়ে উঠেছে বিনোদন প্রেমীদের ভরসা স্থল। বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন নিয়ে সবাই ঘুরতে বের হন হাতিরঝিল, পূর্বাচল তিনশ ফিটসহ খোলামেলা জায়গাগুলোতে। কিন্তু বাদ সাধে বেরসিক বৃষ্টি। ঘুরতে বের হওয়াদের ফেলে দেয় দুর্ভোগে।

নাজমা বেগম নামে একজন গৃহিণী রামপুরা থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন হাতিরঝিলে। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কাল সারাদিন ঈদ নিয়ে ব্যস্ততা ছিল। আজ ওদের (বাচ্চাদের) বলে রেখেছিলাম ঘুরতে নিয়ে যাব। তবে বৃষ্টি আমেজটাই নষ্ট করে দিল।’

হাতিরঝিলের রেস্তোরাঁগুলোতে এমনিতেই তিল ধারনের জায়গা ছিল না। বৃষ্টির কারণে সবাই ভিড় বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

কাজী হামিদ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেগুনবাগিচা থেকে মটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে এসেছিলাম। তবে বৃষ্টির কারণে আটকা পড়ে গেছি। এই শহরে কোথাও একটু শান্তি নেই।’

অনেকে বৃষ্টির কারণে দৌড়াদৌড়ি করে নিরাপদ আশ্রয়স্থল খুঁজতে দেখা যায়। দৌড়াদৌড়ির সময় বাড্ডা-হাতিরঝিল মোড়ে একজনকে পড়ে যেতে দেখা যায়। তবে উঠেই তিনি আবার দৌঁড়াতে থাকেন। কিন্তু যতক্ষণে একটা ছাউনির নিচে দাঁড়ালেন ততক্ষণে ভিজে যান শামীম নামের ওই যুবক।

আটটি বাইক নিয়ে ১২ জন বন্ধু এসেছিলেন হাতিরঝিলে বেড়াতে। তাদের একজন ইফতেখার ইমন বলেন, ‘আমরা টোটাল ১৫টা বাইক নিয়ে হইছি। আটটা বাইক ভাবলাম হাতিরঝিলে কয়েকটা ছবি তুলি। বাকিরা দিয়া বাড়ি আছে। বৃষ্টির কারণে ওই দিকেও যেতে পারছিনা। পরিকল্পনা ছিল বেশ কয়েকটা জায়গা ঘুরব। এখন এক জায়গাতেও আটকে গেলাম।’

নতুন বিয়ে করেছেন নাবিলা ও কবির। বিয়ের পর এটিই তাদের প্রথম ঈদ। ঈদের দিন পরিবারকে সময় দিতে গিয়ে নিজেদের আর বেড়ানো হয়নি। ইচ্ছে ছিল, আজ দুজন মিলে রিকশায় ঘুরবেন। বৃষ্টির কারণে মত পাল্টিয়ে ঘরে রয়ে গেলেন।

কবির বলেন, ‘পাঞ্জাবি শাড়ি ম্যাচিং করাই ছিল৷ ভাবলাম দুজিন মিলে ঘুরব। টিএসসিতে যাব। বৃষ্টির জন্য আর বের হলাম না। বললাম, খিচুড়ি কর, সঙ্গে মাংস। মুভি সিলেক্ট করলাম। সেগুলোই দেখতেছি।’

হঠাৎ বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েন ছিন্নমূল মানুষও। ভিজে একাকার ফুটপাতের ধারে কোনোরকম মাথা গোঁজার তাদের আশ্রয়স্থল।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাতে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এ ছাড়া, দেশের অন্যত্র আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তাপপ্রবাহ যশোর ও খুলনা অঞ্চল সমূহের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা বিস্তার লাভ করতে পারে। তাপমাত্রা সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

শেয়ার করুন